জামায়াত অনলাইন লাইব্রেরি
  • নীড়
  • সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
  • বিভাগ ভিত্তিক
    • আল কুরআন
    • আল হাদিস
    • ফিকাহ
    • দাওয়াত ও তাবলিগ
    • ঈমান ও আক্বীদাহ
    • আমল-আখলাক ও মুয়ামালাত
    • ইসলাম ও ইবাদাত
    • পারিবারিক ও সামাজিক জীবন
    • ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন
    • সীরাত ও ইতিহাস
    • সীরাতে সাহাবা
    • নারী
    • রাজনীতি
    • অর্থনীতি
    • বিবিধ
  • কর্মী সিলেবাস
  • রুকন সিলেবাস
    • রুকন সিলেবাস (স্বল্প শিক্ষিত)
    • রুকন সিলেবাস (শিক্ষিত)
  • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি
    • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি (শিক্ষিত)
    • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি (স্বল্প শিক্ষিত)
  • উচ্চতর অধ্যয়ন
  • অডিও বই
  • অন্যান্য
    • দারসুল কুরআন
    • দারসুল হাদিস
    • আলোচনা নোট
    • বইনোট
    • প্রবন্ধ
    • বুলেটিন
    • স্মারক
    • ম্যাগাজিন
    • এপস
    • রিপোর্ট বই
    • ছাত্রী সিলেবাস
কোন ফলাফল নেই
সকল ফলাফল দেখুন
  • নীড়
  • সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
  • বিভাগ ভিত্তিক
    • আল কুরআন
    • আল হাদিস
    • ফিকাহ
    • দাওয়াত ও তাবলিগ
    • ঈমান ও আক্বীদাহ
    • আমল-আখলাক ও মুয়ামালাত
    • ইসলাম ও ইবাদাত
    • পারিবারিক ও সামাজিক জীবন
    • ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন
    • সীরাত ও ইতিহাস
    • সীরাতে সাহাবা
    • নারী
    • রাজনীতি
    • অর্থনীতি
    • বিবিধ
  • কর্মী সিলেবাস
  • রুকন সিলেবাস
    • রুকন সিলেবাস (স্বল্প শিক্ষিত)
    • রুকন সিলেবাস (শিক্ষিত)
  • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি
    • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি (শিক্ষিত)
    • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি (স্বল্প শিক্ষিত)
  • উচ্চতর অধ্যয়ন
  • অডিও বই
  • অন্যান্য
    • দারসুল কুরআন
    • দারসুল হাদিস
    • আলোচনা নোট
    • বইনোট
    • প্রবন্ধ
    • বুলেটিন
    • স্মারক
    • ম্যাগাজিন
    • এপস
    • রিপোর্ট বই
    • ছাত্রী সিলেবাস
জামায়াত অনলাইন লাইব্রেরি

রিয়াদুস সালেহীন – ৩য় খন্ড

অন্তর্গতঃ আল হাদিস, বাৎসরিক পাঠ্যসূচি (শিক্ষিত), রুকন সিলেবাস (শিক্ষিত)
A A
Share on FacebookShare on Twitter

রিয়াদুস সালেহীন – তৃতীয় খণ্ড

ইমাম মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়াহ আন-নববী (রহ)


স্ক্যান কপি ডাউনলোড


রিয়াদুস সালেহীন
তৃতীয় খণ্ড

ইমাম মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া আন-নববী

প্রকাশক
ড. মোহাম্মদ শফিউল আলম ভূঁইয়া
পরিচালক
বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার

প্রথম প্রকাশ : নভেম্বর ১৯৮৬ : উনবিংশতি প্রকাশ জুমাদাল উলা ১৪৩৭ চৈত্র ১৪২২ মার্চ ২০১৬

মুদ্রণে
আল ফালাহ প্রিন্টিং প্রেস মগবাজার, ঢাকা-১২১৭

ইমাম মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া আন-নববী (র)
রিয়াদুস সালেহীন ( তৃতীয় খণ্ড )

অনুবাদ
মাওলানা আবদুল মান্নান তালিব

সম্পাদনা
মাওলানা মোঃ মোজাম্মেল হক
মাওলানা মোঃ আতিকুর রহমান
মাওলানা মুহাম্মদ মূসা

বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার
ঢাকা

প্রসঙ্গ কথা

রিয়াদুস সালেহীন সপ্তম হিজরী শতকের অন্যতম সেরা হাদীস বিশারদ ইমাম মুহিউদ্দীন ইয়াহ্ইয়া আন্-নববী (র)-র শ্রেষ্ঠ অবদান। সহীহ হাদীসগুলো মন্থন করে ব্যবহারিক জীবনের সাথে একান্তভাবে সংশ্লিষ্ট প্রায় দু’হাজার হাদীস চয়ন করে তিনি এই গ্রন্থটি রচনা করেন। নৈতিক চরিত্র গঠন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের পরিচ্ছন্নতা অর্জনের ক্ষেত্রে এই হাদীসগুলো অমূল্য পাথেয়। সবগুলো হাদীস গ্রন্থ চর্চা করার সময় ও সুযোগ যাদের নেই এই সংকলনটি তাঁদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাবার জন্য যথেষ্ট।

এই মূল্যবান গ্রন্থটির অনুবাদ বাংলাভাষী ভাই-বোনদের হাতে তুলে দেবার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে আমরা কয়েকজন বিদগ্ধ আলিমকে অনুবাদ কাজে নিয়োজিত করি। আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া যে তারা যথাসময়ে এর অনুবাদের কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছেন।

আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের অশেষ অনুগ্রহে আমরা চৌদ্দ শ’ আঠার হিজরী সনের রমাদান মাসে এর প্রথম খণ্ড, চৌদ্দ শ’ উনিশ হিজরী সনের রমাদান মাসে দ্বিতীয় খণ্ড এবং চৌদ্দ শ’ বিশ হিজরী সনের রবিউস সানী মাসে এর তৃতীয় খণ্ড প্রকাশ করেছি। পুনঃসংশোধনের পর এবার আমরা এর পরিমার্জিত সংস্করণ প্রকাশ করছি।

আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন গ্রন্থকারের এই খিদমত কবুল করে তাঁকে বিপুলভাবে পুরস্কৃত করুন। আর এই গ্রন্থের অনুবাদ, সম্পাদনা এবং প্রকাশনায় যার যতটুকু সময় ও শক্তি-সামর্থ্য নিয়োজিত হয়েছে তা তাঁর দীনের খিদমত হিসেবে কবুল করুন!

প্রকাশক

সূচীপত্র

  1. কিতাবু ইয়াদাতিল মারীদ (রোগীর খোঁজ-খবর নেয়া)
    1. অনুচ্ছেদ: ১ – রোগীকে দেখতে যাওয়া
    2. অনুচ্ছেদ: ২ – রোগীর জন্য দু’আ করার ভাষা
    3. অনুচ্ছেদ: ৩ – রোগীর ঘরের লোকজনদের কাছে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা মুস্তাহাব।
    4. অনুচ্ছেদ: ৪ – যে ব্যক্তি নিজের জীবন সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়ে তার যা বলা উচিত
    5. অনুচ্ছেদ: ৫ – রোগীর ঘরের লোকদের ও তার খাদিমদের তার সাথে কোমল ও সদয় ব্যবহার করার জন্য ওসিয়াত করা মুস্তাহাব, অনুরূপভাবে কিসাস বা হদ্দের কারণে যার মৃত্যু নিকটবর্তী তার সাথেও সদয় ব্যবহার করার ওসিয়াত
    6. অনুচ্ছেদ: ৬ – রোগীর একথা বলার অনুমতি আছে: আমার ব্যথা করছে বা ভীষণ ব্যথা করছে অথবা আমার জ্বর, হায় আমার মাথা গেলো ইত্যাদি। বিরক্ত হয়ে বা ক্ষোভ প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে না বললে এ কথা বলা অপছন্দনীয় নয়
    7. অনুচ্ছেদ: ৭ – মরণোন্মুখ ব্যক্তিকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ তালকীন করা
    8. অনুচ্ছেদ: ৮ – মৃতের চোখ বন্ধ করার পর যে দু’আ পড়তে হবে
    9. অনুচ্ছেদ: ৯ মৃত ব্যক্তির কাছে কি বলা উচিত, যার কেউ মারা যায় তাকে কি বলা উচিত
    10. অনুচ্ছেদ: ১০ – মৃতের জন্য চিৎকার করা ও শোকগাথা নিষেধ, নীরবে কান্নাকাটি করা জায়েয
    11. অনুচ্ছেদ: ১১ – মৃতের দেহে ত্রুটি দেখার পর তা গোপন রাখা
    12. অনুচ্ছেদ: ১২ – জানাযার নামায পড়া, লাশের সাথে যাওয়া এবং লাশ দাফনের সময় হাযির থাকা। লাশের সাথে মেয়েদের যাওয়া অপছন্দনীয়
    13. অনুচ্ছেদ: ১৩ – জানাযার নামাযে মুসল্লী বেশি হওয়া এবং মুসল্লীদের তিন বা ততোধিক কাতার করা মুস্তাহাব
    14. অনুচ্ছেদ: ১৪ – জানাযার নামাযে কি পড়া হবে
    15. অনুচ্ছেদ: ১৫ লাশ দ্রুত নিয়ে যাওয়া
    16. অনুচ্ছেদ: ১৬ – মৃতের ঋণ অনতিবিলম্বে পরিশোধ করা ও তার দাফন-কাফন দ্রুত সম্পন্ন করা, তবে আকস্মিক মৃত্যুতে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা
    17. অনুচ্ছেদ: ১৭ – কবরের কাছে দাঁড়িয়ে ওয়াজ-নসীহত করা
    18. অনুচ্ছেদ: ১৮ – মুর্দাকে দাফন করার পর তার জন্য দু’আ করা এবং দু’আ, ইস্তিগফার ও কুরআন পাঠের জন্য তার কবরের পাশে কিছুক্ষণ বসা
    19. অনুচ্ছেদ: ১৯ মৃতের পক্ষ থেকে দান-খয়রাত করা এবং তার জন্য দু’আ করা
    20. অনুচ্ছেদ: ২০ – জনগণ কর্তৃক মৃতের প্রশংসা
    21. অনুচ্ছেদ: ২১ – যার শিশু সন্তান মারা যায় তার জন্য রয়েছে উচ্চতর মর্যাদা
    22. অনুচ্ছেদ: ২২ যালিমদের কবরের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় ভীত হওয়া ও কান্নাকাটি করা, মহান আল্লাহর সামনে দীনতা প্রকাশ করা এবং এসব ব্যাপারে অমনোযোগী থাকার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
  2. কিতাবু আদাবিস সাফার (সফরের নিয়ম-কানুন)
    1. অনুচ্ছেদ: ১ – বৃহস্পতিবার ও দিনের প্রথম দিকে সফরে রওয়ানা হওয়া মুস্তাহাব
    2. অনুচ্ছেদ: ২ – সফরসংগী অনুসন্ধান করা এবং সবাই যার আনুগত্য করবে এমন ব্যক্তিকে নিজেদের মধ্যে থেকে আমীর বানানো
    3. অনুচ্ছেদ: ৩ – যাত্রা অব্যাহত রাখা, মনযিলে অবতরণ করা, রাত্রি অতিবাহিত করা ও সফরে নিদ্রা যাওয়ার নিয়ম-কানুন এবং রাতে জন্তুযানের প্রতি কোমল ব্যবহার করা ও তাদের সুযোগ-সুবিধার প্রতি দৃষ্টি রাখা মুস্তাহাব। আর যে ব্যক্তি কর্তব্য পালনে অবহেলা করে তাকে তাকিদ দেয়া এবং সাওয়ারী পশু শক্তিশালী হলে সাওয়ারীর পিঠে নিজের সাথে অন্য কাউকে আরোহন করানো জায়েয
    4. অনুচ্ছেদ: ৪ – সফররত অবস্থার সাথীকে সাহায্য করা
    5. অনুচ্ছেদ: ৫ সাওয়ারীর পিঠে (বা যানবাহনে) চড়ে সফর করার সময় যে দু’আ পড়তে হয়
    6. অনুচ্ছেদ: ৬ – উপত্যকা, টিলা বা অনুরূপ উঁচু স্থানে চড়ার সময় মুসাফিরের “আল্লাহু আকবার” বলা, সমতলভূমি বা অনুরূপ স্থানে নামার সময় “সুবহানাল্লাহ” বলা এবং বেশি উচ্চস্বরে তাকবীর ইত্যাদি না বলা
    7. অনুচ্ছেদ: ৭ – সফরে দু’আ করা মুস্তাহাব
    8. অনুচ্ছেদ: ৮ – মানুষ বা অন্য কিছুর ক্ষতির আশংকা হলে যে দু’আ পড়বে
    9. অনুচ্ছেদ: ৯ কোন স্থানে যাত্রাবিরতি করলে যে দু’আ পড়বে
    10. অনুচ্ছেদ: ১০ – প্রয়োজন পূর্ণ হওয়ার পর মুসাফিরের অবিলম্বে তার পরিবারে ফিরে আসা
    11. অনুচ্ছেদ: ১১ – সফর থেকে দিনের বেলা নিজের পরিবারের কাছে ফিরে আসা মুস্তাহাব এবং প্রয়োজন ছাড়া রাতে আসা অপছন্দনীয়
    12. অনুচ্ছেদ: ১২ – সফর থেকে ফেরার পথে নিজের শহর দেখার পর যে দু’আ পড়তে হবে
    13. অনুচ্ছেদ: ১৩ – সফর থেকে ফিরে এসে প্রথমে নিজের মহল্লার মসজিদে পদার্পণ করা এবং সেখানে দুই রাআত নফল নামায পড়া মুস্তাহাব
    14. অনুচ্ছেদ: ১৪ – মহিলাদের একাকী সফর করা হারাম
  3. কিতাবুল ফাদাইল (বিভিন্ন আমলের ফযীলাত)
    1. অনুচ্ছেদ: ১ – আল কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলাত
    2. অনুচ্ছেদ: ২ – কুরআন মজীদের রক্ষণাবেক্ষণ এবং তা বিস্তৃত হওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা
    3. অনুচ্ছেদ: ৩ সুললিত কণ্ঠে আল কুরআন পাঠ করা মুস্তাহাব এবং সুমধুর কণ্ঠে আল কুরআন পড়ানো ও তা শুনার ব্যবস্থা করা
    4. অনুচ্ছেদ: ৪ – বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াতসমূহ পাঠে উদ্বুদ্ধ করা
    5. অনুচ্ছেদ: ৫ – আল কুরআন তিলাওয়াতের জন্য লোক সমাগম করা মুস্তাহাব
    6. অনুচ্ছেদ: ৬ – উযূর ফযীলাত
    7. অনুচ্ছেদ: ৭ – আযানের ফযীলাত
    8. অনুচ্ছেদ: ৮ – নামাযের ফযীলাত
    9. অনুচ্ছেদ: ৯ – ফজর ও আসরের নামাযের ফযীলাত
    10. অনুচ্ছেদ: ১০ মসজিদে যাওয়ার ফযীলাত
    11. অনুচ্ছেদ: ১১ নামাযের জন্য অপেক্ষা করার ফযীলাত
    12. অনুচ্ছেদ: ১২ – জামা’আতে নামায পড়ার ফযীলাত
    13. অনুচ্ছেদ: ১৩ – বিশেষ করে ফজর ও ইশার জামা’আতে হাযির হতে উৎসাহদান
    14. অনুচ্ছেদ: ১৪ – ফরয নামাযসমূহের হিফাযাত করার নির্দেশ এবং এগুলি পরিত্যাগ করার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ভীতি প্রদর্শন
    15. অনুচ্ছেদ: ১৫ – প্রথম কাতারের ফযীলাত এবং আগের কাতারগুলি পুরা করা, সেগুলি সমান করা ও দু’জনের মাঝখানে ফাঁক না রেখে মিলে দাঁড়ানো
    16. অনুচ্ছেদ: ১৬ – ফরয নামাযের সাথে সাথে সুন্নাতে মুআক্কাদা নামায পড়ার ফযীলাত এবং এর পরিপূর্ণ, মধ্যবর্তী সর্বনিম্ন ও পরিমাণ
    17. অনুচ্ছেদ: ১৭ ফজরের দুই রাক্’আত সুন্নাতের তাকিদ
    18. অনুচ্ছেদ: ১৮ – ফজরের দুই রাক’আত সুন্নাত সংক্ষেপে পড়া, তার কিরাআত ও তার ওয়াক্ত
    19. অনুচ্ছেদ: ১৯ – ফজরের সুন্নাতের পর ডান কাতে শুয়ে থাকা মুস্তাহাব এবং রাতে তাহাজ্জুদ পড়তে উৎসাহিত করা
    20. অনুচ্ছেদ: ২০ যুহরের সুন্নাত
    21. অনুচ্ছেদ: ২১ – আসরের সুন্নাত
    22. অনুচ্ছেদ: ২২ – মাগরিবের পূর্বের ও পরের সুন্নাতসমূহ
    23. অনুচ্ছেদ: ২৩ – ইশার আগের ও পরের সুন্নাত
    24. অনুচ্ছেদ: ২৪ – জুমু’আর নামাযের সুন্নাত
    25. অনুচ্ছেদ: ২৫ ঘরে নফল নামায পড়া মুসতাহাব, তা সুন্নাতে মুআক্কাদা হোক বা গায়ের মুআক্কাদা, আর সুন্নাত পড়ার জন্য ফরযের জায়গা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ অথবা ফরয ও নফলের মধ্যে কথা বলে পার্থক্য সৃষ্টি করা।
    26. অনুচ্ছেদ: ২৬ – বিতরের নামায পড়তে উদ্বুদ্ধ করা ও তাকিদ দেয়া এবং বিতর সুন্নাতে মুআক্কাদা (ওয়াজিব) ও তার ওয়াক্ত
    27. অনুচ্ছেদ: ২৭ – ইশরাক ও চাপ্তের নামাযের ফযীলাত, এর সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও মাঝামাঝি মর্যাদার বর্ণনা এবং তা হিফাযাতের ব্যাপারে উৎসাহিত করা
    28. অনুচ্ছেদ: ২৮ – সূর্য উপরে উঠার পর থেকে সূর্য ঢলে পড়ার পূর্ব পর্যন্ত চাশতের নামায পড়া বৈধ। তবে সূর্য অনেক উপরে উঠার পর তার তাপ যখন বেড়ে যায় তখন এই নামায পড়া উত্তম
    29. অনুচ্ছেদ: ২৯ – তাহিয়‍্যাতুল মাসজিদ নামায পড়তে উদ্বুদ্ধ করা এবং মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাক্’আত না পড়ে বসে পড়া মাকরূহ। এই দুই রাক’আত তাহিয়্যাতুল মাসজিদের নিয়াতে পড়া হোক বা ফরয, সুন্নাতে মুআক্কাদা বা গায়ের মুআক্কাদার নিয়াতে পড়া হোক
    30. অনুচ্ছেদ: ৩০ – উযু করার পর দুই রাক’আত নামায পড়া মুস্তাহাব
    31. অনুচ্ছেদ: ৩১ – জুমু’আর দিনের ফযীলাত এবং জুমু’আর নামায ফরয। জুমুআর নামাযের জন্য গোসল করা, খুশবু লাগানো এবং জুমু’আর নামায পড়তে যাওয়া ও জুমু’আর দিন দু’আ করা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা, দু’আ কবুল হওয়ার সময় সম্পর্কে বর্ণনা এবং জুমু’আর নামাযের পর বেশি করে আল্লাহর যিকর করা মুস্তাহাব
    32. অনুচ্ছেদ: ৩২ – আল্লাহর কোন সুস্পষ্ট অনুগ্রহ লাভের পর এবং কোন সুস্পষ্ট বিপদ কেটে যাবার পর কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সিজদা করা মুস্তাহাব
    33. অনুচ্ছেদ: ৩৩ – রাত জেগে ইবাদাত করার ফযীলাত
    34. অনুচ্ছেদ: ৩৪ – রমযানে তারাবীহর নামায মুস্তাহাব
    35. অনুচ্ছেদ: ৩৫ – লাইলাতুল কদরে ইবাদাত করার ফযীলাত এবং সর্বাধিক আশাপ্রদ রাতের বর্ণনা
    36. অনুচ্ছেদ: ৩৬ – মিসওয়াক করা ও প্রকৃতিগত স্বভাবের ফযীলাত
    37. অনুচ্ছেদ: ৩৭ – যাকাত ওয়াজিব হওয়ার বর্ণনা, তার ফযীলাত এবং এই সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়াবলী
    38. অনুচ্ছেদ: ৩৮ – রমযানের রোযা ফরয এবং রোযার ফযীলাত ও তার আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ
    39. অনুচ্ছেদ: ৩৯ – রমযান মাসে দান, সৎকর্ম ও বেহিসাব নেক আমলের তাকিদ এবং বিশেষ করে শেষ দশ দিনে এগুলো করা
    40. অনুচ্ছেদ: ৪০ – অর্ধ শাবানের পর থেকে রমযানের পূর্ব পর্যন্ত রোযা রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা, তবে যার পূর্বের সাথে মিলাবার অভ্যাস হয়ে গেছে অথবা যে ব্যক্তি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতে অভ্যস্ত সে ঐ দিনগুলোয় রোযা রাখতে পারে
    41. অনুচ্ছেদ: ৪১ – চাঁদ দেখে যে দু’আ পড়তে হয়
    42. অনুচ্ছেদ: ৪২ – সাহরী খাওয়ার ফযীলাত এবং ফজর উদয়ের আশংকা না হওয়া পর্যন্ত দেরী করে সাহরী খাওয়া মুস্তাহাব
    43. অনুচ্ছেদ: ৪৩ – অবিলম্বে ইফতার করার ফযীলাত এবং যা দিয়ে ইফতার করতে হবে ও ইফতারের পর যা বলতে হবে
    44. অনুচ্ছেদ: ৪৪ – রোযাদারের প্রতি গালিগালাজ ও শরীয়াত বিরোধী এবং অনুরূপ ধরনের অন্যান্য কার্যকলাপ থেকে নিজের জিহ্বা ও অন্যান্য অঙ্গকে বিরত রাখার হুকুম
    45. অনুচ্ছেদ: ৪৫ – রোযা সম্পর্কিত কতিপয় মাসায়েল
    46. অনুচ্ছেদ: ৪৬ – মুহাররাম, শাবান ও হারাম মাসসমূহে রোযা রাখার ফযীলাত
    47. অনুচ্ছেদ: ৪৭ – যুল-হিজ্জার প্রথম দশ দিনে রোযা রাখা ও অন্যান্য নেক কাজ করায় ফযীলাত
    48. অনুচ্ছেদ: ৪৮ – আরাফাত ও আশূরার দিন এবং মুহাররামের নবম তারিখে রোযা রাখার ফযীলাত
    49. অনুচ্ছেদ: ৪৯ – শাওয়াল মাসে হয় দিন রোযা রাখা মুস্তাহাব
    50. অনুচ্ছেদ: ৫০ – সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা মুস্তাহাব
    51. অনুচ্ছেদ: ৫১ – প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা মুস্তাহাব
    52. অনুচ্ছেদ: ৫২ – রোযাদারকে ইফতার করাবায় এবং যে রোযাদারের সামনে পানাহার করা হয় তার ফযীলাত। আর যে ব্যক্তি আহার করায় তার উপস্থিতিতে আহারকারীর দু’আ করা
  4. কিতাবুল ইতিকাফ (ইতিকাফ)
    1. অনুচ্ছেদ: ১ – ইতিকাফের ফযীলাত
  5. কিতাবুল হজ্জ (হজ্জ)
    1. অনুচ্ছেদ: ১  – হজ্জ ফরজ হওয়া এবং তার ফযীলাত
  6. কিতাবুল জিহাদ (জিহাদ)
    1. অনুচ্ছেদ: ১ – জিহাদের ফযীলাত
    2. অনুচ্ছেদ: ২ – আখিরাতের সাওয়াবের দিক দিয়ে শহীদদের আর একটি দল, যাদেরকে গোসল দেয়া হবে, নামাযও পড়া হবে, তবে এরা কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে শহীদ হননি
    3. অনুচ্ছেদ: ৩ – গোলাম ও বাঁদী আযাদ করা
    4. অনুচ্ছেদ: ৪ – গোলামের সাথে সদ্ব্যবহার করার ফযীলাত
    5. অনুচ্ছেদ: ৫ – যে গোলাম আল্লাহ ও তার মনিবের হক আদায় করে তার ফযীলাত
    6. অনুচ্ছেদ: ৬ – কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর ইবাদাত করা
    7. অনুচ্ছেদ: ৭ – কেনাবেচার ও লেনদেনের ব্যাপারে নরম নীতি অবলম্বন করার ফযীলাত। আর ভালোভাবে প্রাপ্য আদায় ও গ্রহণ করা এবং সঠিকভাবে ওজন ও পরিমাপ করা, তাতে কম না করা, উপরন্তু ধনী-দরিদ্র উভয়কে অবকাশ দেয়া এবং তাদের থেকে প্রাপ্যের চেয়ে কম আদায় করা বা মাফ করে দেয়া

কিতাবু ইয়াদাতিল মারীদ (রোগীর খোঁজ-খবর নেয়া)

অনুচ্ছেদ: ১ – রোগীকে দেখতে যাওয়া

٨٩٦ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلٌ يَقُولُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَا ابْنَ آدَمَ مَرِضْتُ فَلَمْ تَعُدْنِي قَالَ يَا رَبِّ كَيْفَ أَعُودُكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ قَالَ أَمَا عَلِمْتَ أَنْ عَبْدِي فُلَانًا مَرِضَ فَلَمْ تَعُدَهُ أَمَا عَلِمْتَ

أَنَّكَ لَوْ عُدْتَهُ لَوَجَدْتَنِي عِنْدَهُ يَا ابْنَ آدَمَ اسْتَطْعَمْتُكَ فَلَمْ تُطْعِمُنِي قَالَ يَا رَبِّ كَيْفَ أَطْعِمُكَ وانتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ قَالَ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّهُ اسْتَطْعَمَكَ عَبْدِي فُلَانٌ فَلَمْ تُطْعِمْهُ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ أَطْعَمْتَهُ لَوَجَدْتَ ذلكَ عِنْدِي يَا ابْنَ آدَمَ

اسْتَسْقَيْتُكَ فَلَمْ تَسْقِنِى قَالَ يَا رَبِّ كَيْفَ أَسْقِيكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ قَالَ اسْتَسْقَاكَ عَبْدِي فُلانٌ فَلَمُ تشقِهِ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ سَقَيْتَهُ لَوَجَدْتَ ذَلِكَ عِنْدِي رَوَاهُ مُسْلِمٌ –

৮৯৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ কিয়ামাতের দিন বলবেন: হে বনী আদম! আমি রোগাক্রান্ত ছিলাম, তুমি আমাকে দেখতে যাওনি। বান্দা বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি কেমন করে আপনার রোগের খবর নিতে যেতাম, আপনি যে বিশ্বজাহানের প্রভু? তিনি বলবেনঃ তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা রোগগ্রস্ত ছিল? তুমি তাকে দেখতে যাওনি। তুমি কি জানতে না, তুমি যদি তার খোঁজ-খবর নিতে যেতে তাহলে আমাকে তার কাছে পেতে? হে বনী আদম! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে খাবার দাওনি। বান্দা বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি কেমন করে আপনাকে খাওয়াতাম, আপনি যে সমগ্র বিশ্বজাহানের মালিক ও প্রতিপালক? আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানতে না, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল? কিন্তু তুমি তাকে খাওয়াওনি। তুমি কি জানতে না, তুমি যদি তাকে খাবার খাওয়াতে তাহলে আমার কাছ থেকে তা পেয়ে যেতে? হে বনী আদম! আমি তোমার কাছে পানি চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে পান করাওনি। বান্দা বলবে, হে আমার প্রভু! আমি কেমন করে আপনাকে পান করাতাম, আপনি যে সমগ্র বিশ্বজাহানের মালিক ও প্রভু? আল্লাহ বলবেন: আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল, তুমি তাকে পান করাওনি। তুমি কি জানতে না, তুমি যদি তাকে পানি পান করাতে তাহলে (এখন) আমার কাছ থেকে তা পেতে (অর্থাৎ তার সাওয়াব)?

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۸۹۷- وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُودُوا الْمَرِيضِ وَاطْعِمُوا الْجَائِعَ وَفُكُوا الْعَانِي ، رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ -الْعَانِي الْأَسِيرُ.

৮৯৭। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা রোগীকে দেখতে যাও, অভুক্তকে আহার করাও এবং বন্দীদেরকে মুক্ত কর।
ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসে বর্ণিত “আল-আনী” শব্দের অর্থ কয়েদী বা বন্দী।

۸۹۸- وَعَنْ ثَوْبَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا عَادَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ لَمْ يَزَلْ فِي خُرْفَةِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَرْجِعَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا خُرْفَةُ الْجَنَّةِ قَالَ جَنَاهَا . رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

৮৯৮। সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন মুসলিম যখন তার রুগ্ন মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, সে ফিরে না আসা পর্যন্ত জান্নাতের ‘খুরফা’ আহরণ করতে থাকে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতের খুরফা কী? তিনি বলেন: তার ফলমূল।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۸۹۹ – وَعَنْ عَلِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَعُودُ مُسْلِمًا غُدُوَةً إِلَّا صَلَّى عَلَيْهِ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكَ حَتَّى يُمْسِي وَإِنْ عَادَهُ عَشِيَّةَ إِلا صَلَّى عَلَيْهِ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكَ

حَتَّى يُصْبِحَ وَكَانَ لَهُ خَرِيفٌ فِي الْجَنَّةِ – رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنُ الْخَرِيفُ الثَّمَرُ الْمَخْرُوفُ أي المجتنى.

৮৯৯। আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ কোন মুসলিম সকাল বেলা অপর কোন মুসলিম রোগীকে দেখতে গেলে সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য দু’আ করে। আর সন্ধ্যাবেলা কোন রোগীকে দেখতে গেলে সকাল পর্যন্ত তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা দু’আ করে। তার জন্য জান্নাতে একটি ফলের বাগান নির্ধারিত করে দেয়া হয়।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এবং একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন। হাদীসে উল্লেখিত “আল-খারীফ” শব্দটির অর্থ হচ্ছে গাছ থেকে পেড়ে নেয়া ফল।

٩٠٠- وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ غُلامٌ يَهُودِيُّ يَخْدُمُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَرِضَ فَآتَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُهُ فَقَعَدَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَقَالَ لَهُ أَسْلِمُ فَنَظَرَ إِلَى أَبِيْهِ وَهُوَ عِنْدَهُ فَقَالَ اطِعُ أَبَا الْقَاسِمِ

فَأَسْلَمَ فَخَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقُولُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي انْقَذَهُ مِنَ النَّارِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

৯০০। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইহুদী ছেলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমত করতো। সে অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে গেলেন। তিনি তার মাথার কাছে বসলেন, তারপর তাকে বললেন: তুমি ইসলাম গ্রহণ কর। সে তার বাপের দিকে তাকালো। তার বাপ তার কাছেই ছিল। তার বাপ বলল, আবুল কাসিমের আনুগত্য কর (অর্থাৎ ইসলাম গ্রহণ কর)। ছেলেটি ইসলাম গ্রহণ করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলতে বলতে সেখান থেকে বের হলেন: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন।’

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২ – রোগীর জন্য দু’আ করার ভাষা

٩٠١- عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا اشْتَكَى الْإِنْسَانُ الشَّئَ مِنْهُ أَوْ كَانَتْ بِهِ قَرْحَةٌ أَوْ جُرْحٌ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَصْبُعِهِ هُكَذَا وَوَضَعَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ الرَّاوِي سَبَابَتَهُ

بِالْأَرْضِ ثُمَّ رَفَعَهَا وقَالَ بِسْمِ اللهِ تُرْبَةُ أَرْضِنَا بِرِيقَة بَعْضنَا يُشفى بِهِ سَقِيمُنَا بِإِذْنِ رَبِّنَا مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

৯০১। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। যখন কোন মানুষ তার কোন অঙ্গে বেদনা অনুভব করতো অথবা তার শরীরে কোন ফোঁড়া বা জখম হতো তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তার ওপর) নিজের আঙ্গুল দিয়ে এমন করতেন এবং বলতেন, এই বলে বর্ণনাকারী সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা নিজের শাহাদাত আঙ্গুল যমিনের উপর রাখলেন, তারপর তা উঠালেন এবং বললেন (অর্থাৎ এই দু’আ পড়লেন): “বিসমিল্লাহি তুরবাতু আরদিনা বিরীকাতে বা’দিনা, ইউশফা বিহী সাকীমুনা বিইযনি রব্বিনা” (আল্লাহর নামে, আমাদের যমীনের মাটি আমাদের কারো থুথুর সাথে মিশে, আমাদের রুগ্ন ব্যক্তিকে রোগ মুক্তি দান করুক আমাদের রবের নির্দেশে)। [ অর্থাৎ নবী করীম (সা) নিজের থুথু তাঁর শাহাদাত অঙ্গুলির ওপর নিতেন। অতঃপর তা মাটির সাথে মিশাতেন এবং আক্রান্ত স্থানের ওপর অঙ্গুলি বুলাতে বুলাতে একথাগুলো বলতেন ] ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٠٢ – وَعَنْهَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَعُودُ بَعْضَ أَهْلِهِ يَمْسَحُ بِيَدِهِ الْيُمْنَى وَيَقُولُ اللَّهُمَّ رَبِّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَأْسَ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِيِّ لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءٌ لا يُغَادِرُ سَقَمًا . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .

৯০২। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পরিবারের কোন রোগীকে দেখতে গেলে তার উপর তাঁর ডান হাত বুলাতেন এবং বলতেন: “আল্লাহুম্মা রাব্বান্ নাস! আযহিবিল্ বাসা, ওয়াল্ফি আনতাশ্ শাফী, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা” (হে আল্লাহ, হে মানুষের প্রভু! রোগ দূর কর, রোগ থেকে মুক্তি দান কর, তুমিই রোগ থেকে মুক্তি দানকারী, তোমার রোগ মুক্তি ছাড়া কোন রোগ মুক্তি কার্যকর নয়, এমন রোগমুক্তি যার পর আর কোন রোগ থাকে না)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

٩٠٣- وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ لِثَابِتِ رَحِمَهُ اللَّهُ إِلا أَرْقِيْكَ بِرُقْيَةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بَلَى قَالَ اللَّهُمَّ رَبِّ النَّاسِ مُذْهِبَ الْبَأْسِ اشف أنت الشافي لا شَافِي إِلا أَنْتَ شِفَاءٌ لَا يُغَادِرُ سَقَمًا – رَوَاهُ

الْبُخَارِيُّ .

৯০৩। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি সাবিত রহমাতুল্লাহি আলাইহকে বলেন: তোমাকে কি আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ঝাঁড়ফুঁক করেছিলেন সেই ঝাঁড়ফুঁক করবো না? সাবিত বললেন, হাঁ, করুন। আনাস (রা) বললেন: “আল্লাহুম্মা রাব্বান নাস, মুহিবাল বাস। ইল্ফি আনতাশ্ শাফী, লা শাফিয়া ইল্লা আন্তা, শিফাআন্ লা ইউগাদিরু সাকামা” (হে আল্লাহ, মানুষের প্রভু, বিপদ দূরীভূতকারী। রোগ থেকে মুক্তি দান কর, তুমিই রোগ থেকে মুক্তি দানকারী, তুমি ছাড়া রোগ থেকে মুক্তিদান করার আর কেউ নেই, এমন রোগমুক্তি যার পর আর কোন রোগ থাকে না)।
ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٠٤ – وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ عَادَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدَا اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدَا اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا -رَوَاهُ مُسْلِمٌ

৯০৪। সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার অসুস্থাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে এলেন। তিনি দু’আ করলেন: “হে আল্লাহ! সা’দকে রোগমুক্তি দান কর, হে আল্লাহ! সা’দকে রোগমুক্তি দান কর, হে আল্লাহ! সা’দকে রোগমুক্তি দান কর”।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٠٥- وَعَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ شَكَا إِلى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَعًا يَجِدُهُ فِي جَسَدِهِ فَقَالَ لَهُ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَعَ يَدَكَ عَلَى الَّذِي يَأْلَمْ مِنْ جَسَدِكَ وَقُلْ

بِسْمِ الله ثَلَاثًا وَقُلْ سَبْعَ مَرَاتِ أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأَحَاذِرُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

৯০৫। আবু আবদুল্লাহ উসমান ইবনে আবীল আস (রা) থেকে বর্ণিত। একবার তিনি নিজের শরীরে যে ব্যথা অনুভব করছিলেন সে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অভিযোগ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেন: তোমার শরীরের যে স্থানে ব্যথা হচ্ছে সেখানে তোমার ডান হাত রাখ এবং তিনবার “বিসমিল্লাহ” বল, তারপর সাতবার বল: “আউযু বিইয্যাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহী মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাযিরু” (আমি আল্লাহর মর্যাদা ও কুদরাতের মাধ্যমে আশ্রয় চাচ্ছি সেই জিনিসের অনিষ্টকারিতা থেকে যা আমি অনুভব করছি এবং যার আধিক্যকে আমি ভয় করি)।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٠٦ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ عَادَ مَرِيضًا لَمْ يَحْضُرُهُ أَجَلُهُ فَقَالَ عِنْدَهُ سَبْعَ مَرَاتِ أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ إِلا عَافَاهُ اللهُ مِنْ ذَلِكَ الْمَرَضِ . رَوَاهُ

أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ وَقَالَ الْحَاكِمُ حَدِيْثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الْبُخَارِي.

৯০৬। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি এমন কোন রোগীকে দেখতে যায় যার মৃত্যু নিকটবর্তী নয় (বলে মনে হয়), তারপর তার কাছে সাতবার বলেঃ “আসআলুল্লাহাল আযীম রাব্বাল আরশিল আযীম আঁইয়্যাশফিয়াকা” (মহান আরশের প্রভু মহান আল্লাহর কাছে আমি প্রার্থনা করছি, তিনি তোমাকে রোগমুক্তি দান করুন), তবে আল্লাহ্ তাকে সেই রোগ থেকে মুক্তিদান করেন। ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান হাদীস বলেছেন। আর আল হাকেম এটিকে ইমাম বুখারীর শর্ত অনুযায়ী সহীহ হাদীস বলেছেন।

٩٠٧ وَعَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَى أَعْرَابِي يَعُودُهُ وَكَانَ إِذَا دَخَلَ عَلَى مَنْ يَعُودُهُ قَالَ لَا بَأْسَ طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللهُ – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ .

৯০৭। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক বেদুইনকে তার অসুস্থাবস্থায় দেখতে গেলেন। আর তিনি যখনই কোন অসুস্থকে দেখতে যেতেন তখনই বলতেন: কোন চিন্তা নেই, ইনশাআল্লাহ্ এ রোগ গুনাহ্ থেকে পাক করবে।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۹۰- وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنْ جِبْرِيلَ آتَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ اشْتَكَيْتَ قَالَ نَعَمْ قَالَ بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيْكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيْكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنٍ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيْكَ بِسْمِ

اللَّهِ ارْقِبْكَ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

৯০৮। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। জিবরীল (আ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলেন, হে মুহাম্মাদ! আপনার কি কোন রোগের অভিযোগ আছে? তিনি বলেন: হাঁ। জিবরীল (আ) এ দু’আ পড়লেন: “বিসমিল্লাহি আরকীকা মিন কুল্লি শায়ইন ইউযীকা মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসেদিন, আল্লাহু ইয়াশফীকা, বিসমিল্লাহি আরকীকা” (“আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি এমন প্রতিটি জিনিসের থেকে, যা আপনাকে কষ্ট দেয় এবং প্রত্যেক ব্যক্তির অনিষ্টকারিতা ও হিংসুকের নজর থেকে। আল্লাহ্ আপনাকে রোগমুক্তি দান করুন। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি)।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٠٩- وَعَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّهُمَا شَهِدَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ اكْبَرُ صَدَقَهُ رَبُّهُ فَقَالَ لا اله الا أنا وأنا أَكْبَرُ وَاذَا قَالَ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ

لَا شَرِيكَ لَهُ قَالَ يَقُولُ لا اله الا أَنَا وَحدى لا شَريكَ لي وَإِذَا قَالَ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ قَالَ لَا إِلَهَ إِلا أَنَا لِي الْمُلْكُ وَلِي الْحَمْدُ وَإِذَا قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَلَا حَوْلَ ولا قوة الا باللهِ قَالَ لا اله الا أنا ولا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا

بِي وَكَانَ يَقُولُ مَنْ قَالَهَا فِي مَرَضِهِ ثُمَّ مَاتَ لَمْ تَطْعَمُهُ النَّارُ – رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ .

৯০৯। আবু সাঈদ ও আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তাঁরা দু’জন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেন যে, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বলে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার” (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ), তার প্রভু তার এ কথাগুলোর সত্যতার স্বীকৃতি দেন, তারপর বলেন: আমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং আমিই সর্বশ্রেষ্ঠ। আর যখন সে বলেঃ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু” (আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই), আল্লাহ বলেন, আমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আমি একক, আমার কোন শরীক নেই। আবার যখন সে বলে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু” (আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, রাজত্ব তাঁর এবং প্রশংসা তাঁর জন্যই), আল্লাহ বলেন: আমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, প্রশংসা সমস্ত আমার জন্যই এবং রাজত্ব আমারই। আর যখন সে বলে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে দূরে থাকা ও আনুগত্যের শক্তি লাভ করা সম্ভব নয়), আল্লাহ্ বলেনঃ আমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকা ও আনুগত্যের শক্তি লাভ করা আমার পক্ষ থেকে ছাড়া সম্ভব নয়। তিনি (সা) বলতেনঃ যে ব্যক্তি নিজের রোগগ্রস্ত অবস্থায় এ কথাগুলো বলে, তারপর মারা যায়, জাহান্নামের আগুন তাকে খাবে না।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি এটিকে হাসান হাদীস বলেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩ – রোগীর ঘরের লোকজনদের কাছে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা মুস্তাহাব।

۹۱۰- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ عَلَى بْنَ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ خَرَجَ مِنْ عِنْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي وَجَعِهِ الَّذِي تُوفِيَ فِيهِ فَقَالَ النَّاسُ يَا أَبَا الْحَسَنِ كَيْفَ أَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ

وَسَلَّمَ قَالَ أَصْبَحَ بِحَمْدِ اللهِ بَارِنَا . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ .

৯১০। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রোগে ইন্তিকাল করেন সেই রোগে আক্রান্ত থাকাকালে আলী (রা) তাঁকে দেখে বের হয়ে এলে লোকেরা জিজ্ঞেস করল: হে আবুল হাসান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা কেমন? তিনি জবাব দিলেন, আলহামদু লিল্লাহ, তাঁর অবস্থা ভালো।

ইমাম বুখারী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪ – যে ব্যক্তি নিজের জীবন সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়ে তার যা বলা উচিত

۹۱۱- عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ سَمِعْتُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُسْتَئِدٌ إِلَى يَقُولُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَالْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الْأَعْلَى. متفق عليه.

৯১১। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার গায়ে হেলান দিয়ে বলতে শুনেছিঃ “আল্লাহুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী ওয়ালহিকনী বিরাফীকিল আ’লা” (হে আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করে দাও, আমার উপর রহম কর এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ বন্ধুর সাথে মিলিয়ে দাও)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۹۱۲ – وَعَنْهَا قَالَتْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِالْمَوْتِ عِنْدَهُ قَدَحٌ فِيهِ مَاءً وَهُوَ يُدْخِلُ يَدَهُ فِي الْقَدَحِ ثُمَّ يَمْسَحُ وَجْهَهُ بِالْمَاءِ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُمُ اعنِّى عَلَى غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَسَكَرَاتِ الْمَوْتِ ، رَوَاهُ التَّرْمِذِي .

৯১২। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তখন তাঁর উপর মৃত্যু ছেয়ে গিয়েছিল, তাঁর সামনে পানি ভর্তি একটি পেয়ালা ছিল। তিনি পেয়ালার মধ্যে তাঁর ডান হাত প্রবেশ করাচ্ছিলেন, তারপর (হাতের সাথে লেগে থাকা) পানি দিয়ে তাঁর চেহারা মুছছিলেন এবং বলছিলেন: আল্লাহ্! মৃত্যুর কাঠিন্য ও তার মারাত্মক কষ্টের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য কর।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৫ – রোগীর ঘরের লোকদের ও তার খাদিমদের তার সাথে কোমল ও সদয় ব্যবহার করার জন্য ওসিয়াত করা মুস্তাহাব, অনুরূপভাবে কিসাস বা হদ্দের কারণে যার মৃত্যু নিকটবর্তী তার সাথেও সদয় ব্যবহার করার ওসিয়াত

۱۳ – عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ أَنْ امْرَأَةً مِنْ جُهَيْنَةَ آتَتِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ حُبْلَى مِنَ الزِّنَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ الله أَصَبْتُ حَدَا فَأَقِمْهُ عَلَى فَدَعَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَيْهَا فَقَالَ أَحْسِنِ إِلَيْهَا فَإِذَا

وَضَعَتْ فَآتِنِي بِهَا فَفَعَل فَأَمَرَ بِهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَشُدَّتْ عَلَيْهَا ثِيَابُهَا ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَرَحِمَتْ ثُمَّ صَلَّى عَلَيْهَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

৯১৩। ইমরান ইবনুল হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত। জুহাইনা গোত্রের এক স্ত্রীলোক যেনার দ্বারা গর্ভবতী হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হদ্দযোগ্য অপরাধ করেছি, আমার উপর তা জারি করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিভাবককে বললেন: তার প্রতি সদয় ব্যবহার করো এবং তার সন্তান জন্ম নেবার পর তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। সে তাই করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর হদ্দ জারি করার হুকুম দিলেন। তার পরিধেয় বস্ত্র তার সাথে শক্ত করে বাঁধা হল এবং তাকে ‘রজম’ (পাথর মেরে হত্যা) করা হলো। তারপর তিনি তার জানাযার নামায পড়লেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৬ – রোগীর একথা বলার অনুমতি আছে: আমার ব্যথা করছে বা ভীষণ ব্যথা করছে অথবা আমার জ্বর, হায় আমার মাথা গেলো ইত্যাদি। বিরক্ত হয়ে বা ক্ষোভ প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে না বললে এ কথা বলা অপছন্দনীয় নয়

٩١٤- عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُوعَكُ فَمَسَسْتُهُ فَقُلْتُ إِنَّكَ لَتُوْعَكَ وَعَكَا شَدِيدًا فَقَالَ أَجَلُ إِنِّي أَوْعَكُ كَمَا يُوعَكُ رَجُلانِ مِنْكُمْ ، مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .

৯১৪। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলাম। তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমি তাঁর গায়ে হাত রেখে বললাম, আপনার তো ভীষণ জ্বর। তিনি বলেন: হাঁ, আমার জ্বর এত বেশি হয় যে, তোমাদের দু’জন লোকের সমান।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩١٥ – وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ جَاءَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِي مِنْ وَجَعَ اشْتَدَّ بِي فَقُلْتُ بَلَغَ بِي مَا تَرَى وَأَنَا ذُو مَالٍ وَلَا يَرِثُنِي إِلَّا ابْنَتِي وَذَكَرَ الْحَدِيثَ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

৯১৫। সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কঠিন (রোগে) ভুগছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে এলেন। আমি বললাম, আমার যা অবস্থা তা আপনি দেখছেন। আমি সম্পদশালী। আমার মেয়েটি ছাড়া আমার আর কোন ওয়ারিস নেই। এরপর অবশিষ্ট হাদীস বর্ণনা করেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩١٦ – وَعَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا وَارَأْسَاهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَلْ أَنَا وَأَرَأَسَاهُ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ .

৯১৬। আল কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রা) বললেন, হায়, আমার মাথায় ব্যথা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: বরং বলো, আমি বলছি, হায়, আমার মাথার ব্যথা। এরপর পুরো হাদীসটি বর্ণনা করেন।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৭ – মরণোন্মুখ ব্যক্তিকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ তালকীন করা

[ মরণোন্মুখ ব্যক্তিকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়তে উদ্বুদ্ধ করাকে তালকীন বলে। তার সামনে উপস্থিত ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়বে যাতে সেও তা শুনে এই কালেমা পড়তে উদ্বুদ্ধ হয় ]

۹۱۷ – عَنْ مُعَادٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ كَانَ آخِرَ كَلامِهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالْحَاكِمُ وَقَالَ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ.

৯১৭। মু’আয ইবনে জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির শেষ কথা হয় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

ইমাম আবু দাউদ ও আল হাকেম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আল হাকেম এটিকে সহীহ সনদ সম্বলিত হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

۹۱۸- وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقِنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

৯১৮। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের মরণোন্মুখ ব্যক্তিকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”র তালকীন কর।
ইমাম মুসলিম হায়ীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৮ – মৃতের চোখ বন্ধ করার পর যে দু’আ পড়তে হবে

٩١٩- عَنْ أَمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أَبِي سَلَمَةَ وَقَدْ سَقِّ بَصَرُهُ فَأَغْمَضَهُ ثُمَّ قَالَ إِنَّ الرُّوحَ إِذَا قُبِضَ تَبِعَهُ الْبَصَرُ فَضَجٌ نَاسٌ مِنْ أَهْلِهِ فَقَالَ لَا تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ إِلَّا

بِخَيْرٍ فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ يُؤْمِنُونَ عَلَى مَا تَقُولُونَ ثُمَّ قَالَ اللهُمَّ اغْفِرْ لِأَبِي سَلَمَةَ وَارْفَعُ دَرَجَتَهُ فِي الْمَهْدِيِّينَ وَاخْلُفْهُ فِي عَقِبِهِ فِي الْغَابِرِينَ وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ يَا رَبِّ الْعَالَمِينَ وَأَفْسَحْ لَهُ فِي قَبْرِهِ وَنَورٌ لَهُ فِيْهِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

৯১৯। উম্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মুমূর্ষু) আবু সালামার (উম্মু সালামার স্বামী) কাছে এলেন। তখন আবু সালামার চোখ নিথর হয়ে গিয়েছিল। তিনি তাঁর চোখের পাতা বুজিয়ে দিলেন, তারপর বললেন: রূহ যখন কব্‌ব্জ হয়ে যায়, তার সাথে দৃষ্টিশক্তিও চলে যায়। আবু সালামার ঘরের লোকেরা চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। তিনি বলেন: নিজেদের জন্য কল্যাণের দু’আই কর। কারণ তোমরা যা কিছু মুখ থেকে বের কর ফেরেশতারা তা শুনে আমীন বলে। তারপর বলেনঃ হে আল্লাহ! আবু সালামাকে ক্ষমা কর, যারা হিদায়াত লাভ করেছে তাদের মধ্যে তার দরজা বুলন্দ কর এবং যারা রয়ে গেছে তাদের মধ্য থেকে তার জন্য প্রতিনিধি বানাও। হে বিশ্বজাহানের মালিক। আমাদের ও তার গুনাহ মাফ করে দাও এবং তার কবরকে প্রশস্ত কর এবং তা আলোয় ভরে দাও।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৯ মৃত ব্যক্তির কাছে কি বলা উচিত, যার কেউ মারা যায় তাকে কি বলা উচিত

٩٢٠- عَنْ أَمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا حَضَرْتُمُ الْمَرِيضِ أَوِ الْمَيِّتَ فَقُولُوا خَيْرًا فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ يُؤْمِنُونَ عَلَى مَا تَقُولُونَ قَالَتْ فَلَمَّا مَاتَ أَبُو سَلَمَةَ أَتَيْتُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ

وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَبَا سَلَمَةَ قَدْ مَاتَ قَالَ قُولِى اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَلَهُ وَأَعْقِبْنِي مِنْهُ عُقْبَى حَسَنَةً فَقُلْتُ فَاعْقَبَنِي اللهُ مَنْ هُوَ خَيْرٌ لِي مِنْهُ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ هُكَذَا إِذَا حَضَرَتُمُ الْمَرِيضِ

أَوِ الْمَيِّتَ عَلَى الشَّكِ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَغَيْرُهُ الْمَيِّتَ بِلا شَكِ.

৯২০। উম্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কোন রোগী বা মৃতের কাছে গেলে ভালো কথা বলবে।

কারণ তোমরা যা কিছু বল ফেরেশতারা তা শুনে ‘আমীন’ বলেন। উম্মু সালামা (রা) বলেন, আবু সালামার ইনতিকালের পর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে হাযির হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবু সালামা ইন্তিকাল করেছেন। তিনি বলেন: তুমি বল, হে আল্লাহ! আমাকে ও আবু সালামাকে মাফ করে দাও এবং এর বদলে আমাকে ভালো প্রতিফল দান কর। আমি তাই বললাম। ফলে আল্লাহ্ আমাকে তাঁর (আবু সালামার) চাইতে ভালো সত্তা (স্বামী) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দান করলেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি নিম্নোক্তভাবে রিওয়ায়াত করেছেন: যখন তোমরা কোন রোগী বা মৃতের কাছে হাযির হও (সন্দেহ সহকারে)। আর ইমাম আবু দাউদ ও অন্যরা ‘মৃত’ শব্দটি সন্দেহ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন।

۹۲۱ – وَعَنْهَا قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ عَبْدِ تُصِيبُهُ مُصِيبَةٌ فَيَقُولُ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ اللَّهُمَّ أَجِرْنِي فِي مُصِيبَتِي واخْلُف لِي خَيْرًا مِنْهَا إِلَّا آجَرَهُ اللهُ تَعَالَى فِي مُصِيبَتِهِ وَأَخْلَفَ لَهُ

خَيْرًا مِنْهَا قَالَتْ فَلَمَّا تُوفِيَ أَبُو سَلَمَةَ قُلْتُ كَمَا أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاخْلَفَ اللَّهُ لِي خَيْرًا مِنْهُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

৯২১। উন্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: কোন ব্যক্তির উপর কোন বিপদ এলে যদি সে বলে, ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজিরনী ফী মুসীবাতী ওয়াখলুফ লী খাইরান মিনহা (আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমাদেরকে তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ! আমার বিপদে আমাকে সাওয়াব দান কর এবং যা হারিয়ে গেছে তার বদলে তার চাইতে ভালো জিনিস দান কর), মহান আল্লাহ তাকে তার বিপদের প্রতিদান দেন এবং সে যা কিছু হারিয়েছে তার বদলে তার চাইতে ভালো জিনিস দেন। উম্মু সালামা (রা) বলেন, আবু সালামা (রা) যখন মারা গেলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যেমন হুকুম করেছিলেন আমি তেমন বললাম। ফলে আল্লাহ আমাকে তাঁর চাইতে ভালো জিনিস দান করলেন অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দান করলেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٢٢- وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا مَاتَ وَلَدُ الْعَبْدِ قَالَ اللهُ تَعَالَى لِمَلَائِكَتِهِ فَبَضْتُمْ وَلَدَ عَبْدِي فَيَقُولُونَ نَعَمْ فَيَقُولُ قَبَضْتُمْ ثَمَرَةَ فُؤَادِهِ فَيَقُولُونَ نَعَمْ فَيَقُولُ فَمَاذَا قَالَ عَبْدِي

فَيَقُولُونَ حمدكَ وَاسْتَرْجَعَ فَيَقُولُ اللهُ تَعَالَى ابْنُوا لِعَبْدِي بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَسَمُوهُ بَيْتَ الْحَمْدِ رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ .

৯২২। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন (মুসলিম) বান্দার সন্তান ইনতিকাল করলে মহান আল্লাহ্ ফেরেশতাদের বলেন: তোমরা কি আমার বান্দার সন্তানকে নিয়ে নিয়েছ? ফেরেশতারা বলেন: হাঁ। আল্লাহ বলেনঃ তোমরা তার হৃদয় নিংড়ানো ফলটি ছিনিয়ে নিয়েছ? তারা বলেন, হাঁ। আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা কি বললো? ফেরেশতারা বলেন, (আপনার বান্দা) আপনার প্রশংসা করেছে ও ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়েছে। মহান আল্লাহ্ বলেন: আমার বান্দার জন্য ‘বাইতুল হামদ’ নামে জান্নাতে একটি মহল তৈরি করে দাও।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান হাদীস বলেছেন।

۹۲۳- وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَقُولُ اللهُ تَعَالَى مَا لِعَبْدِي الْمُؤْمِنِ عِنْدِي جَزَاءً إِذَا قَبَضْتُ صَفِيهُ مِنْ أَهْلِ الدُّنْيَا ثُمَّ احْتَسَبَهُ إِلَّا الْجَنَّةَ . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ .

৯২৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মহান আল্লাহ বলেন, আমার মুমিন বান্দার জন্য আমার কাছে জান্নাত ছাড়া আর কোন প্রতিদান নেই, যখন আমি দুনিয়াবাসীদের কাছ থেকে তার প্রিয় বস্তু কেড়ে নিই এবং সে তাতে সবর করে।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٢٤- وَعَنْ أَسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ أَرْسَلَتْ إِحْدَى بَنَاتِ النَّبِيِّ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهِ تَدْعُوهُ وَتُخْبِرُهُ أَنْ صَبِيًّا لَهَا أَوْ إِبْنَّا فِي الْمَوْتِ فَقَالَ للرَّسُولِ ارْجِعْ إِلَيْهَا فَأَخْبِرْهَا أَنَّ لِلَّهِ تَعَالَى مَا أَخَذَ وَلَهُ مَا أَعْطَى

وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمًّى فَمُرْهَا فَلْتَصْبِرُ وَلَتَحْتَسِبُ وَذَكَرَ تَمَامُ الْحَدِيثِ . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ –

৯২৪। উসামা ইবনে যায়িদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক কন্যা তাঁর কাছে লোক পাঠালেন তাঁকে ডাকার ও খবর দেয়ার জন্য যে, তার বাচ্চা বা ছেলে মরণোন্মুখ। তিনি সংবাদদাতাকে বললেনঃ তার কাছে ফিরে গিয়ে তাকে জানাও, মহান আল্লাহর জন্য সে জিনিসটি, যা তিনি নিয়ে নিয়েছেন এবং তাও তাঁর জন্য যা তিনি দিয়েছেন। তাঁর কাছে প্রতিটি জিনিসের একটি মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে। কাজেই তাকে সবর করার ও আল্লাহর কাছ থেকে সাওয়াব লাভের আশা করার নির্দেশ দাও। তারপর সমগ্র হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১০ – মৃতের জন্য চিৎকার করা ও শোকগাথা নিষেধ, নীরবে কান্নাকাটি করা জায়েয

মৃতের জন্য বিলাপ করা হারাম। এ ব্যাপারে ইনশাআল্লাহ কিতাবুন নাহয়ি (নিষেধাজ্ঞা অধ্যায়)-তে একটি অনুচ্ছেদ সংযোজিত হবে। কান্নাকাটি করার ব্যাপারে বহু হাদীসে নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে। মৃতের পরিবারবর্গের কান্নাকাটির কারণে তাকে আযাব দেয়া হয়। কিন্তু এ হাদীসগুলি ব্যাখ্যাসাপেক্ষ এবং এর অর্থ হচ্ছে, কেউ কান্নাকাটি করার ওসিয়াত করে গেলে তাকে আযাব দেয়া হয়। চিৎকার করে কান্নাকাটি করা অথবা বিলাপ করে কান্নাকাটি করাই (হাদীসে) নিষিদ্ধ হয়েছে। আর চিৎকার না করে এবং ইনিয়ে বিনিয়ে শোকগাথা না গেয়ে কান্নাকাটি করার সপক্ষে বহু হাদীস পাওয়া যায়। তার কয়েকটি এখানে উল্লেখ করা হল:

٩٢٥- عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَادَ سَعْدَ بْنَ عَبَادَةَ وَمَعَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَاصِ وَعَبْدُ اللَّهِ ابْنُ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ فَبَكَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ

وَسَلَّمَ فَلَمَّا رَأَى الْقَوْمُ بُكَاءَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَكَوْا فَقَالَ أَلَا تَسْمَعُونَ إِنَّ اللَّهَ لَا يُعَذِّبُ بِدَمْعِ الْعَينِ وَلَا بِحُزْنِ الْقَلْبِ وَلَكِنْ يُعَذِّبُ بِهَذَا أَوْ يَرْحَمُ وَأَشَارَ إِلَى لسانه مُتَّفَقٌ عَلَيْه .

৯২৫। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ ইবনে উবাদা (রা)-র অসুস্থাবস্থায় তাকে দেখতে গেলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আবদুর রহমান ইবনে আওফ, সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) প্রমুখ সাহাবীগণ। (সা’দ ইবনে উবাদার নাজুক অবস্থা দেখে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁদতে লাগলেন। লোকেরা যখন দেখলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁদছেন তখন তারাও কাঁদতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেনঃ তোমরা কি শুনছো না? চোখের অশ্রুপাত ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ের কারণে আল্লাহ আযাব দেন না, বরং তিনি এই যে এটার জন্য আযাব দেন বা করুণা করেন- এই বলে তিনি নিজের জিভের দিকে ইংগিত করলেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٢٦ – وَعَنْ أَسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رُفِعَ إِلَيْهِ ابْنُ ابْنَتِهِ وَهُوَ فِي الْمَوْتِ فَفَاضَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ مَا هَذَا يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ هَذِهِ رَحْمَةٌ جَعَلَهَا اللَّهُ تَعَالَى

فِي قُلُوبِ عِبَادِهِ وَإِنَّمَا يَرْحَمُ اللَّهُ مِنْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاءَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .

৯২৬। উসামা ইবনে যায়িদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁর মেয়ের মুমূর্ষু শিশুপুত্রকে আনা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লামের দু’চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগলো। সা’দ (রা) তাঁকে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! একি? তিনি জবাব দিলেন: এটা হচ্ছে মায়া, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দিলে সৃষ্টি করে দিয়েছেন। আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে যারা দয়ার্দ্র তাদের তিনি দয়া করেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۹۲۷- وَعَنْ أَنَسٍ أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَى ابْنِهِ إِبْرَاهِيمَ وَهُوَ يَجُودُ بِنَفْسِهِ فَجَعَلَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَدْرِفَانِ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ وَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ يَا ابْنَ

عَوْفِ إِنَّهَا رَحْمَةٌ ثُمَّ اتْبَعَهَا بِأُخْرَى فَقَالَ إِنَّ الْعَيْنَ تَدْمَعُ وَالْقَلْبَ يَحْزَنُ وَلَا تَقُولُ إِلَّا مَا يُرْضِى رَبُّنَا وانا بفِرَاقِكَ يَا إِبْرَاهِيمُ لَمَحْزَوْنُوْنَ . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَرَوَى مُسْلِمٌ بَعْضَهُ. وَالْأَحَادِيثُ فِي الْبَابِ كَثِيرَةٌ فِي الصَّحِيحِ مَشْهُورَةٌ. وَاللهُ

أَعْلَمُ .

৯২৭। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পুত্র ইবরাহীম (রা)-এর কাছে গেলেন। তিনি তখন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন। এ দৃশ্য দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু’চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগল। আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা) তাঁকে বললেন; হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও (কাঁদছেন)! তিনি বলেনঃ হে আওফের পুত্র! এটা হচ্ছে মায়া-মমতা। এরপর তাঁর চোখ থেকে আবারও অশ্রু ঝরতে লাগলো। তারপর তিনি বললেন: চোখ অশ্রু ঝরায়, হৃদয় শোকার্ত হয়, তবে আমরা আমাদের মুখে এমন কথাই বলব যাতে আমাদের রব সন্তুষ্ট
হন। হে ইবরাহীম! তোমার বিচ্ছেদে আমরা শোকাহত।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম মুসলিম এর অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন। সহীহ হাদীস গ্রন্থগুলোতে এই অধ্যায়ে অসংখ্য হাদীস সংকলিত হয়েছে।

এগুলো সবই মশহুর। আল্লাহ অধিক ভালো জানেন।

অনুচ্ছেদ: ১১ – মৃতের দেহে ত্রুটি দেখার পর তা গোপন রাখা

۹۲۸- عَنْ أَبِي رَافِعٍ أَسْلَمَ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ غَسَّلَ فَكَتَمَ عَلَيْهِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ أَرْبَعِينَ مَرَّةً . رَوَاهُ الْحَاكِمُ وَقَالَ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطٍ مُسْلِمٍ.

৯২৮। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস আবু রাফে আসলাম (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন মৃতকে গোসল করালো, তারপর তার দোষ গোপন রাখল, আল্লাহ তাকে চল্লিশবার মাফ করবেন। আল হাকেম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এটি ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১২ – জানাযার নামায পড়া, লাশের সাথে যাওয়া এবং লাশ দাফনের সময় হাযির থাকা। লাশের সাথে মেয়েদের যাওয়া অপছন্দনীয়

লাশের সাথে যাওয়ার ফযীলাত সম্পর্কিত হাদীসগুলি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে [ এজন্য দেখুন অধ্যায়: রোগীকে দেখতে যাওয়া ও লাশের পেছনে চলা ] ।

۹۲۹- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ شَهِدَ الْجَنَازَةَ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا فَلَهُ قِيرَاطٌ وَمَنْ شَهِدَهَا حَتَّى تُدْفَنَ فَلَهُ قيراطانِ قِيلَ وَمَا الْقِيرَاطَانِ قَالَ مِثْلُ الْجَبَلَيْنِ الْعَظِيمَيْنِ –

مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

৯২৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোন লাশের সাথে তার জানাযার নামায আদায় করা পর্যন্ত হাযির রইল, সে এক কীরাত সাওয়াব লাভ করল। আর যে ব্যক্তি তাকে দাফন করা পর্যন্ত হাযির রইল, সে দুই কীরাত সাওয়াব পেল। জিজ্ঞেস করা হল, দুই কীরাত কি? তিনি বলেন: দু’টি বড় বড় পাহাড়ের সমান।

ইমাম বুখারী ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٣٠- وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنِ اتَّبَعَ جَنَازَةَ مُسْلِم إيمَانًا وَاحْتِسَابًا وَكَانَ مَعَهُ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا وَيُفْرَغَ مِنْ دَفَنِهَا فَإِنَّهُ يَرْجِعُ مِنَ الآخر بقيراطينِ كُلُّ قِيرَاطَ مِثْلُ أُحُدٍ وَمَنْ صَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ رَجَعَ

قَبْلَ أَنْ تُدْفَنَ فَإِنَّهُ يَرْجِعُ بِقِيرَاطَ – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

৯৩০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সাওয়াবের উদ্দেশ্যে কোন মুসলিমের লাশের সাথে গেল এবং তার জানাযার নামায পড়া ও তার দাফন কাজ শেষ করা পর্যন্ত তার সাথে থাকল, সে দুই কীরাত সাওয়াব নিয়ে ফিরবে। প্রতিটি কীরাত উহুদ পাহাড়ের সমান। আর যে ব্যক্তি মৃতের জানাযা পড়ে তাকে দাফন করার আগে ফিরে আসবে, সে এক কীরাত নিয়ে আসবে।

ইমাম বুখারী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

٩٣١- وعن ى اللهُ عَنْهَا قَالَتْ نُهِينَا عَنِ اتَّبَاعِ الْجَنَازَةِ وَلَمْ يُعْزَمْ وَعَنْ أَمْ عَطِيَّةَ رَضِيا عَلَيْنَا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

৯৩১। উম্মু আতিয়‍্যা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে লাশের সাথে যেতে নিষেধ করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে আমাদের উপর কড়াকড়ি করা হয়নি।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির অর্থ হচ্ছে: হারাম বিষয়সমূহের ব্যাপারে যেরূপ কড়াকড়ি করা হয়, এক্ষেত্রে নিষেধ করতে গিয়ে সেই ধরনের কড়াকড়ি করা হয়নি।

অনুচ্ছেদ: ১৩ – জানাযার নামাযে মুসল্লী বেশি হওয়া এবং মুসল্লীদের তিন বা ততোধিক কাতার করা মুস্তাহাব

٩٣٢- عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ مَيِّتِ يُصَلِّى عَلَيْهِ أُمَّةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَبْلُغُونَ مِائَةً كُلُّهُمْ يَشْفَعُونَ لَهُ إِلَّا شُفَعُوا فِيهِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

৯৩২। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন মৃত ব্যক্তির জানাযায় অন্তত এক শত মুসলিমের একটি দল শরীক হলে এবং তারা তার জন্য শাফায়াত করলে তাদের শাফায়াত অবশ্যই কবুল করা হয়।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۹۳۳- وعن ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَمُوتُ فَيَقُومُ عَلَى جَنَازَتِهِ أَرْبَعُونَ رَجُلاً لَا يُشْرِكُونَ بِاللَّهِ شَيْئًا إِلَّا شَفْعَهُمُ اللَّهُ فِيْهِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

৯৩৩। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: এমন চল্লিশজন লোক যদি কোন মুসলিম ব্যক্তির জানাযার নামায পড়ে যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করে না, সেই মৃতের পক্ষে আল্লাহ তাদের শাফায়াত কবুল করেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٣٤ – وَعَنْ مَرْتَدِ بْنِ عَبْدِ الْيَزَنِي قَالَ كَانَ مَالِكُ بْنُ هُبَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِذَا صَلَّى عَلَى الْجَنَازَةِ فَتَقَالَ النَّاسَ عَلَيْهَا جَزَاهُمْ عَلَيْهَا ثَلَاثَةَ أَجْزَاء ثُمَّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى عَلَيْهِ ثَلَاثَةٌ صُفُوفِ

فَقَدْ أَوْجَبَ رواه أبو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ .

৯৩৪। মারসাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-ইয়াযান্নী (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালিক ইবনে হুবাইরা (রা) যখন কারো জানাযার নামায পড়তেন এবং জানাযায় উপস্থিত লোকের সংখ্যা কম লক্ষ্য করতেন, তখন লোকদেরকে তিন সারিতে দাঁড় করাতেন। তারপর বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তিন কাতার লোক যে ব্যক্তির জানাযার নামায পড়ে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।
ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান হাদীস বলেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১৪ – জানাযার নামাযে কি পড়া হবে

ইমাম নববী (র) বলেন, জানাযার নামাযে চারটি তাকবীর দেবে। প্রথম তাকবীরের পর ‘তাআওঊয’ (আউযুবিল্লাহ) পড়বে, তারপর পড়বে সূরা আল ফাতিহা [ হানাফী ও মালিকীদের মতে নামাযে জানাযায় সূরা আল ফাতিহা পড়া মাসনূন নয়। তাঁদের মতে প্রথম তাকবীরের পরেও দু’আ পড়া হবে। আর হাদীসেও আল ফাতিহা পড়ার উল্লেখ হয়েছে দু’আ হিসেবে ] । এরপর দ্বিতীয় তাকবীর দেবে। দ্বিতীয় তাকবীরের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়বে। তাতে বলবে: আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া ‘আলা আলে মুহাম্মাদ (হে আল্লাহ! মুহাম্মাদের উপর রহমত বর্ষণ কর এবং মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের ও অনুসারীদের উপরও)। আর ভালো হয় যদি একথার মাধ্যমে দরূদ শেষ করা হয়: কামা সাল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আলে ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ (যেমন তুমি রহমত বর্ষণ করেছ ইবরাহীমের উপর এবং ইবরাহীমের অনুসারী ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর। তুমি নিঃসংশয়ে প্রশংসিত ও পবিত্র)। আর সাধারণ লোকদের মধ্যে অনেকে যেমন বলে, “ইন্নাল্লাহা ওয়া মালাইকাতাহু ইউসান্ত্বনা আলান নাবিয়্যি, ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা আমানূ সাহু আলাইহি ওয়া সাল্লিম্ তাসলীমা”, এমনটি যেন না বলা হয়। কারণ কেবলমাত্র এ আয়াতের উপর নির্ভর করলে নামায হবে না। তারপর তৃতীয় তাকবীর দেবে এবং মৃতের জন্য ও সকল মুসলিমের জন্য দু’আ করবে। এ দু’আ আমরা পরবর্তী পর্যায়ের হাদীসসমূহে বর্ণনা করবো ইনশাআল্লাহ। এরপর চতুর্থ তাকবীর দেবে এবং দু’আ করবে। দু’আগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো দু’আ হচ্ছেঃ আল্লাহুম্মা লা তাহরিমনা আজরাহু ওয়ালা তাফতিন্না বা’দাহু, ওয়াগফির লানা ওয়ালাহু (হে আল্লাহ! এর প্রতিদান থেকে আমাদের বঞ্চিত করো না এবং তারপর আমাদের ফিতনার মধ্যে নিক্ষেপ করো না, আর আমাদেরকে ও তাকে মাগফিরাত দান কর)। আর চতুর্থ তাকবীরে দু’আ দীর্ঘ করা পছন্দনীয়, যদিও এটা অধিকাংশ লোকের অভ্যাসের বিরোধী। শীঘ্রই আমরা ইনশাআল্লাহ এর পক্ষে ইবনে আবু আওফার হাদীস আলোচনা করবো। তবে তৃতীয় তাকবীরের পরে যে দু’আগুলো পড়তে হয় তার কয়েকটি এখানে উদ্ধৃত করছি।

٩٣٥- عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى جَنَازَةٍ فَحَفِظْتُ مِنْ دُعَائِهِ وَهُوَ يَقُوْلُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ وَوَسِعَ مُدْخَلَهُ وَاغْسِلُهُ

بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقَهُ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ وَأَبْدِلَهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ داره واهلا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ وَادْخِلْهُ الْجَنَّةَ وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابٍ الْقَبْرِ وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ حَتَّى تَمَنَّيْتُ أَنْ أَكُونَ أَنَا

ذَلِكَ الْمَيِّتَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

৯৩৫। আবু আবদুর রহমান আওফ ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির জানাযার নামায পড়েন। আমি তাঁর দু’আটি মুখস্থ করে রেখেছি। তিনি দু’আ করলেন: আল্লাহুম্মাগফির লাহু ওয়া আফিহি ওয়াফু আনহু, ওয়া আকরিম নুযুলাহু ওয়া ওয়াসি মুদখালাহু, ওয়াগসিলহু বিল মায়ে ওয়াস সালজে ওয়াল বারাদে ওয়া নাকিহি মিনাল খাতাইয়া কামা নাক্কাইতাস্ সাওবাল আয়াদা মিনাদ দানাসে, ওয়া আবদিল্হু দারান খাইরান মিন দারিহি, ওয়া আহলান খাইরান মিন আহলিহি, ওয়া যাওজান খাইরান মিন যাওজিহি, ওয়া আস্থিলহুল জান্নাতা, ওয়া আইযহু মিন আযাবিল কাবরি ওয়া মিন আযাবিন নার” (হে আল্লাহ! তাকে মাফ কর এবং তার উপর রহম কর, তাকে নিরাপত্তা দান কর, তাকে ক্ষমা করে দাও, জান্নাতে তাকে মর্যাদাপূর্ণ স্থান দান কর, তার কবরকে সম্প্রসারিত কর, তার গুনাহকে ধুয়ে দাও পানি, বরফ ও তুষারের শুভ্রতা দিয়ে, তাকে গুনাহ্ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দাও যেমন তুমি পরিষ্কার করে দাও সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে, তার ঘরের চাইতে ভালো ঘর তাকে দান কর, তার পরিজনদের চাইতে ভালো পরিজন তাকে দান কর, তার স্ত্রীর চাইতে ভালো স্ত্রী তাকে দান কর, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং তাকে কবরের আযাব ও জাহান্নামের আযাব থেকে নিরাপদ রাখ)। আবু আবদুর রহমান বলেন, তিনি এমনভাবে দু’আ করলেন যে, আমার মনে আকাঙ্ক্ষা জাগল, হায় এই মৃত ব্যক্তি যদি আমি হতাম!

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٣٦- وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي قَتَادَةَ وَآبِي إِبْرَاهِيمَ الْأَشْهَلِي عَنْ أَبِيْهِ وَأَبُوهُ صحابِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ صَلَّى عَلَى جَنَازَةٍ فَقَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيْنَا وَمَيِّتِنَا وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا وَذَكَرِنَا وَأَنْشَانَا

وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْبِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ اللهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ وَلَا تَفْتِنَا بَعْدَهُ. رَوَاهُ التَّرْمِذِي مِنْ رَوَايَةِ أَبِي هُرَيْرَةَ والْأَشْهَلِي وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ مِنْ رِوَايَةِ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي

قَتَادَةَ قَالَ الْحَاكِمُ حَدِيثُ أبِي هُرَيْرَةَ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الْبُخَارِي وَمُسْلِم.

৯৩৬। আবু হুরাইরা (রা), আবু কাতাদা ও আবু ইবরাহীম আশহালী তাঁর পিতা (যিনি সাহাবী ছিলেন) (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির জানাযার নামায পড়লেন এবং তাতে নিম্নোক্ত দু’আ করেছেন: “আল্লাহুম্মাগফির লি হায়ি‍্যনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া ছাগীরিনা ওয়া কাবীরিনা ওয়া যাকারিনা ওয়া উনসানা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িবিনা, আল্লাহুম্মা মান আহইয়াইতাহু মিন্না ফাআহইহী আলাল ইসলাম, ওয়া মান তাওয়াফ্ফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহু আলাল ঈমান, আল্লাহুম্মা লা তাহরিমনা আজরাহু ওয়া লা তাফতিন্না বা’দাহ” (হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমা কর আমাদের জীবিতদেরকে ও আমাদের মৃতদেরকে, আমাদের ছোটদেরকে ও আমাদের বড়দেরকে, আমাদের পুরুষদেরকে ও আমাদের নারীদেরকে, আমাদের উপস্থিতদেরকে ও আমাদের অনুপস্থিতদেরকে। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্য থেকে যাকে তুমি জীবিত রাখ তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখ আর আমাদের মধ্য থেকে যাকে তুমি মৃত্যু দান কর তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দান কর। হে আল্লাহ! এর (মৃত্যুতে আমাদের যে কষ্ট হয়েছে তার) প্রতিদান থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করো না এবং এর (মৃত্যুর) পর আমাদেরকে বিপদে ফেলো না)।

ইমাম তিরমিযী আবু হুরাইরা ও আশহালী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন আবু হুরাইরা ও আবু কাতাদা (রা) থেকে। আল হাকেম বলেন, আবু হুরাইরা বর্ণিত হাদীসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের শর্তের নিরিখে সহীহ। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, ইমাম বুখারী বলেন, এ হাদীসটি বর্ণনার ব্যাপারে আশহালীর বর্ণনা-সবচাইতে সহীহ। ইমাম বুখারী বলেন, এই অনুচ্ছেদে সবচাইতে নির্ভুল হচ্ছে আওফ ইবনে মালিক (রা)-র হাদীস।

۹۳۷- وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا صَلَّيْتُمْ عَلَى الْمَيِّتِ فَأَخْلِصُوا لَهُ الدُّعَاءِ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ .

৯৩৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি তোমরা কোন মৃতের জানাযার নামায পড়লে তার জন্যে খালিস দিলে দু’আ কর।

ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۹۳۸- وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَازَةِ اللَّهُمُ أنتَ رَبُّهَا وَأَنْتَ خَلَقْتَهَا وَأَنْتَ هَدَيْتَهَا لِلإسْلامِ وَأَنْتَ قَبَضْتَ رُوحَهَا وَأَنْتَ أَعْلَمُ بِسرِّهَا وَعَلَاتَيْتِهَا جِئْنَاكَ شُفَعَاءَ لَهُ فَاغْفِرْ لَهُ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ .

৯৩৮। আবু হুরাইরা (রা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে জানাযার নামাযের ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানাযার নামাযে নিম্নোক্ত দু’আ পড়তেন: আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বুহা ওয়া আন্তা খালাক্কাহা, ওয়া আন্তা হাদাইতাহা লিল ইসলাম, ওয়া আন্তা কাবাস্তা রূহাহা, ওয়া আন্তা আ’লামু বিসিবিরহা ওয়া ‘আলানিয়‍্যাতিহা, জি’না-কা শুফাআ’আ লাহু ফাগগির লাহু” (হে আল্লাহ! তুমিই তার প্রভু-প্রতিপালক, তুমিই তাকে সৃষ্টি করেছ, তুমিই তাকে ইসলামের দিকে হিদায়াত করেছ, তুমিই তার রূহ কব্‌জ করেছ এবং তার গোপন ও প্রকাশ্য (বিষয়াবলী) তুমিই ভাল জান। আমরা তার শাফা’আতের জন্য তোমার কাছে এসেছি। কাজেই তুমি তাকে ক্ষমা কর)।

ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٣٩- وَعَنْ وَائِلَةَ بْنِ الْأَسْفَعِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ اللَّهُمْ إِنَّ فُلَانَ ابْنَ فُلانٍ فِي ذِمَّتِكَ وَحَبْلٍ جَوَارِكَ فَقِهِ فِتْنَةَ الْقَبْرِ وَعَذَابَ النَّارِ وَأَنْتَ

أَهْلُ الْوَفَاءِ وَالْحَمْدِ اللَّهُمَّ فَاغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمِ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ.

৯৩৯। ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে এক মুসলিমের জানাযার নামায পড়লেন। আমি তাঁকে এই দু’আ পড়তে শুনলামঃ “আল্লাহুম্মা ইন্না ফুলানা ইবনা ফুলানিন ফী যিম্মাতিকা ওয়া হাবলে জাওয়ারিকা ফাকিহি ফিতনাতাল কাবরি ওয়া আযাবান নার, ওয়া আন্তা আহলুল ওয়াফায়ে ওয়াল হামদ। আল্লাহুম্মাগফির লাহু ওয়ারহামহু, ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম” (হে আল্লাহ। অমুকের পুত্র অমুক তোমার যিম্মা ও নিরাপত্তার বাঁধনে আবদ্ধ, তাকে কবরের ফিতনা ও জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাও। তুমি ওয়াদা পূর্ণকারী ও প্রশংসার পাত্র। হে আল্লাহ! একে মাফ করে দাও এবং এর উপর রহম কর। নিঃসন্দেহে তুমি ক্ষমাশীল ও করুণাময়)।

ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٤٠ – وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ كَبُرَ عَلَى جَنَازَةِ ابْنَةٍ لهُ ارْبَعَ تَكْبِيرَاتِ فَقَالَ بَعْدَ الرَّابِعَةِ كَقَدْرِ مَا بَيْنَ التَّكْبِيرَتَيْنِ يَسْتَغْفِرْ لَهَا وَيَدْعُوا ثُمَّ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ هَكَذَا ، وَفِي

رِوَايَةٍ كَبُرَ أَرْبَعًا فَمَكَثَ سَاعَةً حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُكَبِّرُ خَمْسًا ثُمَّ سَلَّمَ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قُلْنَا لَهُ مَا هَذَا فَقَالَ إِنِّي لَا أَزِيدُكُمْ عَلَى مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ هُكَذَا صَنَعَ رَسُولُ اللهِ

صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ الْحَاكِمُ وَقَالَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ.

৯৪০। আবদুল্লাহ ইবনে আৰু আওফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নিজের মেয়ের জানাযার নামায চার তাকবীরে পড়লেন। তারপর দু’টি তাকবীরের মাঝখানে যতটুকু সময় যায় চতুর্থ তাকবীরের পর ততটুকু সময় দাঁড়িয়ে তিনি নিজের মেয়ের ক্ষমার জন্য দু’আ করলেন। তারপর বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটিই করতেন। অন্য এক বর্ণনাতে বলা হয়েছে: তিনি চারবার তাকবীর দেন এবং তারপর এত সময় দাঁড়িয়ে থাকেন যাতে আমি মনে করেছিলাম, তিনি বুঝি আবার পঞ্চম তাকবীর দেবেন। তারপর তিনি ডানে ও বামে সালাম ফিরান। নামায পড়ে তিনি অবসর হলে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি এটা কি করলেন? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যেমনটি করতে দেখেছি তার একটুও অতিরিক্ত করিনি। অথবা তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমনটি করতে দেখেছি।

আল হাকেম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এটিকে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।”

অনুচ্ছেদ: ১৫ লাশ দ্রুত নিয়ে যাওয়া

[ লাশ দ্রুত নিয়ে যাওয়া অর্থ লাশ কাঁধে করে নিয়ে ছুটে গোরস্তানে যাওয়া নয়, বরং দ্রুত লাশ কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করা বুঝায় ] ।

٩٤١ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَسْرِعُوا بِالْجَنَازَةِ فَإِنْ تَكُ صَالِحَةٌ فَخَيْرٌ تُقَدِّمُونَهَا إِلَيْهِ وَأَنْ تَكُ سوى ذَلِكَ فَشَرَّ تَضَعُونَهُ عَنْ رِقَابِكُمْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ – وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ فَخَيْرٌ تُقَدِّمُوْنَهَا عَلَيْهِ.

৯৪১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা লাশের (কাফন-দাফনের ব্যাপারে) দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ কর। যদি তা সৎ ব্যক্তির লাশ হয় তাহলে তোমরা কল্যাণের দিকে তাকে পৌছিয়ে দাও। আর যদি সে তার বিপরীত হয় তাহলে অকল্যাণকে তোমরা নিজেদের কাঁধ থেকে (যত দ্রুত পার) নামিয়ে দাও।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম মুসলিমের বর্ণনাতে বলা হয়েছে: তোমরা তাকে কল্যাণের দিকে পাঠিয়ে দিচ্ছ।

٩٤٢ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا وضِعَتِ الْجَنَازَةُ فَاحْتَمَلَهَا الرِّجَالُ عَلَى أَعْنَاقِهِمْ فَإِنْ كَانَتْ صَالِحَةٌ قَالَتْ قَدِمُونِي وَإِنْ كَانَتْ غَيْرَ صَالِحَة قَالَتْ لِأَهْلِهَا يَا وَيْلَهَا أَيْنَ تَذْهَبُونَ

بِهَا يَسْمَعُ صَوْتَهَا كُلَّ شَيْءٍ إِلَّا الْإِنْسَانَ وَلَوْ سَمِعَ الْإِنْسَانُ لَصَعِقَ – رَوَاهُ الْبُخَارِي.

৯৪২। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন লাশ (দাফনের জন্য) রাখা হয়, তারপর লোকেরা তাকে কাঁধে তুলে নেয়, যদি তা নেক লোকের লাশ হয়, তাহলে বলতে থাকে: আমাকে তাড়াতাড়ি আমার গন্তব্যের দিকে নিয়ে চল। আর যদি তা অসৎ ও বদকার লোকের লাশ হয়, তাহলে তার পরিজনদের বলতে থাকে, হায় সর্বনাশ! (আমাকে) তোমরা কোথায় *************************

অনুচ্ছেদ: ১৬ – মৃতের ঋণ অনতিবিলম্বে পরিশোধ করা ও তার দাফন-কাফন দ্রুত সম্পন্ন করা, তবে আকস্মিক মৃত্যুতে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা

٩٤٤- وَعَنْ حُصَيْنِ بْنِ وَحُوَرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ طَلْحَةَ بْنَ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا مَرِضَ فَآتَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُهُ فَقَالَ إِنِّي لَا أَرَى طَلْحَةَ إِلَّا قَدْ حَدَثَ فِيهِ الْمَوْتُ فَادْنُونِي بِهِ وَعَجِلُوا بِهِ فَإِنَّهُ لَا

يَنْبَغِي لَجِيفَةِ مُسْلِم أن تُحْبَسَ بَيْنَ ظَهْرَانِي أَهْلِهِ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ .

৯৪৪। হুসাইন ইবনে ওয়াহ্ওয়াহ (রা) থেকে বর্ণিত। তালহা ইবনুল বারাআ (রা) পীড়িত হয়ে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখতে এলেন এবং বললেন: আমি দেখতে পাচ্ছি তাহার মৃত্যু আসন্ন। আমাকে তার মৃত্যুর খবর জানাবে। আর তার দাফন-কাফনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করবে। কারণ মুসলিমের লাশ তার পরিবারবর্গের কাছে আটকে রাখা উচিত নয়।

ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১৭ – কবরের কাছে দাঁড়িয়ে ওয়াজ-নসীহত করা

٩٤٥ – عَنْ عَلِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا فِي جَنَازَةٍ فِي بَقِيعِ الْفَرْقَدِ فَأَتَانَا رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَعَدَ وَقَعَدْنَا حَوْلَهُ وَمَعَهُ مِخْصَرَةً فَنَكُسَ وَجَعَلَ يَنْكُتُ بِمِخْصَرَتِهِ ثُمَّ قَالَ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ كُتِبَ مَقْعَدُهُ

مِنَ النَّارِ وَمَعْقَدُهُ مِنَ الْجَنَّةِ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ أَفَلا تَتَّكِلُ عَلَى كِتَابِنَا ؟ فَقَالَ اعْمَلُوا فَكُلُّ مُبَشِّرٌ يسر لِمَا خُلِقَ لَهُ . وَذَكَرَ تَمَامَ الْحَدِيْثِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .

৯৪৫। আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বাকীউল গারকাদে এক জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এলেন। তিনি বসে পড়লে আমরাও তাঁর চারপাশে বসে পড়লাম। তাঁর হাতে ছিল একটি ***************

অনুচ্ছেদ: ১৮ – মুর্দাকে দাফন করার পর তার জন্য দু’আ করা এবং দু’আ, ইস্তিগফার ও কুরআন পাঠের জন্য তার কবরের পাশে কিছুক্ষণ বসা

٩٤٦- عَنْ أَبِي عَمْرُو وَقِيلَ أَبُو عَبْدِ اللهِ وَقِيلَ أَبُو لَيْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفَنِ الْمَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ وَقَالَ اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ وَسَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ –

رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ.

৯৪৬। আবু আমর (তাঁর ডাক নাম) বা আবু আবদুল্লাহ বা আবু লাইলা উসমান ইবনে আফফান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুর্দাকে দাফন করার কাজ শেষ হয়ে গেলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কবরের কাছে দাঁড়িয়ে বলতেন: তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং জবাবদিহির সময় যাতে সে দৃঢ়পদ থাকে সেজন্য দু’আ কর। কারণ এই মুহূর্তেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٤٧ – وَعَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ إِذَا دَفَنْتُمُونِي فَأَقِيمُوا حَوْلَ قَبْرِي قَدْرَ مَا تُنْحَرُ جَزُورٌ وَيُقَسْمُ لَحْمُهَا حَتَّى اسْتَأْنِسَ بِكُمْ وَأَعْلَمَ مَا ذَا أَرَاجِعُ بِهِ رُسُلَ رَبِّى . رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَقَدْ سَبَقَ بِطَوِيلِهِ . قَالَ الشَّافِعِيُّ

رَحِمَهُ اللهُ ويُسْتَحَبُّ أَن يُقْرَأُ عِنْدَهُ شَيْ مِنَ الْقُرْآنِ وَإِنْ خَتَمُوا الْقُرْآنَ عِنْدَهُ كَانَ حَسَنًا .

৯৪৭। আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি (নিজের মৃত্যুর সময় নিকটবর্তী হলে) বলেন, আমাকে দাফন করার পর তোমরা আমার কবরের পাশে একটা উট যবেহ করে তার গোস্ত বণ্টন করতে যতটুকু সময় লাগে, ততক্ষণ দাঁড়াবে। যাতে করে আমি তোমাদের কারণে স্বস্তি লাভ করতে পারি এবং আমার প্রতিপালকের দূতকে কি জবাব দিতে হবে তাও জেনে নিতে পারি।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের বিস্তারিত বর্ণনা ইতিপূর্বে উদ্ধৃত হয়েছে [ দ্বিতীয় খণ্ডে উদ্ধৃত ৭১১ নম্বর হাদীস দেখুন ] । ইমাম শাফিঈ (র) বলেন, কবরের পাশে (দাঁড়িয়ে) আল কুরআন থেকে কিছু পড়া হচ্ছে মুস্তাহাব। আর সবাই মিলে যদি সেখানে পুরো আল কুরআন খতম করে তবে তা খুবই ভালো।

অনুচ্ছেদ: ১৯ মৃতের পক্ষ থেকে দান-খয়রাত করা এবং তার জন্য দু’আ করা

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَالَّذِينَ جَاؤُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْلَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيْمَانِ .

মহান আল্লাহ বলেন:

“আর যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে, হে আমাদের রব। আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং আমাদের ভাইদেরকেও যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে।” (আল-হাশরঃ ১০)

٩٤٨ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ رَجُلا قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ أُمِّي أُفْتُلِيَتْ نَفْسُهَا وَأَرَاهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدِّقَتْ فَهَلْ لَهَا أَجْرَانْ تَصَدِّقْتُ عَنْهَا قَالَ نَعَمُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .

৯৪৮। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, আমার আম্মা হঠাৎ ইন্তিকাল করেন। আমার মনে হয়, তিনি কথা বলতে পারলে কিছু দান করতে বলতেন। এ অবস্থায় আমি যদি তার পক্ষ থেকে দান করি তাহলে কি তিনি সাওয়াব পাবেন? তিনি জবাব দিলেন: হাঁ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٤٩ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلاثَ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

৯৪৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মানুষ মরে গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমল জারি থাকে: সাদকায়ে জারিয়া অথবা এমন ইল্ম যা থেকে লাভবান হওয়া যায় অথবা এমন সুসন্তান যে তার জন্য দু’আ করে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২০ – জনগণ কর্তৃক মৃতের প্রশংসা

٩٥٠ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ مَرُوا بِجَنَازَةٍ فَاثْنَوا عَلَيْهَا خَيْرًا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَبَتْ ثُمَّ مَرُّوا بِأَخْرَى فَاثْنَوْا عَلَيْهَا شَرَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَبَتْ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَابِ مَا وَجَبَتْ قَالَ

هُذَا اثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ خَيْرًا فَوَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ وَهَذَا اثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ شَرًّا فَوَجَبَتْ لَهُ النَّارُ أَنْتُمْ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ شهداء الله :

৯৫০। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা একটি লাশ নিয়ে গেল। তারা মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ওয়াজিব হয়ে গেছে। তারপর লোকেরা আর একটি লাশ নিয়ে গেল। তারা মৃত ব্যক্তির দুর্নাম করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ওয়াজিব হয়ে গেছে। উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) জিজ্ঞেস করলেন, কী ওয়াজিব হয়ে গেছে? তিনি জবাব দিলেন: এই মৃতের তোমরা যে প্রশংসা করলে তাতে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। আর যে মৃতের তোমরা দুর্নাম গাইলে তাতে তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তোমরা হচ্ছ পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٥١ – وَعَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَجَلَسْتُ إِلَى عُمَرَ بن الخطابِ فَمَرَّتْ بِهِمْ جَنَازَةٌ فَأَثْنِي عَلَى صَاحِبِهَا خَيْرًا فَقَالَ عُمَرُ وَجَبَتْ ثُمَّ مُرْ بِأُخْرَى فَأَثْنِي عَلَى صَاحِبِهَا خَيْرًا فَقَالَ عُمَرُ وَجَبَتْ ثُمَّ مُرْ

بِالثَّالِثَةِ فَأَثْنِي عَلَى صاحِبِهَا شَراً فَقَالَ عُمَرُ وَجَبَتْ قَالَ أَبُو الْأسْوَدِ فَقُلْتُ وَمَا وَجَبَتْ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ قُلْتُ كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّمَا مُسْلِمٍ شَهِدَ لَهُ أَرْبَعَةٌ بِخَيْرِ أَدْخَلَهُ اللهُ الْجَنَّةَ فَقُلْنَا وَثَلَاثَةٌ قَالَ

وَثَلَاثَةً فَقُلْنَا وَاثْنَانِ قَالَ وَاثْنَانِ ثُمَّ لَمْ نَسْأَلُهُ عَنِ الْوَاحِدِ . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

৯৫১। আবুল আসওয়াদ (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদীনায় পৌঁছে উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)-র কাছে বসলাম। সেখান দিয়ে একটি লাশ নিয়ে যাওয়া হল। মৃত ব্যক্তিটির প্রশংসা করা হলে উমার (রা) বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। এরপর আর একটি লাশ নিয়ে যাওয়া হল। সেই মৃত ব্যক্তিটিরও প্রশংসা করা হলে উমার (রা) বলেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। তারপর তৃতীয় একটি লাশ নিয়ে যাওয়া হল। সেই (তৃতীয়) মৃত ব্যক্তিটির দুর্নাম করা হলে উমার (রা) বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। আবুল আসওয়াদ বলেন, আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! কী ওয়াজিব হয়ে গেছে? তিনি জবাব দিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বলেছিলেন আমিও তোমাদেরকে তেমনটিই বলছি: চারজন লোক যে কোন মুসলিমের সদগুণাবলীর সাক্ষ্য দেবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমরা বললাম, যদি তিনজনে সাক্ষ্য দেয়? জবাব দিলেন: তিনজনে সাক্ষ্য দিলেও। আমরা বললাম, যদি দু’জনে সাক্ষ্য দেয়? জবাব দিলেন: দু’জনে সাক্ষ্য দিলেও। এরপর আমরা আর একজনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করিনি।

ইমাম বুখারী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২১ – যার শিশু সন্তান মারা যায় তার জন্য রয়েছে উচ্চতর মর্যাদা

٩٥٢ – عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ لَهُ ثَلاثَةٌ لَمْ يَبْلُغُوا الْحِنْتَ إِلَّا أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ بِفَضْلِ رَحْمَتِهِ إِيَّاهُمْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .

৯৫২। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিলি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন মুসলিম ব্যক্তির তিনটি সন্তান বালেগ হবার আগেই মারা গেলে আল্লাহ তাঁর রহমতের মাহাত্মগুণে ঐ সন্তানদের কারণে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٥٣ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَمُوتُ لِأَحَدٍ مِّنَ الْمُسْلِمِينَ ثَلَاثَةٌ مِّنَ الْوَلَدِ لَا تَمَسُّهُ النَّارُ إِلَّا تَحِلَّةً القسم. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَتَحِلَّةُ الْقَسَمِ قَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى : وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا

وَارِدُهَا وَالْوُرُودُ هُوَ الْعُبُورُ عَلَى الصِّرَاطِ وَهُوَ جِسَرٌ مَنْصُوبٌ عَلَى ظَهْرِ جَهَنَّمَ عَافَانَا اللَّهُ مِنْهَا .

৯৫৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিমের তিনটি সন্তান মারা গেলে আগুন তাকে স্পর্শ করবে না, তবে কসম পুরা করার জন্য (জাহান্নামের ওপর স্থাপিত পুল অতিক্রম করতে হবে)। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর কসম পুরা করার ব্যাপারটি হচ্ছে, মহান আল্লাহ বলেছেন: “আর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যাকে তার (জাহান্নামের) উপর দিয়ে অতিক্রম করতে হবে না।” (সূরা মারইয়াম: ৭১)। এখানে “উরূদ” অর্থ রাস্তার উপর দিয়ে অতিক্রম করা। আর রাস্তা বলতে এমন একটি পুল যা জাহান্নামের উপর স্থাপিত রয়েছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তা থেকে রক্ষা করুন।

٩٥٤ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ جَاءَتِ امْرَأَةً إِلَى رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله ذَهَبَ الرِّجَالُ بِحَدِيثِكَ فَاجَعَلْ لَنَا مِنْ نَفْسِكَ يَوْمًا نَأْتِيكَ فِيهِ تُعَلِّمُنَا مِمَّا عَلَّمَكَ اللَّهُ قَالَ اجْتَمِعْنَ

يَوْمَ كَذَا وَكَذَا فَاجْتَمَعْنَ فَآتَاهُنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَّمَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَهُ اللَّهُ ثُمَّ قَالَ مَا مِنْكُنْ مِنْ امْرَأَةٍ تُقَدِّمُ ثَلَاثَةٌ مِّنَ الْوَلَدِ إِلَّا كَانُوا لَهَا حِجَابًا مِّنَ النَّارِ فقَالَتِ امْرَأَةٌ وَاثْنَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

وَاثْنَيْنِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

৯৫৪। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! পুরুষরা তো আপনার হাদীস শিখে নিয়েছে। কাজেই আমাদের জন্যও আপনার পক্ষ থেকে একটি দিন নির্ধারিত করুন। সে সময় আপনার কাছে এসে আমরা আপনার থেকে এমন সব জিনিস শিখবো যা আল্লাহ আপনাকে শিখিয়েছেন। তিনি বলেনঃ তোমরা অমুক অমুক দিন সমবেত হও। কাজেই সেই মহিলারা সমবেত হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে এলেন এবং আল্লাহ তাঁকে যা শিখিয়েছেন তিনি তাদেরকে তা শিখালেন। তারপর বলেন: তোমাদের মধ্যে যার তিনটি সন্তান ইতিপূর্বে মারা গেছে তারা তার জন্য জাহান্নামের পথে অন্তরাল হবে। একটি মেয়ে বলল, যদি দু’টি হয়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যদি দু’টি হয় তাও।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২২ যালিমদের কবরের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় ভীত হওয়া ও কান্নাকাটি করা, মহান আল্লাহর সামনে দীনতা প্রকাশ করা এবং এসব ব্যাপারে অমনোযোগী থাকার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

٩٥٥ – عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لأَصْحَابِهِ يَعْنِي لَمَّا وَصَلُّوا الْحِجْرَ دِيَارَ ثَمُودَ لَا تَدْخُلُوا عَلَى هَؤُلَاءِ الْمُعَذِّبِينَ إلا أَنْ تَكُونُوا بَاكِيْنَ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا بَاكِينَ فَلَا تَدْخُلُوا عَلَيْهِمْ لَا

يُصِيبُكُمْ مَا أَصَابَهُمْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ – وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ لَمَّا مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْحِجْرِ قَالَ لَا تَدْخُلُوا مَسَاكِنَ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ أَنْ يُصِيبَكُمْ مَا أَصَابَهُمْ إِلَّا أَنْ تَكُونُوا بَاكِينَ ثُمَّ قَنْعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ

وَسَلَّمَ رَأْسَهُ وَأَشْرَعَ السَّيْرَ حَتَّى أَجَازَ الْوَادِي.

৯৫৫। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সামূদ জাতির এলাকা আল হিজর নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন তাঁর সাহাবীদের বললেনঃ তোমরা ঐ আযাবপ্রাপ্ত লোকদের এলাকায় যেও না, তবে হাঁ, কান্নাকাটি করতে করতে যেতে পার। যদি তোমরা কান্নাকাটি করতে না পার তাহলে তাদের ওখানে প্রবেশ করো না। কারণ তাদের উপর যে আযাব এসেছিল তা যেন তোমাদের উপরও আপতিত না হয়।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর অন্য একটি রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে, বর্ণনাকারী বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল হি নামক স্থানটি অতিক্রম করার সময় বলেন: যেসব লোক নিজেদের উপর যুলম করেছে তোমরা তাদের আবাসে প্রবেশ করো না। তাদের উপর যা আপতিত হয়েছিল তা যেন তোমাদের উপরও আপতিত না হয়। তবে হাঁ কান্নারত অবস্থায় তোমরা সে স্থানটি অতিক্রম করতে পার। তারপর তিনি নিজের মাথা ঢেকে নিলেন এবং সাওয়ারী দ্রুত হাঁকালেন। এভাবে তিনি উপত্যকাটি অতিক্রম করলেন [ মদীনা ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় ছিল প্রাচীন সামূদ জাতির বাস। আল হিজর ছিল সামুদ অধ্যুষিত একটি শহর। এটি সিরিয়া সীমান্তে অবস্থিত। সামূদ জাতির উপর আল্লাহর গযব নাযিলের সময় এ শহরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ] ।

অধ্যায়

কিতাবু আদাবিস সাফার (সফরের নিয়ম-কানুন)

অনুচ্ছেদ: ১ – বৃহস্পতিবার ও দিনের প্রথম দিকে সফরে রওয়ানা হওয়া মুস্তাহাব

٩٥٦ – عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ يَوْمَ الْخَمِيسِ وَكَانَ يُحِبُّ أَنْ يُخْرُجَ يَوْمَ الْخَمِيسِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وفي روايَةٍ فِي الصَّحِيحَيْنِ لَقَلَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ

عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ إِلَّا فِي يَوْمِ الْخَمِيسِ.

৯৫৬। কা’ব ইবনে মালিক (রা) বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃহস্পতিবার তাবুক যুদ্ধে রওয়ানা হয়েছিলেন। আর তিনি বৃহস্পতিবার সফরে বের হওয়া পছন্দ করতেন। ইমাম বুখারী ও ইমাম
মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব কমই বৃহস্পতিবার দিন ছাড়া অন্য দিন সফরে বের হতেন।

٩٥٧ – وَعَنْ صَخْرِ بْنِ وَدَاعَةَ الْغَامِدِي الصَّحَابِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللهُمَّ بَارِكْ لِأُمَّتِي فِي بُكُوْرِهَا وَكَانَ إِذَا بَعَثَ سَرِيَّةً أَوْ جَيْشًا بَعَثَهُمْ مِنْ أَوَّلِ النَّهَارِ وَكَانَ صَخْرَ تَاجِرًا فَكَانَ يَبْعَثُ

تِجَارَتَهُ أَوَّلَ النَّهَارِ فَأَثْرَى وَكَثُرَ مَالُهُ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ

৯৫৭। সাহাবী সা ইবনে ওয়াদাআহ আল-গামেদী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! আমার উম্মাতকে দিনের প্রথমাংশে বরকত দান কর [ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও সফরে বের হলে অতি প্রত্যুষে রওয়ানা হতেন। এটিই ছিল তাঁর অভ্যাস। মুসলিমদেরকে তিনি এর হুকুম দিয়েছেন। কারণ এটাই হচ্ছে কল্যাণ ও বরকতের সময় এবং এ সময় মন প্রফুল্ল থাকে, ফলে কাজও সুচারুরূপে সম্পন্ন হয় ] । আর তিনি যখনই কোন ছোট বা বড় সেনাদল রওয়ানা করাতেন, তাদেরকে দিনের প্রথমভাগে রওয়ানা করাতেন। রাবী বলেন, সা (রা) ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তিনি তার ব্যবসায়ের পণ্য দিনের প্রথম অংশে পাঠাতেন। ফলে তার ব্যবসা সমৃদ্ধ হয় এবং তার সম্পদ বৃদ্ধি পায়।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান হাদীস আখ্যায়িত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২ – সফরসংগী অনুসন্ধান করা এবং সবাই যার আনুগত্য করবে এমন ব্যক্তিকে নিজেদের মধ্যে থেকে আমীর বানানো

٩٥٨ – عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ أَنَّ النَّاسَ يَعْلَمُونَ مِنَ الْوَحْدَةِ مَا أَعْلَمُ مَا سَارَ رَاكِبٌ بِلَيْلٍ وَحْدَهُ . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

৯৫৮। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: একাকী সফরের মধ্যে কী কী ক্ষতি আছে সে সম্পর্কে আমি যা জানি লোকেরা যদি তা জানত, তাহলে কোন সাওয়ারী রাতে একাকী সফর করতো না।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٥٩ – وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ جَدِهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّاكِبُ شَيْطَان والراكبان شَيْطَانَان والثلاثة ركب. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِي وَالنِّسَائِيُّ بِأَسَانِيدَ صَحِيحَةٍ وَقَالَ

التَّرْمِذِيُّ حَدِيْثٌ حَسَنٌ

৯৫৯। আমর ইবনে শু’আইব (র) তার পিতা থেকে এবং তার (আমরের) দাদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: একজন সাওয়ারী হচ্ছে একটি শয়তান (অর্থাৎ শয়তানের মত), দু’জন সাওয়ারী দু’টি শয়তান আর তিনজন সাওয়ারী হচ্ছে কাফিলা [ তিনজনের জোটকে কাফিলা বলা হয়েছে। এ অবস্থায় একজন বা দু’জনের উপর শয়তানের বিজয়ের যে সুযোগ ছিল তিনজনের ক্ষেত্রে তা তিরোহিত। অন্যদিকে তিনজনের জোট জামায়াতের পুরো ফায়দা লাভকরবে, যা একজন বা দু’জনের জন্য সম্ভবপর ছিল না ] ।

٩٦٠- وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا خَرَجَ ثَلَاثَةٌ فِي سَفَرٍ فَلْيُؤْمِرُوا أَحَدَهُمْ حَدِيْثٌ حَسَنٌ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ حَسَن

৯৬০। আবু সাঈদ ও আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তিনজন সফরে বের হলে তাদের মধ্য থেকে একজনকে আমীর নিযুক্ত করা উচিত।

এটি হাসান হাদীস। ইমাম আবু দাউদ হাসান সনদের মাধ্যমে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٦١- وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خَيْرُ الصَّحَابَةِ أَرْبَعَةٌ وَخَيْرُ السَّرَايَا أَرْبَعُ مِائَةٍ وَخَيْرُ الْجُيُوشِ أَرْبَعَةُ الْأَفٍ وَلَنْ يُغلَبَ اثْنَا عَشَرَ الْفًا عَنْ قِلَّة رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ

حَسَنٌ .

৯৬১। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সর্বোত্তম সাথী হচ্ছে চারজন, সর্বোত্তম ছোট সেনাদল হচ্ছে চারশো জনের সেনাদল, সর্বোত্তম বড় সেনাবাহিনী চার হাজার জনের সেনাদল এবং বারো হাজারের সেনাবাহিনী কখনো তার (বাহ্যিক) স্বল্পতার কারণে পরাজিত হতে পারে না।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান হাদীসের পর্যায়ভুক্ত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩ – যাত্রা অব্যাহত রাখা, মনযিলে অবতরণ করা, রাত্রি অতিবাহিত করা ও সফরে নিদ্রা যাওয়ার নিয়ম-কানুন এবং রাতে জন্তুযানের প্রতি কোমল ব্যবহার করা ও তাদের সুযোগ-সুবিধার প্রতি দৃষ্টি রাখা মুস্তাহাব। আর যে ব্যক্তি কর্তব্য পালনে অবহেলা করে তাকে তাকিদ দেয়া এবং সাওয়ারী পশু শক্তিশালী হলে সাওয়ারীর পিঠে নিজের সাথে অন্য কাউকে আরোহন করানো জায়েয

٩٦٢ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَافَرْتُمْ فِي الْخِصْبِ فَاعْطُوا الابلَ حَظْهَا مِنَ الْأَرْضِ وَإِذَا سَافَرْتُمْ فِي الْجَدْبِ فَأَسْرِعُوا عَلَيْهَا السَّيْرَ وَبَادِرُوا بِهَا نَقِيهَا وَإِذَا عَرَّسْتُمْ

فَاجْتَنِبُوا الطَّرِيقَ فَإِنَّهَا طَرُقُ الدَّوَابِ وَمَاوَى الْهَوَامِ بِاللَّيْلِ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

৯৬২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা সবুজ-শ্যামল ভূমিতে সফর করলে উটকে জমিতে তার অংশ দেবে, আর অনুর্বর ও অনাবাদী জমিতে সফর করার সময় দ্রুত অতিক্রম করবে, যাতে তাদের শক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে। রাত্রি যাপন করতে চাইলে পথ থেকে সরে যাও। কারণ রাত্রে পথ দিয়ে চতুষ্পদ জন্তুরা চলাচল করে এবং সেখানে কীট ও সরীসৃপের আবাস।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আর “উটকে জমি থেকে তার প্রাপ্য অংশ দাও”, এর অর্থ হচ্ছে, চলার সময় উটের সাথে কোমল ব্যবহার করো যেন তা অগ্রসর হতে হতে (পথের দু’পাশের তৃণ-গুল্ম আচ্ছাদিত জমি থেকে) খেতে পারে। আর “শক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে”, এর অর্থ হচ্ছে (অনুর্বর জমির উপর দিয়ে চলার সময়) দ্রুত চলে গন্তব্য স্থলে পৌছে যাও, যাতে সফরের কষ্টের কারণে উটের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবার আগেই গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া যায়। আর “তা’রীস” শব্দের অর্থ রাতে যাত্রাবিরতি করা।

٩٦٣ – وَعَنْ أَبِي قَتَادَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ فِي سَفَرٍ فَعَرْسَ بِلَيْلِ اضْطَجَعَ عَلَى يَمِينِهِ وَإِذَا عَرْسَ قُبَيْلَ الصُّبْحِ نَصَبَ ذِراعَهُ وَوَضَعَ رَأْسَهُ عَلَى كَفِّهِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

৯৬৩। আবু কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে থাকাকালে রাত যাপন করতে হলে ডান কাতে শয়ন করতেন এবং সকাল হবার পূর্বে শুতে হলে নিজের হাত খাড়া করে হাতের তালুর উপর মাথা রেখে শুয়ে থাকতেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। আলিমগণ বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর হাত এজন্য খাড়া করে শুয়ে থাকতেন, যাতে তিনি নিদ্রায় বিভোর হয়ে না পড়েন এবং ফজরের নামায ঠিক সময়মত অথবা প্রথম ওয়াক্তে পড়তে অসুবিধা না হয়।

٩٦٤- عن أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْكُمْ بِالدُّلْجَةِ فَإِنَّ الْأَرْضَ تُطْوَى بِاللَّيْلِ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ حَسَن .

৯৬৪। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা রাতে সফর করা নিজেদের জন্য অপরিহার্য করে নাও। কারণ রাতে যমিনকে গুটিয়ে নেয়া হয়।
ইমাম আবু দাউদ হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। “আদ্‌-দুলজাতু” অর্থ রাতে সফর করা।

٩٦٥- وَعَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ النَّاسُ إِذَا نَزَلُوا منزلاً تَفَرِّقُوا فِي الشَّعَابِ وَالْأَوْدِيَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ تَفَرَّقَكُمْ فِي هَذِهِ الشِّعَابِ وَالْأَوْدِيَةِ إِنَّمَا ذَلِكُمْ مِنَ الشَّيْطَانِ فَلَمْ يَنْزِلُوا

بَعْدَ ذَلِكَ مَنْزِلاً إِلَّا انْضَمَّ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضَ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ حَسَن –

৯৬৫। আবু সা’লাবা আল-খুশানী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা (সফর অবস্থায়) কোন মনযিলে অবতরণ করলে, (সাধারণত) গিরিপথ বা উপত্যকাগুলোতে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়তো। (এ অবস্থা দেখে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: এইসব গিরিপথ ও উপত্যকাগুলিতে তোমাদের বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়া আসলে শয়তানের কারসাজি। এরপর সাহাবীগণ কোথাও অবতরণ করলে, তারা সংঘবদ্ধ হয়ে থাকতেন।

ইমাম আবু দাউদ হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٦٦ – وَعَنْ سَهْلِ بْنِ عَمْرٍو وَقِيلَ سَهْلِ بْنِ الرَّبِيعِ بْنِ عَمْرُو الْأَنْصَارِي الْمَعْرُوفِ بِابْنِ الْحَنْظَلِيَّةِ وَهُوَ مِنْ أَهْلِ بَيْعَةِ الرِّضْوَانِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ مَرْ رَسُولُ الله صَلَّى اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِبَعِيرٍ قَدْ لَحِقَ ظَهْرُهُ بِبَطْنِهِ

فَقَالَ اتَّقُوا اللَّهَ فِي هَذِهِ الْبَهَائِمِ الْمُعْجَمَةِ فَارْكَبُوهَا صَالِحَةٌ وَكُلُوهَا صَالِحَةً . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِاسْنَادِ صَحِيحٌ.

৯৬৬। সাহল ইবনে আমর থেকে বর্ণিত। আর কারো মতে তিনি সাহল ইবনে রাবী ইবনে আমর আনসারী, যিনি ইবনুল হানযালীয়াহ (রা) নামে খ্যাত এবং যিনি বাই’আতুর রিদওয়ান দলের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উটের পাশ দিয়ে গেলেন। উটটির পিঠ তার পেটের সাথে ঠেকে গিয়েছিল। তিনি বলেনঃ তোমরা এই অবলা পশুদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। কাজেই সুস্থ ও সবল অবস্থায় এদের পিঠে সাওয়ার হও আর সুস্থ অবস্থায় এদেরকে আহার কর।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদ সহকারে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

٩٦٧ – وَعَنْ أَبِي جَعْفَرٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ أَرْدَفَنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ خَلْفَهُ وَأَسَرُ إِلَى حَدِيثًا لَا أُحَدِّثُ بِهِ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ وَكَانَ أَحَبُّ مَا اسْتَتَرَ بِهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ

وَسَلَّمَ لِحَاجَتِهِ هَدَفٌ أَوْ حَائِشُ نَخْلٍ يَعْنِي حَائِطَ نَخْلٍ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ هَكَذَا مُخْتَصِرًا – وَزَادَ فِيهِ الْبَرْقَانِي بِإِسْنَادِ مُسْلِمٍ بَعْدَ قَوْلِهِ حَائِسُ نَخْلٍ فَدَخَلَ حَائِطًا لِرَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فَإِذَا فِيهِ جَمَلٌ فَلَمَّا رَأَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ

عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَرْجَرَ وَذَرَفَتْ عَيْنَاهُ فَآتَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَسَحَ سَرَاتَهُ أَيْ سَنَامَهُ وَذِفْرَاهُ فَسَكَنَ فَقَالَ مَنْ رَبُّ هَذَا الْجَمَلَ لِمَنْ هُذَا الْجَمَلُ فَجَاءَ فَتًى مِّنَ الْأَنْصَارِ فَقَالَ هَذَا لِي يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ أَفَلا تَتَّقِى

اللهَ فِي هَذِهِ الْبَهِيمَةِ الَّتِي مَلَكَكَ اللَّهُ إِيَّاهَا فَإِنَّهُ يَشْكُو إِلَى أَنَّكَ تُجِيعُهُ وَتُدْتَبُهُ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ كِرَوَايَةِ الْبَرْقَانِي .

৯৬৭। আবু জাফর আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জন্তযানে তাঁর পিছনে বসালেন এবং আমার কানে কানে একটি কথা বললেন। কথাটি আমি কাউকে বলবো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার সময় যে জিনিস দ্বারা পর্দা বা আড়াল করা পছন্দ করতেন তা হল দেয়াল বা খেজুরের ডাল বা ঝোঁপ।

ইমাম মুসলিম এভাবে সংক্ষেপে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। তবে ইমাম বারকানী ইমাম মুসলিমের এই সনদ সহকারে ‘হায়েশূ নাখলিন’ শব্দ দু’টির পর নিম্নোক্ত বাক্যগুলি বর্ণনা করেছেন: তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের এক ব্যক্তির বাগানে প্রবেশ করলেন। সেখানে ছিল একটি উট। উটটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখার সাথে সাথেই আওয়াজ করে উঠলো এবং তার চোখ দু’টি থেকে ঝর ঝর করে পানি পড়তে লাগলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এলেন এবং তার কাঁধ ও মাথার পেছনের অংশে হাত বুলালেন। এতে উটটি শান্ত হল। তিনি বললেন: উটটির মালিক কে? উটটি কার? এক আনসারী যুবক এগিয়ে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এটা আমার। তিনি বলেন: আল্লাহ তোমাকে এই পশুটির মালিক বানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তুমি আল্লাহকে ভয় কর না? কারণ সে আমার কাছে নালিশ করেছে: তুমি তাকে ভুখা রাখ এবং তাকে দিয়ে বেশি বোঝা বহন করাও।

ইমাম বারকানীর অনুরূপ ইমাম আবু দাউদও এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। ভাষাবিদগণ “যিফরা” শব্দটির অর্থ বর্ণনা করে বলেছেন: উটের কানে পেছনের যে অংশটিতে ঘাম হয় সেটিকেই বলা হয় যিফরা। আর “তুদইবুহু” শব্দটির অর্থ হচ্ছে, তাকে পরিশ্রান্ত করে দিল।

٩٦٨- وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا إِذَا نَزَلْنَا مَنْزِلَا لَا نُسَبِّحُ حَتَّى نَحْلٌ الرحال . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ عَلَى شَرْطٍ مُسْلِم .

৯৬৮। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফরে আমরা কোন মনযিলে অবতরণ করলে হাওদা না খোলা পর্যন্ত নামায পড়তাম না।

ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। আর তাঁর কথা “লা-নুসাব্বিহু” শব্দটির অর্থ নফল নামায পড়তাম না। অর্থাৎ এ হাদীসটির অর্থ হচ্ছে: নফল নামায পড়ার প্রতি আমাদের অত্যধিক লোভ সত্ত্বেও হাওদা খোলা এবং বাহনের পশুদের আরাম পৌঁছানোকে আমরা নামাযের উপর অগ্রাধিকার দিতাম।

অনুচ্ছেদ: ৪ – সফররত অবস্থার সাথীকে সাহায্য করা

এই অনুচ্ছেদের আওতায় ইতিপূর্বে অনেক হাদীস উদ্ধৃত হয়েছে। যেমন: “আল্লাহ বান্দাকে সাহায্য করেন যতক্ষণ সে তার ভাইকে সাহায্য করে [ দেখুন ২৪৪ নম্বর হাদীস, প্রথম খণ্ড ] এবং “প্রতিটি সৎকাজই একটি সাদাকা [ দেখুন ১৩৪ নম্বর হাদীস, প্রথম খণ্ড ] । এ ধরনের আরো বিভিন্ন হাদীস।

٩٦٩- وَعَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ فِي سَفَرِاذْ جَاءَ رَجُلٌ عَلَى رَاحِلَةٍ لَهُ فَجَعَلَ يَصْرِفُ بَصَرَهُ يَمِينًا وَشِمَالًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ كَانَ مَعَهُ فَضْلُ ظَهْرٍ فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لَا

ظَهْرَ لَهُ وَمَنْ كَانَ لَهُ فَضْلُ زَادٍ فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لا زَادَ لَهُ فَذَكَرَ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ مَا ذكَرَهُ حَتَّى رَأَيْنَا أَنَّهُ لَا حَقَّ لِأَحَدٍ مِنَّا فِي فَضْلٍ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ –

৯৬৯। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সফরে থাকা অবস্থায় অকস্মাৎ এক ব্যক্তি তার সাওয়ারীতে চড়ে এলো। সে তার চোখ ডানে ও বাঁয়ে ঘোরাতে লাগলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তির সাথে অতিরিক্ত জন্মযান আছে তার সেটি এমন ব্যক্তিকে দিয়ে দেয়া উচিত যার একটিও সাওয়ারী নেই। আর যে ব্যক্তির কাছে অতিরিক্ত খাদ্য আছে তা এমন ব্যক্তিকে দিয়ে দেয়া উচিত যার কাছে কোন খাবার নেই। এরপর তিনি বিভিন্ন ধরনের সম্পদের কথা বলতে লাগলেন, এমনকি আমরা মনে করতে থাকলাম যে, কোন ব্যক্তির প্রয়োজনের অতিরিক্ত বস্তুর উপর তার কোন অধিকার নেই।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

هُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ أَرَادَ ۹۷۰ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ : أَنْ يَغْزُو فَقَالَ يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ إِنَّ مِنْ إِخْوَانِكُمْ قَوْمًا لَيْسَ لَهُمْ مَالٌ وَلَا عَشِيرَةٌ فَلْيَضُمُ أَحَدُكُمْ إِلَيْهِ الرَّجُلَيْنِ أَو الثَّلَاثَةَ

فَمَا لِأَحَدِنَا مِنْ ظَهْرِ يَحْمِلُهُ إِلَّا عُقْبَةٌ يَعْنِي كَعْقَبَةٍ أَحَدِهِمْ قَالَ فَضَمَمْتُ إِلَى اثْنَيْنِ أَوْ ثَلَاثَهُ مَا لِي إِلَّا عُقْبَةٌ كَعُقْبَةِ أَحَدِهِمْ مِنْ جَمَلِي . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ .

৯৭০। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি যুদ্ধের সংকল্প করলেন। তিনি বলেনঃ হে মুহাজির ও আনসারগণ। তোমাদের ভাইদের মধ্যে এমন একটি দল রয়েছে যাদের কোন অর্থ-সম্পদ নেই এবং কোন জ্ঞাতিগোষ্ঠীও নেই। তোমাদের প্রত্যেকে যেন দু’জন বা তিনজন লোক নিজেদের সাথে শামিল করে। কারণ আমাদের কারোর আরোহণের সাওয়ারী নেই, পালাক্রমে সাওয়ার হওয়া ছাড়া। জাবির (রা) বলেন, আমি নিজের সাথে দু’জন বা তিনজনকে শামিল করে নিলাম। আমার উটের পিঠে তাদের একেকজনের মত আমি পালাক্রমে সাওয়ার হতাম।

ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۹۷۱- وَعَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَخَلَّفُ فِي الْمَسِيرِ فَيُزْجِي الضَّعِيفَ وَيُرْدِفَ وَيَدْعُوا لَهُ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادٍ حَسَن –

৯৭১। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে পেছনে চলতেন যাতে দুর্বল সাওয়ারীদেরকে হাঁকিয়ে নিয়ে যেতে আর যে ব্যক্তি পায়ে হেঁটে চলে তাকে নিজের পেছনে সাওয়ার করিয়ে নিতে এবং তার জন্য দু’আ করতে পারেন।

ইমাম আবু দাউদ উত্তম সনদে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৫ সাওয়ারীর পিঠে (বা যানবাহনে) চড়ে সফর করার সময় যে দু’আ পড়তে হয়

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَجَعَلَ لَكُمْ مِّنَ الْفُلْكِ وَالْأَنْعَامِ مَا تَرْكَبُونَ لِتَسْتَوُوا عَلَى ظُهُورِهِ ثُمَّ تَذْكُرُوا نِعْمَةَ رَبِّكُمْ إِذَا اسْتَوَيْتُم عَلَيْهِ وَتَقُولُوا سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ. وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“আর তিনি তৈরি করেছেন তোমাদের জন্য নৌযান ও চতুষ্পদ প্রাণী যাদের উপর তোমরা সাওয়ার হও, যাতে তোমরা তার পিঠে শক্ত হয়ে বসে তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ স্মরণ কর আর বল: পাক পবিত্র হচ্ছেন সেই সত্তা যিনি আমাদের জন্য একে অনুগত করে দিয়েছেন। অন্যথায় একে বশ করা আমাদের সাধ্যাতীত ছিল। আমাদের প্রতিপালকের কাছে অবশ্যই আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে।” (সূরা আয যুখরুফ: ১৩)

۹۷۲ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذا اسْتَوَى عَلَى بَعِيرِهِ خَارِجًا إلى سَفَرٍ كَبُرَ ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَأنا إلى ربنا لمُنْقَلِبُونَ اللَّهُمَّ إِنَّا

نَسْأَلُكَ فِي سفرنا هذا البر والتقوى وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى اللَّهُمَّ هَوَنِ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هُذَا واطوعنا بعدَهُ اللهم أنت الصاحب في السفر وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْشَاء السَّفَرِ وَكَابَةِ الْمَنْظَرِ وَسُوءِ

الْمُنْقَلبِ فِي الْمَالِ وَالْأَهْلِ والولد وإِذَا رَجَعَ قَالَهُنَّ وَزَادَ فِيهِنَّ أَيبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ. رواه مسلم

৯৭২। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে যাওয়ার জন্য উটের পিঠে সাওয়ার হতেন, তখন তিনবার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পড়তেন, তারপর বলতেনঃ “সুবহানাল্লাযী সাখারা লানা হাযা ওয়ামা কুন্না লাহু মুকরিনীন ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবুন। আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফী সাফারিনা হাযাল বিয়া ওয়াত্ তাওয়া ওয়া মিনাল আমালে মা তারদা। আল্লাহুম্মা হাওয়েন আলাইনা সাফারানা হাযা ওয়াত্বি আন্না বু’দাহ্। আল্লাহুম্মা আনতাস সাহিবু ফিস্ সাফারি ওয়াল খালীফাতু ফিল আহলে। আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন ওয়াসাইস সাফরে ওয়া কাবাতিল মানযারে ওয়া সূইল মুনকালাবি ফিল মালি ওয়াল আহলি ওয়াল ওয়ালাদি” (পাক পবিত্র সেই সত্তা যিনি এটিকে আমাদের অধীন করে দিয়েছেন। অন্যথায় একে বশ করা আমাদের সাধ্যাতীত ছিল। আর আমরা অবশ্যি আমাদের প্রভুর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। হে আল্লাহ! আমাদের এই সফরে আমরা তোমার কাছে নেকী ও তাকওয়ার প্রার্থনা করছি এবং সেই আমল চাচ্ছি যাতে তুমি সন্তুষ্ট। হে আল্লাহ। আমাদের এই সফরকে আমাদের জন্য সহজ করে দাও এবং এর দূরত্বকে আমাদের জন্য গুটিয়ে দাও। হে আল্লাহ! তুমি সফরে আমাদের সাথী এবং পরিবারে আমাদের প্রতিনিধি। হে আল্লাহ। আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই সফরের কষ্ট ও কাঠিন্য থেকে, মর্মান্তিক দৃশ্যের উদ্ভব থেকে এবং নিজেদের ধন-সম্পদ, পরিবার-পরিজন ও সন্তান সস্তুতির মধ্যে খারাপভাবে ফিরে আসা থেকে।” আর সফর থেকে ফিরে এসেও তিনি এই একই দু’আ পড়তেন। তবে তখন এর সাথে এটুকু যোগ করতেন। “আইবুনা তাইবুনা ‘আবিদুনা সিরাব্বিনা হামিদুন” (আমরা প্রত্যাবর্তনকারী নিরাপত্তার সাথে, আমরা তাওবাকারী, আমরা নিজেদের প্রভুর ইবাদাতকারী ও প্রশংসাকারী)।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এখানে “মুকরিনীন” শব্দটির অর্থ ক্ষমতা ধারণকারীরা, আর ‘আল-ওয়াসাউ’ অর্থ কাঠিন্য ও কষ্ট। ‘আল-কাবাতু’ অর্থ দুঃখ-মর্মবেদনা প্রভৃতির কারণে মানসিক পরিবর্তন। “আল-মুনকালাবু” অর্থ প্রত্যাবর্তন করার স্থান।

۹۷۳ – وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَافَرَ يَتَعَوَّذُ مِنْ وَعْشَاءِ السِّفَرِ وَكَابَةِ الْمُنْقَلَبِ وَالْحَوْرِ بَعْدَ الْكَوْنِ وَدَعْوَةِ الْمَظْلُومِ وَسُوءِ الْمَنْظَرِ فِي الْأَهْلِ وَالْمَالِ. رَوَاهُ

مُسْلِمٌ .

৯৭৩। আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফর করতেন, সফরের কষ্ট ও কাঠিন্য থেকে, খারাপ অবস্থায় ফিরে আসা থেকে, পরিবৃদ্ধির পর ক্ষতি থেকে, মাযলুমের বদদু’আ থেকে এবং পরিজন ও সম্পদের খারাপ অবস্থা দেখা থেকে (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় চাইতেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٧٤ – وَعَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ شَهِدْتُ عَلَى بْنَ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أتِي بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا فَلَمَّا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الرِّكَابِ قَالَ بِسْمِ اللَّهِ فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى ظهْرِهَا قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ.

وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ ثُمَّ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ ثَلاثَ مَرَاتِ ثُمَّ قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِى إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ ثُمَّ ضَحِكَ فَقِيلَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ قَالَ رَأَيْتُ

النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ كَمَا فَعَلْتُ ثُمَّ ضَحِكَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ قَالَ إِنَّ رَبَّكَ سُبْحَانَهُ يَعْجَبُ مِنْ عَبْدِهِ إِذَا قَالَ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرِي رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِى وَقَالَ

حَدِيثٌ حَسَنٌ وَفِي بَعْضِ النَّسَخِ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهُذَا لَفْظُ أَبِي دَاوُدَ .

৯৭৪। আলী ইবনে রাবী’আ (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী ইবনে আবু তালিব (রা)-র কাছে হাযির হলাম। আরোহণের জন্য তাঁর কাছে একটি সাওয়ারী আনা হল। তিনি রেকাবে তাঁর পা রেখে বললেন, বিসমিল্লাহ (আল্লাহর নামে যাত্রা করছি), তারপর তার পিঠে চড়ে বললেন, আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী সাঙ্খারা লানা হাযা ওয়ামা কুন্না লাহ্ মুকরিনীন ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবুন (সমস্ত প্রশংসা সেই সত্তার, যিনি আমাদের জন্য এটিকে অনুগত করে দিয়েছেন, অথচ আমরা তার শক্তি রাখতাম না। অবশ্যি আমরা আমাদের প্রতিপালকের দিকে ফিরে যাবো)। তারপর তিনি “আলহামদু লিল্লাহ” বললেন তিনবার, তারপর “আল্লাহু আকবার” বললেন তিনবার, তারপর বললেন: সুবহানাকা ইন্নী যালামতু নাফসী ফাগফির লী ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা (তুমি পাক-পবিত্র, অবশ্যি আমি আমার নিজের উপর যুগ্ম করেছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও, তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার আর কেউ নেই)। তারপর তিনি হাসলেন। তাঁকে বলা হল, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি হাসলেন কেন? তিনি জবাব দিলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঠিক এমনটি করতে দেখেছিলাম যেমনটি আমি করলাম, তারপর তিনি হেসেছিলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল। আপনি হাসলেন কেন? তিনি জবাব দিয়েছিলেন: “তোমার পাক-পবিত্র প্রতিপালক নিজের বান্দার প্রতি আনন্দ প্রকাশ করেন যখন সে বলে: আমার গুনাহ মাফ করে দাও। সে জানে যে, আমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার আর কেউ নেই।”

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন। ইমাম তিরমিযীর কোন কোন লিপিতে এটিকে হাসান ও সহীহ বলা হয়েছে। আর এ হাদীসের মূল পাঠ আবু দাউদের।

অনুচ্ছেদ: ৬ – উপত্যকা, টিলা বা অনুরূপ উঁচু স্থানে চড়ার সময় মুসাফিরের “আল্লাহু আকবার” বলা, সমতলভূমি বা অনুরূপ স্থানে নামার সময় “সুবহানাল্লাহ” বলা এবং বেশি উচ্চস্বরে তাকবীর ইত্যাদি না বলা

٩٧٥ – عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا إِذَا صَعِدْنَا كَبَرْنَا وَإِذَا نَزَلْنَا سَبِّحْنَا رَوَاهُ الْبُخَارِي.

৯৭৫। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন উচ্চ স্থানে উঠতাম তখন ‘আল্লাহু আকবার’ বলতাম এবং যখন নীচের দিকে নামতাম তখন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলতাম।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٧٦ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجُيُوسُهُ إِذَا عَلُوا الثَّنَايَا كَبَرُوا وَإِذَا هَبَطُوا سَبِّحُوا – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ صَحِيح .

৯৭৬। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সেনাবাহিনী যখন উঁচু ভূমিতে উঠতেন ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন এবং যখন নীচের দিকে নামতেন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলতেন।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۹۷۷- وَعَنْهُ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَفَلَ مِنَ الْحَجِّ أَوِ الْعُمْرَةِ كلما أوفى عَلَى ثَنِيَّةٍ أَوْ فَدْقَد كَبُرَ ثَلاثًا ثُمَّ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهَ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. أَيبُونَ تَائِبُونَ

عَابِدُونَ سَاجِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ صَدَقَ اللهُ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمِ إِذَا قَفَلَ مِنَ الْجُيُوشِ أَوِ السَّرَايَا أَوِ الْحَقِّ أَوِ الْعُمْرَةِ. قَوْلُهُ أَوْفَى أَي ارْتَفَعَ وَقَوْلُهُ فَدْفَدٍ وَهُوَ الْغَلِيظُ الْمُرْتَفِعُ

مِنَ الْأَرْضِ .

৯৭৭। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ বা উমরা থেকে ফেরার পথে যখনই কোন উচ্চ স্থান বা টিলায় উঠতেন তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন, তারপর বলতেন: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। আয়িবৃনা তায়িবুনা আবিদূনা সাজিদুনা লিরাব্বিনা হামিদুন। সাদাকাল্লাহু ওয়া’দাহু ওয়া নাছারা ‘আবদাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু” (আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি এক। তাঁর কোন শরীক নেই। রাজ্য তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই জন্য। তিনি সবকিছুর উপর শক্তিমান। আমরা সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকারী, আমরা তাওবাকারী, আমরা ইবাদাতকারী, আমরা সিজদাকারী, আমরা আমাদের রবের প্রশংসাকারী। আল্লাহ্ তাঁর ওয়াদাকে সত্যে পরিণত করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই শত্রুদলকে পরাজিত করেছেন)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম মুসলিমের বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ “যখন তিনি যুদ্ধ বা ক্ষুদ্র সেনা অভিযান বা হজ্জ অথবা ‘উমরা থেকে ফিরতেন”। ‘আওফা’ শব্দের অর্থ হচ্ছে উপরে উঠতেন। ‘ফাদফাদ’ শব্দের অর্থ হচ্ছে কঠিন ও ভূ-স্তর থেকে উঁচু জায়গা।

۹۷۸- وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَرِيدُ انْ أسَافِرَ فَأَوْصَنِي قَالَ عَلَيْكَ بتقوى الله والتكبير عَلَى كُلِّ شَرَفَ فَلَمَّا وَلَّى الرَّجُلُ قَالَ اللَّهُمَّ أَطْوِ لَهُ الْبُعْدَ وَهَوَنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ – رَوَاهُ التَّرْمِذِي

وَقَالَ حَدِيْثٌ حَسَنٌ.

৯৭৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল। আমি সফরে যেতে মনস্থ করেছি। কাজেই আমাকে ওসিয়াত করুন। তিনি বলেন: তুমি অবশ্যি তাকওয়া অবলম্বন করবে, আর প্রত্যেক উঁচু জায়গায় (উঠার সময়) তাকবীর বলবে। লোকটি সেখান থেকে ফিরে চললে তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! তার দূরত্বকে গুটিয়ে দাও এবং সফরকে তার জন্য সহজ করে দাও।
ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং তিনি একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

۹۷۹- وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ فَكُنَّا إِذَا أَشْرَفْنَا عَلَى وَادٍ هَلَلْنَا وَكَبِّرُنَا وَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُنَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى

أَنْفُسِكُمْ فَإِنَّكُمْ لَا تَدْعُونَ أَصَمٌ وَلَا غَائِبًا إِنَّهُ مَعَكُمْ إِنَّهُ سَمِيعٌ قَرِيبٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

৯৭৯। আবু মূসা আল-আশ’আরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংগে ছিলাম। যখন আমরা কোন উপত্যকায় চড়তাম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতাম ও তাকবীর পড়তাম এবং আমাদের আওয়াজ বুলন্দ হয়ে যেত। রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “হে লোকেরা। তোমরা নিজেদের প্রতি সদয় হও। কারণ তোমরা কোন বধির এবং অনুপস্থিত সত্তাকে আহ্বান করছ না। তিনি তোমাদের সংগেই আছেন, তিনি (সর্বত্র সবকিছু) শুনেন এবং অতি নিকটে অবস্থান করেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৭ – সফরে দু’আ করা মুস্তাহাব

۹۸۰ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلاثُ دَعَوَاتِ مُسْتَجَابَاتٌ لَا شَكٍّ فِيهِنَّ دَعْوَةُ الْمَظْلُومِ وَدَعْوَةُ الْمَسَافِرِ وَدَعْوَةُ الْوَالِدِ عَلَى وَلَدِهِ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ

وَلَيْسَ فِي رِوَايَةِ أبِي دَاوُدَ عَلَى وَلَدِهِ.

৯৮০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি দু’আ কবুল হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। সেগুলি হচ্ছে: মাযলুমের দু’আ, মুসাফিরের দু’আ এবং পুত্রের জন্য পিতার দু’আ।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন। তবে ইমাম আবু দাউদের রিওয়ায়াতে “পুত্রের জন্য” শব্দ নেই।

অনুচ্ছেদ: ৮ – মানুষ বা অন্য কিছুর ক্ষতির আশংকা হলে যে দু’আ পড়বে

۹۸۱- عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا خَافَ قَوْمًا قَالَ اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنِّسَائِي بِإِسْنَادِ صَحِيح .

৯৮১। জাবু মূসা আল-আশ’আরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন সম্প্রদায় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা করতেন তখন বলতেন: আল্লাহুম্মা ইন্না নাজ’আলুকা ফী নুহুরিহিম ওয়া নাউযুবিকা মিন শুরূরিহিম (হে আল্লাহ! আমরা তোমাকে তাদের মুখোমুখি করছি এবং তাদের অনিষ্টকারিতা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি)।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম নাসাঈ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৯ কোন স্থানে যাত্রাবিরতি করলে যে দু’আ পড়বে

۹۸۲- عَنْ خَوْلَةَ بِنْتِ حَكِيمٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنْ نَزَلَ مَنْزِلاً ثُمَّ قَالَ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ يَضُرُّهُ شَيْ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْ مَنْزِلِهِ ذَلِكَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

৯৮২। খাওলা বিনতে হাকীম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি কোন স্থানে যাত্রাবিরতি করে এবং তারপর বলেঃ আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তামাতি মিন শাররি মা খালাকা (আমি আল্লাহর পূর্ণাংপ কালেমাগুলির সহায়তায় তাঁর সৃষ্টবস্তুর অনিষ্টকারিতা থেকে তাঁর আশ্রয় চাচ্ছি), তাকে সেই স্থান থেকে বিদায় হওয়া পর্যন্ত কোন বস্তু ক্ষতি করতে পারে না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۹۸۳- وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَافَرَ فَأَقْبَلَ اللَّيْلُ قَالَ يَا أَرْضُ رَبِّي وَرَبُّكَ اللَّهُ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شَرِكِ وَشَرِّ مَا فِيْكِ وَشَرِّ مَا خُلِقَ فِيْكِ وَشَرِّ مَا يَدِبُّ عَلَيْكَ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ

شَرِّ أَسَدٍ و آشودَ وَمِنَ الْحَيَّةِ وَالْعَقْرَبِ وَمِنْ سَاكِنِ الْبَلَدِ وَمِنْ وَالِدٍ وَمَا وَلَدَ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ . والأسود الشَّخْسُ قَالَ الْخَطَابِي وَسَاكِنُ الْبَلَدِ هُمُ الْجِنَّ الَّذِينَ هُمْ سُكَانُ الْأَرْضِ قَالَ وَالْبَلَدُ مِنَ الْأَرْضِ مَا كَانَ مَاوَى الْحَيَوَانِ وَإِنْ

لَمْ يَكُنْ فِيهِ بِنَاء وَمَنَازِلَ قَالَ وَيَحْتَمِلُ أَنَّ الْمُرَادَ بِالْوَالِدِ ابْلِيسُ وَمَا وَلَدَ الشَّيَاطِينُ .

৯৮৩। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফর করতেন এবং সফরে রাত হয়ে যেত, তখন তিনি বলতেন:

ইয়া আরদু রাব্বী ওয়া রাব্বুকিল্লাহ, আউযু বিল্লাহি মিন শাররিকি ওয়া শাররি মা ফীকি ওয়া মিন শাররি মা খুলিকা ফীকি ওয়া শাররি মা ইয়াদিব্বু আলাইকি, আউযু বিকা মিন শাররি আসাদিন ওয়া আসওয়াদ ওয়া মিনাল হাইয়াতি ওয়াল আকরাবি, ওয়া মিন সাকিনিল বালাদি ওয়া মিন ওয়ালিদিন ওয়ামা ওয়ালাদ (হে যমীন! তোমার ও আমার রব হচ্ছেন আল্লাহ। আমি আল্লাহর আশ্রয় চাই তোমার অনিষ্টকারিতা থেকে, তোমার ভেতরে যা আছে তার অনিষ্টকারিতা থেকে এবং তোমার উপরে যা কিছু চরে বেড়ায় তার অনিষ্টকারিতা থেকে। আর আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই বাঘ ও কালসাপ থেকে এবং সব রকমের সাপ ও বিষ্ণু থেকে আর শহরবাসীদের অনিষ্টকারিতা থেকে এবং জন্মদানকারী ও জন্মলাভকারীর অনিষ্টকারিতা থেকে)।

ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ‘আসওয়াদ’ বলা হয় কালসাপ বা দুর্বৃত্তদেরকে। ইমাম খাত্তাবী বলেন, ‘সাকিনুল বালাদ’ হচ্ছে জিন সম্প্রদায়, যারা পৃথিবীতে বাস করে। তিনি বলেন, বালাদ হচ্ছে যমিনের এমন একটি অংশ যেখানে প্রাণীরা বাস করে, যদিও সেখানে কোন ঘরবাড়ি ও মনযিল নেই। তিনি বলেন, ‘ওয়ালিদ’ (পিতা) শব্দটি ‘ইবলিস’ অর্থে ব্যবহৃত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ‘ওয়ামা ওয়ালাদা’ (আর যা কিছু জন্মলাভ করেছে) শব্দ ক’টি শয়তানরা (অর্থাৎ ইবলিস ছাড়া অন্যান্য শয়তান সম্প্রদায়) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অনুচ্ছেদ: ১০ – প্রয়োজন পূর্ণ হওয়ার পর মুসাফিরের অবিলম্বে তার পরিবারে ফিরে আসা

٩٨٤ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ السَّفَرُ قِطْعَةٌ مِنَ الْعَذَابِ يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ وَنَوْمَهُ فَإِذَا قَضَى أَحَدُكُمْ نَهُمَتَهُ مِنْ سَفَرِهِ فَلْيُعَجِلَ إِلَى أَهْلِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ نَهَمَتَهُ

مَقْصُودَهُ.

৯৮৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সফর হচ্ছে আযাবের (কষ্টের) একটি অংশ। সফর তোমাদের সফরকারীর পানাহার ও নিদ্রায় ব্যাঘাত ঘটায়। কাজেই তোমাদের কারোর সফরের উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে গেলেই তার দ্রুত নিজের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে আসা উচিত।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ‘নাহমাতাহু’ অর্থ ‘তার উদ্দেশ্য’।

অনুচ্ছেদ: ১১ – সফর থেকে দিনের বেলা নিজের পরিবারের কাছে ফিরে আসা মুস্তাহাব এবং প্রয়োজন ছাড়া রাতে আসা অপছন্দনীয়

٩٨٥ – عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أَطَالَ أَحَدُكُمُ الْغَيْبَةَ فَلَا يَطْرُقَنَّ أَهْلَهُ لَيْلاً، وَفِي رِوَايَةٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يُطْرُقَ الرَّجُلُ أَهْلَهُ لَيْلاً – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .

৯৮৫। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ সফরে দীর্ঘদিন অতিবাহিত করার পর রাত্রিবেলা যেন তার পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে না আসে। অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন ব্যক্তিকে রাত্রিবেলা তার পরিবার পরিজনের কাছে (সফর থেকে) ফিরে আসতে নিষেধ করেছেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

٩٨٦ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَطْرُقُ أَهْلَهُ لَيْلاً وَكَانَ يَأْتِيهِمْ غُدُوَةً أَوْ عَشِيَّةً مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ الطَّرُوقُ الْمَجِيُّ فِي اللَّيْلِ.

৯৮৬। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সফর থেকে ফিরে) নিজের পরিবার-পরিজনের কাছে রাতে আসতেন না, বরং তিনি সকালে বা বিকালে তাদের কাছে আসতেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। “আত্-তুরূকু” অর্থ ‘রাত্রে আসা’।

অনুচ্ছেদ: ১২ – সফর থেকে ফেরার পথে নিজের শহর দেখার পর যে দু’আ পড়তে হবে

এই আলোচনার সাথে সম্পৃক্ত আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা)-র হাদীস ইতিপূর্বে “উঁচুতে চড়ার সময় মুসাফিরের আল্লাহু আকবার বলা” অনুচ্ছেদে উদ্ধৃত হয়েছে।

۹۸۷ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَقْبَلْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِظَهْرِ الْمَدِينَةِ قَالَ أَيْبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ. فَلَمْ يَزَلْ الْمَدِينَةَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ. ذلك حَتَّى قدمنا يَقُولُ ذَلِكَ حَتَّى

৯৮৭। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফর থেকে ফিরে এলাম। অবশেষে যখন আমরা মদীনা দেখতে পেলাম তখন তিনি বললেন: “আয়িবৃনা তায়িবৃনা ‘আবিদূনা লিরাব্বিনা হামিদুনা” (আমরা সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকারী, আমরা তাওবাকারী, আমরা ইবাদাতকারী, আমরা আমাদের প্রভুর প্রশংসাকারী)। আমরা মদীনায় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি একথাটি বারবার বলতে থাকলেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১৩ – সফর থেকে ফিরে এসে প্রথমে নিজের মহল্লার মসজিদে পদার্পণ করা এবং সেখানে দুই রাআত নফল নামায পড়া মুস্তাহাব

۹۸۸- عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ بَدَأَ بِالْمَسْجِدِ فَرَكَعَ فِيْهِ رَكْعَتَيْنِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

৯৮৮। কা’ব ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন, প্রথমে মসজিদে আসতেন, অতঃপর সেখানে দুই রাআত নামায পড়তেন।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১৪ – মহিলাদের একাকী সফর করা হারাম

۹۸۹- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا يَحِلُّ الإمْرَاةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ تُسَافِرُ مَسِيرَةً يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ عَلَيْهَا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

৯৮৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান এনেছে তার জন্য মাহরাম পুরুষ সাথী ছাড়া একদিন ও একরাতের দূরত্বের সফর করা জায়েয নয়।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٩٠- وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَخْلُونَ رَجُلٌ بِامْرَأَةِ إِلَّا وَمَعَهَا ذُو مَحْرَمٍ وَلَا تُسَافِرُ الْمَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ امْرَأَتِي خَرَجَتْ حَاجَةً وَإِنِّي

أُكْتُتِبْتُ فِي غُزْوَةٍ كَذَا وَكَذَا قَالَ انْطَلِقُ فَحُجَّ مَعَ امْرَأَتِكَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

৯৯০। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: কোন মাহরাম পুরুষ সাথী ছাড়া যেন কোন ব্যক্তি কোন মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাত না করে। আর কোন মহিলা যেন নিজের সাথে মাহরাম পুরুষ সাথী ছাড়া সফর না করে। এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্ত্রী তো হজ্জে যাচ্ছে, আর ওদিকে আমি অমুক অমুক জিহাদে অংশগ্রহণ করার জন্য আমার নাম লিখিয়েছি। তিনি বলেন: যাও, নিজের স্ত্রীর সাথে হজ্জ কর।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অধ্যায়:

কিতাবুল ফাদাইল (বিভিন্ন আমলের ফযীলাত)

অনুচ্ছেদ: ১ – আল কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলাত

۹۹۱- عَنْ أَبِي أَمَامَةً رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اقْرَؤُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

৯৯১। আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা আল কুরআন পড়। কারণ কিয়ামাতের দিন আল কুরআন তার পাঠকারীর জন্য শাফা’আতকারী হিসেবে আবির্ভূত হবে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۹۹۲- وَعَنِ النَّواسِ بْنِ سَمْعَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يُؤْتَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِالْقُرْآنِ وَأَهْلِهِ الَّذِينَ كَانُوا يَعْمَلُونَ بِهِ في الدُّنْيَا تَقْدُمُهُ سُوْرَةُ الْبَقَرَةِ وَالِ عِمْرَانَ تَحَاجَانِ عَنْ

صَاحِبِهِمَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

৯৯২। নাওয়াস ইবনে সাম’আন (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামাতের দিন আল কুরআনকে এবং দুনিয়ায় আল কুরআন অনুযায়ী আমলকারীদেরকে আনা হবে। আল কুরআনের আগে আগে থাকবে সূরা আল বাকারা ও সূরা আলে ইমরান। এ সূরা দু’টি তাদের পাঠকারীদের পক্ষে বিতর্ক করবে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۹۹۳- وَعَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

৯৯৩। উসমান ইবনে আফফান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে নিজে আল কুরআন শিখে এবং অন্যদেরকে তা শিখায়।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٩٤ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَهُوَ مَاهِرٌ بِهِ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ وَالَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَتَتَعْتَعُ فِيهِ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌ لَهُ أَجْرَانِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .

৯৯৪। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কুরআন অধ্যয়ন করে এবং আল কুরআনের বিশেষজ্ঞ হয়, সে (পরকালে) অনুগত সম্মানিত ফেরেশতাদের সান্নিধ্য লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি আল কুরআন তিলাওয়াত করে এবং তা পড়তে পড়তে আটকে যায়, আর তা পড়া তার জন্য কঠিন হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সাওয়াব।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٩٥- وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مِثْلُ الْأَتْرُجُةِ رِيحُهَا طَيِّبٌ وطَعْمُهَا طَيِّبٌ وَمَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ التَّمْرَةِ لَا رِيحَ لَهَا

وَطَعْمُهَا حُلُو وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ الرِّيْحَانَةِ رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا مُرٌّ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ الْحَنْظَلَةِ لَيْسَ لَهَا رِيحٌ وَطَعْمُهَا مُرُّ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

৯৯৫। আবূ মূসা আল-আশ’আরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে মুমিন ব্যক্তি আল কুরআন পড়ে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে কমলালেবু। তার খুশু মনোরম এবং স্বাদ চমৎকার। আর যে মুমিন ব্যক্তি আল কুরআন পড়ে না সে খোরমার মতো। তাতে খুন্নু নেই কিন্তু তার স্বাদ মিঠা। যে মুনাফিক আল কুরআন পড়ে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে রাইহান ফুল। খুব্ তার মনোরম কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন পড়ে না সে মাকাল ফলের মত। তাতে কোন খুশুও নেই এবং তার স্বাদও তিক্ত।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٩٩٦ – وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ يَرْفَعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِهِ أَخَرِينَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

৯৯৬। উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এই কিতাবের (কুরআন মজীদ) মাধ্যমে আল্লাহ বহু জাতির উত্থান ঘটান (অর্থাৎ তাদেরকে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন করেন), আবার এই কিতাবের মাধ্যমে (অর্থাৎ এর নির্দেশ অমান্য করার কারণে) বহু জাতির পতন ঘটান।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۹۹۷- وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الأ فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ الْقُرْآنَ فَهُوَ يَقُومُ بِهِ أَنَاءَ اللَّيْلِ وَأَنَا ءَ لا حَسَدَ الأ النَّهَارِ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالاً فَهُوَ يُنْفِقُهُ أَنَاءَ اللَّيْلِ وَأَنَاءَ النَّهَارِ مُتَّفَقٌ

عَلَيْهِ. والأناء السَّاعَاتُ.

৯৯৭। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দু’টি বিষয় ছাড়া কিছুই ঈর্ষাযোগ্য [ ঈর্ষার আর একটি বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে হিংসা। এই ঈর্ষা ও হিংসা উভয় অর্থেই হাদীসে ‘হাসাদ’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। হাসাদ দুই ধরনের। এক ধরনের হাসাদকে শরী’আত হারাম গণ্য করেছে। যথার্থ হিংসা অর্থে ব্যবহৃত যে ‘হাসাদ’ তা শরী’আতে একেবারেই হারাম। এই হাসাদ বা হিংসার ফলস্বরূপ একজন অন্যজনের উন্নতি দেখে জ্বলে পুড়ে মরে। তার ক্ষতি কামনা করে। আল্লাহ তাকে যে নি’আমাত দান করেছেন তা যেন তার থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়- মনে মনে এ বাসনা পোষণ করে। আর এই সংগে নিজের জন্য এসব নি’আমাতের আকাঙ্ক্ষা করে। এ ধরনের ‘হাসাদ’ কবীরা গুনাহ। এমন হিংসা যার ফলে মানুষ অন্যের ক্ষতি চায় না কিন্তু অন্যকে আল্লাহ যে নি’আমাত দান করেছেন তা নিজের জন্যও কামনা করে, এ ধরনের ‘হাসাদ’-কে শরী’আতের পরিভাষায় ‘গিতা’ বলা হয়। দীনের ব্যাপারে এ ধরনের ‘হাসাদ’কে ‘হাসান’ বা ভাল বলা হয় আর দুনিয়ার কাজ-কারবারে একে ‘মুবাহ’ বা ক্ষমাযোগ্য বলা হয়েছে ] । নয়। প্রথম হচ্ছে সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ আল কুরআনের সম্পদ দান করেছেন এবং সে দিবা-রাত্র তা তিলাওয়াত করে। দ্বিতীয় হচ্ছে সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ধন-দৌলত দান করেছেন এবং সে দিন-রাতের বিভিন্ন সময় তা (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। “আল-আনাউ” অর্থ সময়, মুহূর্ত।

۹۹۸- وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ رَجُلٌ يَقْرَأُ سَوْرَةَ الْكَهْفِ وَعِنْدَهُ فَرَسٌ مَرْبُوطٌ بِشَطَنَيْنِ فَتَغَشْتَهُ سَحَابَةً فَجَعَلَتْ تَدْنُو وَجَعَلَ فَرَمَهُ يَنْفِرُ مِنْهَا فَلَمَّا أَصْبَحَ آتَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ ذَلِكَ

لَهُ فَقَالَ تِلْكَ السكينة تنزلتُ لِلْقُرْآنِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ الشَّطْنُ بِفَتْحِ الشَّيْن الْمُعْجَمَةِ وَالطَّاءِ الْمُهْمَلَة الْحَبْلُ.

৯৯৮। বারাআ ইবনে আযিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি (নফল নামাযে) সূরা আল কাহফ পড়ছিলেন এবং তার কাছে তার ঘোড়াটি দু’টি দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। একখণ্ড মেঘ তার উপর ছেয়ে গেল। মেঘখণ্ড ক্রমেই তার নিকটবর্তী হচ্ছিল এবং তা দেখে ঘোড়াটি লক্ষঝক্ষ শুরু করে দিল। সকাল হলে লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তাঁকে ঘটনাটি শুনান। তিনি বলেনঃ তা ছিল ‘সাকীনাহ’ (প্রশান্তি)। আল কুরআন পাঠের কারণে তা নাযিল হয়েছিল।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ‘আশ-শাতানু’ অর্থ ‘দড়ি’।

٩٩٩ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللهِ فَلَهُ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لَا أَقُولُ الم حرف ولكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ رَوَاهُ التَّرْمِذِي

وَقَالَ حَدِيدٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

৯৯৯। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের (কুরআন) একটি হরফ পাঠ করে সে তার বদলায় একটি নেকী পায়। আর একটি নেকী দশটি নেকীর সমান। আমি আলিফ-লাম-মীমকে একটি হরফ বলছি না, বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটিকে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন।

١٠٠٠ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الَّذِي لَيْسَ فِي جَوْفِهِ شَيْ مِنَ الْقُرْآنِ كَالْبَيْتِ الْغَرِبِ رَوَاهُ الترمذى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১০০০। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির পেটে আল কুরআনের কোন অংশই নেই সে (সেই পেট) বিরান ঘর তুল্য।
ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা বরেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ বলেছেন।

١٠٠١ – وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلُ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا فَإِنْ مَنْزِلَتَكَ عِنْدَ آخِرِ أَيَةٍ تَقْرَؤُهَا رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِي

وَقَالَ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১০০১। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (কিয়ামাতের দিন) আল কুরআন পাঠকারীকে বলা হবে, আল কুরআন পড় ও জান্নাতের মনযিলে আরোহণ কর এবং থেমে থেমে আল কুরআন পড়তে থাক যেমন তুমি দুনিয়ায় পড়তে। কারণ জান্নাতে তোমার স্থান হবে সেই শেষ আয়াতটি শেষ করা পর্যন্ত যা তুমি পড়ছো।
ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান ও সহীহ হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

অনুচ্ছেদ: ২ – কুরআন মজীদের রক্ষণাবেক্ষণ এবং তা বিস্তৃত হওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা

١٠٠٢ – عَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تَعَاهَدُوا هَذَا الْقُرْآنَ فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَهُوَ أَشَدُّ تَفَلْنَا مِنَ الْابْلِ فِي عُقْلِهَا -متفق عليه.

১০০২। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এই আল কুরআনের রক্ষণাবেক্ষণ কর (অর্থাৎ কুরআন তিলাওয়াত করতে থাক)। সেই সত্তার কসম যাঁর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মুহাম্মাদের প্রাণ। নিঃসন্দেহে উট তার দড়ি থেকে যেমন দ্রুত সরে যায় আল কুরআন তার চাইতেও অনেক বেশি দ্রুত স্মৃতি থেকে মুছে যায়।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۰۰ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا مَثَلُ صَاحِبِ الْقُرْآنِ كَمَثَلِ الابْلِ الْمُعَقِّلَةِ إِنْ عَاهَدَ عَلَيْهَا أَمْسَكَهَا وَإِنْ اطْلَقَهَا ذَهَبَتْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০০৩। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল কুরআনের হাফিযের দৃষ্টান্ত হচ্ছে বাঁধা উট। মালিক তার রক্ষণাবেক্ষণ করলে সে ঠিক বাঁধা থাকে, আর তাকে ছেড়ে দিলে সে চলে যায়।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩ সুললিত কণ্ঠে আল কুরআন পাঠ করা মুস্তাহাব এবং সুমধুর কণ্ঠে আল কুরআন পড়ানো ও তা শুনার ব্যবস্থা করা

١٠٠٤ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا أَذِنَ اللَّهُ لِشَيْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِي حَسَنِ الصَّوْتِ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ يَجْهَرُ به مَتَّفَقٌ عَلَيْهِ . مَعْنَى أَذِنَ اللهُ أَي اسْتَمَعَ وَهُوَ إِشَارَةٌ إِلى

الرِّضَى وَالْقُبُولِ .

১০০৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: আল্লাহ নবীর সুললিত কণ্ঠে সরবে পড়া আল কুরআন শুনতে যত বেশি মনোযোগী হন, আর কোন বিষয় শুনার প্রতি তিনি এর চাইতে বেশি মনোযোগী হন না।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। “আযিনাল্লাহু” অর্থ শুনার প্রতি মনযোগী হওয়া। এটি সন্তুষ্টি অর্জন ও গৃহীত হবার ইংগিত দেয়।

١٠٠٥ – وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ لَقَدْ أُوتِيْتَ مِزْمَارًا مِّن مَزامير آل داوُدَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ . وَفِي رواية لِمُسْلِمِ أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ لَوْ

رَأَيْتَنِي وَأَنَا أَسْتَمِعُ لقِراءَتِكَ الْبَارِحَة.

১০০৫। আবু মূসা আল-আশ’আরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন: তোমাকে দাউদের সুরসমূহের মধ্য থেকে একটি সুর দান করা হয়েছে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের এক বর্ণনায় বলা হয়েছে: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: যদি তুমি গতরাতে আমাকে তোমার আল কুরআন পড়া শুনতে দেখতে পেতে (তাহলে বড়ই খুশি হতে)।”

١٠٠٦ – وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَرَأَ فِي الْعِشَاءِ بِالدِّينِ وَالزَّيْتُونِ فَمَا سَمِعْتُ أَحَدًا أَحْسَنَ صَوْتًا منه – مُتَّفَقٌ عَلَيْه .

১০০৬। বারাআ ইবনে আযিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইশার নামাযে ওয়াত্বীনি ওয়ায যাইতুন সূরাটি পড়তে শুনেছি। তাঁর চাইতে সুললিত কণ্ঠে আর কাউকে পড়তে আমি শুনিনি।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۰۷ – وَعَنْ أَبِي لِبَابَةَ بَشِيرِ بْنِ عَبْدِ الْمُنْذِرِ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ فَلَيْسَ مِنَّا – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ جَيِّدٍ . وَمَعْنَى يَتَغَنَّى يُحَسِنُ صَوْتَهُ بِالْقُرْآنِ .

১০০৭। আবু লুবাবা বাশীর ইবনে আবদুল মুনযির (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সুললিত কণ্ঠে আল কুরআন পাঠ করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়।
উৎকৃষ্ট সনদে হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। “ইয়াতাগান্না” শব্দটির অর্থ আল কুরআন পাঠের সময় আওয়াজটাকে সুন্দর ও সুমধুর করা।

۱۰۰۸ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ لِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْرَأْ عَلَى الْقُرْآنَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَقْرَأُ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ قَالَ إِنِّي أحِبُّ أَنْ اسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِى فَقَرَأْتُ عَلَيْهِ سُورَةَ النِّسَاءِ حَتَّى جِئْتُ

إِلَى هَذِهِ الْآيَةِ : فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٌ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هُؤُلَاءِ شَهِيدًا . قَالَ حَسْبُكَ الْآنَ فَالْتَفَتْ إِلَيْهِ فَإِذَا عَيْنَاهُ تَدْرِقَانِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .

১০০৮। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: আমাকে আল কুরআন পড়ে শুনাও। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আমি আপনাকে আল কুরআন পড়ে শুনাব, অথচ আল কুরআন আপনার উপর নাযিল করা হয়েছে। তিনি বললেন: আমি অন্যের কণ্ঠে আল কুরআন শুনতে ভালবাসি। কাজেই আমি তাঁর সামনে সূরা আন্ নিসা পড়লাম। আমি পড়তে পড়তে যখন নিম্নোক্ত আয়াতটিতে আসলাম (অনুবাদ): “তারপর যখন আমি প্রত্যেক উম্মাতের মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাযির করব এবং এসব সম্পর্কে তোমাকেও (হে মুহাম্মাদ) এই উম্মাতের সাক্ষী হিসেবে পেশ করব, তখন কি অবস্থা হবে? [ ১. সূরা আন্ নিসা: ৪১ ] । তখন তিনি বললেন: যথেষ্ট হয়েছে। আমি তাঁর দিকে ফিরে দেখলাম তাঁর চোখ দু’টি থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪ – বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াতসমূহ পাঠে উদ্বুদ্ধ করা

١٠٠٩ – عَنْ أَبِي سَعِيدٍ رَافِعِ بْنِ الْمُعَلَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلا أَعْلَمُكَ أَعْظَمَ سُورَةٍ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ تَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ فَأَخَذَ بِيَدِي فَلَمَّا أَرَدْنَا أَنْ نَخْرُجَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ

قُلْتَ لَأَعَلِمَنَّكَ أعظم سُورَةٍ فِي الْقُرْآنِ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ هِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُوتِيتُهُ – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ .

১০০৯। আবু সাঈদ রাফে ইবনুল মু’আল্লা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগে আল কুরআনের শ্রেষ্ঠ মর্যাদাসম্পন্ন সূরাটি কি আমি তোমাকে শিখিয়ে দেব না? একথা বলে তিনি আমার হাত ধরলেন। তারপর যখন আমরা মসজিদ থেকে বের হতে যাচ্ছিলাম, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি না বলেছিলেন, আমি অবশ্যি তোমাকে আল কুরআনের শ্রেষ্ঠ মর্যাদাসম্পন্ন সূরাটি শিখিয়ে দেব। তিনি বললেন: “আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন” সূরা। এতে সাতটি আয়াত রয়েছে যা (নামাযে) বারবার পড়া হয়ে থাকে। আর এটি হচ্ছে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন আল কুরআন, যা আমাকে দেয়া হয়েছে।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۰۱۰ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي قِرَاءَةِ قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهَا لَتَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ . وَفِي رِوَايَةٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ

لِأَصْحَابِهِ يَعْجِرُ احَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأُ بِمُلْكِ الْقُرْآنِ فِي لَيْلَةٍ فَشَقِّ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ وَقَالُوا أَيُّنَا يُطِيقُ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدَّ اللهُ الصَّمَدُ ثُلْتُ الْقُرْآنِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ .

১০১০। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ” সূরাটি পড়ার ব্যাপারে বললেন: যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ। নিঃসন্দেহে এ সূরাটি আল কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।

অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে বলেন: তোমাদের কেউ কি এক রাতে এক-তৃতীয়াংশ আল কুরআন পড়তে অক্ষম? সাহাবীদের নিকট এটা বড় কঠিন মনে হল। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল। আমাদের মধ্যে কোন্ ব্যক্তি এর ক্ষমতা রাখে? তিনি বললেন: ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ আল্লাহুস সামাদ’ হচ্ছে আল কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ।
ইমাম বুখারী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۰۱۱ – وَعَنْهُ أَنْ رَجُلاً سَمِعَ رَجُلاً يَقْرَأُ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ يُرَدِّدُهَا فَلَمَّا أَصْبَحَ جَاءَ إِلى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ وَكَانَ الرَّجُلُ يَتَقَالُهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهَا

لَتَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ .

১০১১। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তিকে ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ সূরাটি পড়তে শুনল। সে বারবার সেটা পড়ছিল। সকাল হবার পর প্রথম ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে এ ঘটনা বর্ণনা করল। আর লোকটি যেন এ আমলটিকে সামান্য মনে করছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! এ সূরাটি আল কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۰۱۲ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ إِنَّهَا تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০১২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

“কুল হুয়াল্লাহু আহাদ” সূরা সম্পর্কে বলেছেন: এ সূরাটি আল কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۰۱۳- وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَجُلا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَحِبُّ هَذِهِ السورةَ قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ قَالَ إِنْ حُبهَا أَدْخَلَكَ الْجَنَّةَ رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيث حَسَنٌ وَرَوَاهُ الْبُخَارِي فِي صَحِيحِهِ تَعْلِيْقًا.

১০১৩। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এ “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ” সূরাটি ভালবাসি। তিনি বললেন: তোমার এই সূরাটির প্রতি ভালবাসা তোমাকে অবশ্যি জান্নাতে প্রবেশ করাবে।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এটিকে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন। আর ইমাম বুখারী তাঁর সহীহুল বুখারীতে “তা’লীক” (সনদ বর্জিত) হাদীস হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন।

١٠١٤ – وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَلَمْ تَرَ أَيَات أُنْزِلَتْ هَذِهِ اللَّيْلَةَ لَمْ يُرَ مِثْلُهُنَّ قَطُّ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

১০১৪। উকবা ইবনে আমের (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা কি জান না, আজ রাতে এমন কতিপয় আয়াত নাযিল হয়েছে যার কোন নজীর ইতিপূর্বে ছিল না? (সে আয়াতগুলি হচ্ছে) ‘কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক’ ও ‘কুল আউযু বিরাব্বিন নাস’।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٠١٥ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَعَوَّذُ مِنَ الْجَانِ وَعَيْنِ الْإِنْسَانِ حَتَّى نَزَلَتِ الْمُعَوِذَتَانِ فَلَمَّا نَزَلْنَا أَخَذَ بِهِمَا وَتَرَكَ مَا سِوَاهُمَا رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ .

১০১৫। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিন থেকে ও মানুষের নজর লাগা থেকে আত্মরক্ষার জন্য আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। শেষ পর্যন্ত “কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক” ও “কুল আউযু বিরাব্বিন নাস” সূরা দু’টি নাযিল হয়। এ সূরা দু’টি নাযিল হওয়ার পর তিনি এ দু’টিকে ঐ উদ্দেশ্যে গ্রহণ করে নিলেন এবং এর বাইরের সব কিছু পরিহার করলেন।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন এবং একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

١٠١٦ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مِنَ الْقُرْآنِ سُورَةً ثَلاثُونَ آيَةً شَفَعَتْ لِرَجُلٍ حَتَّى غُفِرَ لَهُ وَهِيَ تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ المُلكُ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ ، وَفِي

رِوَايَةٍ أَبِي دَاوُدَ تَشْفَعُ.

১০১৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল কুরআনের একটি সূরায় তিরিশটি আয়াত রয়েছে। সূরাটি এক ব্যক্তির শাফা’আত (সুপারিশ) করল, শেষ পর্যন্ত (এর ফলে) ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেয়া হল। সূরাটি হচ্ছে ‘তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুল্ক’ (সূরা আল-মুল্ক)।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান হাদীস গণ্য করেছেন। ইমাম আবু দাউদের এক বর্ণনাতে ‘তাশফাউ’ (শাফা’আত করবে) শব্দ উল্লেখিত হয়েছে।

۱۰۱۷ – وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْبَدْرِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَرَأَ بِالْآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০১৭। আবু মাসউদ আল-বদরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে সূরা আল বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করে তা তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ‘কাফাতাহু’ শব্দের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছেঃ সেই রাতে তার প্রতিকূলে যাবতীয় অনিষ্টের জন্য যথেষ্ট হয়। ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়েছে: তার নিশি জাগরণের (রাত জেগে ইবাদাত করার) জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়।

۱۰۱۸ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُوْرَةُ الْبَقَرَةِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০১৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত (ইবাদাত শূন্য) করো না। অবশ্যি যে ঘরে সূরা আল বাকারা পড়া হয় সে ঘর থেকে শয়তান পালিয়ে যায়।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۰۱۹ – وَعَنْ أَبِي بْنِ كَعْبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا أَبَا الْمُنْذِرِ اتَدْرِي أَيُّ أَيَةٍ مِّنْ كِتَابِ اللَّهِ مَعَكَ أَعْظَمُ قُلْتُ : اللَّهُ لا إِلهَ إِلا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ. فَضَرَبَ فِي صَدْرِي وَقَالَ لِيَهْنِكَ الْعِلْمُ أَبَا

الْمُنْذِرِ رواه مسلم .

১০১৯। উবাই ইবনে কা’ব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আবুল মুনযির! তুমি কি জান, তোমার সংগে আল্লাহর যে কিতাব আছে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ আয়াত কোনটি? আমি বললাম, “আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম”। তিনি আমার বুক চাপড়িয়ে বললেনঃ হে আবুল মুনযির। ইল্ম তোমার জন্য মুবারক হোক।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۰۲۰ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ وَكَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بحفظ زَكَاةِ رَمَضَانَ فَأَتَانِي أَن فَجَعَلَ يَحْفُو مِنَ الطَّعَامِ فَأَخَذْتُهُ فَقُلْتُ لأَرْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنِّي مُحْتَاجٌ

وَعَلَى عِبَالٌ وَبِي حَاجَةٌ شَدِيدَةٌ فَخَلَّيْتُ عَنْهُ فَأَصْبَحْتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ الْبَارِحَةَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ شَكَا حَاجَةً وَعِبَالاً فَرَحِمَتُهُ فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ فَقَالَ أَمَا إِنَّهُ قَدْ كَذَبَكَ

وَسَيَعُودُ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ سَيَعُودُ لِقَوْل رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَصَدْتُهُ فَجَاءَ يَحْشُرُ مِنَ الطَّعَامِ فَقُلْتُ لارْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ دَعْنِي فَإِنِّي مُحْتَاجٌ وَعَلَى عِبَالٌ لا أَعُودُ فَرَحِمُتُهُ فَخَلَّيْتُ

سَبِيلَهُ فَأَصْبَحْتُ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ الْبَارِحَةَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ شَكَا حَاجَةً وَعِبَالاً فَرَحِمَتُهُ فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ فَقَالَ إِنَّهُ قَدْ كَذَبَكَ وَسَيَعُوهُ فَرَصَدْتُهُ الثَّالِثَةَ فَجَاءَ يَحْشُرُ مِنَ

الطَّعَامِ فَأَخَذْتُهُ فَقُلْتُ لَأَرْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُذَا أُخِرُ ثَلَاثِ مَرَّاتٍ أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّكَ لَا تَعُودُ ثُمَّ تَعُودُ فَقَالَ دَعْنِي فَإِنِّي أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ يَنْفَعُكَ اللَّهُ بِهَا قُلْتُ مَا هُنَّ قَالَ إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَاقْرَأْ أَيَةً

الْكُرْسِي فَإِنَّهُ لَنْ يَزَالَ عَلَيْكَ مِنَ اللهِ حَافِظٌ وَلَا يَقْرَبُكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ فَأَصْبَحْتُ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا فَعَلَ أسيرُكَ الْبَارِحَةَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ زَعَمَ أَنَّهُ يُعَلِّمُنِي كَلِمَاتٍ يَنْفَعُنِي

اللَّهُ بِهَا فَخَلَّيْتُ سَبِيْلِهِ قَالَ مَا هِيَ قُلْتُ قَالَ لِي إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَاقْرَأْ أَيَةَ الْكُرْسِيِّ مِنْ أُولِهَا حَتَّى تَخْتِمَ الْآيَةَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ) وَقَالَ لِي لَا يَزَالُ عَلَيْكَ مِنَ اللَّهِ حَافِظٌ وَلَنْ يَقْرَبَكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ

فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَا إِنَّهُ قَدْ صَدَقَكَ وَهُوَ كَذُوبٌ تَعْلَمُ مَنْ تُخَاطِبُ مُنْذُ ثَلَاثَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ قُلْتُ لَا قَالَ ذَاكَ شَيْطَانٌ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১০২০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রমযানের যাকাত (সাদাকায়ে ফিতর) সংরক্ষণ ও পাহারা দেবার দায়িত্ব দিলেন। এ দায়িত্ব পালনকালে এক ব্যক্তি আমার কাছে আসল এবং খাদ্যবস্তু তুলে নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেললাম। তাকে বললাম, আমি তোমাকে অবশ্যি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে পেশ করব। সে বলল, আমি একজন অভাবী, সন্তানদের বোঝাও আমার ঘাড়ে আছে এবং প্রয়োজনও আমার খুব বেশি। আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকাল হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে আবু হুরাইরা! গত রাতে তোমার কয়েদী কি করল? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তার অভাব ও সন্তানদের কথা বলল, তাই আমি দয়াপরবশ হয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছি। তিনি বললেন: সে অবশ্যি তোমাকে মিথ্যা বলেছে। তবে আবার সে আসবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথায় আমি জানতে পারলাম, সে আবার আসবে। কাজেই আমি তার জন্য আড়ি পেতে থাকলাম। সে এসে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি বললাম, তোমাকে আমি অবশ্যি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে হাযির করব। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দাও, কারণ আমি অভাবী, আর সন্তানদের বোঝাও আমার উপর আছে। এরপর আমি আর চুরি করতে আসব না। তার কথায় দয়াপরবশ হয়ে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। পরদিন সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আবু হুরাইরা! গতরাতে তোমার বন্দী কি করল? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। সে অভাব ও সন্তান পালনের ব্যয়ভারের অভিযোগ করল। কাজেই আমি দয়াপরবশ হয়ে তাকে ছেড়ে দিলাম। তিনি বললেন: অবশ্যি সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে।

সে আবার আসবে। এরপর আমি তৃতীয় বার তার জন্য আড়ি পেতে থাকলাম। সে এসে খাদ্যবস্তু সরাতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেললাম। আমি বললাম, আমি অবশ্যি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পেশ করব। কারণ এই নিয়ে তিনবার তুমি বলেছ যে, তুমি আর আসবে না। কিন্তু প্রতিবারেই তুমি ফিরে এসেছ। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি তোমাকে এমন কিছু কালেমা শিখিয়ে দেব যার দ্বারা আল্লাহ তোমাকে লাভবান করবেন। আমি বললাম, সেগুলো কি? সে বলল, তুমি যখন বিছানায় ঘুমাতে যাবে, আয়াতুল কুরসি পড়বে। এর ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার উপর সব সময় একজন হিফাযাতকারী নিযুক্ত থাকবে এবং শয়তান তোমার ধারে-কাছে ঘেঁষতে পারবে না। এভাবে সকাল হয়ে যাবে। একথা শুনে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। পরদিন সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: গত রাতে তোমার কয়েদী কি করল? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে ওয়াদা করল যে, সে এমন কিছু কালেমা আমাকে শিখিয়ে দেবে যার ফলে আল্লাহ আমাকে লাভবান করবেন। ফলে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সেগুলো কি? আমি বললাম, সে আমাকে বলল, তুমি বিছানায় ঘুমাতে যাবার সময় আয়াতুল কুরসী পড়বে-প্রথম থেকে শুরু করে ‘আল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লাহুয়াল হাইয়ুল কাইয়ূম’-এর শেষ পর্যন্ত। আর সে আমাকে এও বলেছে, এর ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন হিফাযাতকারী সব সময় তোমার উপর নিযুক্ত থাকবে এবং শয়তান তোমার কাছেও ঘেঁষতে পারবে না এবং এভাবে সকাল হয়ে যাবে। একথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এ কথাটা সে অবশ্যি তোমাকে সত্য বলেছে। তবে সে হচ্ছে মিথ্যুক। কিন্তু হে আবু হুরাইরা। তুমি কি জান, গত তিন দিন থেকে তুমি কার সাথে কথা বলছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন: সে হচ্ছে শয়তান।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۰۲۱ – وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُوْرَةِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنَ الدِّجَالِ وَفِي رِوَايَةٍ مِنْ أَخِرِ سُوْرَةِ الْكَهْفِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

১০২১। আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরা আল কাহফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে সে দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে বেঁচে যাবে। অন্য এক বর্ণনাতে বলা হচ্ছে, সূরা আল কাহফ্ফের শেষ দশটি আয়াত।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

قاعد عندا ۱۰۲۲ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ بَيْنَمَا جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمِعَ نَقِيْضًا مِنْ فَوْقِهِ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ هذا بَابٌ مِنَ السَّمَاءِ فُتِحَ الْيَوْمَ وَلَمْ يُفْتَحُ قَطُّ إِلَّا الْيَوْمَ فَنَزَلَ

مِنْهُ مَلَكٌ فَقَالَ هَذَا مَلَكَ نَزَلَ إِلَى الْأَرْضِ لَمْ يَنْزِلُ قَطُّ إِلا الْيَوْمَ فَسَلَّمَ وَقَالَ أَبْشِرُ بِنُورَيْنِ أَوْتِيْتَهُمَا لَمْ يُؤْتَهُمَا نَبِيُّ قَبْلَكَ : فَاتِحَةُ الْكِتَابِ وَخَوَاتِيمُ سُورَةِ الْبَقَرَةِ لَنْ تَقْرَأُ بِحَرْفٍ مِنْهَا إِلَّا أَعْطَيْتَهُ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ . النَّقِيضُ الصَّوْتُ .

১০২২। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জিবরীল (আ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসা ছিলেন। তিনি উপর থেকে কিছু আওয়াজ শুনে মাথা তুললেন। তিনি বললেন, এটি হচ্ছে আসমানের একটি দরজা। আজকের দিনে এটা খোলা হয়েছে। ইতিপূর্বে আর কোন দিন এটা খোলা হয়নি। তারপর এই দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা অবতরণ করলেন। জিবরীল বললেন, এই ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেছে। ইতিপূর্বে আর কখনো সে পৃথিবীতে অবতরণ করেনি। ফেরেশতা তাঁকে (নবী সা.) সালাম করলেন এবং বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ করুন এমন দু’টি নূরের যা আপনাকে দেয়া হয়েছে এবং আপনার পূর্বে আর কোন নবীকে দেয়া হয়নি। সে দু’টি হচ্ছে: সূরা আল ফাতিহা ও সূরা আল বাকারার শেষ আয়াত। সেগুলির কোন একটি হরফ পড়লেই আপনাকে তার সাওয়াব দেয়া হবে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। “আন-নাকীদু” অর্থ আওয়াজ।

অনুচ্ছেদ: ৫ – আল কুরআন তিলাওয়াতের জন্য লোক সমাগম করা মুস্তাহাব

۱۰۲۳ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتِ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَيَتَدَا رَسُونَهُ بَيْنَهُمُ إِلَّا نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَغَشِبَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَحَقَّتْهُمُ

الْمَلَائِكَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০২৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন একটি দল আল্লাহর কোন ঘরে সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করলে এবং নিজেদের মধ্যে তার অধ্যয়নের ব্যবস্থা করলে অবশ্যম্ভাবীরূপে তাদের উপর প্রশান্তি নাযিল হয়, রহমত তাদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, ফেরেস্তারা নিজেদের ডানা মেলে তাদের উপর ছায়া বিস্তার করে এবং আল্লাহ তাঁর নিকটে অবস্থিত (ফেরেশতা)-দের মাঝে তাদের আলোচনা করেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৬ – উযূর ফযীলাত

قَالَ اللهُ تَعَالَى : يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلُوةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ وَإِنْ كُنْتُمْ جُنَّبًا فَاطْهَرُوا وَإِنْ كُنْتُمْ مُرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِّنَ

الْغَائِطِ أَوْ لَمَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيداً طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ مَا يُرِيدُ اللهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُظْهِرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ .

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাযের জন্য উঠবে, তোমাদের মুখমণ্ডল ও দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধুয়ে ফেলবে, মাথা মাসেহ করবে এবং দুই পা গোড়ালী পর্যন্ত ধুবে। আর যদি তোমরা নাপাক অবস্থায় থাক তাহলে গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করবে। যদি তোমরা রোগাক্রান্ত হও বা সফররত থাক অথবা তোমাদের কেউ যদি মলমূত্র ত্যাগ করে আসে বা তোমরা যদি স্ত্রীসহবাস কর এবং পানি না পাও, তাহলে পাক-পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম কর। এ অবস্থায় ঐ মাটির উপর হাত রেখে সেই হাত দিয়ে তোমাদের মুখমণ্ডল ও দুই হাত মাসেহ করবে। আল্লাহ তোমাদের জীবনকে সংকীর্ণ করে দিতে চান না। তিনি চান তেমাদেরকে পবিত্র করতে এবং তাঁর নিয়ামাত তোমাদের উপর সম্পূর্ণ করে দিতে। যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।” (সূরা আল মাইদাঃ ৬ আয়াত)

١٠٢٤ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنْ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرا مُّحَجِّلِينَ مِنْ أَثَارِ الْوُضُوءِ فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرْتَهُ فَلْيَفْعَلُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০২৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: আমার উম্মাতকে কিয়ামাতের দিন (জান্নাতের দিকে) “গুরুরান মুহাজ্জালীন” (উজ্জ্বল কপাল ও শুভ্র হস্ত-পদের অধিকারী) অবস্থায় ডাকা হবে, উযূর চিহ্নের কারণে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজের ঔজ্জ্বল্য বাড়াবার ক্ষমতা রাখে তার তা করা উচিত [ ‘গোর মুহাজ্জাল’ অর্থ পঞ্চকল্যাণ ঘোড়া যার হস্ত-পদ ও ললাট ধবধবে সাদা, কিয়ামাতের দিন মুমিনদের উযূ-বিধৌত অঙ্গগুলো হবে অনুরূপ উজ্জ্বল ও ধবধবে সাদা। সুতরাং নির্দিষ্ট অঙ্গগুলো ভালভাবে ধুয়ে উত্তমরূপে উযু করা উচিত ] ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٠٢٥ – وَعَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ خَلِيلِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ تَبْلُغُ الْحِلْيَةُ مِنَ الْمُؤْمِنِ حَيْثُ يَبْلُغُ الْوُضُوءُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০২৫। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি: মুমিনের সৌন্দর্য সে পর্যন্ত পৌঁছে যাবে যে পর্যন্ত তার উযূর পানি পৌঁছে যাবে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٠٢٦ – وَعَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ خَرَجَتْ خَطَايَاهُ مِنْ جَسَدِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِهِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

১০২৬। উসমান ইবনে আফফান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি উযূ করে এবং খুব ভালোভাবে ও সুন্দরভাবে উযূ করে, তার শরীর থেকে সমস্ত গুনাহ্ বের হয়ে যায়, এমনকি তার নখের নিচ থেকেও বের হয়ে যায়। 1

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۰۲۷ – وَعَنْهُ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ مِثْلَ وُضُونِي هُذَا ثُمَّ قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ هُكَذَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدِّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَكَانَتْ صَلَاتُهُ وَمَشْيَهُ إلى الْمَسْجِدِ نَافِلَةَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০২৭। উসমান ইবনে আফফান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার এই উযূর মত উযূ করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি বললেন: যে ব্যক্তি এভাবে উযূ করবে তার পেছনের সমস্ত গুনাহ্ মাফ করে দেয়া হবে। আর তার নামায ও মসজিদ পর্যন্ত আসা নফল [ নফল শব্দটি এখানে অতিরিক্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ পেছনের সমস্ত গুনাহ মাফ হওয়ার পর এগুলো হবে তার জন্য বাড়তি নেকী ] হয়ে যাবে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۰۲۸ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا تَوَضَّأُ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ أَوِ الْمُؤْمِنُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءَ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ فَإِذَا غَسَلَ

يَدَيْهِ خَرَجَ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ كَانَ بَطَشَتْهَا بَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ أَخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتْ كُلُّ خَطِيئَةٍ مَشَتَهَا رِجْلَاهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ أَخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنَ الذُّنُوبِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০২৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন মুসলিম বা মুমিন বান্দা উযূ করে এবং তার মুখমণ্ডল ধুয়ে ফেলে, পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুটির সাথে তার চেহারা থেকে তার চোখ দ্বারা কৃত সমস্ত গুনাহ বের হয়ে যায়। তারপর যখন সে তার হাত দু’টি ধুয়ে ফেলে, পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুটির সাথে তার হাত দু’টি থেকে তার হাত দ্বারা কৃত সমস্ত গুনাহ্ বের হয়ে যায়। এরপর যখন সে তার পা দু’টি ধুয়ে ফেলে, পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুটির সাথে তার পা দ্বারা কৃত সমস্ত গুনাহ বের হয়ে যায়, এমনকি সে গুনাহ থেকে সম্পূর্ণ পাকসাফ হয়ে যায়।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۰۲۹ – وَعَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آتَى الْمَقْبَرَةَ فَقَالَ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لَأَحِقُونَ وَدِدْتُ أَنَّا قَدْ رَأَيْنَا إِخْوَانَنَا قَالُوا أَوَلَسْنَا إِخْوَانَكَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ أَنْتُمْ أَصْحَابِي وَإِخْوَانُنَا

الَّذِينَ لَمْ يَأْتُوا بَعْدُ. قَالُوا كَيْفَ تَعْرِفُ مَنْ لَمْ يَأْتِ بَعْدُ مِنْ أُمَّتِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ ارَأَيْتَ لَوْ أَنَّ رَجُلاً لَهُ خَيْلٌ غُرُ مُحَجَلَةٌ بَيْنَ ظَهْرَى خَيْلٍ دُهُمْ بُهُمْ إِلا يَعْرِفُ خَيْلَهُ قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ فَإِنَّهُمْ يَأْتُونَ غُراً مُحَجَلِينَ مِنَ

الْوُضُوءِ وَأَنَا فَرَطْهُمْ عَلَى الْحَوْضِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০২৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরস্থানে এলেন এবং বললেন: আস্সালামু আলাইকুম দারা কাওমিম মুমিনীন, ওয়া ইন্না
ইনশাআল্লাহু বিকুম লাহিকুন (হে মুমিনদের আবাসস্থলের অধিবাসীরা! তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, আর আমরা ইনশাআল্লাহ তোমাদের সাথে মিলিত হব)। আমার হৃদয়ের একান্ত ইচ্ছা ছিল আমাদের ভাইদেরকে দেখব। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আপনার ভাই নই? জবাব দিলেনঃ তোমরা আমার সাহাবী (সাথী) আর আমার ভাই হচ্ছে যারা এখনও দুনিয়ায় আসেনি। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উম্মাতের যেসব লোক এখনও আসেনি তাদের আপনি কেমন করে চিনবেন? তিনি জবাব দিলেন: দেখ, যদি কোন ব্যক্তির সাদা কপাল ও সাদা পাওয়ালা ঘোড়া অন্য কাল ঘোড়ার মধ্যে মিশে থাকে তাহলে কি সে তার ঘোড়া চিনে নিতে পারবে না? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! হাঁ পারবে? তিনি বললেনঃ তাহলে কিয়ামাতের দিন তারা এমন অবস্থায় আসবে যখন উযূর প্রভাবে তাদের কপাল ও হাত-পা থেকে ঔজ্জল্য ঠিকরে পড়তে থাকবে এবং আমি তাদের আগেই হাওযে (কাওসারে) পৌঁছে যাব।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٠٣٠ – وَعَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَلَا أَدْلُكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدِّرَجَاتِ قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ وَكَثَرَةُ الْخُطا إِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ

الصَّلَاةِ فَذلِكُمُ الرِّبَاطُ فَذَلِكُمُ الرِّباط – رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

১০৩০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি কি তোমাদেরকে সেই জিনিসটির খবর দেব না যার সাহায্যে আল্লাহ গুনাহ মুছে ফেলেন এবং যার মাধ্যমে মর্যাদা বৃদ্ধি করেন? সাহাবীগণ বললেন, হাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: কঠিন সময়ে পরিপূর্ণভাবে উযূ করা, মসজিদের দিকে অধিক পদক্ষেপ করা এবং এক নামাযের পর আর এক নামাযের জন্য অপেক্ষায় থাকা। এটিই তোমাদের সীমান্ত পাহারা, এটিই তোমাদের সীমান্ত পাহারা (প্রিয় জিনিস)।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۰۳۱ – وَعَنْ أَبِي مَالِكَ الْأَشْعَرِي قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الطهُورُ شَطْرُ الْإِيْمَانِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

১০৩১। আবু মালিক আল-আশ’আরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পবিত্রতা অর্জন করা হচ্ছে ঈমানের অর্ধাংশ।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইতিপূর্বে এই কিতাবের সবর অধ্যায়ে হাদীসটির বিস্তারিত বর্ণনা এসে গেছে। আর এই একই বিষয়বস্তু সম্বলিত আর একটি হাদীস ‘আশা’ অধ্যায়ের (কিতাবুর রজা) শেষের দিকে সাহাবী আমর ইবনে আবাসা (রা)-র মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। এটি এমন একটি মহান হাদীস, যার মধ্যে বহু সৎকর্মের অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে।

– وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيَبْلُغُ أَوْ فَيُسْبِغُ الْوُضُوءَ ثُمَّ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا فُتِحَتْ

لَهُ ابْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيُّهَا شَاءَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَزَادَ التَّرْمِذِيُّ اللَّهُمُ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ.

১০৩২। উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উযূ করে পরিপূর্ণভাবে অথবা (তিনি বলেন) যথাযথভাবে, তারপর বলে, “আশহাদু আল্ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু”, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। সেগুলির যেটির মধ্য দিয়ে ইচ্ছা সে প্রবেশ করতে পারবে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম তিরমিযীর বর্ণনায় আরো আছেঃ “আল্লাহুম্মাজ’আল্ল্লী মিনাত্ তাওয়াবীনা ওয়াজ’আল্‌ল্লী মিনাল মুতাতাহহিরীন (হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর এবং অত্যধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদের মধ্যে শামিল কর)।

অনুচ্ছেদ: ৭ – আযানের ফযীলাত

۱۰۳۳ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِ الْأَوَّلِ ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلَّا أَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لَأَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي التَّهْجِيرِ لَاسْتَبَقُوا إِلَيْهِ وَلَوْ

يَعْلَمُونَ مَا فِي الْعَتَمَةِ وَالصُّبْحِ لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبُوا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ الْإِسْتِهَامُ الْاقْتَرَاعُ والتهجير التكبير إلى الصلاة.

১০৩৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: লোকে যদি জানত আযান দেয়া ও নামাযের প্রথম কাতারের মধ্যে কী আছে (কী পরিমাণ সাওয়াব ও মর্যাদা আছে), অতঃপর লটারীর মাধ্যমে ছাড়া তা হাসিল করার কোন সুযোগ না থাকতো, তাহলে তারা এ ব্যাপারে অবশ্যই লটারী করতো। আর যদি তারা জানত নামাযে আগে আসার মধ্যে কী আছে (কী পরিমাণ সাওয়াব ও মর্যাদা আছে) তাহলে তারা সে দিকে অগ্রবর্তী হবার জন্য প্রতিযোগিতা করত। আর যদি তারা জানত ইশার ও ফজরের নামাযের মধ্যে কি আছে (কী পরিমাণ সাওয়াব ও মর্যাদা আছে) তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা তাতে শামিল হত।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ‘আল-ইসতিহাম’ অর্থ লটারীর মাধ্যমে ভাগ্য নির্ণয় করা। ‘আত-তাহজীর’ অর্থ নামায আদায়ের ব্যাপারে বিলম্ব না করে প্রথমেই ও সময় হওয়ার সাথে সাথেই তা আদায় করা।

١٠٣٤ – وَعَنْ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ الْمُؤَذِّنُوْنَ أَطْوَلُ النَّاسِ أَعْنَاقًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০৩৪। মু’আবিয়া (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামাতের দিন মুয়াযয্যিনগণ লোকদের মধ্যে সবচাইতে লম্বা ঘাড়বিশিষ্ট হবে।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٠٣٥ – وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَهُ إِنِّي أَرَاكَ تُحِبُّ الْغَنَمَ وَالْبَادِيَةَ فَإِذَا كُنْتَ فِي غَنَمِكَ أَوْ بَادِيَتِكَ فَأَذَنْتَ لِلصَّلوةِ فَارْفَعُ صَوْتَكَ بِالنِّدَاءِ فَإِنَّهُ لَا يَسْمَعُ مَدَى

صَوْتِ الْمُؤَذِّنِ مِنْ وَلَا انْسٌ وَلَا شَيْ إِلا شَهِدَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ .

১০৩৫। আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবু সা’সা’আ (র) থেকে বর্ণিত। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) তাকে বলেন, আমি দেখছি তুমি ছাগল ও বনভূমি ভালবাস। কাজেই যখন তুমি নিজের ছাগলগুলির সাথে বা বনভূমির মধ্যে থাকবে, নামাযের জন্য আযান দেবে এবং উচ্চস্বরে আযান দেবে। কারণ আযানদাতার সুউচ্চ স্বর জিন, মানুষ ও বন্ধু সমষ্টির মধ্যে যারাই শুনবে কিয়ামাতের দিন তারাই তার জন্য সাক্ষ্য দেবে।

আবু সাঈদ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমি একথা শুনেছি।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٠٣٦ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا نُودِيَ بِالصَّلاةِ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ وَلَهُ ضُرَاطٍ حَتَّى لَا يَسْمَعُ التَّأْذِينَ فَإِذَا قضى النِّدَاءُ أَقْبَلَ حَتَّى إِذَا ثُوبَ لِلصَّلوةِ أَدْبَرَ حَتَّى إِذَا قُضِيَ

التَّشْوِيبُ أَقْبَلَ حَتَّى يُخْطِرَ بَيْنَ الْمَرْءِ وَنَفْسِهِ يَقُولُ أَذْكُرْ كَذَا وَاذْكُرْ كَذَا لِمَا لَمْ يَذْكُرُ مِنْ قَبْلُ حَتَّى يَظُلُّ الرَّجُلُ مَا يَدْرِي كَمْ صَلَّى – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ التَّشْوِيبُ الْإِقَامَةُ.

১০৩৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন নামাযের জন্য আযান হয়, তখন শয়তান বাতকর্ম করতে করতে ছুটে পালিয়ে যেতে থাকে, যাতে আযানের আওয়াজ শুনতে না পায়। তারপর আযান শেষ হয়ে গেলে সে ফিরে আসে। আবার যখন নামাযের জন্য ইকামাত দেয়া হয় সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এমনকি ইকামাত শেষ হয়ে গেলে সে আবার ফিরে আসে, যাতে মানুষ ও তার নফসের মধ্যে ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি করতে পারে। শয়তান বলে, অমুক জিনিসটা মনে কর, অমুক জিনিসটা মনে কর, যা ইতিপূর্বে তার মনে ছিল না। শেষে মানুষ এমন অবস্থায় পৌঁছে যায় যে, তার মনে থাকে না সে কত রাক’আত নামায পড়েছে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। “আত-তাসবীব” অর্থ ইকামাত।

۳۷. وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُوْلُ ثُمَّ صَلُّوا عَلَى فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَى صَلَاةٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا ثُمَّ

سَلُوا اللَّهَ لِيَ الوَسِيلَةَ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ لا تَنْبَغِي إِلا لِعَبْدِ مِنْ عِبَادِ اللهِ وَارْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ فَمَنْ سَأَلَ لِي الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০৩৭। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: যখন তোমরা আযান দিতে শোন তখন তার পুনারাবৃত্তি কর যা মুয়াযযিন বলে। তারপর আমার উপর দরূদ পড়। কারণ যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পড়ে আল্লাহ এর বদলায় তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। তারপর আল্লাহর কাছে আমার জন্য উসীলার প্রার্থনা কর। উসীলা হচ্ছে জান্নাতে এমন একটি স্থান, যা আল্লাহর সমস্ত বান্দাদের মধ্যে মাত্র এক বান্দার উপযোগী। আমি আশা করি আমিই সেই বান্দা। কাজেই যে ব্যক্তি আমার জন্য উসীলা প্রার্থনা করবে তার জন্য শাফা’আত ওয়াজিব হয়ে যাবে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

۱۰۳۸ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ فَقُولُوا كَمَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০৩৮। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন তোমরা আযান শুনতে পাও তখন মুয়াযযিন যা বলে তার পুনরাবৃত্তি কর।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

۱۳۹ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ النِّدَاءَ اللَّهُمَّ رَبِّ هذه الدعوة التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ أَت مُحَمَّدًا نِ الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثَهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ

حَلَّتْ لَهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ .

১০৩৯। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আযান শোনার পর নিম্নোক্ত কথাগুলো বলেঃ “আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ্ দা’ওয়াতিত তান্মাতে ওয়াস্-সালাতিল কায়িমাতে আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদীলাতা, ওয়াবআসহ মাকামাম মাহমূদানিল্লাযী ওয়া’আদৃতাহ” (হে আল্লাহ! এই পূর্ণাংগ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত নামাযের প্রভু। মুহাম্মাদকে উসীলা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান কর এবং তাঁকে তোমার ওয়াদাকৃত প্রশংসিত স্থানে পৌঁছাও), কিয়ামাতের দিন তার জন্য আমার শাফা’আত ওয়াজিব হয়ে গেল।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٠٤٠ – وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ الْمُؤَذِّنَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنْ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ رَضِيْتُ بِاللَّهِ رَبَّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا

وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا غْفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

১০৪০। সা’দ ইবনে আবী ওয়াককাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের আযান শুনে বলে: ‘আশহাদু আল্ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু, রাদীতু বিল্লাহি রাব্বান, ওয়া বিমুহাম্মাদিন রাসূলান ওয়া বিল ইসলামি দীনান” (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহকে রব, মুহাম্মাদকে রাসূল এবং ইসলামকে দীন হিসেবে গ্রহণ করে আমি সন্তুষ্ট), তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٠٤١ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الدُّعَاء لا يُرَدُّ بَيْنَ الْآذَانِ وَالْاقَامَةِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১০৪১। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ের দু’আ প্রত্যাখ্যাত হয় না। ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান আখ্যা দিয়েছেন।

অনুচ্ছেদ: ৮ – নামাযের ফযীলাত

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : إِنَّ الصَّلوةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“অবশ্যি নামায অশ্লীল ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখে।” (সূরা আল আনকাবূত : ৪৫)

١٠٤٢ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنْ نَهَرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلِّ يَوْمٍ خَمْسَ مرات هَلْ يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْ قَالُوا لَا يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْ قَالَ

فَذَلِكَ مَثَلُ الصلواتِ الْخَمْسِ يَمْحُو اللَّهُ بِهِنَّ الْخَطَايَا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০৪২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: তোমরা ভেবে দেখ, যদি তোমাদের কারোর দরজার সামনে একটি নদী থাকে এবং সে তাতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তাহলে তার শরীরে কোন ময়লা থাকবে কি? সাহাবীগণ বললেন, না, তার শরীরে কোন ময়লা থাকবে না। তিনি বললেন: পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের এটিই হচ্ছে দৃষ্টান্ত। এ নামাযগুলির মাধ্যমে আল্লাহ গুনাহসমূহ মুছে ফেলে দেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٠٤٣ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ كَمَثَلِ نَهْرٍ جَارٍ غَيْرِ عَلَى بَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلِّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ رَوَاهُ مُسْلِمُ الْغَمْرُ بِفَتْحِ الْغَيْنِ الْمُعْجَمَةِ الْكَثِيرُ.

১০৪৩। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পাঁচটি নামাযের দৃষ্টান্ত হচ্ছে: একটি বড় নদী তোমাদের কারোর ঘরের দরজার সামনে দিয়ে প্রবহমান। তাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। ‘আল-গামরু’ অর্থ প্রচুর, পর্যাপ্ত।

١٠٤٤ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلًا أَصَابَ مِنْ امْرَأَةٍ قُبْلَةً فَأَتَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَهُ فَانْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى أَقِمِ الصَّلوةَ طَرَقَى النَّهَارِ وزَلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ فَقَالَ الرَّجُلُ إِلَى

هَذَا قَالَ لِجَمِيعِ أُمْتِي كُلِّهِمْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০৪৪। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি এক স্ত্রীলোককে চুমো দেয়। তারপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে হাযির হয়ে তাঁকে একথা জানায়। ফলে আল্লাহ নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করলেন (অনুবাদ): “নামায কায়েম কর দিনের দুই প্রান্তভাগে আর রাতের প্রথমাংশে। অবশ্যি ভাল কাজগুলো খারাপ কাজগুলোকে খতম করে দেয়” (সূরা হুদ: ১১৪)। লোকটি জিজ্ঞেস করল, এ হুকুম কি আমার একার জন্য? তিনি বলেন: আমার উম্মাতের সকলের জন্য।”

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٠٤٥ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ وَالْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ كَفَّارَةً لِمَا بَيْنَهُنَّ مَا لَمْ تُغْشَ الْكَبَائِرُ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০৪৫। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও এক জুমু’আ থেকে আর এক জুমু’আ পর্যন্ত আদায়কৃত নামায এর মধ্যকার (সব গুনাহের) জন্য কাফ্ফারা, যদি কবীরা গুনাহ না করা হয়।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٠٤٦ – وَعَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلَاةٌ مَكْتُوبَةٌ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهَا وَخَشُوعَهَا وَرُكُوعَهَا إِلا كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوبِ مَا

لَمْ تُؤْتَ كَبِيرَةٌ وَذَلِكَ الدَّهْرَ كُلَّهُ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০৪৬। উসমান ইবনে আফফান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যদি কোন মুসলিম ফরয নামাযের সময় হলেই ভালভাবে করে করে, তারপর ভয় ও বিনয় সহকারে নামায পড়ে, তার এ নামায তার আগের সমস্ত গুনাহের কাফ্ফারা হয়ে যায়, যদি সে কবীরা গুনাহ না করে। আর এ অবস্থা চলতে থাকে সমগ্র কালব্যাপী [ এ অনুচ্ছেদে বর্ণিত হাদীসগুলো এবং এ ধরনের আরো বহু হাদীস থেকে এই সংগে কুরআনী আয়াতের অর্থের প্রেক্ষিতে উলামায়ে আহলে সুন্নাত এ সিদ্ধান্তে পৌছেছেন যে, আল্লাহর ইবাদাত, আনুগত্য ও সৎ কর্মসমূহ সম্পাদন করার ফলে সগীরা অর্থাৎ ছোট ছোট গুনাহগুলো আফ হয়ে যায়। হাদীসে একথা সুস্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করা হয়েছে এবং কুরআনে “ইল্লাল্ লামাম” শব্দের মাধ্যমে কবীরা গুনাহগুলোকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। আর কবীরা গুনাহগুলো খালিস দিলে তাওবা ও যথাযথ খেসারত আদায় ছাড়া মাফ হবার কোন পথ নেই। মুহাক্কিক তথা চিন্তাশীল ও গবেষক আলিমগণের এটাই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ] ।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৯ – ফজর ও আসরের নামাযের ফযীলাত

١٠٤٧ – عَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ صَلَّى الْبَرْدَيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ الْبَرْدَانِ الصُّبْحُ وَالْعَصْرُ.

১০৪৭। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দু’টি ঠাণ্ডা সময়ে নামায পড়ে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ‘আল-বারদানে’ অর্থ ফজর ও আসরের নামায।

١٠٤٨ – وَعَنْ أَبِي زُهَيْرٌ عُمَارَةَ بْنِ رُوَيْبَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَنْ يُلِجَ النَّارَ أَحَدٌ صَلَّى قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا يَعْنِي الْفَجْرَ وَالْعَصْرَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০৪৮। আবু যুহাইর উমারা ইবনে রুওয়াইবা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে নামায পড়ে সে কখনো জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামায।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٠٤٩ – وَعَنْ جُنْدَبِ بْنِ سُفْيَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ فَانْظُرْ يَا ابْنَ أَدَمَ لَا يَطْلُبَنَّكَ اللَّهُ مِنْ ذِمَّتِهِ بِشَيْءٍ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০৪৯। জুনদুব ইবনে সুফিয়ান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি ফজরের নামায পড়ে সে আল্লাহর দায়িত্বের মধ্যে শামিল হয়ে যায়। কাজেই হে বনী আদম! চিন্তা কর, আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে নিজের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত কোন জিনিস চেয়ে না বসেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٠٥٠ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلائِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلَائِكَةٌ بِالنَّهَارِ وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلَاةِ الصبْحِ وَصَلَاةِ الْعَصْرِ ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فَيْكُمْ فَيَسْأَلُهُمُ اللَّهُ وَهُوَ أَعْلَمُ

بِهِمْ كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي فَيَقُولُونَ تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ وَآتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০৫০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: রাত ও দিনের ফেরেশতারা পালাক্রমে তোমাদের কাছে আসেন এবং ফজর ও আসরের নামাযে তারা একত্রিত হন। তারপর রাতের ফেরেশতারা উপরে উঠে যান। আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, অথচ তিনি তাদের (আপন বান্দাদের) অবস্থা সম্পর্কে বেশি জানেন, আমার বান্দাদেরকে তোমরা কী অবস্থায় রেখে এলে? তারা বলেন, আমরা তাদেরকে যখন রেখে আসি তখন তারা নামাযরত ছিল এবং আমরা যখন তাদের কাছে পৌঁছেছিলাম তখনো তারা নামাযরত ছিল।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٠٥١ – وَعَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَظَرَ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ فَقَالَ إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبُّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هُذَا الْقَمَرَ لَا تُضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِ فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُونَ

عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُو – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَفِي رِوَايَةٍ فَنَظَرَ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةَ أَرْبَعَ عَشْرَةَ.

১০৫১। জারীর ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছিলাম। তিনি পূর্ণিমার রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন: তোমরা আজকের এই চাঁদকে যেমনভাবে দেখছ (আখিরাতে) তোমাদের রবকেও ঠিক তেমনি দেখতে পাবে। তাঁকে দেখতে তোমরা কোন প্রকার কষ্ট বা অসুবিধা অনুভব করবে না। কাজেই যদি তোমরা সূর্য উদিত হওয়ার ও সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বের নামাযের উপর অন্য কিছুকে প্রাধান্য না দিতে পার তাহলে তাই কর (অর্থাৎ এ নামায দু’টি যথাসময়ে পড়)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। অন্য একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে: তিনি চতুর্দশী রাতে চাঁদের দিকে তাকান।

١٠٥٢ وَعَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَرَكَ صَلَاةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১০৫২। বুরাইদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আসরের নামায ত্যাগ করল তার আমল বাজেয়াপ্ত হয়ে গেল।
ইমাম বুখারী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১০ মসজিদে যাওয়ার ফযীলাত

١٠٥٣ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ غدًا إِلَى الْمَسْجِدِ أَوْ رَاحَ أَعَدَّ اللهُ لَهُ فِي الْجَنَّةِ نُزُلًا كُلَّمَا غَدًا أَوْ رَاحَ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০৫৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় মসজিদে যায়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে মেহমানদারির আয়োজন করেন, যতবার সে সকালে বা সন্ধ্যায় যায় ততবারই।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

١٠٥٤ – وَعَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَطَهُرَ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ مضَى إِلى بَيْتِ مِنْ بُيُوتِ اللهِ لِيَقْضِي فَرِيضَةً مِنْ فَرَائِضِ اللَّهِ كَانَتْ خُطُوَاتُهُ إحْدَاهَا تَحُطُّ خَطِيئَةً وَالْأُخْرَى تَرْفَعُ دَرَجَةً رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

১০৫৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের ঘর থেকে পবিত্রতা অর্জন করে (উযূ ও প্রয়োজনে গোসল সেরে) আল্লাহর কোন একটি ঘরের দিকে যায়, আল্লাহর ফরযের মধ্য থেকে কোন একটি ফরয আদায় করার উদ্দেশ্যে, তার এক পদক্ষেপে একটি গুনাহ মাফ হয় এবং অন্য পদক্ষেপে তার এক ধাপ মর্যাদা বুলন্দ হয়।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٠٥٥ – وَعَنْ أَبَيِّ بْنِ كَعْبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ لَا أَعْلَمُ احداً أَبْعَدَ مِنَ الْمَسْجِدِ مِنْهُ وَكَانَتْ لَا تُخْطِئُهُ صَلَاةٌ فَقِيلَ لَهُ لَوْ اشْتَرَيْتَ حِمَارًا تَرْكَبُهُ فِي الظُّلْمَاءِ وَفِي الرِّمْضَاءِ قَالَ مَا يَسُرُّنِي أَنَّ مَنْزِلِي إِلَى

جَنْبِ الْمَسْجِدِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ يُكْتَبَ لِي مَمْشَايَ إِلَى الْمَسْجِدِ وَرُجُوعِي إِذَا رَجَعْتُ إِلَى أَهْلِي فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ جَمَعَ اللَّهُ لَكَ ذَلِكَ كُلَّهُ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০৫৫। উবাই ইবনে কাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারদের মধ্যে একজন লোক ছিলেন। মসজিদ থেকে তার চেয়ে বেশি দূরে অবস্থানকারী আর কোন লোকের কথা আমি জানি না। কোন নামাযই তিনি (মসজিদে জামা’আতের সাথে আদায় না করে) ছাড়তেন না। তাকে বলা হল, আপনি যদি একটা গাধা কিনে নিতেন, তাহলে আঁধার রাতে ও প্রচণ্ড রৌদ্রে উত্তপ্ত যমিনের উপর দিয়ে তার পিঠে চড়ে মসজিদে আসতে পারতেন। তিনি জবাব দিলেন, আমার ঘর যদি মসজিদের পাশে হয় তাহলে তাতে আমি মোটেই খুশী হব না। আমি চাই, আমার ঘর থেকে বের হয়ে মসজিদে আসা, আবার মসজিদ থেকে পরিবার-পরিজনের উদ্দেশ্যে ঘরের দিকে যাওয়া সবটুকু আমার আমলনামায় লেখা হোক। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ তোমার জন্য এসবগুলো একত্র করে দিয়েছেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٠٥٦ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ خَلَتِ الْبِقَاعُ حَوْلَ الْمَسْجِدِ فَأَرَادَ بَنُو سَلَمَةَ أَن يُنْتَقِلُوْا قُرْبَ الْمَسْجِدِ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهُمْ بَلَغَنِي أَنَّكُمْ تُرِيدُونَ أَنْ تَنْتَقِلُوا قُرْبَ الْمَسْجِدِ قَالُوا نَعَمْ يَا

رَسُولَ اللَّهِ قَدْ أَرَدْنَا ذَلِكَ فَقَالَ : بَنِي سَلِمَةً دِيَارَكُمْ تُكْتَبُ أَثَارُكُمْ دِيَارَكُمْ تُكْتَبْ أَثَارُكُمْ فَقَالُوا مَا يَسُرُّنَا أَنَّا كُنَّا تَحَوَّلُنَا – رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَرَوَى الْبُخَارِيُّ مَعْنَاهُ مِنْ رِوَايَةِ أَنس .

১০৫৬। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদের চারপাশে কিছু জায়গা খালি ছিল। বনু সালেমা গোত্র (সেই জমি কিনে) মসজিদের কাছে স্থানান্তরিত হতে মনস্থ করল। এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছলে তিনি তাদের বলেনঃ আমরা জানতে পেরেছি, তোমরা মসজিদের সন্নিকটে স্থানান্তরিত হতে চাও। তারা বলল, হাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। আমরা এ রকম ইরাদা করেছি। তিনি বলেনঃ হে বনী সালেমা! তোমরা নিজেদের বর্তমান স্থানেই অবস্থান কর। তোমাদের পদচিহ্নগুলো লিখা হচ্ছে। তোমরা নিজেদের বর্তমান স্থানেই অবস্থান কর। তোমাদের পদচিহ্নসমূহ লিখা হচ্ছে (তোমাদের আমলনামায়)। একথা শুনে তারা বললো, তাহলে আর স্থানান্তরিত হওয়া আমাদেরকে কি-ই বা আনন্দিত করতে পারে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। আর ইমাম বুখারী আনাস (রা) থেকে একই অর্থবোধক একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٠٥٧ وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ أَعْظَمَ النَّاسِ أَجْرًا فِي الصَّلاةِ أَبْعَدُهُمْ إِلَيْهَا مَمْشَى فَابْعَدُهُم وَالَّذِي يَنْتَظِرُ الصَّلاةَ حَتَّى يُصَلِّيْهَا مَعَ الْإِمَامِ أَعْظَمُ أَجْرًا مِنَ الَّذِي

يُصَلِّى ثُمَّ يَنَامُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০৫৭। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিঃসন্দেহে নামাযের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রতিদান পাবে সেই ব্যক্তি যে সবচেয়ে বেশি দূর থেকে হেঁটে নামাযে আসে। তারপর যে ব্যক্তি আরা বেশি দূর থেকে আসে (সে আরো বেশি প্রতিদান পাবে)। আর যে ব্যক্তি ইমামের সাথে নামায পড়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে সে তার চাইতে বেশি প্রতিদান পায় যে একাকী নামায পড়ে, তারপর ঘুমিয়ে পড়ে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٠٥٨ – وَعَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بَشِرُوا الْمَشَائِينَ فِي الظُّلْمِ إِلَى الْمَسَاجِدِ بِالنُّورِ النَّامِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ – رَوَاهُ أَبُو داود والترمذي.

১০৫৮। বুরাইদা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: অন্ধকারে পায়ে হেঁটে মসজিদে আগমনকারীদেরকে তোমরা কিয়ামাতের দিনের পরিপূর্ণ আলোর সুখবর দাও।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

ى اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ١٠٥٩ وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِي ا قَالَ إِلا أَدلُكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدِّرَجَاتِ قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ وَكَثَرَةُ الْخُطَا إِلَى

الْمَسَاجِدِ وانتِظارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ فَذَلِكُمُ الرِّباطُ فَذَلِكُمُ الرِّبَاضُ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০৫৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি কি তোমাদেরকে এমন বিষয় জানাব না, যার মাধ্যমে আল্লাহ গুনাহসমূহ খতম করে দেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন? সাহাবীগণ বললেন, হাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!

তিনি বললেন: অসুবিধাজনক অবস্থায় পূর্ণরূপে উযু করা, মসজিদের দিকে বেশি পদক্ষেপ এবং এক নামাযের পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করা। এটিই হচ্ছে তোমাদের সীমান্ত প্রহরা, এটিই হচ্ছে তোমাদের সীমান্ত প্রহরা।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٠٦٠ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّجُلَ يَعْتَادُ الْمَسَاجِدَ فَاشْهَدُوا لَهُ بِالْإِيْمَانِ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلٌ إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ) – رَوَاهُ

التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১০৬০। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন তোমরা কোন লোককে মসজিদে যাতায়াতে অভ্যস্ত দেখ তখন তার ঈমানদারির সাক্ষ্য দাও। কারণ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: “আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করে তারা যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং শেষ দিনের (আখিরাত) উপর ঈমান এনেছে। (সূরা আত তাওবা: ১৮)

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং তিনি একে হাসান হাদীস গণ্য করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১১ নামাযের জন্য অপেক্ষা করার ফযীলাত

١٠٦١ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاةٍ مَا دَامَتِ الصَّلَاةُ تَحْبِسُهُ لَا يَمْنَعُهُ أَنْ يَنْقَلِبَ إِلَى أهله الا الصَّلاةُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০৬১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যতক্ষণ নামাযের প্রতীক্ষা কোন ব্যক্তিকে আটকে রাখে এবং যতক্ষণ নামায ছাড়া অন্য কিছু তাকে ঘরে পরিজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার পথে বাধা দেয় না, ততক্ষণ সে নামাযের মধ্যেই থাকে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٠٦٢ – وَعَنْهُ أَنْ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمَلَائِكَةُ تُصَلَّى عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مُصَلاهُ الَّذِي صَلَّى فِيْهِ مَا لَمْ يُحْدِثُ تَقُولُ اللَّهُمَّ اغْفِرْهُ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১০৬২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কোন ব্যক্তি যখন নামায পড়ার পর নিজের জায়নামাযে বসে থাকে তখন ফেরেশতারা তার জন্য দু’আ করতে থাকেন যতক্ষণ তার উযূ ভেঙে না যায়। ফেরেশতারা বলতে থাকেন, হে আল্লাহ! একে মাফ কর, হে আল্লাহ! এর উপর রহম কর।

ইমাম বুখারী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٠٦٣ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اخْرَ لَيْلَةً صلاة العشاء إلى شَطْرُ اللَّيْلِ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ بَعْدَ مَا صَلَّى فَقَالَ صَلَّى النَّاسُ وَرَقَدُوا وَلَمْ تَزَالُوْا فِي صَلَاةٍ مُنْذُ انْتَظَرْتُمُوهَا رَوَاهُ

الْبُخَارِيُّ.

১০৬৩। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামায মধ্য রাত পর্যন্ত বিলম্বিত করলেন। নামাযের পর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: সমস্ত লোক নামায পড়ার পর ঘুমিয়ে পড়েছে, কিন্তু তোমরা যখন থেকে নামাযের অপেক্ষায় আছ তখন থেকে নামাযের মধ্যেই আছ।

ইমাম বুখারী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১২ – জামা’আতে নামায পড়ার ফযীলাত

١٠٦٤ – عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَاةُ الْجَمَاعَةِ أَفْضَلُ مِنْ صَلَاةِ الْفَذِ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০৬৪। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জামা’আতের সাথে নামায পড়া একাকী নামায পড়ার চাইতে সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٠٦٥ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلاةُ الرِّجُلِ فِي جَمَاعَةٍ تُضَعْفُ عَلَى صَلَاتِهِ فِي بَيْتِهِ وَفِي سُوقِهِ خَمْسًا وَعِشْرِينَ ضِعْفًا وَذَلِكَ أَنَّهُ إِذَا تَوَضَّا فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ خَرَجَ

إِلَى الْمَسْجِدِ لا يَخْرِجُهُ إِلا الصَّلاةُ لَمْ يَخْطُ خَطْوَةً إِلا رُفِعَتْ لَهُ بِهَا دَرَجَةً وَحُطَتْ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً فَإِذَا صَلَّى لَمْ تَزَلِ الْمَلَائِكَةُ تُصَلَّى عَلَيْهِ مَا دَامَ فِي مُصَلَاهُ مَا لَمْ يُحْدِثُ تَقُولُ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ وَلَا يَزَالُ فِي

صَلَاةٍ مَا انْتَظَرَ الصَّلَاةَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَهَذَا لَفْظُ الْبُخَارِيِّ.

১০৬৫। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন ব্যক্তির জামা’আতের সাথে নামায তার ঘরে বা বাজারের নামাযের চাইতে পঁচিশ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ। আর এটা তখন হয় যখন সে উযূ করে এবং ভাল করে উযূ করে, তারপর বের হয়ে মসজিদের দিকে চলতে থাকে, একমাত্র নামাযের জন্যই সে ঘর থেকে বের হয়। এ অবস্থায় সে যতবার পা ফেলে তার প্রতিবারের পরিবর্তে একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি করে গুনাহ মাফ করা হয়। তারপর যখন সে নামায পড়তে থাকে, ফেরেশতারা তার জন্য রহমতের দু’আ করতে থাকেন যতক্ষণ সে জায়নামাযে থাকে এবং তার উযূ না ভাঙ্গে। ফেরেশতাদের সেই দু’আর শব্দাবলী হচ্ছে ৪ হে আল্লাহ! এই ব্যক্তির উপর রহমত নাযিল কর। হে আল্লাহ! এর উপর রহম কর। আর যতক্ষণ সে নামাযের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, সে নামাযের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হতে থাকে। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। হাদীসটির মূল পাঠ বুখারীর।

١٠٦٦ – وَعَنْهُ قَالَ أَتَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ أَعْمَى فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ لَيْسَ لِي قَائِدٌ يَقُودُنِي إِلَى الْمَسْجِدِ فَسَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تُرَخِّصَ لَهُ فَيُصَلِّى فِي بَيْتِهِ فَرَخْصَ لَهُ فَلَمَّا وَلَّى

دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ هَلْ تَسْمَعُ النِّدَاءَ بِالصَّلَاةِ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَاجِبْ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০৬৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক অন্ধ ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার এমন কোন লোক নেই যে আমাকে মসজিদে আনা-নেয়া করতে পারে। কাজেই সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অনুমতি চাইল যাতে সে মসজিদে না এসে ঘরেই নামায পড়তে পারে। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। যখন লোকটি চলে যাচ্ছিল, তখন তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি আযান শুনতে পাও? সে বলল, হাঁ। তিনি বললেন: তাহলে তুমি সাড়া দাও (জামা’আতের সাথে নামায পড়ার জন্য মসজিদে চলে এসো)।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٠٦٧ – وَعَنْ عَبْدِ اللهِ وَقِيلَ عَمْرُو بْنِ قَيْسِ الْمَعْرُوفِ بِابْنِ أُمِّ مَكْتُومِ الْمُؤَذِّنِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْمَدِينَةَ كَثِيرَةُ الْهَوَامِ وَالسَّبَاعِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَسْمَعُ حَى عَلَى الصَّلَاةِ حَيَّ

عَلَى الْفَلَاحِ فَحَيْهَلا – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادٍ حَسَنٍ وَمَعْنَى حَيْهَلاً تَعَالَ.

১০৬৭। আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। এ আবদুল্লাহ হচ্ছেন আমর ইবনে কায়েস, সাধারণত ইবনে উম্মে মাকতুম আল-মুয়াযযিন নামে পরিচিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! মদীনায় বিষাক্ত প্রাণী ও হিংস্র পশুর যথেষ্ট উৎপাত দেখা যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যদি তুমি হাইয়া ‘আলাস সালাহ, হাইয়া ‘আলাল ফালাহ (নামাযের দিকে ছুটে এসো, কল্যাণের দিকে ছুটে এসো) শুনতে পাও তাহলে নামাযের জন্য চলে এসো।
ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন। আর “হাইয়াহু’লান” অর্থ চলে এসো।

١٠٦٨ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَمْرَ بِحَطْبٍ فَيُحْتَطَبَ ثُمَّ أَمْرَ بِالصَّلاةِ فَيُؤَذَنَ لَهَا ثُمَّ أَمْرَ رَجُلاً فَيَوْمُ النَّاسَ ثُمَّ أَخَالِفَ إِلَى رِجَالٍ فَأُحَرِّقَ

عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০৬৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার প্রাণ যাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে তাঁর শপথ! অবশ্যি আমি সংকল্প করেছি, আমি কাঠ সংগ্রহ করার নির্দেশ দেব, তারপর নামাযের হুকুম দেব এবং এজন্য আযান দেয়া হবে, তারপর আমি এক ব্যক্তিকে হুকুম করব সে লোকদের নামায পড়াবে। এরপর আমি সেই লোকদের দিকে যাব (যারা নামাযের জামা’আতে হাযির হয়নি) এবং তাদেরকেসহ তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেব।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٠٦٩ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللَّهَ تَعَالَى غَدًا مُسْلِمًا فَلْيُحَافِظُ عَلَى هَؤُلاءِ الصَّلَوَاتِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ فَإِنَّ اللَّهَ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُنَنَ الْهُدَى وَأَنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى

وَلَوْ أَنَّكُمْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلِّى هذا الْمُتَخَلِفُ فِي بَيْتِهِ لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلَّا مَنَافِقٌ مَعْلُوْمُ النِّفَاقِ وَلَقَدْ كَانَ الرَّجُلُ يُؤْتَى بِهِ يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى

يُقَامَ فِي الصَّفِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ ، وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَّمَنَا سُنَنَ الْهُدَى وَإِنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى الصَّلاةَ فِي الْمَسْجِدِ الَّذِي يُؤَذِّنُ فِيهِ.

১০৬৯। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কাল (কিয়ামাতের দিন) আল্লাহর সাথে মুসলিম হিসেবে সাক্ষাত করতে ভালবাসে তার এই নামাযগুলোর প্রতি অতীব গুরুত্ব দেয়া কর্তব্য, যেগুলোর জন্য আযান দেয়া হয়। কারণ আল্লাহ তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য কিছু হিদায়াতের বিধান নির্ধারণ করে দিয়েছেন। নামায এই হিদায়াতের বিধানের অন্তর্ভুক্ত। কাজেই যদি তোমরা নিজেদের ঘরেই নামায পড়তে থাক, যেমন এই সব ব্যক্তি জামা’আত ছেড়ে দিয়ে নিজেদের ঘরে নামায পড়ে, তাহলে তোমরা তোমাদের নবীর বিধান ত্যাগ করলে। আর তোমাদের নবীর বিধান ত্যাগ করে থাকলে তোমরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়ে গেলে। আর আমরা তো আমাদের লোকদের এমন অবস্থায় দেখেছি যে, তাদের মধ্যে একমাত্র পরিচিত মুনাফিক ছাড়া আর কেউ জামা’আত ত্যাগ করত না। আর কোন কোন লোক তো এমনও আছে যে, দু’জন লোকের সহায়তায় তাকে আনা হত এবং নামাযের কাতারের মধ্যে দাঁড় করিয়ে দেয়া হত।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছে: অবশ্যি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের হিদায়াতের বিধান শিখিয়েছেন এবং এই হিদায়াতের অন্যতম বিধান হচ্ছে মসজিদে যেখানে আযান দেয়া হয় সেখানে গিয়ে (জামা’আতে) নামায পড়া।

۱۰۷۰- وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ ثَلَاثَةٍ فِي قَرْيَةٍ وَلا بَدُو لَا تُقَامُ فِيهِمُ الصَّلَاةُ إِلَّا قَدِ اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ فَعَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ فَإِنَّمَا يَأْكُلُ الذِّئْبُ مِنَ

الْغَنَمِ القاصية – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ حَسَن .

১০৭০। আবুদ্ দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে গ্রামে বা জনবসতিতে তিনজন লোকও অবস্থান করে, অথচ তারা জামা’আত কায়েম করে নামায পড়ে না, তাদের উপর শয়তান সাওয়ার হয়ে যায়। কাজেই জামা’আতে নামায পড়া তোমাদের জন্য অপরিহার্য। কারণ দলছুট বকরীকেই বাঘে ধরে খায় [ জামা’আত সুন্নাত না ওয়াজিব, না ফরয- এ ব্যাপারে মুজতাহিদ ও মুহাককিক আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। অনেকের মতে জামা’আতে হাযির হওয়া ফরযে আইন। আযান শোনার পর যদি কেউ জামা’আতে হাযির না হয় তাহলে তার নামায হবে না। ইমাম শাফিঈ’ (র)-র মতে জামা’আতের সাথে নামায পড়া ফরযে কিফায়া। ইমাম আবু হানীফা (রা) একে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা গণ্য করেছেন। তবে মুহাক্কিক হানাফী আলিম শায়খ ইবনে হুমাম উল্লেখ করেছেন, অধিকাংশ হাদীসে এ ব্যাপারে যে তাকিদ ও অত্যধিক জোর দেয়া হয়েছে তা এর ওয়াজিব হওয়াকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। কিন্তু যারা সুন্নাত বলেছেন তারা মূলত সুন্নাতের মাধ্যমে এর প্রতিষ্ঠার কারণে একে সুন্নাত বলেছেন। আল্লাহ-ই এ ব্যাপারে ভাল জানেন ] ।

ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১৩ – বিশেষ করে ফজর ও ইশার জামা’আতে হাযির হতে উৎসাহদান

۱۰۷۱ – عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَن صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا قَامَ نِصْفَ اللَّيْلِ وَمَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا صَلَّى اللَّيْلَ كُلَّهُ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَفِي رِوَايَةِ

التَّرْمِذِي عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَن شَهِدَ الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ لَهُ قِيامُ نِصْفِ لَيْلَةٍ وَمَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ وَالْفَجْرَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ لَهُ كَقِيَامٍ لَيْلَةٍ قَالَ التَّرْمِذِى

حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১০৭১। উসমান ইবনে আফফান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি ইশার নামায জামা’আতের সাথে পড়ল সে যেন অর্ধরাত অবধি নামায পড়লো। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামা’আতের সাথে পড়ল সে যেন সারা রাত নামায পড়লো।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী উসমান (রা) থেকে অনু একটি রিওয়ায়াত উদ্ধৃত করেছেন। তাতে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি ইশার জামা’আতে উপস্থিত হল সে অর্ধরাত অবধি নামায পড়ার সাওয়াব পেল। আর যে ব্যক্তি ইশার ও ফজরের নামায জামা’আতের সাথে পড়লো সে সারারাত ধরে নামায পড়ার সাওয়াব পেল।

ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন।

۱۰۷۲- وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي الْعَتَمَةِ وَالصُّبْحِ لَا تَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَقَدْ سبق بطوله.

১০৭২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যদি তারা ইশা ও ফজরের নামাযের মধ্যে কী আছে তা জানতে পারত তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এ দু’টি নামাযে (জামা’আতে) শামিল হত।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর এ সম্পর্কিত বিস্তারিত হাদীস ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে [ এ প্রসঙ্গে ১০৩৩ নম্বর হাদীস দেখুন ] ।

۱۰۷۳ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ صَلَاةٌ أَثْقَلَ عَلَى الْمُنَافِقِينَ مِنْ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَالْعِشَاءِ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَآتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০৭৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ইশার ও ফজরের নামাযের মত আর কোন নামায মুনাফিকদের কাছে বেশি ভারী মনে হয় না। তবে যদি তারা জানতো এই দুই নামাযের মধ্যে কী আছে তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে শামিল হত।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১৪ – ফরয নামাযসমূহের হিফাযাত করার নির্দেশ এবং এগুলি পরিত্যাগ করার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ভীতি প্রদর্শন

قَالَ اللهُ تَعَالَى : حَافِظُوا عَلَى الصلوات والصلاة الوسطى .

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“তোমরা নামাযসমূহ হিফাযাত কর, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের।” (সূরা আল বাকারা: ২৩৮)

وَقَالَ تَعَالَى : فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ فَخَلُوا سَبِيلَهُمْ .

“আর যদি তারা তাওবা করে, নামায কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে তাহলে তোমরা তাদের পথ ছেড়ে দাও।” (সূরা আত্ তাওবা: ৫)

١٠٧٤ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ الصَّلاةُ عَلَى وَقْتِهَا قُلْتُ ثُمَّ أَيُّ قَالَ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ قُلْتُ ثُمَّ أَيُّ قَالَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০৭৪। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, কোন কাজটি সবচেয়ে ভাল? তিনি জবাব দিলেন: যথাসময়ে নামায পড়া। জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? জবাব দিলেন:

আল্লাহর পথে জিহাদ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٠٧٥ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَأَبْنَاءِ الزَّكَاةِ وَحَجَ الْبَيْتِ وَصَوْمِ رَمَضَانَ مُتَّفَقٌ

عَلَيْهِ.

১০৭৫। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে পাঁচটি বিষয়ের উপর: (১) সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, (২) নামায কায়েম করা, (৩) যাকাত আদায় করা, (৪) বাইতুল্লাহর হজ্জ করা এবং (৫) রমযানের রোযা রাখা।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٠٧٦ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمِرْتُ أَنْ أَقَاتِلَ النَّاسِ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الاثاةَ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَانَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّ

الْإِسْلام وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০৭৬। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমাকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর যে পর্যন্ত না তারা নামায কায়েম করে ও যাকাত দেয়। তারা এগুলো করলে, তাদের রক্ত ও সম্পদ আমার হাত থেকে নিরাপদ করে নিল। তবে ইসলামের হক তাদের উপর থাকবে [ অর্থাৎ ইসলামী আইন লংঘন করে কোন অপরাধ করলে এজন্য তাদের প্রাণদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড ভোগ করতে হবে। যেমন কাউকে হত্যা করলে প্রাণের বদলে প্রাণ দিতে হবে। যিনা করলে বেত্রাঘাত অথবা ‘সঙ্গেসার’ অর্থাৎ পাথরের আঘাতে জীবন দিতে হবে। মুরতাদ হয়ে গেলে মৃত্যুদণ্ড ভোগ করতে হবে। চুরি করলে হাত কাটার শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ শাস্তিগুলো ইসলাম তার উপর আরোপ করেছে ] । আর তাদের হিসাবের দায়িত্ব ন্যস্ত হবে আল্লাহর উপর।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۰۷۷ – وَعَنْ مُعَادٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ إِنَّكَ تَأْتِي قَوْمًا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَإِنْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ فَأَعْلِمُهُمْ أَنَّ اللَّهَ

تَعَالَى افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللهَ تَعَالَى افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فَقُرَائِهِمْ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذلِكَ فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ وَاتَّقِ دَعْوَةَ

الْمَظْلُومِ فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللهِ حِجَابٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০৭৭। মু’আয (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়ামানে (শাসনকর্তার পদে অধিষ্ঠিত করে) পাঠালেন। তিনি আমাকে বললেন: তুমি আহলে কিতাবদের একটি গোষ্ঠীর কাছে যাচ্ছ। কাজেই তাদেরকে ‘আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল’ এ কথার সাক্ষ্য দেয়ার আহ্বান জানাবে। যদি তারা এ ব্যাপারে অনুগত হয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাদের উপর প্রত্যেক দিবা-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। তারা যদি এর প্রতি অনুগত হয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন। তা গ্রহণ করা হবে তাদের ধনীদের কাছ থেকে এবং বিতরণ করা হবে তাদের অভাবী ও দরিদ্রদের মধ্যে। তারা যদি এর প্রতি অনুগত হয়, তাহলে তাদের ভাল ও উৎকৃষ্ট সম্পদে হাত দেবে না। আর মাযলুমের ফরিয়াদকে ভয় করবে। কারণ তার ও আল্লাহর মধ্যে কোন অন্তরাল নেই।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۰۷۸ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنْ بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلَاةِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০৭৮। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ মানুষের এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামায ত্যাগ করা।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۰۷۹ – وَعَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُم الصَّلاةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ – رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٍ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১০৭৯। বুরাইদা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের ও তাদের (মুনাফিক) মধ্যে যে চুক্তি রয়েছে তা হচ্ছে নামায। কাজেই যে ব্যক্তি নামায ত্যাগ করল সে কুফরি অবলম্বন করল।

۱۰۸۰ – وَعَنْ شَقِيقِ بْنِ عَبْدِ اللهِ التَّابِعِيِّ الْمُتَّفَقِ عَلَى جَلَالَتِهِ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَرَوْنَ شَيْئًا مِنَ الْأَعْمَالِ تَرْكُهُ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلَاةِ – رَوَاهُ التَّرْمِذِي فِي كِتَابِ الْإِيْمَانِ بِاسْنَادِ صَحِيح .

১০৮০। শাকীক ইবনে আবদুল্লাহ তাবিঈ রাহেমাহুল্লাহ, যাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে উলামায়ে কিরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন, বলেছেন: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ নামায ছাড়া তাদের আমলের মধ্য থেকে কিছু ত্যাগ করা কুফরি মনে করতেন না।

ইমাম তিরমিযী কিতাবুল ঈমানে সহীহ সনদ সহকারে হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

ضى اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ ۱۰۸۱ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضى وَسَلَّمَ إِنْ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عَمَلِهِ صَلَاتُهُ فَإِنْ صَلَحَتْ فَقَدْ أفْلَحَ وَانْجَحَ وَإِنْ فَسَدَتْ فَقَدْ خَابَ وَخَسِرَ فَإِنِ انْتَقَصَ

مِنْ فَرِيضَتِهِ شَيْئًا قَالَ الرَّبِّ عَزَّ وَجَلَّ أَنْظُرُوا هَلْ لِعَبْدِي مِنْ تَطوع فَيُكَمِّلُ مِنْهَا مَا انْتَقَصَ مِنَ الْفَرِيضَةِ ثُمَّ يَكُونُ سَائِرُ أَعْمَالِهِ عَلَى هَذَا رَوَاهُ التَّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১০৮১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কিয়ামাতের দিন বান্দার আমলের মধ্য থেকে যে আমলটির হিসাব সর্বপ্রথম গ্রহণ করা হবে সেটি হল নামায। যদি এ হিসাবটি নির্ভুল পাওয়া যায় তাহলে সে সফলকাম হবে ও নিজের লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। আর যদি এ হিসাবটিতে গলদ দেখা যায় তাহলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও ধ্বংস হয়ে যাবে। যদি তার ফরযগুলির মধ্যে কোন কমতি থাকে তাহলে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলবেন, দেখ আমার বান্দার কিছু নফলও আছে কিনা, তার সাহায্যে তার ফরযগুলির কমতি পূরণ করে নাও। তারপর সমস্ত আমলের হিসাব এভাবেই করা হবে।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন এবং এটিকে হাসান হাদীস বলেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১৫ – প্রথম কাতারের ফযীলাত এবং আগের কাতারগুলি পুরা করা, সেগুলি সমান করা ও দু’জনের মাঝখানে ফাঁক না রেখে মিলে দাঁড়ানো

۱۰۸۲ – عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِلا تَصُفُونَ كَمَا تَصُفُ الْمَلَائِكَةُ عِنْدَ رَبِّهَا فَقُلْنَا يَا رَسُولَ الله وَكَيْفَ تَصُفُ الْمَلَائِكَةُ عِنْدَ رَبِّهَا قَالَ يُتِمُّونَ الصُّفُوفَ الْأَوَّلَ

وَيَتَرَاصُونَ فِي الصف رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০৮২। জাবির ইবনে সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এসে বললেন: তোমরা কি তেমনিভাবে সারিবদ্ধ হবে না যেমন ফেরেশতারা তাদের রবের সামনে সারিবদ্ধ হয়? আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! ফেরেশতারা তাদের রবের সামনে কিভাবে সারিবদ্ধ হয়? তিনি বললেন : তারা সামনের কাতারগুলো পুরো করে এবং দু’জনের মধ্যে কোন প্রকার ফাঁক না রেখে কাতারে ঘেঁষে ঘেঁষে দাঁড়ায়।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۰۸۳ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِ الْأَوَّلِ ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلَّا أَن يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لأَسْتَهِمُوا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০৮৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: লোকেরা যদি জানত আযান ও প্রথম সারিতে দাঁড়ানোর মধ্যে কী আছে (অর্থাৎ কী পরিমাণ সাওয়াব আছে) এবং লটারী ছাড়া তা অর্জন করার কোন পথ না থাকলে তারা অবশ্যি লটারী করত।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٠٨٤ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أوَلَهَا وَشَرُّهَا أَخِرُهَا وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ أَخِرُهَا وَشَرُّهَا أَولُهَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০৮৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পুরুষদের কাতারগুলির মধ্যে প্রথম কাতার হচ্ছে সর্বোত্তম এবং শেষ কাতার হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। আর মেয়েদের কাতারগুলির মধ্যে শেষ কাতার হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম এবং প্রথম কাতার হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٠٨٥ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى فِي أَصْحَابِهِ تَأْخُرًا فَقَالَ لَهُمْ تَقَدِّمُوا فَآتَمُوْا بِي وَلْيَأْتُمْ بِكُمْ مَنْ بَعْدَكُمْ لَا يَزَالُ قَوْمٌ يَتَأَخِّرُونَ حَتَّى يُؤَخِّرَهُمُ اللَّهُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০৮৫। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে পেছনের কাতারে বসে যেতে দেখলেন। তিনি তাদেরকে বললেন : সামনে এগিয়ে এসো এবং আমার অনুসরণ কর। তোমাদের পেছনে যারা আছে তারা যেন তোমাদের অনুসরণ করে। কোন জাতি পেছনে থাকতে থাকতে এমন অবস্থায় পৌঁছে যায় যে, অবশেষে আল্লাহ তাদেরকে পেছনে ফেলে দেন।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٠٨٦ – وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْسَحُ مَنَاكِبُنَا فِي الصَّلاةِ وَيَقُولُ اسْتَوُوا وَلَا تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ لبَلَنِي مِنْكُمْ أُولُوا الْأَحْلامِ وَالنَّهَى ثُمَّ الَّذِينَ يَكُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ

يَلُوْنَهُمْ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০৮৬। আবু মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে আমাদের কাঁধে হাত দিয়ে বলতেন: সমান হয়ে দাঁড়াও, আগে-পিছে হয়ে যেও না, তাহলে তোমাদের মনের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি হবে। তোমাদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান ও বিচক্ষর তারাই যেন আমার নিকটবর্তী (প্রথম কাতারে) থাকে। তারপর থাকবে তারা যারা বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার দিক দিয়ে তাদের কাছাকাছি, তারপর তারা যারা তাদের কাছাকাছি।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۰۸۷ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سووا صُفُوفَكُمْ فَإِنْ تَسْوِيَةَ الصَّفِ مِنْ تَمَامِ الصَّلَاةِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةِ الْبُخَارِيِّ فَإِنْ تَسْوِيَةَ الصُّفُوفِ مِنْ إِقَامَةِ الصَّلاةِ .

১০৮৭। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কাতারগুলি সোজা ও সমান কর। কারণ কাতার সোজা ও সমান করা নামাযকে পূর্ণতা দান করার অন্তর্ভুক্ত।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। তবে ইমাম বুখারীর রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: কারণ কাতারগুলি সোজা ও সমান করা নামায কায়েম করার অন্তর্ভুক্ত।

۱۰۸۸ – وَعَنْهُ قَالَ أَقيمت الصَّلاةُ فَأَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِوَجْهِهِ فَقَالَ أَقِيمُوا صُفُونَكُمْ وَتَرَاصُوا فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ بِلَفْظِهِ وَمُسْلِمٌ بِمَعْنَاهُ ، وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِي وَكَانَ أَحَدُنَا

يُلْزِقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ صَاحِبِهِ وَقَدَمَهُ بِقَدَمِهِ.

১০৮৮। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামায দাঁড়িয়ে গিয়েছিল (অর্থাৎ নামাযের ইকামাত শেষ হয়ে গিয়েছিল), এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেনঃ তোমাদের কাতারগুলিকে সঠিক ও সোজাভাবে কায়েম কর এবং ঘেঁষে ঘেঁষে দাঁড়াও। কারণ আমি তোমাদেরকে আমার পেছন থেকেও দেখি।

ইমাম বুখারী এই শব্দাবলী সহকারে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন এবং ইমাম মুসলিম অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারীর আর এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছেঃ (এরপর থেকে) আমাদের প্রত্যেকে তার পাশের জনের কাঁধের সাথে কাঁধ ও পায়ের সাথে পা মিলিয়ে নিত।

۱۰۸۹ – وَعَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَتُسَوَّنُ صُفُوقَكُم أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وَجُوهِكُمْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

كَانَ يُسَوِّى صُفُوفَنَا حَتَّى كَانَّمَا يُسَوِّى بِهَا الْقِدَاحَ حَتَّى رَأَى أَنَّا قَدْ عَقَلْنَا عَنْهُ ثُمَّ خَرَجَ يَوْمًا فَقَامَ حَتَّى كَادَ يُكَبِّرُ فَرَأَى رَجُلاً بَادِيًا صَدْرَهُ مِنَ الصَّفِ فَقَالَ عِبَادَ اللَّهِ لتُسَونَ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ

১০৮৯। নু’মান ইবনে বাশীর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি তোমাদের কাতারগুলো অবশ্যই সোজা করবে।
অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের চেহারাগুলোর মধ্যে বিভিন্নতা সৃষ্টি করে দেবেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। আর ইমাম মুসলিমের এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাতারগুলো এভাবে সোজা করতেন যেন তিনি তীর সোজা করছেন। অবশেষে তিনি দেখলেন, আমরা একাজটি শিখে গিয়েছি। তারপর একদিন তিনি বাইরে বের হয়ে এসে দাঁড়ালেন, এমনকি তিনি তাকবীর বলতে যাচ্ছিলেন এমন সময় এক ব্যক্তিকে দেখলেন তার বুক কাতারের বাইরে বের হয়ে আছে। তিনি বললেন: আল্লাহর বান্দারা। কাতার সোজা কর, অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের চেহারাগুলোর মধ্যে বিভিন্নতা সৃষ্টি করে দেবেন।

١٠٩٠ – وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَخَلَّلُ الصَّفْ مِنْ نَاحِيَةِ إِلى نَاحِيَةٍ يَمْسَحُ صُدُورَنَا وَمَنَاكِبْنَا وَيَقُولُ لَا تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ وَكَانَ يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ

عَلَى الصفوف الأول – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ حَسَن .

১০৯০। বারাআ ইবনে ‘আযিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাতারের মাঝখান দিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতেন এবং আমাদের বুকে ও কাঁধে হাত লাগাতেন ও বলতেন: আগে-পিছে হয়ে যেও না, তাহলে তোমাদের মনও বিভিন্ন হয়ে যাবে। তিনি আরো বলতেন: অবশ্যি আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা প্রথম কাতারগুলো উপর রহমত বর্ষণ করেন।

ইমাম আবু দাউদ হাসান সনদে হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

۱۰۹۱ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَقِيمُوا الصَّفُوفَ وَحَادُوا بَيْنَ الْمَنَاكِبِ وَسُدُّوا الْخَلَلَ وَلِيِّنُوا بِأَيْدِي إِخْوَانِكُمْ وَلَا تَذَرُوا فُرُجَاتٍ لِلشَّيْطَانِ وَمَنْ وَصَلَ صَفًّا وَصَلَهُ اللَّهُ وَمَنْ قَطَعَ

صَفًّا قَطَعَهُ اللهُ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ صَحِيح

১০৯১। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নামাযের জন্য সারিবদ্ধ হও, কাঁধ মিলাও, ফাঁক বন্ধ কর, নিজের ভাইদের হাতের প্রতি কোমল হও এবং শয়তানের জন্য ফাঁক রেখো না। যে ব্যক্তি কাতার মিলায় আল্লাহ তাকে (নিজের রহমতের সাথে) মিলাবেন। আর যে ব্যক্তি কাতার কাটে আল্লাহ তাকে (নিজের রহমত থেকে) কেটে দেবেন (বঞ্চিত করবেন।)

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

۱۰۹۲ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رصوا صُفُوفَكُم وَقَارِبُوا بَيْنَهَا وَحَادُوا بِالْأَعْنَاقِ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لَأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِ كَانَّهَا الْحَذَفُ حَدِيثٌ صَحِيحٌ رَوَاهُ

أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ عَلَى شَرْطٍ مُسْلِمِ . الْحَذَفُ وَهِيَ غَنَمَ سُودٌ صِغَارٌ تَكُونُ بِالْيَمَنِ.

১০৯২। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কাতারগুলো মিলাও এবং পরস্পর নিকটবর্তী হয়ে যাও, আর কাঁধের সাথে কাঁধ মিলাও। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ। অবশ্যি আমি শয়তানকে কাতারের ফাঁকগুলোতে এমনভাবে ঢুকতে দেখি যেমন কালো ছোট ছাগল ঢুকে।

এটি সহীহ হাদীস। ইমাম আবু দাউদ ইমাম মুসলিমের শর্তে অর্থাৎ ইমাম মুসলিমের হাদীস যাচাইয়ের মানদণ্ড অনুযায়ী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। হাযাফ অর্থ কালো ছোট ছাগল, যা ইয়ামানে পাওয়া যায়।

۱۰۹۳ – وَعَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَتِمُوا الصَّفُ الْمُقَدِّمَ ثمَّ الَّذِي يَلِيْهِ فَمَا كَانَ مِنْ نَقْصُ فَلْيَكُنْ فِي الصَّفِ الْمُؤَخِّرِ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ باشتاد حسن

১০৯৩। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রথম কাতার পূর্ণ কর, তারপর তার নিকটবর্তী কাতার। কোন কমতি থাকলে সেটা থাকবে শেষ কাতারে।
ইমাম আবু দাউদ হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

رضى اللهُ عَنْهُ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ١٠٩٤ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى مَيَامِنِ الصُّفُوفِ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ على شرط مُسلِم وَفِيْهِ رَجُلٌ مُخْتَلَفَ فِي تَوْثِيقِهِ.

১০৯৪। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: অবশ্যি আল্লাহ ডানের কাতারগুলোর উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতারা দু’আ করতে থাকেন।

ইমাম আবু দাউদ ইমাম মুসলিমের মানের সনদে হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। তবে এর সনদে এমন একজন রাবী আছেন যার নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের মতবিরোধ রয়েছে।

١٠٩٥ – وَعَنِ الْبَرَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْبَبْنَا أَنْ تَكُونَ عَنْ يَمِينِهِ يُقْبِلُ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ رَبِّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ أَوْ تَجْمَعُ عِبَادَكَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১০৯৫। বারাআ ইবনে ‘আযিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে নামায পড়ার সময় আমরা তাঁর ডান দিকে দাঁড়াতে ভালো-বাসতাম। তিনি (নামায শেষে) আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন। অতঃপর আমি তাঁকে বলতে শুনলামঃ হে আমার প্রভু! তোমার বান্দাদেরকে যেদিন পুনর্বার উঠাবে বা একত্রিত করবে সেদিন তোমার আযাব থেকে আমাকে বাঁচাও।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٠٩٦ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَطُوا الْإِمَامَ وَسُدُّوا الْخَلَلَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ.

১০৯৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ইমামকে মধ্যখানে দাঁড় করাও এবং কাতারের মাঝখানের ফাঁক বন্ধ করো [ কাতার সোজা করা, সমান করা, কাতারের মাঝখানে কোন ফাঁক না রাখা, গা ঘেঁষে ঘেঁষে দাঁড়ানো, কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে কাতার সোজা করা এবং এই ধরনের আরো বহু তাকিদ হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে রাসূলে করীম (সা)-এর কথা ও কাজের মাধ্যমে। লাইনের অনৈক্যের ফলশ্রুতি হবে দিলের অনৈক্য এ ধরনের কথাও হাদীসে বলা হয়েছে। এ থেকে রক্ত মাংসের স্কুল দেহের সাথে সূক্ষ্ম অনুভূতি সম্পন্ন দিলের সম্পর্ক যে অতি গভীর তাই ব্যক্ত করা হয়েছে। শরীরের প্রভাব মনের উপর পড়া অতি স্বাভাবিক ব্যাপার। তাই কাতারে মুমিনের শারীরিক দূরত্ব তাদের হৃদয়ের দূরত্বের কারণ হয়। আবার ফাঁক দূর করলে তাদের শারীরিক একাত্বতা হৃদয়ের মধ্যেও একাত্বতা সৃষ্টি করে। তাই এই ফাঁককে শয়তানের কুমন্ত্রণা বলা হয়েছে ] ।

ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১৬ – ফরয নামাযের সাথে সাথে সুন্নাতে মুআক্কাদা নামায পড়ার ফযীলাত এবং এর পরিপূর্ণ, মধ্যবর্তী সর্বনিম্ন ও পরিমাণ

١٠٩٧- عَنْ أَمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَمْ حَبِيبَةَ رَمْلَةَ بِنْتِ سُفْيَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّى لِلَّهِ تَعَالَى كُلِّ يَوْمٍ ثِنْتَى عَشَرَةَ رَكْعَةً تَطُوعًا غَيْرَ الْفَرِيضَةِ إِلَّا بَنَى اللَّهُ

لَهُ بَيْتًا فِي الجَنَّةِ أَوْ إِلَّا بُنِي لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

১০৯৭। উম্মুল মুমিনীন উম্মু হাবীবা রামলা বিনতে আবু সুফিয়ান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ কোন মুসলিম যে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ফরয নামাযগুলো ছাড়া বার রাক’আত নফল [ নফল বলতে এখানে ফিরে পরিভাষায় সুন্নাতকে বুঝানো হয়েছে। আসলে হাদীসের পরিভাষায় ফরয ও ওয়াজিব ছাড়া বাকি সব নামাযকে তাতাওউ’ বা নফল বলা হয়। ফকীহগণ পরবর্তীকালে এই তাতাওউগুলিকে গুরুত্ব ও মর্যাদা অনুসারে সুন্নাতে মুআক্কাদা, সুন্নাতে গায়ের মুআক্কাদা, মুস্তাহাব ইত্যাদি ভাগে বিভক্ত করেছেন ] নামায পড়ে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করেন অথবা (হাদীসের শেষের শব্দগুলো এভাবে বলা হয়েছে) তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করা হয়।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۰۹۸ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظَّهْرِ وَرَكَعَتَيْنِ بَعْدَهَا وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْجُمُعَةِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০৯৮। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নামায পড়েছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যুহরের (ফরযের) আগে দুই রাক্’আত ও পরে দুই রাক’আত, জুমুআর (ফরযের) পরে দুই রাক’আত, মাগরিবের (ফরযের) পরে দুই রাক’আত এবং ইশার (ফরযের) পরে দুই রাত [ যুহরের পূর্বের এ দুই রাক’আত সুন্নাত যুহরের পূর্বের চার রাক’আত সুন্নাতের মোটেই বিরোধী নয়। কারণ উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মু হাবীবা (রা) বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের পূর্বের চার রাক’আত সুন্নাত কখনো ছাড়েননি। মুল্লা আলী কারী লিখেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমারের হাদীসকে ইমাম শাফিঈ (র) দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন কিন্তু অন্যদিকে হযরত আলী (রা), হযরত আয়িশা সিদ্দীকা (রা) ও হযরত উম্মু হাবীবা (রা) বর্ণিত হাদীস থেকে চার রাক’আতের প্রমাণ পাওয়া যায়। ইমাম তিরমিযী এ ব্যাপারে অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, অধিকাংশ সাহাবী যুহরের পূর্বের এই চার রাক’আত নামায পড়তেন। সুফিয়ান সাওরী, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক ও ইসহাক ইবনে রাহ্ওয়ায়হ একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং ইমাম শাফিঈরও যুহরের চার রাক’আত সুন্নাতের পক্ষে একটি বক্তব্য পাওয়া যায়। আর এখানে জুমু’আর নামাযের পর দুই রাক্’আত সুন্নাতের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অন্য হাদীস থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু’আর পর চার রাক’আত সুন্নাত পড়তেন তার প্রমাণ পাওয়া যায়।
যুহরের পূর্বের এ দুই রাক’আত ও চার রাক’আতের হাদীসের মধ্যে একটি সামঞ্জস্য বিধান করা যেতে পারে। আবদুল্লাহ ইবেন উমার (রা) দুই রাক’আতের এবং আয়িশা (রা) ও অপর কয়েকজন সাহাবী চার রাক’আতের রিওয়ায়াত এনেছেন। আসলে এ থেকে এই কথাও বুঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের পূর্বে ছয় রাক’আত সুন্নাত পড়তেন, চার রাক্’আত পড়তেন ঘরে। যার ফলে তাঁর ঘরের লোকেরাই এই চার রাক’আতের রিওয়ায়াত করেছেন। আর ঘর থেকে মসজিদে এসে তিনি আবার দুই রাক’আত পড়তেন। এই ছয় রাক’আতের মধ্যে ‘তাতবীক’ (সামঞ্জস্য বিধান) করতে গিয়ে মুহাদ্দিসগণ কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়েছেন। এক দলের মতে, ঘরের চার রাআত তিনি পড়তেন দুপুরের পর সূর্য ঢলে পড়ার সময় আকাশের দরজা খুলে যাওয়ার কারণে। যুহরের আসল দুই রাক’আত সুন্নাত পড়তেন মসজিদে এসে। অন্য দলের মতে, ঘরের চার রাক’আত ছিল যুহরের আসল সুন্নাত এবং মসজিদে তিনি যে দুই রাক’আত পড়তেন এ দুই রাক’আত আসলে ছিল তাহিয়্যাতুল মসজিদ হিসেবে। তবে এই চার রাক’আত আসল সুন্নাত হবার ব্যাখ্যাটি যথেষ্ট যুক্তিগ্রাহ্য। আর চার রাক’আত দুই রাক্’আতের চেয়ে অবশ্যি ভাল এতে সন্দেহ নেই। আর একদল মুহাদ্দিসের মতে এই ছয় রাক্’আতই যুহরের সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো চার রাক’আত পড়তেন কখনো বা পড়তেন দুই রাক’আত, অবশ্য আল্লাহ ভাল জানেন ] ।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۰۹۹ – وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاةَ بَيْنَ كُلِّ آذَانَيْنِ صَلَاةٌ بَيْنَ كُلِّ آذَانَيْنِ صَلَاةٌ قَالَ في الثَّالِثَةِ لِمَنْ شَاءَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ الْمُرَادُ بِالْأَذَانَيْنِ الْأَذَانُ

وَالْإِقَامَةُ.

১০৯৯। আবদুল্লাহ্ ইবনে মুগাফ্ফাল (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রত্যেক দুই আযাদের মধ্যখানে নামায রয়েছে, প্রত্যেক দুই আযানের মধ্যখানে নামায রয়েছে, প্রত্যেক দুই আযানের মধ্যখানে নামায রয়েছে।

তৃতীয় বারে তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি চায় তার জন্য।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। দুই আযানের অর্থ: আযান ও ইকামাত।

অনুচ্ছেদ: ১৭ ফজরের দুই রাক্’আত সুন্নাতের তাকিদ

۱۱۰۰ – عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يَدَعُ أَرْبَعًا قَبْلَ الظَّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১১০০। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো যুহরের পূর্বের চার রাক’আত এবং ফজরের পূর্বের দুই রাক’আত ত্যাগ করেননি।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۱۰۱ – وَعَنْهَا قَالَتْ لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى شَيْءٍ مِنَ النَّوافِلِ أَشَدَّ تَعَاهُدًا مِنْهُ عَلَى رَكْعَتَيْنِ الْفَجْرِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১০১। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নফলগুলোর (অর্থাৎ সুন্নাত ও নফল) মধ্যে ফজরের দুই রাক’আতের (সুন্নাত) চাইতে বেশি আর কোনটার প্রতি খেয়াল রাখতেন না।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۱۰۲ – وَعَنْهَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَفِي رواية لَهُمَا أَحَبُّ إِلَى مِنَ الدُّنْيَا جَمِيعًا.

১১০২। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ফজরের দুই রাক’আত দুনিয়া এবং তার মধ্যকার সবকিছুর চেয়ে ভাল।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ (এ দুই রাক’আত) আমার কাছে সারা দুনিয়ার চাইতে উত্তম।

۱۱۰۳ – وَعَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بِلالِ بْنِ رَبَاحٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مُؤَذِّنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيُؤْذِنَهُ بِصَلَاةِ الْغَدَاةِ فَشَغَلَتْ عَائِشَةُ بِلالَا بِأَمْرِ سَأَلَتْهُ عَنْهُ حَتَّى أَصْبَحَ جِدًا

فَقَامَ بِلَالٌ فَأَدْنَهُ بالصَّلاةِ وَتَابَعَ أَذَانَهُ فَلَمْ يَخْرُجُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا خَرَجَ صَلَّى بِالنَّاسِ فَأَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ شَغَلَتْهُ بِأَمْرٍ سَأَلَتْهُ عَنْهُ حَتَّى أَصْبَحَ جِداً وَأَنَّهُ ابْطأَ عَلَيْهِ بِالْخُرُوجِ فَقَالَ يَعْنِي النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ

عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي كُنْتُ رَكَعْتُ ركْعَتَي الْفَجْرِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ أَصْبَحْتَ جِدَا قَالَ لَوْ أَصْبَحْتُ أَكْثَرَ مِمَّا أصبحتُ لرَكْعَتُهُمَا وَأَحْسَنَتُهُمَا وَاجْمَلْتُهُمَا رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِاسْنَادِ حَسَنٌ.

১১০৩। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুয়াযযিন আবু আবদুল্লাহ বিলাল ইবনে রাবাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে হাযির হলেন তাঁকে ফজরের নামাযের সময় হয়ে গেছে একথা জানানোর জন্য। কিন্তু আয়িশা (রা) একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে বিলাল (রা)-কে আটকে রাখলেন, ফলে বেশ সকাল হয়ে গেল। অতঃপর বিলাল (রা) উঠে তাঁকে নামাযের খবর দিলেন (জামা’আতের জন্য লোকেরা তৈরি হয়েছে)। তারপর আবার খবর দিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সংগে সংগেই) বের হয়ে এলেন না। অবশেষে তিনি বের হয়ে এসে লোকদের নামায পড়ালেন। বিলাল (রা) তাঁকে জানালেন, আয়িশা (রা) একটি ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে তাকে আটকে রাখে, ফলে বেশ সকাল হয়ে গেছে এবং তাঁর বের হয়ে আসতে দেরি হয়ে গেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি ফজরের দুই রাক’আত সুন্নাত পড়ছিলাম। বিলাল (রা) বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল। আপনি অনেক বেশি সকাল করে ফেলেছেন। তিনি বললেন: সকালের আলো যতটা ফুটে উঠেছে তার চেয়েও যদি আরো বেশি ফুটে উঠতো তবুও আমি ঐ দুই রাআত পড়তাম, খুব ভালো করে পড়তাম, খুব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পড়তাম।

ইমাম আবু দাউদ হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১৮ – ফজরের দুই রাক’আত সুন্নাত সংক্ষেপে পড়া, তার কিরাআত ও তার ওয়াক্ত

١١٠٤ – عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ بَيْنَ النِّدَاءِ وَالْإِقَامَةِ مِنْ صَلَاةِ الصُّبْحِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ . وفي روايَةٍ لَهُمَا يُصَلِّى رَكْعَتَى الْفَجْرِ إِذَا سَمِعَ الْآذَانَ فَيُخَفِّفُهُمَا حَتَّى

أَقْوْلَ هَلْ قَرَأُ فِيهِمَا بِأَمِّ الْقُرْآنِ . وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ كَانَ يُصَلِّي رَكْعَتَى الْفَجْرِ إِذَا سَمِعَ الْآذَانَ وَيُخَفِّفُهُمْ وَفِي رِوَايَةٍ إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ .

১১০৪। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযের আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ে সংক্ষেপে দুই রাক’আত নামায পড়তেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের অন্য রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: তিনি ফজরের দুই রাক’আত (সুন্নাত) পড়তেন এতো সংক্ষেপে যে, আমি (মনে মনে) বলতাম, এই দুই রাক’আতে কি তিনি সূরা ফাতিহাও পড়েছেন? [ হযরত আয়িশা (রা)-র বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুই রাআতে সূরা আল ফাতিহা পড়েননি। বরং তার বক্তব্য হচ্ছে, ফরয ছাড়া সুন্নাত ও নফল নামাযগুলোয় তো তিনি দীর্ঘ কিরাআত পড়তেন কিন্তু সেই তুলনায় ফজরের এই দুই রাআতে তাঁর কিরাআত ছিল অতি সংক্ষিপ্ত। ইমাম কুরতুবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি হাদীসটির প্রায় এ ধরনেরই একটি অর্থ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, হযরত আয়িশা (রা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূরা আল ফাতিহা না পড়ার অভিযোগ করেননি, বরং তাঁর সন্দেহ হল, রাসূলুল্লাহ (সা) নফল নামাযগুলোয় দীর্ঘ কিয়াম করেন, সে তুলনায় ফজরের সুন্নাত দুই রাক’আত তার কাছে এতো হাল্ক্কা মনে হয়েছে যেন তাতে তিনি কোন কিয়ামই করেননি।
রাসূলের এই সংক্ষেপে পড়াটাকে আয়িশা (রা) এভাবে ব্যক্ত করেছেন ] । আর মুসলিমের অন্য রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: তিনি আযান শোনার পর সংক্ষেপে ফজরের দুই রাক’আত (সুন্নাত) পড়তেন। অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: যখন প্রভাতের উদয় [ ফজরের উদয় বা প্রভাতের উদয় কথাটির অর্থ সূর্যোদয় নয়, বরং এর পূর্ববর্তী অবস্থা ] হত।

١١٠٥ – وَعَنْ حَفْصَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَذْنَ الْمُؤَذِّنُ لِلصُّبْحِ وَبَدَأُ الصُّبْحُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ . وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا طَلَعَ

صَلَّى الْفَجْرَ لَا يُصَلَّى الأَ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ .

১১০৫। হাফসা (রা) থেকে বর্ণিত। মুয়াযযিনের আযান দেওয়ার পর যখন সকাল হয়ে যেত তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দুই রাক’আত (সুন্নাত) সংক্ষিপ্ত করে পড়তেন।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম মুসলিমের অন্য রিওয়ায়াতে বলা হয়েছেঃ ফজরের উদয়ের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই রাক’আত হাল্কা সুন্নাত ছাড়া আর কিছুই পড়তেন না।

١١٠٦ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّى مِنَ اللَّيْلِ مَثْنَى وَيُوتِرُ بِرَكْعَةٍ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ وَيُصَلِّى الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ صلاةِ الْغَدَاةِ وَكَانَ الْأَذَانَ بِأَذْنَيْهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .

১১০৬। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের নামায দুই রাক’আত করে পড়তেন। আর শেষ রাতে এক রাক’আত জুড়ে দিয়ে বিতর বানিয়ে নিতেন। সকালের নামাযের আগে তিনি দুই রাক’আত পড়তেন, মনে হত যেন ইকামাত বুঝি তাঁর কানে গুঞ্জরিত হচ্ছে [ অর্থাৎ ফজরের দুই রাক’আত সুন্নাত পড়ার ব্যাপারে তিনি এতই দ্রুততা অবলম্বন করতেন যে মনে হত এই বুঝি ইকামাত হয়ে যাবে, এই ভয়ে যেন দ্রুত নামায পড়ে নিলেন। তবে এ সুন্নাত ঘরে পড়া ভাল, যেমন বিভিন্ন রিওয়ায়াত থেকে প্রমাণিত হয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নামাযটি ঘরে পড়তেন, প্রথম ওয়াক্তে পড়তেন এবং সংক্ষেপে অর্থাৎ স্বল্প সময়ে পড়তেন ] ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

۱۱۰۷ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْرَأُ فِي رَكْعَتَيْنِ الْفَجْرِ فِي الْأَوْلَى مِنْهُمَا قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ الَيْنَا وَفِي الْآخِرَةِ مِنْهُمَا أَمَنَّا بِالله وَاشْهَدُ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ . وَفِي رِوَايَةٍ

فِي الْآخِرَةِ الَّتِي فِي آلِ عِمْرَانَ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ ۖ رَوَاهُمَا مُسْلِمٌ.

১১০৭। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কখনো কখনো) ফজরের দুই রাক’আত সুন্নাতের প্রথম রাক’আতে পড়তেন “কূল্ আমান্না বিল্লাহি ওয়ামা উনিযালা ইলাইনা” আয়াতটি শেষ পর্যন্ত (সূরা আল বাকারার ১৩৬ নম্বর আয়াত), আর শেষ রাক’আতে পড়তেন “আমান্না বিল্লাহি ওয়াশহাদ বিআন্না মুসলিমূন।” (সূরা আলে ইমরান : ৫২ আয়াত)
অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: শেষ রাক’আতে তিনি পড়তেন সূরা আলে ইমরানের “তা’আলাও ইলা কালিমাতিন সাওয়াইম বাইনানা ওয়া বাইনাকুম” (৬৪ নম্বর) আয়াতটি।

এ দু’টি হাদীসই ইমাম মুসলিম রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۱۰۸ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قرَأُ فِي رَكْعَتَيْنِ الْفَجْرِ قُلْ يَأَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১০৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দুই রাক’আত সুন্নাতে “কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরূন” এবং “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ” সূরাদ্বয় পড়তেন।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۱۰۹ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ رَمَقْتُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَهْرًا وَكَانَ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ قُلْ يَأَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَقُلْ هُوَ اللَّهُ أحدٌ رَوَاهُ التَّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ .

১১০৯। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক মাস পর্যন্ত লক্ষ্য করলাম যে, তিনি ফজরের দুই রাক’আত সুন্নাতে “কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন” এবং “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ” সূরাদ্বয় পড়েন। ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।

অনুচ্ছেদ: ১৯ – ফজরের সুন্নাতের পর ডান কাতে শুয়ে থাকা মুস্তাহাব এবং রাতে তাহাজ্জুদ পড়তে উৎসাহিত করা

۱۱۱۰ – عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إذَا صَلَّى رَكْعَتَى الْفَجْرِ اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১১১০। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দুই রাক’আত সুন্নাত পড়ার পর ডান কাতে শুয়ে থাকতেন।

ইমাম বুখারী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۱۱۱ – وَعَنْهَا قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّى فِيْمَا بَيْنَ أَنْ يُفرغ مِنْ صَلَاةِ الْعِشَاءِ إِلَى الْفَجْرِ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُسَلِّمُ بَيْنَ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ ويوتر بواحِدَةٍ فَإِذَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُ مِنْ صَلاةِ الْفَجْرِ وَتَبَيَّنَ لَهُ الْفَجْرُ

وَجَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ قَامَ فَرَكَعَ رَكَعَتَيْنِ خَفِفَتَيْنِ ثُمَّ اضْطَجَعَ عَلَى شِقِهِ الْأَيْمَنِ هُكَذَا حَتَّى يَأْتِيَهُ الْمُؤَذِّنُ لِلْإِقَامَةِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ . قَوْلُهَا يُسَلِّمُ بَيْنَ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ هَكَذَا هُوَ فِي مُسْلِمٍ وَمَعْنَاهُ بَعْدَ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ.

১১১১। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামায শেষ করার পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত হওয়া পর্যন্ত এগার রাক’আত নামায পড়তেন, এর প্রতি দুই রাক’আত অন্তর সালাম ফিরাতেন এবং এক রাক’আত মিলিয়ে বিতর পড়তেন। তারপর যখন মুয়াযযিন ফজরের আযান দেয়ার পর নীরব হয়ে যেত ও ফজরের উদয় হত এবং মুয়াযযিন (নামাযের খবর দেয়ার জন্য) আসত তখন তিনি দাঁড়িয়ে দুই রাক’আত হাল্কা সুন্নাত পড়ে নিতেন, তারপর ডান কাতে শুয়ে পড়তেন, নামাযের ইকামাতের সময় হয়ে গেছে একথা জানাবার জন্য যখন মুয়াযযিখন আসতেন তখন পর্যন্ত।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। হযরত আয়িশা (রা)-র বক্তব্য: “প্রতি দুই রা’আতের মাঝে সালাম ফিরাতেন” এভাবেই মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। আর এর অর্থ হচ্ছে: প্রতি দুই রাক’আতের পরে সালাম ফিরাতেন।

۱۱۱۲ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى أحَدُكُمْ رَكْعَتَى الْفَجْرِ فَلْيَضْطَجِعْ عَلَى يَمِينِهِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِي بِاسَانِيدَ صَحِيحَة قَالَ التَّرْمِذِي حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

১১১২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো যখন ফজরের দুই রাক’আত সুন্নাত পড়া হয়ে যায় তখন যেন সে তার ডান কাতে একটু শুয়ে থাকে। [ এ হাদীসগুলো থেকে জানা যায়, ফজরের সুন্নাত দুই রাক’আত পড়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু শুইতেন। অন্যান্য হাদীস থেকে জানা যায় যে, তিনি ফজরের সুন্নাতের পূর্বেও কিছুক্ষণ শুয়ে থাকতেন। ইমাম মুহাম্মাদ তাঁর মুওয়াত্তায় একটি রিওয়ায়াত এনেছেন যা থেকে জানা যায়, নিছক বিশ্রাম লাভের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা করতেন। এ বিষয়টিতে অদ্ভুত ধরনের মতবিরোধ দেখা যায়। কেউ কেউ তো একে ফরযের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। এ ব্যাপারে এটিই যাহিরিয়াদের মাযহাব। আল্লামা ইবনে হাযমও এ মতের উপর ভীষণ জোর দিয়েছেন। শায়খ ইবনুল আরাবী এবং অনেকে একে মুস্তাহাব গণ্য করেছেন। তরীকতের মাশায়েখগণ এই রিওয়ায়াতের ভিত্তিতে একে মুস্তাহাব মনে করেন। আবার কেউ কেউ একে বিদ’আত বলেন, কিন্তু এ বক্তব্য সরাসরি হাদীসের খেলাফ বলে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ] ।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী সহীহ সনদে হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম তিরমিযী একে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২০ যুহরের সুন্নাত

۱۱۱۳ – عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكَعَتَيْنِ قَبْلَ الظَّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১১৩। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যুহরের (ফরযের) পূর্বে দুই রাক’আত (সুন্নাত) এবং পরে দুই রাকআত (সুন্নাত) পড়েছি।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١١١٤ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يَدَعُ أَرْبَعًا قَبْلَ الظَّهْرِ – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১১১৪। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের পূর্বের চার রাক’আত (সুন্নাত) কখনও ছাড়তেন না।

ইমাম বুখারী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١١١٥ – وَعَنْهَا قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي بَيْتِي قَبْلَ الظهر أربعًا ثُمَّ يَخْرُجُ فَيُصَلِّى بِالنَّاسِ ثُمَّ يَدْخُلُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَكَانَ يُصَلِّى بِالنَّاسِ الْمَغْرِبَ ثُمَّ يَدْخُلُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَيُصَلِّي بِالنَّاسِ الْعِشَاء

وَيَدْخُلُ بَيْتِي فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১১৫। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে যুহরের পূর্বে চার রাক’আত (সুন্নাত) পড়তেন, তারপর বাইরে বের হয়ে যেতেন এবং লোকদেরকে নামায পড়াতেন। এরপর তিনি ঘরে চলে আসতেন এবং দুই রাক’আত সুন্নাত পড়তেন। তিনি লোকদেরকে মাগরিবের নামায পড়াতেন, তারপর ঘরে এসে দুই রাক’আত সুন্নাত পড়তেন। আবার তিনি লোকদেরকে ইশার নামায পড়াতেন, তারপর আমার ঘরে প্রবেশ করে দুই রাক’আত (সুন্নাত) পড়তেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١١١٦ – وَعَنْ أَمْ حَبِيبَةً رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ حَافَظَ عَلَى أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الظَّهْرِ وَارْبَعَ بَعْدَهَا حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

১১১৬। উম্মু হাবীবা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি যুহরের পূর্বের চার রাক’আত ও পরের চার রাক’আত নিয়মিত পড়বে, আল্লাহ তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন [ এ হাদীসে যুহরের পূর্বে চার রাআত ও যুহরের পরে চার রাক’আত পড়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অন্য হাদীস থেকে যুহরের পূর্বের চার ও পরের দুই রাক’আতের সুন্নাতে মুআক্কাদা হবার প্রমাণ পাওয়া যায়। এখানে পরের দুই রাক’আত সুন্নাতে মুআক্কাদার পর দুই রাক’আত নফলের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয় ] ।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন।

۱۱۱۷ – وَعَنْ عَبْدِ الله بْنِ السَّائِبِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّى أَرْبَعًا بَعْدَ أَنْ تَزُولَ الشَّمْسُ قَبْلَ الظَّهْرِ وَقَالَ أَنَّهَا سَاعَةٌ تُفْتَحُ فِيهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ فَأَحِبُّ أَنْ يُصْعَدَ لِي فِيهَا عَمَلَ صَالِحٌ

رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১১১৭। আবদুল্লাহ ইবনুস সাইব (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ার পর যুহরের (ফরযের) পূর্বে চার রাক্আত পড়তেন এবং বলতেন: এটা এমন একটা সময় যখন আকাশের দরজাসমূহ খোলা হয়। তাই আমি চাই এ সময়ে আমার কোন ভালো আমল উপরে চলে যাক।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এটিকে হাসান হাদীস বলেছেন।

۱۱۱۸ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا لمْ يُصَلِّ أَرْبَعًا قَبْلَ الظَّهْرِ صَلَاهُنَّ بَعْدَهَا رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১১১৮। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কোন কারণে) যুহরের পূর্বের চার রাক’আত পড়তে না পারলে যুহরের পরে (অর্থাৎ ফরযের পরে) তা পড়ে নিতেন।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং একে হাসান হাদীস বলেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২১ – আসরের সুন্নাত

۱۱۱۹ – عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّى قَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ يَفْصِلُ بَيْنَهُنَّ بِالتَّسْلِيمِ عَلَى الْمَلَائِكَةِ الْمُقَرِّبِينَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُؤْمِنِينَ رَوَاهُ التَّرْمِذِيُّ

وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১১১৯। আলী ইবনে আবী তালিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের পূর্বে চার রাক’আত (সুন্নাত) পড়তেন। এই রাক্’আতগুলোয় তিনি পৃথক পৃথকভাবে আল্লাহর নিকটতম ফেরেস্তাগণ এবং তাদের অনুসারী মুসলিম ও মুমিনদের প্রতি সালাম পাঠাতেন [ অর্থাৎ দুই সালামে চার রাক’আত পড়তেন অথবা দুই রাক’আত পর তাশাহহুদ পড়তেন ] ।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং এটিকে হাসান হাদীস আখ্যায়িত করেছেন।

۱۱۲۰- وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رَحِمَ اللهُ امْرَأَ صَلَّى قَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعًا – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১১২০। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি আসরের পূর্বে চার রাক’আত (সুন্নাত) নামায পড়ে আল্লাহ তার উপর রহম করবেন।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান হাদীস বলেছেন।

۱۱۲۱- وَعَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّى قَبْلَ الْعَصْرِ رَكْعَتَيْنِ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ صَحِيح .

১১২১। আলী ইবনে আবী তালিব (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কখনো কখনো) আসরের পূর্বে দুই রাক’আত (সুন্নাত) পড়তেন।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২২ – মাগরিবের পূর্বের ও পরের সুন্নাতসমূহ

এই অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত হাদীস ইবনে উমার (১০৯৮ নং হাদীস) ও আয়িশার (১১১৫ নং হাদীস) বর্ণনায় ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। সে দু’টি সহীহ হাদীস। তাতে বলা হয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের পরে দুই রাক’আত (সুন্নাত) পড়তেন।

۱۱۲۲- وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفَّل رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلُّوا قَبْلَ الْمَغْرِبِ قَالَ فِي الثَّالِثَةِ لِمَنْ شَاءَ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১১২২। আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা মাগরিবের আগে (দুই রাক’আত) নামায পড়। এ কথা তিনি দু’বার বলার পর তৃতীয় বার বলেন: তবে যে চায় সে পড়তে পারে [ যাতে লোকেরা এ নামাযটি সুন্নাতে মুআক্কাদা মনে না করে এজন্যেই তিনি এভাবে বলেন ] ।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۱۲۳- وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ كِبَارَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَبْتَدِرُونَ السَّوَارِي عِنْدَ الْمَغْرِبِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১১২৩। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রবীণ সাহাবীদেরকে মাগরিবের সময় (ফরযের পূর্বে দুই রাক’আত পড়ার জন্য) মসজিদের স্তম্ভগুলির দিকে এগিয়ে যেতে দেখেছি।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١١٢٤ – وَعَنْهُ قَالَ كُنَّا نُصَلِّي عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ غُرُوبِ الشَّمْسِ قَبْلَ الْمَغْرِب فَقِيلَ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلاهُمَا قَالَ كَانَ بَرَانَا نُصَلِّيْهِمَا فَلَمْ يَأْمُرُنَا وَلَمْ يَنْهَنَا – رَوَاهُ

مُسْلِمٌ.

১১২৪। আনীস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় সূর্য ডুবার পর মাগরিবের আগে দুই রাক’আত নামায পড়তাম। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও কি ঐ নামায পড়তেন? জবাব দিলেন, তিনি আমাদের ঐ দুই রাক’আত পড়তে দেখতেন, কিন্তু আমাদের হুকুম করতেন না, আবার নিষেধও করতেন না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١١٢٥ – وَعَنْهُ قَالَ كُنَّا بِالْمَدِينَةِ فَإِذَا أَذْنَ الْمُؤَذِّنُ لِصَلَاةِ الْمَغْرِبِ ابْتَدَرُوا السواري فَرَكَعُوا رَكْعَتَيْنِ حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ الْغَرِيبَ لَيَدْخُلُ الْمَسْجِدَ فَيَحْسَبُ أَنْ الصَّلاةَ قَدْ صَلِيَتْ مِنْ كَثرَةِ مَنْ يُصَلِّيْهِمَا – رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

১১২৫। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে সময় আমরা মদীনায় ছিলাম তখন মুয়াযযিন মাগরিবের নামাযের আযান দিলে (সাহাবায়ে কিরাম) মসজিদের স্তম্ভগুলোর দিকে এগিয়ে যেতেন এবং দুই রাকআত (নফল) নামায পড়তেন। এমনকি কোনো আগন্তুক মসজিদে পৌঁছে মনে করতো বুঝি বা জামা’আতে নামায হয়ে গেছে। ঐ দুই রাক্’আত নামায এত বেশি লোক পড়তো যার ফলে আগন্তুক এ ধারণা করে বসতো [ ইমাম আবু হানীফা (র) বুরাইদা আসলামী (রা)-র হাদীসের ভিত্তিতে মাগরিবের ফরযের আগে এই নফলটি পড়া মাকরূহ গণ্য করেছেন। ঐ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মাগরিব ছাড়া প্রত্যেক দুই আযানের (আযান ও ইকামাত) মধ্যে নামায আছে। মুল্লা আলী কারী লিখেছেন, খুব কম সাহাবীই এ নামায পড়তেন। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের নামায দ্রুত পড়ে নিতেন। কিন্তু এ সময় এ নফলটি পড়লে নামাযে বিলম্ব হয়ে যাবার আশংকা ছিল। কাজেই এই দুই ধরনের বিপরীতমুখী হাদীসের মধ্যে এভাবে সামঞ্জস্য বিধান করা যেতে পারে যে, কোন কোন অবস্থায় এ নামায পড়া হয়েছে অথবা এক সময় এ নামায পড়া হতো এবং পরে এটা পরিত্যাগ করা হয়। যেমন বুরাইদা আসলামী (রা)-র হাদীস থেকে বুঝা যায় ] ।

অনুচ্ছেদ: ২৩ – ইশার আগের ও পরের সুন্নাত

এ সংক্রান্ত বিষয়ে ইতিপূর্বে ইবনে উমার (রা)-র হাদীস (নং ১০৯৮) উদ্ধৃত হয়েছে।

তাতে বলা হয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমি ইশার পরে দুই রাক’আত পড়েছি। আর এ সংক্রান্ত ইতিপূর্বে আলোচিত ইবনে মুগাফ্ফাল (রা)-র হাদীসে (নং ১০৯৯) বলা হয়েছে: প্রত্যেক দু’টি আযানের মধ্যে নামায রয়েছে। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২৪ – জুমু’আর নামাযের সুন্নাত

এ অনুচ্ছেদের ব্যাপারে ইতিপূর্বে ইবনে উমার (রা)-র হাদীস (১০৯৮) বর্ণিত হয়েছে।

তাতে বলা হয়েছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জুমু’আর পর দুই রাক’আত পড়েছেন। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١١٢٦ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمُ الْجُمُعَةَ فَلْيُصَلِّ بَعْدَهَا أَرْبَعًا – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১২৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের যে কেউ জুমু’আর নামায পড়ে সে যেন তারপর চার রাআত পড়ে।

ইমাম মুসলিম হালীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

۱۱۲۷- وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لا يُصَلِّى بَعْدَ الْجُمُعَةِ حَتَّى يَنْصَرِفَ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১২৭। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু’আর ফরয নামাযের পর (মসজিদে) আর কোন নামায পড়তেন না। অবশ্য তিনি নিজের ঘরে ফিরে এসে দুই রাক’আত পড়তেন [ হযরত আবু হুরাইরা (রা)-র একটি হাদীস এবং অন্যান্য হাদীস থেকে জুমু’আর আপের চার রাক’আত সুন্নাতে মুআক্কাদার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত হাদীস দু’টি থেকে জুমু’আর পরের দুই রাকআত ও চার রাক’আত সুন্নাত প্রমাণিত হয়। তবে অন্য একটি রিওয়ায়াতে জুমু’আর পর ছয় রাক’আতের সংখ্যা এসেছে। তাই ইমাম আবু ইউসুফ (র) এই ছয় রাকআতের পক্ষে অভিমত প্রকাশ করেছেন ] ।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২৫ ঘরে নফল নামায পড়া মুসতাহাব, তা সুন্নাতে মুআক্কাদা হোক বা গায়ের মুআক্কাদা, আর সুন্নাত পড়ার জন্য ফরযের জায়গা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ অথবা ফরয ও নফলের মধ্যে কথা বলে পার্থক্য সৃষ্টি করা।

۱۱۲۸- عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِت رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلُّوا أَيُّهَا النَّاسُ فِي بُيُوتِكُمْ فَإِنْ أَفْضَلُ الصَّلَاةِ صَلَاةُ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ الأَ الْمَكْتُوبَةَ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১২৮। যায়িদ ইবনে সাবিত (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে লোকেরা! তোমরা নিজেদের ঘরে নামায পড়। কারণ ফরয নামাযগুলো ছাড়া মানুষের নিজ আবাসে পড়া নামাযই উৎকৃষ্ট।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۱۲۹- وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اجْعَلُوا مِنْ صَلَاتِكُمْ فِي بُيُوتِكُمْ وَلَا تَتَّخِذُوهَا قُبُورًا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১২৯। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: কিছু নামায তোমাদের ঘরে পড় এবং তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না। (অর্থাৎ ইবাদাত শূন্য রেখো না)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۱۳۰ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَضَى أَحَدُكُمْ صَلَاتَهُ فِي مَسْجِدِهِ فَلْيَجْعَلْ لِبَيْتِهِ نَصِيبًا مِنْ صَلَاتِهِ فَإِنَّ اللَّهَ جَاعِلٌ فِي بَيْتِهِ مِنْ صَلَاتِهِ خَيْرًا – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৩০। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন মসজিদে তার নামায পড়া শেষ করে তখন যেন ঘরের জন্য তার নামাযের কিছু অংশ রেখে দেয়। কারণ আল্লাহ তার নামাযের উসীলায় তার ঘরে বরকত দান করেন।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۱۳۱ – وَعَنْ عُمَرَ بْنِ عَطَاء أَنْ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرٍ أَرْسَلَهُ إِلَى السَّائِبِ ابْنِ أُخْتِ نَمِرٍ يَسْأَلُهُ عَنْ شَيْءٍ رَأَهُ مِنْهُ مُعَاوِيَةٌ فِي الصَّلاةِ فَقَالَ نَعَمُ صَلَّيْتُ مَعَهُ الْجُمُعَةَ فِي الْمَقْصُورَةِ فَلَمَّا سَلَّمَ الْإِمَامُ قُمْتُ فِي مَقَامِي فَصَلَّيْتُ

فَلَمَّا دَخَلَ أَرْسَلَ إِلَى فَقَالَ لَا تَعُدْ لِمَا فَعَلْتَ إِذَا صَلَّيْتَ الْجُمُعَةَ فَلَا تَصِلُهَا بِصَلَاةٍ حَتَّى تَتَكَلَّمَ أَوْ تَخْرُجَ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آمَرَنَا بِذَلِكَ أَنْ لَا نُوصِلَ صَلَاةً حَتَّى نَتَكَلَّمَ أَوْ نَخْرُجَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৩১। উমার ইবনে আতা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাফে ইবনে জুবাইর (র) তাকে নামির-এর বোনপুত্র সায়েবের কাছে পাঠিয়ে তাকে এই মর্মে জিজ্ঞেস করলেন যে, আমীর মু’আবিয়া (রা) তার নামাযের ব্যাপারে যা দেখেছেন তা কি সত্য? তিনি জবাব দিলেন, হাঁ, আমি মু’আবিয়া (রা)-র সাথে জুমু’আর নামায মাকসূরায় [ মাকসূরা সাধারণত কামরাকে বলা হয়। এই হিসেবে মসজিদের হুজরাকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অর্থাৎ জুমু’আর নামাযের জামা’আত বড় হওয়ার কারণে তারা মসজিদের হুজরার মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন ] পড়েছি। ইমাম যখন সালাম ফিরালেন, আমি আমার জায়গায় উঠে দাঁড়ালাম এবং নামায পড়লাম। মু’আবিয়া (রা) ভেতরে গিয়ে আমার কাছে লোক পাঠিয়ে বলে দিলেন, তুমি যা করলে এরপর থেকে আর তার পুনরাবৃত্তি করো না। জুমু’আর নামায পড়ার পর তার সাথে অন্য নামায মিলাবে না যে পর্যন্ত না কথা বলবে অথবা বের হয়ে আসবে সেখান থেকে (অর্থাৎ স্থান পরিবর্তন করবে)। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এরূপ হুকুম দিয়েছেন, আমরা যেন কথা বলার বা স্থান ত্যাগ করার আগে এক নামাযের সাথে আর এক নামায না মিলাই।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২৬ – বিতরের নামায পড়তে উদ্বুদ্ধ করা ও তাকিদ দেয়া এবং বিতর সুন্নাতে মুআক্কাদা (ওয়াজিব) ও তার ওয়াক্ত

۱۱۳۲ – عَنْ عَلِيَّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ الْوِتْرُ لَيْسَ بِحَتُم كَصَلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ وَلَكِنْ سَنْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ وَتُرَّ يُحِبُّ الْوِتْرَ فَأَوْتِرُوا يَا أَهْلَ الْقُرْآنِ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১১৩২। আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিতর নামায ঠিক ফরয নামাযের ন্যায় অপরিহার্য নয় (কারণ ফরয নামায চূড়ান্ত ও সুস্পষ্ট নির্দেশের মাধ্যমে নির্ধারিত, আর বিতর তেমন নয়)। তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর নামায প্রবর্তন করেছেন এবং তিনি বলেছেন: আল্লাহ বিতর (বেজোড়) এবং তিনি বিতরকে (বেজোড়কে) পছন্দ করেন। কাজেই হে আল কুরআনের অনুসারীগণ! তোমরা বিতর নামায পড়।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

۱۱۳۳ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مِنْ كُلِّ اللَّيْلِ قَدْ أَوْتَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ وَمِنْ أَوْسَطِهِ وَمِنْ أَخِرِهِ وَانْتَهَى وَتَرَهُ إِلَى السَّحَرِ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৩৩। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সব অংশে বিতরের নামায পড়তেন, কখনো প্রথম রাতে, কখনো মাঝ রাতে, কখনো শেষ রাতে এবং বিতর প্রভাতের পূর্বে শেষ হয়ে যেতো।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١١٣٤ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اجْعَلُوا آخِرَ صَلَاتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْرا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .

১১৩৪। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: বিতর নামাযকে তোমাদের রাতের শেষ নামায বানাও।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

١١٣٥ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَوْتِرُوا قَبْلَ أَنْ تُصْبِحُوا – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৩৫। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা ভোর হওয়ার আগে বিতর পড়ে নাও।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١١٣٦ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّى صَلانَهُ بِاللَّيْلِ وَهِيَ مُعْتَرِضَةٌ بَيْنَ يَدَيْهِ فَإِذَا بَقِيَ الْوِتْرُ أَيْقَظَهَا فَأَوْتَرَتْ رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ فَإِذَا بَقِيَ الْوَتَرُ قَالَ قُوْمِي فَأَوْتِرِى يَا

عَائِشَةُ.

১১৩৬। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রাতের নামায পড়তেন এবং সে সময় তিনি (আয়িশা) তাঁর সামনে শুয়ে থাকতেন। তারপর যখন শুধুমাত্র বিতর বাকি থাকতো তখন তিনি আয়িশাকে জাগাতেন এবং তিনি (আয়িশা) উঠে বিতর পড়ে নিতেন।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছে: যখন শুধুমাত্র বিতর বাকি থাকতো তখন তিনি বলতেনঃ হে আয়িশা! ওঠ, বিতর পড়ে নাও।

۱۱۳۷ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بَادِرُوا الصُّبْحَ بِالْوِتْرِ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১১৩৭। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ভোর হওয়ার আগেই তোমরা বিতর পড়ার ব্যাপারে অগ্রবর্তী হও।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান ও সহীহ আখ্যায়িত করেছেন।

۱۱۳۸ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَن خَافَ أَنْ لا يَقُومَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ فَلْيُؤْتِرُ أَوَلَهُ وَمَنْ طَمِعَ أَنْ يَقُوْمَ أُخِرَهُ فَلْيُوتِرُ آخِرَ اللَّيْلِ فَإِنَّ صَلَاةَ أُخِرِ اللَّيْلِ مَشْهُودَةٌ وَذَلِكَ أَفْضَلُ – رَوَاهُ

مُسْلِمٌ.

১১৩৮। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আশংকা করে যে, সে শেখ রাতে উঠতে পারবে না, সে যেন রাতের প্রথমাংশে বিতর পড়ে নেয়। আর যে শেষ রাতে উঠার আশা রাখে, সে যেন শেষ রাতেই বিতর পড়ে। কারণ শেষ রাতের নামাযে ফেরেস্তারা হাযির থাকেন এবং এটিই উত্তম।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২৭ – ইশরাক ও চাপ্তের নামাযের ফযীলাত, এর সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও মাঝামাঝি মর্যাদার বর্ণনা এবং তা হিফাযাতের ব্যাপারে উৎসাহিত করা

۱۱۳۹ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أَوْصَانِي خَلِيْلِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِصِيَامٍ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَكْعَتَى الضُّحَى وَأَنْ أُوتِرَ قَبْلَ أَنْ أَرْقُدَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَالْإِبْتَارُ قَبْلَ النَّوْمِ إِنَّمَا يُسْتَحَبُّ لِمَنْ لَا يَشِقُ

بِالْإِسْتِيْقَاطِ أَخِرِ اللَّيْلِ فَإِنْ وَثِقَ فَاخِرُ اللَّيْلِ أَفْضَلُ.

১১৩৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ওসিয়াত করেছেন প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখতে, চাশতের দুই রাক’আত নামায পড়তে এবং শয়ন করার পূর্বে বিতরের নামায পড়ে নিতে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর শয়ন করার পূর্বে বিতরের নামায পড়া সেই ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব যে শেষ রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠার ব্যাপারে নিশ্চিত নয়। তবে যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে নিশ্চিত তার জন্য শেষ রাতে বিতর পড়া উত্তম।

١١٤٠ – وَعَنْ أَبِي ذَرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُصْبِحُ عَلَى كُلِّ سُلامَى مِنْ أَحَدِكُمْ صَدَقَةً فَكُلُّ تَسْبِيحَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلُّ تَحْمِيدَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلُّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلُّ تَكْبِيرَةٍ صَدَقَةً وَآمُرُ بِالْمَعْرُوفِ صَدَقَةً

وَنَهَى عَ الْمُنكَرِ صَدَقَةٌ وَيُجْزِي مِنْ ذَلِكَ رَكْعَتَانِ يَرْكَعُهُمَا مِنَ الضُّحَى رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৪০। আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির দেহের গ্রন্থিগুলোর উপর সাদাকা ওয়াজিব। কাজেই প্রত্যেক বার সুবহানাল্লাহ বলা সাদাকা হিসেবে বিবেচিত, প্রত্যেক বার আলহামদু লিল্লাহ বলা সাদাকা হিসেবে বিবেচিত, প্রত্যেক বার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলা সাদাকা হিসেবে বিবেচিত এবং প্রত্যেক বার আল্লাহু আকবার বলা সাদাকা হিসেবে বিবেচিত। আর সৎ কাজের আদেশ করা সাদাকা হিসেবে বিবেচিত এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখা সাদাকা হিসেবে বিবেচিত। আর কেউ এসবের বিকল্প হিসাবে চাশতের দুই রাক’আত পড়লে তা যথেষ্ট হবে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١١٤١ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّى الضُّحَى أَرْبَعًا وَيَزِيدُ مَا شَاءَ اللَّهُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৪১। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার রাক’আত চাশতের নামায পড়তেন এবং আল্লাহর মর্জি হলে আরো অধিক পড়তেন।
ইমাম মুসলিম এটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١١٤٢ – وَعَنْ أَمْ هَانِي فَاحْتَةَ بِنْتِ أَبِي طَالِبٍ قَالَتْ ذَهَبْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفَتْحِ فَوَجَدْتُهُ يَغْتَسِلُ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ غُسْلِهِ صَلَّى ثَمَانِي رَكَعَاتٍ وَذَلِكَ ضُحى. مُتَفَقٌ عَلَيْهِ. وَهَذَا مُخْتَصَرُ لفظ إِحْدَى

رِوَايَاتِ مُسْلِم

১১৪২। উম্মু হানী ফাখিতা বিনতে আবী তালিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলাম। আমি তাঁকে গোসলরত অবস্থায় পেলাম। তিনি গোসল শেষ করে আট রাক’আত (নফল নামায)

পড়লেন। এটা ছিল চাশতের নামায [ আসলে এখানে হাদীসে “দুহা” শব্দ উল্লেখিত হয়েছে, যার অর্থ সূর্য উপরে উঠে গিয়ে চারদিকে ভালোভাবে আলো ছড়িয়ে পড়া, রোদ প্রচুর পরিমাণে গায়ে লাগা। অর্থাৎ বেলা হয়ে যাওয়া। এ হিসেবে ইশরাক ও চাশত উভয় নামাযের কথা বলাই এখানে উদ্দেশ্য। বেলা চড়ার প্রথম দিকে পড়লে এটা হবে ইশরাক এবং শেষের দিকে পড়লে এটা হবে চাশত। এটি দুই রাক’আত পড়া যেতে পারে এবং চার রা আতও পড়া যেতে পারে ] ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। আর এটি মুসলিমের রিওয়ায়াতগুলির মধ্য থেকে একটি রিওয়ায়াতের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।

অনুচ্ছেদ: ২৮ – সূর্য উপরে উঠার পর থেকে সূর্য ঢলে পড়ার পূর্ব পর্যন্ত চাশতের নামায পড়া বৈধ। তবে সূর্য অনেক উপরে উঠার পর তার তাপ যখন বেড়ে যায় তখন এই নামায পড়া উত্তম

١١٤٣ – عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ رَأَى قَوْمًا يُصَلُّونَ مِنَ الضُّحَى فَقَالَ أَمَا لَقَدْ عَلِمُوا أَنَّ الصَّلَاةَ فِي غَيْرِ هَذِهِ السَّاعَةِ أَفْضَلُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَاةُ الْأَوَّابِينَ حِينَ تَرْمَضُ الْفِصَالُ رَوَاهُ

مُسْلِمٌ تَرْمَضُ بفتح التاءِ وَالْمِيمِ وَبِالضَّادِ الْمُعْجَمَةِ يَعْنِي شِدَّةَ الْحَرِّ وَالْفِصَالُ جَمْعُ فَصِيل وَهُوَ الصَّغِيرُ مِنَ الْابْلِ .

১১৪৩। যায়িদ ইবনে আরকাম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি একদল লোককে চাশতের (দুহা) নামায পড়তে দেখলেন। তিনি বলেন, এরা জানে এ সময় ছাড়া অন্য সময় নামায পড়া উত্তম। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আউয়াবীন (আল্লাহর প্রতি পূর্ণ মনোনিবেশকারীদের) নামাযের ওয়াক্ত হয় তখন যখন উটের বাচ্চা গরম হয়ে যায় (অর্থাৎ সূর্য বেশ উপরে উঠে যায়)[ এ হাদীসে সালাতুদ্দুহা বা চান্তের নামাযকেই সালাতুল আউয়াবীন বলা হয়েছে। মাগরিবের পরের ছয় রাক’আত নফলের নাম সান্নাতুল আউয়াবীন বলে কোন হাদীসে উল্লেখ নেই ] ।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। “তারমাদ” অর্থ রোদের প্রখরতা, উত্তাপ; “ফিসাল” অর্থ উটের ছোট বাচ্চা।

অনুচ্ছেদ: ২৯ – তাহিয়‍্যাতুল মাসজিদ নামায পড়তে উদ্বুদ্ধ করা এবং মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাক্’আত না পড়ে বসে পড়া মাকরূহ। এই দুই রাক’আত তাহিয়্যাতুল মাসজিদের নিয়াতে পড়া হোক বা ফরয, সুন্নাতে মুআক্কাদা বা গায়ের মুআক্কাদার নিয়াতে পড়া হোক

١١٤٤ – عَنْ أَبِي قَتَادَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلَا يَجْلِسُ حَتَّى يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৪৪। আবু কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে তখন সে যেন দুই রাক্আত (তাহিয়‍্যাতুল মাসজিদ) নামায পড়ার পূর্বে না বসে।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١١٤٥ – وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ آتَيْتُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ صَلِّ رَكْعَتَيْنِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .

১১৪৫। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলাম। তখন তিনি মসজিদে ছিলেন। তিনি বললেন: দুই রাক’আত নামায পড়ে নাও।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩০ – উযু করার পর দুই রাক’আত নামায পড়া মুস্তাহাব

١١٤٦ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال لبِلال يَا بِلالُ حَدِّثْنِي بِأَرْجَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ فِي الْإِسْلَامِ فَإِنِّي سَمِعْتُ دَفَ نَعْلَيْكَ بَيْنَ يَدَى فِي الْجَنَّةِ قَالَ مَا عَمِلَتُ عَمَلاً أَرْجِي عِنْدِي مِنْ

أَنِّي لَمْ أَتَطَهِّرُ طهُورًا فِي سَاعَةٍ مِنْ لَيْل أَوْ نَهَارِ إِلَّا صَلَّيْتُ بِذَلِكَ الطُّهُورِ مَا كُتِبَ لِي أَنْ أصلي. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ – وَهُذا لفظ الْبُخَارِي – الدِّفُ بِالْقَاءِ صَوْتُ النَّعْلِ وَحَرَّكَتُهُ عَلَى الْأَرْضِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

১১৪৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রা)-কে বলেনঃ হে বিলাল! তুমি ইসলাম গ্রহণের পর সবচাইতে বেশি আশাপ্রদ যে আমলটি করেছো সে সম্পর্কে আমাকে বল। কারণ জান্নাতে আমার আগে আগে আমি তোমার পাদুকার আওয়াজ শুনেছি। বিলাল (রা) বলেন, আমার কাছে এর চাইতে বেশি আশাপ্রদ আর কোন আমল নেই যে, যখনই আমি তাহারাত (উযু, গোসল বা তায়াম্মুম) অর্জন করেছি, রাত-দিনের যে কোন অংশে, তখনই সেই তাহারাত দ্বারা আমি নামায পড়েছি যে পরিমাণ আল্লাহ আমার জন্য নির্ধারিত রেখেছিলেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। হাদীসের মূল পাঠ ইমাম বুখারীর। “আদ্‌-দাফ্” অর্থ জুতার আওয়াজ এবং মাটির উপর তার চলমান হওয়া।

অনুচ্ছেদ: ৩১ – জুমু’আর দিনের ফযীলাত এবং জুমু’আর নামায ফরয। জুমুআর নামাযের জন্য গোসল করা, খুশবু লাগানো এবং জুমু’আর নামায পড়তে যাওয়া ও জুমু’আর দিন দু’আ করা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা, দু’আ কবুল হওয়ার সময় সম্পর্কে বর্ণনা এবং জুমু’আর নামাযের পর বেশি করে আল্লাহর যিকর করা মুস্তাহাব

قَالَ اللهُ تَعَالَى : فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“তারপর যখন (জুমু’আর) নামায শেষ হয়ে যায় তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ কর ও অধিক পরিমাণে আল্লাহকে স্মরণ কর, তাহলেই তোমরা সফলকাম হবে।” (সূরা আল-জুমু’আঃ ১০)

١١٤٧ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ وَفِيهِ أُخْرِجَ مِنْهَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৪৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: উদিত সূর্যের প্রভাদীপ্ত দিনগুলোর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হচ্ছে জুমু’আর দিন। এ দিনে সৃষ্টি করা হয়েছিল আদম (আ)-কে এবং এ দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল আর এ দিনেই তাকে বের করা হয়েছিল সেখান থেকে [ আদম (আ)-কে জান্নাত থেকে জুমু’আর দিন বের করে দেয়া জুমু’আর দিনের ফযীলাত হিসেবে গণ্য হয়েছে এজন্য যে, তাঁকে এই জান্নাত থেকে বের করার কারণেই পৃথিবীতে আল্লাহর বৃহত্তম নিয়ামত নবী-রাসূলগণের আগমনের ধারাবাহিকতা শুরু হয় ] ।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١١٤٨ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ فَاسْتَمَعَ وَانْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ وَزِيَادَةُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ وَمَنْ مَسَّ الْحَصَى فَقَدْ لَنَا – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৪৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযূ করে জুমু’আর নামাযে উপস্থিত হয়ে নীরবে বসে খুতবা শুনে, তার সেই জুমু’আ থেকে পরবর্তী জুমু’আ পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের (সগীরা) গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি কাঁকর স্পর্শ করল সে অনর্থক কাজ করলো [ অর্থাৎ খুতবা শোনার দিকে মন না দিয়ে অন্য দিকে মনোনিবেশ করে ] ।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

١١٤٩ – وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ وَالْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ مُكَفِّرَاتٌ مَا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتُنَبَتِ الْكَبَائِرُ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৪৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুমু’আ থেকে আর এক জুমু’আ এবং এক রমযান থেকে আর এক রমযান, এই সবের মধ্যবর্তীকালে যেসব সগীরা গুনাহ হয় তার জন্য কাফ্ফারা স্বরূপ, যখন (সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি) কবীরা গুনাহ থেকে দূরে থাকে।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١١٥٠ – وَعَنْهُ وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ أَنَّهُمَا سَمِعًا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ عَلَى أَعْوَادِ مِنْبَرِهِ لَيَنْتَهِيَنَ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمُ الْجُمُعَاتِ أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ ثُمَّ لَيَكُونُنَّ مِنَ الْغَافِلِينَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৫০। আবু হুরাইরা ও আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তারা দু’জনেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর কাষ্ঠনির্মিত মিম্বারে (বসে) বলতে শুনেছেন: লোকেরা যেন জুমু’আর নামায ত্যাগ করা থেকে বিরত থাকে। অন্যথায় আল্লাহ তাদের দিলে মোহর মেরে দেবেন, তারপর তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١١٥١ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمُ الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৫১। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের যে কেউ জুমু’আর নামাযের জন্য আসলে সে যেন গোসল করে।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١١٥٢ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ الْمُرَادُ بِالْمُحْتَلِم الْبَالِغُ وَالْمُرَادُ بِالْوُجُوبِ وُجُوبُ اخْتِيَارِ كَقَوْلِ الرَّجُلِ

لِصَاحِبِهِ حَقَّكَ وَاجِبٌ عَلَى وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

১১৫২। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রত্যেক বালেগ ব্যক্তির উপর জুমু’আর দিন গোসল করা ওয়াজিব।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। মুহতালিম অর্থ ‘বালেগ’ এবং ওয়াজিব অর্থ এখানে স্বেচ্ছামূলক ওয়াজিব (কর্তব্য)। যেমন কোন ব্যক্তি তার সাথীকে বলে, তোমার অধিকার আদায় করা আমার জন্য ওয়াজিব। আল্লাহ অধিক ভালো জানেন।

١١٥٣ – وَعَنْ سَمُرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَوَضَّأَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَبِهَا وَنِعْمَتْ وَمَنْ اغْتَسَلَ فَالْغُسْلُ أَفْضَلُ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدُ وَالتَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১১৫৩। সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি জুমু’আর দিন (জুমু’আর নামাযের জন্য) উযূ করলো, সে রুখসাত (সুবিধাজনক পন্থা) অবলম্বন করলো এবং এটাও ভালো। তবে যে গোসল করলো তার গোসলই উত্তম।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান হাদীস বলেছেন।

١١٥٤ – وَعَنْ سَلْمَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا يَغْتَسِلُ رَجُلٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَيَتَطَهِّرُ مَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ وَيَدْهِنُ مِنْ دُهْنِهِ أَوْ يَمَسُّ مِنْ طِيب بَيْتِهِ ثُمَّ يَخْرُجُ فَلَا يُفَرِّقُ بَيْنَ اثْنَيْنِ ثُمَّ يُصَلِّى

مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ يُنْصِتُ إِذَا تَكَلَّمَ الْإِمَامُ إِلا غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الْأُخْرَى رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১১৫৪। সালমান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমু’আর দিন গোসল করে, নিজের সামর্থ্য মুতাবিক পবিত্রতা অর্জন করে ও তেল লাগায় অথবা ঘরে রাখা খুশবু মাখে, তারপর (ঘর থেকে) বের হয় এবং (মসজিদে গিয়ে) দু’জন লোককে ফাঁক করে তাদের মাঝখানে বসে না, তারপর তার জন্য যে পরিমাণ (নফল ও সুন্নাত) নামায নির্ধারিত আছে তা পড়ে, এরপর ইমাম যখন খুতবা দেন তখন চুপ করে বসে তা শোনে, তার সমস্ত গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেবেন, যা সে সেই জুমু’আ থেকে অপর জুমু’আ পর্যন্ত করে।

ইমাম বুখারী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١١٥٥ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الْأُولَى فَكَأَنَّمَا قَرَبَ بَدَنَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّانِيَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَبَ بَقَرَةً وَمَنْ

رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّالِثَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ كَبْشًا أَقْرَنَ وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الرَّابِعَةِ فَكَأَنَّمَا قَرْبَ دَجَاجَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الْخَامِسَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَيْضَةً فَإِذَا خَرَجَ الْإِمَامُ حَضَرَتِ الْمَلائِكَةُ يَسْتَمِعُونَ الذكر – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. قَوْلُهُ

غُسْلَ الْجَنَابَةِ أَنْ غُسْلاً كَفُسُلِ الْجَنَابَةِ فِي الصَّفَةِ.

১১৫৫। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমু’আর দিন নাপাকি থেকে পাক হওয়ার জন্য যেমন গোসল করা হয় তেমনি ভালোভাবে গোসল করে, তারপর প্রথম সময়ে (জুমু’আর নামাযের জন্য) মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট আল্লাহর পথে কুরবানী করলো। অতঃপর যে ব্যক্তি মসজিদে যায়, সে যেন একটি গরু কুরবানী করলো। অতঃপর যে ব্যক্তি যায় সে যেন এফটি শিংওয়ালা মেষ কুরবানী করলো। অতঃপর যে ব্যক্তি যায়, সে যেন একটি মুরগী আল্লাহর পথে দাল করলো। অতঃপর যে ব্যক্তি যায়, সে বেল আল্লাহর পথে একটি ডিম দান করলো। মখল ইমাম বের হন (তার হুজরা থেকে) তখন ফেরেশতারা খুতবা শোনার জন্য [ বহু মসজিদের সাথে ইমামের হুজরা এমনভাবে সন্নিবিষ্ট নেই যে, খুতবার সময় ইমাম সেখান থেকে বের হয়ে সংগে সংগে মিম্বারে বসতে পারেন। তাই সেখানে ইমাম পূর্ব থেকেই মুসল্লীদের কাতারে বসে থাকেন। এ অবস্থার এখানে ইমামের মিম্বারে বসার উদ্দেশ্যে মুসল্লীদের কাতার থেকে উঠে দাঁড়ানো বুঝাবে ] । হাযিয় হয়ে যান (এবং রেজিস্টারে নাম উঠানো বন্ধ হয়ে যায়)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। “গুসলুল জানাবাত” অর্থ পরিচ্ছন্নতা গুণের দিক দিয়ে যা জানাযাত অর্থাৎ নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জন করায় গোসলের সমপর্যায়ভুক্ত।

١١٥٦ – وَعَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَكَرَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ فِيهَا سَاعَةً لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ قَائِمٌ تُصَلِى يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ ووَأَشَارَ بِيَدِهِ يُقَلِّلُهَا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৫৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু’আর দিনের উল্লেখ করে বলেছেন: এর মধ্যে এমন একটি সময় আছে, যদি কোন মুসলিম বান্দা সেটি পেয়ে যায় এবং সে নামাযরত থাকে, আল্লাহর কাছে সে কিছু চায়, তাহলে আল্লাহ অবশ্যি তাকে তা দেন। তিনি হাতের ইশারায় এই সময়টুকুর স্বল্পতা ব্যক্ত করলেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١١٥٧ – وَعَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ اسَمِعْتَ أَبَاكَ يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي شَأْنِ سَاعَةِ الْجُمُعَةِ قَالَ قُلْتُ نَعَمُ سَمِعْتُهُ يَقُولُ سَمِعْتُ

رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ هِيَ مَا بَيْنَ أَن يُجْلِسَ الْإِمَامُ إِلَى أَنْ تُقْضَى الصَّلَاةُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৫৭। আবু বুরদা ইবনে আবু মূসা আল-আশ’আরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা) জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি তোমার আব্বাকে জুমু’আর (দু’আ কবুলের) সময়ের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিছু বর্ণনা করতে শুনেছো? তিনি বলেন, আমি জবাব দিলাম, হাঁ, আমি শুনেছি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি: তা (দু’আ কবুলের সময়টি) হচ্ছে ইমামের মিম্বারে বসা থেকে নিয়ে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত এই অন্তরবর্তীকালীন সময়টুকু [ জুমু’আর দিন দু’আ কবুলের সময়টুকুর প্রশ্নে ব্যাপক মতবিরোধ দেখা যায়। এ সময়টির দৈর্ঘ্যও অতি সামান্য। মূল হাদীসে সাআত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। আর সাআতের আসল অর্থ হচ্ছে মুহূর্ত অর্থাৎ অতি অল্প সময়। এ সময়টি কখন এ ব্যাপারেও হাদীস বিভিন্ন। ফলে সময়টিকে চিহ্নিত করার ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরাম ও অন্যান্য আলিমগণের মধ্যে বিপুল মতবিরোধ দেখা যায়। এ ব্যাপারে প্রায় চল্লিশটির মতো মত দেখা যায়। প্রত্যেক মতের বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এখানে নেই। তবে এর মধ্যে হানাফীরা যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা হচ্ছে, জুমু’আর দিনের এ দু’আ কবুলের সময়টি হচ্ছে আসর থেকে মাগরিবের মধ্যকালীন সময়। অধিকাংশ হাদীস এ মতটির পক্ষে। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলও এ মতটি অবলম্বন করেছেন। ইসহাকও এ মতেরই অনুসারী ] ।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١١٥٨ – وَعَنْ أَوْسِ بنِ أَوْسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَاكْثَرُوا عَلَى مِنَ الصَّلَاةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَى رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ صَحِيح.

১১৫৮। আওস ইবনে আওস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হল জুমু’আর দিন। কাজেই সেদিন তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দরূদ পড়ো। কারণ তোমাদের দরূদ আমার নিকট পেশ করা হয়।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩২ – আল্লাহর কোন সুস্পষ্ট অনুগ্রহ লাভের পর এবং কোন সুস্পষ্ট বিপদ কেটে যাবার পর কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সিজদা করা মুস্তাহাব

١١٥٩ – عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ مَكَّةَ نُرِيدُ الْمَدِينَةَ فَلَمَّا كُنَّا قَرِيبًا مِنْ عَزُورَاءَ نَزَلَ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ فَدَعَا اللَّهَ سَاعَةً ثُمَّ خَرِّ سَاجِدًا فَمَكَثَ طَوِيلًا ثُمَّ قَامَ

فَرَفَعَ يَدَيْهِ سَاعَةً ثُمَّ خَرِّ سَاجِداً فَعَلَهُ ثَلَاثًا وَقَالَ إِنِّي سَأَلْتُ رَبِّي وَشَفَعْتُ لِأُمَّتِي فَاعْطَانِي ثُلُثَ امْتِي فَخَرَرْتُ سَاجِدًا لِرَبِّي شُكْرًا ثُمَّ رَفَعْتُ رَأْسِي فَسَأَلْتُ رَبِّي لِأُمَّتِي فَأَعْطَانِي ثلث أُمَّتِي فَخَرَرْتُ سَاجِدًا لِرَبِّي شُكْرًا

ثُمَّ رَفَعْتُ رَاسِي فَسَأَلْتُ رَبِّي لِأُمَّتِي فَأَعْطَانِي الثُّلُثَ الْآخَرَ فَخَرَرْتُ سَاجِدًا لِرَبِّي رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ.

১১৫৯। সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মক্কা থেকে মদীনার উদ্দেশে বের হলাম। যখন আমরা (মক্কার নিকটবর্তী) আযওয়ারাআ নামক স্থানের কাছাকাছি পৌঁছলাম, তিনি বাহন থেকে নেমে পড়লেন এবং তাঁর দুই হাত তুলে কিছুক্ষণ দু’আ করতে থাকলেন, তারপর সিজদাবনত হলেন, দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন, তারপর উঠলেন এবং আবার দুই হাত তুলে কিছুক্ষণ দু’আ করলেন, তারপর আবার সিজদায় নত হলেন। এভাবে তিনি তিনবার করলেন এবং বললেন: আমি আমার রবের কাছে আবেদন করেছিলাম এবং আমার উম্মাতের জন্য সুপারিশ করেছিলাম। আল্লাহ আমাকে আমার এক-তৃতীয়াংশ উম্মাত (জান্নাতে) দিয়েছেন। আমি আল্লাহর শোকরগুজারী করার জন্য সিজদা করলাম। তারপর আমি মাথা উঠিয়ে আমার উম্মাতের জন্য আমার রবের কাছে আবেদন করলাম। তিনি আমাকে আমার আরো এক-তৃতীয়াংশ উন্মাত (জান্নাতে) দিলেন। এজন্যও আমি শোকরানার সিজদা করলাম। তারপর মাথা তুলে আমার উম্মাতের জন্য (তৃতীয়বার) আমার রবের কাছে আবেদন করলাম। তারপর তিনি আমাকে অবশিষ্ট তৃতীয়াংশ উন্মাত (জান্নাতে) দিলেন। এজন্যও আমি আমার রবের শোকরানা সিজদা করলাম।

ইমাম আবু দাউদ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩৩ – রাত জেগে ইবাদাত করার ফযীলাত

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدُ بِهِ نَافِلَهُ لَكَ عَسَى أَنْ يُبْعَثَكَ رَبُّكَ مقاما محموداً.

মহান আল্লাহ বলেন:

“আর রাতের একটি অংশে তাহাজ্জুদের নামায পড়। তা তোমার জন্য হবে অতিরিক্ত। আশা করা যায়, তোমার রব তোমাকে মাকামে মাহমুদে (প্রশংসিত স্থানে) পৌঁছাবেন।” (সূরা আল ইসরা: ৭৯)

وَقَالَ تَعَالَى : تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ.

“তাদের পিঠ বিছানা থেকে আলাদা হয়ে থাকে।” (সূরা আস-সাজদা : ১৬)

وَقَالَ تَعَالَى : كَانُوا قَلِيلاً مِّنَ اليْلِ مَا يَهْجَعُونَ.

“তারা রাতে খুব কমই শয়ন করে।” (সূরা আয যারিয়াত: ১৭)

ى اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ١١٦٠ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِى يَقُومُ مِنَ اللَّيْلِ حَتَّى تَتَفَطَّرَ قَدَمَاهُ فَقُلْتُ لَهُ لِمَ تَصْنَعُ هُذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَقَدْ غَفِرَ لكَ مَا تَقَدِّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ قَالَ أَفَلا أَكُونُ عَبْدًا

شَكُورًا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَعَنِ الْمُغِيرَةَ بْنِ شُعْبَةَ نَحْوَهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৬০। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের নামাযে এতো দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন, যার ফলে তাঁর পা দু’টো ফেটে গিয়েছিলো। আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন এত কষ্ট করেন? আপনার আগে-পিছের সমস্ত গুনাহ ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন: আমি কি (আল্লাহর) শোকরগুজার বান্দা হবো না?

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর মুগীরা (রা) থেকেও এই একই বিষয়বস্তু সম্বলিত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١١٦١ – وَعَنْ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَرَقَهُ وَفَاطِمَةً لَيْلا فَقَالَ أَلا تُصَلِّمَانِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৬১। আলী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও ফাতিমার কাছে রাতে আসেন এবং বলেনঃ ভোমরা কি রাত্রেয় নামায (ভাজ্যজ্জল) পড় না? ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। ‘তারাঝাই’ অর্থ রাতে আসেন তার কাছে।

١١٦٢ – وَعَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ عَنْ لَمِيْهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نِعْمَ الرَّجُلُ عَبْدُ اللَّهِ لَوْ كَانَ يُصَلِّى مِنَ اللَّيْلِ قَالَ سَالِمٌ فَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بَعْدَ ذَلِكَ لَا يَنَامُ مِنَ اللَّيْلِ إِلَّا

قَلِيلا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

১১৬২। সালিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে তাঁর পিতার (আবদুল্লাহ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আবদুল্লাহ বড় ভালো লোক, যদি সে রাতে নামায পড়তো! সালিম (র) বলেন, এরপর থেকে আবদুল্লাহ রাতের সামান্যক্ষণই ঘুমাতেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١١٦٣ – وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا عَبْدَ اللهِ لا تَكُنْ مِثْلَ فُلانٍ كَانَ يَقُوْمُ اللَّيْلَ فَتَرَكَ قِيَامَ اللَّيْلِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৬৩। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আবদুল্লাহ! অমুকের মতো হয়ো না। প্রথমে তো সে তাহাজ্জুদ পড়তো, তারপর তাহাজ্জুদ পড়া ছেড়ে দিয়েছে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

ى اللهُ عَنْهُ قَالَ ذَكَرَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ١١٦٤ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيا وَسَلَّمَ رَجُلٌ نَامَ لَيْلَةً حَتَّى أَصْبَحَ قَالَ ذَاكَ رَجُلٌ بَالَ الشَّيْطَانُ فِي أَذْنَيْهِ أَوْ قَالَ فِي أُذُنِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৬৪। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে এমন এক ব্যক্তির প্রসংগ উত্থাপিত হলো যে এক রাতে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়েছিলো। তিনি বলেনঃ সে এমন এক ব্যক্তি যার দুই কানে অথবা কানে শয়তান পেশাব করে দিয়েছে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١١٦٥ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلَاثَ عُقَد يَضْرِبُ عَلَى كُلِّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقَدْ فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ تَعَالَى

انْحَلَّتْ عُقْدَةً فَإِنْ تَوَضَّأَ إِنْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَإِنْ صَلَّى انْحَلَتْ عُقْدُهُ كُلُّهَا فَاصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ وَإِلا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلانَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، قَافِيَةُ الرَّأْسِ آخِرُهُ.

১১৬৫। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়লে শয়তান তার ঘাড়ের পেছন দিকে তিনটি গিরা লাগায়। প্রতি গিরায় সে এই (মন্ত্র) পড়ে ফুঁ দেয়: রাত অনেক দীর্ঘ, কাজেই ঘুমাও। যদি (ঘটনাক্রমে) তার চোখ খুলে যায় এবং সে আল্লাহর যিক্র করে তাহলে একটি গিরা খুলে যায়। আর যদি সে উযু করে তাহলে আর একটি গিরা খুলে যায়। এরপর যদি সে নামায পড়ে তাহলে সবগুলো গিরা খুলে যায় এবং সকালে সে হাসিখুশী ও তাজাদম হয়ে উঠে। অন্যথায় তার সকাল হয় মানসিক ক্লেশ ও আলস্যের মধ্য দিয়ে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ‘কাফিয়াতুর রাস’ অর্থ মাথার শেষ অংশ।

١١٦٦ – وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَلَام رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَيُّهَا النَّاسُ أَقْسُوا السَّلامَ وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ وَصَلُّوا بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامِ رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيْثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১১৬৬। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে লোকেরা! সালামের ব্যাপক প্রচলন কর, (অভাবীদের) আহার করাও এবং রাতে লোকেরা যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন তাহাজ্জুদের নামায পড়, তাহলে শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটিকে হাসান হাদীস বলেছেন।

١١٦٧ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرِّمُ وَأَفْضَلُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الفَرِيضَةِ صَلَاةُ اللَّيْلِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৬৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: রমযানের পর সর্বোত্তম রোযা হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররামের রোযা। আর ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হচ্ছে রাতের (তাহাজ্জুদের) নামায।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছন।

١١٦٨ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَاةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خِفْتَ الصُّبْحَ فَاوْتِرُ بِوَاحِدَةٍ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৬৮। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: রাতের নামায হচ্ছে দুই দুই রাক’আত করে। যখন তুমি সকাল হবার আশংকা কর তখন এক রাক’আত বিতর পড়ে নাও।

ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١١٦٩ – وَعَنْهُ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى وَيُؤْتِرُ بِرَكْعَةٍ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৬৯। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের নামায দুই রাক’আত দুই রাক’আত করে পড়তেন এবং এক রাক’আত বিতর পড়তেন।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۱۷۰ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُفْطِرُ مِنَ الشَّهْرِ حَتَّى نَظُنُّ أَنْ لَا يَصُومَ مِنْهُ وَيَصُومُ حَتَّى نَظُنَّ أَنْ لَا يُفْطَرَ مِنْهُ شَيْئًا وَكَانَ لَا تَشَاءُ أَنْ تَرَاهُ مِنَ اللَّيْلِ مُصَلِّبًا إِلَّا رَأَيْتَهُ وَلَا نَائِمًا

إِلَّا رَأَيْتَهُ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১১৭০। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন মাসে একাধারে রোযাহীন থাকতেন। আমাদের মনে হতো তিনি বুঝি এ মাসে কোন রোযাই রাখবেন না। আবার যখন তিনি রোযা রাখা শুরু করতেন তখন মনে হতো এ মাসে বুঝি তিনি ইফতারই করবেন না। যদি আপনি তাঁকে রাতে নামাযরত অবস্থায় দেখতে চান তাহলে তা দেখতে পাবেন, আর যদি নিদ্রারত অবস্থায় দেখতে চান তাহলে তাও দেখতে পাবেন।

ইমাম বুখারী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۱۷۱ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّى إِحْدَى عَشَرَةَ رَكْعَةً تَعْنِي فِي اللَّيْلِ يَسْجُدُ السَّجْدَةَ مِنْ ذَلِكَ قَدْرَ مَا يقْرَأُ أَحَدُكُمْ خَمْسِينَ أَيَةٌ قَبْلَ يَرْفَعَ رَأْسَهُ وَيَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ

صَلَاةِ الْفَجْرِ ثُمَّ يَضْطَجِعُ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْمُنَادِي لِلصَّلَاةِ – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১১৭১। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগারো রাআত নামায পড়তেন (রাতের তাহাজ্জুদ নামায)। এই নামাযে তিনি এত দীর্ঘ সিজদা করতেন যাতে তাঁর মাথা তোলার আগে তোমাদের যে কেউ পঞ্চাশ আয়াত পড়তে পারত। তিনি ফজরের নামাযের আগে দুই রাক’আত পড়তেন, তারপর নিজের ডান কাতে শুয়ে থাকতেন, যেই পর্যন্ত না মুয়াযযিন তাঁকে নামাযের জন্য ডাকতে আসতো।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۱۷۲ – وَعَنْهَا قَالَتْ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَزِيدُ فِي رَمْضَانَ وَلَا فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشَرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّى أَرْبَعًا فَلَا تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّى أَرْبَعًا فَلا تَسْأَلَ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ

يُصَلِّى ثَلاثًا فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُؤْتِرَ فَقَالَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَى تَنَامَانِ وَلَا يَنَامُ قَلْبِي مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৭২। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে, এছাড়া অন্য মাসেও এগারো রা’আতের বেশি পড়তেন না (রাতের তাহাজ্জুদের নামায)। প্রথমে তিনি পড়তেন চার রাক’আত। এই চার রাক’আত নামায যে কী সুন্দর আর কত দীর্ঘ হতো তা আর জিজ্ঞেস করো না। তারপর চার রাক’আত পড়তেন। এ চার রাক্’আত যে কী সুন্দর ও কত দীর্ঘ হতো তা আর জিজ্ঞেস করো না। এরপর পড়তেন তিন রাক’আত। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! বিতর পড়ার আগে কি আপনি ঘুমান? জবাব দিলেনঃ হে আয়িশা! আমার দুই চোখ ঘুমায়, কিন্তু আমার অন্তর ঘুমায় না।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۱۷۳ – وَعَنْهَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَنَامُ أَوَّلَ اللَّيْلِ وَيَقُومُ أُخِرَهُ فَيُصَلِّى – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৭৩। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম রাতে ঘুমিয়ে নিতেন এবং শেষ রাতে জেগে নামায পড়তেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١١٧٤ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً فَلَمْ يَزَلْ قَائِمًا حَتَّى هَمَمْتُ بِأَمْرِ سُوءٍ قِيلَ مَا هَمَمْتَ قَالَ هَمَمْتُ أَنْ أَجْلِسَ وَآدَعَهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৭৪। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায পড়ছিলাম। তিনি এত দীর্ঘ কিয়াম করলেন যে, আমি খারাপ সংকল্প করলাম। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি সংকল্প করেছিলেন? জবাব দিলেন, আমি সংকল্প করেছিলাম যে, আমি তাঁকে একা রেখে বসে পড়বো।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١١٧٥ – وَعَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَافْتَتَحَ الْبَقَرَةَ فَقُلْتُ يَرْكَعُ عِنْدَ الْمِائَةِ ثُمَّ مَضَى فَقُلْتُ يُصَلِّى بِهَا فِي رَكْعَةٍ فَمَضَى فَقُلْتُ يَرْكَعُ بِهَا ثُمَّ افْتَتَحَ النِّسَاءَ فَقَرَأَهَا ثُمَّ

افْتَتَحَ أَلَ عمْرَانَ فَقَرَأَهَا يَقْرَأُ مُتَرَسَلاً إِذا مَرَّ بِآيَةٍ فِيهَا تَسْبِيحَ سَبِّحَ وَإِذَا مَرَّ بِسُؤالٍ سَأَلَ وَإِذَا مَرَّ بِتَعَودَ تَعَوَّذَ ثُمَّ رَكَعَ فَجَعَلَ يَقُولُ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ فَكَانَ رَكُوعُهُ نحوا مِنْ قِيَامِهِ ثُمَّ قَالَ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ

الْحَمْدُ ثُمَّ قَامَ طَوِيلاً قَرِيبًا مِمَّا رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ فَقَالَ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى فَكَانَ سُجُودُهُ قَرِيبًا مِنْ قيامه – رواه مسلم.

১১৭৫। হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায পড়ছিলাম। তিনি সূরা আল বাকারা পড়তে শুরু করলেন। আমি (মনে মনে) বললাম, (হয়তো) তিনি এক শত আয়াতে পৌঁছে রুক্ করবেন। তারপর তিনি এগিয়ে চললেন। আমি (মনে মনে) বললাম, তিনি (হয়তো) এক রাক্’আতে তা পড়বেন। তিনি পড়তে থাকলেন। আমি (মনে মনে) বললাম, (হয়তো) তিনি এ সূরাটি শেষ করে রুকু করবেন। কিন্তু এরপর তিনি সূরা আন্ নিসা শুরু করলেন এবং তা পড়ে ফেললেন, এরপর আলে ইমরান শুরু করলেন এবং তাও শেষ করে ফেললেন। তিনি তারতীল সহকারে (ধীরেসুস্থে থেমে থেমে) কিরাআত পড়ছিলেন। যখন তিনি কোন তাসবীহের আয়াতে পৌঁছতেন তখন তাসবীহ করতেন, কোন প্রার্থনার স্থানে পৌছলে প্রার্থনা করতেন এবং আশ্রয় প্রার্থনার আয়াতে পৌঁছলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তারপর তিনি রুকু করলেন, তাতে তিনি বলতে থাকলেন: সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম (পবিত্রতা বর্ণনা করছি আমি আমার মহান আল্লাহর), তাঁর রুক্‌ও ছিল তাঁর কিয়ামের সমান দীর্ঘ। তারপর তিনি রুকু থেকে মাথা উঠাতে উঠাতে বললেনঃ সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা লাকাল হাম্দ (আল্লাহ শুনেছেন তাঁর প্রশংসাবাণী যে আল্লাহর প্রশংসা করেছে, আমাদের প্রভু! সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্য)। রুকু থেকে উঠে তিনি দীর্ঘ কিয়াম করলেন, প্রায় যত সময় রুকু করেছিলেন তত সময় পর্যন্ত। তারপর তিনি সাজদা করলেন এবং এতে বললেন: সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা (পবিত্রতা বর্ণনা করছি আমি আমার উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন রবের)। তাঁর সাজদাও ছিল প্রায় তাঁর কিয়ামের সমান দীর্ঘ।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١١٧٦ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أي الصَّلاةِ أَفْضَلُ قَالَ طُولُ الْقُنُوتِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ الْمُرَادُ بِالْقُنُوتِ الْقِيَامُ

১১৭৬। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন নামায উত্তম? জবাব দিলেন: যে নামাযে কিয়াম দীর্ঘায়িত হয়।
ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। “আল-কুনূত” অর্থ কিয়াম (নামাযে দাঁড়ানো অবস্থা)।

۱۱۷۷ – وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَحَبُّ الصَّلاةِ إِلَى اللَّهِ صَلَاةُ دَاوُدَ وَأَحَبُّ الصِّيَامِ إلى اللهِ صِيَامُ دَاوُدَ كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيْلِ وَيَقُومُ ثُلُثَهُ وَيَنَامُ سُدُسَهُ

وَيَصُومُ يَوْمًا وَيَقْطَرُ يَوْمًا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৭৭। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেন: আল্লাহর কাছে (নফল নামাযের মধ্যে) প্রিয়তম হচ্ছে দাউদ (আ)-এর (মতো) নামায। আর (নফল রোযার মধ্যে) আল্লাহর কাছে প্রিয়তম হচ্ছে দাউদ (আ)-এর (মতো) রোযা। তিনি রাতের প্রথমার্ধে ঘুমাতেন, রাতের তৃতীয় অংশে উঠে তাহাজ্জুদ পড়তেন, তারপর শেষের ষষ্ঠ অংশে শুয়ে পড়তেন। আর তিনি একদিন রোযা রাখতেন এবং একদিন রোযাহীন কাটাতেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۱۷۸ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ فِي اللَّيْلِ لَسَاعَةً لَا يُوافِقُهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ تَعَالَى خَيْرًا مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ وَذَلِكَ كُلِّ لَيْلَةٍ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৭৮। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ রাতে এমন একটি সময় আছে যখন মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের কোন দু’আ করলে আল্লাহ অবশ্যি তা কবুল করেন।

আর এ সময়টি রয়েছে প্রতি রাতে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۱۷۹ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ فَلْيَفْتَتِحِ الصَّلاةَ بِرَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৭৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন রাতে নামাযের জন্য উঠে তখন যেন সংক্ষেপে দুই রাক্সত (নামায) পড়ে শুরু করে।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۱۸۰ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ افْتَتَحَ صَلَاتَهُ بِرَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৮০। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে নামায পড়তে উঠতেন তখন প্রথমে সংক্ষেপে দুই রাক’আত নামায পড়ে তার (রাতের) নামায শুরু করতেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۱۸۱ – وَعَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا فَاتَتْهُ الصَّلَاةُ مِنَ اللَّيْلِ مِنْ وَجَعِ أَوْ غَيْرِهِ صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَى عَشَرَةَ رَكْعَةً رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৮১। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো রোগজনিত কষ্টের দরুন বা অন্য কোন কারণে রাতের নামায পড়তে না
পারলে দিনের বেলা বারো রাআত পড়ে নিতেন।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۱۸۲ – وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ نَامَ عَنْ حِزْبِهِ أَوْ عَن شَيْءٍ مِنْهُ فَقَرَأَهُ فِيمَا بَيْنَ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَصَلَاةِ الظهْرِ كُتِبَ لَهُ كَأَنَّمَا قَرَأَهُ مِنَ اللَّيْلِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৮২। উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের নির্ধারিত ওযীফা বা ঐ ধরনের কোন কিছু না পড়েই ঘুমিয়ে পড়ে, তারপর যদি তা ফজর ও যুহরের নামাযের মাঝখানে পড়ে, তবে তার জন্য এমন সাওয়াব লেখা হয় যেন সে রাতেই তা পড়েছে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۱۸۳ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَحِمَ اللهُ رَجُلاً قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ فَإِنْ آبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا الْمَاءَ رَحِمَ اللهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّتْ وَأَيْقَظَتُ زَوْجَهَا

فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِي وَجْهِهِ الْمَاءَ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ صَحِيح .

১১৮৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি সদয় হোন, যে রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে তাহাজ্জুদের নামায পড়ে এবং তার স্ত্রীকেও জাগায়, আর স্ত্রী যদি উঠতে দ্বিধা করে তাহলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ সেই মহিলার প্রতি সদয় হোন, যে রাতে ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদের নামায পড়ে এবং নিজের স্বামীকেও জাগায়, আর স্বামী উঠতে দ্বিধা করলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١١٨٤ – وَعَنْهُ وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَيْقَظَ الرَّجُلُ أَهْلَهُ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَيَا أَوْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ جَمِيعًا كُتِبَا فِي الذَّاكِرِينَ وَالذَّاكِرَاتِ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ صَحيح.

১১৮৪। আবু হুরাইরা (রা) ও আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন কোন ব্যক্তি রাতে তার স্ত্রীকে জাগায় এবং তারা দু’জনে তাহাজ্জুদের নামায পড়ে অথবা (তিনি বলেছেন) দুই রাক’আত নামায পড়ে, তাদের দু’জনের নাম যিক্তকারী ও যিকারিণীদের মধ্যে লিখে নেয়া হয়।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱١٨٥ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَرْقُدْ حَتَّى يَذْهَبَ عَنْهُ النَّوْمُ فَإِنْ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى وَهُوَ نَاعِسَ لَعَلَّهُ يَذْهَبُ يَسْتَغْفِرُ فَيَسُبُ نَفْسَهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
১১৮৫। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন তোমাদের কারো নামাযের মধ্যে ঝিমুনী আসে, সে যেন নামায ছেড়ে দিয়ে এতটা ঘুমিয়ে নেয়, যার ফলে তার ঘুম চলে যায়। কারণ যখন তোমাদের কেউ ঝিমাতে ঝিমাতে নামায পড়ে তখন হয়তো সে ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে নিজেকে গালি দিয়ে বসবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١١٨٦ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ فَاسْتَعْجَمَ الْقُرْآنُ عَلَى لِسَانِهِ فَلَمْ يَدْرِ مَا يَقُولُ فَلْيَضْطَجِعْ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৮৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ রাতে ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ পড়তে থাকে, এ অবস্থায় (ঘুমের প্রভাবের কারণে) আল কুরআন পড়া তার মুখে আড়ষ্ট হয়ে পড়ে এবং সে কী বলছে তার কোন খবরই তার না থাকে তাহলে সে যেন শুয়ে পড়ে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩৪ – রমযানে তারাবীহর নামায মুস্তাহাব

۱۱۸۷ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৮৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সাওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে রমযান মাসে রাতে কিয়াম করে তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۱۸۸ – وَعَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُرَغَبُ فِي قِيَامٍ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ فِيْهِ بِعَزِيمَةٍ فَيَقُولُ مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৮৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে নামায পড়ার (তারাবীহ পড়ার) ব্যাপারে কেবল উৎসাহিত করতেন কিন্তু এ ব্যাপারে তাকিদ সহকারে হুকুম দিতেন না। তিনি বলতেন: যে কেউ ঈমান সহকারে ও সাওয়াব হাসিলের উদ্দেশে রমযানে কিয়াম করে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩৫ – লাইলাতুল কদরে ইবাদাত করার ফযীলাত এবং সর্বাধিক আশাপ্রদ রাতের বর্ণনা

قَالَ اللهُ تَعَالَى : إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“নিঃসন্দেহে আমি কুরআন নাযিল করেছি কদরের রাতে”… সূরার শেষ অবধি। (সূরা আল-কদর: ১)

وَقَالَ تَعَالَى : إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَة …

“অবশ্যি আমি কুরআন নাযিল করেছি একটি বরকতপূর্ণ রাতে।” (সূরা আদ-দুখান: ৩)

۱۱۸۹ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدِّمَ مِنْ ذَنْبِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৮৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সাওয়াব হাসিলের উদ্দেশে কদরের রাতে কিয়াম করে তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۱۹۰ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنْ رِجَالاً مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْمَنَامِ فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتُ فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ

فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيْهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৯০। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের মধ্য থেকে কয়েকজনকে রমযানের শেষ সাত রাতে স্বপ্নের মধ্যে শবে কদর দেখানো হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের স্বপ্নে শেষ সাত রাতের ব্যাপারে ঐকমত্য সাধিত হয়েছে। কাজেই যে ব্যক্তি শবে কদর খুঁজতে চায় তার এই শেষ সাত রাতের মধ্যে খোঁজা উচিত।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۱۹۱ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُجَاوِرُ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ وَيَقُولُ تَحَرُّوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১১৯১। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন এবং বলতেন: তোমরা রমযানের শেষ দশ রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ কর।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۱۹۲ – وَعَنْهَا أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تَحَرِّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوَتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১১৯২। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে তোমরা লাইলাতুল কদর তালাশ কর।

ইমাম বুখারী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۱۹۳ – وَعَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ الْأَوَاخِرُ مِنْ رَمَضَانَ أَحْيَا اللَّيْلَ وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ وَجَدٌ وَشَدَّ الْمِنْزَرَ – مَتَّفَقَ عَلَيْهِ .

১১৯৩। আইশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমযানের শেষ দশক শুরু হলে রাসূল্লুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা রাত জাগতেন, নিজের পরিবার-পরিজনকেও জাগাতেন এবং (আল্লাহর ইবাদাতে) খুব বেশি সাধনা ও পরিশ্রম করতেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١١٩٤ – وَعَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْتَهِدُ فِي رَمَضَانَ مَا لَا يَجْتَهِدُ فِي غَيْرِهِ وَفِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْهُ مَا لَا يَجْتَهِدُ فِي غَيْرِهِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৯৪। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে (আল্লাহর ইবাদাতের ক্ষেত্রে) এমন প্রচেষ্টা ও সাধনা করতেন যা অন্য কোন মাসে করতেন না। তিনি তার শেষ দশ দিনে এমন চেষ্টা ও সাধনা করতেন, যা অন্য সময় করতেন না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١١٩٥ – وَعَنْهَا قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأَيْتَ إِنْ عَلِمْتُ أَي لَيْلَةٍ لَيْلَةُ الْقَدْرِ مَا أَقُولُ فِيهَا قَالَ قُوْلِى اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّى رَوَاهُ التَّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১১৯৫। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আমি যদি জানতে পারি কোন্ রাতটি কদরের রাত, তাহলে আমি তাতে কী বলবো? জবাব দিলেন: তুমি বলবে, “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুকুন তুহিব্বুল আওয়া ফা’ফু আন্নী” (হে আল্লাহ! তুমি অবশ্যি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা পছন্দ কর, কাজেই আমাকে ক্ষমা কর)।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিনি একে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩৬ – মিসওয়াক করা ও প্রকৃতিগত স্বভাবের ফযীলাত

١١٩٦ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْ لا أَنْ أَشُقِّ عَلَى أُمَّتِي أَوْ عَلَى النَّاسِ لَأَمَرْتُهُمْ بِالسَّوَاكِ مَعَ كُلِّ صَلَاةَ متفق عليه.

১১৯৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি যদি আমার উম্মাতের কষ্ট হবার আশংকা না করতাম অথবা (বলেছেন) লোকদের কষ্টের ভয় না করতাম,
তাহলে আমি তাদেরকে প্রত্যেক নামাযের জন্য মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۱۹۷ – وَعَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ يَسُوصُ فَاهُ بِالسَّوَاكِ مَتَّفَقٌ عَلَيْهِ السُّوصُ الدُّلْكُ.

১১৯৭। হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জেগে উঠার পর মিসওয়াক দিয়ে মুখ ঘষতেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ‘আশ্-শাওসু’ অর্থ ঘষা বা মাজা।

۱۱۹۸ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كُنَّا نُعِدُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سِوَاكَهُ وَطَهُورَهُ فَيَبْعَثُهُ اللهُ مَا شَاءَ أَنْ يَبْعَثَهُ مِنَ اللَّيْلِ فَيَتَسَولُ وَيَتَوَضَّأُ وَيُصَلِّى – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১১৯৮। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য তাঁর মিসওয়াক ও উযুর পানি তৈরি রাখতাম। আল্লাহ রাতে তাঁকে জাগাতেন যখন চাইতেন। তিনি উঠে মিসওয়াক করতেন, উযূ করতেন এবং নামায পড়তেন।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۱۹۹ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اكْثَرْتُ عَلَيْكُمْ فِي السَّوَاكَ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১১৯৯। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি মিসওয়াকের ব্যাপারে তোমাদেরকে অনেক তাকিদ করেছি।

ইমাম বুখারী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٢٠٠ – وَعَنْ شُرَيْحٍ بْنِ هَانِي قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا بِأَيِّ شَيْءٍ كَانَ يَبْدَأُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ قَالَتْ بِالسَّوَاكِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১২০০। শুরাইহ্ ইবনে হানী (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে প্রবেশ করার পর প্রথমে কোন্ কাজটি করতেন? তিনি জবাব দিলেন, তিনি প্রথমে মিসওয়াক করতেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۲۰۱ – وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَطَرَفَ السَّوَاكِ عَلَى لِسَانِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَهُذَا لَفْظُ مُسْلِم

১২০১। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলাম, তখন তিনি মিসওয়াকের কিনারা দাঁতে লাগিয়ে রেখেছিলেন। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম

হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এখানে সহীহ মুসলিমের মূল পাঠ উদ্ধৃত হয়েছে।

۱۲۰۲ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ السواك مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةً لِلرَّبِّ رَوَاهُ النِّسَائِي وَابْنِ خُزَيْمَةً فِي صَحِيحِهِ باسانيد صحيحة.

১২০২। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মিসওয়াক হচ্ছে মুখের পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম এবং প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের উপায়। ইমাম নাসাঈ ও ইমাম ইবনে খুযাইমা তাঁর আস-সহীহ গ্রন্থে নির্ভুল সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۲۰۳ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْفِطْرَةُ خَمْسٌ أَوْ خَمْ مِنَ الْفِطْرَةِ الْخِتَانُ وَالْاسْتِحْدَادُ وَتَقْلِيمُ الْأَطْفَارِ وَنَتْفُ الابط وقص الشارب. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ – الْاسْتِحْدَادُ حَلْقُ الْعَانَةِ وَهُوَ حَلْقُ الشَّعْرِ الَّذِي حَوْلَ الْفَرْجِ.

১২০৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচটি কাজ স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত: (১) খাতনা করা; (২) লজ্জাস্থানের চুল কাটা; (৩) নখ কাটা; (৪) বগলের চুল কাটা ও (৫) গোঁফ কাটা।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। ‘আল-ইসতিহদাদ’ অর্থ লজ্জাস্থানের চারপাশে গজানো চুলগুলো কেটে ফেলা।

١٢٠٤ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرٌ مِنَ الْفِطْرَةِ قُصُ الشَّارِبِ وَاعْفَاءُ اللَّحْيَةِ وَالسَّوَاكُ وَاسْتَنْشَاقُ الْمَاءِ وَقَصُ الْأَطْفَارِ وَغَسْلُ الْبَرَاجِمِ وَنَتْفُ الْإِبِطِ وَحَلْقُ الْعَانَةِ وَانْتِقَاصُ

الْمَاءِ قَالَ الراوي وَنَسِيتُ الْعَاشِرَةَ إِلَّا أَنْ تَكُونَ الْمَضْمَضَةَ قَالَ وَكِيعٌ وَهُوَ أَحَدُ رُوَاتِهِ انْتِقَاصُ الْمَاءِ يَعْنِي الْإِسْتِنْجَاءَ رَوَاهُ مُسْلِمُ الْبَرَاجِمُ بِالْبَاءِ الْمُوَحْدَةِ وَالْجِيمِ وَهِيَ عُقَدُ الْأَصَابِعِ وَاعْفَاءُ اللَّحْيَةِ مَعْنَاهُ لَا يَقُصُّ مِنْهَا شَيْئًا .

১২০৪। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ}াইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দশটি জিনিস ফিতরাঙতর (মানুষের স্বভাব ধর্মের অন্তর্ভুক্ত। (এক) মোচ কেটে ফেলা, (দুই) দাড়ি বড় করা, (তিন) মিসওয়াক করা, (চার) নাকে পানি দেয়া, (পাঁচ) নখ কাটা, ([স্ম) আঙ্গুলের জোড় ধুয়ে ফেলা, (সাত) বগলের চুল কাটা, (আট) নাভির নীচের চুল কাটা, (নয়) ইসতিনজা করা। বর্ণনাকারী বলেন, দশমটি আমি ভুলে গেছি। সম্ভবত সেটি হবে কুল্লি করা। ওয়াকী (র) বলেন, ‘ইস্তিকাসুল মা’ অর্থ ইসতিনজা করা।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ‘আল-বারাজিম’ বলা হয় আঙ্গুলের জোড়গুলিকে। ‘ইফাউল লিহয়া’ অর্থ দাড়ির কিছুই না কাটা।

١٢٠٥ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أحفُوا الشَّوَارِبَ وَاعْفُوا اللَّحَى – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২০৫। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা মোচ কাট এবং দাড়ি লম্বা কর।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩৭ – যাকাত ওয়াজিব হওয়ার বর্ণনা, তার ফযীলাত এবং এই সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়াবলী

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ .

মহান আল্লাহ বলেন:

“তোমরা নামায কায়েম কর এবং যাকাত আদায় কর।” (সূরা আল-বাকারা: ৪৩)

وَقَالَ تَعَالَى : وَمَا أُمِرُوا إِلا لِيَعْبُدُوا اللهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ.

“তারা আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদাত করতে, নামায কায়েম করতে ও যাকাত দিতে আদিষ্ট হয়েছিল। এটিই হচ্ছে সোজা-সঠিক দীন।” (সূরা আল-বায়্যিনাহঃ ৫)

وَقَالَ تَعَالَى : خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةٌ تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ.

“তাদের ধন-সম্পদ থেকে সাদাকা গ্রহণ কর, যার সাহায্যে তুমি তাদেরকে গুনাহমুক্ত করবে এবং তাদেরকে পাক-পবিত্র করবে।” (সূরা আত্-তাওবা: ১০৩)

١٢٠٦ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بُنِي الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَحَجَ الْبَيْتِ وَصَوْمِ رَمَضَانَ مُتَّفَقٌ

عَلَيْهِ.

১২০৬। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পাঁচটি বস্তুর উপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত। এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; নামায কায়েম করা; যাকাত আদায় করা; বাইতুল্লাহ্র হজ্জ করা এবং রমযানের রোযা রাখা।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۲۰۷ – وَعَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ قَائِرُ الرَّأْسِ نَسْمَعُ دَوِي صَوْتِهِ وَلَا نَفْقَهُ مَا يَقُوْلُ حَتَّى دَنَا مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا هُوَ

يَسْأَلُ عَنِ الْإِسْلَامِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَمْسُ صَلَوَاتِ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ قَالَ هَلْ عَلَى غَيْرُهُنَّ قَالَ لَا إِلا أَنْ تَطَوَّعَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِيَامُ شَهْرٍ رَمَضَانَ قَالَ هَلْ عَلَى غَيْرُهُ قَالَ

لَا إِلا أَنْ تَطَوَّعَ قَالَ وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الزَّكَاةَ فَقَالَ هَلْ عَلَى غَيْرُهَا قَالَ لَا إِلا أَنْ تَطَوَّعَ فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ وَاللهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هذا وَلَا انْقُصُ مِنْهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْلَحَ إِنْ

صَدَقَ – مَتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২০৭। তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক নজদবাসী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলেন। তাঁর মাথার চুলগুলো ছিল এলোমেলো। তাঁর আওয়াজ আমাদের কানে আসছিল। কিন্তু (দূরত্বের কারণে) তিনি কি বলছিলেন তা বুঝা যাচ্ছিল না। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী হয়ে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জবাবে বললেন: তামাম রাতদিনে পাঁচ বার নামায (ফরয)। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এগুলো ছাড়া আরো কি আমার উপর ফরয? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন: না, তবে তুমি চাইলে নফল নামায পড়তে পার।

তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: রমযানের রোযাও (ফরয)। লোকটি জিজ্ঞেস করলেন, এছাড়া আরও কি আমার উপর ফরয? জবাব দিলেন: না, তবে ইচ্ছা করলে নফল রোযা রাখতে পার। (এরপর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সামনে যাকাতের কথা বললেন। লোকটি জিজ্ঞেস করলেন, এছাড়া আর কোন কিছু কি আমার উপর ফরয? জবাব দিলেন: না, তবে যদি তুমি চাও নফল দান-খয়রাত করতে পার। অতঃপর লোকটি এ কথা বলতে বলতে চলে গেলেন, আল্লাহর কসম! আমি এর উপর কিছু বাড়াবো না এবং এর থেকে কিছু কমাবোও না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যদি এ ব্যক্তি সত্যবাদী হয়ে থাকে তাহলে সে সফলকাম হয়ে গেছে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۲۰۸ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ مُعَاذَا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ ادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَإِنِّي رَسُولُ اللهِ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذلِكَ فَأَعْلِمُهُمْ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى

افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ فَأَعْلِمُهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২০৮। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু’আয (রা)-কে ইয়ামনে পাঠান এবং তাঁকে বলেনঃ তাদেরকে (ইয়ামানবাসী) “আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং আমি তাঁর রাসূল” এ কথার সাক্ষ্য দেয়ার দাওয়াত দাও। যদি তারা এ ব্যাপারে তোমার আনুগত্য করে (দাওয়াত গ্রহণ করে এবং মুসলিম হয়ে যায়) তাহলে তাদেরকে জানাও যে, আল্লাহ দিন-রাতে তাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। এ ব্যাপারেও যদি তারা তোমার আনুগত্য করে তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে নিয়ে তাদের দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۲۰۹ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمِرْتُ أَنْ أَقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ فَإِذَا فَعَلُوْا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي

دِمَاتَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّ الْإِسْلَامِ وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২০৯। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমাকে লোকদের সাথে যুদ্ধ করার হুকুম দেয়া হয়েছে যে পর্যন্ত না তারা এ কথার সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর যে পর্যন্ত না তারা নামায কায়েম করে ও যাকাত দেয়। তারা এগুলো করলে তাদের রক্ত ও সম্পদকে তারা আমার থেকে নিরাপদ করে নিল এবং তাদের হিসাব-নিকাশ হবে আল্লাহর কাছে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۲۱۰ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا تُوفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ

عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمِرْتُ أَنْ أَقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَمَنْ قَالَهَا فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلَّا بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللهِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَاللَّهِ لَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرِّقَ بَيْنَ الصلاة والزَّكَاةِ فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ وَاللهِ لَوْ

مَنْعُوْنِي عِقَالَا كَانُوا يُؤَدُّونَهُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهِ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قوَ اللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَأَيْتُ اللَّهَ قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرِ لِلْقِتَالِ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২১০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের পর আবু বাক্স (রা) তাঁর স্থলে মুসলিমদের খালীফা হলেন এবং আরবে যাদের কুফর করার ছিল তারা কুফর করলো (এবং আবু বাক্স তাদের সাথে লড়াই করার সংকল্প করলেন)। উমার (রা) বললেন, আপনি কেমন করে লোকদের সাথে লড়াই করবেন? কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমাকে লোকদের সাথে লড়াই করার হুকুম দেয়া হয়েছে, যে পর্যন্ত না তারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু-এর স্বীকারোক্তি করে। তারপর যে ব্যক্তি এ স্বীকারোক্তি করে সে তার সম্পদ ও প্রাণ আমার হাত থেকে নিরাপদ করে নেয়, তবে ইসলামের হক ছাড়া, আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে। আবু বাক্স (রা) বললেন, আল্লাহর কসম! যে ব্যক্তি নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে আমি অবশ্যি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। কারণ যাকাত হচ্ছে সম্পদের হক। আল্লাহর কসম! তারা যদি আমাকে উটের গলার একটি রশি দিতেও অস্বীকার করে, যা তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানা পর্যন্ত দিয়ে এসেছে, তাহলে আমি তাদের এ অস্বীকৃতির জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। উমার (রা) বলেন, আল্লাহর কসম! আমি দেখলাম, আল্লাহ আবু বাক্রের হৃদয়কে যুদ্ধের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। আমি বুঝতে পারলাম, আবু বাক্সের সিদ্ধান্তই সঠিক।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۲۱۱ – وَعَنْ أَبِي أَيُّوبَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَجُلا قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اخْبِرْنِي بِعَمَلٍ يُدْخِلْنِي الْجَنَّةَ قَالَ تَعْبُدُ اللَّهَ لَا تُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمُ الصَّلاةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ وَتَصِلُ الرَّحِمَ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২১১। আবু আইউব (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললো, আমাকে এমন আমলের কথা জানান, যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন: তুমি আল্লাহর ইবাদাত কর, তাঁর সাথে আর কোন কিছুকে শরীক করো না, নামায কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۲۱۲ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ أَعْرَابِيًّا أَتَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ دَلَّنِي عَلَى عَمَلٍ إِذَا عَمِلْتُهُ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ قَالَ تَعْبُدُ اللَّهَ لا تُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمُ الصَّلاةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ

وَتَصُومُ رَمَضَانَ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هذا فَلَمَّا وَلَّى قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَلْيَنْظُرُ إِلَى هَذَا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২১২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন, যা করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো। তিনি বলেন: আল্লাহর ইবাদাত কর, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না, নিয়মিত নামায পড়, ফরয যাকাত আদায় কর এবং রমযানের রোযা রাখ। সে ব্যক্তি বললো, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি এর উপর কিছুই বাড়াবো না। তারপর যখন সে ফিরে যেতে লাগলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি জান্নাতের কোন অধিবাসীকে দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন ঐ লোকটিকে দেখে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۲۱۳ – وَعَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ بَايَعْتُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى اقام الصلاة وإيتاء الزكاةِ وَالنَّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২১৩। জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে বাই’আত গ্রহণ করেছিলাম নামায কায়েম করা, যাকাত আদায় করা এবং প্রত্যেক মুসলিমের সাথে সদিচ্ছাপূর্ণ ব্যবহার করার (বা কল্যাণ কামনার) জন্য।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٢١٤ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ صاحب ذهب ولا فضة لا يُؤَدِّى مِنْهَا حَقَّهَا إِلَّا إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ صُفْحَتْ لَهُ صَفَائِحُ مِنْ نَارٍ فَأَحْمِي عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَيُكْوى

بِهَا جنبهُ وَجَبِيتُهُ وظهره كُلَّمَا بَرَدَتْ أعبدَتْ لَهُ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ الْفَ سنَةٍ حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ الْعِبَادِ فَيَرَى سَبِيلَهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِمَّا إِلَى النَّارِ قَبْلَ يَا رَسُولَ اللهِ فَالابلُ قَالَ وَلا صَاحِب ابل لا يُؤَدِّي مِنْهَا حَقَّهَا

وَمِنْ حَقِهَا حَلْبُهَا يَوْمَ وردها الا اذا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ بُطْعَ لَهَا بقَاعٍ قَرْقَرٍ أَوْفَرَ مَا كَانَتْ لَا يَفْقِدُ منها فصيلاً واحداً تطوهُ بِاخْفَافِهَا وَتَعَضُهُ بأَفْوَاهِهَا كُلَّمَا مَنْ عَلَيْهِ أَوْلَاهَا رُدَّ عَلَيْهِ أَخْرَاهَا فِي يَوْمٍ كَانَ مِقدارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ

حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ الْعِبَادِ فَبَرَى سَبِيلُهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَأَمَّا إِلى النَّارِ قَبْلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَالْبَقَرُ وَالْغَنَمُ قَالَ ولا صاحب بقرٍ ولا عَلَم لا يُؤَدِّى مِنْهَا حَقَّهَا إِلا إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ بُطِحَ لَهَا بقاع قرقر لا يَفْقِدُ مِنْهَا شَيْئًا لَيْسَ فِيهَا .

فِيهَا عَقْصاءُ وَلَا جَلْحَاءُ وَلَا عَضْيَاءُ تَنْطِعُهُ بقرونها وتطوه بأغلافها كُلَّمَا مَرَّ عَلَيْهِ أَوْلاهَا رُدَّ عَلَيْهِ أَخْرَاهَا فِي يَوْمٍ كَانَ مقداره خمسين الف سَنَةٍ حَتَّى يُقضى بَيْنَ العِبَادِ فَيَرَى سَبِيْلُهُ أَمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وإما إِلَى النَّارِ قَبْلَ يَا

رَسُولَ اللَّهِ فَالْخَيْلُ قَالَ الْخَيْلُ ثَلَاثَةٌ هِيَ لِرَجُلٍ وِزْرَ وَهِيَ لِرَجُلٍ سِتْر وَهِيَ لِرَجُلٍ أَجْرٌ فَأَمَّا الَّتِي هِيَ لَهُ وِزْرَ فَرَجُلٌ رَبِّطَهَا رِيَاءٌ وَفَخَرا ونواءٌ عَلَى أَهْلِ الْإِسْلامِ فَهِيَ لَهُ وِزْرَ وَأَمَّا الَّتِي هِيَ لَهُ سِتْرَ فَرَجُلٌ رَبِّطَهَا فِي سَبِيلِ

اللهِ ثُمَّ لَمْ يَنْسَ حَقَّ اللَّهِ فِي ظُهُورِهَا وَلَا رِقَابِهَا فَهِيَ لَهُ سِتْرٌ وَأَمَّا الَّتِي هِيَ لَهُ أَجْرٌ فَرَجُلٌ رَبِّطَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ لِأَهْلِ الْإِسْلَامِ فِي مَرْجِ أَوْ رَوْضَةٍ فَمَا اكلَتْ مِنْ ذَلِكَ الْمَرْجِ أَوِ الرُّوضَةِ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا كُتِبَ لَهُ عَدَدَ مَا أَكَلَتْ

حَسَنَاتِ وَكُتِبَ لَهُ عَدَدَ أَزْوَائِهَا وَأَبْوَالِهَا حَسَنَاتٍ وَلَا تَقْطَعُ طُولَهَا فَاسْتَنَّتْ شَرَفًا أَوْ شَرْفَيْنِ إِلا كَتَبَ اللهُ لَهُ عَدَدَ آثَارِهَا وَأَزْوَائِهَا حَسَنَاتٍ وَلَا مَرْ بِهَا صَاحِبُهَا عَلَى نهر فَشَرِبَتْ مِنْهُ وَلَا يُرِيدُ أَنْ يَسْقِيهَا إِلا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ عَدَدَ مَا

شَرِبَتْ حَسَنَاتٍ . قبْلَ يَا رَسُولَ اللهِ فَالْحُمُرُ قَالَ مَا أُنْزِلَ عَلَى فِي الْحُمُرِ شَيْيٌّ إِلَّا هَذِهِ الْآيَةُ الْفَاذْةُ الْجَامِعَةُ فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يُعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَراً يرهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَهَذَا لَفْظُ مُسْلِم

১২১৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: স্বর্ণ ও রৌপ্যের যে কোন মালিক নিজের মালের হক (যাকাত) আদায় করে না (তার জেনে রাখা উচিত), কিয়ামাতের দিন সেই স্বর্ণ ও রৌপ্যকে আগুনে জ্বালিয়ে তা দিয়ে তখতি বানানো হবে, তারপর তাকে জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে এবং ঐ ব্যক্তির পার্শ্বদেশ, কপাল ও পিঠ তা দিয়ে দাগানো হবে। যখনই ঐ তর্তিগুলো ঠাণ্ডা হয়ে যাবে সংগে সংগেই সেগুলিকে আবার জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে এবং তাকে বরাবর দাগানো হতে থাকবে সেই দিন, যার দৈর্ঘ্য হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান, অবশেষে লোকদের বিচারপর্ব সম্পন্ন হয়ে যাবে এবং তারা জান্নাত বা জাহান্নামের পথ দেখতে পাবে।

জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল। তাহলে উটের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত? জবাব দিলেন: উটের ব্যাপারেও, যদি কোন উটের মালিক তার হক আদায় না করে থাকে (তাহলে তারও সেই দশা)। আর তার হকের মধ্যে (যাকাত ছাড়া) একটি হক হচ্ছে যেদিন তাদেরকে পানি পান করার জন্য আনা হয় সেদিনকার দুধ (সাদাকা করে দেয়া)। (যদি সে তাদের হক আদায় না করে তাহলে) কিয়ামাতের দিন একটি পরিষ্কার ও সমতল ময়দানে তাকে (উটের মালিক) উটগুলির পায়ের নীচে উপুড় করে ফেলে দেয়া হবে। ঐ উটগুলি হবে অত্যন্ত শক্তিশালী ও মোটা এবং তাদের সংখ্যা একটিও কম হবে না। তারা সবাই নিজেদের পায়ের তলায় তাকে মাড়াবে ও দাঁত দিয়ে তাকে কামড়াবে। যখন একদিক দিয়ে খতম হয়ে যাবে, তখন আবার একই প্রক্রিয়া শুরু করবে সেই দিন যে দিনটি হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান দীর্ঘ, এমনকি লোকদের বিচার পর্ব শেষ হয়ে যাবে এবং তারা নিজেদের জান্নাত ও জাহান্নামের পথ দেখতে পাবে।

জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! গরু ও ছাগলের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত? জবাব দিলেন: যে গরু ও ছাগলের মালিক তাদের যাকাত আদায় করবে না তাকেও কিয়ামাতের দিন একটি পরিষ্কার ও সমতল ময়দানে ঐ গরু ও ছাগলগুলির পায়ের তলায় উপুড় করে ফেলে দেয়া হবে। তারা সবাই হাজির থাকবে, একটিও হারিয়ে যাবে না। তাদের একটিরও শিং পেছন দিকে মোড়ানো থাকবে না, একটিও শিংবিহীন হবে না এবং একটিরও শিং ভাঙা হবে না। তারা নিজেদের শিং দিয়ে তাকে গুতাতে থাকবে এবং পায়ের খুর দিয়ে মাড়াতে থাকবে। যখন একদিক দিয়ে শেষ হয়ে যাবে, তখন চক্রাকারে আবার শুরু করবে সেই দিন যে দিনটি হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান দীর্ঘ। অবশেষে লোকদের বিচার পর্ব শেষ হয়ে যাবে এবং তারা নিজেদের জান্নাত বা জাহান্নামের পথ দেখতে পাবে।

জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! ঘোড়ার ব্যাপারে কি বলেন? জবাব দিলেন: ঘোড়া তিনভাগে বিভক্ত। কিছু ঘোড়া তো তাদের মালিকদের জন্য পাপে পরিণত হবে। কিছু ঘোড়া তাদের মালিকদের জন্য আবরণ হবে। আর কিছু ঘোড়া হবে তাদের মালিকদের জন্য প্রতিদান। যেসব ঘোড়া তার মালিকের জন্য বোঝা ও গুনাহে পরিণত হবে তা হচ্ছে সেই সব ঘোড়া যেগুলোকে মালিক নেহায়েত লোক দেখাবার জন্য, গর্ব করার জন্য ও মুসলিমদের ক্ষতি করার জন্য পালন করে। এ ধরনের ঘোড়া তার জন্য পাপ। আর যেসব ঘোড়া তার মালিকের জন্য আবরণ হবে, তা হচ্ছে এমন সব ঘোড়া যেগুলোকে মালিক পালন করে আল্লাহর হুকুম মুতাবিক, তারপর তাদের পিঠ ও ঘাড়ের ব্যাপারে আল্লাহ যে হক নির্ধারণ করেছেন তাও বিস্মৃত হয় না (অন্যকে আরোহণ করায়)। এ ধরনের ঘোড়া হচ্ছে মালিকের জন্য আবরণ। আর যেসব ঘোড়া তাদের মালিকের জন্য প্রতিদান ও সাওয়াবের কারণ তা হচ্ছে, যেগুলোকে তাদের মালিক আল্লাহর পথে নিছক মুসলিমদের (জিহাদের) জন্য সবুজ-শ্যামল চারণক্ষেত্রে অথবা বাগানে ছেড়ে দেয়। প্রতিদিন তারা ঐ চারণক্ষেত্র বা বাগানে যে পরিমাণ ঘাসপাতা খায় তার প্রতিটি ঘাসের ও পাতার বিনিময়ে আল্লাহর কাছে একটি নেকী লেখা হয়। আর সারাদিন তারা যতবার পেশাব করে ও মলত্যাগ করে ততবারই তার জন্য একটি নেকী লেখা হয়। আর তারা পাহাড়ের টিলায় লাফালাফি ঝাঁপাঝাঁপি করে সারা দিনে যেসব দড়ি ছেঁড়ে তার বদলায় আল্লাহ তাদের প্রতিটি পায়ের দাগ ও পদক্ষেপের পরিমাণ নেকী লেখেন। আর যখন এই ঘোড়ার মালিক তাদেরকে পানির ঝরনার কাছ দিয়ে নিয়ে যায় এবং তারা পানি পান করে, যদিও তাদের মালিকের ঘোড়াকে পানি পান করাবার উদ্দেশ্য ছিল না, তবুও আল্লাহ তাদের প্রতি ঢোক পানির বদলে মালিকের নামে একটি করে নেকী লেখেন।

জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! গাধার ব্যাপারে কি বলেন? জবাব দিলেন: গাধার ব্যাপারে আমার কাছে কোন হুকুম আসেনি, তবে এ সম্পর্কে আল কুরআনের একটি নজির ও ব্যাপক অর্থব্যঞ্জক আয়াত আমার কাছে আছে। আয়াতটি হচ্ছেঃ “যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ ভালো কাজ করবে (কিয়ামতের দিন) সে তা দেখতে পাবে আর যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে তাও (সেদিন) সে দেখতে পাবে।” (সূরা আয যিলযাল : ৫)

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, আর এখানে মুসলিমের মূল পাঠ সন্নিবেশিত হয়েছে।

অনুচ্ছেদ: ৩৮ – রমযানের রোযা ফরয এবং রোযার ফযীলাত ও তার আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ

قَالَ اللهُ تَعَالَى : بَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ إِلَى قَوْلِهِ تَعَالَى : شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وبَيِّنَاتِ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمُهُ

وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরয করা হয়েছিল… এই রমযান মাসেই আল কুরআন নাযিল করা হয়েছিল, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য জীবন যাপনের বিধান এবং তা সুস্পষ্ট উপদেশাবলীতে পরিপূর্ণ। কাজেই যে ব্যক্তি এ মাসের সম্মুখীন হবে, তার জন্য এই পূর্ণ মাসের রোযা রাখা একান্ত কর্তব্য, আর যদি কেউ অসুস্থ হয় কিংবা সফরে রত থাকে তাহলে সে যেন অন্য দিনগুলোয় এই রোযার সংখ্যা পূর্ণ করে।” (সূরা আল-বাকারা : ১৮৩-১৮৫)

এ সম্পর্কিত বেশীর ভাগ হাদীস আগের অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।

١٢١٥ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهِ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلٌ كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ وَالصِّيَامُ جُنَّةً فَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلَا يَرْفُتُ وَلَا يَصْخَبُ فَإِنْ

سَابُهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفٌ قَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ يَفْرَحُهُمَا إِذَا أَقْطَرَ فَرِحَ بِفَطْرِهِ وَإِذَا لَقِيَ رَبَّهُ فَرِحَ بِصَوْمِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وهذا لفظ رِوَايَةِ

الْبُخَارِي وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ يَتْرُكُ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِي الصِّيَامُ لِي وَأَنَا أَجْزِئُ بِهِ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا . وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلى سَبْعِ مِائَةٍ ضِعْفَ قَالَ اللَّهُ

تَعَالَى إِلا الصَّومَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِى بِهِ يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ وَلَخُلُوْفُ فِيهِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ ريح المشك.

১২১৫। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন, আদম সন্তানের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য, রোযা ছাড়া। কারণ তা আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দেব। আর রোযা ঢালস্বরূপ। কাজেই তোমাদের কেউ যখন রোযা রাখে সে যেন অশ্লীল কাজ না করে, শোরগোল না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা তার সাথে ঝগড়া করে তাহলে তার বলা উচিত, আমি রোযাদার। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর কসম। রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের চাইতেও সুগন্ধযুক্ত। রোযাদারের দু’টি আনন্দ, যা সে লাভ করবে। একটি হচ্ছে, সে ইফতারের সময় খুশী হয়। আর দ্বিতীয় আনন্দটি সে লাভ করবে যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাত করবে, তখন সে তার রোযার কারণে আনন্দিত হবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আর এখানে সহীহ বুখারীর মূল পাঠ দেয়া হয়েছে। ইমাম বুখারীর আর এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: রোযাদার আমারই কারণে তার আহার, পানীয় ও যৌন কামনা ত্যাগ করেছে। রোযা আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দেবো। আর (অন্য) নেকীগুলির সাওয়াব দশ গুণ হবে। ইমাম মুসলিম এক রিওয়ায়াতে বলেছেন, বনী আদমের প্রতিটি আমলের সাওয়াব বাড়ানো হয়, এক নেকীর সাওয়াব দশ গুণ থেকে সাতশো গুণ পর্যন্ত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: তবে রোযা ছাড়া (রোযার সাওয়াবের কোন সীমা নেই)। কারণ রোযা হচ্ছে আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দেবো। রোযাদার আমারই জন্য যৌন কামনা ও আহার ত্যাগ করে। রোযাদারের জন্য দু’টি আনন্দ। একটি আনন্দ হচ্ছে ইফতারের সময়। আর দ্বিতীয় আনন্দটি হবে তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। তার মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের চাইতেও সুগন্ধিযুক্ত।

١٢١٦ – وَعَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ نُودِيَ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَا عَبْدَ اللَّهِ هُذَا خَيْرٌ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلاةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلاةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ

بَابِ الْجِهَادِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرِّيَانِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهِ عَنْهُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللهِ مَا عَلَى مَنْ دُعِيَ مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ مِنْ ضَرُورَةٍ فَهَلْ

يُدْعَى أَحَدٌ مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ كُلِّهَا قَالَ نَعَمْ وَأَرْجُوا أَنْ تَكُوْنَ مِنْهُمْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২১৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একটি জোড়া (কোন জিনিস) দান করবে তাকে জান্নাতের দরজা থেকে এই বলে ডাকা হবে: হে আল্লাহর বান্দা। এই যে এই দরজাটি তোমার জন্য ভালো। কাজেই নামাযীদেরকে নামাযের দরজা থেকে ডাকা হবে। মুজাহিদদেরকে ডাকা হবে জিহাদের দরজা থেকে। রোযাদারদেরকে ডাকা হবে রাইয়্যান (তরতাজা) দরজা থেকে। সাদাকাদাতাদেরকে ডাকা হবে সাদাকার দরজা থেকে। আবু বাক্স (রা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার বাপ-মা আপনার জন্য কুরবান হোক, যে ব্যক্তিকে এ সবগুলি দরজা থেকে ডাকা হবে, যদিও এর কোন প্রয়োজন নেই, তবুও কাউকে কি ঐ সবগুলি দরজা থেকে ডাকা হবে? জবাব দিলেন: হাঁ, আর আমি আশা করি তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۲۱۷ – وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهِ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرِّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرَهُمْ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَقُومُونَ لَا يَدْخُلُ مِنْهُ

أَحَدٌ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلُوا أُعْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২১৭। সাহল ইবনে সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাতের একটি দরজা আছে। তাকে বলা হয় রাইয়্যান। কিয়ামাতের দিন এই দরজা দিয়ে কেবলমাত্র রোযাদাররা প্রবেশ করবে। তারা ছাড়া আর কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। বলা হবে, রোযাদাররা কোথায়? তখন রোযাদাররা দাঁড়িয়ে যাবে। সেই দরজা দিয়ে তারা ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করবে না। যখন তারা সবাই ভেতরে প্রবেশ করবে তখন দরজাটি বন্ধ করে দেয়া হবে এবং তারপর এই দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করবে না।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۲۱۸ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهِ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ عَبْدِ يَصُومُ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلَّا بَاعَدَ اللَّهُ بِذَلِكَ الْيَوْمِ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২১৮। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একটি রোযা রাখে, তার এই একটি দিনের বদৌলতে আল্লাহ তাকে (জাহান্নামের) আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۲۱۹ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ الله عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২১৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি পূর্ণ ঈমান সহকারে ও সাওয়াব লাভের প্রত্যাশায় রমযানের রোযা রাখে তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۲۲۰ – وَعَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَخُلِقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَصُفَدَتِ الشَّيَاطِينُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .

১২২০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন রমযান মাস আসে, জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদেরকে শৃংখলিত করে রাখা হয়।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۲۲۱ – وَعَنْهُ أَنْ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَقْطَرُوا الرُّؤْيَتِهِ فَإِنْ غَبِي عَلَيْكُمْ فَاكْمِلُوا عِدَّةَ شَعْبَانَ ثَلاثِينَ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ . وَهُذَا لَفْظُ الْبُخَارِيِّ ، وَفِي رِوَايَةِ مُسْلِمٍ فَإِنْ غُمْ عَلَيْكُمْ فَصُومُوا ثَلاثِينَ

يَوْمًا .

১২২১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোযার (মাসের) সমাপ্তি কর। আর যদি মেঘের আড়ালের কারণে চাঁদ দেখা না যায় তাহলে শাবান মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ কর।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর এখানে সহীহ বুখারীর মূল পাঠ দেয়া হয়েছে। মুসলিমের একটি রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: যদি তোমাদের উপর মেঘ ছেয়ে যায় তাহলে ত্রিশ দিন রোযা রাখ।

অনুচ্ছেদ: ৩৯ – রমযান মাসে দান, সৎকর্ম ও বেহিসাব নেক আমলের তাকিদ এবং বিশেষ করে শেষ দশ দিনে এগুলো করা

۱۲۲۲ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهِ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ وَكَانَ أَجْوَدَ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ وَكَانَ جِبْرِيلُ يَلْقَاهُ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ فَلَرَسُولُ

اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِيْنَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২২২। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। বিশেষ করে রমযান মাসে তাঁর দানশীলতা আরো বেশি বেড়ে যেতো, যখন জিবরীল (আ) তাঁর সাথে সাক্ষাত করতেন। জিবরীল (আ) তাঁর সাথে রমযানের প্রতি রাতে দেখা করতেন এবং তাঁকে আল কুরআন শেখাতেন [ অর্থাৎ সে সময় পর্যন্ত কুরআনের যে পরিমাণ আয়াত নাযিল হয়েছিল সেগুলি জিবরীল আলাইহিস সালাম তাঁকে পড়ে শুনাতেন। এরপর রাসূলও সেগুলি পড়তেন। এভাবে বারবার পড়ার কারণে আল কুরআন নির্ভুলভাবে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কণ্ঠস্থ থাকতো ] । জিবরীল (আ) যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দেখা করতেন, তখন তাঁর দানশীলতা বৃষ্টি আনয়নকারী বাতাসের চাইতেও বেশি হয়ে উঠতো।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۲۲۳ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ الله عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ أَحْيَ اللَّيْلَ وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ وَشَدَّ الْمِنْزَرَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২২৩। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমযানের শেষ দশ দিনের আগমনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে (সারা) রাত জাগতেন, নিজের পরিবারের লোকদেরকেও জাগাতেন এবং আল্লাহর ইবাদাতে খুব বেশি নিমগ্ন হয়ে যেতেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪০ – অর্ধ শাবানের পর থেকে রমযানের পূর্ব পর্যন্ত রোযা রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা, তবে যার পূর্বের সাথে মিলাবার অভ্যাস হয়ে গেছে অথবা যে ব্যক্তি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতে অভ্যস্ত সে ঐ দিনগুলোয় রোযা রাখতে পারে

١٢٢٤ – عن الله عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ الله . يَتَقَدِّ مَنْ أَحَدُكُمْ رَمَضَانَ بِصَوْمٍ يَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ إِلا أَنْ يَكُونَ رَجُلٌ كَانَ يَصُومُ صَوْمَهُ فَلْيَصُمْ ذَلِكَ الْيَوْمَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২২৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন রযমানের একদিন বা দু’দিন আগে রোযা না রাখে। তবে যে ব্যক্তির ঐ দিনগুলোয় রোযা রাখার অভ্যাস হয়ে গেছে সে ঐ দিনগুলোয় রোযা রাখতে পারে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٢٢٥ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهِ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَصُومُوا قَبْلَ رَمَضَانَ صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَقْطَرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ حَالَتْ دُونَهُ غَيَايَةٌ فَاكْمِلُوا ثَلاثِينَ يَوْمًا – رَوَاهُ التَّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيْثٌ حَسَنٌ

صَحِيحٌ الْغَيَايَةُ بِالْغَيْنِ الْمُعْجَمَةِ وَبِالْيَاءِ الْمُثَنَّاةِ مِنْ تَحْتِ الْمُكَرِّرَةِ وَهِيَ السَّحَابَةُ.

১২২৫। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা রমযানের আগে রোযা রেখো না, বরং চাঁদ দেখে রোযা রাখ এবং চাঁদ দেখে শেষ কর। যদি তোমাদের ও চাঁদের মাঝখানে মেঘ প্রতিবন্ধক হয়ে যায় তাহলে ত্রিশ দিন পূর্ণ কর।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিনি এটিকে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন। “আল-গায়ায়াতু” শব্দটির অর্থ বাদল বা মেঘ।

١٢٢٦ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهِ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا بَقِي نِصْفٌ مِنْ شَعْبَانَ فَلَا تَصُومُوا – رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১২২৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন শাবান মাসের অর্ধেক বাকি থাকে তখন তোমরা আর রোযা রেখো না।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং এটিকে হাসান ও সহীহ বলেছেন।

۱۲۲۷ – وَعَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ رَضِيَ اللَّهِ عَنْهُمَا قَالَ مَنْ صَامَ الْيَوْمَ الَّذِي يُشَكٍّ فِيْهِ فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – رَوَاهُ أَبُو داود والترْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১২২৭। আবুল ইয়াকযান আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সন্দেহের দিন (মেঘের কারণে চাঁদ না দেখা যাওয়ায় যে দিন রোযা রাখা সন্দেহযুক্ত) রোযা রাখে, সে আবুল কাসিম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাফরমানী করে।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান হাদীস বলেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪১ – চাঁদ দেখে যে দু’আ পড়তে হয়

۱۲۲۸ – عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهِ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا رَأَى الْهِلَالَ قَالَ اللَّهُمَّ اهْلَهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالْإِسْلَامِ رَبِّي وَرَبُّكَ اللهُ هِلَالُ رُشْدٍ وَخَيْرٍ – رَوَاهُ التَّرْمِذِيُّ حَدِيثٌ

حَسَنٌ.

১২২৮। তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রথম রাতের চাঁদ দেখতেন তখন বলতেন: আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু ‘আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বী ওয়া রাব্বুকাল্লাহু হিলালু রুশদিন ওয়া খাইর (হে আল্লাহ! এই চাঁদকে আমাদের উপর উদিত কর নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে। (হে চাঁদ) আমার ও তোমার প্রভু একমাত্র আল্লাহ। (হে আল্লাহ।) এ চাঁদ যেন সঠিক পথের ও কল্যাণের চাঁদ হয়।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪২ – সাহরী খাওয়ার ফযীলাত এবং ফজর উদয়ের আশংকা না হওয়া পর্যন্ত দেরী করে সাহরী খাওয়া মুস্তাহাব

۱۲۲۹ – عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهِ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَسَحَرُوا فَإِنَّ فِي السُّحُورِ بَرَكَةً مُتَّفَقٌ.

১২২৯। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা সাহরী খাও। কারণ সাহরীর মধ্যে রয়েছে বরকত।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۲۳۰ – وَعَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِت رَضِيَ اللهِ عَنْهُ قَالَ تَسَخَّرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قُمْنَا إِلَى الصَّلَاةِ قَبْلَ كَمْ كَانَ بَيْنَهُمَا قَالَ قَدْرُ خَمْسِينَ آيَةٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৩০। যায়িদ ইবনে সাবিত (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাহরী খেলাম, তারপর নামাযে দাঁড়ালাম। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, সাহরী ও নামাযের মধ্যে কতটুকু সময়ের ব্যবধান ছিল? জবাব দিলেন, পঞ্চাশ আয়াত পড়ার মতো সময়ের ব্যবধান ছিলো।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۲۳۱ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهِ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُؤَذَنَانِ بِلَالٌ وَابْنُ أَمْ مَكْتُوْمٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ بلالا يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُؤَذِّنَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ قَالَ

وَلَمْ يَكُنْ بَيْنَهُمَا إلا أن يَنزِلَ هَذَا وَيُرْقَى هَذَا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৩১। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুয়াযযিন ছিল দু’জন বিলাল ও ইবনে উম্মে মাকতুম (রা)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: বিলাল রাত্রিবেলা আযান দেয়। কাজেই তার আযানের পরও তোমরা পানাহার করতে থাক, যতক্ষণ না ইবনে উম্মে মাকতুম (ফযরের) আযান দেয়। (ইবনে উমার) বলেন, তাদের দু’জনের আযানের মধ্যে পার্থক্য ছিল এতটুকু যে, একজন (সিঁড়ি বেয়ে) নামতেন এবং একজন আরোহণ করতেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۲۳۲ – وَعَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللهِ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَضْلُ مَا بَيْنَ صِيَامِنَا وَصِيَامٍ أَهْلِ الْكِتَابِ أَكْلَةُ السَّحَرِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১২৩২। আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমাদের রোযা ও আহলি কিতাবদের রোযার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সাহরী খাওয়া।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪৩ – অবিলম্বে ইফতার করার ফযীলাত এবং যা দিয়ে ইফতার করতে হবে ও ইফতারের পর যা বলতে হবে

۱۲۳۳ – عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرُ مَا عَجِلُوا الْفِطْرَ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৩৩। সাহল ইবনে সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: লোকেরা যতদিন অবিলম্বে ইফতার করবে, ততদিন কল্যাণের মধ্যে অবস্থান করবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٢٣٤ – وَعَنْ أَبِي عَطِيَّةَ قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَقَالَ لَهَا مَسْرُوق رَجُلانِ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كِلَاهُمَا لَا يَأْلُو عَنِ الْخَيْرِ أَحَدُهُمَا يُعَجِلُ الْمَغْرِبَ وَالْأَقْطَارَ وَالْآخَرُ يُؤَخِّرُ

الْمَغْرِبَ والإفطار فَقَالَتْ مَنْ يُعَجِلُ الْمَغْرِبَ وَالْإِفْطَارَ ؟ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ مَسْعُودٍ فَقَالَت هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ قَوْلُهُ لَا يَأْلُوْ أَيْ لَا يُقَصِّرُ فِي الْخَيْرِ.

১২৩৪। আবু আতিয়্যা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও মাসরূক আয়িশা (রা)-র কাছে গেলাম। মাসরূক তাঁকে বললেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু’জন সাহাবী সৎ কাজ করার ব্যাপারে কোনো প্রকার গড়িমসি করেন না। তাদের একজন অবিলম্বে মাগরিবের নামায পড়েন এবং অবিলম্বে ইফতার করেন আর অন্যজন বিলম্বে মাগরিব পড়েন এবং বিলম্বে ইফতার করেন। আয়িশা (রা) জিজ্ঞেস করলেন, কে অবিলম্বে মাগরিব পড়েন এবং ইফতার করেন? মাসরূক জবাব দিলেন, আবদুল্লাহ অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা)। আয়িশা (রা) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি করতেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। “লা ইয়ালু” শব্দটির অর্থ হচ্ছে: সৎকাজ করার ও ন্যায়নীতির পথ অবলম্বন করার ব্যাপারে কোন গাফলতি নেই।

١٢٣٥ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَحَبُّ عِبَادِي إِلَى أَعْجَلُهُمْ فِطْرًا – رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১২৩৫। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মহান প্রতাপশালী আল্লাহ বলেন, আমার বান্দাদের মধ্যে যারা অবিলম্বে ইফতার করে তারাই আমার কাছে অধিক প্রিয়।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন এবং একে হাসান হাদীস আখ্যায়িত করেছেন।

١٢٣٦ – وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَقْبَلَ اللَّيْلُ مِنْ هُنَا وَأَدْبَرَ النَّهَارُ مِنْ هُهُنَا وَغَرَبَتِ الشَّمْسُ فَقَدْ أَقْطَرَ الصَّائِمُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৩৬। উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন রাত ঐ (পূর্ব) দিক থেকে আসে, দিন ঐ (পশ্চিম) দিকে চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায় তখনই রোযাদার ইফতার করবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۲۳۷ – وَعَنْ أَبِي إِبْرَاهِيمَ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ صَائِمٌ فَلَمَّا غَرَبَتِ الشَّمْسُ قَالَ لِبَعْضٍ الْقَوْمِ يَا فُلَانُ أُنْزِلُ فَاجْدَحْ لَنَا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ أَمْسَيْتَ

قَالَ أُنْزِلَ فَاجْدَحْ لَنَا قَالَ إِنَّ عَلَيْكَ نَهَارًا قَالَ انْزِلَ فَاجْدَحْ لَنَا قَالَ فَنَزَلَ فَجَدَحَ لَهُمْ فَشَرِبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ إِذَا رَأَيْتُمُ اللَّيْلَ قَدْ أَقْبَلَ مِنْ هُهُنَا فَقَدْ أَفْطَرَ الصائم وأَشَارَ بِيَدِهِ قِبَلَ الْمَشْرِقِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .

قَوْلُهُ اجْدَحْ بِجِيرٍ ثُمَّ دَالٍ ثُمَّ حاء مُهْمَلَتَيْنِ أَي اخْلِطِ السَّوِيقَ بِالْمَاءِ .

১২৩৭। আবু ইবরাহীম আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংগে ছিলাম। তিনি ছিলেন রোযাদার। যখন সূর্য ডুবে গেলো, তিনি দলের এক ব্যক্তিকে বললেনঃ হে অমুক! (সাওয়ারী থেকে নেমে) আমাদের জন্য ছাতু গুলে দাও। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সাঁঝ হতে দিন। তিনি বলেনঃ নেমে যাও, আমাদের জন্য ছাতু বানাও। লোকটি বলল, এখনো তো দিন বাকি আছে? তিনি (আবার) বলেনঃ নেমে যাও, আমাদের জন্য ছাতু বানাও। আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রা) বলেন, সে ব্যক্তি নেমে গেলো এবং ছাতু গুলে তাঁর সামনে আনলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পান করলেন, অতঃপর হাত দিয়ে পূর্ব দিকে ইশারা করে বলেনঃ যখন রাতকে ওদিক থেকে এগিয়ে আসতে দেখবে তখন রোযাদার ইফতার করবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ‘ইজদাহ’ শব্দের অর্থঃ ছাতুকে পানির সাথে মিশাও।

۱۲۳۸ – وَعَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرِ النَّبِيِّ الصَّحَابِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذا أَفْطَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْطِرُ عَلَى تَمْرِ فَانْ لَمْ يَجِدْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى مَاءٍ فَإِنَّهُ طَهُورَ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيْثٌ

حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১২৩৮। সালমান ইবনে আমের আদ-দাব্বী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন ইফতার করে তখন তার খুরমা-খেজুর দিয়ে ইফতার করা উচিত। তবে যদি সে খুরমা-খেজুর না পায় তাহলে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে, কারণ পানি হচ্ছে পাক-পবিত্র।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান ও সহীহ হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

۱۲۳۹ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُفْطِرُ قَبْلَ أَنْ تُصَلِّي عَلَى رُطْبَاتٍ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ رُطْبَاتٌ فَتُمَيْرَاتٌ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تُمَيرَاتٌ حَسَا حَسَوَاتٍ مِنْ مَاءٍ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ

حَسَنٌ.

১২৩৯। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের পূর্বে ইফতার করতেন কয়েকটি তাজা খেজুর দিয়ে। যদি তিনি তাজা খেজুর না পেতেন তাহলে শুকনো খেজুর (অর্থাৎ খুরমা) দিয়ে। আর যদি তাও না পেতেন তাহলে কয়েক ঢোক পানি পান করে নিতেন।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪৪ – রোযাদারের প্রতি গালিগালাজ ও শরীয়াত বিরোধী এবং অনুরূপ ধরনের অন্যান্য কার্যকলাপ থেকে নিজের জিহ্বা ও অন্যান্য অঙ্গকে বিরত রাখার হুকুম

١٢٤٠ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلا يَرْقُتُ وَلَا يَصْخَبْ فَإِنْ سَابُهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৪০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন কোন দিন রোযা রাখে সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং শোরগোল ও ঝগড়াঝাটি না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা কেউ তার সাথে ঝগড়াঝাটি করে তাহলে সে যেন বলে, আমি রোযাদার।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٢٤١ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّوْرِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১২৪১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (রোযা রাখার পরও) মিথ্যা বলা ও খারাপ কাজ বর্জন করেনি, তার পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই [ এর অর্থ হচ্ছে, রোযা রেখে মিথ্যা বলা, গীবাত করা, পরচর্চা করা ইত্যাদি কাজ অত্যন্ত গর্হিত হিসেবে গণ্য। এর ফলে রোযার সাওয়াব কমে যায় এবং তার আসল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যায়। কাজেই রোযা রেখে এগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। কিন্তু এ হাদীসের কখনো এ উদ্দেশ্য নয়, যে ব্যক্তি এসব খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকতে পারবে না, সে রোযা রাখবে না। এ অবস্থায় তো সে দ্বিগুণ গুনাহের ভাগী হবে। একদিকে রোযা না রাখার গুনাহ আর অন্য দিকে ঐ সব গর্হিত কাজ বন্ধ না করার গুনাহ। কাজেই তাকে রোযা রাখতে হবে এবং রোযাদার হিসাবে ঐ গর্হিত কাজগুলো থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে। এটিই হচ্ছে এই হাদীসের আসল উদ্দেশ্য ] ।

ইমাম বুখারী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪৫ – রোযা সম্পর্কিত কতিপয় মাসায়েল

١٢٤٢ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا نَسِيَ أَحَدُكُمْ فَأَكَلَ أَوْ شَرِبَ فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللَّهُ وَسَقَاهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৪২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ রোযার কথা ভুলে গিয়ে কিছু খায় বা পান করে, সে যেন তার রোযা পুরা করে। কারণ আল্লাহ তাকে খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٢٤٣ – وَعَنْ لَقِيط بْنِ صَبْرَةَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي عَنِ الْوُضُوءِ قَالَ اشبع الْوُضُوءَ وَخَلِلَ بَيْنَ الْأَصَابِعِ وَبَالِغ فِي الْاسْتِنْشَاقِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَائِمًا -رواه أبو داود وَالتَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১২৪৩। লাকীত ইবনে সাবরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে উযুর ব্যাপারে জানান। তিনি বলেন: পরিপূর্ণভাবে উযু কর। আঙ্গুলগুলোর মধ্যে খেলাল কর। আর যদি রোযা না রেখে থাক তাহলে নাকের মধ্যে বেশি জায়গা পর্যন্ত পানি পৌছাও।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান ও সহীহ হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

١٢٤٤ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُدْرِكُهُ الْفَجْرُ وَهُوَ جُنُبٌ مِنْ أَهْلِهِ ثُمَّ يَغْتَسِلُ وَيَصُومُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৪৪। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কখনও) নিজের স্ত্রীর কারণে জুনুবী (যার উপর গোসল ফরয হয়েছে) অবস্থায় ভোরে উঠতেন, তারপর গোসল করতেন এবং রোযা রাখতেন।

ইমাম তিরমিযী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

ى اللهُ عَنْهُمَا قَالَتَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى ١٢٤٥ – وَعَنْ عَائِشَةَ وَأَمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ غَيْرِ حُلْمٍ ثُمَّ يَصُومُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৪৫। আয়িশা ও উম্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কখনও) স্বপ্নদোষ বহির্ভূত জুনুবী অবস্থায় সকালে উঠতেন, তারপর (গোসল সেরে) যথরীতি রোযা রাখতেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪৬ – মুহাররাম, শাবান ও হারাম মাসসমূহে রোযা রাখার ফযীলাত

١٢٤٦ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرَّمُ وَأَفْضَلُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ صَلَاةُ اللَّيْلِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১২৪৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: রমযানের রোযার পর শ্রেষ্ঠ রোযা হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররামের রোযা এবং ফরয নামাযের পর শ্রেষ্ঠ নামায হচ্ছে রাতের (তাহাজ্জুদ) নামায।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٢٤٧ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ مِنْ شَهْرٍ أَكْثَرَ مِنْ شَعْبَانَ فَإِنَّهُ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلُهُ وَفِي رِوَايَةٍ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ الأ قليلاً – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .

১২৪৭। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসের চাইতে বেশি রোযা আর কোন মাসে রাখতেন না। বলতে গেলে তিনি পুরো শাবান মাসই রোযা রাখতেন। অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: তিনি স্বল্প কয়েক দিন ছাড়া পুরো শাবান মাসই রোযা রাখতেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٢٤٨ – وَعَنْ مُجيبة الباهلية عَنْ أَبِيهَا أَوْ عَمِّهَا أَنَّهُ أَتَى رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ انْطَلَقَ فَآتَاهُ بَعْدَ سَنَةٍ وَقَدْ تَغَيَّرَتْ حَالَهُ وَهَيْئَتُهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَا تَعْرِفُنِي قَالَ وَمَنْ أَنْتَ قَالَ أَنَا الْبَاهِلِيُّ الَّذِي جِئْتُكَ عَامَ

الْأَوَّلِ قَالَ فَمَا غَيْرَكَ وَقَدْ كُنتَ حَسَنَ الْهَيْئَةِ قَالَ مَا أَكَلْتُ طَعَامًا مُنْذُ فَارَقْتُكَ إِلَّا بِلَيْلٍ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَذِّبْتَ نَفْسَكَ ثُمَّ قَالَ صُمْ شَهْرَ الصَّبْرِ وَيَوْمًا مِنْ كُلِّ شَهْرٍ قَالَ زِدْنِي فَإِنْ بِي قُوَّةً قَالَ صُمْ

يَوْمَيْنِ قَالَ زِدْنِي قَالَ صُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ قَالَ زِدْنِي قَالَ صُمْ مِنَ الْحُرُمِ وَاتْرُكَ صُمَّ مِنَ الْحُرُمِ وَأَتْرُكَ صُمَّ مِنَ الْحُرُمِ وَاتْرُكُ وَقَالَ بِأَصَابِعِهِ الثَّلَاثِ فَضَمِّهَا ثُمَّ أَرْسَلَهَا رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَشَهْرُ الصَّبْرِ رَمَضَانُ.

১২৪৮। মুজীবা আল-বাহিলিয়া (র) থেকে তাঁর পিতা বা চাচার সূত্রে বর্ণিত। তাঁর পিতা বা চাচা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাযির হন। তারপর তিনি চলে যান এবং এক বছর পর আবার হাযির হন। তখন তার অবস্থা ও চেহারা-সুরাত (অনেক) বদলে গিয়েছিল। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে চিনতে পারছেন না? তিনি জবাব দেন: তুমি কে? তিনি বলেন, আমি হলাম সেই বাহিলী, প্রথম বছরে আপনার কাছে এসেছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তোমার এই পরিবর্তন কেমন করে হলো, তোমার চেহারা-সুরাত না বেশ সুন্দর ছিল? বাহিলী জবাব দেন, সেবারে আপনার কাছ থেকে বিদায় নেবার পর থেকে আমি রাতে ছাড়া আর কখনো খাবার খাইনি (প্রতি দিন রোযা রেখেছি)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তুমি নিজের জানকে কষ্ট দিয়েছো। তারপর বলেন: রমযান মাসের রোযা রাখ, এরপর প্রতি মাসে একদিন করে (রোযা রাখ)। বাহিলী আরয করেন, আরো বাড়িয়ে দিন, কারণ আমার মধ্যে এর শক্তি আছে। জবাব দেন: ঠিক আছে, প্রতি মাসে দু’দিন করে। বাহিলী বলেন, আরো বাড়িয়ে দিন। জবাব দেন: তাহলে প্রতি মাসে তিন দিন করে। বাহিলী বলেন, আরো বাড়িয়ে দিন। জবাব দেন: হারাম মাসগুলোয় (যিলকাদ, যিলহজ্জ, মুহাররাম ও রজব) রোযা রাখ ও ছেড়ে দাও, হারাম মাসগুলোয় রোযা রাখ ও ছেড়ে দাও, হারাম মাসগুলোয় রোযা রাখ ও ছেড়ে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি নিজের তিন আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করেন, প্রথমে সেগুলোকে একত্র করেন, তারপর ছেড়ে দেন (অর্থাৎ তিন দিন রোযা রাখ এবং তিন দিন রেখো না)।

ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর ‘শাহরুস সবর’ অর্থ রমযান মাস।

অনুচ্ছেদ: ৪৭ – যুল-হিজ্জার প্রথম দশ দিনে রোযা রাখা ও অন্যান্য নেক কাজ করায় ফযীলাত

١٢٤٩ – مَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ يَعْنِي أَيَامَ الْعَشْرِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ وَلَا

الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعُ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১২৪৯। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এমন কোন দিন নেই যে দিনে কৃত নেক আমল এসব দিন অর্থাৎ যুল-হিজ্জার প্রথম দশ দিনের নেক আমলের মত আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদের মত (নেক) আমলও কি নয়? তিনি বলেন: না, আল্লাহর পথে জিহাদের মত (নেক) আমলও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান ও মাল নিয়ে আল্লাহর পথে বের হল এবং এর কোনটা নিয়েই আর ফিরে আসল না (ঐ ব্যক্তির এ আমল আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়)।
হাদীসটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪৮ – আরাফাত ও আশূরার দিন এবং মুহাররামের নবম তারিখে রোযা রাখার ফযীলাত

١٢٥٠ – عَنْ أَبِي قَتَادَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ قَالَ يُكَفِّرُ السِّنَةَ الْمَاضِيَةَ وَالْبَاقِيَةَ مُسْلِمٌ .

১২৫০। আবু কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আরাফাতের দিনের রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি জবাব দিলেন: এতে বিগত বছরের ও আগামীর গুনাহর কাফ্ফারা হয়ে যায়।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٢٥١ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَامَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .

১২৫১। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার দিন রোযা রাখেন এবং ঐ দিন রোযা রাখার হুকুম দেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٢٥٢ – وَعَنْ أَبِي قَتَادَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ صِيَامٍ يَوْمٍ عَاشُورًا ، فَقَالَ يُكَفِّرُ السِّنَةَ الْمَاضِيةَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

১২৫২। আবু কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আশূরার দিনের রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বলেনঃ এতে বিগত বছরের কাফ্ফারা হয়ে যায়।

١٢٥٣ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَئِنْ بَقِيتُ إِلَى قَابِلِ لَأَصُومَنَّ التَّاسِعَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১২৫৩। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আগামী বছর পর্যন্ত যদি আমি বেঁচে থাকি তাহলে নয় তারিখের রোযা রাখবো।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪৯ – শাওয়াল মাসে হয় দিন রোযা রাখা মুস্তাহাব

١٢٥٤ – عَنْ أَبِي أَيُّوبَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ اتَّبَعَهُ سِنَا مِنْ شَوَالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১২৫৪। আবু আইউব (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখলো, তারপর এর পরপরই শাওয়ালের ছয়টি রোযা রাখলো সে যেন এক বছর রোযা রাখলো।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৫০ – সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা মুস্তাহাব

١٢٥٥ – عَنْ أَبِي قَتَادَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الْاثْنَيْنِ فَقَالَ ذَلِكَ يَوْمٌ وَلِدْتُ فِيهِ وَيَوْمٌ بُعِثْتُ أَوْ أُنزِلَ عَلَى فِيْهِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১২৫৫। আবু কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সোমবারের রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বলেন: এই দিন আমি জন্মগ্রহণ করি, এ দিনে আমার উপর নবুয়াতের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল অথবা তিনি (বলেন ৪) এ দিনে আমার উপর (প্রথম) ওহী নাযিল করা হয়েছিলো।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٢٥٦ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تُعْرَضُ الْأَعْمَالُ يَوْمَ الْاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسُ فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ بِغَيْرِ ذِكْرِ الصُّوْمِ .

১২৫৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহর সমীপে বান্দার) আমল পেশ করা হয়। কাজেই আমি চাই আমার আমল যেন আমার রোযা অবস্থায় পেশ করা হয়।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটিকে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন। আর ইমাম মুসলিম রোযার উল্লেখ ছাড়াই হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٢٥٧ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَحَرَّى صَوْمَ الْاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ – رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيْثٌ حَسَنٌ .

১২৫৭। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযার প্রতি খুবই খেয়াল রাখতেন।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান হাদীস বলেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৫১ – প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা মুস্তাহাব

প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখার ক্ষেত্রে আইয়ামে বীযের রোযা রাখাই উত্তম। আর আইয়ামে বীয হচ্ছে, প্রতি চান্দ্র মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনের তারিখ। প্রতি মাসের বারো, তেরো ও চৌদ্দ তারিখকেও আইয়ামে বীয বলা হয়েছে। তবে প্রথম মতটিই সহীহ এবং প্রসিদ্ধ।

١٢٥٨ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَوْصَانِي خَلِيْلِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثَلاثَ صِيَامٍ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَكَعَتِي الضُّحَى وَأَنْ أُوتِرَ قَبْلَ أَنْ انام مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৫৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি বিষয়ের ওসিয়াত করেছেন: প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা, চাশতের দুই রাক’আত নামায পড়া এবং ঘুমিয়ে পড়ার পূর্বে যেন আমি বিতর নামায পড়ি।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٢٥٩ – وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أَوْصَانِي حَبِيبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثَلَاثَ لَنْ أَدَعَهُنَّ مَا عِشْتُ بِصِيَامٍ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَصَلَاةِ الضحى وبِأَنْ لَا أَنَامَ حَتَّى أُوتِرَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

১২৫৯। আবুদ দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি বিষয়ের ওসিয়াত করেছেন। যতদিন জীবিত থাকবো আমি সেগুলো কখনো ত্যাগ করবো না: প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা, চাশতের নামায পড়া এবং বিতর না পড়ে যেন আমি কখনো না ঘুমাই।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٢٦٠ – وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَوْمُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ صَوْمُ الدَّهْرِ كُلِّهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৬০। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখার অর্থ হচ্ছে সারা বছর রোযা রাখা (অর্থাৎ এতে সারা বছর রোযা রাখার সাওয়াব পাওয়া যায়)। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٢٦١ – وَعَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ أَنَّهَا سَأَلَتْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ قَالَتْ نَعَمْ فَقُلْتُ مِنْ أي الشَّهْرِ كَانَ يَصُومُ قَالَتْ لَمْ يَكُنْ يُبَالِي مِنْ أَيِّ الشَّهْرِ يَصُومُ –

رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১২৬১। মু’আযা আল-‘আদাবিয়্যা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখতেন? তিনি জবাব দেন, হাঁ। আমি বললাম, মাসের কোন্ অংশে তিনি রোযা রাখতেন? তিনি জবাব দিলেন, তিনি এ ব্যাপারে কোন বিশেষ ব্যবস্থা অবলম্বন করতেন না, বরং মাসের যে কোন দিন ইচ্ছা রোযা রাখতেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٢٦٢ – وَعَنْ أَبِي ذَرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صُمْتَ مِنَ الشَّهْرِ ثَلاثًا فَصُمْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَارْبَعْ عَشْرَةً وَخَمْسَ عَشْرَةَ رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حديث حَسَن

১২৬২। আবু যায় (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন তুমি কোন মাসে তিনটি রোযা রাখতে চাও, তখন তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখে রোযা রাখ।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান হাদীস বলেছেন।

١٢٦٣ – وَعَنْ قَتَادَةَ بْنِ مِلْحَانَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُنَا بِصِيَامٍ أَيَّامِ الْبَيْضِ ثَلاثَ عَشْرَةَ وَارْبَعَ عَشْرَةً وَخَمْسَ عَشْرَةَ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ .

১২৬৩। কাতাদা ইবনে মিলহান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আইয়ামে বীযের রোযা রাখার হুকুম দিতেন মাসের তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখে।

ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٢٦٤ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُفْطِرُ أَيَّامَ الْبَيضِ فِي حَضَرٍ وَلَا سَفَرٍ – رَوَاهُ النِّسَائِي بِإِسْنَادٍ حَسَن .

১২৬৪। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুকীম অবস্থায় বা সফররত অবস্থায় কখনো আইয়ামে বীযের রোযা ছাড়তেন না।

ইমাম নাসাঈ হাসান সমদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৫২ – রোযাদারকে ইফতার করাবায় এবং যে রোযাদারের সামনে পানাহার করা হয় তার ফযীলাত। আর যে ব্যক্তি আহার করায় তার উপস্থিতিতে আহারকারীর দু’আ করা

١٢٦٥ – عَن زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الجُهَنِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ فَطَرَ صَائِمًا كَانَ لَهُ مِثْلَ آخِرِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الصَّائِمِ يث حَسَنٌ صَحِيحٌ . شي رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ .

১২৬৫। যায়িদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করায় সে তার (রোযাদার) সমান প্রতিদান পায়, কিন্তু এর ফলে রোযাদারের প্রতিদানের মধ্যে কোন কমতি হবে না। ইমাম তিরমিযী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন।

١٢٦٦ – وَعَنْ أَمْ عُمَارَةَ الْأَنْصَارِيَّةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَيْهَا فَقَدِّمَتْ إِلَيْهِ طَعَامًا فَقَالَ كُلِي فَقَالَتْ إِنِّي صَائِمَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الصَّائِمَ تُصَلَّى عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ إِذَا

أَكِلَ عِنْدَهُ حَتَّى يَفْرُغُوا وَرَبِّمَا قَالَ حَتَّى يَشْبَعُوا رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ .

১২৬৬। উন্মু উমারা আল-আনসারিয়া (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদিন) তাঁর কাছে গেলেন। তিনি তার সামনে খাবার এনে রাখলেন। নবী (সা) তাঁকে বললেনঃ তুমিও খাও। তিনি বলেন, আমি তো রোযাদার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: রোযাদারের সামনে যখন আহার করা হয় তখন আহারকারীদের আহার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিংবা তিনি বলেছেন পেট ভরে আহার করে না নেয়া পর্যন্ত ফেরেশতারা তার (রোযাদার) উপর রহমত নাযিল করতে থাকেন।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান হাদীস বলেছেন।

١٢٦٧ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَ إِلَى سَعْدِ ابْنِ عُبَادَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَجَاءَ بِخُبُرٍ وَزَيْت فَأَكَلَ ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفطَرَ عِندَكُمُ الصَّائِمُونَ وَاكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ وَصَلَّتْ

عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ صَحِيح .

১২৬৭। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদিন) সা’দ ইবনে উবাদার নিকট আসেন। সা’দ (রা) তাঁর জন্য রুটি ও যাইতুনের তেল নিয়ে আসেন। তিনি তা আহার করেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তোমার কাছে রোযাদাররা ইফতার করলো, সৎকর্মপরায়ণ লোকেরা তোমার খাদ্য আহার করলো এবং ফেরেশতারা তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলো।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

অধ্যায়: ৯

কিতাবুল ইতিকাফ (ইতিকাফ)

অনুচ্ছেদ: ১ – ইতিকাফের ফযীলাত

١٢٦٨ – عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ .

১২৬৮। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٢٦٩ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ تَعَالَى ثُمَّ اعْتَكَفَ أَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৬৯। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মৃত্যু দান করার আগ পর্যন্ত তিনি নিয়মিতভাবে রমযান মাসের শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন। তাঁর পরে তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করতেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

۱۲۷۰ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْتَكِفُ فِي كُلِّ رَمَضَانَ عَشْرَةَ أَيَّامٍ فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الَّذِي قُبِضَ فِيْهِ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ يَوْمًا – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১২৭০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমযান মাসের শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন। তারপর যে বছর তিনি ইন্তিকাল করেন, সে বছর বিশ দিন ইতিকাফ করেন।

ইমাম বুখারী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অধ্যায়: ১০

কিতাবুল হজ্জ (হজ্জ)

অনুচ্ছেদ: ১  – হজ্জ ফরজ হওয়া এবং তার ফযীলাত

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَاللهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً. وَمَنْ كَفَرَ فَانَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“আর যারা বাইতুল্লাহ যাব’র সামর্থ্য রাখে তাদের উপর হজ্জ করা আল্লাহর পক্ষ থেকে আরোপিত হক, আর যে ব্যক্তি তা অস্বীকার করে (সে তা অস্বীকার করুক) কারণ আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টি জাহানের অমুখাপেক্ষী।” (সূরা আলে ইমরান: ৯৭)

۱۲۷۱ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بُنِي الْإِسْلامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أنْ لا إلهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ واقَامِ الصَّلاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَحَجَ الْبَيْتِ وَصَوْمِ رَمَضَانَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৭১। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পাঁচটি বিষয়ের উপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে: এই সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সা) আল্লাহর রাসূল, নামায কায়েম করা, যাকাত দেয়া, বাইতুল্লাহর হজ্জ করা এবং রমযানের রোযা রাখা।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۲۷۲ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ خَطْبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ فَرَضَ اللهُ عَلَيْكُمُ الْحَجِّ فَحُجُوا فَقَالَ رَجُلٌ أَكُلِّ عَامٍ يَا رَسُولَ اللهِ فَسَكَتَ حَتَّى قَالَهَا ثَلَاثًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى

اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ قُلْتُ نَعَمُ لَوَجَبَتْ وَلَمَّا اسْتَطَعْتُمْ ثُمَّ قَالَ ذَرُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ

فَدَعُوهُ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১২৭২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে ভাষণ দেল। তাতে তিনি বলেনঃ হে লোকেরা! আল্লাহ তোমাদের উপর হজ্জ ফরম করেছেন। কাজেই তোমরা হজ্জ কর। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহ্র রাসূল! প্রতি বছরই কি হজ্জ। তিনি চুপ করে রইলেন, এমনকি ঐ ব্যক্তি এ প্রশ্নটি পরপর তিনবার করলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যদি আমি “হাঁ” বলে দিতাম তাহলে তোমাদের উপর প্রতি বছর হজ্জ ফরয হয়ে যেত, অথচ এটা পালন করার শক্তি তোমাদের থাকতো না। অতঃপর তিনি বলেনঃ যতক্ষণ আমি তোমাদেরকে ছেড়ে দিই তোময়াও আমাকে ছেড়ে দিয়ে রেখো। কারণ তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তারা অত্যধিক প্রশ্ন করার ও নিজেদের নবীদের ব্যাপারে মতবিরোধের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। কাজেই যখন আমি তোমাদেরকে ফোন কিছুর হুকুম দিই, তোমরা যথাসাধ্য তা পালন কর এবং যখন কোন কাজ করতে বারণ করি, তা থেকে বিরত থাক।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۲۷۳ – وَعَنْهُ قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ قَالَ إِيْمَانُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قِبْلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ حج مبرور – متفق عليه

১২৭৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হল, কোন্ কাজটি সবচেয়ে ভালো? তিনি জবাব দিলেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনা। জিজ্ঞেস করা হল, তারপর কোন্ কাজটি? জবাব দিলেন: তারপরে ভালো কাজ হচ্ছে আল্লাহর পথে জিহাদ করা। জিজ্ঞেস করা হল, তারপর কোনটি? জবাব দিলেন: তারপর হচ্ছে মাবরুর হজ্জ।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। “আল-মাবরূর” অর্থাৎ যে হজ্জ সম্পাদনকারী হজ্জ পালনকালে কোন প্রকার গুনাহ করেনি।

١٢٧٤ – وَعَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ حَجَّ فَلَمْ يَرْقُتُ وَلَمْ يَفْسُقُ رَجَعَ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৭৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি হজ্জ করে, তার মধ্যে অশ্লীল ও অন্যায় আচরণ করেনি, সে নিজের গুনাহ থেকে তার জন্মদিনের মত মুক্ত ও পাক-পবিত্র হয়ে ফিরে যায়।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

١٢٧٥ – وَعَنْهُ أَنْ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا وَالْحَيُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاء إِلَّا الْجَنَّةَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৭৫। আবু হুয়াইয়া (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এক উময়া থেকে অন্য উমরা পর্যন্ত সময়টি অন্তর্বর্তীকালীন গুনাহয় কাফফা হয়। আর কবুল হওয়া হজ্জের প্রতিদান হচ্ছে জান্নাত।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

١٢٧٦ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَرَى الْجِهَادَ أَفْضَلُ الْعَمَلِ أَفَلَا نُجَاهِدُ فَقَالَ لَكِنْ أَفْضَلُ الْجِهَادِ حَجَّ مَبْرُورٌ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ .

১২৭৬। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো দেখছি জিহাদই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ আমল, তাহলে আমরা জিহাদ করবো না কেন? জবাব দিলেন: তোমাদের জন্য মাবরূর হজ্জই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ জিহাদ।

ইমাম বুখারী এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

۱۲۷۷ – وَعَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ يَوْمِ اكْثَرَ مِنْ أَنْ يَعْتِقَ اللَّهُ فِيهِ عَبْدًا مِنَ النَّارِ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১২৭৭। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরাফাতের দিনের চাইতে বেশি (সংখ্যায়) আর কোন দিন আল্লাহ বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

۱۲۷۸ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عُمْرَةٌ فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجَّةً أَوْ حَجَّةً مَعِي – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৭৮। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমযান মাসে উমরাহ করা হজ্জের সমান অথবা (বলেছেন) আমার সাথে হজ্জ করার সমান।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

۱۲۷۹ – وَعَنْهُ أَنْ امْرَأَةٌ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الحج ادركت أبي شَيْخًا كَبِيرًا لا يَثْبُتُ عَلَى الرَّاحِلَةِ أَفَاحُجُ عَنْهُ قَالَ نَعَمْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৭৯। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা বলেন, হে আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর যে হজ্জ ফরয করেছেন তা আমার পিতার উপর ফরয হয়েছে অত্যন্ত বৃদ্ধ বয়সে। তিনি সাওয়ারীর পিঠে বসতে সমর্থ নন। তাঁর পক্ষ থেকে কি আমি হজ্জ করতে পারি? জবাব দিলেন: হাঁ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۲۸۰ – وَعَنْ لَقِبْطِ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنْ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ لَا يَسْتَطِيعُ الْحَقِّ وَلَا الْعُمْرَةَ وَلَا الظَّعَنَ قَالَ حُج عَنْ أَبِيكَ وَاعْتَمِرُ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ

صَحِيحٌ.

১২৮০। লাফীত ইবনে আমের (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলেন, আমার পিতা অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তাঁর হজ্জ ও উন্নয়া করার এবং এজন্য সফর করার ক্ষমতা নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ ও উমরা কর।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন।

۱۲۸۱ – وَعَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ حُجَّ بِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حُجَّةِ الْوَدَاعِ وَأَنَا ابْنُ سَبْعَ سِنِينَ – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১২৮১। সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে সহ বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হজ্জ করা হয়। তখন আমার বয়স ছিল সাত বছর।

ইমাম বুখারী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

۱۲۸۲ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لقي ركبًا بِالرَّوْحَاءِ فَقَالَ مَنِ الْقَوْمُ قَالُوا الْمُسْلِمُونَ قَالُوا مَنْ أَنتَ قَالَ رَسُولُ اللهِ فَرَفَعَتِ اشراةَ صَبِها فَقَالَتْ الهُذَا حَجَّ قَالَ نَعَمْ وَلَكِ أَجْرَ – رَوَاهُ

مُسْلِمٌ.

১২৮২। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রওহা নামক স্থানে একটি কাফিলার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুলাকাত হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ভোমরা কারা? তারা বলল, আমরা মুসলিম। তারা জিজ্ঞেস করল, আপনি কে? তিনি জবাব দিলেনঃ আল্লাহর রাসূল! একথা শুনে একটি মেয়ে তার বাচ্চাসহ সামনে এসে জিজ্ঞেস করলেন, এরও কি হজ্জ হবে? তিনি জবাব দিলেন: হাঁ, হবে, তবে সাওয়াবটা পাবে তুমি।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

۱۲۸۳ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَجَّ على رحلٍ وَكَانَتْ زَامِلَتَهُ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১২৮৩। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি জঙুযানে হজ্জের সফর করেন এবং নিজের মালপত্রও তার উপর রাখেন (অর্থাৎ মালপত্র বহন করার জন্য তাঁর কোনো পৃথক বাহন ছিল না)।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেন।

١٢٨٤ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَتْ عُكَاظُ وَمِجَنَّهُ وَذُو الْمَجَازِ أَسْوَافًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَتَاتُمُوا أَنْ يَتَّجِرُوا فِي الْمَوَاسِمِ فَنَزَلَتْ لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلاً مِنْ رَبِّكُمْ فِي مَوَاسِمِ الْحَقِّ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১২৮৪। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলিয়াতের যুগে উকায, মিযাল্লাহ ও যুল-মাজায ছিল তিনটি বাজার। (ইসলামের যুগ শুরু হলে) লোকেরা হজ্জের মওসুমে ঐ তিনটি বাজারে ব্যবসা করা গুনাহ মনে করতে লাগলো। তখন নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হলোঃ “তোমরা হজ্জের মওসুমে তোমাদের প্রভুর মেহেরবানীর (হালাল রিষ্ক) সন্ধান করলে তাতে কোন ক্ষতি নেই।” (সূরা আল বাকারা: ১৯৮)

ইমাম বুখারী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অধ্যায়: ১১

কিতাবুল জিহাদ (জিহাদ)

অনুচ্ছেদ: ১ – জিহাদের ফযীলাত

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ .

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“আর ঐ মুশরিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ কর যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সর্বাত্মকভাবে। আর জেনে রাখ, আল্লাহ অবশ্যি মুত্তাকীদের সংগে আছেন।” (সূরা আত-তাওবা: ৩৬)

وَقَالَ تَعَالَى : كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرَهُ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ.

জিহাদ তোমাদের উপর ফরয করা হয়েছে, অথচ তা (স্বাভাবিকভাবে) তোমাদের কাছে কষ্টকর মনে হয়। হতে পারে তোমরা কোন জিনিস অপছন্দ কর অথচ তা তোমাদের জন্য ভালো। আর হতে পারে তোমরা কোন জিনিস ভালোবাসো অথচ তা তোমাদের জন্য খারাপ। আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জানো না।” (সূরা আল বাকারা: ২১৬)

وَقَالَ تَعَالَى : انْفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالاً وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ.

“তোমরা ভারী ও হালকা যে অবস্থায়ই হোক (আল্লাহর পথে) অভিযানে বের হও এবং জিহাদ কর তোমাদের ধন ও প্রাণ দিয়ে আল্লাহর পথে।” (সূরা আত-তাওবা: ৪১)

وَقَالَ تَعَالَى : إِنَّ اللهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي

بَايَعْتُمْ بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ.

“অবশ্যি আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের প্রাণ ও ধন কিনে নিয়েছেন, এর বিনিময়ে তারা জান্নাত লাভ করবে। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে, তারা হত্যা করে ও নিহত হয়। তার জন্য দৃঢ় ওয়াদা করা হয়েছে তাওরাতে, ইনজীলে ও আল কুরআনে। আর আল্লাহ্র চাইতে বেশি কে ওয়াদা পূরণ করে? কাজেই যে কেনা-বেচার সাথে তোমরা সংযুক্ত হয়েছো, তার জন্য আনন্দ প্রকাশ কর। আর এটিই হচ্ছে বিরাট সাফল্য।” (সূরা আত্-তাওবা: ১১১)

وَقَالَ اللهُ تَعَالَى : لا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فَضْلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ عَلَى الْقَاعِدِينَ دَرَجَةً وَكُلاً وَعَدَ اللهُ الْحُسْنَى وَفَضْلَ اللَّهُ

الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ أَجْرًا عَظِيمًا . دَرَجَاتٍ مِنْهُ وَمَغْفِرَةً وَرَحْمَةً وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا.

“যেসব মুসলিম বিনা ওজরে ঘরে বসে থাকে এবং যারা আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-প্রাণ দিয়ে জিহাদ করে তারা উভয়ে সমান হতে পারে না। যারা নিজেদের ধন-প্রাণ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে ঘরে বসে থাকা লোকদের উপর আল্লাহ তাদেরকে শ্রেষ্ঠ মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন। আল্লাহ সবাইকে কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর মুজাহিদদেরকে আল্লাহ ঘরে বসে থাকা লোকদের উপর বিরাট প্রতিদান দিয়েছেন। অর্থাৎ অনেক মর্যাদা যা আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া যাবে এবং মাগফিরাত ও রহমত। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।” (সূরা আন্ নিসা : ৯৫, ৯৬)

وَقَالَ تَعَالَى : يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنْجِيكُمْ مِّنْ عَذَابٍ اليم تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ. يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلُكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي

مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ، وَأُخْرَى تُحِبُّونَهَا نَصْرٌ مِّنَ اللهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ .

“হে ঈমানদারগণ! তোমাদেরকে কি আমি এমন একটি ব্যবসায়ের কথা বলবো, যা তোমাদের কঠিন শাস্তি থেকে বাঁচাবে? তোমরা ঈমান আনবে আল্লাহর উপর ও তাঁর রাসূলের উপর এবং জিহাদ করবে আল্লাহর পথে নিজেদের ধন ও প্রাণের সাহায্যে। এটিই তোমাদের জন্য ভালো যদি তোমরা (যথার্থ) জ্ঞান রাখ। (তোমরা এমনটি করলে) আল্লাহ তোমাদের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন এবং তোমাদোকে প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে যার নীচ দিয়ে ঝরণাসমূহ প্রবাহিত, আর চিরন্তন জান্নাতের উৎকৃষ্ট গৃহে তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন। এটিই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ কামিয়াবী। আর একটি বিষয় তোমরা ভালোবাসো, (সেটি হচ্ছে) আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং দ্রুত বিজয়। কাজেই মুমিনদেরকে সুসংবাদ দান কর।” (সূরা আস্-সাফ: ১০-১৩)

এই বিষয়ে আল কুরআনে বহু আয়াত রয়েছে এবং সেগুলো বহুল পরিচিত। আর জিহাদের ফযীলাত সম্পর্কে অসংখ্য হাদীস রয়েছে। এর মধ্য থেকে মাত্র কয়েকটির উল্লেখ এখানে করা হলো:

١٢٨٥ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ إِيْمَانُ بِاللهِ وَرَسُولِهِ قَبْلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ حَجٌ مَا حج مبرور – متفق عليه.

১২৮৫। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন্ কাজটি উত্তম? তিনি জবাব দিলেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা। জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কোন্টি? জবাব দিলেন: আল্লাহর পথে জিহাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কোন্টি? জবাব দিলেন: মাবরুর (আল্লাহর কাছে গৃহীত) হজ্জ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٢٨٦ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ تَعَالَى ؟ قَالَ الصَّلاةُ عَلَى وَقْتِهَا قُلْتُ ثُمَّ أَيُّ قَالَ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ قُلْتُ ثُمَّ أَي قَالَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৮৬। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে কোন্ কাজটি সবচেয়ে প্রিয়? জবাব দিলেন: যথাসময়ে নামায পড়া। জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোন্টি? জবাব দিলেন, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা। জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোন্টি? জবাব দিলেন: আল্লাহর পথে জিহাদ করা।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۲۸۷ – وَعَنْ أَبِي ذَرِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ؟ قَالَ الْإِيْمَانُ بِاللَّهِ وَالْجِهَادُ فِي سَبِيلِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৮৭। আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল। কোন্ কাজটি সবচেয়ে ভালো? জবাব দিলেন: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর পথে জিহাদ করা।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۲۸۸ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَغَدُوةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ رَوْحَةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৮৮। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর পথে (জিহাদে) একটি সকাল বা একটি সন্ধ্যা অতিবাহিত করা দুনিয়া ও তার মধ্যস্থিত সব কিছু থেকে উত্তম।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۲۸۹ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أَتَى رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَيُّ النَّاسِ أَفْضَلُ قَالَ مُؤْمِنٌ يُجَاهِدُ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فِي سَبِيلِ اللهِ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ مُؤْمِنٌ فِي شِعْبٍ مِّنَ الشَّعَابِ

يَعْبُدُ اللَّهَ وَيَدَعُ النَّاسَ مِنْ شَرِّهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৮৯। আবু সা’ঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ ব্যক্তি সর্বোত্তম। জবাব দিলেন : সেই মুমিন (সর্বোত্তম) যে আল্লাহর পথে নিজের প্রাণ ও ধন দিয়ে জিহাদ করে। জিজ্ঞাসা করলেন, তারপর কে? জবাব দিলেন: এমন মুমিন যে কোন গিরি সংকটে বসে আল্লাহর ইবাদাত করে এবং নিজের অনিষ্ট থেকে লোকদেরকে নিরাপদ রাখে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۲۹۰ – وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رِبَاطُ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا عَلَيْهَا وَمَوْضِعُ سَوْطِ أَحَدِكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا عَلَيْهَا وَالرُّوْحَةُ يَرُوحُهَا الْعَبْدُ

فِي سَبِيلِ اللهِ تَعَالَى أَوِ الْغَدْوَةُ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا عَلَيْهَا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৯০। সাহল ইবনে সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর পথে একদিন সীমান্ত পাহারা দেয়া দুনিয়া ও দুনিয়ার উপরস্থ সব কিছু থেকে উত্তম। আর জান্নাতে তোমাদের কারো এক চাবুক পরিমাণ জায়গা দুনিয়া ও তার উপরস্থ সব কিছু থেকে উত্তম। আর সাঁঝে আল্লাহর পথে (জিহাদের জন্য) বের হওয়া অথবা সকালে বের হওয়া দুনিয়া ও তার উপরস্থ সব কিছু থেকে উত্তম।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

ى اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ۱۲۹۱ – وَعَنْ سَلْمَانَ رَضِيا وَسَلَّمَ يَقُولُ رِبَاطُ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ خَيْرٌ مِنْ صِيَامٍ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ وَإِنْ مَاتَ فِيْهِ جَرَى عَلَيْهِ عَمَلُهُ الَّذِي كَانَ يَعْمَلُ وَأَجْرِيَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ وَآمِنَ الفَتَانَ رَوَاهُ

مُسْلِمٌ.

১২৯১। সালমান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: একদিন ও একরাত ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দেয়া এক মাস ধরে রোযা রাখা ও রাতে ইবাদাত করার চাইতে বেশি মূল্যবান। এ অবস্থায় যদি সে মারা যায় তাহলে যে কাজ সে করে যাচ্ছিল মরার পরও তা তার জন্য জারি থাকবে, তার রিযকও জারি থাকবে এবং কবরের পরীক্ষা থেকে সে থাকবে নিরাপদ।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۲۹۲ – وَعَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّ مَيِّت يُخْتَمُ عَلَى عَمَلِهِ إِلا الْمُرَابِطَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَإِنَّهُ يَنْمِي لَهُ عَمَلُهُ إِلى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَيُؤَمِّنُ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

وَالتَّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১২৯২। ফাদালা ইবনে উবাইদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মৃত্যুর পর প্রত্যেক মৃতের কর্মের ধারা শেষ করে দেয়া হয়। তবে যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দেয় তার আমল কিয়ামাত পর্যন্ত বাড়তে থাকবে এবং কবরের ফিতনা থেকেও সে নিরাপদ থাকবে।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

۱۲۹۳ – وَعَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ رِبَاطٌ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ يَوْمٍ فِيمَا سِوَاهُ مِنَ الْمَنَازِلِ روَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১২৯৩। উসমান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর পথে একদিন ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দেয়া হাজার দিন অন্য (নেকীর) কাজে লিপ্ত থাকার চাইতে উত্তম।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন এবং একে হাসান হাদীস আখ্যায়িত করেছেন।

١٢٩٤ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَضَمَّنَ اللَّهُ لِمَنْ خَرَجَ فِي سَبِيْلِهِ لا يُخْرِجُهُ إِلَّا جِهَادٌ فِي سَبِيْلِي وَإِيْمَانُ بي وَتَصْدِيقٌ بِرُسُلِى فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى أَنْ أُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ أَوْ أَرَجِعَهُ

إِلَى مَنْزِلِهِ الَّذِي خَرَجَ مِنْهُ بِمَا نَالَ مِنْ أَجْرٍ أَوْ غَنِيمَةٍ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ مَا مِنْ كَلَّمَ يُكَلِّمُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلَّا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ كُلِمَ لَوْنُهُ لَوْنُ دَم وَرِيحُهُ رِيحُ مِسْكَ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ لا أَنْ أَشُقَّ

عَلَى الْمُسْلِمِينَ مَا فَعَدْتُ خِلَافَ سَرِيَّةٍ تَغْزُو فِي سَبِيلِ اللهِ أَبَدًا وَلَكِنْ لا أَجِدُ سَعَةً فَاحْمِلَهُمْ وَلَا يَجِدُونَ سَعَةً وَيَشْقُ عَلَيْهِمْ أَنْ يَتَخَلَّفُوا عَنِّى وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ أَنْ أَغْزُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَأَقْتَلَ ثُمَّ اغْزُوَ

فَأَقْتَلَ ثُمَّ اغْزُوَ فَأَقْتَلَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَرَوَى الْبُخَارِيُّ بَعْضَهُ.

১২৯৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে বের হয়েছে আল্লাহ তার যামিন হয়েছেন। আমার পথে জিহাদ করা, আমার প্রতি ঈমান আনা ও আমার প্রেরিত রাসূলদেরকে সত্য বলে মেনে নেয়া ছাড়া অন্য কোন কারণ যাকে ঘরছাড়া করেনি, আল্লাহ তার দায়িত্ব নিয়েছেন যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন অথবা সেই ঘরের দিকে তাকে সাওয়াব সহকারে বা গনীমাত সহকারে ফিরিয়ে আনবেন, যেখান থেকে সে (জিহাদের জন্য) বের হয়েছিল। আর মুহাম্মাদের প্রাণ যে সত্তার মুঠোয় তাঁর কসম! সে আল্লাহর পথে যে কোন আঘাত পাবে তা তাকে কিয়ামাতের দিন আল্লাহর দরবারে এমনভাবে হাযির করবে যেমন আঘাত পাবার দিন তার শারীরিক কাঠামো ছিল। তার বর্ণ হবে তখন রক্ত বর্ণ। তার গন্ধ হবে মিশকের গন্ধ। আর যে সত্তার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর কসম! মুসলিমদের উপর যদি আমি এটা কঠিন মনে না করতাম তাহলে যে সেনাদলটি আল্লাহর পথে জিহাদে লিপ্ত তার থেকে আমি কখনো পেছনে অবস্থান করতাম না। কিন্তু না আমি নিজেই এতটা সচ্ছল হতে পেরেছি যার ফলে সবাইকে সাওয়ারী দিতে পারি আর না মুসলিমদের এতটা সচ্ছলতা আছে। আর এটা তাদের জন্যও অত্যন্ত কষ্টকর হবে যে, তাদেরকে পেছনে রেখে আমি জিহাদে চলে যাবো। আর সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! অবশ্যি আমি কামনা করি, আমি আল্লাহর পথে জিহাদে যাবো এবং এতে শহীদ হয়ে যাবো, তারপর আবার জিহাদে যাবো এবং আবার শহীদ হয়ে যাবো, তারপর আবার জিহাদে যাবো এবং আবার শহীদ হয়ে যাবো।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন এর অংশবিশেষ। আর ‘আল-কালমু’ অর্থ জখম বা আঘাত।

١٢٩٥ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ مَعْلُومٍ يُعْلَمُ فِي سَبِيلِ اللهِ الأَجَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَكَلِّمُهُ يَدْمِي اللَّوْنُ لَوْنُ دَمَ وَالرِّيحُ رِيحُ مشك – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১২৯৫। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর পথে আহতদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তি কিয়ামাতের দিন এমন অবস্থায় আসবে যে, তার আহত স্থান থেকে রক্ত ঝরতে থাকবে। এর বর্ণ হবে রক্তবর্ণ এবং এর গন্ধ হবে মিশকের গন্ধ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

هُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ ١٢٩٦ – وَعَنْ مُعَادٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ . قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ فَوَاقَ نَاقَةٍ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ وَمَنْ جُرِحَ جُرْحًا فِي سَبِيلِ اللهِ أَوْ نُكِبَ نَكَبَةٌ فَإِنَّهَا تَجِيُّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

كَاغْزَرِ مَا كَانَتْ لَوْنُهَا الزغْفَرَانُ وَرِيْحُهَا كَالْمِسْكِ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيْثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১২৯৬। মু’আয (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মুসলিম মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত যে ব্যক্তি ক্ষণকালের জন্যও আল্লাহর পথে জিহাদ করবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। আর যাকে আল্লাহর পথে আহত করা হয়েছে অথবা যার গায়ে কোন আঁচড় কাটা হয়েছে, কিয়ামাতের দিন সে তাকে একেবারে তরতাজা যেমনটি সে তার সংঘটনকালে ছিল ঠিক তেমনটি নিয়ে হাজির হবে। এর রং হবে জাফরানী এবং গন্ধ হবে মিশকের।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান ও সহীহ হাদীস আখ্যায়িত করেছেন।

۱۲۹۷ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ مَرَّ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشِعْبٍ فِيْهِ عُبَيْنَةٌ مِنْ مَاءٍ عَذِّبَةٌ فَأَعْجَبَتْهُ فَقَالَ لَوْ اعْتَزَلْتُ النَّاسَ فَأَقَمْتُ فِي هَذَا الشَّعْبِ وَلَنْ أَفْعَلَ حَتَّى اسْتَأْذِنَ

رَسُولَ اللَّهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَا تَفْعَل فَإِنْ مُقَامَ أَحَدِكُمْ فِي سَبِيلِ اللهِ أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِهِ فِي بَيْتِهِ سَبْعِينَ عَامًا الا تُحِبُّونَ أَنْ يُغْفِرَ اللهُ لَكُمْ وَيُدْخِلَكُمُ الْجَنَّةَ أَغْزُوا فِي

سَبِيلِ اللَّهِ مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَوَاقَ نَاقَةٍ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১২৯৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী একটি গিরিপথ অতিক্রম করছিলেন, যাতে ছিল একটি ছোট মিষ্টি পানির ঝরণা। ঝরণাটি তাকে মুগ্ধ করলো। তিনি মনে মনে বলেন, জনতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যদি আমি এই গিরিপথে অবস্থান করতে পারতাম তাহলে বড়ই ভালো হতো। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে অনুমতি না নিয়ে আমি এটা

করতে পারি না। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ কথা বলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তুমি এমনটি করো না। কারণ তোমাদের কারোর আল্লাহর পথে অবস্থান করা নিজের ঘরে বসে সত্তর বছর ধরে নামায পড়ার চাইতে অনেক বেশি ভালো। আল্লাহ তোমাদের গুনাহ মাফ করে দেবেন এবং তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, এটা কি তোমরা পছন্দ কর না? আল্লাহ্র পথে জিহাদ কর। যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে ক্ষণিকের জন্যও জিহাদ করে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি এটিকে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন। “ফুওয়াক” শব্দের অর্থ দু’বার উস্ত্রীর দুধ দোহন করার অন্তরবর্তী সময়টুকু।

۱۲۹۸ – وَعَنْهُ قَالَ قَبْلَ يَا رَسُولَ اللهِ مَا يَعْدِلُ الْجِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ لَا تَسْتَطِيعُونَهُ فَأَعَادُوا عَلَيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاثًا كُلُّ ذلكَ يَقُولُ لَا تَسْتَطِيعُونَهُ ثُمَّ قَالَ مَثَلُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللهِ كَمَثَلِ الصَّائِمِ الْقَائِمِ الْقَانِتِ بِآيَاتِ

اللَّهِ لَا يَفْتُرُ مِنْ صِيَامٍ وَلَا صَلَاةٍ حَتَّى يَرْجِعَ الْمُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَهُذَا لفظ مُسْلِمِ. وَفِي رِوَايَةِ الْبُخَارِيِّ أَنْ رَجُلاً قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ دُلْنِي عَلَى عَمَلٍ يَعْدِلُ الْجِهَادَ قَالَ لَا أَجِدُهُ ثُمَّ قَالَ هَلْ تَسْتَطِيعُ إِذَا خَرَجَ

الْمُجَاهِدُ أَنْ تَدْخُلَ مَسْجِدِكَ فَتَقُوْمَ وَلَا تَفْتَرَ وَتَصُومَ وَلَا تُفْطِرَ فَقَالَ وَمَنْ يَسْتَطِيعُ ذَلِكَ .

১২৯৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কোন কাজটি (সাওয়াবের দিক দিয়ে) আল্লাহর পথে জিহাদের সমকক্ষ। জবাব দিলেন: তোমরা তার শক্তি রাখ না। সাহাবীগণ এ প্রশ্নের দু’বার কি তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন। আর তিনি প্রতিবারই একই জবাবের পুনরাবৃত্তি করলেন: তোমরা এর শক্তি রাখ না। তারপর বললেন: আল্লাহর পথে জিহাদকারী মুজাহিদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে রোযাদার, নামায আদায়কারী ও কুরআনের আয়াত বিনীত হৃদয়ে একাগ্রতার সাথে তিলাওয়াতকারীর ন্যায় যে আল্লাহর পথে জিহাদকারী ঐ মুজাহিদ ফিরে আসা পর্যন্ত নামায ও রোযায় লিপ্ত থাকে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এখানে মুসলিমের মূল পাঠ দেয়া হয়েছে। আর ইমাম বুখারীর এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: এক ব্যক্তি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন আমলের খবর দিন যা (সাওয়াবের দিক দিয়ে) জিহাদের সমকক্ষ। জবাব দিলেন: আমি এমন কোন আমল দেখি না। তারপর বললেন: তুমি কি এমনটি করতে পারবে, যখন মুজাহিদ (জিহাদের জন্য) বের হবে তখন তুমি নিজের মসজিদে চলে যাবে, অতঃপর নামায পড়তে থাকবে, অনবরত পড়তে থাকবে, কখনো নামায থেকে বিরত হবে না এবং রোযা রাখতে থাকবে, একবারও ইফতার করবে না? সে ব্যক্তি বললেন, এ কাজ করার ক্ষমতা কার আছে?

۱۲۹۹ – وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مِنْ خَيْرِ مَعَاشِ النَّاسِ لَهُمْ رَجُلٌ مُمْسِكَ بِعِنَانِ فَرَسِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يَطِيرُ عَلَى مَتْنِهِ كُلَّمَا سَمِعَ هَيْعَةً أَوْ فَزَعَةً طَارَ عَلَيْهِ يَبْتَغِي الْقَتْلَ وَالْمَوْتَ مَظَانُهُ أَوْ رَجُلٌ

فِي غُنَيْمَةٍ فِي رَأْسٍ شَعَفَةٍ مِنْ هَذِهِ الشَّعَفِ أَوْ بَطْنِ وَادٍ مِنْ هذه الأَوْدِيَةِ يُقِيمُ الصَّلاةَ وَيُؤْتِي الزَّكَاةَ وَيَعْبُدُ رَبَّهُ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْيَقِينُ لَيْسَ مِنَ النَّاسِ إِلَّا فِي خَيْرٍ رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

১২৯৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: লোকদের মধ্যে সর্বোত্তম জীবন হচ্ছে সেই ব্যক্তির যে ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরে সব সময় আল্লাহর পথে জিহাদ করার জন্য তৈরী থাকে। যেখানেই সে শুনতে পায় কোন বিপদ বা পেরেশানীর কথা সংগে সংগেই ঘোড়ার পিঠে চড়ে বাতাসের বেগে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে। হত্যা ও মৃত্যুকে তার পথে তালাশ করতে থাকে। আর দ্বিতীয় সেই ব্যক্তির জীবন যে পর্বতের চূড়ায় বা উপত্যকায় কয়েকটি ছাগল সংগে নিয়ে বসবাস করে, নামায কায়েম করে, যাকাত দেয়, আমৃত্যু নিজের প্রতিপালক প্রভুর ইবাদাত করে এবং মানুষের কল্যাণ ছাড়া সে আর কিছুই করে না।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٣٠٠ – وَعَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ أَعَدَّهَا اللهُ لِلْمُجَاهِدِيْنَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا بَيْنَ الدَّرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ .

১৩০০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাতে একশোটি দরজা আছে। আল্লাহর পথে জিহাদকারী মুজাহিদদের জন্য আল্লাহ তা তৈরি করেছেন। তার দু’টি দরজার মাঝখানের দূরত্ব আসমান ও যমিনের মাঝখানের দূরত্বের সমান।

ইমাম বুখারী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۳۰۱ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ رَضِيَ بِاللهِ رَبَّا وَبِالْإِسْلامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ رَّسُوْلاً وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ فَعَجِبَ لَهَا أَبُو سَعِيدٍ فَقَالَ أَعِدُهَا عَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَعَادَهَا

عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ وَأُخْرَى يَرْفَعُ اللَّهُ بِهَا الْعَبْدَ مِائَةَ دَرَجَةٍ فِي الْجَنَّةِ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ قَالَ وَمَا هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

১৩০১। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব বলে মেনে নিয়েছে, ইসলামকে দীন হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে এবং মুহাম্মাদকে রাসূল বলে স্বীকার করে নিয়েছে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। আবু সাঈদ (রা)-র কাছে এ কথাটি বিস্ময়কর মনে হলো। তিনি আরয করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! কথাটি আমাকে আবার বলুন। কাজেই তিনি তার জন্য কথাটির পুনরাবৃত্তি করলেন। তারপর বললেন: আর একটি বিষয় রয়েছে যার সাহায্যে আল্লাহ জান্নাতে তার বান্দার এক শতটি মরতবা বুলন্দ করে দেবেন এবং তার প্রতি দু’টি মরতবার মধ্যে ব্যবধান হবে আসমান ও পৃথিবীর মাঝখানের ব্যবধানের মতো। আবু সাঈদ (রা) আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেটা কি? জবাব দিলেন: (সেটা হচ্ছে) আল্লাহর পথে জিহাদ, আল্লাহর পথে জিহাদ।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

اللهُ عَنْهُ وَعَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِي قَالَ سَمِعْتُ أَبِي رَضِيا ١٣٠٢ – وع وَهُوَ بِحَضْرَةِ الْعَدُوِّ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ أَبْوَابَ الْجَنَّةِ تحت ظِلالِ السُّيُوفِ فَقَامَ رَجُلٌ رَبُّ الْهَيْئَةِ فَقَالَ يَا أَبَا

مُوسَى أَنْتَ سَمِعْتَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ هَذَا قَالَ نَعَمْ فَرَجَعَ إِلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ أَقْرَأُ عَلَيْكُمُ السَّلامَ ثُمَّ كَسَرَ جَفْنَ سَيْفِهِ فَالْقَاهُ ثُمَّ مَشَى بِسَيْفِهِ إِلَى الْعَدُوِّ فَضَرَبَ بِهِ حَتَّى قُتِلَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ .

১৩০২। আবু বাক্স ইবনে আবু মষ্টসা আল-আশ’আরী (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা আবু মূসা আশ’আরী (রা)-কে শত্রুবাহিনীর সম্মুখে উপস্থিত অবস্থায় বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাতের দরজাসমূহ তরবাবির ছায়াতলে অবস্থিত। (এ কথা শুনে) উস্কো খুশকো চেহারার এক ব্যক্তি বললেন, হে আবু মূসা! আপনি নিজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কি এ কথা বলতে শুনেছেন? তিনি জবাব দিলেন, হাঁ। ঐ ব্যক্তি তাঁর সাথীদের কাছে ফিরে এসে বললেন, আমি তোমাদেরকে শেষ সালাম জানাচ্ছি। এ কথা বলে তিনি নিজের তরবারির খাপ ভেঙে ফেললেন এবং তা ছুড়ে ফেলে দিলেন। তারপর তলোয়ার নিয়ে দুশমনদের দিকে চলে গেলেন এবং তাদের সাথে লড়াই করতে থাকলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়ে গেলেন।
ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۳۰۳ – وَعَنْ أَبِي عَبْسٍ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَبْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا اغْبَرَتْ قَدَمًا عَبْدٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَتَمَسَّهُ النَّارُ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৩০৩। আবু ‘আব্‌ক্স আবদুর রহমান ইবনে জাবর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর পথে কোন বান্দার দু’টি পা ধূলি ধূসরিত হবে, আবার তাকে জাহান্নামের আগুনও স্পর্শ করবে, এমনটি কখনো হবে না। ইমাম বুখারী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٣٠٤ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَلِجُ النَّارَ رَجُلٌ بَكَى مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ حَتَّى يَعُودَ اللَّبَنُ فِي الضَّرْعِ وَلَا يَجْتَمِعُ عَلَى عَبْدٍ غُبَارٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدُخَانُ جَهَنَّمَ – رَوَاهُ

التَّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৩০৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে কেঁদেছে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, যেমন দুধ দোহন করে নেয়ার পর আবার তা পালানে ফেরত যাওয়া অসম্ভব। আর বান্দার উপর আল্লাহর পথের ধুলি ও জাহান্নামের ধোঁয়া একত্রিত হবে না।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন।

١٣٠٥ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ عَيْنَيْنِ لَا تَمَسُّهُمَا النَّارُ عَيْنٌ بَكَتْ مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ وَعَيْنٌ بَاتَتْ تَحْرُسُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ – رَوَاهُ التَّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৩০৫। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: দু’টি চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না, যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কেঁদেছে এবং যে চোখ আল্লাহর পথে রাত জেগে পাহারা দিয়েছে।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

١٣٠٦ – وَعَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ جَهْزَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَدْ غَزَا وَمَنْ خَلَفَ غَازِيًا فِي أَهْلِهِ بِخَيْرٍ فَقَدْ غَرَا مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩০৬। যায়িদ ইবনে খালিদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথের মুজাহিদকে জিহাদের সরঞ্জাম দিয়েছে সেও যুদ্ধ করেছে। আর যে ব্যক্তি মুজাহিদের অবর্তমানে তার পরিবারের দেখাশুনা করেছে সেও যুদ্ধ করেছে (অর্থাৎ তাদের সাওয়াবে অংশীদার হয়)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۳۰۷ – وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْضَلُ الصَّدَقَاتِ ظِلُّ فُسْطَاطٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَنِيْحَةً خَادِرٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ طَرُوقَةٌ فَحْل فِي سَبِيلِ اللَّهِ – رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৩০৭। আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সবচাইতে ভালো দান হচ্ছে আল্লাহর পথে ছায়ার জন্য তাঁবু দান করা, আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের জন্য খাদিম দেয়া এবং আল্লাহর পথে (মুজাহিদকে) একটি উট দেয়া।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন।

۱۳۰۸ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ فَتى مِنْ أَسْلَمَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أرِيدُ الْغَزْوَ وَلَيسَ مَعِى مَا أَتَجَهْرُ بِهِ قَالَ انْتِ فُلَانًا فَإِنَّهُ قَدْ كَانَ تَجَهْزَ فَمَرِضَ فَاتَاهُ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقْرِئُكَ السَّلَامَ

وَيَقُولُ أَعْطِنِي الَّذِي تَجَهَّرْتَ بِهِ قَالَ يَا فُلانَةُ أَعْطِيهِ الَّذِي كُنْتُ تَجَهَّرْتُ بِهِ وَلَا تَحْبِسِي عَنْهُ شَيْئًا فَوَاللَّهِ لَا تَحْبِسِي مِنْهُ شَيْئًا فَيُبَارَكَ لَكِ فِيْهِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩০৮। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। আসলাম গোত্রের এক যুবক বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জিহাদে যেতে চাই, কিন্তু আমার কাছে জিহাদের সরঞ্জাম নেই। তিনি জবাব দিলেন: তুমি অমুকের কাছে যাও। সে জিহাদে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল কিন্তু তারপর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। যুবকটি তার কাছে গেল এবং তাকে বললো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং বলে পাঠিয়েছেন: আপনি জিহাদে যাওয়ার জন্য যা কিছু সরঞ্জাম তৈরি করেছেন তা আমাকে দিয়ে দিন। সে তার (স্ত্রীকে) বললো, হে অমুক! আমি যা কিছু সরঞ্জাম তৈরি করেছিলাম তা সব একে দিয়ে দাও, তা থেকে একটি জিনিসও রেখে দিও না। আল্লাহর কসম। তার মধ্য থেকে একটি জিনিসও তুমি রেখে দিও না, আল্লাহ তাতে তোমাকে বরকত দান করবেন।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۳۹ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ إِلَى بَنِي لَحْيَانَ فَقَالَ لِيَنْبَعِثُ مِنْ كُلِّ رَجُلَيْنِ أَحَدُهُمَا وَالْآخِرُ بَيْنَهُمَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ لِيَخْرُجُ مِنْ كُلِّ رَجُلَيْنِ رَجُلٌ ثُمَّ

قَالَ لِلْقَاعِدِ أَيُّكُمْ خَلَفَ الْخَارِجَ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ بِخَيْرٍ كَانَ لَهُ مِثْلُ نِصْفِ أَجْرِ الْخَارِجِ.

১৩০৯। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মুজাহিদদের একটি দলকে) লাহ্ইয়ান গোত্রে পাঠান এবং বলেন: প্রত্যেক দু’জনের মধ্যে একজনের জিহাদে যেতে হবে এবং সাওয়াব তারা দু’জনই পাবে।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম মুসলিমের অন্য একটি রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক দু’জনের মধ্যে একজন যেন জিহাদে বের হয়। তারপর গৃহে অবস্থানকারীর উদ্দেশে বলেন:
তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জিহাদে গমনকারীদের পেছনে তাদের পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে সে মুজাহিদের সাওয়াবের অর্ধেকের সমপরিমাণ লাভ করবে।

۱۳۱۰ – وَعَنِ الْبَرَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَتَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ مقنع بِالْحَدِيدِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ أَقَاتِلُ أَوْ أَسْلِمُ قَالَ أَسْلِمْ ثُمَّ قَاتِلُ فَأَسْلَمَ ثُمَّ قَاتَلَ فَقُتِلَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَمِلَ

قَلِيلًا وَأَجِرَ كَثِيرًا -مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَهَذَا لَفْظُ الْبُخَارِيِّ.

১৩১০। বারাআ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এক ব্যক্তি এলো অস্ত্রসজ্জিত হয়ে। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি প্রথমে জিহাদ করবো, না প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করবো? জবাব দিলেন: প্রথমে ইসলাম গ্রহণ কর, তারপর জিহাদ কর। লোকটি ইসলাম গ্রহণ করলো, তারপর জিহাদে লিপ্ত হলো এবং শহীদ হয়ে গেলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: এই ব্যক্তি সামান্য আমল করলো কিন্তু বিপুল প্রতিদান লাভ করলো।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে এখানে ইমাম বুখারীর পাঠ উদ্ধৃত হয়েছে।

۱۳۱۱ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا أَحَدٌ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يُحِبُّ أَنْ يُرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا وَلَهُ مَا عَلَى الْأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا الشَّهِيدُ يَتَمَنَّى أَنْ يُرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا فَيُقْتَلَ عَشْرَ مَرَاتٍ لِمَا يَرَى مِنَ

الْكَرَامَةِ وَفِي رِوَايَةٍ لِمَا يَرَى مِنْ فَضْلِ الشَّهَادَةِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩১১। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে সে আর পৃথিবীতে ফিরে আসতে চাইবে না, যদিও সারা দুনিয়ার সমস্ত জিনিস তার জন্য হয়ে যায়। তবে শহীদ যখন তার মর্যাদা দেখবে, সে আকাঙ্ক্ষা করবে আবার দুনিয়ায় ফিরে আসার এবং দশবার আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করার। অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: “তবে শহীদ যখন তার শাহাদাতের মর্যাদা দেখবে”।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۳۱۲ – وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَغْفِرُ اللهُ لِلشَّهِيدِ كُلِّ ذَنْبِ إِلَّا الدِّينَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ الْقَتْلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُكَفِّرُ كُلِّ شَيْءٍ إِلَّا الدِّينَ.

১৩১২। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ ঋণ ছাড়া শহীদের সব কিছু (গুনাহ) মাফ করে দেবেন।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম মুসলিমের অন্য রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: আল্লাহর পথে শাহাদতবরণ ঋণ ছাড়া বাকি সমস্ত কিছুর (গুনাহর) কাফ্ফারা হয়ে যায়।

۱۳۱۳ – وَعَنْ أَبِي قَتَادَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ فِيْهِمْ فَذَكَرَ أَنَّ الْجِهَادَ فِي سَبِيلِ اللهِ وَالْإِيْمَانَ بِاللَّهِ أَفْضَلُ الْأَعْمَالَ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَتُكَفْرُ عَنِّى

خَطَايَايَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمُ قُتِلْتَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَنْتَ صَابِرٌ مُحْتَسِبٌ مُقْبِلَ غَيْرُ مُدْبِرٍ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ قُلْتَ قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ اتَّكَفُرُ عَنِّى

خَطَايَايَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ وَأَنْتَ صَابِرٌ مُحْتَسِبٌ مُقْبِلَ غَيْرُ مُدْبِرٍ إِلَّا الدِّيْنَ فَإِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ لِي ذَلِكَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ

১৩১৩। আবু কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে উল্লেখ করেন যে, আল্লাহর পথে জিহাদ ও আল্লাহর উপর ঈমান আনাই হচ্ছে সর্বোত্তম আমল। (এ কথা শুনে) এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি মনে করেন আমি যদি আল্লাহর পথে শহীদ হই তাহলে আমার সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: হাঁ, অবশ্যি যদি তুমি আল্লাহর পথে শহীদ হয়ে যাও এবং (এর উপর) অবিচল থাক, ঈমান সহকারে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে এ কাজ কর এবং ময়দানে শত্রুর দিকে তোমার মুখ থাকে, পেছন ফিরে পালাতে না থাক। পুনরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তুমি (এখনি) কী বলেছিলে? ঐ ব্যক্তি বললো, আপনি কি মনে করেন যদি আমি আল্লাহর পথে শহীদ হই তাহলে এতে আমার সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাবে? তিনি বলেন, হাঁ, অবশ্যি, যদি তুমি অবিচল থাক, ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় এ কাজ কর এবং ময়দানে শত্রুর দিকে তোমার মুখ থাকে, পেছন ফিরে পালাতে না থাক। তবে ঋণ মাফ করা হবে না, জিবরীল আমাকে এ কথা বলে গেলেন।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٣١٤ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَجُلٌ أَيْنَ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ قُتِلْتُ قَالَ فِي الْجَنَّةِ فَالْقَى تَمَرَاتٍ كُلٌّ فِي يَدِهِ ثُمَّ قَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩১৪। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি শহীদ হই তাহলে আমার স্থান হবে কোথায়? তিনি জবাব দিলেন: জান্নাতে। (এ কথা শুনে) ঐ ব্যক্তি নিজের হাতের খেজুরগুলো ছুড়ে ফেলে দিল, তারপর জিহাদে ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং শেষ পর্যন্ত শহীদ হলো।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٣١٥ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ انْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ حَتَّى سَبَقُوا الْمُشْرِكِينَ إِلَى بَدْرٍ وَجَاءَ الْمُشْرِكُونَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُقَدِّمَنْ أَحَدٌ مِنْكُمْ إِلَى شَيْءٍ حَتَّى

أَكُونَ أَنَا دُونَهُ فَدَنَا الْمُشْرِكُونَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَوْمُوا إِلَى جَنَّةٍ عَرْضُهَا السموات والْأَرْضِ قَالَ يَقُولُ عُمَيْرُ بْنُ الْحُمَامِ الْأَنْصَارِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ جَنَّةٌ عرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ قَالَ نَعَمْ قَالَ بَحْ بَحْ فَقَالَ

رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا يَحْمِلُكَ عَلَى قَوْلِكَ بَحْ بَحْ قَالَ لا وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلَّا رَجَاءَ أَنْ أَكُونَ مِنْ أَهْلِهَا قَالَ فَإِنَّكَ مِنْ أَهْلِهَا فَأَخْرَجَ تَمَرَاتٍ مِّنْ قَرْنِهِ فَجَعَلَ يَأْكُلُ مِنْهُنَّ ثُمَّ قَالَ لَئِنْ أَنَا حَيِّيْتُ حَتَّى أَكُلَ تَمَرَاتِي

هَذِهِ إِنَّهَا لَحْيَاةٌ طَوِيلَةٌ فَرَمَى بِمَا كَانَ مَعَهُ مِنَ التَّمْرِ ثُمَّ قَاتَلَهُمْ حَتَّى قُتِلَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩১৫। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীগণ রওয়ানা হয়ে গেলেন এবং মুশরিকদের পূর্বে বদরে পৌঁছে গেলেন। মুশরিকরাও এসে গেলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যতক্ষণ আমি অগ্রসর না হই তোমাদের কেউ যেন কোন কিছুর দিকে এগিয়ে না যায়। তারপর যখন মুশরিকরা কাছে এসে গেলো তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: এবার তৈরি হয়ে যাও জান্নাতে যাওয়ার জন্য, যে জান্নাতের বিস্তৃতি হচ্ছে আসমান ও পৃথিবীর সমান। আনাস (রা) বর্ণনা করছেন, (এ কথা শুনে) উমাইর ইবনুল হুমাম আনসারী (রা) জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতের বিস্তৃতি আসমান ও পৃথিবীর সমান? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: হাঁ। উমাইর বললেন, বাহ্। বাহ্! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: এতে অবাক হবার কি আছে যে, তুমি যে বাহ্ বাহ্ বলে উঠলে? উমাইর বললেন, না, আল্লাহর কসম! তা নয়। এ কথা আমি কেবলমাত্র এই আশায় বলেছি, যাতে আমি তার অধিবাসী হতে পারি। তিনি বলেন: হাঁ, তুমি অবশ্যি জান্নাতের অধিবাসী। এ কথা শুনে উমাইর নিজের তীরদানী থেকে কিছু খেজুর বের করলেন এবং তা খেতে থাকলেন। তারপর বলতে লাগলেন, যদি আমার এই খেজুরগুলো খেয়ে শেষ করা পর্যন্ত আমি জীবিত থাকতে চাই তাহলে সেটা তো দীর্ঘ সময়। (এ কথা বলে) তাঁর কাছে যা খেজুর ছিল সবগুলো দূরে ছুড়ে ফেলে দিয়ে কাফিরদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন এবং শহীদ হয়ে গেলেন।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। ‘আল-কারানু’ অর্থ তীর রাখার থলি বা তীরদানী।

١٣١٦ – وَعَنْهُ قَالَ جَاءَ نَاسٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنِ ابْعَثُ مَعَنَا رجَالاً يُعَلِّمُونَا الْقُرْآنَ وَالسُّنَّةَ فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ سَبْعِينَ رَجُلًا مِّنَ الْأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُمُ القُراءُ فِيهِمْ خَالِى حَرَامٌ يَقْرَؤُونَ الْقُرْآنَ وَيَتَدَارَسُونَ بِاللَّيْلِ

يَتَعَلَّمُونَ وَكَانُوا بِالنَّهَارِ يَجِيتُونَ بِالْمَاءِ فَيَضَعُونَهُ فِي الْمَسْجِدِ وَيَحْتَطِبُوْنَ فَيَبِيعُونَهُ وَيَشْتَرُونَ به الطعام لأهل الصُّفَةِ وَلِلْفُقَرَاء فَبَعَثَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَرَضُوا لَهُمْ فَقَتَلُوهُمْ قَبْلَ أَنْ يُبْلُغُوا الْمَكَانَ فَقَالُوا اللَّهُمْ

بَلَغَ عَنَّا نَبِيِّنَا أَنَّا قَدْ لَقِينَاكَ فَرَضِينَا عَنْكَ وَرَضِيْتَ عَنَّا وَآتَى رَجُلٌ حَرَامًا خَالَ أَنَسٍ مِنْ خَلْفِهِ فَطَعَنَهُ بِرُمْحٍ حَتَّى انْفَدَهُ فَقَالَ حَرَامٌ فُرْتُ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ إِخْوَانَكُمْ قَدْ قُتِلُوا وَأَنَّهُمْ قَالُوا

اللَّهُم بَلَغَ عَنَّا نَبِيِّنَا أَنَّا قَدْ لَقِيْنَاكَ فَرَضِيْنَا عَنْكَ وَرَضِيْتَ عَنَّا مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَهُذَا لَفْظُ مُسْلِمٍ

১৩১৬। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কয়েক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে হাযির হয়ে বললো, আমাদের সাথে কিছু সংখ্যক লোক পাঠিয়ে দিন, যারা আমাদেরকে আল কুরআন ও সুন্নাতের শিক্ষাদান করবে। তিনি সত্তরজন আনসারকে তাদের সাথে পাঠালেন। তাদেরকে কারী বলা হতো। তাদের সাথে ছিলেন আমার মামা হারাম (রা)-ও। তারা আল কুরআন পড়তেন এবং রাতে আল কুরআনের আলোচনা করতেন ও শিক্ষার কাজে মশগুল থাকতেন। দিনের বেলা তারা পানি এনে মসজিদে রাখতেন ও কাঠ সংগ্রহ করতেন এবং তা বিক্রয় করে আহলে সুফ্ফা (সাহাবীদের যে দলটি ইল্ল্ম হাসিল করার জন্য মসজিদে অবস্থান করতেন) ও কপর্দকশূন্য দরিদ্রদের জন্য খাবার কিনতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সাহাবীদেরকে তাদের সাথে পাঠিয়ে দিলেন। তারা নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছার আগেই এরা তাদেরকে হত্যা করলো। তাদের প্রত্যেকে বললেন, হে আল্লাহ! আমাদের পয়গাম আমাদের নবীর কাছে পৌছিয়ে দিয়ো যে, আমরা তোমার কাছে পৌঁছে গেছি, আমরা তোমার প্রতি সন্তুষ্ট এবং তুমি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট। (বর্ণনাকারী বলেন) এক ব্যক্তি আনাসের মামা হারামের কাছে এলো পেছন থেকে এবং তাকে বর্শাবিদ্ধ করলো। বর্শাটি তাকে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিল। হারাম (রা) বললেন, কাবার রবের কসম! আমি সফলকাম হয়েছি। (ওহীর মাধ্যমে এ খবর জেনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের ভাইদেরকে হত্যা করা হয়েছে এবং তারা (মৃত্যুকালে) বলেছে: হে আল্লাহ! আমাদের নবীকে আমাদের পক্ষ থেকে এ পয়গাম পৌছিয়ে দাও যে, আমরা তোমার কাছে এসে গেছি, আমরা তোমার প্রতি সন্তুষ্ট এবং তুমি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং এখানে মূল পাঠ ইমাম মুসলিমের।

۱۳۱۷ – وَعَنْهُ قَالَ غَابَ عَمَى أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ عَنْ قِتَالِ بَدْرٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ غِبْتُ عَنْ أَوَّلِ قِتَالَ قَاتَلْتَ الْمُشْرِكِينَ لَئِنِ اللَّهُ أَشْهَدَنِي قِتَالَ الْمُشْرِكِينَ ليَرَيَنَّ اللَّهُ مَا أَصْنَعُ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ أَحَدٍ إِنْكَشَفَ الْمُسْلِمُونَ فَقَالَ

اللَّهُمَّ إِنِّي اعْتَذِرُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ هَؤُلَاءِ يَعْنِي أَصْحَابَهُ وَأَبْرَأَ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ هَؤُلَاءِ يَعْنِي الْمُشْرِكِينَ ثُمَّ تَقَدِّمَ فَاسْتَقْبَلَهُ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ فَقَالَ يَا سَعْدَ بْنَ مُعَادَ الْجَنَّةَ وَرَبِّ النظر اني أجِدُ رِيحَهَا مِنْ دُونِ أَحَدٍ قَالَ سَعْدٌ فَمَا

اسْتَطَعْتُ يَا رَسُولَ اللهِ مَـ صَنَعَ قَالَ أَنَسٌ فَوَجَدْنَا به بضعا وثَمَانِينَ ضَرْبَةً بالسيف أو طعنة برمح أو رمية بِسَهُم وَوَجَدْنَاهُ قَدْ قُتِلَ وَمَثْلَ بِهِ الْمُشْرِكُونَ فَمَا عَرَفَهُ أَحَدٌ إِلَّا أُخْتُهُ بِبَنَانِهِ قَالَ انس كُنَّا نُرَى أَوْ نَظَنُّ أَنْ هَذِهِ الْآيَةَ

نَزَلَتْ فِيهِ وَفِي أَشْبَاهِهِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ إِلَى آخِرِهَا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. ما

১৩১৭। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার চাচা আনাস ইবনে নাদর (রা) বদরের যুদ্ধে শরীক হতে পারেননি। তিনি আরজ করেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি মুশরিকদের সাথে যে প্রথম যুদ্ধ করেছেন তাতে আমি শরীক হতে পারিনি। আগামীতে মুশরিকদের সাথে যেসব যুদ্ধ হবে তাতে যদি আমি শরীক থাকি তাহলে আল্লাহ দেখে নেবেন আমি কী করি। কাজেই যখন উহুদের যুদ্ধ হলো এবং মুসলিমরা বাহ্যত পরাজয় বরণ করলো, তখন তিনি বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ। (উহুদের ময়দানে) এরা অর্থাৎ মুসলিম সাহাবীরা যা কিছু করেছে তার জন্য আমি আপনার কাছে ওযর পেশ করছি এবং এরা (অর্থাৎ মুশরিকরা) যা কিছু করেছে তা থেকে নিজেকে দায়িত্বমুক্ত ঘোষণা করছি। এ কথা বলে তিনি এগিয়ে গেলেন। সামনে থেকে সা’দ ইবনে মু’আয (রা) এসে গেলে বলতে লাগলেন, হে সা’দ ইবনে মু’আয, নাদরের রবের কসম। আমি উহুদ পাহাড়ের দিক থেকে জান্নাতের খুশবু পাচ্ছি। সা’দ ইবনে মু’আয (রা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি যা করেছেন আমি তা করতে পারিনি। আনাস (রা) বর্ণনা করেন, আমরা তার (আনাস ইবনে নাদর) শরীরে পেলাম আশিরও বেশি তলোয়ার, বর্শা ও তীরের আঘাত এবং আমরা তাকে এমন অবস্থায় পেলাম তখন তিনি শহীদ হয়ে গেছেন এবং মুশরিকরা তার চেহারা বিকৃত করে দিয়েছে। তাঁর বোন ছাড়া আর কেউ তাঁকে চিনতে পারলেন না এবং তিনিও তাঁকে চিনলেন তার আঙ্গুলের ডগাগুলো দেখে। আনাস (রা) বর্ণনা করেন, আমরা এ কথা মনে করি এবং আমাদের মত এই যে, নিম্নোক্ত আয়াতটি তাঁর এবং তাঁর মত লোকদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ “মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের ওয়াদাকে সত্য প্রমাণ করেছে। আবার তাদের মধ্যে এমন কতক আছে যারা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে”… আয়াতের শেষ অবধি (সূরা আল আহযাবঃ ২৩)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এর আগে মুজাহাদা অনুচ্ছেদে এ হাদীস আলোচিত হয়েছে (১০৯ নম্বর হাদীস দ্র.)।

۱۳۱۸ – وَعَنْ سَمُرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ رَجُلَيْنِ أَتَيَانِي فَصَعِدَا بِي الشَّجَرَةَ فَأَدْخَلَاتِي دَارًا هِيَ أَحْسَنُ وأفضَلُ لَمْ أَرَ قَطُّ أَحْسَنَ مِنْهَا قَالَا أَمَّا هَذِهِ الدَّارَ فَدَارُ الشُّهَدَاءِ –

رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৩১৮। সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি আজ রাতে দু’জন লোককে আমার কাছে আসতে দেখলাম। তারা আমাকে সাথে নিয়ে একটি গাছে চড়লো। তারপর আমাকে একটি ঘরে নিয়ে গেলো। সেটা ছিল বড়ই সুন্দর ও বড়ই চমৎকার। তার চাইতে সুন্দর ঘর আমি আর দেখিনি।

তারা দু’জন বললো, এটি হচ্ছে শহীদদের আবাস।

ইমাম বুখারী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর এটি হচ্ছে ইল্ল্ম সংক্রান্ত বিভিন্ন কথা সম্বলিত একটি সুদীর্ঘ হাদীসের একাংশ। “মিথ্যা বলা হারাম” অনুচ্ছেদে এ সম্পর্কিত বিস্তারিত হাদীসের আলোচনা করা হবে ইনশা আল্লাহ।

۱۳۱۹ – وعن انس رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ أم الربيع بِنْتَ الْبَرَاءِ وَهِيَ أَمْ حَارِثَةَ بْنِ سراقة أنتِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا تُحَدِّثْنِي عَنْ حَارِثَةَ وَكَانَ قُتِلَ يَوْمَ بَدْرٍ فَإِنْ كَانَ فِي الْجَنَّةِ صَبَرْتُ وَإِنْ كَانَ

غَيْرَ ذَلِكَ اجْتَهَدْتُ عَلَيْهِ فِي الْبُكَاءِ فَقَالَ يَا أَمْ حَارِثَةَ إِنَّهَا جِنَانٌ فِي الْجَنَّةِ وَإِنَّ ابْنَكِ أَصَابَ الْفِرْدَوسَ الْأَعْلَى رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৩১৯। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। বারাআ (রা)-র কন্যা ও হারিসা ইবনে সুরাকা (রা)-র মাতা উম্মু রবী (রা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে হারিসা সম্পর্কে কিছু বলবেন না? আর এই হারিসা বদরের যুদ্ধের দিন শহীদ হন। যদি সে (হারিসা) জান্নাতে থাকে তাহলে আমি সবর করবো। আর যদি এছাড়া অন্য কিছু হয়ে থাকে তাহলে আমি তার জন্য কান্নাকাটি করে নিজের দিলের আকাঙ্ক্ষা মিটিয়ে নেব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন: হে হারিসার মা। জান্নাতের বিভিন্ন স্তর আছে, আর তোমার ছেলে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর ফিরদাউস লাভ করেছে।

ইমাম বুখারী এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

۱۳۲۰ – وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ جِنَّ بِأَبِي إِلَى النَّبِيِّ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ مُثَلَ بِهِ فَوُضِعَ بَيْنَ يَدَيْهِ فَذَهَبْتُ أَكْشِفُ عَنْ وَجْهِهِ فَنَهَانِي قَوْمِي فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا زَالَتِ

الْمَلَائِكَةُ تُظِلُّهُ بِأَجْنِحَتِهَا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩২০। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতার [ হযরত জাবির (রা)-এর শহীদ পিতার নাম ছিল আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হুযাম (রা)] বিকৃত লাশ এনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে রেখে দেয়া হলো। আমি তার চেহারা থেকে চাদর উঠাতে গেলে আমার গোত্রের লোকেরা আমাকে নিষেধ করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ফেরেশতারা সব সময় তার উপর নিজেদের ডানা দিয়ে ছায়া করে আছে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۳۲۱ – وَعَنْ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ سَأَلَ اللهَ تَعَالَى الشَّهَادَةَ بِصِدْقٍ بَلَغَهُ اللَّهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩২১। সাহল ইবনে হুনাইফ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যদি কোন ব্যক্তি সাচ্চাদিলে শাহাদাত লাভের জন্য দু’আ করে তাহলে সে তার বিছানায় মৃত্যুবরণ করলেও আল্লাহ তাকে শহীদদের স্তরে পৌছিয়ে দেন।

۱۳۲۲ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ طَلَبَ الشَّهَادَةَ صَادِقًا أَعْطِيَهَا وَلَوْ لَمْ تُصِبْهُ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩২২। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সাচ্চাদিলে শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা করে সে শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করে, যদিও সে শহীদ না হয়ে থাকে।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

۱۳۲۳ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا يَجِدُ الشَّهِيدُ مِنْ مَسِ الْقَتْلِ إِلا كَمَا يَجِدُ أَحَدُكُمْ مِنْ مَسِ الْقَرْصَةِ رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثَ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৩২৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শাহাদাত লাভকারী ব্যক্তি নিহত হওয়ায় কষ্ট অনুভব করে না, তবে তোমাদের কেউ পিঁপড়ের কামড়ে যতটুকু কষ্ট অনুভব করে কেবল ততটুকুই অনুভব করে মাত্র।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ বলেছেন।

١٣٢٤ – وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضٍ أَيَّامِهِ الَّتِي لَقِي فِيهَا الْعَدُوِّ انْتَظَرَ حَتَّى مَالَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ قاءَ فِي النَّاسِ فَقَالَ أَيُّهَا النَّاسُ لَا تَتَمَنُوا لِقَاءَ الْعَدُوِّ وَسَلُوا

اللَّهَ الْعَافِيَةَ فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاصْبِرُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ ظِلالِ السُّيُوفِ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ مَنْزِلَ الكِتَابِ وَمُجْرِي السَّحَابِ وَهَازِمَ الْأَحْزَابِ اهْزِمُهُمْ وَانْصُرْنَا عَلَيْهِمْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩২৪। আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রা) থেকে বর্ণিত। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুশমনের সাথে মুকাবিলা করতে যাচ্ছিলেন এবং তিনি সূর্যাস্তের অপেক্ষা করছিলেন। এরই মধ্যে তিনি দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে লোকেরা। দুশমনের সাথে মুকাবিলার আকাঙ্ক্ষা করো না, বরং নিরাপত্তা লাভের জন্য আল্লাহ্র কাছে দু’আ কর। তবে যখন দুশমনের সাথে মুকাবিলা হয় তখন অবিচল থেকো। জেনে রাখ। জান্নাত তরবারির ছায়াতলে। তারপর তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ, কিতাব নাযিলকারী, মেঘমালা পরিচালনাকারী ও দলসমূহকে পরাজয়দানকারী! ওদেরকে পরাজয় দান কর এবং আমাদেরকে তাদের উপর বিজয়ী কর।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٣٢٥ – وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثِنْتَانِ لَا تُرَدَانِ أَوْ قَلَّمَا تُرَدَانِ الدُّعَاءُ عِنْدَ النِّدَاءِ وَعِنْدَ البَأْسِ حِيْنَ يُلْحِمُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِاسْنَادِ صَحِيح.

১৩২৫। সাহল ইবনে সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এমন দু’টি সময় আছে যখন (দু’আ করলে তা) প্রত্যাখ্যাত হয় না অথবা (বলেছেন) খুব কমই প্রত্যাখ্যাত হয়। আযানের সময় ও যুদ্ধের সময়, যখন পরস্পরের সাথে যুদ্ধ চলে প্রচণ্ডভাবে।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٣٢٦ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا غَزَا قَالَ اللَّهُمَّ انْتَ عَضُدِي وَنَصِيرِي بِكَ أَحُولُ وَبِكَ أَصُولُ وَبِكَ أَقَاتِلُ – رَوَاهُ أبو داود وَالتَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৩২৬। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জিহাদ করতেন তখন বলতেনঃ হে আল্লাহ! তুমিই আমার ভরসাস্থল, তুমিই আমার সাহায্যকারী, তোমার দিকেই আমি দৃষ্টি ফিরাচ্ছি, তোমার শক্তির সাহায্যেই আমি আক্রমণ করছি এবং তোমার শক্তিতেই লড়াই করছি।

ইমাম বুখারী ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম তিরমিযী একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

۱۳۲۷ – وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا خَافَ قَوْمًا قَالَ اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُوْرِهِمْ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِاسْنَادِ صَحِيح .

১৩২৭। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন জাতি থেকে কোন প্রকার ভয়ের আশংকা অনুভব করতেন তখন বলতেন: হে আল্লাহ! আমরা তোমাকে কাফিরদের প্রতিযোগী বানাচ্ছি এবং তোমার মাধ্যমে তাদের অনিষ্টকারিতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۳۲۸ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْخَيْلُ مَعْقُودٌ فِي نَوَاصِيُّهَا الْخَيْرُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩২৮। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ঘোড়ার কপালের মধ্যে কিয়ামাত পর্যন্ত কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۳۲۹ – وَعَنْ عُرُوَةَ الْبَارِقِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْخَيْلُ مَعْقُودٌ فِي نَوَاصِيهَا الْخَيْرُ إِلى يَوْمِ الْقِيَامَةِ الْآخِرُ وَالْمَغْنَمُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩২৯। উরওয়া আল-বারিকী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কিয়ামাত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ সংশ্লিষ্ট রয়েছে, প্রতিদান ও গানীমাত আকারে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۳۳۰ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنِ احْتَبَسَ فَرَسًا فِي سَبِيلِ اللهِ إِيْمَانًا بِاللَّهِ وَتَصْدِيقًا بِوَعْدِهِ فَإِنْ شَبْعَهُ وَرَبَّهُ وَرَوْنَهُ وَبَوْلَهُ فِي مِيزَانِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَوَاهُ الْبُخَارِي.

১৩৩০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে (জিহাদ করার জন্য) আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে তার ওয়াদাকে সত্য মনে করে ঘোড়া প্রতিপালন করে, তার এই ঘোড়ার খাবার, লেদী ও পেশাব কিয়ামাতের দিন তার আমলের মীযানে (তুলাদণ্ডে) স্থাপিত হবে [ অর্থাৎ ঘোড়ার খাবার তথা ঘাস, ভূসি, ছোলা, পানি ইত্যাদি এবং ঘোড়ার পেশাব ও লেদী, এসব তার পাল্লায় চাপিয়ে দেয়া হবে, এটা হাদীসের উদ্দেশ্য নয়, বরং হাদীসের বক্তব্য হচ্ছে তার নেক নিয়াত ও ইখলাসের কারণে এসব সাওয়াবে পরিণত হয়ে যাবে এবং তার পাল্লায় নেকীর ওজন বাড়িয়ে দেবে ] ।

ইমাম বুখারী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۳۳۱ – وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَاقَةٍ مَخْطُومَةٍ فَقَالَ هَذِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَكَ بِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ سَبْعُ مِائَةٍ كُلَّهَا مَخْطُومَةً

رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩৩১। আবু মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি লাগাম পরিহিত একটি উস্ত্রী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে এনে বললো, এটা আল্লাহর পথে (দেয়া হলো)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: কিয়ামাতের দিন এর বিনিময়ে তুমি লাগাম পরিহিত সাত শত উস্ত্রী পাবে।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۳۳۲ – وَعَنْ أَبِي حَمَّادٍ وَيُقَالُ أَبُو سُعَادٍ وَيُقَالُ أَبُو أَسَدٍ وَيُقَالُ أَبُو عَامِرٍ وَيُقَالُ أبو عَمْرُو وَيُقَالُ أَبُو الْأَسْوَدِ وَيُقَالُ أَبُو عَبْسُ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَلَى

الْمِنْبَرِ يَقُولُ وَاعِدُوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ) أَلَا إِنَّ الْقُوَّةَ الرَّمَى أَلَا إِنَّ الْقُوَّةَ الرَّمَى الا إِنَّ الْقُوَّةَ الرَّمَى رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩৩২। আবু হাম্মাদ উকবা ইবনে আমের আল-জুহানী (রা) থেকে বর্ণিত। তার কয়েকটি ডাকনাম রয়েছে। যেমন আবু সু’আদ, আবু আসাদ, আবু আমের, আবু আমর, আবুল আসওয়াদ ও আবু ‘আব্‌ক্স। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বারের উপর বলতে শুনেছিঃ “আর কাফিরদের মুকাবিলায় নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য মুতাবিক প্রস্তুতি গ্রহণ করো” (সূরা আল আনফালঃ ৬০)। জেনে রাখ, শক্তি অর্থ হচ্ছে তীরন্দাজী। জেনে রাখ, শক্তি অর্থ তীরন্দাজী। জেনে রাখ, শক্তি অর্থ তীরন্দাজী।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

۱۳۳۳ – وَعَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ سَتُفْتَحُ عَلَيْكُم أَرْضُونَ وَيَكْفِيكُمُ اللهُ فَلا يَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَلْهُوَ بِأَسْهُمِهِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩৩৩। আবু হাম্মাদ উকবা ইবনে আমের আল-জুহানী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: অচিরেই বিভিন্ন এলাকা তোমাদের হাতে বিজিত হবে এবং আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন। কাজেই তোমাদের কেউ যেন তীরন্দাজীর খেলা করার ব্যাপারে গড়িমসি না করে।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٣٣٤ – وَعَنْهُ أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ عَلِمَ الرَّمَى ثُمَّ تركه فَلَيْسَ مِنَّا أَوْ فَقَدْ عَصَى رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩৩৪। আবু হাম্মাদ উকবা ইবনে আমের আল-জুহানী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তিকে তীরন্দাজী শেখানো হয়েছিল, তারপর সে তা ত্যাগ করেছে সে আমাদের দলের অন্তর্ভুক্ত নয় অথবা (তিনি বলেছেন) সে নাফরমানী করেছে।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٣٣٥ – وَعَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ يُدْخِلُ بالسهم الْوَاحِدِ ثَلَاثَةَ نَفَرِ الْجَنَّةَ صَانِعَهُ يَحْتَسِبُ فِي صَنْعَتِهِ الْخَيْرَ وَالرَّامِي بِهِ وَمُنْبِلَهُ وَارْمُوا وَارْكَبُوا وَأَنْ تَرْمُوا أَحَبُّ إِلَى مِنْ أَنْ تَرْكَبُوا وَمَنْ

تَرَكَ الرَّمِي بَعْدَ مَا عُلِمَهُ رَغْبَةً عَنْهُ فَانَّهَا نِعْمَةٌ تَرَكَهَا أَوْ قَالَ كَفَرَهَا رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ.

১৩৩৫। আবু হাম্মাদ উব্বা ইবনে আমের আল-জুহানী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ একটি তীরের বদৌলতে তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন: তীর নির্মাতা- যে তা নির্মাণে সাওয়াব আশা করে, তীরটি নিক্ষেপকারী এবং যে তীরন্দাজের হাতে তীর ধরিয়ে দেয়। তোমরা তীরন্দাজী কর ও ঘোড়ায় চড়া শেখ। যদি তোমরা তীরন্দাজী শেখ তাহলে আমার কাছে তা ঘোড়ায় চড়া শেখার চেয়ে বেশি প্রিয়। যে ব্যক্তি তিরন্দাজী শেখার পর তার প্রতি অনাগ্রহী হয়ে তা ত্যাগ করে, সে আল্লাহ্র একটি নিয়ামাত ত্যাগ করে অথবা তিনি
(এভাবে) বলেনঃ সে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

ইমাম আবু দাউদ এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

١٣٣٦ – وَعَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى نَفَرٍ يَنْتَضِلُوْنَ فَقَالَ ارْمُوا بَنِي إِسْمَاعِيلَ فَإِنْ آيَاكُمْ كَانَ رَامِيًا – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৩৩৬। সালামা ইবনুল আকওয়া (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি দলের কাছ দিয়ে গেলেন, তখন তারা তীরন্দাজী অনুশীলন করছিল। তিনি বলেনঃ হে বনী ইসমাঈল! তীরন্দাজী কর! কারণ তোমাদের পিতাও (হযরত ইসমাঈল আ.) তীরন্দাজ ছিলেন।

ইমাম বুখারী এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

۱۳۳۷ – وَعَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ رَمَى بِسَهُم فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ لَهُ عِدْلُ مُحَرِّرَةٍ رَوَاهُ أبو داود والتَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৩৩৭। আমর ইবনে আবাসা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একটি তীর নিক্ষেপ করে, তা একটি গোলাম আযাদ করার সমান [ এ অনুচ্ছেদের হাদীসগুলো থেকে তীরন্দাজীর গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। সে যুগে তীর ছিল যুদ্ধের সবচাইতে মারাত্মক অস্ত্র। বর্তমানে অবস্থার পরিবর্তনে বন্দুক, মেশিনগান, রকেট, মিসাইল, জেট বিমান এবং পারমাণবিক ও অন্যান্য অত্যাধুনিক অস্ত্র এ স্থান গ্রহণ করেছে। এখন মুসলিমদের এসব অন্ত্রে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এ প্রসংগে আল কুরআনের আয়াত “আর শক্তি-সামর্থ্য অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ কর”-এর সার্বজনীনতা লক্ষণীয় ] ।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান ও সহীহ আখ্যা দিয়েছেন।

۱۳۳۸ – وَعَنْ أَبِي يَحْى خُرَيْمِ بْنِ فَاتِكَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ انْفَقَ نَفَقَةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ كُتِبَ لَهُ سَبْعُ مِائَةِ ضعف – رَوَاهُ التَّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৩৩৮। আবু ইয়াহ্ইয়া খুরাইম ইবনে ফাতিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে (জিহাদের জন্য) কিছু খরচ করলো তার জন্য তার সাত শত গুণ লেখা হয়।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন এবং একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

۱۳۳۹ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ عَبْدٍ يَصُومُ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللهِ إِلَّا بَاعَدَ اللَّهُ بِذَلِكَ الْيَوْمِ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৩৯। আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে কোন বান্দা আল্লাহর পথে একদিন রোযা রাখলো আল্লাহ সেই দিনের বরকতে তার চেহারাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ١٣٤٠ – وَعَنْ أَبِي أَمَامَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ ا مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللهِ جَعَلَ اللهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّارِ خَنْدَقًا كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৩৪০। আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একদিন রোযা রাখে আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মধ্যে একটি পরিখার ব্যবস্থা করেন এবং তার দূরত্ব হবে পৃথিবী ও আসমানের মধ্যকার দূরত্বের সমান। ইমাম তিরমিযী এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

١٣٤١ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَغْرُ وَلَمْ يُحَدِّثْ نَفْسَهُ بِغَزُو مَاتَ عَلَى شُعْبَةٍ مِنَ النِّفَاكِ رواه مسلم.

১৩৪১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি জিহাদ না করে এবং জিহাদের কোন চিন্তাও তার মনে পোষণ না করে মারা গেলো, তার মৃত্যু হলো নিফাকের (মুনাফিকী) একটি স্বভাবের উপর।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

١٣٤٢ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَرَاةٍ فَقَالَ إِنَّ بِالْمَدِينَةِ لرجالاً مَا سِرْتُمْ مَسِيراً ولا قَطَعْتُمْ وَادِيًا إِلَّا كَانُوا مَعَكُمْ حَبَسَهُمُ الْمَرَضُ – وَفِي رِوَايَةٍ حَبَسَهُمُ الْعُذْرُ وَفِي رِوَايَةٍ إِلَّا

شَرَكُوكُمْ فِي الْأَجْرِ روَاهُ الْبُخَارِيُّ مِنْ رَوَايَةِ أَنَسِ وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ مِنْ رِوَايَةِ جَابِرٍ وَاللفظ لَهُ.

১৩৪২। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক জিহাদে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তিনি বলেন: মদীনায় এমন কতক লোক আছে, তোমরা যেখানে সফর কর এবং যে উপত্যকা অতিক্রম কর সর্বত্র তারা তোমাদের সাথে আছে। রোগ তাদেরকে আটকে রেখেছে। অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: ওজর তাদেরকে আটকে রেখেছে। অপর এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: তবে তারা তোমাদের সাথে সাওয়াবে শরীক আছে।

ইমাম বুখারী এ হাদীস হযরত আনাস (রা)-র রিওয়ায়াত হিসেবে এবং ইমাম মুসলিম এটিকে হযরত জাবির (রা)-র রিওয়ায়াত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এখানে উদ্ধৃত হাদীসের মূল পাঠ ইমাম মুসলিমের।

١٣٤٣ – وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ أَعْرَابِيا أَتَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ الرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِلْمَغْنَمِ وَالرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِيُذْكَرَ وَالرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِيُرَى مَكَانُهُ. وَفِي رِوَايَةٍ يُقَاتِلُ شَجَاعَةً وَيُقَاتِلُ حَمِيةٌ.

وَفِي رواية وَيُقَاتِلُ غَضَبًا فَمَنْ فِي سَبِيلِ اللهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৪৩। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। জনৈক বেদুইন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞেস করেন: হে আল্লাহর রাসূল! এক ব্যক্তি গানীমাতের মাল লাভ করার উদ্দেশে যুদ্ধ করে, আর এক ব্যক্তি যুদ্ধ করে খ্যাতিমান হওয়ার জন্য, তৃতীয় এক ব্যক্তি যুদ্ধ করে প্রতিপত্তি লাভের জন্য, অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে, (কেউ) বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে, (কেউ) গোত্রপ্রীতির জন্য যুদ্ধ করে, তৃতীয় এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছেঃ (কেউ) যুদ্ধ করে ক্রোধের বশবর্তী হয়ে, এদের মধ্যে কে আল্লাহর পথে জিহাদ করে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর কালেমাকে বুলন্দ করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করে একমাত্র তার যুদ্ধই আল্লাহর পথে জিহাদ হিসেবে গণ্য।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

١٣٤٤ – وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بن عَمرو بن العَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ غَازِيَةٍ أَوْ سَرِيَّةٍ تَغْزُو فَتَغْنَمُ وَتَسْلَمُ إِلَّا كَانُوا قَدْ تَعَجَّلُوا تُلْقَى أُجُورِهِمْ وَمَا مِنْ غَازِيَةٍ أَوْ سَرِيَّةٍ تُخْفِقُ وَتُصَابُ إِلَّا

تَمَّ لَهُمْ أَجُورُهُمْ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩৪৪। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে সেনাদল বা বাহিনীই আল্লাহর পথে জিহাদ করবে, গানীমতের মাল লাভ করবে ও নিরাপদ থেকে যাবে তারা তাদের প্রতিদানের দুই-তৃতীয়াংশ অচিরেই (দুনিয়াতে) লাভ করবে। যে সেনাদল ও বাহিনীই আল্লাহর পথে জিহাদ করবে, অসফল হবে ও বিপদগ্রস্ত হবে, তারা তাদের
প্রতিদান (আখিরাতে) পুরোপুরিই পাবে।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٣٤٥ – وَعَنْ أَبِي أَمَامَةً رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَجُلًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ لِي فِي السَّيَاحَةِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ سِيَاحَةَ أُمَّتِي الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِنْسَادِ جَيْدِ .

১৩৪৫। আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আরয করলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে দেশ ভ্রমণের অনুমতি দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে (গমনই) আমায় উম্মাতের দেশভ্রমণ (পর্যটন)। আবু দাউদ উত্তম সনদে এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

١٣٤٦ – وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَفْلَةٌ كَغَزْوَةِ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِاسْنَادِ جَيْدِ .

১৩৪৬। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তনও জিহাদের মধ্যে শামিল।

ইমাম আবু দাউদ উত্তম সনদে এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। “আল-কাফলাতু” অর্থ ফিরে আসা অর্থাৎ জিহাদ শেষ হবার পর ফিরে আসা। জিহাদ শেষ করে ফিরে আসায়ও সাওয়াব দান করা হয়।

١٣٤٧ – وَعَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ تَلَقَّاهُ النَّاسُ فَتَلَقَّيْتُهُ مَعَ الصَّبْيَانِ عَلَى ثَنِيَّةِ الوداع – رواه أبو دَاوُدَ بِإِسْنَادٍ صَحِيح بهذا اللَّفْظِ وَرَوَاهَ الْبُخَارِيُّ قَالَ ذَهَبْنَا

نَتَلَقَّى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ الصَّبْيَانِ إِلَى ثَنِيَّةِ الْوَدَاعِ.

১৩৪৭। সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরে এলে লোকেরা তাঁর সাথে সাক্ষাত করে। আমিও তরুণ ছেলেদের সাথে নিয়ে ‘সানিয়াতুল বিদা’য় তাঁকে অভ্যর্থনা জানালাম।

আবু দাউদ সহীহ সনদে এই শব্দাবলী সম্বলিত এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী এটিকে নিম্নোক্তভাবে বর্ণনা করেছেন: সাইব (রা) বলেন, আমি তরুণ ছেলেদের সাথে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য ‘সানিয়াতুল বিদা’য় গিয়েছিলাম।

١٣٤٨ – وَعَنْ أَبِي أَمَامَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ لَمْ يَغْرُ أَوْ يُجَهِزَ غَازِيًا أَوْ يَخْلُفُ غَازِيًا فِي أَهْلِهِ بِخَيْرٍ أَصَابَهُ اللَّهُ بِقَارِعَةٍ قَبْلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ صَحِيح.

১৩৪৮। আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি জিহাদ করেনি, কোনো গাযীকে জিহাদের সরঞ্জামও সংগ্রহ করে দেয়নি এবং কোন গাযীর অনুপস্থিতিতে তার পরিবার-পরিজনের দেখাশুনাও করেনি, আল্লাহ কিয়ামাতের পূর্বে তাকে কঠিন বিপদে ফেলবেন।

١٣٤٩ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ جَاهِدُوا المُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ وَالْسِنَتِكُمْ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ صَحِيح.

১৩৪৯। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের ধন, প্রাণ ও জবান দিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর [ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে তিন প্রকার জিহাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম দুই প্রকার অর্থাৎ ধন ও প্রাণ দিয়ে জিহাদ অত্যন্ত সুস্পষ্ট। আর তৃতীয় প্রকার অর্থাৎ জবান দিয়ে জিহাদটি হচ্ছে মুখের কথার মাধ্যমে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা। এ জিহাদের ব্যাপকতা অনেক। যেমন বক্তৃতা, আলোচনা, বইপত্র, সাহিত্য, প্রচার মাধ্যম সবকিছুর সাহায্যে ইসলাম বিরোধী শক্তিসমূহের বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক জিহাদে লিপ্ত থাকা ] ।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদ সহকারে এ হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٣٥٠ – وَعَنْ أَبِي عَمْرُو وَيُقَالُ أَبُو حَكِيمِ النُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّن رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ شَهِدْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا لَمْ يُقَاتِلُ مِنْ أَوَّلِ النَّهَارِ أَخْرَ الْقِتَالَ حَتَّى تَزُولَ الشَّمْسُ وَتَهِبُ الرِّيَاحُ وَيَنْزِلَ النَّصْرُ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

والتَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيْثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৩৫০। আবু আমর বা আবু হাকীম নু’মান ইবনে মুকাররিন (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (জিহাদে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হাযির হলাম। তিনি যখন দিনের প্রথম দিকে যুদ্ধ করতেন না তখন যুদ্ধ পিছিয়ে দিতেন সূর্য ঢলে পড়া পর্যন্ত, যখন বায়ু প্রবাহিত হতে থাকতো আর আল্লাহর সাহায্য আসতো।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে সহীহ ও হাসান হাদীস বলেছেন।

١٣٥١ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ وَاسْأَلُوا اللَّهَ الْعَافِيَةَ فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاصْبِرُوا -متفق عليه.

১৩৫১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করো না। আর যখন তোমাদের শত্রুর সাথে মুকাবিলা হয়েই যায় তখন দৃঢ়ভাবে মুকাবিলা করতে থাক।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٣٥٢ – وَعَنْهُ وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْحَرْبُ خَدْعَةٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৫২। আবু হুরাইরা ও জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যুদ্ধ হচ্ছে কৌশল [ জিহাদের প্রতিশব্দ হিসাবে ‘গাযওয়া’, ‘সারিয়াহ’, ‘কিতাল’, ‘হারব’ ইত্যাদি শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। এসব শব্দের অর্থ হচ্ছে যুদ্ধ করা। তবে আরবীতে জিহাদের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে পরিশ্রম করা, মেহনত করা, প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম চালানো। এই অর্থেই এর পারিভাষিক অর্থ হয় সত্যের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার এবং তার সংরক্ষণের জন্য প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম করা, এ পথে সব রকমের কুরবানী ও ত্যাগস্বীকার করা। আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাকে যেসব দৈহিক, মানসিক ও আর্থিক শক্তি দান করা হয়েছে তা এই হকের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার পথে নিয়োজিত করা এবং শেষ পর্যায়ে যদি বিরোধী পক্ষের সাথে সশস্ত্র সংঘর্ষ করতে হয় তাহলে সেজন্যও প্রস্তুত থাকা।
শরী’আতের পরিভাষায় এইটিই হচ্ছে জিহাদ। আর এখানে যুদ্ধকে কৌশল বলার অর্থ হচ্ছে শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রযুক্তি অবলম্বন করা। যুদ্ধে যাতে শত্রুপক্ষ মুসলিম পক্ষের উদ্দেশ্য ও চাল বুঝতে অসমর্থ হয় এমন পদ্ধতি অবলম্বন করাকে এখানে ‘খাদ্‌আ’ বলা হয়েছে। প্রকাশ্যে মিথ্যা বলা ও সুস্পষ্ট মিথ্যার বেসাতি করার কথা এখানে বলা হয়সি, যা পাশ্চাত্য কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংগ ] ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২ – আখিরাতের সাওয়াবের দিক দিয়ে শহীদদের আর একটি দল, যাদেরকে গোসল দেয়া হবে, নামাযও পড়া হবে, তবে এরা কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে শহীদ হননি

١٣٥٣ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الشُّهَدَاءُ خَمْسَةٌ الْمَطْعُونُ وَالْمَبْطُونُ وَالْغَرِيقُ وَصَاحِبُ الْهَدْمِ وَالشَّهِيدُ فِي سَبِيلِ الله – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৫৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: শহীদ পাঁচ প্রকারের। মহামারীতে মরা, কলেরায় মরা, পানিতে ডুবে মরা, দেয়াল চাপা পড়ে মরা এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করে মরা।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٣٥٤ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا تَعُدُّونَ الشُّهَدَاءَ فِيكُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ شَهِيدٌ قَالَ إِنْ شُهَدَاءَ أمتى إِذَا لَقَلِيلٌ قَالُوا فَمَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَنْ قُتِلَ فِي

سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَمَنْ مَاتَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَمَنْ مَاتَ فِي الطَّاعُونِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَمَنْ مَاتَ فِي الْبَطْنِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَالْغَرِيقُ شَهِيدٌ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩৫৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা নিজেদের মধ্যে কাদেরকে শহীদ বলে গণ্য কর? সাহাবীগণ জবাব দিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যে আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে সেই শহীদ। তিনি জবাব দিলেন: তাহলে তো আমার উম্মাতের মধ্যে শহীদদের সংখ্যা হবে সামান্যমাত্র। সাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে তারা কারা? জবাব দিলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে নিহত হলো সে শহীদ, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করলো সে শহীদ, যে ব্যক্তি মহামারীতে মারা গেলো সে শহীদ, যে ব্যক্তি পেটের পীড়ায় মারা গেলো সে শহীদ এবং পানিতে ডুবে যার মৃত্যু হলো সেও শহীদ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٣٥٥ – وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৫৫। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার অর্থ-সম্পদ হিফাযাত করতে গিয়ে নিহত হয়েছে সে শহীদ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٣٥٦ – وَعَنْ أَبِي الْأَعْوَرِ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلِ أَحَدِ الْعَشَرَةِ الْمَشْهُودِ لَهُمْ بِالْجَنَّةِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَمَنْ قُتِلَ دُونَ دَمِهِ فَهُوَ

شَهِيدٌ وَمَنْ قُتِلَ دُونَ دِينِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَمَنْ قُتِلَ دُونَ أَهْلِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ والتَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৩৫৬। আবুল আ’ওয়ার সাঈদ ইবনে যায়িদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল (রা) থেকে বর্ণিত। পৃথিবীতে যে দশজনের পক্ষে জান্নাত লাভের সাক্ষ্য প্রদান করা হয় তিনি তাঁদের একজন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি নিজের ধন-সম্পদ হিফাযাত করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ। যে ব্যক্তি আত্মরক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ। যে ব্যক্তি নিজের দীনের হিফাযাত করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ। যে ব্যক্তি নিজ পরিবারের জন্য নিহত হয় সে শহীদ।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন।

١٣٥٧ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأَيْتَ إِنْ جَاءَ رَجُلٌ يُرِيدُ أَخْذَ مَا لِي قَالَ فَلَا تُعْطِهِ مَالَكَ قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ قَاتَلَنِي قَالَ قَاتِلَهُ قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ قَتَلَنِي

قَالَ فَأَنْتَ شَهِيدٌ قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ قَتَلْتُهُ قَالَ هُوَ فِي النَّارِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩৫৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল। যদি কোন লোক আমার ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নিতে আসে তাহলে সে ব্যাপারে আপনি কী বলেন? জবাব দিলেন: তোমার ধন-সম্পদ তাকে দেবে না। ঐ ব্যক্তি আবার বলল, আপনি কী বলেন, যদি সে আমাকে সশস্ত্র আক্রমণ করে? জবাব দিলেন: তুমিও তাকে আক্রমণ কর। লোকটি বলল, আপনি কী বলেন, সে যদি আমাকে হত্যা করে? তিনি বলেন: তাহলে তুমি শহীদ। ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, আর যদি আমি তাকে হত্যা করি তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনি কী বলেন? জবাব দিলেন: তাহলে সে জাহান্নামে যাবে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩ – গোলাম ও বাঁদী আযাদ করা

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ وَمَا أَدْرَكَ مَا الْعَقَبَةُ فَكُ رَقَبَةٍ .

মহান আল্লাহ বলেন:

“সে ব্যক্তি (দীনের) গিরিপথ অতিক্রম করার সাহস করেনি। তুমি কি জান, গিরিপথ কী? কোন ঘাড়কে গোলামীমুক্ত করা।” (আল-বালাদ: ১১)

١٣٥٨ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اعْتَقَ رَقَبَةً مُسْلِمَةٌ اعْتَقَ اللَّهُ بِكُلِّ عُضُرٍ مِنْهُ عُضُوا مِنْهُ مِنَ النَّارِ حَتَّى فَرْجَهُ بِفَرْجِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৫৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিম গোলামকে আযাদ করে, আল্লাহ সেই গোলামের প্রতিটি অংগের বিনিময়ে তার অংগসমূহকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করে দেবেন, এমনকি গোলামের লজ্জাস্থানের পরিবর্তে তার লজ্জাস্থানকেও।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٣٥٩ – وَعَنْ أَبِي ذَرِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ الْإِيْمَانُ بِاللَّهِ وَالْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ قُلْتُ أَيُّ الرِّقَابِ أَفْضَلُ قَالَ أَنْفَسُهَا عِندَ أهْلهَا وَأَكْثَرُهَا ثَمَنًا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৫৯। আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। কোন্ কাজটি সর্বোত্তম? তিনি বলেন: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা ও আল্লাহর পথে জিহাদ করা। আবু যার (রা) বলেন, আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, কোন্ গোলাম আযাদ করা সর্বোত্তম? জবাব দিলেন: যে গোলাম তার মালিকের খুব বেশি প্রিয় এবং যার মূল্যও সবচেয়ে বেশি।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪ – গোলামের সাথে সদ্ব্যবহার করার ফযীলাত

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَاعْبُدُوا اللهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ.

মহান আল্লাহ বলেনঃ
“তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং তাঁর সাথে শরীক করো না, পিতামাতার সাথে ভালো ব্যবহার কর, আর নিকট আত্মীয়দের সাথে, ইয়াতীমদের সাথে, মিসকীনদের সাথে এবং নিকট প্রতিবেশীদের সাথে ও দূরের প্রতিবেশীদের সাথে, আর যারা সহযাত্রী তাদের সাথে এবং পথিকদের সাথে ও তোমাদের মালিকানায় যারা আছে তাদের সাথেও (ভালো ব্যবহার কর)।” (সূরা আন্ নিসাঃ ৩৬)

١٣٦٠ – وَعَنِ الْمَعْرُورِ بْن سُوَيْدٍ قَالَ رَأَيْتُ أَبَا ذَرِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَعَلَيْهِ حُلَةٌ وَعَلَى غُلامه مثلُهَا فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ فَذَكَرَ أَنَّهُ سَابٌ رَجُلًا عَلَى عَهْدِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَيْرَهُ بِأُمِّهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ

وَسَلَّمَ إِنَّكَ أَمْرُقَ فِيكَ جَاهِلِيَّةٌ هُمْ إِخْوَانُكُمْ وَخَوَلَكُمْ جَعَلَهُمُ اللَّهُ تَحْتَ أَيْدِيكُمْ فَمَنْ كَانَ أَخُوهُ تَحْتَ يَدِهِ فَلْيُطْعِمْهُ مِمَّا يَأْكُلُ وَلْيَلْبِسَهُ مِمَّا يَلْبَسُ وَلَا تُكَلِّفُوهُمْ مَا يَغْلِبُهُمْ فَإِنْ كَلَّقْتُمُوهُمْ فَاعْيِنُوهُمْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৬০। মারূর ইবনে সুওয়াইদ (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু যার (রা)-কে দেখলাম তিনি এক জোড়া দামী চাদর পরে আছেন এবং তাঁর গোলামটির পোশাকও তদ্রূপ। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যমানায় এক ব্যক্তির সাথে তার তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। তিনি তার মায়ের নাম তুলে তাকে লজ্জা দেন (কারণ তার মা ছিল ইরানী)। একথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার মধ্যে জাহিলিয়াত রয়ে গেছে। তারা হচ্ছে তোমাদের ভাই ও তোমাদের খাদিম। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। কাজেই তোমাদের যার ভাই তার অধীনে আছে তার তাকে তাই খাওয়ানো উচিত যা সে নিজে খায় এবং তাকে তাই পরানো উচিত যা সে নিজে পরে। সামর্থ্যের বাইরের কাজের বোঝা তাদের উপর চাপিয়ে দিয়ো না। আর এ ধরনের কাজের বোঝা তাদের উপর চাপিয়ে দিলে তাদেরকে সাহায্য কর।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٣٦١ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أَتَى أَحَدَكُمْ خَادِمُهُ بِطَعَامِهِ فَإِنْ لَمْ يُجْلِسْهُ مَعَهُ فَلْيُنَاوِلُهُ لقَمَةٌ أَوْ لَقَمَتَيْنِ أَوْ أَكَلَهُ أَوْ أَكلَتَيْنِ فَإِنَّهُ وَلِيَ عِلاجَهُ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ الْأَكَلَةُ بِضَمِّ الْهَمْزَةِ هِيَ

اللُّقَمَةُ.

১৩৬১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কারো খাদিম তার জন্য খাবার আনলে এবং সে তাকে নিজের সাথে (আহারে) বসাতে না পারলে (কমপক্ষে) এক গ্রাস বা দুই গ্রাস যেন তার মুখে তুলে দেয়। কারণ সে-ই কষ্ট করে তার জন্য খাবার তৈরি করে এনেছে।

ইমাম বুখারী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। “উকলাতু” অর্থ “লোকমা বা গ্রাস”।

অনুচ্ছেদ: ৫ – যে গোলাম আল্লাহ ও তার মনিবের হক আদায় করে তার ফযীলাত

١٣٦٢ – عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا نَصَحَ لِسَيِّدِهِ وَاحْسَنَ عِبَادَةَ اللَّهِ فَلَهُ أَجْرَهُ مَرَّتَيْنِ مَتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৬২। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: গোলাম যখন তার মালিকের খিদমত করে সুচারুরূপে এবং আল্লাহর ইবাদাত করে সুষ্ঠুভাবে তখন সে দ্বিগুণ সাওয়াব লাভ করে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

١٣٦٣ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْعَبْدِ الْمَمْلُوكِ الْمُصْلِحِ أَجْرَانِ وَالَّذِي نَفْسُ أَبِي هُرَيْرَةَ بِيَدِهِ لَوْ لَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْحَجِّ وَبَرُ أُمِّي لَأَحْبَبْتُ أَنْ أَمُوتَ وَأَنَا مَمْلُوكَ –

مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৬৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ইবাদাতপ্রিয় ও প্রভুর কল্যাণকামী গোলামের জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান। আবু হুরাইরার প্রাণ যাঁর হাতে সেই সত্তার শপথ! যদি আল্লাহর পথে জিহাদ করা, হজ্জ করা ও মায়ের সেবা করার কাজ না থাকতো তাহলে আমি গোলাম হিসেবে মরা পছন্দ করতাম।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

١٣٦٤ – وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْمَمْلُوكِ الَّذِي يُحْسِنُ عِبَادَةَ رَبِّهِ وَيُؤَدِّي إِلَى سَيِّدِهِ الَّذِي عَلَيْهِ مِنَ الْحَقِّ وَالنَّصِيحَةِ وَالطَّاعَةِ أَجْرَانِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৩৬৪। আবু মূসা আল-আশ’আরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে গোলাম সুচারুরূপে তার রবের ইবাদাত করে এবং তার মনিবের তার উপর যে হক রয়েছে, যে কল্যাণকামিতা ও আনুগত্য প্রাপ্য রয়েছে তাও পুরোপুরি আদায় করে, তার জন্য (আল্লাহর কাছে) রয়েছে দু’টি প্রতিদান।
ইমাম বুখারী এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

١٣٦٥ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَةٌ لَهُمْ أَجْرَانِ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ أَمَنَ بِنَبِيِّهِ وَأَمَنَ بِمُحَمَّدٍ وَالْعَبْدُ الْمَمْلُوكُ إِذَا أَدَّى حَقِّ الله وَحَقِّ مَوَالَيْهِ وَرَجُلٌ كَانَتْ لَهُ آمَةً فَادبُهَا فَأَحْسَنَ تَأْدِيبَهَا وَعَلَّمَهَا

فَأَحْسَنَ تَعْلِيمَهَا ثُمَّ اعْتَقَهَا فَتَزَوجَهَا فَلَهُ أَجْرَانِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৬৫। আবু মূসা আল-আশ’আরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তিন ব্যক্তি দ্বিগুণ সাওয়াব পাবে। আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত এমন ব্যক্তি যে নিজের নবীর প্রতি ঈমান এনেছিল, তারপর আবার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ঈমান এনেছে। অন্যের মালিকানাধীন গোলাম, যে আল্লাহর হক আদায় করে এবং নিজের মালিকের হকও আদায় করে। যে ব্যক্তির একটি বাঁদী আছে, সে তাকে আদব-কায়দা শিখিয়েছে এবং খুব ভালো করে আদব-কায়দা শিখিয়েছে, তাকে ইসলামী শিক্ষা দান করেছে এবং সুষ্ঠুভাবে শিক্ষা দিয়েছে, তারপর তাকে আযাদ করে দিয়েছে এবং তাকে বিবাহ করেছে। এদের জন্য রয়েছে দু’টি প্রতিদান [ এ অনুচ্ছেদে গোলামদের সম্পর্কিত যে হাদীসগুলো উদ্ধৃত হয়েছে তা থেকে গোলামের মর্যাদা যে স্বাধীন মানুষের সমপর্যায়ের তা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গোলাম হওয়ার কারণে সে যে ঘৃণিত বা কম মর্যাদাসম্পন্ন নয়, এ কথা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ব্যক্ত করেছেন। এর ফলে তৎকালীন ইসলামী সমাজে গোলামরা নিজেদের মর্যাদা ফিরে পেয়েছে। কিন্তু এ হাদীসগুলোর অর্থ এই নয় যে, ইসলামী সমাজ গোলামী প্রথাকে টিকিয়ে রাখতে চায়, বরং গোলামীকে খতম করার জন্য ইসলাম নানাবিধ পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। গোলামদের সাথে সদ্ব্যবহার ও স্বাধীন মানুষদের সমপর্যায়ের ব্যবহার করার বিধান এরই একটি দৃষ্টান্ত। মূলত গোলামী বা দাসত্ব প্রথা ইসলামে কোন প্রথা হিসাবে স্বীকৃত নয়, বরং যুদ্ধবন্দী সমস্যার একটি সাময়িক সমাধান হিসেবে ইসলাম একে গ্রহণ করেছে। অতীতে এবং আধুনিক যুগেও, যখন মানুষ নিজেকে ‘সুসভ্য’ বলে দাবি করছে, যুদ্ধবন্দীদের সাথে সদ্ব্যবহার ও তাদের ভাগ্য নির্ণয়ের কোন সুনির্দিষ্ট ও সম্মানজনক পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেনি। গুলি করে হত্যা, অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে অসম্মানজনক মৃত্যু অথবা অনাহারে অর্ধাহারে তিলে তিলে মৃত্যু অসংখ্য যুদ্ধবন্দীর কপালের লিখন। এ অবস্থায় ইসলাম যুদ্ধবন্দীদের সাথে সদ্ব্যবহারের সাথে বিনিময়ের বাইরে যেসব যুদ্ধবন্দী থেকে যায় তাদের জন্য সম্মানজনক জীবনের ব্যবস্থা করেছে।
ইসলামের এই সুষ্ঠু ও বাস্তববাদী পদ্ধতির কারণে ইসলামী বিশ্বের কোথাও আজ দাসত্ব প্রথা নেই বা স্বাধীন মানুষ ইসলামী বিশ্বের কোথাও দাসদের জীবন যাপন করছে না। কিন্তু অনৈসলামী বিশ্বের বহু দেশে আজ স্বাধীন মানুষ দাসদের জীবন যাপন করছে। আমেরিকার ‘কালো মানুষ’ ও ভারতের ‘হরিজন’ এর জ্বলন্ত উদাহরণ ] ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৬ – কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর ইবাদাত করা

١٣٦٦ – عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعِبَادَةُ فِي الْهَرْجِ كَهِجَرَةٍ إِلَى رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩৬৬। মাকিল ইবনে ইয়াসার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কঠিন পরিস্থিতিতে ইবাদাত করা আমার নিকটে হিজরাত করে আসার সমতুল্য।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৭ – কেনাবেচার ও লেনদেনের ব্যাপারে নরম নীতি অবলম্বন করার ফযীলাত। আর ভালোভাবে প্রাপ্য আদায় ও গ্রহণ করা এবং সঠিকভাবে ওজন ও পরিমাপ করা, তাতে কম না করা, উপরন্তু ধনী-দরিদ্র উভয়কে অবকাশ দেয়া এবং তাদের থেকে প্রাপ্যের চেয়ে কম আদায় করা বা মাফ করে দেয়া

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ.

মহান আল্লাহ বলেন:
“যে কোন ভালো কাজ তোমরা কর, আল্লাহ তা জানেন।” (সূরা আল বাকারা: ২১৫)

وقَالَ تَعَالَى : وَيَا قَوْمِ أَوْفُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُم

মহান আল্লাহ (হযরত শু’আইব আলাইহিস সালামের কন্ঠে) বলেছেনঃ “হে আমার কওম! তোমরা পরিমাপ ও ওজন যথাযথভাবে ও পুরোপুরি কর এবং লোকদের জিনিসপত্র কম দিয়ো না।” (সূরা হুদ: ৮৫)

وَقَالَ تَعَالَى : وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ. وَإِذَا كَالُوهُمْ أَوْ وَزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ. أَلا يَظُنُّ أُولَئِكَ أَنَّهُمْ مَبْعُوثُونَ لِيَوْمٍ عَظِيمٍ . يَوْمَ يَقُوْمُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ.

“পরিমাপ ও ওজনে যারা কম করে তাদের জন্য ধ্বংস নির্ধারিত। তারা যখন লোকদের থেকে নিজেদের প্রাপ্য নেয় তখন পুরোপুরি নেয় এবং যখন লোকদেরকে পরিমাপ বা ওজন করে দেয় তখন কম করে দেয়। তারা কি বিশ্বাস করে না যে, একটি বড় দিনে তাদেরকে জীবিত করে উঠানো হবে? সেদিন সমগ্র মানবজাতি বিশ্বজাহানের প্রভুর সামনে দাঁড়াবে।” (সূরা আল-মুতাফফিফীন: ১)

١٣٦٧ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلاً أَتَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَقَاضَاهُ فَأَغْلَظَ لَهُ فَهُمْ بِهِ أَصْحَابُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعُوهُ فَإِنَّ لِصَاحِبِ الْحَقِّ مَقَالاً ثُمَّ قَالَ أَعْطُوهُ سِنَّا مِثْلَ سِنِهِ

قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ لا نَجِدُ إِلَّا أَمْثَلَ مِنْ سِنِهِ قَالَ أَعْطُوهُ فَإِنَّ خَيْرَكُمْ أَحْسَنُكُمْ قَضَاءُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৬৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে তার ঋণ আদায়ের জন্য তাকিদ দিল। সে তাঁর (রাসূল) সাথে কঠোর ব্যবহার করল। সাহাবীগণ তাকে হুমকি দিতে চাইলেন। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ওকে ছেড়ে দাও। কারণ পাওনাদারের কঠোরভাবে বলার অধিকার আছে। তারপর বলেন: তাকে তার উটের বয়সের সমান একটি উট দাও [ মহানবী (সা) লোকটির কাছ থেকে উট ধার নিয়েছিলেন ] । সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তার উটের চাইতে বয়সে বড় ও তার চেয়ে ভালো উট ছাড়া তার উটের মত উট নেই। জবাব দিলেন: তাই দিয়ে দাও। কারণ যে ভালো ও উত্তম পদ্ধতিতে ঋণ আদায় করে সেই হচ্ছে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٣٦٨ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رَحِمَ اللَّهُ رَجُلًا سَمْحًا إِذَا بَاعَ وَإِذَا اشْتَرَى وَإِذَا اقْتَضَى رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৩৬৮। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করেন যে বেচা-কেনা ও নিজের প্রাপ্য আদায়ের তাকিদ দেয়ার সময় নরম নীতি অবলম্বন করে।

ইমাম বুখারী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٣٦٩ – وَعَنْ أَبِي قَتَادَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُنَجِّيَهُ اللهُ مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلْيُنَفِسْ عَنْ معْسِرٍ أَوْ يَضَعَ عَنْهُ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩৬৯। আবু কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, আল্লাহ যেন কিয়ামাতের কষ্ট-কাঠিন্য থেকে তাকে মুক্তি দেন, তার উচিত অভাবী খাতককে (সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত) সময়-সুযোগ দান করা অথবা (প্রাপ্য) ঋণ থেকে কিছু কম করে দেয়া।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۳۷۰ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كَانَ رَجُلٌ يُدَايِنُ النَّاسِ وَكَانَ يَقُولُ لِفَتَاهُ إِذَا آتَيْتَ مُعْسِرًا فَتَجَاوَزْ عَنْهُ لَعَلَّ اللهَ أَنْ يُتَجَاوَزَ عَنَّا فَلَقِيَ اللَّهَ فَتَجَاوَزَ عَنْهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৭০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এক ব্যক্তি লোকদের সাথে লেনদেন করতো। সে তার লোকদেরকে বলতো, যখন তোমরা কোন অভাবীর কাছ থেকে ঋণ আদায় করতে যাবে, তাকে মাফ করে দেবে, হয়তো আল্লাহ (কিয়ামাতের দিন) আমাদেরকে মাফ করে দেবেন। কাজেই মৃত্যুর পর যখন সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করলো, আল্লাহ তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিলেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

۱۳۷۱ – وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْبَدْرِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُوسِبَ رَجُلٌ مِمَّن كَانَ قَبْلَكُمْ فَلَمْ يُوجَدُ لَهُ مِنَ الْخَيْرِ شَيْءٌ إِلَّا أَنَّهُ كَانَ يُخَالِطُ النَّاسَ وَكَانَ مُوسِراً وَكَانَ يَأْمُرُ غِلْمَانَهُ أَن

يَتَجَاوَزُوا عَنِ الْمُعْسِرِ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلٌ نَحْنُ أَحَقُّ بِذلِكَ مِنْهُ تَجَاوَزُوا عَنْهُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩৭১। আবু মাসউদ আল-বদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের একজনের (মৃত্যুর পর তার) হিসাব-কিতাব নেয়া হয়। তার কোন নেকী পাওয়া গেলো না। কেবল এতটুকু পাওয়া গেলো যে, সে লোকদের সাথে মেলামেশা করতো এবং সে ছিল ধনী। সে তার কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়ে রেখেছিল, অভাবী ঋণগ্রহীতাদেরকে যেন মাফ করে দেয়। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন, আমরা এ ব্যক্তির সাথে এ ধরনের ব্যবহার করার অধিক হকদার। (তাই তিনি ফেরেশতাদেরকে হুকুম দিলেন) এ ব্যক্তিকে মাফ করে দাও।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۳۷۲ – وَعَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَتِيَ اللَّهُ تَعَالَى بِعَبْدِ مِّنْ عِبَادِهِ أَتَاهُ اللهُ مَالاً فَقَالَ لَهُ مَا ذَا عَمِلْتَ فِي الدُّنْيَا قَالَ وَلَا يَكْتُمُونَ اللَّهَ حَدِيثًا قَالَ يَا رَبِّ أَتَيْتَنِي مَالَكَ فَكُنْتُ أَبَايِعُ النَّاسَ وَكَانَ مِنْ خُلُقِي الْجَوَازُ فَكُنْتُ

أَتَيَسُرُ عَلَى الْمُوسِرِ وَأَنْظُرُ الْمُعْسِرَ فَقَالَ اللهُ تَعَالَى أَنَا أَحَقُّ بِذَا مِنْكَ تَجَاوَزُوا عَنْ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا هَكَذَا عَبْدِي فَقَالَ عُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ وَأَبُو مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيُّ رَضِيَا سَمِعْنَاهُ مِنْ فِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – رَوَاهُ

مُسْلِمٌ.

১৩৭২। হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর এক বান্দাকে, যাকে তিনি (দুনিয়ায়) সম্পদ দান করেছিলেন, মহান আল্লাহর সামনে হাযির করা হলো। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি দুনিয়ায় কি আমল করেছো? হুযাইফা (রা) বলেন, আর বান্দা আল্লাহর কাছ থেকে কোন কথা লুকিয়ে রাখতে পারে না, তাই সে বলল, হে আমার রব! তুমি নিজের যে সম্পদ আমাকে দিয়েছিলে আমি লোকদের সাথে তা লেনদেন করতাম। আর লোকদেরকে মাফ করে দেয়া আমার অভ্যাস ছিল। ধনবানের সাথে আমি নরম ব্যবহার করতাম এবং অভাবীকে মাফ করে দিতাম। আল্লাহ বলেন, আমি তোমার সাথে এ ধরনের ব্যবহার করার বেশি উপযুক্ত। (ফেরেশতাদেরকে হুকুম করলেন) আমার এ বান্দাকে মাফ করে দাও। (হাদীসটি শুনে) উকবা ইবনে আমের ও আবু মাসউদ আনসারী (রা) বলেন, আমরাও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে এটি শুনেছি।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

۱۳۷۳ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَنْظُرَ مُعْسِراً أَوْ وَضَعَ لَهُ أَظْلَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَحْتَ ظِلَّ عَرْشِهِ يَوْمَ لَا ظلَّ إِلا ظِلُّهُ – رَوَاهُ التَّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيْثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৩৭৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অভাবীকে সময়-সুযোগ দিয়েছে অথবা তার জন্য কিছু কম করে দিয়েছে, কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাকে নিজের আরশের নীচে ছায়া দান করবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ বলেছেন।

١٣٧٤ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اشْتَرَى مِنْهُ بعِيرًا فَوَزَنَ لَهُ فَارْجَحَ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৭৪। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছ থেকে একটি উট কিনলেন এবং তার মূল্য দিলেন ওজন করে এবং মূল্য একটু বেশিই দিলেন।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

ى اللَّهُ عَنْهُ قَالَ جَلَبْتُ أَنَا ١٣٧٥ – وَعَنْ أَبِي صَفْوَانَ سُوَيْدِ بْنِ قَيْسٍ رَضِي ا وَمَخْرَمَةُ الْعَبْدِي بَرَأَ مِنْ هَجَرَ فَجَاءَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَاوَمَنَا بَسَرَاوِيلَ وَعِنْدِي وَزَانٌ يَزِنُ بِالْآخِرِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ

وَسَلَّمَ لِلْوَزَانِ زِنْ وَارْجِعْ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৩৭৫। আবু সাফওয়ান সুওয়াইদ ইবনে কায়েস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও মাখরামা আল-আবদী হাজার নামক স্থান থেকে কাপড় বিক্রয় করার জন্য কিনে নিয়ে এলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এলেন। তিনি আমাদের থেকে একটি পায়জামা সওদা করলেন। আমাদের কাছে ছিল একজন ওজনদার, সে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ওজন করতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওজনদারকে বলেনঃ “লও, ওজন কর এবং (মূল্য) একটু বেশিই ধর।”

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং তিরমিযী একে হাসান ও সহীহ বলেছেন।

টীকা: সাধারণতঃ উট ও কাপড় ওজন করে বিক্রি হয় না। তাই হাদীসের অর্থ হচ্ছে আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করা। অর্থাৎ নবী করীম (সা) আনুমানিক মূল্য নির্ধারণে অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে উট ও কাপড়ের মূল্য নির্ধারণ করলেন এবং পরিশোধের সময় নির্ধারিত মূল্যের চাইতে কিছু বেশি দিয়ে দিলেন।

অধ্যায় : ১২

কিতাবুল ইল্ম (জ্ঞান)

অনুচ্ছেদ : ১

জ্ঞানের মর্যাদা (ফযীলাত)।

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : وَقُلْ رَّبِّ زِدْنِي عِلْمًا.

মহান আল্লাহ বলেন:

“এবং বল, হে আমার প্রভু! আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দাও।” (সূরা তাহা: ১১৪)

وَقَالَ تَعَالَى : قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ.

“বল, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান।” (সূরা আয-যুমার: ৯)

وَقَالَ تَعَالَى : يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتِ.

“তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান এনেছে এবং (ঈমানদারদের মধ্য থেকে) যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন।” (সূরা আল-মুজাদিলা: ১১)

وَقَالَ تَعَالَى : إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلْمَاءُ.

“আল্লাহকে একমাত্র তারাই ভয় করে যারা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের জ্ঞান রাখে।” (সূরা ফাতির: ২৮)

١٣٧٦ – وَعَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৭৬। মু’আবিয়া (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দীনের তত্ত্বজ্ঞান দান করেন। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

۱۳۷۷ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا حَسَدَ إِلا فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ أَتَاهُ اللهُ مَالاً فَسَلْطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ وَرَجُلٌ أَتَاهُ اللهُ الْحِكْمَةَ فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا، مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

وَالْمُرَادُ بِالْحَسَدِ الْغِبْطَةُ وَهُوَ أَنْ يُتَمَنَّى مِثْلَهُ.

১৩৭৭। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দুই ব্যক্তি ছাড়া আর কারোর প্রতি ঈর্ষা করা যায় না। যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দিয়েছেন, তারপর তাকে ঐ ধন-সম্পদ আল্লাহর পথে খরচ করার তাওফীকও দান করেছেন এবং যাকে আল্লাহ (দীনের) জ্ঞান দান করেছেন, সে সেই অনুযায়ী ফায়সালা করে এবং লোকদেরকে তা শিখায়। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। আর “হাসাদ” বলতে এখানে বুঝানো হয়েছে “গিতা”-কে অর্থাৎ তার মতো হবার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা।

۱۳۷۸ – وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثَلُ مَا بَعَثَنِي اللهُ بِهِ مِنَ الْهُدَى وَالْعِلْمِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَصَابَ أَرْضًا فَكَانَتْ مِنْهَا طائِفَةٌ طَيِّبَةً قَبلَتِ الْمَاءَ فَأَنْبَتَتِ الكَلاَ وَالْعُشْبَ الْكَثِيرَ وَكَانَ

مِنْهَا أَجَادِبُ أَمْسَكَتِ الْمَاءَ فَنَفَعَ اللهُ بِهَا النَّاسَ فَشَرِبُوا مِنْهَا وَسَقَوْا وَزَرَعُوا وَأَصَابَ طَائِفَةٌ مِنْهَا أخرى إِنَّمَا هِيَ قِبْعَانٌ لَا تُمْسِكُ مَاءً وَلَا تُنْبِتُ كَلَا فَذَلِكَ مَثَلُ مَنْ فَقُهَ فِي دينِ اللهِ وَنَفَعَهُ مَا بَعَثَنِي اللهُ فَعَلِمَ وَعَلَّمَ وَمَثَلُ

مَنْ لَمْ يَرْفَعْ بِذَلِكَ رَأْسًا وَلَمْ يَقْبَلُ هُدَى اللَّهِ الَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৭৮। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ আমাকে যে ইলম ও হিদায়াতসহ পাঠিয়েছেন তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে একটি বারিধারা, যা একটি যমিনের উপর বর্ষিত হয়েছে, তার কিছু অংশ ভালো, ফলে তা পানিকে গ্রহণ করে নিয়েছে। তা বিপুল পরিমাণ গাছ ও ঘাস উৎপাদন করেছে। এর একটি অংশ ছিল নীচু। সেখানে সে পানি আটকে নিয়েছে। আর এ তেকে আল্লাহ লোকদেরকে উপকৃত করেছেন। তা থেকে তারা পান করেছে, জীবজন্তুকে পান করিয়েছে এবং পানি সেচ করে কৃষিও করেছে। আবার এই বারিধারা এমন এক অংশে পৌঁছেছে যেটি ছিল অনুর্বর সমতল ময়দান। সে পানি ধরে রাখতে পারেনি এবং তার ঘাস উৎপাদন করার ক্ষমতাও নেই। কাজেই এটি হচ্ছে এমন এক ব্যক্তির দৃষ্টান্ত যে আল্লাহর দীনের জ্ঞান লাভ করেছে এবং আল্লাহ আমাকে যে জ্ঞান দিয়ে পাঠিয়েছেন তা থেকে সে লাভবান হয়েছে এভাবে যে, সে নিজে তা শিখেছে এবং অন্যকে শিখিয়েছে। আবার এটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন এক ব্যক্তির যে এই জ্ঞানের দিকে দৃষ্টি দেয়নি এবং আল্লাহ আমাকে যে হিদায়াতসহ পাঠিয়েছেন তা গ্রহণ করেনি [ হাদীসে তিন ধরনের জমির দৃষ্টান্ত দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ তিন ধরনের আলিম। প্রথম দুই ধরনের আলিম নবুওয়াতের ইলম দ্বারা লাভবান হয়েছেন। তাদের একজন ইল্য লাভ করে নিজেদের সংশোধন করে নিয়েছেন কিন্তু সাধারণ মানুষের সংশোধনের প্রতি দৃকপাত করেননি। দ্বিতীয় দলটি ইল্মের সাহায্যে নিজেরা লাভবান হবার সাথে সাথে অন্যদেরকেও উপকৃত করেছেন। আর আলিমদের তৃতীয় দলটি হচ্ছে মুনাফিক আলিম। তারা ইলম হাসিল করে নিজেদের সংশোধনও করেনি এবং অন্যদেরকেও তা থেকে উপকৃতও করেনি ] ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

۱۳۷۹ – وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِعَلِي فَوَاللَّهِ لَأَنْ يُهْدِيَ اللهُ بِكَ رَجُلاً واحداً خَيْرٌ لَكَ مِنْ حُمْرِ النَّعْم مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৭৯। সাহল ইবনে সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রা)-কে বলেছেন: আল্লাহর কসম। তোমার মাধ্যমে আল্লাহ যদি একজন লোককেও হিদায়াত দান করেন তাহলে তা তোমার জন্য লাল উটগুলি থেকেও অনেক কল্যাণকর।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۳۸۰ – وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بَلِغُوا عَنِّى وَلَوْ آيَةً وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ وَمَنْ كَذَبَ عَلَى مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوْا مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৩৮০। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার কাছ থেকে একটি বাক্য হলেও তা লোকদের কাছে পৌছিয়ে দাও। বনী ইসরাঈলের থেকে ঘটনাবলী উদ্ধৃত কর, এতে কোন ক্ষতি নেই। যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার আবাস বানিয়ে দেয়।

ইমাম বুখারী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۳۸۱ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهْلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩৮১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি ইল্ম হাসিল করার জন্য কোন পথে চলে (এর বিনিময়ে) আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে যাবার পথ সহজ করে দেন।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۳۸۲ – وَعَنْهُ أَيْضًا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ دَعَا إِلَى هَدَى كَانَ لَهُ مِنَ الْآخِرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أَجُورِهِمْ شَيْئًا -روَاهُ مُسْلِم

১৩৮২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি হিদায়াতের দিকে আহ্বান করে সে ব্যক্তি (ভার আহ্বানের ফলে) যারা হিদায়াতের পথে চলে তাদের সমান প্রতিদান। পায়। এতে হিদায়াতের পথ অবলম্বনকারীদের সাওয়াবে কোন কমতি করা হয় না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۳۸۳ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا مَاتَ ابْنُ أَدَمَ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يُدْعُو لَهُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩৮৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মানুষ যখন মারা যায়, তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমলের সাওয়াব জারি থাকে: সাদকায়ে জারিয়া, এমন ইলল্ম যা থেকে লাভবান হওয়া যায় এবং সুসন্তান যে তার জন্য দু’আ করে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٣٨٤ – وَعَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الدُّنْيَا مَلْعُوْنَةٌ مَلْعُونَ مَا فِيها الأذكر الله تَعَالَى وَمَا وَالْأَهُ وَعَالِمًا أَوْ مُتَعَلِّمًا . رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيْثٌ حَسَنٌ قَوْلُهُ وَمَا وَالْأَهُ أَى طَاعَةُ اللَّهِ.

১৩৮৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: দুনিয়া অভিশপ্ত এবং দুনিয়ার মধ্যে যেসব বস্তু আছে সেগুলোও অভিশপ্ত। তবে অভিশপ্ত নয় কেবল আল্লাহর যিক্র ও তাঁর আনুগত্য এবং আলিম ও ইল্ম হাসিলকারী।।।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান হাদীস বলেছেন। হাদীসে উক্ত “ওয়ামা ওয়ালাহু” শব্দের অর্থ ‘মহান আল্লাহর আনুগত্য’।

١٣٨٥ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ خَرَجَ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ كَانَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَرْجِعَ – رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حديث حَسَنٌ.

১৩৮৫। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইল্ম হাসিল করার উদ্দেশ্যে বের হয় সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথে (জিহাদের মধ্যে) অবস্থান করে।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন এবং একে হাসান হাদীস বলেছেন।

١٣٨٦ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَنْ يُشْبَعَ مُؤْمِنٌ مِنْ خَيْرٍ يَكُونُ مُنْتَهَاهُ الْجَنَّةَ رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৩৮৬। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কল্যাণ (দীনের ইল্ম) কখনো মুমিনকে পরিতৃপ্ত করতে পারে না, অবশেষে জান্নাতে এর পরিসমাপ্তি ঘটবে [ অর্থাৎ মুমিন ব্যক্তি দীনের যথার্থ জ্ঞান যতই লাভ করতে থাকে ততই তার জ্ঞান-ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং আমৃত্যু সে এই জ্ঞান অর্জন করতে থাকে। মৃত্যু এসে তার জ্ঞান ক্ষুধাকে পরিতৃপ্ত করে না, বরং তার পরিসমাপ্তি ঘটায় ] ।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

۱۳۸۷ – وَعَنْ أَبِي أَمَامَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ حَتَّى

النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوْتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِي النَّاسِ الْخَيْرَ رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ .

১৩৮৭। আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ইবাদাতে লিপ্ত ব্যক্তির উপর আলিমের শ্রেষ্ঠত্ব ঠিক তেমনি পর্যায়ের যেমন তোমাদের একজন সাধারণ মুসলিমের উপর আমার শ্রেষ্ঠত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যারা লোকদেরকে দীনের ইলল্ম শিখায়, নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ এবং পৃথিবী ও আসমানের অধিবাসীবৃন্দ, এমনকি গর্তে অবস্থানকারী পিঁপড়া ও (পানির) মাছেরাও তাদের জন্য দু’আ করে।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং একে হাসান হাদীস বলেছেন।

۱۳۸۸ – وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يُبْتَغِي فِيهِ عِلْمًا سَهْلَ اللَّهُ لَهُ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطالِبِ الْعِلْمِ رِضَى بِمَا يَصْنَعُ

وَإِنَّ الْعَالِمَ ليَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ حَتَّى الْحِبْتَانُ فِي الْمَاءِ وَفَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ وَإِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَا . وان الأنبياء لم يورثوا دينارا ولا درهما وَإِنَّمَا وَرَثُوا

الْعِلْمَ فَمَنْ أَخْذَهُ بِحَظ وافر – رواه أبو داود والترمذي.

১৩৮৮। আবুদ্ দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি ইলম হাসিল করার জন্য পথ অতিক্রম করে আল্লাহ তা জান্নাতে যাবার পথ সহজ করে দেন। আর ফেরেশতারা ইলম অর্জনরত ছাত্রের জন্য নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেন। আর আসমান ও পৃথিবীর মধ্যে যা কিছু আছে, এমনকি পানির মাছও আলিমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আলিমের মর্যাদা (ইবিহীন) আবিদের (সাধকের) উপর (এমন) যেমন পূর্ণিমার চাঁদের মর্যাদা সমস্ত তারকারাজির উপর [ তুলনা এখানে দেহের আকৃতির সাথে নয়। কারণ তারকারা চাঁদের চাইতে অনেক বেশি বড়। আবার নিজস্ব পরিমণ্ডলে উভয়ের জ্যোতির তুলনাও এখানে করা হয়নি। কারণ সে দিক দিয়েও তারকাদের আলো অনেক বেশি চাঁদের তুলনায়। মূলত তুলনাটা এখানে করা হয়েছে আমাদের পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে। এখান থেকে চাঁদের আলোর তুলনায় নক্ষত্রের আলো যেমন গৌণ ও নিতান্তই ক্ষীণপ্রত, ঠিক তেমনি আলিমের তুলনায় ইবিহীন (আবিদ) ব্যক্তিও নিতান্তই গৌণ ও ক্ষীণপ্রত ] অবশ্যই আলিমগণ হচ্ছেন নবীদের উত্তরাধিকারী। আর নবীগণ তাঁদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে দিরহাম ও দীনার রেখে যাননি, তবে তাঁদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ইলম রেখে গেছেন। কাজেই যে ব্যক্তি তা আহরণ করেছে সে বিপুল অংশ লাভ করেছে [ আর নবীদের উত্তরাধিকারী হিসেবে যে আলিমদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা ইতিপূর্বে বর্ণিত ১৩৭৮ নম্বর হাদীসটি ও তার টীকা থেকে সহজেই লাভ করা যাবে ] ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

۱۳۸۹ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ نَضْرَ اللهُ امْرَأَ سَمِعَ شَيْئًا فَبَلَغَهُ كَمَا سَمِعَهُ فَرُبُ مُبْلَغَ أَوْعُى من سامع رواهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৩৮৯। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে যেন তরতাজা করেন, যে আমাদের কাছ থেকে কোন কথা শুনলো, তারপর সেটা পৌঁছিয়ে দিল অন্যের কাছে, যেমনটি শুনেছিল ঠিক তেমনটি। আর খুব কম লোকই এমন হয় যাদেরকে (হাদীস) পৌঁছানো হয় এবং তারা তার অধিক সংরক্ষণকারী হয় শ্রোতার তুলনায়।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন।

۱۳۹۰ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ فَكَتَمَهُ الْجِمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِلْجَامِ مِنْ نَارٍ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৩৯০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকে দীনের কোন ইল্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় এবং সে তা গোপন রাখে, তাকে কিয়ামাতের দিন আগুনের লাগাম পরানো হবে।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান হাদীস বলেছেন।

۱۳۹۱ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ لَا يَتَعَلَّمُهُ إِلا لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضًا مِّنَ الدُّنْيَا لَمْ يَجِدُ عرفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ – يَعْنِي رِيحَهَا رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ صَحِيح

১৩৯১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ইলমের সাহায্যে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সন্তোষ লাভকরা যায় সেই ইল্ল্ম যে ব্যক্তি কেবলমাত্র দুনিয়ার কোন স্বার্থোদ্ধারের উদ্দেশ্যে অর্জন করে, সে কিয়ামাতের দিন জান্নাতের খুশবুও পাবে না।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদ সহকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۳۹۲ – وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ اللهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِرَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ النَّاسِ وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا

اتَّخَذَ النَّاسُ رُؤوسًا جُهَالاً فَسُئِلُوا فَافْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৩৯২। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল ‘আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: আল্লাহ ইল্ল্যকে এমনভাবে ছিনিয়ে নেবেন না যেভাবে লোকদের থেকে (কোন কিছু) ছিনিয়ে নেয়া হয়, বরং উলামায়ে কিরামের মৃত্যুদানের মাধ্যমে তিনি ইল্ল্মকে উঠিয়ে নেবেন। অবশেষে একজন আলিমও যখন বেঁচে থাকবেন না তখন লোকেরা মূর্খ-জাহিলদেরকে নিজেদের ইমাম (নেতা) বানাবে। তাদের কাছে মাসলা-মাসায়েল জিজ্ঞেস করা হবে এবং তারা ইল্ল্স ছাড়াই ফতোয়া দেবে। এভাবে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং লোকদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে [ ইল্য বলতে এখানে কুরআন-হাদীস তথা দীনী ইল্মকেই বুঝানো হয়েছে। এ ইলকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। (এক) কুরআন-হাদীস শেখার জন্য মূলগতভাবে যে বিষয়গুলো প্রয়োজন। যেমন আরবী ব্যাকরণ, আরবী ভাষা, অলংকার শাস্ত্র ইত্যাদি। (দুই) কুরআন ও হাদীসের অর্থ, উদ্দেশ্য গভীর তত্ত্ব, ফিকহ, উসূল, আকাইদ ইত্যাদি। কিতাবুল ইম্নে বর্ণিত হাদীসগুলোতে ইল্ম বলতে এ দু’ধরনের ইল্মই বুঝানো হয়েছে। কারণ একটির সাথে অন্যটির নিবিড়তম সম্পর্ক। প্রথমটিকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয়টিতে কেউ পাণ্ডিত্য অর্জন করতে পারে না। আর দ্বিতীয়টিকে বাদ দিয়ে শুধু প্রথমটিতে পাণ্ডিত্য অর্জন অর্থহীন এবং এ ধরনের পণ্ডিতকে আলিম বলা যায় না ] ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

অধ্যায়: ১৩

কিতাবু হামদিল্লাহি তা’আলা ওয়া শুকরাহ (আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা)

অনুচ্ছেদঃ
হাম্দ (প্রশংসা) ও শোকরের (কৃতজ্ঞতা) ফযীলাত।

قَالَ اللهُ تَعَالَى : فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُولِي وَلَا تَكْفُرُونِ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ কর আমি তোমাদেরকে স্মরণ রাখবো। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর এবং আমার নি’আমাতের নাশোকরী করো না।” (সূরা আল-বাকারা: ১৫২)

وَقَالَ تَعَالَى : لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ.

“যদি তোমরা আমার শোকর কর তাহলে আমি তোমাদেরকে আরো বাড়িয়ে দেবো।” (সূরা ইবরাহীম: ৭)

وَقَالَ تَعَالَى : وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ.

“আর বলে দাও (হে মুহাম্মাদ!) সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য।” (সূরা আল ইসরা: ১১১)

وَقَالَ تَعَالَى : وَآخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.

“তাদের সর্বশেষ কথা হবে: সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্বজাহানের রব।” (সূরা ইউনুস: ১০)

۱۳۹۳ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ لَيْلَةَ أَسْرِى بِهِ بِقَدَحَيْنِ مِنْ خَمْرٍ وَلَبَن فَنَظَرَ إِلَيْهِمَا فَأَخَذَ اللَّبَنَ فَقَالَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السلامُ الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِي هَدَاكَ لِلْفِطْرَةِ لَوْ أَخَذْتَ الْخَمْرَ غَوَتْ

أَمْتُكَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩৯৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। যে রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিরাজ হয় সে রাতে তাঁর কাছে দু’টি পেয়ালা আনা হলো। তার একটিতে মদ ও অন্যটিতে দুধ ছিল। তিনি পেয়ালা দু’টি দেখলেন এবং দুধের পেয়ালাটি তুলে নিলেন। জিবরাঈল (আ) বলেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আপনাকে ফিতরাতে তথা প্রকৃতিগত পথে (ইসলাম) পরিচালিত করেছেন। আপনি মদের পেয়ালাটি নিলে আপনার উম্মাত পথভ্রষ্ট হয়ে যেতো।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٣٩٤ – وَعَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لا يُبْدَأُ فِيهِ بِالحَمْدُ لِلَّهِ فَهُوَ أَقْطَعُ حَدِيثٌ حَسَنٌ رَوَاهُ أَبُو وَغَيْرُهُ.

১৩৯৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ (বৈধ) কাজ আল্লাহর প্রশংসা সহকারে শুরু করা না হলে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
এটি হাসান হাদীস। ইমাম আবু দাউদ প্রমুখ এটি বর্ণনা করেছেন।

١٣٩٥ – وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا مَاتَ وَلَدُ الْعَبْدِ قَالَ اللهُ تَعَالَى لِمَلَائِكَتِهِ قَبَضْتُمْ وَلَدَ عَبْدِي فَيَقُولُونَ نَعَمْ فَيَقُولُ قَبَضْتُمْ ثَمَرَةَ فُؤَادِهِ فَيَقُولُونَ نَعَمْ فَيَقُولُ مَاذَا

قَالَ عَبْدِي فَيَقُولُونَ حَمِدَكَ وَاسْتَرْجَعَ فَيَقُولُ اللهُ تَعَالَى ابْنُوا لِعَبْدِي بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَسَمُوهُ بيت الحمد – رواه الترمذى قَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৩৯৫। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন কোন বান্দার সন্তানের ইন্তিকাল হয়, মহান আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদেরকে বলেন, তোমরা আমার বান্দার সন্তানের জান কবয করে নিলে? ফেরেশতারা জবাব দেন, হাঁ। আল্লাহ বলেন, তোমরা তার কলিজার টুকরাকে কেড়ে নিলে? ফেরেশতারা জবাব দেন, হাঁ। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা কী বলেছে? তারা বলেন, সে আপনার প্রশংসা করেছে এবং ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজিউন’ পড়েছে। একথা শুনে আল্লাহ বলেন, আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি কর এবং তার নাম দাও ‘বাইতুল হামদ’ (প্রশংসার ঘর)।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং একে হাসান হাদীস বলেছেন।

١٣٩٦ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انَّ اللهَ لَيَرْضَى عَنِ الْعَبْدِ يَأْكُلُ الْأَكْلَةَ فَيَحْمَدُهُ عَلَيْهَا وَيَشْرَبُ الشَّرْبَةَ فَيَحْمَدُهُ عَلَيْهَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩৯৬। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাঁর সেই বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন যে খাবার খায় আর আল্লাহর প্রশংসা করে এবং পানীয় পান করে আর তাঁর প্রশংসা করে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অধ্যায়: ১৪

কিতাবুস সালাতি ‘আলা রাসূলিল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)

অনুচ্ছেদ:

রাসূলুল্লাহ (সা)-এর উপর দরূদ পড়ার ফযীলাত।

قَالَ اللهُ تَعَالَى : إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا .

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“অবশ্যই আল্লাহ নবীর উপর রহমত পাঠান ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর উপর দরূদ পড়েন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর উপর দরূদ পড় এবং তার প্রতি সালাম পাঠাও।” (সূরা আল আহযাব: ৫৬)

بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ ۱۳۹۷ – وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ ا اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُهُ مَنْ صَلَى عَلَى صَلَاةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৩৯৭। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পড়ে, আল্লাহ এর বিনিময়ে তার উপর দশবার রহমত নাযিল করেন।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

۱۳۹۸ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَولَى النَّاسِ بِى يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرُهُمْ عَلَى صَلَاةَ رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৩৯৮। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কিয়ামাতের দিন সেই ব্যক্তি আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে যে আমার উপর সবচেয়ে বেশি দরূদ পড়ে।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন এবং একে হাসান হাদীস বলেছেন।

۱۳۹۹ – وَعَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَاكْثَرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ فِيْهِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَى فَقَالُوا يَا رَسُولَ الله وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلَاتُنَا

عَلَيْكَ وَقَدْ ارَمْتَ قَالَ يَقُولُ بَلَيْتَ قَالَ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِاسْنَادِ صَحِيح .

১৩৯৯। আওস ইবনে আওস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হচ্ছে জুমু’আর দিনটি। কাজেই ঐদিন তোমরা আমার উপর বেশি করে দরূদ পড়ো। কারণ তোমাদের দরূদগুলো আমার কাছে পেশ করা হবে। সাহাবীগণ আরয করেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের দরূদ কিভাবে আপনার কাছে পেশ করা হবে, আপনি তো তখন যমিনের সাথে মিশে যাবেন? তিনি জবাব দিলেন: অবশ্যই নবীদের দেহকে আল্লাহ যমিনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদ সহকারে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٠٠ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَغمَ أَنْفُ رَجُلٍ ذُكِرْتُ عِندَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ – رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৪০০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সেই ব্যক্তির নাসিকা ধূলি লুণ্ঠিত হোক, যার সামনে আমার নাম উচ্চারিত হয়েছে, আর সে আমার উপর দরূদ পড়েনি।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন এবং একে হাসান হাদীস বলেছেন।

١٤٠١ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَجْعَلُوا قَبْرِي عِيداً وَصَلُّوا عَلَى فَإِنْ صَلَاتَكُمْ تَبْلُغُنِي حَيْثُ كُنتُمْ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِاسْنَادِ صَحِيح.

১৪০১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা আমার কবরকে আনন্দোৎসবের স্থানে পরিণত করো না, বরং আমার উপর দরূদ পড়ো। কারণ তোমরা যেখানেই থাক না কেন তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌঁছে যাবে।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদ সহকারে হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٤٠٢ – وَعَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ أَحَدٍ يُسَلِّمُ عَلَى إِلا رَدَّ اللهُ عَلَى رُوحِي حَتَّى أَرَدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ صَحِيح

১৪০২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের যে কেউ (যখনই) আমার উপর সালাম পড়ে, আল্লাহ তখনই আমার
রূহ আমাকে ফেরত দেন এবং আমি তার সালামের জবাব দেই।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদ সহকারে হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٤٠٣ – وَعَنْ عَلِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَخِيلُ مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَى رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৪০৩। আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তির সামনে আমার নাম উচ্চারিত হয়েছে, আর সে আমার উপর দরূদ পড়েনি সেই হচ্ছে কৃপণ।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন।

١٤٠٤ – وَعَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلاً يَدْعُو فِي صَلَاتِهِ لَمْ يُمَجِدِ اللَّهَ تَعَالَى وَلَمْ يُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

عَجِلَ هَذَا ثُمَّ دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ أَوْ لِغَيْره اذا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأُ بِتَحْمِيدِ رَبِّهِ سُبْحَانَهُ وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ ثُمَّ يُصَلِّى عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ يَدْعُو بَعْدُ بِمَا شَاءَ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ والتَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৪০৪। ফাদালা ইবনে উবাইদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে নামাযে দু’আ করতে শুনলেন, কিন্তু দু’আয় মহান আল্লাহর প্রশংসা করলো না এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদও পড়েনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: এই ব্যক্তি তাড়াহুড়া করেছে। তারপর তিনি তাকে ডাকলেন এবং বলেন বা অন্য কাউকে বলেন:

তোমাদের কেউ নামায পড়লে সে যেন তার পাক-পবিত্র প্রভুর হাম্দ ও সানা দিয়েই শুরু করে, অতঃপর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়ে। এরপর নিজের ইচ্ছামত দু’আ করতে পারে।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে সহীহ হাদীস বলেছেন।

ى اللَّهُ عَنْهُ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ وَعَنْ أَبِي مُحَمَّد كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ رَضى ١٤٠٥ – و صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ قَدْ عَلِمْنَا كَيْفَ نُسَلِّمُ عَلَيْكَ فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ قَالَ قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ

مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৪০৫। আবু মুহাম্মাদ কাব ইবনে উজরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে এলেন। আমরা তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উপর সালাম কিভাবে পড়বো তা তো আমরা জানি, কিন্তু আপনার উপর দরূদ কিভাবে পড়বো? তিনি বলেন: বলো, “আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ” (হে আল্লাহ্! রহম কর মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের উপর, যেমন তুমি রহম করেছিলে ইবরাহীমের পরিবার-পরিজনের উপর, নিঃসন্দেহে তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে আল্লাহ! বরকত দান কর মুহাম্মাদের উপর ও মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের উপর, যেমন তুমি বরকত দান করেছিলে ইবরাহীমের পরিবার-পরিজনের উপর, নিঃসন্দেহে তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٤٠٦ – وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْبَدْرِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ فِي مَجْلِسِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ فَقَالَ لَهُ بَشِيرُ ابْنُ سَعْدٍ أَمَرَنَا اللهُ تَعَالَى أَنْ نُصَلِّي عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ

فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى تَمَنَّيْنَا أَنَّهُ لَمْ يَسْأَلُهُ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُوْلُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى ال إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ

مَحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَالسَّلَامُ كَمَا قَدْ عَلِمْتُمْ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪০৬। আবু মাসউদ আল-বদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এলেন। আমরা তখন সা’দ ইবনে উবাদার মজলিসে ছিলাম। বাশীর ইবনে সা’দ (রা) তাঁকে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আমাদেরকে আপনার উপর দরূদ পড়তে বলেছেন কিন্তু আমরা কিভাবে আপনার উপর দরূদ পড়বো?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ করে রইলেন, এমনকি আমরা কামনা করতে থাকলাম, বাশীর ইবনে সা’দ যদি প্রশ্নটি না করতেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: বলো “আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা আলি ইবরাহীমা ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাক্তা আলা আলি ইবরাহীম ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ” (হে আল্লাহ! রহমত নাযিল কর মুহাম্মাদের উপর ও মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের উপর, যেমন তুমি রহমত বর্ষণ করেছিলে ইবরাহীমের পরিবার-পরিজনের উপর এবং বরকত নাযিল করো মুহাম্মাদের উপর ও মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের উপর যেমন তুমি বরকত নাযিল করেছিলে ইবরাহীমের পরিবার-পরিজনের উপর। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত)। আর সালাম ঠিক তেমনিভাবে যেমনটি তোমরা জেনেছো।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٠٧ – وَعَنْ أَبِي حُمَيْدِ السَّاعِدِي قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ قَالَ قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى ال إبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى

آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৪০৭। আবু হুমাইদ আস-সা’য়েদী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কেমন করে আপনার উপর দরূদ পড়বো? তিনি বলেন: তোমরা বলোঃ “আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আযওয়াজিহি ওয়া যুরিয়‍্যাতিহি কামা সাল্লাইতা আলা আলি ইবরাহীমা ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আওয়াজিহি ওয়া যুররিয়‍্যাতিহি কামা বারাক্কা আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ” (হে আল্লাহ! রহমত বর্ষণ কর মুহাম্মাদের উপর এবং তাঁর স্ত্রীদের ও সন্তানদের উপর, যেমন তুমি রহমত বর্ষণ করেছিলে ইবরাহীমের পরিবার-পরিজনের উপর। তুমি বরকত নাযিল কর মুহাম্মাদ এবং তাঁর স্ত্রীদের ও সন্তানদের উপর, যেমন তুমি বরকত নাযিল করেছিলে ইবরাহীমের পরিবার-পরিজনের উপর। নিঃসন্দেহে তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অধ্যায়: ১৫

কিতাবুল আযকার (যিক্র-আযকার)

অনুচ্ছেদ: ১

যিকরের ফযীলাত এবং এ ব্যাপারে উৎসাহিত করা।

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“আর আল্লাহর যিক্রই সর্বশ্রেষ্ঠ।” (সূরা আল-আনকাবুত : ৪৫)

وَقَالَ تَعَالَى : فَاذْكُرُونِي أَذْكُرُكُمْ.

“তোমরা আমাকে স্মরণ কর আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব।” (সূরা আল-বাকারা: ১৫২)

وَقَالَ تَعَالَى : وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُونَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْأَصَالِ وَلَا تَكُنْ مِنَ الْغَافِلِينَ .

“তোমার প্রভুকে স্মরণ কর মনের মধ্যে দীনতার সাথে ও ভীতি সহকারে এবং উচ্চ আওয়াজের পরিবর্তে নিম্ন স্বরে সকাল-সন্ধ্যায় (সর্বক্ষণ), আর তোমরা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।”
(সূরা আল-আ’রাফ: ২০৫)

وَقَالَ تَعَالَى : وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ.

“তোমরা বেশি করে আল্লাহকে স্মরণ কর, যাতে সফলকাম হতে পার।” (সূরা আল-জুমু’আঃ ১০)

وَقَالَ تَعَالَى : إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَت وَالْقُنتين والقنتب والصدقين والصدقتِ والصَّبِرِينَ والصَّبِرَاتِ وَالْخَشِعِينَ وَالْخَشِعْتِ والْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقتِ والصَّائِمِينَ وَالصَّمْتِ وَالْحَفِظِينَ فُرُوجَهُمْ

وَالْحَفِظَتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا والذاكِرَاتِ أَعَدَّ اللهُ لَهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا .

“অবশ্যি যেসব নারী ও পুরুষ মুসলিম, মুমিন, আল্লাহর অনুগত, সত্যপন্থী, ধৈর্যশীল, আল্লাহর সামনে অবনত, দান-খয়রাতকারী, রোযা পালনকারী, নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাযাতকারী এবং অধিক মাত্রায় আল্লাহর স্মরণকারী, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও বিরাট পুরস্কার নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।” (সূরা আল-আহযাব: ৩৫)

وقَالَ تَعَالَى : يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا الله ذكرا كثيراً، وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وأصيلاً.

“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে বেশি বেশি করে স্মরণ কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় (সর্বক্ষণ) তাঁর প্রশংসা কর ও তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা কর…..।” (সূরা আল-আহযাব: ৪১ ও ৪২) এ অনুচ্ছেদের সাথে সম্পর্কিত বহু আয়াত আল কুরআনে রয়েছে।

١٤٠٨ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى النِّسَانِ ثَقِيلَتَانِ فِي الْمِيزَانِ حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ

سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيمِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৪০৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এমন দু’টি বাক্য আছে, যা মুখে উচ্চারণে হালকা (সহজে উচ্চারিত হয়) কিন্তু পাল্লায় (ওজনে) ভারী এবং আল্লাহর কাছে প্রিয়, “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, সুবহান্নাল্লাহিল আযীম”।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٤٠٩ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَأَنْ أَقُولَ سُبْحَانَ الله وَالحَمْدُ لله ولا اله الا الله والله اكبر احب الى مما طلعت عَلَيْهِ الشَّمْسُ رواه مسلم.

১৪০৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার কাছে ‘সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদু লিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ বলা দুনিয়ার সব জিনিসের চাইতেও বেশি প্রিয়। ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤١٠ – وَعَنْهُ أَنْ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَالَ لا اله الا الله وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ فِي يَوْمِ مِائَةَ مَرَّة كَانَتْ لَهُ عِدْلَ عَشْرِ رِقَابِ وَكُتِبَتْ لَهُ مِائَةُ حَسَنَةٍ وَمُحِيَتْ

عَنْهُ مِائَهُ سَيِّئَةٍ وكانت له حرزاً مِّنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَهُ ذَلِكَ حَتَّى يُمْسِي وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلا رَجُلٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْهُ وَقَالَ مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ فِي يَوْمِ مِائَةَ مَرَّة حُطَّتْ خَطَايَاهُ وَإِن كَانَتَ مِثلَ زَبَدِ الْبَحْرِ

مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৪১০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রতিদিন একশত বার বলবে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর” (আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই, সমস্ত রাজত্ব তাঁর, সমস্ত প্রশংসা তাঁর। তিনি সমস্ত বস্তুর উপর শক্তিশালী), সে দশটি গোলাম আযাদ করার সমান সাওয়াব লাভ করবে। আর তার নামে লেখা হবে একশ’টি নেকী এবং তার নাম থেকে একশ’টি গুনাহ মুছে ফেলা হবে। আর সে সেদিন সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত শয়তানের (আছর ও ওয়াসওয়াসা) থেকে নিরাপদ থাকবে এবং কিয়ামাতের দিন কেউ তার চাইতে ভালো আমলসহ আসতে পারবে না, একমাত্র সেই ব্যক্তি ছাড়া যে তার চাইতে বেশি আমল করেছে। আর তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বলবেঃ “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি” প্রতিদিন একশত বার, তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে, যদিও তা হয় সমুদ্রের ফেনাপুঞ্জের সমান (সংখ্যাধিক্যের দিক দিয়ে)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٤١١ – وَعَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ عَشْرَ مَرَاتٍ كَانَ كَمَنْ اعْتَقَ أَرْبَعَةَ أَنْفُسِ مِنْ

وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ متفق عليه.

১৪১১। আবু আইউব আল-আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি দশবার পড়ে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর”, সে যেন ইসমাঈল (আ)-এর বংশের চারটি সন্তানকে গোলামী থেকে মুক্তি দান করল।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٤١٢ – وَعَنْ أَبِي ذَرِّ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلا أخبِرُكَ بِأَحَبِّ الكَلامِ إِلَى اللهِ إِنْ أَحَبُّ الكَلامِ إِلَى اللَّهِ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪১২। আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: আল্লাহর কাছে যে কথাটি সবচাইতে বেশি প্রিয় সেটি কি আমি তোমাদেরকে জানাবো না? অবশ্যি আল্লাহর কাছে সবচাইতে বেশি প্রিয় কথাটি হচ্ছে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

ضى اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى ١٤١٣ – وَعَنْ أَبِي مَالِكَ الْأَشْعَرِي رَضِيَا اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيْمَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلأُ الْمِيزَانَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَأَنِ أَوْ تَمْلَأُ مَا بَيْنَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪১৩। আবু মালিক আল-আশ’আরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক, “আলহামদু লিল্লাহ” বাক্যটি মীযান (দাঁড়িপাল্লা) ভরে দেয় এবং “সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদু লিল্লাহ” এই বাক্যদ্বয় ভরে দেয় বা এদের প্রতিটি ভরে দেয় আসমান ও পৃথিবীর মাঝখানের সবটুকু।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤١٤ – وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيُّ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عَلِمْنِي كَلامًا أَقُولُهُ قَالَ قُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ اللهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَلَا لا شَرِيكَ لَهُ اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ للهِ

كَثِيرًا وَسُبْحَانَ الله . حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ قَالَ فَهُؤُلَاءِ لِرَبِّي فَمَا لِي قَالَ قُلْ اللَّهُمْ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪১৪। সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুইন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, আমাকে এমন কোন কালেমা শিখিয়ে দিন যা আমি পড়তে থাকবো। তিনি বলেন: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু আল্লাহু আকবার কাবীরান ওয়ালহামদু লিল্লাহি কাসীরান ওয়া সুবহানাল্লাহি রাব্বিল আলামীন ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আযীযিল হাকীম” এই কলেমাগুলি পড়তে থাক। বেদুইন আরয করল, এসব কালেমা তো আমার রবের জন্য, এখন আমার জন্য কী আছে? তিনি বলেন: তুমি এই দু’আটি পড়তে থাক, “আল্লাহুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াহদিনী ওয়ারযুকনী” (হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমার উপর করুণা কর, আমাকে হিদায়াত দান কর এবং আমাকে রিযক দান কর)।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤١٥ – وَعَنْ ثَوْبَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذا انْصَرَفَ مِنْ صَلَاتِهِ اسْتَغْفَرَ ثَلاثًا وَقَالَ اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تباركت يَا ذَا الْجَلالِ وَالْإِكْرَامِ قِيلَ لِلْأَوْزَاعِي وَهُوَ أَحَدُ رَوَاةِ الْحَدِيثِ

كَيْفَ الْاسْتِغْفَارُ قَالَ تَقُولُ اسْتَغْفِرُ اللَّهَ اسْتَغْفِرُ اللَّهَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪১৫। সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায শেষ করতেন তখন তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন এবং অতঃপর বলতেন: “আল্লাহুম্মা আনতাস্ সালাম ওয়া মিনকাস্ সালাম, তাবারাকতা ইয়া যালজালালি ওয়াল ইকরাম।” ইমাম আওযায়ীকে (এই হাদীসের একজন বর্ণনাকারী) জিজ্ঞেস করা হল তাঁর ক্ষমা প্রার্থনা কেমন ছিল? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: “আসতাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ্”।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤١٦ – وَعَنِ الْمُغِيرَةَ بْنِ شُعْبَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا فَرَغَ مِنَ الصَّلَاةِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ اللَّهُمْ لَا مَانِعَ لِمَا

أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتُ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِ مِنْكَ الْجَدُّ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৪১৬। মুগীরা ইবনে শো’বা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায শেষ করতেন এবং সালাম ফিরাতেন তখন বলতেন: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলক ওয়া লাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর। আল্লাহুম্মা লা মানিআ’ লিমা আ’তাইতা, ওয়ালা মু’তী লিমা মানা’তা, ওয়ালা ইয়ানফাউ যালজাদ্দি মিনকাল জাদ্দু” (আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর, তিনি সবকিছুর উপর শক্তিমান। হে আল্লাহ! তুমি যা দিয়েছো তা রোধ করার কেউ নেই এবং তুমি যা রোধ করেছো তা দান করার সাধ্য কারো নেই। আর ধনবানের ধন তোমার আযাবের মুকাবিলায় কোন উপকার করতে পারে না)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤١٧ – وَعَنْ عَبْدِ الله بْنِ الزُّبَيْرِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ دُبُرَ كُلِّ صلاة حِينَ يُسَلِّمُ لَا إِلَهَ إِلَّا وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللهِ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَلَا نَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ لَهُ

النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ قَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُهْلِلُ بِهِنَّ دَبَّرَ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُونَةٍ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪১৭। আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাযশেষে সালাম ফিরানোর পর পড়তেন: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা না’বুদু ইল্লা ইয়্যাহু লাহুন নি’মাতু ওয়া লাহুল ফালু ওয়া লাহুস্ সানাউল হাসানু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলিসীনা লাহুদ্দীন ওয়ালাও কারিহাল কাফিরুন” (আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ্ নেই, তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁর এবং প্রশংসা তাঁর জন্য আর তিনি সবকিছুর উপর শক্তিমান। আল্লাহ প্রদত্ত শক্তি ছাড়া গুনাহ থেকে বিরত থাকার এবং ইবাদাত করার শক্তি কারো নেই। আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আমরা তাঁকে ছাড়া আর কারো ইবাদাত করি না। সমস্ত অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্ব তাঁরই। সমস্ত সুন্দর ও ভালো প্রশংসা তাঁর জন্য। তিনি ছাড়া আর কোনই ইলাহ নেই। আমরা দীনকে একমাত্র তাঁরই জন্য নির্ধারিত করে নিয়েছি, যদিও কাফিরদের কাছে তা খারাপ লাগে)। ইবনুয যুবাইর (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরয নামাযশেষে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” পড়তেন।

ইমাম মুসলিম এ হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤١٨ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ فُقَرَاءَ الْمُهَاجِرِينَ آتَوْا رَسُولَ اللَّهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا ذَهَبَ أَهْلُ الدُّثُورِ بِالدِّرَجَاتِ الْعُلَى وَالنَّعِيمِ الْمُقِيمِ يُصَلُّونَ كَمَا تُصَلَّى وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ وَلَهُمْ فَضْلٌ مِنْ أَمْوَالٍ

يَحْجُوْنَ وَيَعْتَمِرُونَ وَيُجَاهِدُونَ وَيَتَصَدِّقُوْنَ فَقَالَ أَلا أُعْلِمُكُمْ شَيْئًا تُدْرِكُونَ بِهِ مَنْ سَبَقَكُمْ وَتَسْبِقُونَ بِهِ مَنْ بَعْدَكُمْ وَلَا يَكُونَ أَحَدٌ أَفْضَلَ مِنْكُمْ إِلَّا مَنْ صَنَعَ مِثْلَ مَا صَنَعْتُمْ قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ تُسَبِّحُونَ وَتَحْمَدُونَ

وَتُكَبِّرُونَ خَلْفَ كُلِّ صلاة ثلاثًا وَثَلاثِينَ قَالَ أَبُو صَالِحِ الرَّاوِي عَن أَبِي هُرَيْرَةَ لَمَّا سُئِلَ عَنْ كَيْفِيَّةِ ذكرهنَّ قَالَ يَقُولُ سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ للهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ حَتَّى يَكُوْنَ مِنْهُنَّ كُلُّهُنَّ

ثَلاثًا وَثَلاثِينَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَزَادَ مُسْلِمٌ فِي رِوَايَتِهِ فَرَجَعَ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا سَمِعَ إِخْوَانُنَا أَهْلُ الْأَمْوَالِ بِمَا فَعَلْنَا فَفَعَلُوا مِثْلَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَلِكَ فَضْلُ

اللَّهِ يُؤْتِيْهِ مَنْ يشَاءُ الدُّثُورُ جَمْعُ دَيْرِ بِفَتْحِ الدَّالِ وَإِسْكَانِ الشَّاءِ الْمُثَلَّثَةِ وَهُوَ الْمَالُ الْكَثِيرُ.

১৪১৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। দরিদ্র মুহাজিরগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলেন, ধনবানরা তো সমস্ত মর্যাদা দখল করে নিলো এবং চিরন্তন নি’আমাতগুলো তাদের ভাগে পড়লো। (কারণ) আমরা যে নামায পড়ি তারাও তেমনি নামায পড়ে, আমরা যে রোযা রাখি তারাও তেমনি রোযা রাখে কিন্তু বিত্তের দিক দিয়ে তারা আমাদের চাইতে অগ্রসর, ফলে তারা হজ্জ করে, উমরা করে, আবার জিহাদ করে এবং দান-খয়রাত করে। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: আমি কি তোমাদেরকে এমন জিনিস বলে দেবো (যার উপর আমল করে) তোমরা নিজেদের চাইতে অগ্রবর্তীদেরকে ধরে ফেলবে এবং তোমাদের পরবর্তীদের থেকেও এগিয়ে যাবে, আর তোমাদের মতো ঐ আমলগুলো না করা পর্যন্ত কেউ তোমাদের চাইতে অগ্রবর্তী হবে না? তারা বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! অবশ্যি বলে দিন। তিনি বলেন: তোমরা প্রত্যেক নামাযের পর ৩৩ বার করে তাসবীহ্, তাহমীদ ও তাকবীর পড়ো। বর্ণনাকারী আবু সালেহ (র) সাহাবী হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন তাঁকে ঐ কালেমাগুলো পড়ার ধরন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি বলেনঃ এ কালেমাগুলো সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন: এগুলো হচ্ছে “সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদু লিল্লাহ ওয়াল্লাহু আকবর” এবং এর প্রত্যেকটি কালেমাই হবে ৩৩ বার।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম মুসলিমের রিওয়ায়াতে আরো আছে: দরিদ্র মুহাজিরগণ পুনরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে হাযির হয়ে বলেন, আমরা যা কিছু করছিলাম আমাদের ধনী ভাইরা তা শুনে নিয়েছে এবং তারাও তা করতে শুরু করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়াসাল্লাম বলেন: এটা হচ্ছে আল্লাহর ফযল, যাকে ইচ্ছা তাকে তিনি তা দান করেন। হাদীসে উল্লিখিত “আদ-দুসুর” শব্দটি “দাসর”-এর বহুবচন। “দাসর” অর্থ “বিপুল ঐশ্বর্য”।

١٤١٩ – وَعَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ سَبِّحَ اللَّهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةَ ثَلاثًا وَثَلاثِينَ وَحَمِدَ اللهَ ثَلاثًا وَثَلاثِينَ وَكَبُرَ اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلاثِينَ وَقَالَ تَمَامَ الْمِائَةِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ

وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ غُفِرَتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪১৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাযের পর তেত্রিশ বার ‘সুবহানাল্লাহ’, তেত্রিশ বার ‘আলহামদু লিল্লাহ’, তেত্রিশ বার ‘আল্লাহু আকবার’ পড়ে এবং এক শত পূর্ণ করার জন্য একবার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর’ পড়ে, তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়, যদিও তা হয় সাগরের ফেনারাশির সমান।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

ى اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ١٤٢٠ – وَعَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ رَضى ا وَسَلَّمَ قَالَ مُعَقِبَاتٌ لا يَخِيبُ قَائِلُهُنَّ أَوْ فَاعِلُهُنَّ دَبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ ثَلَاثًا وَثَلاثِينَ تَسْبِيحَةٌ وَثَلاثًا وَثَلاثِينَ تَحْمِيدَةً وَأَرْبَعًا وَثَلاثِينَ تَكْبِيرَةً رَوَاهُ

مُسْلِمٌ.

১৪২০। কা’ব ইবনে উজরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নামাযের) পরে পঠিতব্য কয়েকটি কালেমা এমন আছে যেগুলো পাঠকারী অথবা (বলেন) সম্পাদনকারী ব্যর্থকাম হয় না। সেগুলো হচ্ছে: প্রত্যেক ফরয নামাযের পর তেত্রিশ বার ‘সুবহানাল্লাহ’, তেত্রিশ বার ‘আলহামদু লিল্লাহ’ ও চৌত্রিশ বার ‘আল্লাহু আকবার’।
ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

١٤٢١ – وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَتَعَوَّذُ دبر الصلوات بهؤلاء الكَلِمَاتِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الجبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَرَدُّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ

فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৪২১। সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সব) নামাযের পর নিম্নোক্ত কালেমার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল জুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া আউযুবিকা মিন আন উরাদ্দা ইলা আরযালিল উমুর, ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিদ দুয়া ওয়া আঊযুবিকা মিন ফিত্নাতিল কারে” (হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি ভীরুতা ও কৃপণতা থেকে, আর তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি অথর্ব বয়সে পৌঁছা থেকে। আর এই সংগে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি দুনিয়ার ফিতনা থেকে এবং আশ্রয় চাচ্ছি কবরের ফিতনা থেকে)।

ইমাম বুখারী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٢٢ – وعن ى اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْدَ وَعَنْ مُعَا رَضِ بيَدِهِ وَقَالَ يَا مُعَادُ وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّكَ فَقَالَ أُوصِيكَ يَا مُعَاذُ لَا تَدَعَنَّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ تَقُولُ اللهُمَّ أَعِنِّى عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ

رَوَاهُ أَبُو داود بإسناد صحيح .

১৪২২। মু’আয (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত ধরে বলেনঃ হে মু’আয। আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তারপর বলেনঃ হে মু’আয। আমি তোমাকে ওসিয়াত করছি প্রত্যেক নামাযের পর নিম্নোক্ত কালেমাগুলো পড়োঃ “আল্লাহুম্মা আইন্নী ‘আলা যিক্রিকা ওয়া শুক্রিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা” (হে আল্লাহ! তোমার যিক্র, শোকর ও সর্বাংগ সুন্দর ইবাদাতের ক্ষেত্রে তুমি আমাকে সহায়তা কর)।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদ সহকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٤٢٣ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا تَشَهدَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللهِ مِنْ أَرْبَعٍ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ

فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَالِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪২৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন তাশাহ্হুদ পড়তে বসে তখন তার আল্লাহর কাছে চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত। তার বলা উচিতঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন আযাবি জাহান্নাম ওয়া মিন আযাবিল কাবরি ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতি ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল” (হে আল্লাহ। আমি তোমার কাছে আশ্রয় যাচ্ছি জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর বিপর্যয় থেকে এবং মসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে)।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٢٤ – وَعَنْ عَلِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ يَكُونُ مِنْ آخِرِ مَا يَقُولُ بَيْنَ التَّشَهُدِ وَالتَّسْلِيمِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخْرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَسْرَقْتُ وَمَا

أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪২৪। আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযে দাঁড়াতেন, তাশাহ্হুদ ও সালামের মাঝখানে তিনি নিম্নোক্ত দু’আটি পড়তেন: “আল্লাহুম্মাগফিরলী মা কাদ্দামতু ওয়ামা আখারতু ওয়ামা আসরারতু ওয়ামা আ’লানতু ওয়ামা আসরাফতু ওয়ামা আনতা আ’লামু বিহী মিন্নী আনতাল মুকাদ্দিমু ওয়া আন্তাল মুআখিরু লা ইলাহা ইল্লা আনতা” (হে আল্লাহ! আমার সেই গুনাহগুলো মাফ করে দাও যেগুলো আমি পূর্বে করেছি, যেগুলো আমি পরে করেছি, যেগুলো আমি গোপনে করেছি, যেগুলো প্রকাশ্যে করেছি এবং আমি যা কিছু বাড়াবাড়ি করেছি, আর সেই গুনাহও যে সম্পর্কে আমার চাইতে তুমি বেশি জান। তুমিই অগ্রসরকারী এবং তুমিই পিছিয়ে দেয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন। তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই)।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٢٥ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكْثِرُ أَنْ يَقُولَ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبُّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৪২৫। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের রুকু ও সিজদায় নিম্নোক্ত দু’আ বেশি বেশি পড়তেনঃ “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলী” (হে আল্লাহ! তুমি পাক পবিত্র আমাদের প্রতিপালক এবং তোমারই প্রশংসা। হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করে দাও)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٤٢٦ – وَعَنْهَا أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ فِي رَسُوعِهِ وَسُجُودِهِ سُبُوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪২৬। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর (নফল নামাযের) রুকু ও সিজদায় নিম্নোক্ত দু’আটি পড়তেন: সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٤٢٧ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَأَمَّا الرُّجُوعُ فَعَظِمُوا فِيهِ الرَّبِّ عَزَّ وَجَلٌ وَأَمَّا السُّجُودُ فَاجْتَهِدُوا فِي الدُّعَاءِ فَقَمِنْ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪২৭। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রুকূতে নিজের রবের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা কর এবং সিজদায় দু’আ করার চেষ্টা কর। কারণ তা তোমাদের জন্য কবুল হয়ে যাওয়াই সংগত।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٢٨ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَقْرَبُ مَا يَكُوْنُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ فَاكْثِرُوا الدُّعَاءَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪২৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: বান্দা যখন সিজদায় থাকে তখন তার রবের সবচাইতে নিকটবর্তী হয়। কাজেই তোমরা (সিজদায়) বেশি করে দু’আ কর

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٢٩ – وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ فِي سُجُودِهِ اللَّهُمُ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقْهُ وَجِلَهُ وَأَوَلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَّتَهُ وَسِرَهُ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪২৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর (নফল নামাযের) সিজদায় বলতেন: “আল্লাহুম্মাগফিরলী যামবি কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু ওয়া আওয়‍্যালাহু ওয়া আখিরাহু ওয়া ‘আলানিয়্যাতাহু ওয়া সিররাহু” (হে আল্লাহ! আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও, ছোট-বড়, আগে-পরের এবং গোপন-প্রকাশ্য সব গুনাহ) [ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো রুকু ও সিজদায় গিয়ে এ ধরনের বিভিন্ন দু’আ পড়তেন। সম্ভবত মাসনুন যে তাসবীহগুলো আছে সেগুলোর সাথে এসব পড়তেন। তাঁর নফল নামাযে এ ধরনের বহু দু’আ পড়তেন। বিভিন্ন হাদীসে এগুলো বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে রাতের নামাযে তিনি এগুলো পড়তেন ] ।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٣٠ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ افْتَقَدْتُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذاتَ لَيْلَةٍ فَتَحَسْسْتُ فَإِذَا هُوَ رَاكِعٌ أَوْ سَاجِدٌ يَقُولُ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ لَا إِلهَ إِلا أَنتَ وَفِي رِوَايَةٍ فَوَقَعَتْ يَدِى عَلَى بَطْنِ قَدَمَيْهِ وَهُوَ فِي

الْمَسْجِدِ وَهُمَا مَنصُوبَتَانِ وَهُوَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِن عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لَا أَحْصَى ثَنَاءٌ عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا اثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪৩০। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিছানায় পেলাম না। আমি তাঁকে খুঁজতে লাগলাম। আমি দেখতে পেলাম তিনি রুক্ বা সিজদায় গিয়ে নিম্নোক্ত দু’আ পড়ছেন: সুবহানাকা ওয়া বিহামদিকা লা ইলাহা ইল্লা আন্তা”। অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: আমার হাত তাঁর পায়ের পাতার উপর পড়লো। তখন তিনি সিজদায় ছিলেন এবং তাঁর দু’টি পায়ের পাতা খাড়া অবস্থায় ছিল। তিনি সিজদায় বলছিলেন: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিরিদাকা মিন সাখাতিকা ওয়া বিমুআফাতিকা মিন ‘উবাতিকা ওয়া আ’উযু বিকা মিনকা লা উহসী সানাআন আলাইকা, আন্তা কামা আসনাইতা ‘আলা নাফসিকা” (হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাচ্ছি তোমার সন্তোষের উসীলায় তোমার ক্রোধ থেকে, তোমার নিরাপত্তার উসীলায় তোমার শাস্তি থেকে এবং তোমার রহমতের উসীলায় তোমার কহর থেকে। তোমার প্রশংসা গণনা করতে আমি অপারগ। তুমি ঠিক তেমনি যেমন তুমি নিজের প্রশংসায় বলেছো)।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٣١ – وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَكْسِبَ فِي كُلِّ يَوْمٍ أَلْفَ حَسَنَةٍ فَسَأَلَهُ سَائِلٌ مِنْ جُلَسَائِهِ كَيْفَ يَكْسِبُ الْفَ حَسَنَةٍ قَالَ يُسَبِّحُ

مِائَةَ تَسْبِيحَةٍ فَيُكْتَبُ لَهُ أَلْفُ حَسَنَةٍ أَوْ يُحَطُّ عَنْهُ أَلْفُ خَطِيئَة رَوَاهُ مُسْلِمٌ. قَالَ الْحُمَيْدِي كَذَا هُوَ فِي كِتَابِ مُسْلِمِ أَوْ يُحَطُّ قَالَ الْبَرْقَانِيُّ وَرَوَاهُ شُعْبَةُ وَأَبُو عَوَانَةَ وَيَحْيَى الْقَطَانُ عَنْ مُوسَى الَّذِي رَوَاهُ مُسْلِمٌ مِنْ جِهَتِهِ

فَقَالُوا وَيُحَطُّ بِغَيْرِ الْف .

১৪৩১। সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বলেন: তোমাদের কেউ কি প্রতিদিন হাজারটি নেকী অর্জন করতে পারে না? উপস্থিত সাহাবীদের মধ্যে একজন জিজ্ঞেস করলেন, কেমন করে সে হাজারটি নেকী অর্জন করবে? জবাব দিলেন: সে একশ’ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ পড়বে। এতে তার নামে এক হাজার নেকী লেখা হবে অথবা তার এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হবে।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। মুহাদ্দিস হুমাইদী বলেন, মুসলিমের গ্রন্থে এভাবে (অথবা মিটিয়ে দেয়া হবে এই সন্দেহ প্রসূত বাক্য সহকারে) লিখিত হয়েছে। ইমাম বারকানী বলেন, এ হাদীসটি শো’বা, আবু আওয়ানা ও ইয়াহ্ইয়া আল-কাত্তান এই বর্ণনাকারী মূসার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যার সূত্রে ইমাম মুসলিম রিওয়ায়াত করেছেন। তারা আল্‌ল্ফ (হাজার) শব্দটি বর্ণনা করেননি।

١٤٣٢ – وَعَنْ أَبِي ذَرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصْبِحُ عَلَى كُلِّ سُلَامِي مِنْ أَحَدِكُمْ صَدَقَةً فَكُلُّ تَسْبِيحَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلُّ تَحْمِيدَةٍ صَدَقَةً وَكُلُّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلُّ تَكْبِيرَةٍ صَدَقَةٌ وَأَمْرٌ بِالْمَعْرُوفِ

صَدَقَةٌ وَنَهَى عَنِ الْمُنْكَرِ صَدَقَةٌ وَيُجْزِئُ مِنْ ذَلِكَ رَكْعَتَانِ يَرْكَعُهُمَا مِنَ الضُّحَى رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪৩২। আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের দেহের প্রতিটি গ্রন্থির উপর সাদাকা ওয়াজিব। কাজেই এক্ষেত্রে প্রত্যেক বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা একটি সাদাকা, প্রত্যেক বার ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলা একটি সাদাকা, প্রত্যেক বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা একটি সাদাকা, প্রত্যেক বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলা একটি সাদাকা, ভালো কাজে আদেশ করা একটি সাদাকা এবং খারাব কাজ করতে নিষেধ করা একটি সাদাকা। আর চাশতের যে দুই রাআত নামায পড়া হবে তা এই সবের জন্য যথেষ্ট।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٣٣ – وَعَنْ أَمِّ الْمُؤْمِنِينَ جُوَيْرِيَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيُّ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا بُكْرَةً حِيْنَ صَلَّى الصُّبْحَ وَهِيَ فِي مَسْجِدِهَا ثُمَّ رَجَعَ بَعْدَ أَن أَضْحَى وَهِيَ جَالِسَةٌ فَقَالَ مَا زِلْتِ عَلَى

الْحَالِ الَّتِي فَارَقْتُكَ عَلَيْهَا قَالَتْ نَعَمْ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ قُلْتُ بَعْدَكَ ارْبَعَ كَلِمَاتٍ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ لَوْ وَزِنَتْ بِمَا قُلْتِ مُنْذُ الْيَوْمِ لَوَزَنَتَهُنَّ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَى نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ

كَلِمَاتِهِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ خَلْقِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ رِضَى نَفْسِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ اللهِ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ – وَفِي رِوَايَةِ التَّرْمِذِي أَلَا أُعَلِّمُكِ كَلِمَاتٍ

تَقُولِينَهَا سُبْحَانَ الله عَدَدَ خَلْقَهُ سُبْحَانَ الله عَدَدَ خَلْقَهُ سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ خَلْقَه سُبْحَانَ اللهِ رِضَى نَفْسِهِ سُبْحَانَ اللهِ رِضَى نَفْسِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ رِضَى نَفْسِهِ سُبْحَانَ اللهِ زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ اللهِ زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ

زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ مداد كلماته سُبْحَانَ الله مداد كلماته سُبْحَانَ الله مداد كلماته.

১৪৩৩। উম্মুল মুমিনীন জুওয়াইরিয়া বিনতুল হারিস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামায পড়ার পর সকালবেলা তার কাছ থেকে বেরিয়ে গেলেন। তিনি তখন নিজের নামাযের জায়গায় বসে ছিলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার চাশতের পর ফিরে এলেন। তখনো তিনি (নিজের জায়গায়) বসে ছিলেন। নবী (সা) জিজ্ঞেস করলেন: আমি তোমাকে যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিলাম সেই একই অবস্থায় তুমি তখন থেকে বসে রয়েছো? তিনি জবাব দিলেন, হাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তোমার এখান থেকে যাওয়ার পর আমি এমন চারটি কালেমা তিনবার করে পড়েছি যা তুমি আজ যা কিছু পড়েছো তার সাথে যদি ওজন করা হয় তাহলে ওজনে তা সমান হবে। সেই কালেমাগুলো হচ্ছেঃ “সুবহানাল্লাহ ওয়া বিহামদিহী ‘আদাদা খালকিহি, ওয়া রিদা নাফসিহি, ওয়া যিনাতা আরশিহী, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহী” (আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং তাঁর প্রশংসা গাইছি তাঁর সন্তুষ্টির সমান সংখ্যক, তাঁর মর্জি অনুযায়ী তাঁর আরশের ওজনের সমান এবং তাঁর বাক্যাবলীর সমান সংখ্যক)।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম মুসলিমের অন্য রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে, “সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা খালকিহি, সুবহানাল্লাহি রিদা নাফসিহী, সুবহানাল্লাহি যিনাতা আরশিহী, সুবহানাল্লাহি মিদাদা কালিমাতিহী”।

ইমাম তিরমিযীর রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: আমি কি তোমাকে এমন সব কালেমা শিখাবো না, যা তুমি পড়তে থাকবে? সে কালেমাগুলি হচ্ছে: “সুবহানাল্লাহি আদাদা খালকিহী, সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা খালকিহী, সুবহানাল্লাহি আদাদা খালকিহী, সুবহানাল্লাহি রিদা নাফসিহী, সুবহানাল্লাহি রিদা নাফসিহী, সুবহানাল্লাহি রিদা নাফসিহী, সুবহানাল্লাহি যিনাতা আরশিহী, সুবহানাল্লাহি যিনাতা আরশিহী, সুবহানাল্লাহি যিনাতা আরশিহী, সুবহানাল্লাহি মিদাদা কালিমাতিহী, সুবহানাল্লাহি মিদাদা কালিমাতিহী, সুবহানাল্লাহি মিদাদা কালিমাতিহী”।

١٤٣٤ – وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَثَلُ الَّذِي يَذْكُرُ رَبَّهُ وَالَّذِي لَا يَذْكُرُهُ مَثَلُ الْحَقِّ وَالْمَيِّتِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ، وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ فَقَالَ مَثَلُ الْبَيْتِ الَّذِي يُذْكَرُ اللَّهُ فِيْهِ وَالْبَيْتِ

الَّذِي لَا يُذكَرُ اللَّهُ فِيْهِ مَثَلُ الْحَيِّ وَالْمَيِّتِ.

১৪৩৪। আবু মূসা আল-আশ’আরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার রবের যিক্র (স্মরণ) করে এবং যে ব্যক্তি তার রবের যিক্র করে না তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে জীবিত ও মৃতের ন্যায়।

ইমাম বুখারী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম মুসলিমও এটি রিওয়ায়াত করেছেন। তবে ইমাম মুসলিমের রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: যে ঘরে আল্লাহর যিক্র হয় এবং যে ঘরে হয় না তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে জীবিত ও মৃতের ন্যায়।

١٤٣٥ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَقُولُ اللهُ تَعَالَى أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي وَأَنَا مَعَهُ إِذَا ذَكَرَنِي فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَا ذَكَرْتُهُ فِي مَلَا

خَيْرٍ مِنْهُمْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৪৩৫। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেমনটি ধারণা করে আমি ঠিক তেমনটি। সে যখন আমাকে স্মরণ করে তখন আমি তার সাথে থাকি। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে আমিও আমার মনের মধ্যে তাকে স্মরণ করি। আর যদি সে কোন সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে তবে আমিও তাকে স্মরণ করি তার চাইতেও উত্তম সমাবেশে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছন।

١٤٣٦ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبَقَ الْمُفَرِّدُونَ قَالُوا وَمَا الْمُفَرِّدُونَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ الذَّاكِرُونَ اللهَ كَثِيرًا والذاكِرَاتِ رَوَاهُ مُسْلِم رُوِيَ الْمُفَرِّدُونَ بِتَشْدِيدِ الرَّاءِ وَتَخْفِيفِهَا وَالْمَشْهُورُ الَّذِي قَالَهُ

الجمهور التشديد.

১৪৩৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মুফাররিদরা” অগ্রবর্তী হয়ে গেছে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল। মুফাররিদ কারা? জবাব দিলেনঃ খুব বেশি আল্লাহর যিক্রকারী পুরুষ ও নারীগণ। ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম নববী বলেন, ‘মুফাররিদ’ শব্দটি ‘মুফরিদ’-ও পড়া হয়েছে। তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ ‘মুফাররিদ’ পাঠ করেছেন এবং এটিই প্রসিদ্ধ।

١٤٣٧ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ الله عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَفضَلُ الذكر لا اله الا الله – رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৪৩৭। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: সর্বোত্তম যিক্র হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান হাদীস বলেছেন।

١٤٣٨ – وَعَن عبد الله بن بسر رَضِيَ الله عَنْهُ أَنْ رَجُلاً قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ شرائع الإسلام قد كَثُرَت عَلَى فَأَخْبِرْنِي بِشَيْءٍ أَتَشَبِّتُ بِهِ قَالَ لَا يَزَالُ لِسَانُكَ رطبا من ذكر الله – رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثُ حَسَنٌ.

১৪৩৮। আবদুল্লাহ ইবনে বুদ্র (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আরয করলো, হে আল্লাহর রাসূল। ইসলামের হুকুম-আহকাম আমার জন্য অনেক বেশি হয়ে গেছে। কাজেই আপনি আমাকে এমন একটি জিনিসের খরব দিন যেটাকে আমি শক্ত করে আঁকড়ে ধরবো। তিনি বলেন: তোমার জিহ্বাকে সর্বক্ষণ আল্লাহর যিক্র সিক্ত রাখ।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন এবং একে হাসান হাদীস বলেছেন।

١٤٣٩ – وَعَن جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ غُرِسَت لَهُ نَحْلَةً فِي الجَنَّةِ – رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৪৩৯। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি বলে, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী’, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ লাগানো হয়। ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান হাদীস বলেছেন।

١٤٤٠ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقِيتُ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلامُ لَيْلَةَ أَسْرِى بِي فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ أَقْرِى أُمِّتَكَ مِنِّي السلام وأخبرهم أنَّ الْجَنَّةَ طَيِّبَةُ التَّرْبَةِ عَذَبَةُ المَاءِ وَأَنَّهَا

قِيعَانٌ وَأَنَّ غِرَاسَهَا سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ – رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثُ حَسَنٌ.

১৪৪০। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে রাতে আমার মিরাজ হয় সে রাতে আমি ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সাথে সাক্ষাত করলাম। তিনি বলেন, হে মুহাম্মাদ! আমার পক্ষ থেকে তোমার উম্মাতকে সালাম পৌঁছাবে এবং তাদেরকে জানাবে যে, জান্নাতের মাটি অত্যন্ত সুগন্ধযুক্ত ও পানি মিষ্টি এবং তা একটি সমতল ভূমি। আর তার বৃক্ষলতা হচ্ছে, “সুবহানাল্লাহ ওয়ালহাম্দু লিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার”।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন এবং একে হাসান হাদীস বলেছেন।

١٤٤١ – وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ الله عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِخَيْرِ أَعْمَالِكُمْ وَأَزْكَاهَا عِنْدَ مَلِيْكِكُمْ وَارْفَعِهَا فِي دَرَجَاتِكُمْ وَخَيْرٌ لَكُمْ مِنْ أَنْفَاقِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَخَيْرٌ لَكُمْ مِنْ أَنْ تَلْقَوْا عَدُوكُمْ

فَتَضْرِبُوا أَعْنَاقَهُمْ وَيَضْرِبُوا أَعْنَاقَكُمْ قَالُوا بَلَى قَالَ ذِكرُ اللهِ تَعَالَى رَوَاهُ التَّرْمِذِيُّ قَالَ الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللهِ إِسْنَادُهُ صَحِيحٌ .

১৪৪১। আবুদ দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি কি তোমাদেরকে উত্তম আমলের কথা জানাবো না, যা অত্যন্ত পবিত্র তোমাদের প্রভুর কাছে, তোমাদের মর্যাদার দিক দিয়ে অনেক বেশি বুলন্দ, তোমাদের জন্য সোনা ও রূপা খরচ করার চাইতে অনেক ভালো এবং তোমরা নিজেদের শত্রুদের মুখোমুখি হবে, তারপর তোমরা তাদেরকে হত্যা করবে এবং তারা তোমাদেরকে হত্যা করবে, এর চাইতে অনেক বেশি ভালো? সাহাবীগণ বলেন, হাঁ, অবশ্যই বলুন। তিনি বলেন: আল্লাহ তা’আলার যিক্র [ আল্লাহর যিক্র কেবলমাত্র ‘সুবহানাল্লাহ’, আলহামদু লিল্লাহ’, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ এ শব্দগুলো বারবার আওড়াবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং ইমাম নববী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কিতাবুল আযকারে এর ব্যাখ্যা লিখেছেন: আল্লাহর আনুগত্যকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই তার যিক্র লিপ্ত। হযরত সা’দ ইবনে জুবাইর (রা) ও অন্যান্য উলামায়ে কিরামও এই একই কথা বলেছেন। ইমাম আযম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হালাল ও হারাম সম্পর্কে জানার প্রত্যেকটি মজলিস, শর’ঈ বিধান অনুযায়ী কিভাবে ব্যবসা করা যায়, কিভাবে নামায-রোযা-হজ্জ করা হয় এবং বিয়ে-তালাকের পদ্ধতি কী এসব জানার জন্য অনুষ্ঠিত যে কোন মজলিসই ফিক্সের মজলিস। মোটকথা শরী’আতের বিধান জানা ও সেই অনুযায়ী একজন অনুগত মুসলিমের জীবন যাপন করাই প্রকৃত যিক্র এবং এই যিক্রের কথাই এখানে বলা হয়েছে ] ।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম আল হাকেম আবু আবদুল্লাহ এ হাদীসের সনদ সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন।

١٤٤٢ – وَعَن سعد بن أبي وقاص رضى الله عَنْهُ أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى امْرَأَةٍ وَبَيْنَ يَدَيْهَا نَوَى أَوْ حَصَى تُسَبِّحُ بِهِ فَقَالَ أخبِرُكَ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عَلَيكِ مِن هذا أو أَفضَلُ فَقَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا

خَلَقَ فِي السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ الله عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ أَكْبَرَ مثل ذلك والحمد لله مثل ذلك ولا اله الا الله مثل ذلك ولا حول ولا قوة الا بالله مثل ذلك – رواه الترمذى وَقَالَ حديث حَسَنٌ.

১৪৪২। সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক মহিলার [ কোনো কোনো হাদীসে সংশ্লিষ্ট মহিলা সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের একজন, হযরত জুওয়াইরিয়া (রা) বা অন্য কোনো স্ত্রী। আর তাসবীহ যেমন আমাদের আজকের যুগে প্রচলিত আছে ঠিক তেমনটি সেই যুগে ছিল না। কেউ কেউ খেজুরের বা তেঁতুলের দানা জমা করে অথবা কাঁকর নিয়ে বা দড়িতে গিরা দিয়ে তাসবীহ পড়তেন। আজকের সুতোয় গাঁথা তাসবীহ দানার ভিত্তিও আসলে এখানেই ] কাছে গেলেন। তখন তার সামনে ছিল খেজুরের দানা বা কাঁকর। তিনি সেগুলির সাহায্যে তাসবীহ গণনা করছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমি কি তোমাকে এমন জিনিসের কথা জানাবো যা তোমার জন্য এর চাইতে সহজ বা এর চাইতে ভালো? তা হচ্ছে, “সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা মা খালাকা ফিস্ সামাই” (আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি সেই সব বস্তুর সমান সংখ্যক যা তিনি আসমানে সৃষ্টি করেছেন) “ওয়া সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা মা খালাকা ফিল আরদ” (আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি সেই সব বস্তুর সমান সংখ্যক যা তিনি পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন) “ওয়া সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা মা বাইনা যালিক” (পবিত্রতা বর্ণনা করছি সেই সব বস্তুর সমান যা ঐ দু’টির মাঝখানে আছে) “ওয়া সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা মা হুয়া খালিক” (পবিত্রতা বর্ণনা করছি সেই সব বস্তুর সমান সংখ্যক যার তিনি স্রষ্টা)। আর “আল্লাহু আকবার” বাক্যটিও এভাবে পড়, “আলহামদু লিল্লাহ” বাক্যটিও এভাবে পড়, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” বাক্যটিও এভাবে পড় “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” বাক্যটিও এভাবে পড়।

অর্থাৎ প্রত্যেকটির সাথে ‘আদাদা মা খালাকা ফিস্ সামা-ই’, ‘আদাদা মা খালাকা ফিল আরদি’ ইত্যাদি (অনুবাদক)।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান আখ্যা দিয়েছেন।

١٤٤٣ – وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى كَنز مِنْ كُنُوزِ الجَنَّةِ فَقُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ لَا حول ولا قوة الا بالله – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৪৪৩। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি কি তোমাকে জান্নাতের একটি গুপ্তধনের কথা জানাবো না। আমি বললাম, অবশ্যি হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বলেন: তা হল ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২

দাঁড়ানো, বসা ও শায়িত অবস্থায় এবং নাপাক ও ঋতুবতী অবস্থায় আল্লাহর যিক্র করার বৈধতা, তবে নাপাক ও ঋতুবতী মহিলার জন্য আল কুরআন পড়া জায়েয নয়।

قَالَ اللهُ تَعَالَى : ان في خلق السموات والأرض واختلاف اليل والنهار لايات لأُولِي الْأَلْبَابِ الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِم.

মহান আল্লাহ বলেন:

“নিঃসন্দেহে আসমানসমূহের ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং দিন ও রাতের পরিবর্তনের মধ্যে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য নিদর্শনসমূহ রয়েছে, যারা আল্লাহর যিক্র করে দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায়।” (সূরা আলে ইমরান: ১৯০-১৯১)

١٤٤٤ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ الله عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَذْكُرُ اللهَ تَعَالَى عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪৪৪। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সময় আল্লাহর যিকর করতেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٤٥ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ الله عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَو أَنَّ أَحَدَكُم إِذا أَراد أَن يَأْتِيَ أَهْلَهُ قَالَ بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنَّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنَّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا فَإِنَّهُ إِن يُقَدِّرُ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ فِي ذَلِكَ لَمْ

يَضُرُّهُ شَيْطَانٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৪৪৫। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর কাছে আসে, তার নিম্নোক্ত দু’আটি পড়া উচিত: “বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতানা ওয়া জান্নিবিশ শাইতানা মা রাযাক্তানা” (আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ! শয়তান থেকে আমাদের দূরে রাখ আর শয়তানকে তার থেকে দূরে রাখ যা আমাদের দান করবে)। এই মিলনের ফলে যদি তাদের কোন সন্তান জন্ম নেয় তাহলে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারে না।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩

ঘুমাবার আগে ও ঘুম থেকে জাগার পর যে দু’আ পড়তে হয়।

١٤٤٦ – عَنْ خُدَيْفَةً وَأَبِي ذَرِّ رَضِيَ الله عَنْهُمَا قَالَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَوَى إلى فراشه قَالَ باسمك اللهم أَمُوتُ وَاحِيَا وَإِذَا اسْتَيَقَظَ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانًا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ رَوَاهُ

الْبُخَارِيُّ.

১৪৪৬। হুযাইফা ও আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিছানায় শয়ন করতে যেতেন তখন বলতেন: “বিস্মিকা আল্লাহুম্মা আমুতু ওয়া আহ্ইয়া” (হে আল্লাহ! তোমার নামে আমি জাগি ও তোমার নামে মরি)। আর যখন জেগে উঠতেন তখন বলতেন: “আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আহ্ইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের মৃত্যুর পর জীবিত করেছেন এবং তাঁরই দিকে আবার ফিরে যেতে হবে)।

ইমাম বুখারী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অনুচ্ছেদ : ৪

যিকরের মজলিসের ফযীলাত এবং হরহামেশা তার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকা মুস্তাহাব। বিনা ওজরে এ ধরনের মজলিস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ।

قَالَ اللهُ تعالى : واصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدَعُونَ رَبُّهُم بِالغَدَاوَةِ وَالعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجَهَهُ وَلَا تَعدُ عَيْنَاكَ عَنْهُم.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“আর তুমি নিজেকে তাদের সাথে আবদ্ধ রাখ যারা সকাল-সন্ধ্যা তাদের প্রতিপালককে ডাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। আর তোমার দৃষ্টি তাদের উপর থেকে সরিয়ে নিও না।” (সূরা আল কাহফঃ ২৮)

١٤٤٧ – وَعَن أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لِلَّهِ تَعَالَى مَلائِكَةٌ يَطُوفُونَ فِي الطَّرُقِ يَلْتَمِسُونَ أَهْلَ الذكرِ فَإِذَا وَجَدُوا قومًا يَذْكُرُونَ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ تَنَادَوا هَلْمُوا إِلى حَاجَتِكُمْ فَيَحْفُونَهُم

بِأَجْنِحَتِهِم إِلى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَسْأَلُهُم رَبُّهُم وَهُوَ أَعْلَمُ مَا يَقُولُ عِبَادِي قَالَ يَقُولُونَ يُسَبِّحُونَكَ وَيُكَبِّرُونَكَ وَيَحْمَدُونَكَ وَيُمَجِدُونَكَ فَيَقُولُ هَل راونِي فَيَقُولُونَ لَا وَاللَّهِ مَا رَأَوكَ فَيَقُولُ كَيف لو راوني قال يَقُولُونَ لو رأوك كَانُوا

أَشَدَّ لَكَ عِبَادَةً وَأَشَدُّ لَكَ تمجيدا وأكثرَ لَكَ تَسبيحا فَيَقُولُ فَمَا ذَا يَسْأَلُونَ قَالَ يَقُولُونَ يَسْأَلُونَكَ الْجَنَّةَ قَالَ يَقُولُ وَهَل رَأَوهَا قَالَ يَقُولُونَ لا وَالله يَا رَبِّ مَا رَأَوهَا قَالَ يَقُولُ فَكَيْفَ لَو رَأَوهَا قَالَ يَقُولُونَ لَوْ أَنَّهُم رأوها كَانُوا أَشَدَّ

عَلَيْهَا حرصًا وَأَشَدَّ لَهَا طَلبًا وأعظم فِيهَا رَغَبَةً قَالَ فَمِمْ يَتَعَوَّذُونَ قَالُوا يَتَعَوَّذُونَ مِنَ النَّارِ قَالَ فَيَقُولُ وَهَلْ رَأَوهَا قَالَ يَقُولُونَ لا والله ما رأوها فَيَقُولُ كَيف لو رأوها قَالَ يَقُولُونَ لَوْ رَأَوهَا كَانُوا أشد منها قراراً وأشدَّ لَهَا مَخَافَةً

قَالَ فَيَقُولُ فَأُشْهِدُكُم أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ قَالَ يَقُولُ مَلَكٌ مِّنَ المَلائِكَةِ فيهم فلأن ليس منهُم إِنَّمَا جَاءَ لِحَاجَةٍ قَالَ هُمُ الجلساء لا يشقى بهم جليسهم – مُتَّفَقٌ عليه.

وفي رواية المُسلِم عَن أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةُ سَيَّارَةً فَضْلاً يَتَتَبَّعُونَ مَجَالِسَ الذِكرِ فَإِذَا وَجَدُوا مَجْلِسًا فِيهِ ذِكْرٌ قَعَدُوا مَعَهُمْ وَحَفَّ بَعضُهُم بَعْضًا بِأَجْنِحَتِهِم حَتَّى يَمْلَؤُوا مَا بَيْنَهُم

وَبَينَ السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَإِذَا تَفَرِّقُوا عَرَجُو وَصَعِدُوا إِلَى السَّمَاءِ فَسَأَلَهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلٌ وَهُوَ أَعْلَمُ مِن أَيْنَ جِئْتُم فَيَقُولُ جِبْنَا مِن عِندِ عِبَادِ لَكَ فِي الْأَرْضِ يُسَبِّحُونَكَ وَيُكَبِّرُونَكَ وَيُهَلِّلُونَكَ وَيَحْمَدُونَكَ وَيَسْأَلُونَكَ قَالَ وَمَا ذَا يَسْأَلُونِي

قَالُوا يَسْأَلُونَكَ جَنَّتَكَ قَالَ وَهَل رأوا جَنَّتِي قَالُوا لا أى رَبِّ قَالَ فَكَيْفَ لَوْ رَأوا جَنَّتِي قَالُوا وَيَسْتَجِيرُونَكَ قَالَ وَمِمَّ يَسْتَجِيرُونِي قَالُوا مِنْ نَارِكَ يَا رَبِّ قَالَ وَهَل رَأَوا نَارِي قالوا لا قَالَ فَكَيْفَ لو رأوا نَارِي قَالُوا وَيَسْتَغْفِرُونَكَ فَيَقُولُ

قَدْ غَفَرْتُ لَهُم وأعطيتُهُ مَا سَأَلُوا وَآجَرْتُهُم مِمَّا اسْتَجَارُوا قَالَ فَيَقُولُونَ رَبِّ فِيهِم فُلَانٌ عَبْدٌ خَطَّاءٌ إِنَّمَا مَنْ فَجَلَسَ مَعَهُم فَيَقُولُ وَلَهُ غَفَرْتُ هُمُ القَومُ لَا يَشْقَى بِهِم جَلِيسُهُم.

১৪৪৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর একদল ফেরেশতা আছে, তারা পথে পথে আল্লাহর স্মরণে রত লোকদেরকে খুঁজে বেড়ায়। যখন তারা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর স্মরণরত একদল লোককে পেয়ে যায় তখন নিজের সাথীদেরকে ডেকে বলে, তোমাদের প্রয়োজনের দিকে চলে এসো। তখন (ফেরেশতারা চলে আসে এবং) নিজেদের ডানার সাহায্যে তারা দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত ঐ স্মরণকারীদেরকে ঢেকে নেয়। তাদের রব তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, অথচ তিনি সবচেয়ে বেশি জানেন, আমার বান্দারা কী বলছে? রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন: ফেরেশতারা জবাব দেন, তারা তোমার পবিত্রতা ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করছে, তোমার প্রশংসায় মশগুল রয়েছে এবং তোমার বিরাট মর্যাদা বর্ণনা করছে। আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, তারা কি আমাকে দেখেছে? ফেরেশতারা জবাব দেন, না, আল্লাহর কসম! তারা তোমাকে দেখেনি। আল্লাহ বলেন, যদি তারা আমাকে দেখে নেয় তাহলে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : ফেরেশতারা জবাব দেন, যদি তারা তোমাকে দেখতে পেতো, তাহলে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করতো। আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, তারা কী চায়? রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, ফেরেশতারা জবাব দেন, তারা তোমার কাছে জান্নাত চায়। তিনি বলেন, আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, তারা কি জান্নাত দেখেছে? তিনি বলেন, ফেরেশতারা জবাব দেন, না, আল্লাহর কসম, হে আমাদের রব। তারা জান্নাত দেখেনি। তিনি বলেন, আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, যদি তারা তা দেখতো তাহলে? তিনি বলেন: ফেরেশতারা জবাব দেন, যদি তারা জান্নাত দেখতো তাহলে তাদের জান্নাতের লোভ, জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা ও তার প্রতি আকর্ষণ আরো বেশি বেড়ে যেতো। আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, তারা কোন জিনিস থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছে? ফেরেশতারা বলেন, তারা জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছে। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন: আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, তারা কি জাহান্নাম দেখেছে? তিনি বলেন, ফেরেশতারা জবাব দেন, না, আল্লাহর কসম! তারা জাহান্নাম দেখেনি। আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, যদি তারা জাহান্নাম দেখতো, তাহলে? তারা জবাব দেন, যদি তারা জাহান্নাম দেখতো তাহলে তারা তা থেকে আরো বেশি দূরে ভাগতো এবং তার ভয়ে আরো বেশি ভীত হতো। তিনি বলেন, আল্লাহ বলেন, আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি তাদেরকে মাফ করে দিলাম। তিনি বলেন, একথা শুনে ফেরেশতাদের একজন বলেন, এদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি আসলে এদের দলের অন্তর্ভুক্ত নয়, সে কোন প্রয়োজনে এসে পড়েছে। আল্লাহ জবাব দেন, এরা এমন মজলিসের সদস্য যাদের সাথে সংশ্লিষ্ট লোককে বঞ্চিত করা হয় না।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। তবে মুসলিমের রিওয়ায়াতে আবু হুরাইরা (রা) থেকে উল্লেখিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর ফেরেশতাদের একটি দল বেশ ঘোরাফেরার মধ্যে থাকেন। এ দলটি আল্লাহর স্মরণের মজলিসগুলি সন্ধান করে ফেরেন। যখন তারা এমন কোন মজলিসের সন্ধান পান তখন তারাও তাদের সাথে বসে যান এবং তারা পরস্পরের ডানার সাহায্যে পরস্পরকে ঘিরে নেন, এমনকি এভাবে তাদের দুনিয়ার ও আসমানের মধ্যবর্তী সমস্ত জায়গা ভরে যায়। তারপর যখন আল্লাহর স্মরণকারীদের মজলিস ভেঙে যায়, তারা পরস্পর থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং এই ফেরেশতারা আসমানে উঠে যান তখন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, অথচ তিনি সবচেয়ে বেশি জানেন, তোমরা কোথা থেকে এসেছো? তারা জবাব দেন, আমরা এসেছি দুনিয়ায় আপনার এমন সব বান্দাদের কাছ থেকে যারা আপনার পবিত্রতা ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করছে এবং আপনা তাওহীদ বাণী উচ্চারণ করছে, আপনার প্রশংসাগীতি গাইছে ও আপনার কাছে প্রার্থনা করছে। আল্লাহ জিজ্ঞেস করন, তারা আমার কাছে কী প্রার্থনা করছে? ফেরেশতারা জবাব দেন, তারা আপনার কাছে আপনার জান্নাতের প্রার্থনা করছে। আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, তারা কি আমার জান্নাত দেখেছে? ফেরেশতারা জবাব দেন, না, হে আমাদের রব! আল্লাহ বলেন, যদি তারা আমার জান্নাত দেখতো তাহলে তাদের কী অবস্থা হতো? ফেরেশতারা বলেন, তারা আপনার কাছে আশ্রয়ও চেয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তারা কিসের থেকে আমার কাছে আশ্রয় চাইছে? ফেরেশতারা জবাব দেন, হে আমাদের রব। তারা আপনার জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাইছে। আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, তারা কি আমার জাহান্নাম দেখেছে? তারা জবাৰ দেন, না, দেখেনি। তিনি বলেন, যদি তারা আমার জাহান্নাম দেখতো তাহলে তাদের কী অবস্থা হতো! ফেরেশতারা আবার বলেন, তারা আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। আল্লাহ বলেন, আমি তাদেরকে মাফ করে দিলাম এবং তারা যা চেয়েছে তা তাদেরকে দান করলাম এবং যা থেকে তারা আশ্রয় চেয়েছে তা থেকে তাদেরকে আশ্রয়ও দিলাম।

রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, ফেরেশতারা বলেন, হে রব। তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তিও ছিল, সে মহাপাপী, সে ওখান দিয়ে যাচ্ছিল, যেতে মজলিসে বসে পড়েছিল। আল্লাহ জবাব দেন, আমি তাকেও মাফ করে দিলাম। (কারণ) এরা এমন একটি দল যার কাছে উপবেশনকারীকেও বঞ্চিত করা হয় না।

١٤٤٨ – وَعَنْهُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَقْعُدُ قَوْمٌ يَذْكُرُونَ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا حَفْتَهُمُ الْمَلَائِكَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَنَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ رَوَاهُ

مُسْلِمٌ.

১৪৪৮। আবু হুরাইরা (রা) ও আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন দলই বসে বসে আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকে, ফেরেশতারা তাদেরকে ঘিরে নেন, তাদেরকে আল্লাহর রহমত দিয়ে ঢেকে দেন এবং তাদের উপর শান্তি বর্ষণ করেন আর আল্লাহ তাঁর কাছে যারা থাকে তাদের সাথে এ স্মরণকারীদের কথা আলোচনা করেন।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٤٩ – وَعَنْ أَبِي وَاقِدِ الْحَارِثِ بْنِ عَوْفِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَمَا هُوَ جَالِسٌ فِي الْمَسْجِدِ وَالنَّاسُ مَعَهُ إِذْ أَقْبَلَ ثَلَاثَةُ نَفَرٍ فَأَقْبَلَ اثْنَانِ إِلى رَسُولِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَذَهَبَ وَاحِدٌ

فَوَقَفَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَّا أَحَدُهُمَا فَرَأَى فُرْجَةً فِي الْحَلْقَةِ فَجَلَسَ فِيهَا وَأَمَّا الْآخَرُ فَجَلَسَ خَلْفَهُمْ وَأَمَّا الثَّالِثُ فَأَدْبَرَ ذَاهِبًا فَلَمَّا فَرَغَ رَسُولُ اللَّهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِلا اخْبِرُكُمْ عَنِ النَّفَرِ

الثَّلَاثَةِ أَمَّا أَحَدُهُمْ فَأَوَّى إِلَى الله فَأَوَاهُ اللهُ الله وَأَمَّا الْآخَرُ فَاسْتَحْيَا فَاسْتَحْيَا اللَّهُ مِنْهُ وَأَمَّا الْآخَرُ فَأَعْرَضَ فَأَعْرَضَ اللَّهُ عَنْهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৪৪৯। আবু ওয়াকিদ আল-হারিস ইবনে আওফ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসা ছিলেন এবং তাঁর সাথে আরও লোক ছিল, এমন সময় তিনজন লোক সেখানে এসে উপস্থিত হলো। তাদের মধ্যে দু’জন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে ফিরলো এবং একজন চলে গেলো। এরা দু’জন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে দাঁড়িয়ে রইলো। এদের একজন মজলিসের মধ্যে কিছু ফাঁকা জায়গা পেয়ে সেখানে বসে পড়লো, দ্বিতীয়জন তাদের পেছনে বসে পড়লো এবং তৃতীয়জন মুখ ফিরিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাজ শেষ করার পর বলেন: আমি কি তোমাদেরকে ঐ তিনজন সম্পর্কে জানাবো? তাদের এজন আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছে এবং আল্লাহ তাকে আশ্রয় দিয়েছেন। দ্বিতীয়জন (ভীড়ের মধ্যে প্রবেশ করতে) লজ্জা অনুভব করেছে এবং আল্লাহও তার সাথে লজ্জাপূর্ণ ব্যবহার করেছেন। তৃতীয়জন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে (চলে গিয়েছে) এবং আল্লাহও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

هُ عَنْهُ خَرَجَ مُعَاوِيَةٌ عَلَى حَلَقَةٍ فِي ى اللهُ عَنْهُ . . وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِي ) ١٤٥٠ – وع الْمَسْجِدِ فَقَالَ مَا أَجْلَسَكُمْ قَالُوا جَلَسْنَا نَذْكُرُ اللَّهُ قَالَ اللَّهِ مَا أَجْلَسَكُمْ إِلَّا ذَاكَ قَالُوا مَا أَجْلَسَنَا إِلَّا ذَاكَ قَالَ أَمَا إِنِّي لَمْ

أَسْتَخْلِفَكُمْ تُهْمَةً لَكُمْ وَمَا كَانَ أَحَدٌ بِمَنْزِلَتِي مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقَلَّ عَنْهُ حَدِيثًا مِنِّي إِنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ عَلَى حَلْقَةٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَالَ مَا أَجْلَسَكُمْ قَالُوا جَلَسَنَا نَذْكُرُ اللهَ

وَنَحْمَدُهُ عَلَى مَا هَدَانَا لِلْإِسْلَامِ وَمَنْ بِهِ عَلَيْنَا قَالَ اللَّهِ مَا أَجْلَسَكُمْ إِلا ذَاكَ قَالُوا وَاللهِ مَا أَجْلَسَنَا إِلا ذَاكَ قَالَ أَمَا إِنِّي لَمْ أَسْتَحْلِفُكُمْ تُهُمَةٌ لَكُمْ وَلَكِنَّهُ آتَانِيَ جِبْرِيلٌ فَأَخْبَرَنِي أَنَّ اللَّهَ يُبَاهِي بِكُمُ الْمَلَائِكَةَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪৫০। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু’আবিয়া (রা) মসজিদে একটি মজলিসের কাছে পৌছলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা এখানে বসে আছো কেন? লোকেরা জবাব দিলো, আমরা এখানে বসে আল্লাহর যিক্র করছি। মু’আবিয়া (রা) জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর কসম। ঐটি ছাড়া আর কোন কিছুই তোমাদেরকে এখানে বসিয়ে রাখেনি? তারা জবাব দিলো, আমরা কেবল ঐ উদ্দেশ্যেই এখানে বসেছি। তিনি বলেন, জেনে রাখ আমি কোন দোষারোপ করার উদ্দেশে তোমাদের কাছ থেকে কসম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার চাইতে কম সংখ্যক হাদীসও কেউ বর্ণনা করেনি। (একবার) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের একটি মজলিসের কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কেন বসে আছ? তারা জবাব দিলেন, আমরা বসে আল্লাহর যিক্র করছি, তাঁর প্রশংসা করছি এজন্য যে, তিনি আমাদের ইসলামের পথ দেখিয়েছেন এবং আমাদের প্রতি ইহসান করেছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর কসম! এছাড়া আর কোন উদ্দেশে তোমরা এখানে বসোনি? তারা জবাব দিলেন, আল্লাহর কসম! এছাড়া অন্য কোন উদ্দেশে আমরা এখানে বসিনি। তিনি বলেন: আমি কোন দোষারোপের জন্য তোমাদেরকে কসম দেইনি, বরং জিবরীল (আ) আমার কাছে এসে জানালেন যে, আল্লাহ ফেরেশতাদের কাছে তোমাদের জন্য গর্ব করেছেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অনুচ্ছেদ:
সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর যিক্র করা।

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُونَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ وَلَا تَكُنْ مِنَ الْغَافِلِينَ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“আর তোমার রবকে স্মরণ কর তোমার মনে মনে দীনতা ও ভীতিসহকারে ও উচ্চস্বরের পরিবর্তে নিম্নস্বরে সকাল-সন্ধ্যায় এবং গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।” (সূরা আল আরাফ: ২০৫) অভিধানবিদদের মতে “আসাল” শব্দটি “আসীল”-এর বহুবচন এবং এর অর্থ ‘আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়’।

وَقَالَ اللهُ تَعَالَى : وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا .

“আর তোমার রবের তাসবীহ পাঠ কর সূর্য উদয়ের পূর্বে ও তার অন্ত যাওয়ার পূবে।” (সূরা তাহা: ১৩০)

وَقَالَ تَعَالَى : وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ.

“আর তোমার রবের তাসবীহ পাঠ কর সকালে ও বিকালে।” (সূরা গাফির : ৫৫)।

অভিধানবিদদের মতে ” আল-আশিষ্যু” অর্থ সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ার পর থেকে নিয়ে তার অস্ত যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়টি।

وَقَالَ تَعَالَى : فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ يُسَبِّحُ لَهُ فِيْهَا بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ . رِجَالٌ لا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ.

“সেইসব ঘরে যেগুলিকে সমুন্নত করার এবং যেগুলির মধ্যে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, সেগুলিতে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর তাসবীহ করে সেইসব লোক যাদেরকে ব্যবসায় ও কেনা-বেচা আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল করে দেয় না।” (আন-নূরঃ ৩৬)

وَقَالَ تَعَالَى : إِنَّا سَخَّرْنَا الْجِبَالَ مَعَهُ يُسَبِّحْنَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِشْرَاقِ.

“অবশ্যি আমরা পর্বতমালাকে নিয়োজিত করেছি যেন এরা তার সাথে সকাল ও সন্ধ্যায় আমার পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে।” (সূরা সোআদ: ১৮)

١٤٥١ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبَحُ وَحِيْنَ يُمْسِي سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ مِائَةَ مَرَّةٍ لَمْ يَأْتِ أحَدٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ به الا أحَدٌ قَالَ مِثْلَ مَا قَالَ أَوْ

زَادَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪৫১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন ব্যক্তি যদি সকাল ও সন্ধ্যায় একশত বার বলে, “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি”, কিয়ামাতের দিন তার চাইতে ভালো আমল নিয়ে আর কেউ আসবে না, তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া যে এই কালেমাটি তার সমান বা তার চেয়ে বেশিবার বলে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٥٢ – وَعَنْهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ الله مَا لَقِيتُ مِنْ عَقْرَب لَدَغَتْنِي الْبَارِحَةَ قَالَ أَمَا لَوْ قُلْتَ حِينَ أَمْسَيْتَ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ تَضُرُّكَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪৫২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল। গত রাতে একটি বিছা আমাকে কামড় দিয়েছিল এবং তাতে আমি বড়ই কষ্ট পেয়েছি। তিনি বলেন: সন্ধ্যার সময় তুমি যদি বলতে, ‘আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাত মিন শাররি মা খালাকা’ তাহলে অবশ্যি বিছা তোমাকে কোন কষ্ট দিতো না।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٥٣ – وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ إِذَا أَصْبَحَ اللَّهُمُ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ آمَسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ النُّشُورِ وَإِذَا أَمْسَى قَالَ اللهُم بِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ النُّشُورُ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

وَالتَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৪৫৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল হলে বলতেন: “আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা ওয়াবিকা আমসাইনা ওয়া বিকা নাহ্ইয়া ওয়া বিকা নামৃতু ওয়া ইলাইকান নুশুর” (হে আল্লাহ! তোমার কুদরতে আমাদের সকাল হয় এবং তোমার কুদরতে আমাদের সন্ধ্যা হয়, তোমার নামে আমরা বাঁচি, তোমার নামে আমরা মরি এবং তোমার দিকে আমাদের ফিরে যেতে হবে)। আবার সন্ধ্যা হলে তিনি বলতেন: “আল্লাহুম্মা বিকা আমসাইনা ওয়া বিকা নাহ্ইয়া ওয়া বিকা নামৃতু ওয়া ইলাইকান নুশূর” (হে আল্লাহ! তোমার কুদরতে আমাদের সন্ধ্যা হয়, তোমার নামে আমরা বাঁচি, তোমার নামে আমরা মরি এবং তোমার দিকে আমাদের ফিরে যেতে হবে)।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান হাদীস বলেছেন।

١٤٥٤ – وَعَنْهُ أَنْ أَبَا بَكْرِ الصِّدِّيقَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مُرْنِي بِكَلِمَاتٍ أَقُولُهُنَّ إِذَا أصبحت وَإِذَا أَمْسَيْتُ قَالَ قُلْ اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ والشَّهَادَةِ رَبِّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ أَشْهَدُ أَنْ لا إِلهَ إِلَّا أَنْتَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ

شَرِّ نَفْسِي وشَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ قَالَ قُلْهَا إِذَا أَصْبَحْتَ وَإِذَا أَمْسَيْتَ وَإِذَا أَخَذْتَ مَضْجَعَكَ رواه أبو داود والتَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৪৫৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। আবু বাক্স আস্ সিদ্দীক (রা) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে কিছু কালেমা বলে দিন যেগুলো আমি সকাল-সন্ধ্যায় পড়বো। তিনি বলেন: বলো, “আল্লাহুম্মা ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আব্দ, ‘আলিমাল গাইবি ওয়াশ শাহাদাহ্, রাব্বা কুল্লি শায়ইন ওয়া মালীকাহ, আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আ’উযু বিকা মিন শাররি নাসী ওয়া শারিশ শাইতানি ওয়া শিকিহ্” (হে আল্লাহ! আসমানসমূহ ও পৃথিবীর স্রষ্টা, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য বিষয়সমূহের জ্ঞানের অধিকারী, প্রতিটি বস্তুর প্রতিপালক ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমার নফসের অনিষ্টকারিতা থেকে এবং শয়তানের অনিষ্টকারিতা ও তার শিরক করানো থেকে)। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেনঃ সকাল-সন্ধ্যায় ও বিছানায় শয়ন করার সময় তুমি এ কথাগুলো বলো।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন।

١٤٥٥ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَمْسَى قَالَ أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ قَالَ الرَّأْوِيُّ أَرَاهُ قَالَ فِيهِنَّ لَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ

شَيْءٍ قَدِيرٌ رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِي هذه اللَّيْلَةِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ رَبِّ أَعُوْذُ بِك مِنْ عَذَابِ النَّارِ وَعَذَابِ فِي الْقَبْرِ وَإِذَا أَصْبَحَ قَالَ ذَلِكَ

أَيْضًا أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪৫৫। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্ধ্যাকালে বলতেন: “আমসাইনা ওয়া আমসাল মুলকু লিল্লাহি, ওয়াল হাম্দু লিল্লাহি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু” (আল্লাহর জন্যই আমরা সন্ধ্যাকালে উপনীত হলাম এবং গোটা জগতও উপনীত হল। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই)। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এই সংগে একথাও বলেছিলেন: “লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হাম্দু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর” (রাজত্ব তাঁর জন্য, প্রশংসাও তাঁর জন্য এবং তিনি সবকিছুর উপর শক্তিমান। “রাব্বি আস্সআলুকা খাইরা মা ফী হাবিহিল্ লাইলাতি ওয়া খাইরা মা বা’দাহা ওয়া আ’উযু বিকা মিনাল কাস্স্স্সি ওয়া সূইল কিবার আ’ঊযু বিকা মিন আযাবিন ফিন্-নারি ওয়া আযাবিল কাবর্” (হে আমার রব। আমি তোমার কাছে এই রাতের সব কিছু কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং এর পরের সব কল্যাণও। আর আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি এই রাতের সব অকল্যাণ থেকে এবং এর পরের সব অকল্যাণ থেকেও। হে আমার রব! আমি আশ্রয় চাচ্ছি তোমার কাছে আলস্য থেকে ও খারাপ বার্ধক্য থেকে। আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি জাহান্নামের আযাব ও কবরের আযাব থেকে)। সকাল বেলাও তিনি এই দু’আ পড়তেন, তবে শুরু করতেন এভাবে: “আসবাহনা ও আস্বাহা মুলকু লিল্লাহ” (আল্লাহর জন্য আমরা রাত কাটিয়ে ভোর করলাম এবং গোটা জগতও ভোর করল)।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٥٦ – وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خُبَيْبِ بِضَمِّ الْخَاءِ الْمُعْجَمَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْرَأْ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ وَالْمُعَوَّذَتَيْنِ حِيْنَ تُمْسِى وَحِينَ تُصْبِحُ ثَلاثَ مَرَّاتٍ تَكْفِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

والتَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৪৫৬। আবদুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: সন্ধ্যায় ও সকালে “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ”, “কুল আউযু বিরব্বিল ফালাক” ও “কুল আউযু বিরব্বিন নাস” তিনবার করে পড়, তাহলে এগুলো সবকিছু থেকে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। [ অর্থাৎ সমস্ত বালা-মুসীবত ও সমস্ত কষ্ট, বিশেষ করে যাদু ও এই জাতীয় জিনিস থেকে বাঁচাবে ] ।
ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন।

١٤٥٧ – وَعَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ عَبْدٍ يَقُولُ فِي صَبَاحِ كُلِّ يَوْمٍ وَمَسَاءِ كُلِّ لَيْلَةٍ بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ

السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ثَلَاثَ مرات إلا لَمْ يَضُرُّهُ شَيْ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৪৫৭। উসমান ইবনে আফফান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন ব্যক্তি প্রতি দিন সকালে ও প্রতি রাতে সন্ধ্যায় নিম্নোক্ত দু’আটি তিনবার পড়লে কোন জিনিস তার ক্ষতি করতে পারে না: “বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুরু মা’আ ইসমিহি শাইউন ফিল আদি ওয়ালা ফিস্ সামাই ওয়া হুয়াস সামীউল আলীম” (আমি শুরু করছি সেই আল্লাহর নামে যাঁর নামের বরকতে আসমানে ও পৃথিবীতে কোন জিনিস ক্ষতি করে না এবং তিনি সর্বদ্রষ্টা ও সর্বজ্ঞ)।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন।

অনুচ্ছেদ ৪৬ ঘুমাবার সময় যে দু’আ পড়বে।

قَالَ اللهُ تَعَالَى : إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلافِ الَّيْلِ وَالنَّهَارِ لِأَيَاتِ لأولى الْأَلْبَابِ الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“নিঃসন্দেহে আসমানসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের আবর্তনের মধ্যে নিদর্শনসমূহ রয়েছে জ্ঞানবান লোকদের জন্য, যারা আল্লাহকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে, শায়িত অবস্থায় এবং আসমান ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে।” (সূরা আলে ইমরান : ১৯০-১৯১)

١٤٥٨ – وَعَنْ حُدَيقَةً وَأَبِي ذَرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَحْيَا وَآمُوْتُ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৪৫৮। হুযাইফা ও আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিছানায় শয়ন করতেন তখন বলতেন: “বিইসমিকা আল্লাহুম্মা আহ্ইয়া ওয়া আমৃতু” (হে আল্লাহ! তোমার নামেই আমি বাঁচি ও মরি)।

ইমাম বুখারী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٥٩ – وَعَنْ عَلَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ وَلفَاطِمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا إِذَا أَوَيْتُمَا إِلَى فِرَاشِكُمَا أَوْ إِذَا أَخَذْتُمَا مَضَاجِعَكُمَا فَكَيْرًا ثَلَاثًا وَثَلاثِينَ وَسَبِّحًا ثَلاثًا وَثَلاثِينَ وَأَحْمَدَا ثَلَاثًا وَثَلاثِينَ

وَفِي رِوَايَةٍ التسبيح أَربعا وثلاثينَ وَفِي رِوَايَة التَّكْبِيرُ أَرْبَعًا وَثَلاثِينَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৪৫৯। আলী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ও ফাতিমা (রা)-কে বলেন: যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় যাও বা তোমরা দু’জন তোমাদের বিছানায় শুয়ে পড়ো তখন তেত্রিশবার “আল্লাহু আকবার”, তেত্রিশবার “সুবহানাল্লাহ” ও তেত্রিশবার “আলহামদু লিল্লাহ” পাঠ করো। অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে, “সুবহানাল্লাহ” চৌত্রিশ বার, আর এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে “আল্লাহু আকবর” চৌত্রিশ বার পাঠ করো।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

ى اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ١٤٦٠ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيا وَسَلَّمَ إِذَا أوى أَحَدُكُمْ إِلَى فِرَاشِهِ فَلْيَنْقُضُ فِرَاشَهُ بِدَاخِلَةِ إِزَارِهِ فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي مَا خَلَقَهُ عَلَيْهِ ثُمَّ يَقُولُ بِاسْمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنبِي وَبِكَ أَرْفَعُهُ

إِنْ أَمْسَكَتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِيْنَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৪৬০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন নিজের বিছানায় আসে, তখন সে যেন নিজের ইজারের ভিতরের অংশ দিয়ে বিছানাটি ঝেড়ে নেয়। কারণ সে জানে না তার অনুপস্থিতিতে তার বিছানার উপর কী এসে পড়েছে। তারপর (শুয়ে পড়ার সময়) সে যেন বলে: “বিইসমিকা রাব্বী ওয়াদা’তু জাম্বী ওয়াবিকা আরফাউহু, ইন আমসাক্তা নাক্সী ফারহাম্হা, ওয়াইন আরসাল্ল্লাহা ফাহফাজহা বিমা তাহফাজু বিহী ইবাদাকাস সালিহীন” (হে আমার রব! তোমার নামে আমি পার্শ্বদেশ স্থাপন করলাম এবং তোমার সাহায্যে তাকে উঠাবো। যদি তুমি আমার প্রাণ নিয়ে নাও তাহলে তার প্রতি রহম করো আর যদি ছেড়ে দাও তাহলে তাকে হিফাযাত করো সেই জিনিস থেকে যা থেকে তুমি তোমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদেরকে হিফাযাত করে থাক।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٦١ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ نَفْتَ فِي بَدَيْهِ وَقَرَأَ بِالْمُعُوذَاتِ وَمَسَحَ بِهِمَا جَسَدَهُ متفق عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا

أَوَى إِلَى فراشه كُلِّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ ثُمَّ نَقَتَ فِيهِمَا فَقَرَأَ فِيهِمَا قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ وَقُلْ أَعُوذُ يرَبِّ الْفَلَقِ وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهِ يَبْدَأُ بهِمَا عَلَى رَأْسِهِ وَوَجْهِهِ وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهِ يَفْعَلُ

ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَاتٍ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. قَالَ أَهْلُ اللغَةِ النَّفْتُ نَفَخُ لطيف بالأريق.

১৪৬১। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নিজের বিছানায় যেতেন (শয়ন করার উদ্দেশে), তখন দুই হাত একত্র করে তাতে ফুঁ দিতেন এবং সূরা আল ফালাক ও সূরা আন নাস পড়তেন ও হাত দু’টি নিজের শরীরে বুলিয়ে নিতেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের অন্য রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রতি রাতে নিজের বিছানায় যেতেন তখন নিজের হাতের তালু দু’টো একত্র করে তাতে ফুঁ দিতেন, তারপর তার উপর পড়তেন: “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ”, “কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক” ও “কুল আউযু বিরাব্বিন নাস”, তারপর দুই হাতের তালু দিয়ে শরীরের যতটুকু অংশ পারতেন ঘষতেন। ঐ দুই হাত প্রথমে নিজের মাথায় ও মুখমণ্ডলে মুছতেন, তারপর শরীরের সামনের অংশ মলতেন, এভাবে তিনবার করতেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। অভিধানবিদদের মতে “নাফাসু” অর্থ হালকা ফুঁ দেয়া যাতে থুথু থাকে না।

١٤٦٢ – وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا آتَيْتَ مَضْجَعَكَ فَتَوَضَّأَ وَضُوءَكَ لِلصَّلوةِ ثُمَّ اضْطَجِعُ على شقكَ الأَيْمَنِ وَقُل اللهم أسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ وَوَجْهُتُ وَجْهِي إِلَيْكَ

وفوضتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَالْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ لَا مَلْجَا وَلَا مَنْجى مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ أَمَنْتُ بِكِتَابِ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ فَانَ مِنْ مِنْ عَلَى الْفَطْرَةِ وَاجْعَلَهُنَّ آخِرَ مَا تَقُوْلُ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৪৬২। বারাআ ইবনে আযিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: যখন তুমি বিছানায় শয়ন করার ইরাদা কর তখন নামাযের উযূর ন্যায় উযূ কর, তারপর ডান কাতে শুয়ে বল: “আল্লাহুম্মা আসলামতু নাফসী ইলাইকা, ওয়া ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহী ইলাইকা, ওয়া ফাওওয়া আমরী ইলাইকা, ওয়া আলজাতু যাহরী ইলাইকা রাখাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইকা, লা মালজাআ ওয়ালা মানজাআ মিল্কা ইল্লা ইলাইকা, আমানতু বিকিতাবিকাল্লাযী আন্যাল্লা, ওয়া নাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা” (হে আল্লাহ! আমার প্রাণ তোমার হাতে সঁপে দিয়েছি, আমার চেহারা তোমার দিকে ফিরিয়ে দিয়েছি, আমার কাজ তোমার উপর সোপর্দ করেছি এবং আমার পিঠ তোমার দিকে লাগিয়েছি। এসব কাজই তোমার প্রতি আগ্রহে ও আযাবের ভয়ে করেছি। তোমার কাছে ছাড়া আর কোন পালাবার ও (নিজেকে) বাঁচাবার জায়গা নেই। আমি ঈমান এনেছি তুমি যে কিতাব নাযিল করেছো তার উপর এবং যে নবী প্রেরণ করেছো তার উপর)। এখন যদি তুমি ঘুমের মধ্যে মারা যাও তাহলে তুমি স্বভাব ধর্মের উপর মারা গেলে। এ দু’আটি নিজের শেষ বাক্যে পরিণত কর।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٦٣ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَوَى إلى فِرَاشِهِ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَأَوَانًا فَكَمْ مِمَّن لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِيَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪৬৩। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিছানায় যেতেন তখন বলতেন: “আল্হামদু লিল্লাহিল্লাযী আত্আমানা ওয়া সাকানা ওয়া কাফানা ওয়া আওয়ানা” (সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি আমাদের আহার করিয়েছেন, আমাদের পান করিয়েছেন, আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টাকে ফলবতী করেছেন এবং আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন)। কেননা এমন অনেকে আছে যাদের প্রচেষ্টাকে ফলবতী করা হয়নি এবং তাদেরকে আশ্রয়স্থলও দেয়া হয়নি।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

ى اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ ١٤٦٤ – وَعَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيا إذا أرادَ أَنْ يَرْقُدَ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى تَحْتَ خَدِهِ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

مِنْ رِوَايَةِ حَفْصَةً وَفِيهِ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لَهُ ثَلَاثَ مَرَّات.

১৪৬৪। হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শয়ন করার ইরাদা করতেন তখন নিজের ডান হাত নিজ গালের নীচে রাখতেন এবং বলতেন: “আল্লাহুম্মা কিনী আযাবাকা ইয়াওমা তাসু ইবাদাকা” (হে আল্লাহ! আমাকে বাঁচাও তোমার আযাব থেকে যেদিন তোমার বান্দাদেরকে (আবার) জীবিত করবে)।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং তিনি একে হাসান হাদীস বলেছেন। ইমাম আবু দাউদ এটি রিওয়ায়াত করেছেন হাফসা (রা) থেকে এবং তাতে একথাও বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার এ কথাটি বলতেন।

তৃতীয় খণ্ড সমাপ্ত

© Bangladesh Jamaat-e-Islami

  • আমাদের সম্পর্কে
  • প্রাইভেসি পলিসি
  • যোগাযোগ
কোন ফলাফল নেই
সকল ফলাফল দেখুন
  • নীড়
  • সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
  • বিভাগ ভিত্তিক
    • আল কুরআন
    • আল হাদিস
    • ফিকাহ
    • দাওয়াত ও তাবলিগ
    • ঈমান ও আক্বীদাহ
    • আমল-আখলাক ও মুয়ামালাত
    • ইসলাম ও ইবাদাত
    • পারিবারিক ও সামাজিক জীবন
    • ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন
    • সীরাত ও ইতিহাস
    • সীরাতে সাহাবা
    • নারী
    • রাজনীতি
    • অর্থনীতি
    • বিবিধ
  • কর্মী সিলেবাস
  • রুকন সিলেবাস
    • রুকন সিলেবাস (স্বল্প শিক্ষিত)
    • রুকন সিলেবাস (শিক্ষিত)
  • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি
    • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি (শিক্ষিত)
    • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি (স্বল্প শিক্ষিত)
  • উচ্চতর অধ্যয়ন
  • অডিও বই
  • অন্যান্য
    • দারসুল কুরআন
    • দারসুল হাদিস
    • আলোচনা নোট
    • বইনোট
    • প্রবন্ধ
    • বুলেটিন
    • স্মারক
    • ম্যাগাজিন
    • এপস
    • রিপোর্ট বই
    • ছাত্রী সিলেবাস

@BJI Dhaka City South