জামায়াত অনলাইন লাইব্রেরি
  • নীড়
  • সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
  • বিভাগ ভিত্তিক
    • আল কুরআন
    • আল হাদিস
    • ফিকাহ
    • দাওয়াত ও তাবলিগ
    • ঈমান ও আক্বীদাহ
    • আমল-আখলাক ও মুয়ামালাত
    • ইসলাম ও ইবাদাত
    • পারিবারিক ও সামাজিক জীবন
    • ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন
    • সীরাত ও ইতিহাস
    • সীরাতে সাহাবা
    • নারী
    • রাজনীতি
    • অর্থনীতি
    • বিবিধ
  • কর্মী সিলেবাস
  • রুকন সিলেবাস
    • রুকন সিলেবাস (স্বল্প শিক্ষিত)
    • রুকন সিলেবাস (শিক্ষিত)
  • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি
    • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি (শিক্ষিত)
    • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি (স্বল্প শিক্ষিত)
  • উচ্চতর অধ্যয়ন
  • অডিও বই
  • অন্যান্য
    • দারসুল কুরআন
    • দারসুল হাদিস
    • আলোচনা নোট
    • বইনোট
    • প্রবন্ধ
    • বুলেটিন
    • স্মারক
    • ম্যাগাজিন
    • এপস
    • রিপোর্ট বই
    • ছাত্রী সিলেবাস
কোন ফলাফল নেই
সকল ফলাফল দেখুন
  • নীড়
  • সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
  • বিভাগ ভিত্তিক
    • আল কুরআন
    • আল হাদিস
    • ফিকাহ
    • দাওয়াত ও তাবলিগ
    • ঈমান ও আক্বীদাহ
    • আমল-আখলাক ও মুয়ামালাত
    • ইসলাম ও ইবাদাত
    • পারিবারিক ও সামাজিক জীবন
    • ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন
    • সীরাত ও ইতিহাস
    • সীরাতে সাহাবা
    • নারী
    • রাজনীতি
    • অর্থনীতি
    • বিবিধ
  • কর্মী সিলেবাস
  • রুকন সিলেবাস
    • রুকন সিলেবাস (স্বল্প শিক্ষিত)
    • রুকন সিলেবাস (শিক্ষিত)
  • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি
    • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি (শিক্ষিত)
    • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি (স্বল্প শিক্ষিত)
  • উচ্চতর অধ্যয়ন
  • অডিও বই
  • অন্যান্য
    • দারসুল কুরআন
    • দারসুল হাদিস
    • আলোচনা নোট
    • বইনোট
    • প্রবন্ধ
    • বুলেটিন
    • স্মারক
    • ম্যাগাজিন
    • এপস
    • রিপোর্ট বই
    • ছাত্রী সিলেবাস
জামায়াত অনলাইন লাইব্রেরি

রিয়াদুস সালেহীন – ৪র্থ খণ্ড

অন্তর্গতঃ আল হাদিস, বাৎসরিক পাঠ্যসূচি (শিক্ষিত), রুকন সিলেবাস (শিক্ষিত)
A A
Share on FacebookShare on Twitter

রিয়াদুস সালেহীন – চতুর্থ খণ্ড

ইমাম মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়াহ আন-নববী (রহ)


স্ক্যান কপি ডাউনলোড


ইমাম মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া আন-নববী (র)

রিয়াদুস সালেহীন
চতুর্থ খণ্ড

অনুবাদে

মাওলানা আবদুল মান্নান তালিব
মাওলানা মুহাম্মদ মুসা

সম্পাদনায়

মোঃ মোজাম্মেল হক
মাওলানা মোঃ আতিকুর রহমান
মাওলানা মুহাম্মদ মূসা

প্রকাশক

ড. মোহাম্মদ শফিউল আলম ভূঁইয়া

পরিচালক

বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার

প্রসঙ্গ কথা

হিজরী সপ্তম শতকের হাদীস বিশারদ ইমাম মুহিউদ্দীন ইয়াহ্ইয়া আন্-নববী (র)-এর শ্রেষ্ঠ অবদান রিয়াদুস সালেহীন। সহীহ হাদীসগুলো থেকে প্রায় দু’হাজার হাদীস চয়ন করে তিনি রচনা করেছেন এই অমূল্য সংকলনটি। আত্মগঠনের পাথেয় সংগ্রহে যাঁদের রয়েছে আন্তরিক উদ্যোগ, এই গ্রন্থ তাঁদের প্রয়োজন পূরণে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।

বাংলাভাষী ভাই-বোনদের হাতে এই সংকলনটির অনুবাদ তুলে দেবার স্বপ্ন ছিল আমাদের। অবশেষে কয়েকজন সম্মানিত আলেমের সহযোগিতায় আমরা এটি অনুবাদ করতে সক্ষম হই।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ অনুগ্রহে আমরা হিজরী চৌদ্দশ’ পাঁচ সনের রমাদান মাসে এর প্রথম খণ্ড, হিজরী চৌদ্দশ’ হয় সনের রমাদান। মাসে দ্বিতীয় খণ্ড, হিজরী চৌদ্দশ’ সাত সনের রবিউল আউয়াল মাসে তৃতীয় খণ্ড এবং হিজরী চৌদ্দশ’ আট সনের সফর মাসে আমরা এর চতুর্থ, তথা সর্বশেষ খণ্ড প্রকাশ করেছি।

গ্রন্থখানির বর্তমান সংস্করণে আমরা পুনরায় মূল হাদীসের সাথে অনুবাদ মিলিয়ে অর্থাৎ পুনঃ সম্পাদনা করে বিগত সংস্করণের ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করার প্রয়াস পেয়েছি।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সংকলকের খিদমত কবুল করে তাঁকে পুরষ্কৃত করুন এবং এই গ্রন্থের অনুবাদ, সম্পাদনা ও প্রকাশনায় যাঁদের সময় ও শ্রম নিয়োজিত রয়েছে তাঁদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে বিপুল কল্যাণ দান করুন।
প্রকাশক

কে কতটুকু অনুবাদ করেছেনঃ

মাওলানা আবদুল মান্নান তালিব – হাদীস নং ১৪৬৫ থেকে ১৫১০
মাওলানা মুহাম্মদ মূসা – হাদীস নং ১৫১১ থেকে ১৮৯৬

بسم الله الرحمن الرحيم

সূচীপত্র

  1. অধ্যায়: ১৬ – কিতাবুদ দা’ওয়াত (দু’আ)
    1. অনুচ্ছেদ: ১ – দু’আ করার নির্দেশ ও তার ফযীলাত এবং রাসূল (সা) যেসব দু’আ করতেন তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
    2. অনুচ্ছেদ: ২ – কারো অনুপস্থিতিতে তার জন্য দু’আ করার ফযীলাত
    3. অনুচ্ছেদ: ৩ – দু’আ সম্পর্কে জরুরী জ্ঞাতব্য।
    4. অনুচ্ছেদ: ৪ – আওলিয়া কিরামের কারামত ও তাদের ফযীলাত।
  2. অধ্যায়: ১৭ কিতাবুল উমূরিল মুনহা আনহা (নিষিদ্ধ কাজসমূহ)
    1. অনুচ্ছেদ: ১ – গীবাত হারাম এবং সংযতবাক হওয়ার নির্দেশ।
    2. অনুচ্ছেদ: ২ – গীবাত বা পরচর্চা শুনা হারাম
    3. অনুচ্ছেদ: ৩ – যে ধরনের গীবাতে দোষ নেই
    4. অনুচ্ছেদ: ৪ – কূটনামী বা পরোক্ষে নিন্দা করা হারাম
    5. অনুচ্ছেদ: ৫ – মানুষের যাবতীয় কথাবার্তা দায়িত্বশীল কর্মকর্তা পর্যন্ত পৌঁছানো নিষেধ
    6. অনুচ্ছেদ: ৬ – দ্বিমুখীপনার প্রতি তিরষ্কার
    7. অনুচ্ছেদ: ৭ – মিথ্যা বলা হারাম
    8. অনুচ্ছেদ: ৮ – যেসব ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা জায়েয
    9. অনুচ্ছেদ: ৯ – সত্যাসত্য যাচাই করার পর কোন কথা বর্ণনা করতে হবে
    10. অনুচ্ছেদ: ১০ – মিথ্যা সাক্ষ্যদান কঠোরভাবে হারাম
    11. অনুচ্ছেদ: ১১ – নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে বা কোন পশুকে অভিশাপ দেয়া হারাম
    12. অনুচ্ছেদ: ১২ – দুষ্কৃতিকারীদের নাম নির্দিষ্ট না করে অভিশাপ দেয়া জায়েয
    13. অনুচ্ছেদ: ১৩ – অন্যায়ভাবে কোন মুসলিমকে গালি দেয়া হারাম
    14. অনুচ্ছেদ: ১৪ – মৃত ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে বা শরী’আত সম্মত কারণ ছাড়া গালিগালাজ করা হারাম
    15. অনুচ্ছেদ: ১৫ – উৎপীড়ন করা নিষেধ
    16. অনুচ্ছেদ: ১৬ পরস্পর ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ, দেখা-সাক্ষাত বর্জন ও সম্পর্কচ্ছেদ করা নিষেধ
    17. অনুচ্ছেদ: ১৭ – হিংসা করা হারাম
    18. অনুচ্ছেদ: ১৮ – পরস্পরের দোষত্রুটি তালাশ করা ও ওঁৎ পেতে কথা শোনা নিষেধ
    19. অনুচ্ছেদ: ১৯ – অযথা কোন মুসলিমের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা নিষেধ
    20. অনুচ্ছেদ: ২০ – মুসলিমদেরকে অবজ্ঞা করা নিষেধ
    21. অনুচ্ছেদ: ২১ – কোন মুসলিমের কষ্ট দেখে আনন্দ বা সন্তোষ প্রকাশ করা নিষেধ
    22. অনুচ্ছেদ: ২২ – সুপ্রতিষ্ঠিত বংশ সম্পর্কের প্রতি ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হারাম
    23. অনুচ্ছেদ: ২৩ – ধোঁকা দেয়া ও প্রতারণা করা নিষেধ
    24. অনুচ্ছেদ: ২৪ – ওয়াদা খেলাফ করা হারাম
    25. অনুচ্ছেদ: ২৫ – উপহার বা দান ইত্যাদি করে তার খোঁটা দেয়া নিষেধ
    26. অনুচ্ছেদ: ২৬ – গর্ব-অহংকার ও বিদ্রোহ করা নিষিদ্ধ
    27. অনুচ্ছেদ: ২৭ – কোন মুসলিমের অপর মুসলিমের সাথে তিন দিনের অধিক কথাবার্তা বন্ধ রাখা নিষেধ। ভবে বিদ’আত ও গুনাহের কাজ প্রকাশ পেলে তা জায়েয
    28. অনুচ্ছেদ: ২৮ – তিনজনের মধ্যে একজনকে বাদ দিয়ে দু’জনের গোপন পরামর্শ করা নিষেধ। তবে প্রয়োজনে তৃতীয়জনের অনুমতি নিয়ে করা যায়। এ ক্ষেত্রে নিচু স্বরে কথা বলতে হবে। তৃতীয় ব্যক্তি বুঝে না এমন ভাষায়ও কথা বলা যেতে পায়ে
    29. অনুচ্ছেদ: ২৯ – শরয়ী কারণ ছাড়া ক্রীতদাস, জীবজন্তু, স্ত্রীলোক এবং ছেলে-মেয়েকে শিষ্টাচার ও আদব-কায়দা শিখানোর জন্য প্রয়োজনাতিরিক্ত শাস্তি দেয়া নিষেধ
    30. অনুচ্ছেদ: ৩০ – কোন প্রাণী, এমনকি পিঁপড়া এবং অনুরূপ কোন প্রাণীকেও আগুন দিয়ে শান্তি দেয়া নিষেধ
    31. অনুচ্ছেদ: ৩১ – প্রাপক তার পাওনা দাবি করলে ধনী ব্যক্তির টাল-বাহানা করা হারাম
    32. অনুচ্ছেদ: ৩২ – হিবা বা দান প্রাপকের কাছে হস্তান্তর না করে ফেরত নেয়া অপছন্দনীয়
    33. অনুচ্ছেদ: ৩৩ – ইয়াতীমের বিষয়-সম্পত্তি আত্মসাৎ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
    34. অনুচ্ছেদ : ৩৪ – সুদ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে
    35. অনুচ্ছেদ: ৩৫ – রিয়া বা প্রদর্শনীমূলকভাবে কোন কাজ করা হারাম
    36. অনুচ্ছেদ: ৩৬ – যেসব জিনিসের মধ্যে প্রদর্শনেচ্ছা আছে বলে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তার মধ্যে প্রদর্শনেচ্ছা নেই
    37. অনুচ্ছেদ: ৩৭ – বেগানা নারী ও সুদর্শন বালকের প্রতি নিষ্প্রয়োজনে তাকানো নিষেধ
    38. অনুচ্ছেদ: ৩৮ – পরস্ত্রীর সাথে নির্জনে সাক্ষাত করা নিষেধ
    39. অনুচ্ছেদ: ৩৯ – পোশাক-পরিচ্ছদ, চালচলন, আচার-ব্যবহার ইত্যাদিতে পুরুষ কর্তৃক নারীর এবং নারী কর্তৃক পুরুষের অনুকরণ হারাম
    40. অনুচ্ছেদ: ৪০ – শয়তান ও কাফিরদের অনুকরণ করা নিষেধ
    41. অনুচ্ছেদ: ৪১ – নারী-পুরুষ সকলের চুলে কালো খেযাব ব্যবহার করা নিষেধ
    42. অনুচ্ছেদ: ৪২ – মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করা নিষেধ
    43. অনুচ্ছেদ: ৪৩ – পরচুলা লাগানো, উল্কি অংকন ও দাঁত চেঁছে চিকন করা হারাম
    44. অনুচ্ছেদ: ৪৪ – সাদা দাড়ি ও মাথার সাদা চুল তোলা নিষেধ। যুবকের দাড়ি গজালে তা চেঁছে ফেলা নিষেধ
    45. অনুচ্ছেদ: ৪৫ – ডান হাতে শৌচ করা এবং নিষ্প্রয়োজনে লজ্জাস্থানে ডান হাত লাগানো খারাপ
    46. অনুচ্ছেদ: ৪৬ – বিনা ওযরে এক পায়ে জুতা বা মোজা পরে চলাফেরা করা এবং দাঁড়িয়ে জুতা ও মোজা পরা মাকরূহ
    47. অনুচ্ছেদ: ৪৭ – ঘরে জ্বলন্ত আগুন বা প্রদীপ রেখে ঘুমানো নিষেধ
    48. অনুচ্ছেদ: ৪৮ ভাণ করা নিষেধ
    49. অনুচ্ছেদ: ৪৯ – মৃতের জন্য বিলাপ করা হারাম
    50. অনুচ্ছেদ: ৫০ – জ্যোতিষী এবং ভাগ্য গণনাকারী প্রভৃতির কাছে যাওয়া নিষেধ
    51. অনুচ্ছেদ: ৫১ – বিছানা, পাথর ইত্যাদির উপর ছবি আঁকা হারাম
    52. অনুচ্ছেদ: ৫২ – শিকার কার্য এবং গবাদি পশু ও কৃষিক্ষেত পাহারা দেয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর পোষা হারাম
    53. অনুচ্ছেদ: ৫৩ – উট অথবা অন্য কোন পশুর গলায় ঘন্টা বাঁধা এবং সফরে কুকুর সংগে নেয়া বা গলায় ঘন্টা বাঁধা মাকরূহ
    54. অনুচ্ছেদ: ৫৪ – নাপাক বস্তু বা বিষ্ঠাখেকো উটে আরোহণ করা মাকরূহ। তবে অভ্যাস বদলে নিয়ে যদি পবিত্র ঘাস খেতে শুরু করে তাহলে তাতে আরোহণ মাকরূহ হবে না এবং তার গোশত হালাল হয়ে যাবে।
    55. অনুচ্ছেদ: ৫৫ – মসজিদে খুখু ফেলা নিষেধ। মসজিদকে ময়লা-আবর্জনা থেকে পরিষ্কার রাখা খুণু বা অনুরূপ কোন কিছু থাকলে তা দূর করার আদেশ।
    56. অনুচ্ছেদ: ৫৬ – মসজিদে ঝগড়া-বিবাদ করা, উচ্চস্বরে আওয়াজ করা বা কথা বলা, হারানো জিনিস খোঁজ করা, ক্রয়-বিক্রয়, ভাড়া ইত্যাদি লেনদেন করা মাকরূহ
    57. অনুচ্ছেদ: ৫৭ – পিঁয়াজ, রসুন এবং অনুরূপ কোন দুর্গন্ধযুক্ত জিনিস খাওয়ার পর দুর্গন্ধ দূর হওয়ার পূর্বেই বিনা প্রয়োজনে মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ
    58. অনুচ্ছেদ: ৫৮ – জুমু’আর দিন ইমামের খুতবার সময় হাঁটুর সাথে পেট মিলিয়ে বসা মাকরূহ
    59. অনুচ্ছেদ: ৫৯ – যে ব্যক্তি কুরবানী করার সংকল্প করেছে তার জন্য যিলহজ্জের প্রথম দশ দিন অর্থাৎ দশ তারিখ সকালে কুরবানী করার পূর্ব পর্যন্ত নখ-চুল কাটা নিষেধ।
    60. অনুচ্ছেদ: ৬০ – সৃষ্টির নামে শপথ করা নিষেধ
    61. অনুচ্ছেদ: ৬১ – স্বেচ্ছায় মিথ্যা শপথ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
    62. অনুচ্ছেদ: ৬২ – কোন কাজের শপথ করার পর…..
    63. অনুচ্ছেদ: ৬৩ – অর্থহীন শপথ ক্ষমাযোগ্য
    64. অনুচ্ছেদ: ৬৪ – ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সত্য শপথ করাও খারাপ
    65. অনুচ্ছেদ: ৬৫ – আল্লাহর দোহাই দিয়ে কিছু চাওয়া
    66. অনুচ্ছেদ: ৬৬ – রাজাধিরাজ বলা হারাম
    67. অনুচ্ছেদ: ৬৭ – ফাসিক ও বিদআতী ব্যক্তিকে সাইয়েদ বা অনুরূপ সম্বোধন করা নিষেধ
    68. অনুচ্ছেদ: ৬৮ – জ্বরকে গালি দেয়া মাকরূহ
    69. অনুচ্ছেদ: ৬৯ – বাতাসকে গালি দেয়া নিষেধ এবং বায়ু প্রবাহের সময় যা বলতে হয়
    70. অনুচ্ছেদ: ৭০ – মোরগকে গালি দেয়া মাকরূহ
    71. অনুচ্ছেদ: ৭১ – অমুক তারকার কারণে বৃষ্টি হয়েছে- এরূপ বলা নিষেধ
    72. অনুচ্ছেদ: ৭২ – মুসলিমকে কাফির বলা হারাম
    73. অনুচ্ছেদ: ৭৩ – অম্লীল ও অশ্রাব্য কথা বলা নিষেধ
    74. অনুচ্ছেদ: ৭৪ – আলাপ-আলোচনায় জটিল বাক্য প্রয়োগ মাকরূহ
    75. অনুচ্ছেদ: ৭৫ – আমার আত্মা কলুষিত- এ ধরনের কথা বলা নিষেধ
    76. অনুচ্ছেদ: ৭৬ – ইনাবকে (আঙ্গুর) কারম বলা অপছন্দনীয়
    77. অনুচ্ছেদঃ ৭৭ – পুরুষের সামনে মেয়েদের শারীরিক সৌন্দর্য বর্ণনা করা নিষেধ
    78. অনুচ্ছেদ: ৭৮ – হে আল্লাহ! তুমি চাইলে আমাকে ক্ষমা কর, এভাবে দু’আ করা মাকরূহ
    79. অনুচ্ছেদ: ৭৯ – আল্লাহর ইচ্ছার সাথে অন্য ইচ্ছা মিলানো খারাপ
    80. অনুচ্ছেদ: ৮০ – ইশার নামায আদায়ের পরে কথা বলা মাকরূহ
    81. অনুচ্ছেদ: ৮১ – স্বামী স্ত্রীকে বিছানায় ডাকলে শরী’আত সম্মত কারণ ছাড়া স্ত্রীর বিছানায় আসতে অস্বীকার করা হারাম
    82. অনুচ্ছেদ: ৮২ – স্বামীর উপস্থিতিতে অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর জন্য নফল রোযা রাখা নিষেধ
    83. অনুচ্ছেদ: ৮৩ – ইমামের আগে মুক্তাদীর রুকু-সিজদা থেকে মাথা উঠানো নিষেধ
    84. অনুচ্ছেদ: ৮৪ – নামাযের মধ্যে কোমরে হাত রাখা মাকরূহ
    85. অনুচ্ছেদ: ৮৫ – নামাযের সময় আহার্য উপস্থিত হলে…..
    86. অনুচ্ছেদ: ৮৬ – নামাযরত অবস্থায় আকাশের দিকে তাকানো নিষেধ
    87. অনুচ্ছেদ: ৮৭ – বিনা প্রয়োজনে নামাযরত অবস্থায় এদিক-সেদিক তাকানো মাকরূহ
    88. অনুচ্ছেদ: ৮৮ – কবরের দিকে মুখ করে নামায পড়া নিষেধ
    89. অনুচ্ছেদ: ৮৯ – নামাযরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাতায়াত করা নিষেধ
    90. অনুচ্ছেদ: ৯০ – মুয়াযযিন যখন ফরয নামাযের জন্য ইকামত দেয় তখন মুক্তাদীদের জন্য সুন্নাত অথবা নফল নামায পড়া মাকরূহ
    91. অনুচ্ছেদ: ৯১ – শুধুমাত্র জুমু’আর দিনকে রোযার জন্য এবং জুমু’আর রাতকে নফল নামাযের জন্য নির্দিষ্ট করে নেয়া মাকরূহ
    92. অনুচ্ছেদ: ৯২ – সাওমে বিসাল বা উপর্যুপরি রোযা রাখা নিষেধ
    93. অনুচ্ছেদ: ৯৩ – কবরের উপর বসা হারাম
    94. অনুচ্ছেদ: ৯৪ – কবর পাকা করা ও গম্বুজ নির্মাণ করা নিষেধ
    95. অনুচ্ছেদ: ৯৫ – মনিবের নিকট থেকে গোলামের পালিয়ে যাওয়া নিষেধ
    96. অনুচ্ছেদ: ৯৬ – হদ্দ (নির্ধারিত শাস্তি) কার্যকর করার বিরুদ্ধে সুপারিশ করা হারাম
    97. অনুচ্ছেদ: ৯৭ – সর্বসাধারণের যাতায়াতের রাস্তায়, গাছের ছায়ায় এবং ব্যবহার্য পানি ইত্যাদিতে পায়খানা করা নিষেধ
    98. অনুচ্ছেন: ৯৮ – বন্ধ পানিতে পেশাব ইত্যাদি করা নিষেধ
    99. অনুচ্ছেদ: ৯৯ – উপহার দেয়ার বেলায় সন্তানদের মধ্যে কাউকে অগ্রাধিকার দেয়া মাকরূহ
    100. অনুচ্ছেদ: ১০০ – নারীদের শোক পালন
    101. অনুচ্ছেদ: ১০১ – শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পণ্যদ্রব্য বিক্রয় না করে
    102. অনুচ্ছেদ: ১০২ – শরী’আত সম্মত কারণ ছাড়া সম্পদ নষ্ট করা নিষেধ
    103. অনুচ্ছেদ: ১০৩ – অস্ত্র দ্বারা ইশারা করা নিষেধ
    104. অনুচ্ছেদ: ১০৪ – কোন ওযর ছাড়া আযানের পর ফরয নামায না পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়া মাকরূহ
    105. অনুচ্ছেদ: ১০৫ – বিনা কারণে সুগন্ধি দ্রব্য ফিরিয়ে দেয়া মাকরূহ
    106. অনুচ্ছেদ: ১০৬ – কোন ব্যক্তির সামনে তার প্রশংসা করা মাকরূহ
    107. অনুচ্ছেদ: ১০৭ – মহামারী আক্রান্ত জনপদ থেকে ভয়ে পালানো কিংবা বাইরে থেকে সেখানে যাওয়া মাকরূহ
    108. অনুচ্ছেদ: ১০৮ – যাদুবিদ্যা শেখা ও প্রয়োগ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
    109. অনুচ্ছেদ: ১০৯ – শত্রুদের হস্তগত হওয়ার আশংকা থাকলে কুরআন শরীফ সঙ্গে নিয়ে কাফেরদের এলাকায় সফর করা নিষেধ
    110. অনুচ্ছেদ: ১১০ – পানাহার, পবিত্রতা অর্জন ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্র ব্যবহার করা হারাম
    111. অনুচ্ছেদ: ১১১ – জাফরানী রং দ্বারা রঞ্জিত কাপড় পুরুষদের জন্য হারাম
    112. অনুচ্ছেদ: ১১২ – দিনভর অনর্থক চুপ করে থাকা নিষেধ
    113. অনুচ্ছেদ: ১১৩ – প্রকৃত পিতা ছাড়া অন্যের পরিচয় দেয়া এবং ক্রীতদাসের প্রকৃত মনিব ছাড়া অন্যের পরিচয় দেয়া হারাম
    114. অনুচ্ছেদ: ১১৪ – মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা) যে কাজ করতে নিষেধ করেছেন সে সম্পর্কে কঠোর সাবধান বাণী
    115. অনুচ্ছেদ: ১১৫ – কেউ কোন নিষিদ্ধ কাজ করে বসলে কী বলবে ও কী করবে
  3. অধ্যায়: ১৮ – কিতাবুল মানসূরাত ওয়াল মুলাহ
    1. অনুচ্ছেদ: ১ – বিবিধ ও রসিকতা বিষয়ক হাদীস
    2. অনুচ্ছেদ: ২ – ক্ষমা প্রার্থনা করা
    3. অনুচ্ছেদ: ৩ – আল্লাহ তা’আলা জান্নাতের মধ্যে মুমিনদের জন্য যা কিছু তৈরি করেছেন

অধ্যায়: ১৬ – কিতাবুদ দা’ওয়াত (দু’আ)

অনুচ্ছেদ: ১ – দু’আ করার নির্দেশ ও তার ফযীলাত এবং রাসূল (সা) যেসব দু’আ করতেন তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ।

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ

মহান আল্লাহ বলেন:

“আর তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” (সূরা মু’মিনঃ ৬০)

وقَالَ تَعَالَى : أَدْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ.

“তোমাদের রবকে ডাক বিনয়ী হয়ে দীনভাবে এবং চুপে চুপে। অবশ্যি তিনি সীমা লংঘনকারীদেরকে ভালোবাসেন না।” (সূরা আল আ’রাফ: ৫৫)

وقال تعالى : وإذا سألك عبادي عَنِّى فَإِنِّي قريب أجيب دعوة الداع إذا دَعَانِ.

“আর যখন আমার বান্দাগণ তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তখন (তুমি বলে দাও), আমি নিকটেই আছি। আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিই, যখন সে আমাকে ডাকে।” (সূরা আল বাকারা: ১৮৬)

وَقَالَ تَعَالَى : أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوء.

“কে শোনে পেরেশান ও অশান্ত হৃদয় ব্যক্তির ডাক এবং কে তার মুসীবত দূর করে।” (সূরা আন-নামল: ৬২)

١٤٦٥ – ووَعَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الدُّعَاءُ هُوَ العِبَادَةُ – رواه أبو داود والترمذى وَقَالَ حَدِيث حسن صحيح.

১৪৬৫। নু’মান ইবনে বাশীর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দু’আ হচ্ছে ইবাদাত”।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান ও সহীহ হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

١٤٦٦ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَحِبُّ الْجَوَامِعَ مِنَ الدُّعَاءِ وَبَدَعُ مَا سِوَى ذَلِكَ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ باشناد جيد.

১৪৬৬। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আর মধ্যে পূর্ণ অর্থবোধক দু’আ পছন্দ করতেন এবং এ ছাড়া অন্য কিছু পরিহার করতেন।
ইমাম আবু দাউদ উত্তম সনদ সহকারে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

4 ١٤٦٧ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ أَكْثَرُ دُعَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللهم آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ مُتَّفَقٌ علَيْهِ. زَادَ مُسْلِمٌ فِي رِوَايَتِهِ قَالَ وَكَانَ أنس إِذَا أَرَادَ أَن يُدْعُو بِدَعْوَةٍ دَعَا بِهَا وإذا أرادَ أَنْ يَدْعُوَ بِدُعَاء دَعَا بِهَا فِيهِ.

১৪৬৭। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় এই দু’আ করতেনঃ “আল্লাহুম্মা আতিনা ফিদ্‌দুয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতে হাসানাতাও ওয়াকিনা আযাবান্ নার” (হে আল্লাহ। আমাকে দুনিয়াতে কল্যাণ ও আখিরাতে কল্যাণ দান কর এবং জাহান্নামের আযাব থেকে আমাকে বাঁচাও)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিমের বর্ণনাতে আরো আছে: হযরত আনাস (রা) যখন কোন দু’আ করতে চাইতেন তখন এই দু’আটিই করতেন এবং যখন অন্য কোন দু’আ করতে চাইতেন তখন এ দু’আটিও তার মধ্যে শামিল করতেন।

١٤٦٨ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتَّقَى وَالْعَفَافِ وَالْغَنِي رَوَاهُ مُسْلِمٌ

১৪৬৮। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা ওয়াত্-তুকা ওয়াল আফাফা ওয়াল গিনা”
(হে আল্লাহ। আমি তোমার কাছে চাচ্ছি হিদায়াত, তাকওয়া, সচ্চরিত্রতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা বা স্বনির্ভরতা)।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٤٦٩ – وَعَنْ طَارِقِ بْنِ أَشْيَمَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ الرَّجُلُ إِذَا أَسْلَمَ عَلَمَهُ النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلاةَ ثُمَّ أَمَرَهُ أَنْ يَدْعُوَ بِهُؤُلَاءِ الْكَلِمَاتِ اللَّهُم الغفر لي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ عَنْ طارق أنَّهُ سَمِعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَآتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ أَقُولُ حِينَ أَسْأَلُ رَبِّي قَالَ قُلْ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي فان هؤلاً ، تَجْمَعُ لك دنياك وآخرتك.

১৪৬৯। তারিক ইবনে আশইয়াম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন কোন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করতেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নামায শিখাতেন, তারপর তাকে নিম্নোক্ত বাক্যে দু’আ করতে নির্দেশ দিতেন: “আল্লাহুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াহদিনী ওয়া ‘আফিনী ওয়ারযুকনী” (হে আল্লাহ। আমাকে মাফ কর, আমার প্রতি করুণা কর, আমাকে সঠিক পথ দেখাও, আমাকে নিরাপত্তা দান কর এবং আমাকে রিক দান কর)।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর হযরত তারিক (রা)-র অপর বর্ণনায় আছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন, এক ব্যক্তি তার কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল। আমি আমার রবের কাছে প্রার্থনার সময় কী বলবো? রাসূলুল্লাহ (সা) জবাব দিলেনঃ তুমি বলবে “আল্লাহুম্মাগফির লী ওয়ারহামনী ওয়া ‘আফিনী ওয়ারযুকনী”। কারণ এ বাক্যগুলো তোমার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের নিয়ামাত একত্র করে দেবে।

١٤٧٠ – وَعَنْ عَبْدِ الله بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللهُم مُصَرِفَ الْقُلُوبِ صَرِفَ قُلُوبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ رواه مسلم.

১৪৭০। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত দু’আটি করেছেন: “আল্লাহুম্মা মুসাররিফাল কুলুব সারকি কুলুবানা আলা তা’আতিক” (হে আল্লাহ, হৃদয়সমূহকে পরিবর্তনকারী, আমাদের হৃদয়গুলোকে তোমার অনুগত্যের দিকে ঘুরিয়ে দাও)।
ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٤٧١ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تعودُوا بِاللَّهِ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ وَدَرَكَ السَّقَاءِ وَسُوءِ الْقَضَاءِ وَشَمَائَةِ الْأَعْدَاءِ متفق عليه.

১৪৭১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও কঠিন পরীক্ষা, চরম দুর্ভাগ্য, খারাপ তাকদীর ও শত্রুদের আত্মতুষ্টি থেকে।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন।

١٤٧٢ – وَعَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي ديني الذي هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِي وَأَصْلِحْ لِى دُنْيَايَ الَّتِي فِيهَا مَعَاشِي وَأَصْلِحْ لِي أخرتي التي فِيهَا مَعَادِي وَاجْعَلِ الْحَيَاةَ زِيادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٍ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪৭২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করতেন: “আল্লাহুম্মা আল্লিহ্ লী দীনী আল্লাযী হুয়া ইসমাতু আমরী, ওয়া আহি লী দুয়াইয়া আল্লাতী ফীহা মা’আশী, ওয়া আসলিহ লী আখিরাতী আল্লাতী ফীহা মা’আদী, ওয়াজ’আলিল হায়াতা যিয়াদাতান লী ফী কুল্লি খায়র, ওয়াজ ‘আলিল মাওতা রাহাতাল্লী মিন কুল্লি শার” (হে আল্লাহ। আমার দীনকে আমার জন্য সংশোধন করে দাও, যা আমার কাজের সংরক্ষক, আমার দুনিয়াকে আমার জন্য সংশোধন করে দাও, যার মধ্যে রয়েছে আমার জীবন-জীবিকা, আমার আখিরাতকে আমার জন্য সুশোভন করে দাও যেখানে আমাকে ফিরে যেতে হবে। প্রত্যেক নেক কাজে আমার হায়াত বাড়িয়ে দাও এবং প্রত্যেক খারাপ কাজ থেকে মৃত্যুকে আমার জন্য আরামের কারণে পরিণত কর)।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٧٣ – وَعَنْ عَلَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْ اللَّهُمَّ اهْدِنِي وَسَلَّدْنِي وَفِي رِوَايَةِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالسَّدَادَ رواه مسلم

১৪৭৩। আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: বল, আল্লাহুম্মাহদিনী ওয়া সাদ্দিদী (হে আল্লাহ! আমাকে হিদায়াত দান কর এবং আমাকে সোজা করে দাও)। অন্য এক রিওয়ায়াতে আছেঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা ওয়াস্ সাদাদ” (হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে হিদায়াত ও সোজা পথের সন্ধান চাই)।
ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٤٧٤ – وَعَنْ أَنَسِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْهَرَمِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَفِي رِوَايَةٍ وَضَلَعِ الدِّينِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪৭৪। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’আ করতেন: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল ‘আজযি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুবনি ওয়াল হারামি ওয়াল বুখলি ওয়া আউযু বিকা মিন ‘আযাবিল কারি, ওয়া আউযু বিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত” (হে আল্লাহ। আমি আশ্রয় চাচ্ছি তোমার কাছে অক্ষমতা ও আলস্য থেকে, কাপুরুষতা, বার্ধক্য ও কার্পণ্য থেকে। আমি আশ্রয় চাচ্ছি তোমার কাছে কবরের আযাব থেকে এবং আশ্রয় চাচ্ছি তোমার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে)। অন্য এক বর্ণনায় আছেঃ “ওয়া দালঈদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল” (ঋণের ভয়াবহ বোঝা ও লোকদের পরাভব থেকে)।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٤٧٥ وَعَنْ أَبِي بَكْرِ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلِمْنِي دُعَاءُ ادْعُو بِهِ فِي صَلَاتِي قَالَ قُلْ اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظلما كثيراً ولا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةٌ مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ انتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ وَفِي بَيْتِي وَرُوِيَ ظُلْمًا كَثِيرًا وروى كبيراً بالثاء المثلثة وبالباء الموحدة فَيَنْبَغِي أَنْ يُجْمَعَ بَيْنَهُمَا فَيُقَالُ كثيراً كبيرا.

১৪৭৫। আবু বাক্স আস্ সিদ্দীক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন, আমাকে আমার নামাযের মধ্যে পড়বো একটি দু’আ শিখিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন: তুমি বলো, “আল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী যুলমান কাসীরান ওয়ালা ইয়াগফিরুষ যুনুবা ইল্লা আন্তা, ফাগফির লী মাগফিরাতাম্ মিন ‘ইনদিকা ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম” (হে আল্লাহ। আমি আমার নিজের প্রতি যুলম করেছি অনেক বেশি। তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার আর কেউ নেই। কাজেই তুমি আমাকে মাফ কর, মাফ তোমার কাছ থেকে, আর আমার উপর রহম কর। অবশ্যি তুমি ক্ষমাকারী ও দয়ালু)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণানা করেছেন। অন্য এক বর্ণনাতে বলা হয়েছে: “ফী বাইতী” অর্থাৎ আমার ঘরের মধ্যে (নামাযে পড়বো)। কোন কোন রিওয়ায়াতে “ফুলমান কাসীরান” (অনেক যুল্য) অপর বর্ণনায় কাবীরান শব্দ এসেছে। তবে উভয় শব্দই এক সাথে ব্যবহার করা সংগত হবে। “কাসীরান” (অনেক যুগ্ম) ও “কাবীরান” (বড় যুগ্ম)।

١٤٧٦ – وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَدْعُوا بِهذا الدُّعَاءِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي وَمَا انت أعْلَمُ بِهِ مِنِّي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي جَدِى وَهَزْلِي وَخَطَئِي وَعَمْدِي وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي اللهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أُخْرَتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مني انتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ وَانتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৪৭৬। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত বাক্যে দু’আ করতেন: “আল্লাহুম্মাগফির লী খাতীআতী ওয়া জাহলী ওয়া ইসরাফী ফী আমন্ত্রী ওয়ামা আনতা আ’লামু বিহি মিন্নী আল্লাহুম্মাগফিরলী জিদ্দী ওয়া হাযলী ওয়া খাতারী ওয়া আমদী ওয়া কুহু যালিকা ‘ইনদী। আল্লাহুম্মাগফিরলী মা কাদ্দামতু ওয়ামা আখখারতু ওয়ামা আসরাবৃত্ব ওয়ামা আলানতু ওয়ামা আনতা আ’লামু বিহি মিন্ত্রী। আনতাল মুকাদ্দিমু ওয়া আনতাল্ মুআখখিবু ওয়া আনতা ‘আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর” (হে আল্লাহ! আমার গুনাহ ও মূর্খতা মাফ করে দাও, আমার কাজে বাড়াবাড়িকে মাফ করে দাও এবং আমার সেই গুনাহ মাফ করে দাও যা তুমি আমার চাইতে বেশি জান। হে আল্লাহ। মাফ করে দাও সেই কাজ, যা আমি ভেবেচিন্তে করেছি যা তামাসাচ্ছলে করেছি এবং যা আমি সজ্ঞানে করেছি ও যা অজ্ঞানে করেছি, আর যেগুলো আমার মধ্যে আছে। হে আল্লাহ। মাফ করে দাও আমার আগের ও পরের সমস্ত গুনাহ এবং যা আমি গোপনে ও প্রকাশ্যে করেছি, আর আমার সেই গুনাহও মাফ করে দাও, যা তুমি আমার চাইতে বেশি জান। তুমিই সামনে অগ্রসরকারী ও তুমিই পশ্চাদমুখীকারী। আর তুমি সব ব্যাপারে শক্তিমান)।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٤٧٧ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَيَقُولُ فِي دُعَائِهِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ
১৪৭৭। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দু’আয় বলতেন: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন শাররি মা আম্লিতু ওয়া মিন শাররি মা লাম আ’মাল” (হে আল্লাহ। আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই যা কিছু আমি করেছি এবং যা আমি আমল করিনি তার অনিষ্ঠকারিতা থেকে)।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٤٧٨ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ مِنْ دُعَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَتَحَولَ عَافِيَتِكَ وَفُجَاءَة نقْمَتِكَ وَجَمِيعِ سَخَطِكَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪৭৮। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি দু’আ হলোঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন যাওয়ালি নিমাতিকা ওয়া তাহাওউলি ‘আফিয়াতিকা ওয়া ফুজাআতি নিৰ্মাতিকা ওয়া জামী’ই সাখাতিকা” (হে আল্লাহ। আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই তোমার নি’আমাত খতম হওয়া থেকে, তোমার নিরাপত্তার পরিবর্তন, তোমার আকস্মিক আযাব ও তোমার সমস্ত অসন্তুষ্টি থেকে)।

ইমাম মুসলিম এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٤٧٩ – وَعَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْبُخْلِ وَالْهَرَمِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ اللهم أن نفسِي تَقْوَاهَا وَزَكِهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَاهَا أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا اللهُم إني أعوذُ بِكَ مِنْ عِلم لا يَنْفَعُ وَمِنْ قَلب لا يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لَا تَشْبَعُ وَمِنْ دعوة لا يُسْتَجَابُ لَهَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪৭৯। যায়িদ ইবনে আরকাম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলে দু’আ করতেনঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল ‘আজযি ওয়াল কাসালি ওয়াল বুখলি ওয়াল হারামি ওয়া ‘আযাবিল কাবরি। আল্লাহুম্মা আতি নাসী তাওয়াহা ওয়া যাক্কিহা আন্‌তা খাইরু মান যাক্কাহা আনতা ওয়ালিয়্যুহা ওয়া মাওলাহা। আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন ইস্পিন লা ইয়াক্বাউ ওয়া মিন কালবিন্ লা ইয়াখশাউ ওয়া মিন নাফসিন লা তাশবাউ ওয়া মিন দাওয়াতিন লা ইউস্তাজাবু লাহা” (হে আল্লাহ। আমি আশ্রয় চাচ্ছি তোমার কাছে অক্ষমতা ও আলস্য থেকে, কার্পণ্য ও বার্ধক্য থেকে এবং কবরের আযাব থেকে। হে আল্লাহ। আমার নফসকে তাকওয়া দান কর এবং তাকে পাক করে দাও, তুমি সবচাইতে পাক-পবিত্রকারী, তুমি তার অভিভাবক ও মালিক। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই অনুপকারী ইলম থেকে, আল্লাহর ভয়শূন্য হৃদয় থেকে, অতৃপ্ত নফস্ থেকে এবং এমন দু’আ থেকে যা কবুল হয় না।
ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٤٨٠ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ اللَّهُمَّ لكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ أمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَتَيْتُ وَبِكَ خاصمتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمَتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخْرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ أنتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنتَ الْمُؤَخِّرُ لا اله الا انتَ. زَادَ بَعْضُ الرُّواةِ وَلَا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ الا بالله – متفقٌ عَلَيْهِ.

১৪৮০। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “আল্লাহুম্মা লাকা আস্লামৃতু ওয়া বিকা আমানতু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু ওয়া ইলাইকা আনাবতু ওয়া বিকা খাসামতু ওয়া ইলাইকা হাকামতু, ফাগফির লী মা কাদ্দামতু ওয়ামা আখারতু ওয়ামা আসরারতু ওয়ামা আ’লান্‌তু, আন্‌তাল মুকাদ্দিমু ওয়া আনতাল মুআখখিরু, লা ইলাহা ইল্লা আল্লা” (হে আল্লাহ! আমি তোমার অনুগত হয়েছি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার উপর তাওয়াক্কুল করেছি, তোমার দিকে ফিরেছি, তোমার শক্তি সহকারে আমি শত্রুদের সাথে বিবাদ করেছি এবং তোমার দিকে আমি ফায়সালা করেছি। কাজেই আমার পূর্বের ও পরের, গোপন ও প্রকাশ্য সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও। তুমিই সামনে বাড়িয়ে দাও ও তুমিই পেছনে ঠেলে দাও। তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ্ নেই)। তবে কোন কোন বর্ণনায় আরো আছেঃ লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (আল্লাহ প্রদত্ত শক্তি ছাড়া গুনাহ থেকে দূরে থাকা ও নেকির কাজ করার শক্তি কারো নেই)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٤٨١ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْعُو بهولا – الْكَلِمَاتِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ النَّارِ وَعَذَابِ النَّارِ وَمِنْ شَرِّ الغنى وَالْفَقْرِ – رواه أبو داود والترمذى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهُذَا لفظ ابن داود.

১৪৮১। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত বাক্যে দু’আ করতেন: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন ফিতনাতিন নারি ওয়া আযাবিন নার, ওয়া মিন শাররিল গিনা ওয়াল ফান্দ্র” (হে আল্লাহ। আমি আশ্রয় চাচ্ছি তোমার কাছে জাহান্নামের বিপর্যয় ও আযাব থেকে এবং প্রাচুর্য ও দারিদ্র্যের অনিষ্ট থেকে)।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান ও সহীহ হাদীস আখ্যা দিয়েছেন। এখানে হাদীসের মূল পাঠ আবু দাউদের।

١٤٨٢ – وَعَنْ زِيَادِ بْنِ عَلاقَةً عَنْ عَمِهِ وَهُوَ قُطْبَةُ بْنُ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنكرات الأخلاق والأعمال والأهوا – رواه الترمذى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৪৮২। যিয়াদ ইবনে ইলাকা (র) থেকে তার চাচা কুতবা ইবনে মালিক (রা)-র সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথাগুলো বলে দু’আ করতেন: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন মুনকারাতিল আখলাকি ওয়াল আমালি ওয়াল আহ্ওয়া” (হে আল্লাহ। আমি আশ্রয় চাই তোমার কাছে খারাপ আখলাক, খারাপ আমল ও কুপ্রবৃত্তি থেকে)।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান হাদীস বলেছেন।

١٤٨٣ – وَعَنْ شَكْلِ بْنِ حُمَيْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلِمْنِي دعاء قَالَ قُلْ اللهم إني أعوذ بك من شر سمعِي وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي وَمِنْ شَرِّ لساني ومن شَرِّ قَلبي وَمِن شَرِّ مَنى – رواه أبو داود والترمذي وقال حديث حَسَنٌ.

১৪৮৩। শাক্ত ইবনে হুমাইদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি দু’আ শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি বল, “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন শাররি সাম্’ঈ ওয়া মিন শারি বাসারী ওয়া মিন শাররি লিসানী ওয়া মিন শাররি কাল্বী ওয়া মিন শাররি মানিয়্যা” (হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাচ্ছি তোমার কাছে আমার শ্রবণের অনিষ্টকারিতা থেকে, আমার দৃষ্টির অনিষ্টকারিতা থেকে, আমার কথার অনিষ্টকারিতা থেকে, আমার হৃদয়ের অনিষ্টকারিতা থেকে এবং আমার লজ্জাস্থানের অনিষ্টকারিতা থেকে)।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

١٤٨٤ – وَعَنْ أَنَسِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرْضِ وَالْجُنُونِ وَالْجُدَامِ وَسَيْ الْأَسْقَامِ رَوَاهُ أَبُو دارد باشتاد صحيح

১৪৮৪। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল বারাসি ওয়াল জুনুসি ওয়াল জুযামি ওয়া সাইয়েইল আসকাম” (হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাচ্ছি তোমার কাছে শ্বেতরোগ, উন্মাদনা, কুষ্ঠ রোগ ও সমস্ত খারাপ রোগ থেকে)।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٤٨٥ – وعن أبي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُوعِ فَإِنَّهُ بِئْسَ الصَّحِيعُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخِيَانَةِ فَإِنَّهَا بِئْسَتِ الْبِطَانَةُ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسناد صحيح

১৪৮৫। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল জু’ই ফাইন্নাহু বি’সাদ-দাজী ‘উ ওয়া আউযু বিকা মিনাল খিয়ানাতি ফাইন্নাহা বি’সাতিল বিতানাতু” (হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় চাই ক্ষুধা ও অনাহার থেকে, কারণ তা হচ্ছে নিকৃষ্ট শয়নসংগী। আর আমি আশ্রয় চাই তোমার কাছে খিয়ানত ও আত্মসাৎ থেকে, কারণ তা হচ্ছে নিকৃষ্ট আভ্যন্তরীণ অভ্যাস)।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

١٤٨٦ – وَعَنْ عَلِيَّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ مُكَانَبًا جَاءَهُ إِنِّي عَجِزَتُ عَنْ كِتَابِي فَاعَنِّي قَالَ أَلا أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ عَلَمَنِيْهِنَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ كَانَ عَلَيْكَ مِثْلُ جَبَلٍ دَيْنَا أَداهُ اللهُ عَنْكَ قُلْ اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَاغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِواكَ رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৪৮৬। আলী (রা) থেকে বর্ণিত। জনৈক মুকাতাব’ দাস তাঁর কাছে এসে বললো, আমি নিজের মুক্তির জন্য চুক্তিবদ্ধ অর্থ পরিশোধ করতে অক্ষম হয়ে পড়েছি। কাজেই আপনি

আমাকে সাহায্য করুন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যে কথাগুলো শিখিয়েছিলেন আমি কি সেগুলো তোমাকে শিখিয়ে দেব? যদি তোমার উপর পাহাড় সমান ঋণ থাকে তিনি তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেবেন। বল, “আল্লাহুম্মা আফ্ফিনী বিহালালিকা ‘আন হারামিকা ওয়া আগনিনী বিফাদিল্লকা আম্মান সিওয়াকা” (হে আল্লাহ! তোমার হারাম থেকে তোমার হালালকে আমার জন্য যথেষ্ট করে দাও এবং তোমার অনুগ্রহের মাধ্যমে তুমি ছাড়া অন্যদের থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দাও)। [টিকা: মুকাতাব হচ্ছে এমন ক্রীতদাস যার মালিকের সাথে তার লিখিত চুক্তি হয়েছে যে, সে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করলে তাকে আযাদ করে দেয়া হবে।]

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

١٤٨٧ – وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَّمَ آبَاهُ حُصَيْنًا كَلِمَتَيْنِ يَدْعُو بهما اللهُمُ الْهِمْنِي رُشْدِى وَاعِدُنِي مِنْ شَرِّ نفسي رواه الترمذى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৪৮৭। ইমরান ইবনুল হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পিতা হুসাইন (রা)-কে দু’টি কথা শিখিয়েছিলেন যার দ্বারা তিনি দু’আ করতেন: “আল্লাহুম্মা আহিমনী রুশদী ওয়া আইযনী মিন শাররি নাফসী” (হে আল্লাহ! আমার দিলে আমার হিদায়াত পৌঁছিয়ে দাও এবং আমার নফসের অনিষ্টকারিতা থেকে আমাকে বাঁচিয়ে রাখ)।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

١٤٨٨ – وَعَن أبي الفضل العباس بن عبد المطلب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يا رَسُولَ الله عَلمنى شَيْئًا أَسْأَلُهُ الله تَعَالَى قَالَ سَلُوا اللهَ الْعَافِيَة فَمَكَنتُ أَيَّامًا ثُمَّ جِئْتُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ عَلِمْنِي شَيْئًا أَسْأَلُهُ اللَّهَ تَعَالَ قَالَ لِي يَا عَبَّاس يَا عَمِّ رَسُولِ الله سلوا الله العافية في الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ – رَوَاهُ الترمذي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৪৮৮। আবুল ফযল আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আমাকে এমন কিছু জিনিস শিখান, যা আমি মহান আল্লাহর কাছে চাইব। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করুন। কিছু দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আমি এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কিছু জিনিস শিখান, আমি আল্লাহ্ তা’আলার কাছে তা চাইব। তিনি আমাকে বলেনঃ হে আব্বাস, হে আল্লাহর রাসূলের চাচা। আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা প্রার্থনা করুন।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন এবং একে সহীহ হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

١٤٨٩ – وَعَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ قَالَ قُلْتُ لِأَمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا يَا أَمْ الْمُؤْمِنِينَ مَا كَانَ أَكْثَرُ دُعَاءِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ عِنْدَكَ قَالَتْ كَانَ أَكْثَرُ دُعَائِهِ يَا مُقَلِبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৪৮৯। শাহর ইবনে হাওশাব (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মে সালামা (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে উন্মুল মুমিনীন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আপনার কাছে অবস্থান করতেন তখন বেশির ভাগ সময় তিনি কী দু’আ করতেন? তিনি বলেন, বেশির ভাগ সময় তিনি এই দু’আ করতেন: “ইয়া মুকাল্লিবাল কুলু সাব্বিত কালবী আলা দীনিকা” (হে হৃদয়সমূহকে ঘুরিয়ে দেবার অধিকারী। আমার হৃদয়কে তোমার দীনের উপর অবিচলভাবে প্রতিষ্ঠিত রাখ)। ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

١٤٩٠ – وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاء رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ مِنْ دُعَاء دَاوُدَ عَلَيْهِ السلامُ اللهُم إِنِّي أَسْأَلُكَ حُبِّكَ وَحَبِّ مَنْ يُحِبُّكَ والْعَمَلَ الَّذِي يُبْلِغْنِي حُبِّكَ اللهُمَّ اجْعَلَ حُبِّكَ أَحَبُّ إِلَى مِنْ نَفْسِي وَأَهْلِي وَمِنَ الماء البارد – رواه الترمذى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৪৯০। আবুদু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দাউদ আলাইহিস্ সালাম-এর একটি দু’আ ছিল: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা হুব্বাকা ওয়া হুব্বা মাইয়্যুহিব্বুকা ওয়াল আমালাল্লাযী ইউবাল্লিগুনী হুব্বাকা, আল্লাহুমাজ’আল হুব্বাকা আহাব্বা ইলাইয়্যা মিন নাক্সী ওয়া আহ্লী ওয়া মিনাল মাইল বারিদ” (হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার ভালোবাসা প্রার্থনা করছি এবং সেই ব্যক্তির ভালোবাসা প্রার্থনা করছি, যে তোমাকে ভালোবাসে, আর এমন ‘আমল প্রার্থনা করছি, যা আমাকে তোমার ভালোবাসার কাছে পৌঁছিয়ে দেবে। হে আল্লাহ! তোমার ভালোবাসাকে আমার কাছে আমার প্রাণ, আমার পরিবার-পরিজন ও ঠাপ্ত পানির চাইতে বেশি প্রিয় কর)।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন এবং একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

١٤٩١ – بن عامِرِ الصَّحَابِي قَالَ الْحَاكِمُ حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ – القُوا بِكَسْرِ اللأم وتشديد الظاء المُعْجَمَة مَعْنَاهُ الزموا هذه الدعوة واكثروا منها .

১৪৯১। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ইয়া যালজালালি ওয়াল ইকরাম” এই দু’আটি খুব বেশি করে পড়।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আর ইমাম নাসাঈ রাবীআ ইবনে আমের আস-সাহাবী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম হাকেম বলেছেন, এ হাদীসের সনদ সহীহ। “আলেযযু” শব্দটির অর্থঃ “আবশ্যিক মনে কর” এবং খুব বেশি করে পড়।

١٤٩٢ – وَعَنْ أَبِي أَمَامَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِدُعَاء كَثِيرٍ لَمْ نَحْفَظُ مِنْهُ شَيْئًا قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ دَعَوْتَ بِدُعَاء كَثِيرٍ لَمْ تحفظ مِنْهُ شَيْئًا فَقَالَ إِلا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَجْمَعُ ذَلِكَ كُلُّهُ تَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أسألك مِنْ خَيْرِ مَا سَأَلَكَ مِنْهُ نَبِيِّكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا اسْتَعَادَكَ مِنْهُ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنْتَ الْمُسْتَعَانُ وَعَلَيْكَ الْبَلاغُ ولا حول ولا قوة الا بالله – رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৪৯২। আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসংখ্য দু’আ করেছিলেন, আমরা তার কোনটি মুখস্থ রাখতে পারলাম না। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আপনি অসংখ্য দু’আ করেছেন, আমরা তার মধ্য থেকে কিছুই মনে রাখতে পারিনি। তিনি বলেন: আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি দু’আ শিখাব না, যা সবগুলো দু’আকে একত্রিত করে দেবে? তোমরা বলঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন খাইরি মা সাআলাকা মিনহু নাবিয়্যুকা মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ওয়া আউযু বিকা মিন শাররি মাস্স্স্তা’আযাকা মিনহু নাবিয়্যুকা মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ওয়া আন্তাল মুস্তা’আনু ওয়া আলাইকাল বালাগ, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা, ইল্লা বিল্লাহ” (হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সেই সমস্ত কল্যাণ প্রার্থনা করছি, যা তোমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার কাছে প্রার্থনা করেছেন এবং আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি সেই সমস্ত অনিষ্ট থেকে যা থেকে তোমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার কাছে আশ্রয় চেয়েছেন। তুমিই সাহায্যকারী। তোমার কাছে সব পৌঁছে যাবে এবং তোমার সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে দূরে থাকার ও নেকী করার ক্ষমতা কারো নেই)।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

بن عامِرِ الصَّحَابِي قَالَ الْحَاكِمُ حَدِيث صَحِيحُ الْإِسْنَادِ – الظوا بكسر اللام وتشديد الظاء المعجمة مَعْنَاهُ الزموا هذه الدعوة واكثروا منها .

১৪৯১। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ইয়া যালজালালি ওয়াল ইকরাম” এই দু’আটি খুব বেশি করে পড়।
ইমাম তিরমিযী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আর ইমাম নাসাঈ রাবীআ ইবনে আমের আস-সাহাবী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম হাকেম বলেছেন, এ হাদীসের সনদ সহীহ। “আলেযযু” শব্দটির অর্থঃ “আবশ্যিক মনে কর” এবং খুব বেশি করে পড়।

١٤٩٢ – وَعَنْ أَبِي أَمَامَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِدعا ، كَثِيرٍ لَمْ نَحْفَظَ مِنْهُ شَيْئًا قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ دَعَوْتَ بِدُعَاء كَثِيرٍ لَمْ تحفظ مِنْهُ شَيْئًا فَقَالَ إلا ادلُكُمْ عَلَى مَا يَجْمَعُ ذَلِكَ كُلَّهُ تَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي اسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا سَأَلَكَ مِنْهُ نَبِيكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا اسْتَعَادَكَ مِنْهُ نَبِيِّكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنْتَ الْمُسْتَعَانُ ولا حول ولا قوة الا بالله – رَوَاهُ الترمذى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ. وَعَلَيْكَ الْبَلاغُ ولا .

১৪৯২। আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসংখ্য দু’আ করেছিলেন, আমরা তার কোনটি মুখস্থ রাখতে পারলাম না। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আপনি অসংখ্য দু’আ করেছেন, আমরা তার মধ্য থেকে কিছুই মনে রাখতে পারিনি। তিনি বলেন: আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি দু’আ শিখাব না, যা সবগুলো দু’আকে একত্রিত করে দেবে? তোমরা বলঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন খাইরি মা সাআলাকা মিনহু নাবিয়্যুকা মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ওয়া আউযু বিকা মিন শাররি মাস্তা’আযাকা মিনহু নাবিয়্যুকা মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ওয়া আনতাল মুস্তা’আনু ওয়া আলাইকাল বালাগ, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা, ইল্লা বিল্লাহ” (হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সেই সমস্ত কল্যাণ প্রার্থনা করছি, যা তোমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার কাছে প্রার্থনা করেছেন এবং আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি সেই সমস্ত অনিষ্ট থেকে যা থেকে তোমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার কাছে আশ্রয় চেয়েছেন। তুমিই সাহায্যকারী। তোমার কাছে সব পৌছে যাবে এবং তোমার সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে দূরে থাকার ও নেকী করার ক্ষমতা কারো নেই)।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

١٤٩٣ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ مِنْ دُعَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مُوْجِبَاتِ رَحْمَتِكَ وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ وَالسَّلَامَةَ من كل اثم وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرِّ وَالْفَوزَ بِالْجَنَّةِ وَالنَّجَاةَ مِنَ النَّارِ رَوَاهُ الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللهِ وَقَالَ حَدِيثُ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ مُسْلِم.

১৪৯৩। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি দু’আ ছিল: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মূজিবাতি রাহমাতিকা, ওয়া আযাইমা মাগফিরাতিকা, ওয়াস সালামাতা মিন কুল্লি ইসমিন ওয়াল গানীমাতা মিন কুল্লি বিররিন, ওয়াল ফাওযা বিল জান্নাতি ওয়ান নাজাতা মিনান্ নার” (হে আল্লাহ। আমি তোমার কাছে তোমার রহমত অবধারিতকারী বিষয় প্রার্থনা করছি, তোমার মাগফিরাতের কার্যকারণসমূহ প্রার্থনা করছি, তোমার নিরাপত্তার কার্যকারণসমূহ প্রার্থনা করছি আর (প্রার্থনা করছি) প্রতিটি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা ও প্রতিটি নেকী অর্জন করা এবং জান্নাতের সাফল্য ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি)।

ইমাম হাকেম আবু আবদুল্লাহ এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং একে ইমাম মুসলিমের শর্তের মানদণ্ডে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন।

অনুচ্ছেদ: ২ – কারো অনুপস্থিতিতে তার জন্য দু’আ করার ফযীলাত

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلَا خُوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بالايمان.

মহান আল্লাহ বলেন:

“আর যারা তাদের পরে এসেছে তাদের জন্য দু’আ করে বলেঃ হে আমাদের রব। আমাদের ক্ষমা কর এবং আমাদের পূর্বে আমাদের যেসব ভাই ঈমান এনেছে তাদেরকেও ক্ষমা করে দাও।” (সূরা আল হাশর: ১০)

وقَالَ تَعالى : واستغفر لذنبك وللمؤمنين والمؤمنات.

“আর তোমাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্যও।” (সূরা মুহাম্মাদ : ১৯)

وقال تعالى اخباراً عَنْ إِبْرَاهِيمَ : رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَى وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ.

মহান আল্লাহ ইবরাহীম আলাইহিস সালামের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেনঃ “হে আমাদের রব। আমাকে ক্ষমা কর এবং আমাদের পিতা-মাতাকে ও সকল ঈমানদারকে ক্ষমা কর যেদিন হিসাব নেয়া হবে।” (সূরা ইবরাহীম: ৪১)

١٤٩٤ – وَعَنْ أبي الدرداء رضى اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِم يَدْعُوا لِأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ إِلَّا قَالَ الْمَلَكُ ولك بمثل – رواه مسلم.
১৪৯৪। আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাকে বলতে শুনেছেন: কোন মুসলিম বান্দা যখন তার ভাইয়ের জন্য তার অসাক্ষাতে দু’আ করে তখন ফেরেশতা বলে: তোমার জন্যও অনুরূপ।

ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٤٩٥ – وَعَنْهُ أَنْ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ دَعْوَةُ الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ لِأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ مُسْتَجَابَةٌ عِنْدَ رَأْسِهِ مَلَكَ مُوَكِّلٌ كُلَّمَا دَعَا لِأَخِيهِ بِخَيْرٍ قَالَ الْمَلَكُ الْمُؤكِّلُ بِهِ أَمِينَ وَلَكَ بِمِثْلِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪৯৫। আবুদ্ দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: ভাইয়ের অসাক্ষাতে কোন মুসলমান ব্যক্তির দু’আ তার জন্য কবুল হয়। তার মাথার কাছে একজন দায়িত্বশীল ফেরেশতা নিযুক্ত থাকেন। যখন ঐ ব্যক্তি তার ভাইয়ের কল্যাণের জন্য কোন দু’আ করে তখনই ঐ নিযুক্ত দায়িত্বশীল ফেরেশতা বলেন: আমীন, তোমার জন্যও অনুরূপ।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩ – দু’আ সম্পর্কে জরুরী জ্ঞাতব্য।

١٤٩٦ – عَنْ أَسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ فَقَالَ لِفَاعِلِهِ جَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا فَقَدْ أَبْلَغَ فِي الثنَاءِ – رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيْثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ

১৪৯৬। উসামা ইবনে যায়িদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির কিছু উপকার করা হয় এবং এর জবাবে সে উপকারকারীকে বলেঃ “জাযাকাল্লাহু খাইরান” (আল্লাহ তোমাকে ভালো প্রতিদান দিন), সে পুরোপুরি তার প্রশংসা ও বদলা দান করল।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।

١٤٩٧ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا تَدْعُوا عَلَى أَنفُسِكُمْ وَلا تَدْعُوا على أولادكُمْ وَلَا تَدْعُوا عَلَى أَمْوَالِكُمْ لا تُوَافَقُوا مِنَ اللَّهِ سَاعَةً يُسْأَلُ فِيهَا عَطَاءٌ فَيَسْتَجِيْبَ لَكُمْ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪৯৭। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা নিজেদের বদদু’আ করো না, নিজেদের সন্তানদের বদদু’আ করো না, নিজেদের সম্পদের জন্য বদদু’আ করো না। কারণ তা সেই সময়ে পড়ে যেতে পারে, যখন আল্লাহর কাছে কিছুর জন্য প্রার্থনা করলে তা কবুল হয়। এভাবে এই বদদু’আটিও তোমাদের জন্য কবুল হয়ে যেতে পারে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

١٤٩٨ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ فَاكْثَرُوا الدُّعَاءَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৪৯৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: বান্দা যখন সিজদায় থাকে তখন তার রবের সবচাইতে নিকটবর্তী হয়। কাজেই তোমরা (সিজদায় গিয়ে) বেশি করে দু’আ কর।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٤٩٩ – وَعَنْهُ أَنْ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُسْتَجَابُ لِأَحَدِكُمْ مَا لمْ يَعْجَل يَقُولُ قَدْ دَعَوْتُ رَبِّي فَلَمْ يُسْتَجَبْ لِي مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وفي رواية المسلم لا يَزَالُ يُسْتَجَابُ لِلْعَبْدِ ما لم يدع بالم أو قطيعة رحم ما لم يَسْتَعْجِلُ قَبْلَ يَا رَسُولَ الله ما الاستعجالُ قَالَ يَقُولُ قَدْ دَعَوْتُ وَقَدْ دَعَوْتُ فَلَمْ أَرَ يستجيب لي فيستَحْسِرُ عند ذلك ويَدَعُ الدُّعاء

১৪৯৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কারো দু’আ কবুল করা হয় যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে। সে বলতে থাকে: আমি আমার রবের কাছে দু’আ করেছিলাম কিন্তু তিনি আমার দু’আ কবুল করেননি।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে মুসলিমের এক বর্ণনাতে বলা হয়েছে: বান্দার দু’আ বরাবর কবুল করা হয় যতক্ষণ সে কোন গুনাহ করার বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছেদ করার দু’আ না করে এবং যতক্ষণ সে তাড়াহুড়া না করে। জিজ্ঞেস করা হলঃ হে আল্লাহর রাসূল। তাড়াহুড়া কি? তিনি বলেনঃ দু’আকারী বলতে থাকে, আমি অনেক দু’আ করেছি, (আমি বারবার দু’আ করছি) কিন্তু আমার দু’আ কবুল হতে দেখলাম না। ফলে সে নিরাশ হয়ে আফসোস করে এবং দু’আ করা ত্যাগ করে।

١٥٠٠ – وَعَنْ أَبِي أَمَامَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَبْلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أي الدعاء أسْمَعُ قَالَ جَوف الليل الآخر ودبر الصلوات المكتوبات. رواه الترمذي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৫০০। আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হলঃ কোন্ দু’আ বেশি কবুল হয়? তিনি বলেন: শেষ রাতের মধ্যকালের ও ফরয নামাযের পরের দু’আ।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান হাদীস বলেছেন।

١٥٠١ – وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا عَلَى الْأَرْضِ مُسْلِمٌ يَدْعُو اللَّهُ تَعَالَى بِدَعْوَةٍ إِلَّا آتَاهُ اللَّهُ إِيَّاهَا أَوْ صَرَفَ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلِهَا مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمِ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ إِذَنْ نُكْثَرُ قَالَ اللهُ أَكْثَرُ. رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ورواهُ الْحَاكِمُ مِنْ رِوَايَةِ أَبي سَعِيدٍ وَزَادَ فِيهِ أَوْ يَدْخِرَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلِهَا .

১৫০১। উবাদা ইবনুস সামিত (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পৃথিবীর যে কোন মুসলিম ব্যক্তি মহান আল্লাহর কাছে কোন দু’আ করলে তিনি তাকে তা দান করেন অথবা তদনুরূপ অনিষ্ট তার থেকে দূর করেন, যাবত না সে কোন গুনাহ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দু’আ করে। উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললো, এখন থেকে তাহলে তো আমরা বেশি করে দু’আ করবো।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহও বেশি করে কবুল করবেন।’

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ হাদীস বলেছেন। আর ইমাম হাকেম হাদীসটি আবু সাঈদ (রা)-র সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে আরো আছে: অথবা তার জন্য দু’আর সমান প্রতিদান জমা করে রাখেন।

١٥٠٢ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ عِنْدَ الْكَرْب لا اله الا اللهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ متفق عليه.

১৫০২। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিপদকালে বলতেন: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আজীমূল হালীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আজীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদি ওয়া রাব্বুল আরশিল কারীম (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যিনি মহান ও সহিষ্ণু। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, যিনি মহান আরশের প্রভু। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যিনি আসমানসমূহ, পৃথিবী ও মহান আরশের প্রভু)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪ – আওলিয়া কিরামের কারামত ও তাদের ফযীলাত।

قَالَ اللهُ تَعَالَى : أَلا إِنْ أَوْلِيَاءَ الله لا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ الَّذِينَ

১. দু’আ চাওয়ার জন্য এক ধরনের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন। অন্য কথায় এক ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিবেশ সৃষ্টি দু’আর জন্য পূর্বশর্ত। একে বলা হয় দু’আর আদব। হাদীসের বিভিন্ন কিতাবে দু’আর এই আদবসমূহের বিক্ষিপ্ত বর্ণনা এসেছে। এইসব বর্ণনা একত্র করলে এরূপ দাঁড়ায়। লেবাস-পোশাক, আহার-পানীয়, উপার্জনের ক্ষেত্রে হারাম পরিহার করা এবং একমাত্র আল্লাহর কাছে দু’আ করা। উযু ও প্রয়োজন হলে গোসল করে পাক-পবিত্র হওয়া ও কিবলার দিকে মুখ করা এবং দু’আর প্রথমে ও শেষে আল্লাহর প্রশংসা করা ও রাসূলের উপর দরূদ পড়া হাত দু’টি কান বরাবর উঁচু করা ও সামনের দিকে খুলে ছড়িয়ে রাখা এবং খুশু ও খুযু সহকারে বিনীতভাবে আল্লাহর দরবারে নিজের দরখাস্ত পেশ করা। মহানবী (সা) আল্লাহর বিভিন্ন নাম ও গুণাবলী সহকারে যেসব দু’আ করেছেন সেই দু’আগুলি বেশি করে করা। প্রতিটি দু’আ অন্তত তিনবার করা। এই সংগে উপরোল্লিখিত হাদীসগুলোয় যেসব শর্ত বিবৃত হয়েছে সেগুলোর প্রতি খেয়াল রাখা। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে যখন আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে দু’আ করা হয় তখন আল্লাহ অবশ্যি তা কবুল করেন।

أمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ لَا تَبْدِيلَ لكلماتِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“জেনে রাখ, আল্লাহর বন্ধুদের জন্য ভয়ের কোন কারণ নেই এবং তাদেরকে দুর্ভাবনাগ্রস্তও হতে হবে না। তারা ঈমান এনেছে ও গুনাহ থেকে দূরে থেকেছে। তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে রয়েছে সুসংবাদ। আল্লাহর কথার কোন পরিবর্তন হয় না। এই বিঘোষিত সংবাদ অবশ্যি বিরাট সাফল্যের প্রতীক।” (সূরা ইউনুস: ৬২)

وقال تعالى : وَهُوَى إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكَ رُطَبًا جَنِيًّا. فَكُلِي وَأَشْرَبَى وَقَرَى عَيْنًا.

“আর খেজুরের ঐ কাণ্ডটি নিজের দিকে ধরে নাড়া দাও, তা থেকে তোমার জন্য পড়বে তরতাজা খোর্মা। কাজেই তা তুমি খাও ও পানি পান কর এবং চোখ শীতল কর।” (সূরা
মারইয়াম : ২৫)

وقال تعالى : كُلَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيَّا الْمِحْرَابِ وَجَدَ عِنْدَهَا رِزْقًا قَالَ يَا مَرْيَمُ أَنَّى لَكِ هُذَا قَالَتْ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَرْزُقُ مَنْ يُشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ.

“যখনই যাকারিয়া তার কাছে ইবাদতখানায় আসতো তার কাছে দেখত কিছু খাদ্য। সে জিজ্ঞেস করত, হে মারইয়াম! এসব তোমার কাছে এলো কোথা থেকে? সে বলতো, এ তো আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ যাকে চান তাকে রিযক দান করেন বেহিসাব।” (সূরা আলে ইমরান: ৩৮)

وقال تعالى : وإِذِ اعْتَزَلْتُمُوهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ إِلا اللَّهَ فَأَوْا إِلَى الْكَهْفِ يَنْشُرُ لَكُمْ رَبُّكُم مِنْ رَّحْمَتِه ويُهيى لَكُمْ مِنْ أَمْرِكُم مرفقًا. وَتَرَى الشمس اذا طلعت تَزَاوَرُ عَنْ كَهْفِهِمْ ذَات اليمين واذا غَرَبَتْ تَقْرِضُهُمْ ذَاتَ الشِّمَال.

“আর যখন তোমরা (আসহাবে কাহফ) তাদের থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছো এবং আল্লাহ ছাড়া তাদের অন্যান্য মাবুদদের থেকেও, কাজেই এখন তোমরা (অমুক) গুহার মধ্যে গিয়ে আশ্রয় নাও। তোমাদের উপর তোমাদের রব তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেবেন এবং তোমাদের জন্য তোমাদের কাজে সাফল্যের সরঞ্জাম করে দেবেন। আর তুমি তাদেরকে গুহার ভেতরে দেখতে পারলে দেখতে, সূর্য যখন উদয় হয় তখন তাদের গুহা ছেড়ে ডান দিক থেকে উপরে উঠে যায় এবং যখন সূর্য অস্ত যায় তখন তাদের থেকে আড়ালে থেকে বাম দিকে নেমে যায়।” (সূরা আল-কাহফঃ ১৬)

١٥٠٣ – وَعَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرِ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أن أَصْحَابَ الصَّفَةِ كَانُوا أَنَاسًا فُقَرَاءَ وَأنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَرَّةٌ مَنْ كَانَ عِندَهُ طَعَامُ اثْنَيْنِ فَلْيَذْهَبُ بِثَالِثٍ وَمَنْ كَانَ عِنْدَهُ طَعَامُ أَرْبَعَةٍ فَلْيَذْهَبْ بخامس بسادس أَوْ كَمَا قَالَ وَأَن أَبا بكر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ جَاءَ بِثَلَاثَةٍ وَانْطَلَقَ النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَشْرَةٍ وَأَنْ أَبَا بَكْرٍ تَعَشَى عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ لَبِثَ حَتَّى صَلَّى الْعِشَاءَ ثُمَّ رَجَعَ فَجَاءَ بَعْدَ مَا مَضَى مِنَ اللَّيْلِ ما شَاءَ اللهُ قَالَتْ لَهُ امْرَأَتُهُ مَا حَبَسَكَ عَنْ أَضْيَافَكَ قَالَ أَوْ مَا عَشِيْتِهِمْ قَالَتْ أَبَوْا حَتَّى تَجِي، وَقَدْ عَرَضُوا عَلَيْهِمْ قَالَ فَذَهَبْتُ أَنَا فَاخْتَبَأْتُ فَقَالَ يَا غُنْقَرُ فَجَدْعَ وَسَب وَقَالَ كُلُوا هَنِيئًا والله لا أَطْعَمُهُ أَبْدًا قَالَ وَايْمُ اللَّهِ مَا كُنَّا نَأْخُذُ مِنْ لقمة إلا ربا مِنْ أَسْفَلِهَا أَكْثَرَ مِنْهَا حَتَّى شَبِعُوا وَصَارَتْ أَكْثَرَ مِمَّا كَانَتْ قَبْلَ ذلك فنظرَ إِلَيْهَا أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ لِإِمْرَأَتِهِ يَا أُخْتَ بَنِي فِرَاسٍ مَا هَذَا ؟ قَالَتْ لَا وقرة عَيْنِي لهي الآنَ أَكْثَرُ مِنْهَا قَبْلَ ذلكَ بِثَلَاثِ مَرَّاتٍ فَأَكَلَ مِنْهَا أَبُو بَكْرٍ وَقَالَ إِنَّمَا كَانَ ذلكَ مِنَ الشَّيْطَانِ يَعْنِي يَمِينَهُ ثُمَّ أَكَلَ مِنْهَا لُقْمَةً ثُمَّ حَمَلَهَا إِلَى النبي صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَصْبَحَتْ عِنْدَهُ وَكَانَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمٍ عَهْدٌ فَمَضَى الأجَلُ فَتَفَرَّقْنَا اثْنَى عَشَرَ رَجُلاً مَعَ كُلِّ رَجُلٍ مِّنْهُمْ أَنَاسُ اللَّهُ أَعْلَمُ كَمْ مَعَ كُلِّ رَجُلٍ فَأَكَلُوا مِنْهَا أَجْمَعُونَ.
وَفِي رِوَايَةٍ فَخَلَفَ أَبُو بَكْرٍ لا يَطْعَمُهُ فَخَلَفَتِ الْمَرْأَةُ لَا تَطْعَمُهُ فَخَلَفَ الضُّيْفُ أَوِ الْأَضْيَافُ أَنْ لَا يَطْعَمَهُ أَوْ يَطْعَمُوهُ حَتَّى يَطْعَمَهُ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ هَذِهِ مِنَ الشَّيْطَانِ فَدَعَا بِالطَّعَامِ فَأَكَلَ وَأَكلُوا فَجَعَلُوا لَا يَرْفَعُونَ لُقْمَهُ إِلَّا رَبَتْ مِنْ أَسْفَلِهَا أَكْثَرَ مِنْهَا فَقَالَ يَا أُخْتَ بَنِي فِرَاسٍ مَا هُذَا ؟ فَقَالَتْ وَقُرَّةٍ عَيْنِي إِنَّهَا الْآنَ لَأَكْثَرُ مِنْهَا قَبْلَ أَنْ يَأْكُلَ فَاكَلُوا وَبَعَثَ بِهَا إِلى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ أنه أكل منها .
وفي رواية إِنْ أَبَا بَكْرٍ قَالَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ دُونَكَ أَضْيَافَكَ فَإِنِّي مُنطَلِقُ إِلَى النَّبِيِّ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاخْرُغْ مِنْ قَرَاهُمْ قَبْلَ أَنْ أَجِي، فَانْطَلَقَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَآتَاهُمْ بِمَا عِنْدَهُ فَقَالَ اطْعَمُوا فَقَالُوا ابْنَ رَبُّ مَنْزِلِنَا قَالَ اطْعَمُوا قَالُوا مَا نَحْنُ باكلين حَتَّى يَجِيَّ رَبُّ منزلنَا قَالَ اقْبَلُوا عَنَّا قِرَاكُمْ فَإِنَّهُ إِنْ جَاءَ وَلَمْ تَطْعَمُوا لتَلْقَينُ مِنْهُ فَأَبَوْا فَعَرَفْتُ أَنَّهُ يَجِدُ عَلَى فَلَمَّا جَاءَ تَنَحيْتُ عَنْهُ فَقَالَ مَا صَنَعْتُمْ فَأَخْبَرُوهُ فَقَالَ يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ فَسَكَتْ ثُمَّ قَالَ يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ فَسَكَتْ فَقَالَ يَا غنر اقسمْتُ عَلَيْكَ إِن كُنتَ تَسْمَعُ صَوْتِي لَمَا جِئْتَ فَخَرَجْتُ فَقُلْتُ سَلْ أضيَافَكَ فَقَالُوا صَدَقَ آتَانَا بِهِ فَقَالَ إِنَّمَا انْتَظَرتُمُونِي وَالله لَا أَطْعَمُهُ اللَّيْلَة فَقَالَ الْآخَرُونَ وَالله لا نَطْعَمُهُ حَتَّى تَطْعَمَهُ فَقَالَ وَيْلَكُم مَا لَكُمْ لَا تَقْبَلُوْنَ عَنَّا قراكم هات طَعَامَكَ فَجَاءَ بِهِ فَوَضَعَ يَدَهُ فَقَالَ بِسم الله الأولى مِنَ الشَّيْطَانِ فاكل واكلوا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. قَوْلُهُ غَنْشَرَ وَهُوَ الْغَبِيُّ الْجَاهِلُ وَقَوْلُهُ فَجَدْعَ أَي شتَمَهُ وَالْجَدْعُ الْقَطْعُ وَقَوْلُهُ يَجِدُ عَلَى بَغْضَبُ.

১৫০৩। আবু বাক্স আস্ সিদ্দীক (রা)-র পুত্র আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। আসহাবে সুফফা ছিলেন একান্তই দরিদ্র অভাবী লোক। তাই একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যার কাছে দুইজনের খাদ্য আছে সে যেন তার সাথে তৃতীয় জনকে নিয়ে খায় এবং যার কাছে চারজনের খাবার আেেছ সে যেন তার সাথে পঞ্চম ও ষষ্ঠজনকে নিয়ে খায় অথবা তিনি অনুরূপ কথা বলেছেন। কাজেই আবু বাক্স (রা) তিন ব্যক্তিকে তাঁর সংগে করে নিয়ে গেলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সংগে নিলে দশ ব্যক্তিকে। আবু বাক্স (রা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রাতের খাবার খেলেন, তারপর তাঁর সাথে অবস্থান করলেন ও ইশার নামায পড়লেন। তারপর তিনি সেখান থেকে বাড়ি ফিরলেন। তখন রাখের একটা অংশ যতটুকু আল্লাহ চান অতিবাহিত হয়ে গিয়েছিল। তাঁর স্ত্রী বললেন, মেহমানদের ছেড়ে আবার কোথায় গিয়েছিলেন? তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি মেহমানদের আহার করাওনি? স্ত্রী জবাব দিলেন, তাঁরা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যে, আপনি না আসা পর্যন্ত তাঁরা খাবেন না। অথচতাঁদেরকে বারবার আরয করা হয়েছিল। আবদুর রহমান বললেন, আমি ভয়ে আত্মগোপন করেছিলাম। আবু বাকর (রা) বললেন, ওহে নির্বোধ। তারপর তিনি যারপর নাই তাকে তিরস্কার করতে লাগলেন। অতঃপর তিনি (মেহমানদের বললেন), আপনারা তৃপ্তি সহকারে খেয়ে নিন। আল্লাহর কসম। আমি খাব না। আবদুর রহমান বললেন, আল্লাহর কসম, আমরা যখনি কোন লোকমা গ্রহণ করতাম তার নিচে থেকে তা আরো বেশি বেড়ে উপরে এসে যেত। এমনকি সবাই পেট ভরে আহার করল। এদিকে খাবার আগের চাইতে অনেক বেশি বেড়ে গেল। আবু বাক্স (রা) তা দেখে তাঁর স্ত্রীকে বললেন, হে বনী ফিরাসের বোন, এ কি ব্যাপার। তিনি জবাব দিলেনঃ না, না আমার চোখের শীতলতার (প্রশান্তি) শপথ। এ তো দেখছি এখন আগের চাইতে তিন গুণ বেশি হয়ে গেছে। কাজেই আবু বাক্স তা থেকে খেলেন। তারপর বললেনঃ তা (তার আগের কসমটি) ছিল শয়তানের পক্ষ থেকে। তারপর তিনি তা থেকে এক লোক্কা খেলেন এবং বাকি সবটুকু উঠিয়ে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে এলেন। ঐ খাবারগুলি তাঁর কাছে পড়ে রইল। একটি গোত্রের সাথে আমাদের সন্ধিচুক্তি ছিল। চুক্তির সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বারজনকে গোয়েন্দা নিযুক্ত করলেন এবং (এই বারজনের) প্রত্যেকের সাথে কয়েকজন করে লোক ছিল। আল্লাহই জানেন তাদের প্রত্যেকের সাথে কতজন করে লোক ছিল। তারা সবাই ঐ খাবার পেট ভরে খেল।

অন্য এক রিওয়ায়াতে বলা হয়েছেঃ তখন আবু বাক্স (রা) কসম খেলেন যে, তিনি খাবার খাবেন না। তার স্ত্রীও কসম খেলেন যে, তিনিও খাবার খাবেন না। মেহমানরাও কসম খেলেন যে, তারাও খাবার খাবেন না যে পর্যন্ত না আবু বাক্স খাবার খান। এ অবস্থায় আবু বাক্ (রা) বলেন, এটা (কসম) ছিল শয়তানের পক্ষ থেকে। কাজেই তিনি খাবার আনলেন। তিনি নিজে খেলেন এবং মেহমানরাও খেলেন। তাঁরা এক লোকমা খাবার উঠাতে না উঠাতেই তার নিচে দিয়ে তার চেয়ে বেশি হয়ে যেত। আবু বাক্স (তাঁর স্ত্রীকে) বললেন, হে বনী ফিরাসের বোন, একি ব্যাপার। তিনি বললেন, আমার চোখের শীতলতার শপথ। এ তো দেখছি এখন আমাদের খাবার আগের চাইতে অনেক বেশি হয়ে গেছে। কাজেই সবাই খেলেন এবং (বাদবাকি) খাবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে পাঠিয়ে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে খেয়েছেন।

অন্য এক রিওয়ায়াতে আছে: আবু বাক্স (রা) আবদুর রহমানকে বললেন, তুমি তোমার এই মেহমানদের দেখাশুনা কর। আমি একটু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যাচ্ছি। আমার আসার আগেই তুমি এদের মেহমানদারি শেষ করে ফেলবে। কাজেই আবদুর রহমান বাড়ী চললেন এবং তাঁর কাছে (অর্থাৎ ঘরে) যা কিছু ছিল মেহমানদের সামনে এনে হাযির করলেন। তিনি (মেহমানদের) বললেন, খেয়ে নিন। মেহমানরা জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের গৃহস্বামী কোথায়? আবদুর রহমান বললেন, আপনারা খেয়ে নিন। তাঁরা বললেন, আমাদের গৃহস্বামী না আসা পর্যন্ত আমরা খাব না। আবদুর রহমান বললেন, আমাদের পক্ষ থেকে মেজবানী কবুল করুন। কারণ যদি আবু বাক্স এসে পড়েন এবং তখনো পর্যন্ত আপনারা খাবার না খেয়ে থাকেন তাহলে তাঁর থেকে আমাদের কষ্ট পোহাতে হবে। তবুও তাঁরা খেতে অস্বীকার করলেন। আমি বুঝতে পারলাম যে, আজ আমার উপর তিনি চটে যাবেন। তারপর যখন আবু বাক্স এলেন, আমি সরে পড়লাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা (মেহমানদের ব্যাপারে) কি করলে? ঘরের লোকেরা তাঁকে মেহমানদের না খেয়ে থাকার কথা জানিয়ে দিল। তিনি ডাক দিলেনঃ হে আবদুর রহমান। আমি কোন সাড়া দিলাম না। তারপর আবার ডাক দিলেনঃ হে আবদুর রহমান! তবুও আমি কোন জবাব দিলাম না। এবার তিনি ডাক দিলেন, ওরে নির্বোধ, আমি তোকে কসম দিয়ে বলছি, আমার কথা শুনে থাকলে চলে আয়। আমি বের হয়ে এলাম এবং বললাম, আপনার মেহমানদের জিজ্ঞেস করুন। তারা বললেন, যথার্থই, সে আমাদের কাছে খাবার এনেছিল। তিনি বললেন, তোমরা আমার জন্য অপেক্ষা করেছ। আল্লাহর কসম, আমি আজ রাতে খাবার খাব না। এ কথা শুনে তাঁরা সবাই বললেন, আল্লাহর কসম, আপনি না খেলে আমরাও খাব না। তখন তিনি বললেন, হায় আফসোস। জানি না তোমাদের কি হয়েছে, তোমরা আমাদের মেহমানদারি কবুল করছ না কেন? খাবার আন। অতঃপর খাবার আনা হল এবং আবু বাক্স (রা) খাবারে নিজের হাত রাখলেন, তারপর বললেন: বিসমিল্লাহ। আগেরটা (কসম খাওয়া) ছিল শয়তানের পক্ষ থেকে। অতঃপর তিনি আহার করলেন এবং অন্য সবাই আহার করলেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। এ হাদীসে উল্লেখিত “গুনসার” শব্দটির অর্থ নিরেট মূর্খ। আর “জাদ্দাআ” অর্থ তাকে যা তা বলল বা বকাবকি করল। তবে “জাদৃস্ট” অর্থ কামড়ে দেয়া। আর “ইয়াজিদু আলাইয়্যা” অর্থ আমার উপর রাগ করবে। [ টিকা: বাক্যটি হাদীস বর্ণনাকারীর অত্যধিক তাকওয়ার পরিচয় বহন করে। তাদের বর্ণনার ক্ষেত্রে কোন সন্দেহ বা সংশয়ের অংশ এতে নেই, বরং তিনি যেমনটি শুনেছেন তেমনটি বলেছেন। ফলে এটি তাঁর বর্ণনার নির্ভুলতাকেই শক্তিশালী করে বেশি।]

١٥٠٤ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ كَانَ فِيمَا قَبْلَكُمْ مِنَ الْأُمَمِ نَاسٌ مُحَدِّثُونَ فَإِنْ يُكَ فِي أُمَّتِي أَحَدٌ فَإِنَّهُ عُمَرُ – رَوَاهُ الْبُخَارِي وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ مِنْ رِوَايَةِ عَائِشَةَ وَفِي رِوَايَتِهِمَا قَالَ ابْنُ وَهْبٍ مُحَدِّثُونَ أَي مُلْهَمُونَ.

১৫০৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের আগের উম্মাতের মধ্যে অনেক “মুহাদ্দাস” হত। আমার উম্মাতের মধ্যে যদি কোন ব্যক্তি “মুহাদ্দাস” হয় তাহলে সে হবে উমার।

ইমাম বুখারী এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আর ইমাম মুসলিম আয়িশা (রা)-র সূত্রে এটি রিওয়ায়াত করেছেন। তাঁদের উভয়ের (বুখারী ও মুসলিম) রিওয়ায়াতে ইবনে ওয়াহ্ব বলেছেন, মুহাদ্দাস তাদেরকে বলা হয় যাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘ইলহাম’ হয়।

١٥٠٥ – وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ شَكَا أَهْلُ الْكُوفَةِ سَعْدًا يَعْنِي ابْنَ أَبِي وَقَاصِ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ فَعَرْلُهُ وَاسْتَعْمَلَ عَلَيْهِمْ عَمَّارًا فَشَكَوْا حَتَّى ذَكَرُوا أَنَّهُ لَا يُحْسِنُ يُصَلِّى فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَقَالَ يَا أَبَا إِسْحَاقَ إِنَّ هؤلاء يَزْعُمُونَ أَنَّكَ لَا تُحْسِنُ تُصَلَّى فَقَالَ أَمَا أَنَا وَاللَّهِ فَإِنِّي كُنْتُ أَصَلِّي بِهِمْ صلاةَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا أُخْرِمُ عَنْهَا أَصَلِّي صَلاةَ الْعِشَاءِ فَارْكَدُ فِي الأوليين وأخف في الأخريين قال ذلك الظَّنِّ بِكَ يَا أَبَا إِسْحَاقَ وارسل مَعَهُ رَجُلاً أَو رِجَالاً إلى الْكُوفَةِ يَسْأَلُ عَنْهُ أَهْلَ الْكُوفَةِ فَلَمْ يَدَعُ مَسْجِدًا إِلا سَأَلَ عَنْهُ وَيَشْنُونَ مَعْرُوفًا حَتَّى دَخَلَ مَسْجِدًا لِبَنِي عَبْسٍ فَقَامَ رَجُلٌ مِنْهُمْ يُقَالُ لَهُ أسَامَةُ بْنُ قَتَادَة يُكنى أبا سعدة فَقَالَ أما اذ نشدتنَا فَإِنْ سَعْدًا كَانَ لَا يَسِيرُ بالسرية ولا يُقسم بالسوية ولا يَعْدِلُ في القَضِيَّةِ قَالَ سَعْدٌ أَمَا وَاللَّهِ لَأَدْعُونَ بثلاث اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ عَبْدُكَ هُذَا كَاذِبًا قَامَ رِيَاءٌ وَسُمْعَةٌ فَأَطِلٌ عُمْرَهُ وَأَطِلُ فَقْرَهُ وَعَرَضُهُ الْفِتَنِ ووَكَانَ بَعْدَ ذلك اذا سُئِلَ يَقُولُ شَيْخٌ كَبِيرٌ مَفْتُونَ أَصَابَتْنِي دَعْوَةٌ سعد. قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْر الراوى عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةً فَأَنَا رَأَيْتُهُ بَعْدُ قَدْ سَقَط حَاجَبَاهُ عَلَى عَيْنَيْهِ مِنَ الْكَبْرِ وَإِنَّهُ لَيَتَعَرَّضُ لِلْجَوَارِي فِي الطَّرقِ فَيَعْمَرُهُنَّ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৫০৫। জাবির ইবনে সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কৃষ্ণাবাসীরা সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা)-র বিরুদ্ধে উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)-র কাছে অভিযোগ করল। তিনি তাকে অপসারণ করে আম্মার (রা)-কে তাদের শাসক নিযুক্ত করলেন। তারা অভিযোগ করলো যে, সা’দ (রা) নামায উত্তমরূপে পড়ান না। কাজেই উমার (রা) দূত পাঠালেন সা’দের কাছে। তিনি (সা’দকে) বললেন, হে আবু ইসহাক! কুফাবাসীদের মতে তুমি নামায ভাল করে পড়াও না। সা’দ জবাব দিলেন, আমি তো, আল্লাহর কসম, তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো নামায পড়াই, তার মধ্যে আমি কোন কমতি করি না। আমি তাদেরকে মাগরিব ও ইশার নামায পড়াই। এর প্রথম দুই রাক’আত লম্বা ও শেষ দুই রাক’আত হালকা করি। উমার (রা) বলেন, হে আবু ইসহাক। তোমার ব্যাপারে আমারও এই ধারণা ছিল। তিনি সা’দের সাথে একজন বা কয়েকজন লোককে কৃষ্ণায় পাঠালেন কুফাবাসীদের কাছে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। কাজেই তারা কোন একটি মসজিদেও তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ছাড়লেন না। সব মসজিদের লোকই তার প্রশংসা করলো। অবশেষে তারা বনী আক্স-এর মসজিদে এলেন। সেখানে মসজিদের লোকদের মধ্য থেকে একজন দাঁড়ালো, তার নাম ছিল উসামা ইবনে কাতাদা এবং ডাকনাম ছিল আবু সা’দ। সে বললো, যখন আমাদের জিজ্ঞাসাই করা হয়েছে (তাই বলছি) সা’দ কখনো কোন সেনাদলের সাথে (যুদ্ধে) যান না এবং গনীমতের মালও সমানভাবে বণ্টন করেন না, আর রাষ্ট্রীয় ব্যাপারেও ন্যায়বিচার করেন না। সা’দ (রা) বলেন, আল্লাহর কসম। আমি তিনটি বদদু’আ দেবো। (এ সময় সা’দ (রা) আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন এবং বললেন) হে আল্লাহ। যদি তোমার এই বান্দা মিথ্যুক হয়ে থাকে এবং লোক দেখাবার ও খ্যাতি লাভ করার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে তার আয়ু দীর্ঘ করে দাও, তার দারিদ্রদ্র্য ও অনাহারকে দীর্ঘ করে দাও এবং তাকে ফিতনার মদ্যে নিক্ষেপ করো। কাজেই এই বদদু’আর পর যখন সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হতো, সে বলতোঃ বুড়ো ঘুরঘুরে বুড়ো, ফিতনার মধ্যে ডুবে গেছে, আমাকে সা’দের বদদু’আ লেগেছে। বর্ণনাকারী আবদুল মালিক ইবনে উমাইর (রা) জাবির ইবনে সামুরা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। জাবির বলেন, আমি তাকে দেখেছি। বুড়ো হবার কারণে তার চোখের পাতা চোখের উপর ঝুলে পড়েছিল এবং সে পথেঘাটে যুবতী মেয়েদেরকে উত্যক্ত করতো ও তাদেরকে চোখে
ইশারা করতো।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٠٦ وَعَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُقَيْلِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ خَاصَمَتْهُ أَرْوَى بِنتُ أَوْسِ إِلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ وَادْعَتْ أَنَّهُ أَخَذَ شَيْئًا مِنْ أَرْضِهَا فَقَالَ سَعِيدٌ أنا كُنتُ أَخُذُ مِنْ أَرْضِهَا شَيْئًا بَعْدَ الَّذِي سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَاذَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وسلم قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ أَخَذَ شَيْرًا مِنْ الْأَرْضِ ظُلْمًا طَوْقَهُ إِلَى سَبْعِ أَرَضِينَ فَقَالَ لَهُ مَرْوَانُ لَا أَسْأَلُكَ بَيِّنَهُ بَعْدَ هُذَا فَقَالَ سَعِيدُ اللَّهُمَّ إِنْ كَانَتْ كَاذِبَةً فَأَعْمِ بَصَرَهَا وَأَقْتُلْهَا فِي أَرْضِهَا قَالَ فَمَا مَانَتْ حَتَّى ذَهَبَ بَصَرُهَا وَبَيْنَمَا هِيَ تَمْشِي فِي أَرْضِهَا إِذْ وَقَعَتْ فِي حُفْرَةٍ فَمَاتَتْ مُتفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِم عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَبِمَعْنَاهُ وَأَنَّهُ رَأَهَا عَمْيَاءَ تَلْتَمِسُ الْجُدُرَ تَقُولُ أَصَابَتْنِي دَعْوَةُ سَعِيدٍ وَأَنَّهَا مَرْتُ على بشر في الدارِ الَّتِي خَاصَمَتَهُ فِيهَا فَوَقَعَتْ فِيهَا فَكَانَتْ قَبْرَهَا .

১৫০৬। উরওয়া ইবনুষ যুবাইর (র) থেকে বর্ণিত। (সাঈদ ইবনে যায়িদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল (রা)-র সাথে আরওয়া বিনতে আওসের বিবাদ বাধে এক খণ্ড জমি নিয়ে।) আরওয়া বিনে আওস মারওয়ান ইবনুল হাকামের (মদীনার তদানীন্তন শাসক) কাছে সাঈদ ইবনে যায়িদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। সে অভিযোগ আনে যে, সাঈদ তার জমির কিছু অংশ গ্রাস করে নিয়েছেন। (এ অভিযোগের জবাবে) সাঈদ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমি যা শুনেছি তার পরও তার জমির কিছু অংশ আমি গ্রাস করব! মারওয়ান জিজ্ঞেস করলেন, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কি শুনেছেন? সাঈদ (রা) জবাব দিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি যুলম করে কারো এক বিঘত জমিও নেবে (কিয়ামাতের দিন) তার গলায় সাত পরত জমির বেড়ী পরিয়ে দেয়া হবে। মারওয়ান তাকে বলেন। ব্যাস, এরপর আমি আপনার কাছে আর দলীল-প্রমাণ চাই না। সাঈদ বলেন, হে আল্লাহ! এ মহিলা (আরওয়া বিনতে আওস) মিথ্যাবাদী হলে তার চোখ অন্ধ করে দাও এবং তাকে তার জমিতেই নিহত কর। উরওয়া ইবনুয যুবাইর বলেন, এ মহিলা অন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মরেনি। এক দিন সে (অন্ধ অবস্থায়) তার জমি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি গর্তে পতিত হয়ে মারা যায়।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম মুহাম্মাদ ইবনে যায়িদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমার থেকে এই বিষয়বস্তু সম্বলিত অন্য একটি রিওয়ায়াত উদ্ধৃত করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে যায়িদ্র তাকে (আরওয়া বিনতে আওসকে) অন্ধ অবস্থায় দেখেছেন। সে দেওয়াল ধরে ধরে চলছিল এবং বলছিল, আমাকে সাঈদের বদদু’আ লেগেছে। সে ঐ বিরোধমূলক জমি দিয়ে যাওয়ার সময় তথাকার একটি কূপের মধ্যে পড়ে যায় এবং সেটিই তার কবর হল।

١٥٠٧ – وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا حَضَرَتْ أَحَدٌ دَعَانِي أبي مِنَ اللَّيْلِ فَقَالَ مَا أراني الا مقتولاً في أول مَنْ يُقْتَلُ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا أَتْرَكَ بَعْدِى أَعَزُّ عَلَى مِنْكَ غَيْرِ نَفْسٍ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنَّ عَلَى دَيْنًا فَاقْضِ وَاسْتَوص بِأَخَوَاتِكَ خَيْرًا فَأَصْبَحْنَا فَكَانَ أول قتيل وَدَفَنَتُ مَعَهُ أَخَرَ فِي قَبْرِهِ ثُمَّ لَمْ تَطِبْ نَفْسِي أَنْ أَتْرَكَهُ مَعَ أَخَرَفَاسْتَخْرَجْتُهُ بَعْدَ سِتَّةِ أَشْهُرٍ فَإِذَا كَيَوْمٍ وَضَعْتُهُ غَيْرَ أَذْنِهِ فَجَعَلْتُهُ فِي قَبْرِ عَلَى حدة – رَوَاهُ الْبُخَارِي.

১৫০৭। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধ এসে গেলে সেই রাতে আমার আব্বা আমাক ডেকে বললেন, আমার মনে হয় নবী সাল্লাল্লাম আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে (আগামী কালের যুদ্ধে) আমিই সর্বপ্রথম শহীদ হব। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাম আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর তুমিই আমার সর্বাধিক প্রিয়। আমার উপর কিছু ঋণের বোঝা আছে, তা তুমি পরিশোধ করবে এবং তোমার বোনদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে। কাজেই সকালে (যুদ্ধ শুরু হলে) তিনিই সর্বপ্রথম শহীদ হন। আমি আর একজন শহীদকে তার সাথে একই কবরে দাফন করলাম। অপর ব্যক্তির সাথে একত্রে তাকে কবর দেয়ায় আমার মনে শান্তি পেলাম না। তাই ছয় মাস পর আমি তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিলাম। তখনও তিনি ঠিক তেমনটিই ছিলেন যেমনটি সেখানে রাখার দিন ছিলেন, কেবল তাঁর কানটি ছাড়া (তাকে সামান্য যা ছিল)। আমি তাকে আলাদা কবরে দাফন করলাম।

١٥٠٨ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلَيْنِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجًا مِنْ عِندِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي لَيْلَةٍ مُظْلِمَةٍ وَمَعَهُمَا مثل المِصْبَاحَينِ بَيْنَ أَيْدِيهِمَا فَلَمَّا افْتَرَقَا صَارَ مَعَ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا وَاحِدٌ حَتَّى أتى أهلهُ – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ مِنْ طَرقٍ وَفِي بَعْضِهَا أَنَّ الرَّجُلَيْنِ أَسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ وَعَبَّادُ بْنُ بِشْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا .

১৫০৮। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু’জন সাহাবী এক অন্ধকার রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে বের হলেন। তাদের দু’জনের সামনে চলছিল প্রদীপের মতো দু’টি আলো। তারা দু’জন আলাদা হয়ে গেলে তাদের প্রত্যেকের সাথে একটি করে প্রদীপ হয়ে গেল। এভাবে তারা নিজেদের ঘরে পৌঁছে গেলেন। [টিকা:ইমাম বুখারী এক রিওয়ায়াতে এ ঘটনাটি যেভাবে উল্লেখ করেছেন, তাতে বিষয়টা আরো সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। অর্থাৎ উসাইদ ইবনে হুদাইর (রা) ও আব্বাদ ইবনে বিশর (রা) একবার অনেক রাত পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাম আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে হাজির ছিলেন। গভীর রাতে তাঁরা নিজেদের বাড়িতে রওয়ানা হন। রাত ছিল ভীষণ আঁধার। দু’জনের হাতে ছিল দু’টি লাঠি। একজনের লাঠি উজ্জ্বল হয়ে গেল। সেই আলোয় পথ পরিষ্কার দেখা যেতে লাগলো। তারপর দু’জনের পথ আলাদা হয়ে গেলে অন্যজনের লাঠিটিও আলোকিত হল। এভাবে তাঁরা নিজেদের লাঠির আলোয় বাড়ি পৌঁছে গেলেন।]

ইমাম বুখারী বিভিন্ন সনদ সূত্রে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। এ রিওয়ায়াতগুলির কোন কোনটিতে বলা হয়েছে যে, ঐ দু’জন সাহাবীর একজন ছিলেন উসাইদ ইবনে হুদাইর (রা) এবং অন্যজন আব্বাদ ইবনে বিশ্বর (রা)।

١٥٠٩ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرَةَ رَهْطٍ عَيْنًا سَرِية وأمرَ عَلَيْهِمْ عَاصِم بن ثابت الأنصاري فانطلقوا حتى اذا كانوا بالهداة بين عُسفان ومكة ذكروا لحي مِنْ هَذَيْلٍ يُقَالُ لَهُمْ بَنُو لحْيَانَ فَتَفَرُوا لَهُمْ بِقَرِيبٍ مِنْ مِائَةِ رَجُلٍ رَامٍ فَاقْتَصُوا أَثَارَهُمْ فَلَمَّا أَحَسٌ بِهِمْ عاصم وأصْحَابُهُ لجؤوا إلى موضع فَأَحَاطَ بِهِمُ الْقَوْمُ فَقَالُوا انْزِلُوا فَاعْفُوا بِأَيْدِيكُمْ وَلَكُمُ الْعَهْدُ وَالْمِبْشَاقُ أن لا نَقْتُلَ مِنْكُمْ أَحَدًا فَقَالَ عَاصِمُ بْنُ ثَابِتٍ أَيُّهَا الْقَوْمُ أَمَّا أَنَا فَلا أُنزِلُ عَلَى ذِمَّةٍ كَافِرِ اللَّهُمَّ أَخْبِرُ عَنَّا نَبِيِّكَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَمَوهُم بالنبل فقَتَلُوا عاصما ونزل اليهم ثلاثةُ نَفَرٍ عَلَى الْعَهْدِ والْمِيثَاقِ مِنْهُمْ خُبَيْبٌ وَزَيْدُ بْنُ الدِّينَةِ وَرَجُلٌ آخَرُ فَلَمَّا اسْتَمْكَنُوا مِنْهُمْ أَطْلَقُوا أوتار قسبهم فربطوهُمْ بِهَا قَالَ الرَّجُلُ الثالث هذا أول الْغَدْرِ وَاللَّهِ لَا أَصْحَبُكُمْ إِنَّ لِي يهولاء أسوة يُرِيدُ الْقَتْلَى فَجَرُوهُ وَعَالِجُوهُ فَأَبَى أَنْ يُصْحَبَهُمْ فَقَتَلُوهُ وانطلقوا بحبيب وَزَيْدِ بْنِ الدِّينَةِ حَتَّى بَاعُوهُمَا بِمَكَّةَ بَعْدَ وَقْعَةِ بَدْرٍ فَابْتَاعَ بَنُو الْحَارِثِ بْنِ عَامِرِ ابْنِ نَوْفَلِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ خُبَيْبًا وَكَانَ خُبَيْبٌ هُوَ قَتَلَ الْحَارِثِ يَوْمَ بَدْرٍ فَلَبِثَ خُبَيْبٌ عِنْدَهُمْ أسيرًا حَتَّى اجْمَعُوا عَلَى قَتْلِهِ فَاسْتَعَارَ مِنْ بَعْضٍ بنات الحارث مُوسَى يَسْتَحِد بِهَا فَأَعَارَتْهُ فَدَرَجَ بَنَى لَهَا وَهِيَ غَافِلَةٌ حَتَّى آتَاهُ فَوَجَدَتْهُ مُجلِسَهُ على فخذه والمُوسى بيده ففَرْعَتْ فَرْعَةٌ عَرَفَهَا خُبَيْبٌ فَقَالَ اتخشين أن اقْتُلَهُ مَا كُنتُ لَأَفْعَلَ ذَلِكَ قَالَتْ وَالله مَا رَأَيْتُ أسيراً خَيْرًا مِنْ حبيب فوَ الله لَقَدْ وَجَدْتُهُ يَوْمًا يَأْكُلُ قَطْفًا مِنْ عَنَبٍ فِي يَدِهِ وَأَنَّهُ لَمُوثَقٌ بِالْحَدِيدِ وما بمكة مِنْ ثَمَرَةٍ وَكَانَتْ تَقُولُ إِنَّهُ لرِزْقٌ رَزَقَهُ اللَّهُ خُبَيْبًا فَلَمَّا خَرَجُوا بِهِ مِنَالْحَرَمِ لِيَقْتُلُوهُ فِي الْحِلِّ قَالَ لَهُمْ خُبَيْبٌ دَعُونِي أَصَلِّي رَكْعَتَيْنِ فَتَرَكُوهُ فَرَكَعَ ركْعَتَيْنِ فَقَالَ وَاللهِ لَوْلا أَنْ تَحْسَبُوا أَنَّ مَا بِي جَزَعَ لَزِدْتُ اللَّهُمَّ أَحْصِهِمْ عَدَدَا واقتلهم بدداً وَلَا تُبْقِ مِنْهُمْ أَحَداً وَقَالَ :
فَلَسْتُ أَبَالِي حِيْنَ أَقْتَلُ مُسْلِمًا * عَلَى أَي جَنَّبٍ كَانَ لِلَّهِ مَصْرَعِي. وَذَلِكَ فِي ذَاتِ الْإِلَهِ وَإِنْ يُشَأْ * يُبَارِكْ عَلَى أَوْصَالِ شَلْمٍ مُمَزِّعِ.
وَكَانَ خُبَيْبٌ هُوَ مَنْ لِكُلِّ مُسْلِمٍ قُتِلَ صَبْرًا الصَّلاةَ وَأَخْبَرَ يَعْنِي النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصْحَابَهُ يَوْمَ أَصِيبُوا خَبَرَهُمْ وَبَعَثَ نَاسٌ مِنْ قُرَيْشٍ إِلَى عَاصِمٍ ابْنِ ثابت حين حدِثُوا أَنَّهُ قُتِلَ أَنْ يُؤْتُوا بِشَيْءٍ مِنْهُ يُعْرَفُ وَكَانَ قَتَلَ رَجُلاً مِنْ عُظَمَائِهِمْ فَبَعَثَ اللهُ لِعَاصِم مثل الظلة مِنَ الدَّبْرِ فَحَمَتَهُ مِنْ رُسُلِهِمْ فَلَمْ يَقْدِرُوا أن يقطعُوا مِنْهُ شَيْئًا – رَوَاهُ الْبُخَارِي.
قوْلَهُ الْهَدَاةُ مَوضِع والظلة السَّحَابُ والدِّيرُ النَّحْلُ وَقَوْلُهُ اقْتُلْهُمْ بِدَدَا بِكَسْرِ الباء وفتحها فَمَنْ كَسَرَ قَالَ هُوَ جَمْعُ بَدة هُوَ جَمْعُ بَدَة بِكَسْرِ الْبَاءِ وَهِيَ النَّصِيبُ وَمَعْنَاهُ اقْتُلْهُمْ حَصَصًا مُنْقَسِمَةً لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ نَصِيبٌ وَمَنْ فَتَحَ قَالَ مَعْنَاهُ مُتَفَرِّقِينَ في القتل واحِداً بَعْدَ وَاحِدٍ مِنَ التَّبْدِيدِ . وَفِي الْبَابِ احاديث كثيرة صحيحة سبقت في مواضعها من هذا الكتاب منها حديث الغلام الذي كَانَ يَأْتِي الراهب والساحر ومنها حديث جريج وحديث أصحاب الغار الذين أطبقت عليهم الصخرة وحديث الرجل الذي سمع صوتا في السحاب يقول است حديقة فلان وغير ذلك والدلائل في الباب كثيرة مشهورة وبالله التوفيق.

১৫০৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশজন লোকের একটি দলকে গোপনে সামরিক তথ্য সংগ্রহ করার জন্য পাঠান। তিনি আসিম ইবনে সাবিত আনসারী (রা)-কে তাদের আমীর নিযুক্ত করেন। নির্দেশ মুতাবিক তাঁরা রওয়ানা হয়ে যান। তারা যখন উসফান ও মক্কার মধ্যখানে হাদআত নামক স্থানে পৌছেন তখন হুযাইল গোত্র, যাদেরকে বনী লিহইয়ানও বলা হয়ে থাকে, তাদের সম্পর্কে অবহিত হয়। তারা তাঁদের খোঁজে প্রায় এক শত তীরন্দাজ নিয়ে বের হয় এবং তাঁদের পদচিহ্ন ধরে অগ্রসর হতে থাকে। আসিম ও তাঁর সাথীগণ যখন তাদের পশ্চাদ্ধাবন টের পান তখন তাঁরা একটি উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেন। কাফিররা তাঁদেরকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে বলতে থাকে। নেমে এসো এবং নিজেদেরকে আমাদের হাতে সোপর্দ কর। আমরা তোমাদের সাথে এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছি যে, তোমাদের কাউকে আমরা হত্যা করবো না।

আসিম ইবনে সাবিত (রা) বলেন, “হে (আমার) সঙ্গীগণ। আমি নিজেকে কাফিরদের যিম্মায় সোপর্দ করবো না। হে আল্লাহ! তোমার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমাদের খবর জানিয়ে দাও”। (একথা শুনে) কাফিররা তার প্রতি তীর বর্ষণ করল এবং আসিমকে শহীদ করল। অতঃপর কাফিরদের ওয়াদার উপর ভরসা করে তিন ব্যক্তি তাদের কাছে নেমে যান। তাদের মধ্যে ছিলো খুবাইব, যায়িদ ইবনুদ দাসিনাহ ও তৃতীয় একজন। কাফিররা তাদের উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করার পর তাদের ধনুকের ছিলা দিয়ে তিনজনকে কষে বেঁধে ফেললো। এ অবস্থায় তৃতীয় ব্যক্তি বললেন, এটা হচ্ছে প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা। আল্লাহর কসম। আমি তোমাদের সাথে যাব না। আমার জন্য রয়ে গেছে ঐ শহীদদের আদর্শ (শহীদ হওয়া)। কাফিররা তাঁকে ধরে টানতে থাকে এবং তাঁকে নিয়ে যাবার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে থাকে। কিন্তু তিনি যেতে অস্বীকার করেন। তখন তারা তাঁকে শহীদ করে দেয়।

অতঃপর কাফিররা খুবাইব ও যায়িদ ইবনুদ দাসিনাকে সংগে নিয়ে চলে এবং তাদেরকে মক্কায় বিক্রয় করে দেয়। এটা বদর যুদ্ধের পরের ঘটনা। খুবাইবকে কিনে নেয় হারিস ইবনে আমের ইবনে নাওফাল ইবনে আবদে মানাফের বংশধররা। আর বদরের দিন খুবাইবই হারিসকে হত্যা করেছিলেন। কাজেই খুবাইব (রা) তাদের কাছে বন্দী থাকেন। অবশেষে তারা তাঁকে হত্যা করার ব্যাপারে একমত হয়। এ সময় তিনি হারিসের এক মেয়ের কাছ থেকে একটি ক্ষুর চেয়ে নেন নিজের নাভীমূলের ক্ষৌরকর্ম সম্পন্ন করার জন্য। মেয়েটি তাঁকে তা দেয়। তার অসতর্ক অবস্থায় তার একটি শিশু পুত্র খুবাইবের কাছে চলে যায়। মেয়েটি খুবাইবের কাছে এসে দেখে যে, তার ছেলেটি বসে আছে খুবাইবের হাঁটুর উপর এবং খুবাইবের হাতে রয়েছে ক্ষুর। সে ভীষণ ঘাবড়ে যায়। খুবাইব তার আশংকা টের পান। তিনি তাকে বলেন, তুমি ভয় পেয়ে গিয়েছ বুঝি আমি একে হত্যা করব ভেবে। আমি কখনো এ কাজ করব না। হারিসের মেয়ে বললো, আল্লাহর কসম, আমি খুবাইবের চাইতে ভাল কয়েদী আর দেখিনি। আল্লাহর কসম, একদিন আমি তাঁকে দেখেছি তিনি শিকলে বাঁধা অবস্থায় আংগুরের ছড়া হাতে নিয়ে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছেন, অথচ সে সময় মক্কায় ফলের মৌসুম ছিল না। হারিসের কন্যা বললো, নিঃসন্দেহে তা ছিল এমন একটি রিক যা আল্লাহ্ খুবাইবকে দান করেছেন। তারপর যখন কাফিররা তাঁকে হত্যা করার জন্য হারাম শরীফের বাইরের এলাকায় নিয়ে যায় তখন খুবাইব তাদেরকে বলেন, আমাকে অবকাশ দাও, আমি দুই রাক’আত নামায পড়ব। তারা তাঁকে অবকাশ দিলে তিনি দুই রাক’আত নামায পড়েন। তারপর বলেন, আল্লাহর কসম, যদি তোমরা ধারণা না করতে যে, আমি ভয় পেয়ে গেছি, তাহলে আমি অরো বেশি নামায পড়তাম। হে আল্লাহ। এদের সংখ্যা গুণে রাখ, এদের সবাইকে একের পর এক হত্যা কর এবং এদের একজনকেও ছেড়ে দিও না। এরপর তিনি নিম্নোক্ত কবিতা পড়েন:

“মুসলিম হিসাবেই আমি মরতে যাচ্ছি যখন
আমার নেই কোন পরোয়া
আল্লাহর পথে
কিভাবে আমার প্রাণটি যাবে।
(আমি জানি শুধু এতটুকুই জানি:)
আমার মৃত্যু হচ্ছে আল্লাহর পথে,
আর কর্তিত জোড়গুলির উপর বরকত নাযিল করেন তিনি
যদি তিনি চান।”

আর খুবাইব (রা) ছিলেন সর্বপ্রথম মুসলিম, যিনি আল্লাহর পথে গ্রেফতার হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের জন্য নিহত হওয়ার পূর্বে নামায পড়ার সুন্নাত জারি করেন। যেদিন এদেরকে শহীদ করা হয় সেদিন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদেরকে তা জানিয়ে দেন। আসিম ইবনে সাবিতের নিহত হবার খবর পাওয়ার পর কুরাইশদের কিছু লোক তাকে চিহ্নিত করার জন্য তার লাশের কিছু অংশ নিয়ে আসার উদ্দেশে লোক পাঠায়। কারণ আসিম (বদরের দিন) এক কুরাইশ প্রধানকে হত্যা করেছিলেন। কিন্তু আল্লাহ আসিমের হিফাযাতের জন্য মেঘ খণ্ডের মত একঝাঁক মৌমাছি পাঠান। এগুলো কুরাইশদের প্রেরিত লোকদের হাত থেকে আসিমের দেহকে রক্ষা করে। ফলে তারা আসিমের দেহ থেকে কিছুই কেটে নিতে সক্ষম হয়নি।

ইমাম বুখারী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। হাদীসে উল্লেখিত “আল-হাদআত” একটি স্থানের নাম। আর “আয-যুল্লাতু” অর্থ মেঘ। “আদ-দাবরু” অর্থ মৌমাছি। হাদীসে উল্লেখিত শব্দটির মধ্যে “বাদাদান” শব্দটিকে কেউ কেউ “বিদাদান”-ও পড়েছেন। “বিদাদান” শব্দটি হচ্ছে “বিদ্দাতুন”-এর বহুবচন। এর অর্থ হচ্ছে অংশ। এক্ষেত্রে “বিদাদান” শব্দের অর্থ হয়: তাদেরকে বিভিন্ন অংশে বিভিক্ত করে হত্যা কর, যাতে করে প্রত্যেকে তাদের অংশকে হত্যা করতে পারে। আর যারা “বাদাদান” পড়েছেন তারা এর অর্থ নিয়েছেন: তাদেরকে পৃথক পৃথকভাবে একের পর এক হত্যা কর।

এ অনুচ্ছেদে বহু সংখ্যক সহীহ হাদীস রয়েছে। এ কিতাবের বিভিন্ন স্থানে সেগুলো উল্লেখিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে সেই গোলামের হাদীস যে রাহিব ও যাদুকরের কাছে যাওয়া-আসা করতো। [ টিকা: এ প্রসঙ্গে ১ম খণ্ডে ৩০ নম্বর হাদীসটি দ্রষ্টব্য।] দ্বিতীয়টি হচ্ছে ‘জুরাইজ’ এর হাদীস। [টিকা: এ প্রসঙ্গে ১ম খণ্ডে ২৫৯ নম্বর হাদীসটি দেখুন।] তৃতীয়টি হচ্ছে গুহাবাসীদের হাদীস, পাথর দিয়ে যাদের গুহাপথের মুখ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। [এ সম্পর্কিত ১ম খণ্ডে ১২ নম্বর হাদীসটি দেখুন।]চতুর্থটি হচ্ছে সেই ব্যক্তির হাদীস যে মেঘের মধ্যে আওয়াজ শুনেছিল: অমুক ব্যক্তির ক্ষেতের উপর বারি বর্ষণ কর। এগুলো ছাড়া আরো বহু হাদীস রয়েছে। এই অনুচ্ছেদে অসংখ্য সুপরিচিত দলীল প্রমাণ রয়েছে। আর আল্লাহই সকল সুযোগ-শক্তি দান করেন। [এ সম্পর্কিত ২য় খণ্ডে ৫৬২ নম্বর হাদীসটি দেখুন।]

١٥١٠ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ مَا سَمِعْتُ عُمَرَ يَقُولُ لِشَيْ قَطُّ إِنِّي لأَظُنُّهُ كَذَا إِلَّا كَانَ كَمَا يَظُنُّ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৫১০। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার (রা)-কে কখনো কোন জিনিস সম্পর্কে এ কথা বলতে শুনিনি যে, আমি এটা সম্পর্কে এই ধারণা পোষণ করি এবং সে জিনিসটি তার ধারণা অনুযায়ী হয়নি। [টিকা: প্রচলিত নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে যেসব অলৌকিক ঘটনা আল্লাহর নেক ও সালিহ বান্দাদের মাধ্যমে সংঘটিত হয় সেগুলিকে শরী’আতের পরিভাষায় বলা হয় কারামাত। এই ধরনের কারামাত আল্লাহর বান্দাদের মনে শরী’আতের সত্যতাকে প্রতিষ্ঠিত করে। ফাসিক, কাজির ও আল্লাহর বিধাদের প্রতি বৈরী ভাবাপন্ন লোকদের মাধ্যমে যখন এই ধরনের অলৌকিক ঘটনাবলী সংঘটিত হয় তখন তাকে ‘মকর’ বা ‘ইসডিসরাজ’ অর্থাৎ প্রবঞ্চনা বলা হয় এবং তা হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ফিতনা ও পরীক্ষা।]

ইমাম বুখারী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

অধ্যায়: ১৭ কিতাবুল উমূরিল মুনহা আনহা (নিষিদ্ধ কাজসমূহ)

অনুচ্ছেদ: ১ – গীবাত হারাম এবং সংযতবাক হওয়ার নির্দেশ।

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ ميْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“তোমাদের কেউ যেন কারো গীৰাত না করে। তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করে? তোমরা নিজেরাই এটাকে ঘৃণা করবে। আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ অধিক মাত্রায় তাওবা কবুলকারী এবং দয়াময়।” (সূরা আল হুজুরাতঃ ১২)

وقال تعالى : وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولاً.

“এমন কোন জিনিসের পেছনে লেগোনা, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই। নিশ্চিত জেনে রাখ, চোখ, কান ও দিল সবকিছুর জন্যই জওয়াবদিহি করতে হবে।” (সূরা বনী ইসরাঈল: ৩৬)

وقَالَ تَعَالَى : مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْل إِلا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ.

“যে শব্দই তার মুখে উচ্চারিত হয়, তা সংরক্ষণের জন্য একজন সর্বক্ষণ প্রস্তুত পর্যবেক্ষক নিযুক্ত রয়েছে।” (সূরা কাফ: ১৮)

ইমাম নববী (র) বলেন, প্রত্যেক সুস্থ বিবেকসম্পন্ন বয়ঃপ্রাপ্ত ব্যক্তির অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা থেকে নিজের মুখকে সংযত রাখা কর্তব্য। তবে যে কথা বললে উপকার ও কল্যাণ হয় তা বলা কর্তব্য। যখন কথা বলা বা চুপ থাকা উভয়ই উপকার ও কল্যাণের দিক থেকে সমান তখন সুন্নাত তরীকা হলো চুপ থাকা। কেননা কোন কোন ক্ষেত্রে অনুমোদিত (মুবাহ) কথাবার্তাও হারাম ও অপছন্দনীয় কিছু ঘটার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণত এটাই ঘটে থাকে। নির্দোষ ও নিখুঁত অবস্থার সমকক্ষ আর কিছুই নেই।

١٥١١ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَهُذَا الْحَدِيثُ صَرِيحٌ فِي أَنَّهُ يَنْبَغِي أَنْ لا يَتَكَلَّمَ إِلَّا إِذَا كَانَ الْكَلَامُ خَيْرًا وَهُوَ الَّذِي ظَهَرَتْ مَصْلَحَتُهُ وَمَتَى شَكٍّ فِي ظُهُورِ الْمَصْلَحَةِ فَلا يَتَكَلَّم.

১৫১১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন ভালো কথা বলে অন্যখায় চুপ থাকে।

হাদীসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী (র) বলেন, হাদীসটির বক্তব্য এ ব্যাপারে স্পষ্ট যে, কোন কথায় উপকার ও কল্যাণ নিহিত না থাকলে তা না বলাই উচিত। অর্থাৎ যেসব কথার মধ্যে কল্যাণ ও উপকার বিদ্যমান সেগুলো এ পর্যায়ভুক্ত। কিন্তু যদি কল্যাণের দিকটা সন্দেহপূর্ণ হয় তবে কথা না বলাই উত্তম।

١٥١٢ – وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْمُسْلِمِينَ أَفْضَلُ قَالَ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَبَدِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৫১২। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। মুসলিমদের মধ্যে কে সর্বোত্তম? তিনি বলেন: যার মুখ ও হাতের অনিষ্ট থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে সে-ই সর্বোত্তম মুসলিম।
হাদীসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

١٥١٣ – وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ يُضْمَنْ لي مَا بَيْنَ لَحْيَيْه وَمَا بَيْنَ رَجُلَيْهِ أَضْمَنُ لَهُ الْجَنَّةَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৫১৩। সাহল ইবনে সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী জিনিসের (জিহ্বা বা বাকশক্তি) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী জিনিসের (যৌনাংগ) নিশ্চয়তা দিতে পারবে আমি তার জান্নাতের জন্য যামিন হতে পারি।

হাদীসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

١٥١٤ – الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَمَعْنَى يَتَبَيَّنُ يَتَفَكَّرُ أَنَّهَا خَيْرٌ أم لا.

১৫১৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: বান্দা যখন ভালো-মন্দ বিচার না করেই কোন কথা বলে, তখন তার কারণে সে নিজেকে জাহান্নামের এত গভীরে নিয়ে যায় যা পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্বের সমান। হাদীসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। ‘তাবাইয়্যান’ শব্দের অর্থ ভালো না মন্দ তা চিন্তা করে দেখা।

١٥١٥ – وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْعَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ رِضْوَانِ اللَّهِ تَعَالَى مَا يُلْقَى لَهَا بَالَا يَرْفَعُهُ اللَّهُ بِهَا دَرَجَاتٍ وَإِنَّ الْعَبْدَ ليتكلم بالكلمة من سخط الله تعالى لا يُلقَى لَهَا بَالَا يَهْوَى بِهَا فِي جَهَنَّمَ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ .

১৫১৫। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: বান্দা যখন আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টিমূলক কথা বলে কিন্তু এর পরিণামের পরোয়া করে না, তখন এর পরিবর্তে আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আবার বান্দা যখন আল্লাহ তা’আলার অসন্তুষ্টিমূলক কথা বলে কিন্তু এর পরিণাম সম্পর্কে সে মোটেই চিন্তা করে না, তখন এ কথা দ্বারা সে নিজেকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে।

হাদীসটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন।

١٥١٦ – وَعَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ بِلالِ بْنِ الْحَارِثِ الْمُزَنِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنْ رسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ رِضْوَانِ اللهِ تَعَالَى مَا كَانَ يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ يَكْتُبُ اللَّهُ لَهُ بِهَا رِضْوَانَهُ إِلَى يَوْمِ يُلْقَاهُ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ سَخَطَ اللَّهِ مَا كَانَ يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ ما بَلَغَتْ يَكْتُبُ اللهُ لَهُ بِهَا سَخَطَهُ إِلَى يَوْمِ يُلْقَاهُ – رَوَاهُ مَالِكَ فِي الْمُوَطَا والترْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৫১৬। আবু আবদুর রহমান বিলাল ইবনুল হারিস আল-মুযানী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মানুষ তার মুখ দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিমূলক বাক্য উচ্চারণ করে, অথচ সে জানে না এ কথার মূল্য ও মর্যাদা কত, আল্লাহ তার সাথে সাক্ষাতের দিন (কিয়ামাতের দিন) তার জন্য নিজের সন্তুষ্টি লিখে দেন। আর মানুষ আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক কথা বলে, অথচ সে এর পরিণাম সম্পর্কে একটুও চিন্তা করে না, আল্লাহ তার জন্য কিয়ামাতে তার সাক্ষাতে হাজির হওয়ার দিন অসন্তুষ্টি লিখে দেন। ইমাম মালিক তার মুওয়াত্তা কিতাবে এই হাদীসটি সংকলন করেছেন। ইমাম তিরমিযী এই হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, এটি হাসান ও সহীহ।

١٥١٧ – وَعَنْ سُفْيَانَ بْن عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ الله حَدِثَنِي بِأَمْرِ اعْتَصِمُ بِهِ قَالَ قُلْ رَبِّيَ اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقِمْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أخْوَفُ مَا تَخَافُ عَلَى فَأَخَذَ بِلِسَانِ نَفْسِهِ ثُمَّ قَالَ هَذَا. رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৫১৭। সুফিয়ান ইবনে আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আমাকে এমন একটা বিষয় বলে দিন যা আমি দৃঢ়তার সাথে ধরে থাকব। তিনি বলেন: বল, “আল্লাহই আমার প্রভু-পরিচালক” এবং এর উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাক। আমি পুনরায় বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। কোন জিনিসকে আপনি আমার জন্য সর্বাধিক ভয়ের কারণ মনে করেন? তিনি নিজ জিহ্বা স্পর্শ করে বলেন: এটি।
ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।

١٥١٨ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُكْثِرُوا الْكَلَامَ بِغَيْرِ ذِكْرِ اللَّهِ فَإِنْ كَشَرَةَ الْكَلَامِ بِغَيْرِ ذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى قَسْوَةٌ لِلْقَلْبِ وَإِنْ أَبْعَدَ النَّاسِ مِنَ اللهِ الْقَلْبُ الْقَاسِي رَوَاهُ التَّرْمَذِى.

১৫১৮। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর যিক্র ছাড়া বেশি কথা বলো না। কেননা আল্লাহ তা’আলার যিক্ বা স্মরণবিহীন বেশি কথাবার্তা মনকে পাষাণ করে দেয় আর পাষাণ হৃদয় ব্যক্তি আল্লাহ থেকে সর্বাধিক দূরে।

হাদীসটি ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।

١٥١٩ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ وَقَاهُ اللَّهُ شَرِّ مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَشَرِّ مَا بَيْنَ رِجُلَيْهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ رَوَاهُ الترمذى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৫১৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকে আল্লাহ দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থানের (মুখের) দুষ্কর্ম এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থানের (যৌনাঙ্গের) দুষ্কর্ম থেকে রক্ষা করেছেন সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি হাসান।

١٥٢٠ – وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا النَّجَاةُ قَالَ أَمْسِكَ عَلَيْكَ لِسَانَكَ وَلْيَسَعُكَ بَيْتُكَ وَأَبْكَ عَلَى خطيئتك – رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ

১৫২০। উকবা ইবনে আমের (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। নাজাতের উপায় কি? তিনি বললেনঃ তোমার জিহ্বাকে সংযত রাখ, তোমার ঘরকে প্রশস্ত কর এবং তোমার অপরাধের জন্য কান্নাকাটি কর। [টিকা: ঘরকে প্রশস্ত কর অর্থাৎ মেহমানদারি কর।]

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, এটি হাসান হাদীস।

١٥٢١ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أَصْبَحَ ابْنُ آدَمَ فَإِنَّ الْأَعْضَاءَ كُلَهَا تُكَفِّرُ اللسَانَ تَقُولُ اتَّقِ اللَّهَ فِينَا فَإِنَّمَا نَحْنُ بِكَ فَإِن اسْتَقَمْتَ اسْتَقَمْنَا وَأَنْ أَعْوَجَجْتَ أَعْوَجَجْنَا . رَوَاهُ الترمذي. معنى تُكَفِّرُ النِّسَانَ أَي تَذِلُّ وَتَخْضَعُ لَهُ. ة

১৫২১। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আদম সন্তান যখন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে তখন তার শরীরের যাবতীয় অংগ-প্রত্যংগ তার মুখের কাছে অনুনয়-বিনয় করে বলে, আমাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা আমরা তোমার সাথেই আছি। যদি তুমি ঠিক থাকতে পার তবে আমরাও ঠিক থাকব। যদি তুমি বাঁকা পথ ধর তবে আমরাও খারাপ হয়ে যাবো।

হাদীসটি ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। ‘তুকাফিরুল লিসান’ অর্থ বিনয় ও নম্রতা সহকারে মুখের কাছে আবেদন জানায়।

١٥٢٢ – وَعَنْ مُعَادٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ يدخلني الْجَنَّةَ وَيُبَاعِدُنِي مِنَ النَّارِ قَالَ لَقَدْ سَأَلْتَ عَنْ عَظِيمٍ وَإِنَّهُ لَيَسِيرٌ عَلَى مَنْ تَسْرَهُ اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ تَعْبُدُ اللهَ لا تُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ وَتُؤْتِي الزكاة وتَصُومُ رَمَضَانَ وَتَحُجُّ الْبَيْتَ ثُمَّ قَالَ إِلا أَدُلُّكَ عَلَى أَبْوَابِ الْخَيْرِ الصوم جنة والصدقة تطفى الْخَطِيئَة كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ وَصَلَاةُ الرَّجُلِ مِنْ جوف الليل ثم تلا (تتجافى جنوبهم عن الله الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا. خَوْفًا وَطَمَعًا ومِمَّا رَزَقْنَهُمْ يُنْفِقُونَ. فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةٍ أَعْيُنِ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُوْنَ) – ثُمَّ قَالَ إِلا أَخْبِرُكَ بِرَأْسِ الْأمْرِ وَعَمُودِهِ وَذَرُوَةِ سَنَامِهِ قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ رَأْسُ الْأَمْرِ الْإِسْلامُ وَعَمُودُهُ الصَّلَاةُ وَذَرُوةٌ سَنَامِهِ الْجِهَادُ ثُمَّ قال ألا أخبرك بملاك ذلك كله قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ فَأَخَذَ بِلِسَانِهِ قَالَ كُفْ عَلَيْكَ هذا قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ وَأَنَّا لَمُؤَاخَذُونَ بِمَا نَتَكَلَّمُ بِهِ فَقَالَ تَكَلَتُكَ أُمُّكَ وَهَلْ يَكُبُ النَّاسَ في النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمُ الأحَصَائِدُ الْسِنَتِهِمْ. رَوَاهُ الترمذي وقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ سَبَقَ شَرْحُهُ ؟.

১৫২২। মু’আয (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আমাকে এমন কাজের কথা বলে দিন যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। তিনি বলেন: তুমি অবশ্যই একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জিজ্ঞেস করেছ। অবশ্য আল্লাহ তা’আলা যার জন্য সহজ করে দেন তার জন্য এ কাজটা খুবই সহজ। আল্লাহর ইবাদাত করতে থাক, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না, নামায কায়েম কর, যাকাত আদায় কর, রমযান মাসের রোযা রাখ এবং বাইতুল্লাহর হজ্জ কর। অতঃপর তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাসমূহ বলে দেব না? রোযা ঢালস্বরূপ প্রতিরোধকারী। সাদাকা-যাকাত গুনাহসমূহ নিশ্চিহ্ন করে দেয় যেমনিভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়। মানুষের গভীর রাতের নামাযও এভাবে গুনাহসমূহ বিনষ্ট করে দেয়। অতঃপর তিনি নিচের আয়াত পাঠ করলেন (অনুবাদ):

“তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে দূরে থাকে। তারা নিজেদের প্রভুকে ডাকে ভয় ও আশা সহকারে এবং আমি তাদের যা কিছু রিযক দিয়েছি তা থেকে খরচ করে। তাদের কাজের প্রতিদানস্বরূপ তাদের জন্য চোখ শীতলকারী যেসব সামগ্রী গোপন রাখা হয়েছে, কোন প্রাণীই তা জানে না।” (সূরা আস-সাজদা: ১৬-১৭)

তিনি আবার বলেনঃ তোমাকে কি যাবতীয় কাজের মূল, কাণ্ড এবং এর উচ্চ ও উন্নত শিখরের কথা বলবো না? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। তা অবশ্যই। তিনি বলেনঃ দীনের যাবতীয় কাজের মূল উৎস ইসলাম, এর কাণ্ড হল নামায এবং এর উচ্চ চূড়া হল জিহাদ। তিনি পুনরায় বলেন: আমি কি তোমাকে ঐ সবগুলোর মূল বলে দেব না? আমি বললাম, হাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি তাঁর জিহবা ধরে বলেন: এটা তোমার নিয়ন্ত্রণে রাখ। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা স্বাভাবিক কথাবার্তায় যা বলে থাকি তার জন্যও কি পাকড়াও হবো? তিনি বলেনঃ তোমার জন্য তোমার মা দুঃখ ভারাক্রান্ত হোক। মানুষকে তো তার জিহ্বার উপার্জিত জিনিসের কারণেই জাহান্নামে উপুড় করে নিক্ষেপ করা হবে।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ। ইতিপূর্বে এ হাদীসের ব্যাখ্যা বর্ণনা করা হয়েছে।

١٥٢٣ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اتَدْرُونَ مَا الْغَيْبَةُ؟ قَالُوا اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ قِيلَ أَفَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُ قَالَ إِنْ كَانَ فِيهِ مَا تَقُولُ فَقَدْ اغْتَبْتَهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ مَا تَقُولُ فَقَدْ بَهَتُهُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৫২৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা কি জান গীবাত কাকে বলে? সাহাবীগণ বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বলেন: তোমার ভাইয়ের এমন প্রসংগ আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে। বলা হল, আপনার কি মত, আমি যা আলোচনা করলাম তা যদি তার মধ্যে থেকে থাকে? তিনি বলেন: যেসব দোষ তুমি বর্ণনা করেছ, তা যদি সত্যিই তার মধ্যে থেকে থাকে, তবেই তো তার গীবাত করলে। যদি তার মধ্যে সে দোষ না থেকে থাকে, তবে তুমি তার প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করলে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٢٤ – وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي خُطْبَتِهِ يَوْمَ النَّحْرِ بِمَنى فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ إِنْ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وأعراضكُمْ حَرَامٌ عَلَيْكُمْ كَحُرُمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هُذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا الا هَل بَلَغْتُ مُتفق عليه.

১৫২৪। আবু বাক্সা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হচ্ছে কুরবানীর দিন মিনা নামক স্থানে তাঁর বক্তৃতায় বলেনঃ তোমাদের পরস্পরের রক্ত বা জীবন, ধন-সম্পদ ও মান-ইযযাত পরস্পরের প্রতি হারাম ও সম্মানযোগ্য, যেমনিভাবে আজকের এই দিন, এই মাস এবং এই শহর তোমাদের জন্য হারাম ও সম্মানযোগ্য। আমি কি তোমাদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছি?

ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٢٥ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ قُلْتُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حسبك من صفية كذا وكذا قال بعض الرواة تعنى قَصِيرَةً فَقَالَ لَقَدْ قُلْت كَلِمَة لَوْ مُرْجَتْ بِمَاء الْبَحْرِ لَمَزَجَتَهُ قَالَتْ وَحَكَيْتُ لَهُ إِنْسَانًا فَقَالَ مَا أُحِبُّ أَنِّيحَكَيْتُ انْسَانًا وَأَنْ لي كذا وكذا. رواه أبو داود والترمذى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صحيح، ومعنى مَزَجَتُهُ خَالطتهُ مُخالطة يَتَغَيَّرُ بِهَا طَعْمُهُ أَوْ رِيحُهُ لِشِدَّةِ نتَنِهَا وَتُبْحِهَا وَهُذَا مِنْ أَبْلَغَ الزَّوَاجِرِ عَنِ الْغَيْبَةِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى (وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى)

১৫২৫। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম, সাফিয়ার ব্যাপারে (অর্থাৎ তার এই দোষগুলি) আপনার জন্য যথেষ্ট। কোন কোন রাবী বলেন, সাফিয়া (রা) বেঁটে ছিলেন। তিনি বলেনঃ তুমি এমন একটা কথা বলেছ যদি তা সাগরের পানিতে মিশিয়ে দেয়া হয়, তাহলে পানির উপর তা প্রভাব বিস্তার করবে। আয়িশা (রা) বলেন, আমি তাকে এক ব্যক্তির অনুকরণ করে দেখালাম। তিনি বলেনঃ আমি কোন মানুষের (দোষ-ত্রুটি) নকল বা অনুকরণ করে দেখানো পছন্দ করি না, যদিও (তার বিনিময়ে) আমার জন্য এত এত হয়। (অর্থাৎ বহু অর্থ-সম্পদ বা কোন সুযোগ হাসিল হয়)।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ। ‘মাজাজাতহু’ অর্থঃ এমনভাবে মিশে যাওয়া যে, মিশ্রিত জিনিসের দুর্গন্ধ ও নিকৃষ্টতার কারণে অন্য বস্তুটির স্বাদ ও ঘ্রাণ নষ্ট হয়ে যায়। হাদীসটির বিষয়বস্তু হলো, গীবাতের শাস্তির ব্যাপারে সর্বাধিক ভীতি প্রদর্শন করা। মহান আল্লাহ বলেন: “তিনি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কোন কথা বলেন না, বরং তা তার প্রতি অবতীর্ণ ওহী ছাড়া আর কিছুই নয়।” (সূরা আন্ নাজমঃ ৩-৪)

١٥٢٦ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لما عُرِجَ بِي مَرَرْتُ بِقَوْمٍ لَهُمْ أَظْفَارٌ مِنْ نُحَاسِ يَحْمِسُونَ وُجُوهَهُمْ وَصُدُورَهُمْ فقُلْتُ مَنْ هُؤلاء يَا جِبْرِيلُ قَالَ هُولا – الَّذِينَ يَأْكُلُونَ لِحُومَ النَّاسِ وَيَقَعُونَ فِي أعراضهم – رواه أبو داود.

১৫২৬। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন আমাকে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হয় আমি এমন এক দল লোকের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলাম, যাদের নখগুলো ছিল তামায়। তারা নখ দিয়ে নিজেদের মুখমণ্ডল ও বক্ষদেশ খামচাচ্ছিল। আমি বললাম, হে জিবরীল। এরা কারা? তিনি বলেন, এরা মানুষের গোশত খেত১ এবং তাদের মান-ইযযাত নিয়ে ছিনিমিনি খেলত। [টিকা: মানুষের গীবাত করত।]

ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٢٧ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَعِرْضُهُ وَمَالُهُ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৫২৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রত্যেক মুসলিমের জন্য প্রত্যেক মুসলিমের মান-সম্মান এবং ধন-সম্পদ হারাম।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২ – গীবাত বা পরচর্চা শুনা হারাম

কোন ব্যক্তি কাউকে, গীবাত করতে শুলে তাকে বাধা দেবে এবং তাতে ভ্রূক্ষেপ করবে না বা তা করা থেকে বিরত রাখবে। সে যদি তা না পারে কিংবা পছন্দনীয় না হয় তাহলে স্থান ত্যাগ করে চলে যাবে।

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَإِذَا سَمِعُوا اللَّغَوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“তারা কোন অসার বাক্য শুনলে তা উপেক্ষা করে চলে যায়।” (সূরা আল কাসাস: ৫৫)

وقَالَ تَعَالَى : وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ.

“(তারাই সফল মুমিন) যারা বেহুদা কাজ থেকে দূরে থাকে।” (সূরা আল মুমিনূনঃ ৩)

وقال تَعَالَى : إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا.

“শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ সব কিছুর জন্যই জওয়াবদিহি করতে হবে।” (সূরা বনী ইসরাঈল: ৩৬)

وقال تعالى : وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حديث غيره وأما يُنسِيَنكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ القوم الظالمين .

“তুমি যখন দেখবে লোকেরা আমার আয়াতসমূহের দোষ-ত্রুটি খুঁজছে, তখন তাষের নিকট থেকে সরে যাও, যতক্ষণ তারা এই প্রসংগের কথাবার্তা বন্ধ করে অপর কোন কথায় মগ্ন না হয়। শয়তান যদি কখনও তোমাকে বিভ্রাপ্তির মধ্যে ফেলে দেয়, তবে যখনি তোমার এই ভুলের অনুভূতি হবে তখনই আর এই যালিমদের কাছে বসবে না।” (সূরা আল আন’আমঃ ৬৮)

١٥٢٨ – وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ رَدَّ عَنْ عَرْض أَخِيهِ رَدَّ اللهُ عَنْ وَجْهِهِ النَّارَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَوَاهُ الترمذى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৫২৮। আবুদ্ দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের ইযযাত-সম্মান রক্ষা করল, আল্লাহ কিয়ামাতের দিন তার মুখমণ্ডলকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন।

হাদীসটি ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করে বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।

١٥٢٩ – وَعَنْ عِتْبَانَ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي حَدِيثِهِ الطَّوِيلِ الْمَشْهُورِ الذي تَقَدِّمَ فِي بَابِ الرِّجَاء قَالَ قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلَّى فَقَالَ ابْنَ مَالِكُ بْنَ الدُّخْشُمِ؟ فَقَالَ رَجُلٌ ذَلِكَ مُنَافِقٌ لَا يُحِبُّ اللَّهَ وَلَا رَسُولَهُ فَقَالَ النبي صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا تَقُلْ ذلك الا تَرَاهُ قَدْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ يُرِيدُ بذلك وجه الله وَإِنَّ اللهَ قَدْ حَرَّمَ عَلَى النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَسْتَغِى بذلك وجه الله. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৫২৯। ইতবান ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন নামাযে দাঁড়িয়ে বললেন: মালিক ইবনে দুখসুম কোথায়? এক ব্যক্তি বলল, সে মুনাফিক। সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি এ কথা বলো না। তুমি কি দেখো না যে, সে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই) বলেছে এবং এর দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই তার উদ্দেশ্য। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই) বলে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٣٠ – وَعَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي حَدِيثِهِ الطَّوِيلِ فِي قِصَّةِ تويته وَقَدْ سَبَقَ فِي بَاب التوبة قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ جالس فِي الْقَوْمِ بِتَبُوكَ مَا فَعَلَ كَعْبُ بْنُ مَالِكَ ؟ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سَلِمَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ حَبَسَهُ بُرْدَاهُ وَالنَّظَرُ فِي عِطْفَيْهِ فَقَالَ لَهُ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُعَنْهُ بِئْسَ مَا قُلْتَ وَالله يَا رَسُولَ اللهِ مَا عَلِمْنَا عَلَيْهِ الأَخَيْرًا فَسَكَتَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ عِطْفَاهُ : جَانِبَاهُ وَهُوَ إِشَارَةٌ إِلَى اعجابه بنفسه.

১৫৩০। কা’ব ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুক প্রান্তরে সাহাবীদের সাথে বসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: কা’ব ইবনে মালিক একি করলো? বনী সালেমা গোত্রের এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল। তার দুই চাদর এবং তার দেহের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়াই তাকে আটকে রেখেছে। মু’আয ইবনে জাবাল (রা) লোকটিকে বললেন, তুমি খুব খারাপ কথা বললে। আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তার সম্পর্কে ভালো ছাড়া অন্য কিছু জানি না। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন।

ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। “ইতফাহ” অর্থ তার উভয় পার্শ্বদেশ। এর দ্বারা তার দৈহিক গঠনের প্রতি তার আত্মতুষ্টির দিকে ইংগিত করা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ: ৩ – যে ধরনের গীবাতে দোষ নেই

ইমাম নববী (র) বলেন, সৎ ও শরীয়াতসম্মত উদ্দেশ্য সাধন যদি গীবাত ছাড়া সম্ভব না হয় তাহলে এ ধরনের গীবাতে কোন দোষ নেই। ছয়টি কারণে তা জায়েয হতে পারে।

প্রথম কারণঃ যুদ্ধের বিরুদ্ধে আবেদন পেশ করা। নির্যাতিত ব্যক্তি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, বিচারক বা এমন সব লোকের কাছে যালিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করতে পারে যাদের যালিমকে দমন করার শক্তি বা কর্তৃত্ব এবং মাযলুমের প্রতি ন্যায়বিচার করার ক্ষমতা আছে। এক্ষেত্রে সে বলতে পারে, অমুক ব্যক্তি আমার উপর যুগ্ম করেছে।

দ্বিতীয় কারণঃ ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ এবং সৎ কাজের মাধ্যমে গুনাহের কাজের সুযোগ বন্ধ করার জন্য সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু বলা। এ উদ্দেশ্যে কারো কাছে যার দ্বারা আল্লাহদ্রোহী কার্যকলাপ হওয়ার আশংকা রয়েছে তার বিরুদ্ধে এভাবে বলা যে, অমুক ব্যক্তি এই রকম এই রকম কাজ করছে। আপনি তাকে শাসিয়ে দিন। তার উদ্দেশ্য হবে শুধু অবৈধ কার্যকলাপ উদঘাটন ও তার প্রতিরোধ। এই রকম উদ্দেশ্য না থাকলে অযথা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হারাম।

তৃতীয় কারণ: কোন বিষয়ে ফাতওয়া চাওয়া। মুফতী সাহেবের কাছে গিয়ে বলা, আমার উপর আমার বাপ, ভাই, স্বামী অথবা অমুক ব্যক্তি এইভাবে যুগ্ম করেছে। তার জন্য এসব করা কি উচিৎ। তার হাত থেকে আমার বাঁচার, অধিকার আদায় করার এবং যুলূমকে প্রতিরোধ করার কি পন্থা আছে? প্রয়োজন বশত এসব কথা এবং এ ধরনের আরো কথা বলা জায়েয। কিন্তু সঠিক ও সর্বোত্তম পন্থা হল এভাবে বলা যে, কোন ব্যক্তি অথবা কোন স্বামী যদি এরূপ আচরণ করে তবে তার ব্যাপারে আপনার মতামত কিং কারণ এভাবে বললে কাউকে নির্দিষ্ট না করেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। এসব সত্ত্বেও ব্যক্তির নামোল্লেখ করাও জায়েয।

চতুর্থ কারণ: মুসলিমদেরকে খারাপ কাজের পরিণতি সম্পর্কে সাবধান করা এবং উপদেশ দেয়া। এটা কয়েকভাবে হতে পারেঃ

(ক) হাদীসের বর্ণনা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ব্যাপারে যেসব ব্যক্তির দোষত্রুটি আছে তা যাচাই করে বলে দেয়া। মুসলিমদের ইজমার ভিত্তিতে এটা শুধু জায়েযই নয়, বরং বিশেষ প্রয়োজন ও অবস্থায় ওয়াজিবও।

(খ) পরামর্শ দেয়া, যেমন কোন লোককে বিবাহের ব্যাপারে, কারো সাথে কোন বিষয়ে অংশীদার হওয়ার ব্যাপারে, আমানত ও লেনদেনের ব্যাপারে অন্য পক্ষের কিংবা কাউকে প্রতিবেশী বানানোর ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেয়া ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে পরামর্শদাতার কর্তব্য হলো, তথ্য গোপন না করা, বরং নসীহতের নিয়তে খারাপ দিকগুলো উল্লেখ করা উচিত। যখন কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে দেখা যায় যে, সে শরীআত বিরোধী কাজে লিপ্ত ব্যক্তির ব্যাপারে সন্দেহ ও উৎকণ্ঠায় পতিত হয়েছে অথবা কোন ফাসিক ব্যক্তিকে তার কাছে জ্ঞানার্জন করতে দেখা যাচ্ছে এবং এই সুযোগে তার ঐ ব্যক্তির ক্ষতি করার আশংকা থাকলে তখন তার কাছে উপদেশের মাধ্যমে ফাসিক ব্যক্তির স্বরূপ প্রকাশ করে দেয়া কর্তব্য। এসব ক্ষেত্রে ভুল বুঝাবুঝিরও যথেষ্ট আশংকা রয়েছে। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে উপদেশ দানকারীকে হিংসা-বিদ্বেষের শিকার হতে হয়। কখনও শয়তান তাকে ধোঁকা দিয়ে এই ধারণা সৃষ্টি করে যে, এটা নিছক উপদেশ বৈ কিছু নয়। সুতরাং ব্যাপারটিকে গভীর ও সূক্ষ্মভাবে অনুধাবন করে অগ্রসর হতে হবে।

(গ) কোন লোককে কোন বিষয়ে যিম্মাদার বা দায়িত্বশীল বানানো হল। কিন্তু সে তা পালনে অক্ষম অথবা সে ঐ পদের অনুপযুক্ত অথবা সে ফাসিক বা অলস ইত্যাদি। এক্ষেত্রে যার এসব বিষয়ে কর্তৃত্ব রয়েছে এবং যে ইচ্ছা করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে কিংবা অন্য কোন যোগ্য লোককে দায়িত্ব দিতে পারে অথবা সে তাকে ডেকে নিয়ে তার যাবতীয় দুর্বলতা দেখিয়ে দেবে এবং সে সংশোধন হয়ে উপযুক্তভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে। এতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার সম্পর্কে অমূলক ধারণা বা ধোঁকায় নিমজ্জিত হওয়া থেকে বাঁচতে পারবে। সে তাকে ডেকে নিয়ে এ কথাও বলতে পারে, হয় সে যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করবে নতুবা তাকে অব্যাহতি দেয়া হবে।

পঞ্চম কারণ: কোন ব্যক্তি প্রকাশ্যে ফিসক ও বিদআতে লিপ্ত হয়। যেমন প্রকাশ্যে মদ পান করে, মানুষের উপর যুগ্ম করে, কারো ধন-সম্পদ জোরপূর্বক হরণ করে, জনসাধারণের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে কর আদায় করে, অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত হয় ইত্যাদি। এই ব্যক্তির কার্যকলাপের আলোচনা করা যাবে। তবে তার কৃত কুকর্ম ছাড়া অন্য কিছু বলা জায়েয নয়। তবে উল্লেখিত কারণ ছাড়াও অন্য কোন কারণ থাকলে ভিন্ন কথা।

ষষ্ঠ কারণ: পরিচয় দেয়া। কোন ব্যক্তিকে তার বিশেষ উপাধি বা তার কোন দৈহিক ত্রুটির উল্লেখ করে প্ররিচয় করিয়ে দেয়া জায়েয। যেমন রাতকানা, পঙ্গু, বধির, অন্ধ, টেরা ইত্যাদি এভাবে কারো পরিচয় দেয়া জায়েয। তবে খাট করা বা অসম্মান করার উদ্দেশ্যে এসব শব্দ ব্যবহার করা হারাম। এসব ত্রুটির উল্লেখ ছাড়া অন্য কোনভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে পারলে সেটাই উত্তম।

উলামায়ে কিরাম এই ছয়টি কারণ বর্ণনা করেছেন। এর অধিকাংশই ইজমা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। প্রসিদ্ধ হাদীসে এসবের দলীল-প্রমাণ রয়েছে। কতক দলীল এখানে উল্লেখ করা হল।

١٥٣١ – عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ رَجُلًا اسْتَأْذَنَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ ائْذَنُوا لَهُ بِئْسَ أَخُو الْعَشِيرَةِ مَتَّفَقٌ عَلَيْهِ احْتَجَ بِهِ الْبُخَارِيُّ في جواز غيبة أَهْلِ الْفَسَادِ وأهل الريب .

১৫৩১। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইল। তিনি বললেন: তাকে অনুমতি দাও। এই ব্যক্তি নিজ বংশের খুবই নিকৃষ্ট লোক।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসের মাধ্যমে ইমাম বুখারী বিপর্যয় ও সংশয় সৃষ্টিকারীদের গীবাত করা জায়েয প্রমাণ করেছেন।

١٥٣٢ – وَعَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَظُنُّ فُلَانًا وَفُلانَا يَعْرِفَانِ مِنْ دِينِنَا شَيْئًا – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ قَالَ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ أَخَدُ رُوَاةِ هَذَا الحديث هذان الرجلان كانا من المنافقين .

১৫৩২। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: অমুক অমুক ব্যক্তি আমাদের দীনের কিছু জানে বলে আমি মনে করি না।
ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসের একজন রাবী লাইস ইবনে সাদ বলেন, উক্ত ব্যক্তিদ্বয় মুনাফিক ছিল।

١٥٣٣ -مُعَاوِيَةُ فَصُعْلُوكَ لا مَالَ لَهُ وَأما أبو الجهم فَلَا يَضَعُ الْعَصَا عَنْ عَائِقِهِ مُتَّفَقٌ عليه. وفي رواية لمسلم وأما أبو الجهم فَضَرَابٌ لِلنِّسَاءِ وَهُوَ تَفْسِيرُ لِرِوَايَةِ لا يَضَعُ الْعَصَا عَنْ عَائِقِهِ وَقِيلَ مَعْنَاهُ كَثِيرُ الْأَسْفَارِ.

১৫৩৩। ফাতিমা বিনতে কায়েস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললাম, আবুল জাহ্ম ও মু’আবিয়া আমাকে বিবাহের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: মু’আবিয়া তো গরীব লোক, তার কোন সম্পদ নেই। আর আবুল আহম, সেতো তার কাঁধ থেকে লাঠি নামায় না। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, আবুল জাহম, সে তো মেয়েলোক পিটাতে ওস্তাদ। (রাবী বলেন) এ কথাটি সে তার কাঁধ থেকে লাঠি নামায় না বাক্যের ব্যাখ্যা। এর আর একটি অর্থ বলা হয়েছে, বেশি সফরকারী।

١٥٣٤ – وَعَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سفر أصاب النَّاسَ فِيهِ شِدَّةٌ فَقَالَ عَبْدُ الله بن أبي لَا تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى يَنْفَضُّوا وَقَالَ لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةَ لِيُخْرِجَنَّ الْأَعزُّ مِنْهَا الأذل فَاتَيْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاخْبَرْتُهُ بِذَلِكَ فَأَرْسَلَ إلى عبد الله بن أبي فَاجْتَهَدَ يَمِينَهُ مَا فَعَلَ فَقَالُوا كَذَبَ زَيْدٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَقَعَ فِي نَفْسِي مِمَّا قَالُوهُ شِدَّةٌ حَتَّى انْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى تَصْدِيقِي (إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ قَالُوا تَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ الله وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إنَّ الْمُنْفِقِينَ لَكَذِبُونَ اتَّخَذُوا أَيْمَانَهُمْ جُنَّةً فَصَدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّهُمْ سَاءَ مَا كَانُوا يَعْلَمُونَ ذلِكَ بِأَنَّهُمْ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا قَطِيعَ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَفْقَهُونَ. وإذا رأيتهم تُعْجِبُكَ أَجْسَامُهُمْ وَإِنْ يَقُولُوا تَسْمَعُ لِقَوْلِهِمْ كَأَنَّهُمْ خُشُبٌ مُسَنَدَةٌ يَحْسَبُونَ كُلِّ صَيْحَةٍ عَلَيْهِمْ هُمُ الْعَدُوُّ فَاحْذَرْهُمْ قَتَلَهُمُ اللَّهُ إِنَّى يُؤْفَكُونَ، وَإِذَا قِبْلَ لهُمْ تَعَالَوْا يَسْتَغْفِرْ لَكُمْ رَسُولُ اللهِ لووا رُمُوْسَهُمْ وَرَأَيْتَهُمْ يَصُدُّونَ وَهُمْ مستكبرون) ثُمَّ دَعَاهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيَسْتَغْفِرَ لَهُمْ فَلَوْوْا رُؤُوسُهُمْ متفق عليه.

১৫৩৪। যায়িদ ইবনে আরকাম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে গেলাম। এই সফরে লোকজন খুব কষ্টে পতিত হয়। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই (তার সংগীদের) বলল, রাসূলুল্লাহর সাথীদের জন্য কিছু ব্যয় করো না, যাতে তারা তার সংগ ছেড়ে চলে যায়। সে আরও বলল, আমরা যদি মদীনায় ফিরে যেতে পারি, তবে আমাদের সম্মানিত ব্যক্তিরা সেখান থেকে নীচ ও হীন ব্যক্তিদের বহিষ্কার করে দেবে। আমি (যায়েদ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তাঁকে একথা জানালাম। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে ডেকে পাঠালেন। সে শক্ত কসম করে বলল যে, সে একথা বলেনি। লোকেরা বলতে লাগল, যায়িদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যা কথা বলেছে। এ কথায় আমি মনে খুব আঘাত পেলাম। অতঃপর মহান আল্লাহ আমার কথার সত্যতা প্রতিপাদন করে এই আয়াতগুলো নাযিল করলেন (অনুবাদ):

“হে নবী। এই মুনাফিকরা যখন তোমার কাছে আসে তখন বলে, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনি নিঃসন্দেহে আল্লাহর রাসূল। হাঁ, আল্লাহ জানেন, তুমি অবশ্যই তাঁর রাসূল। কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন, মুনাফিকরা চরম মিথ্যাবাদী। তারা নিজেদের শপথসমূহকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। এভাবে তারা আল্লাহর পথ থেকে বিরত থাকে এবং অন্যকেও বিরত রাখে। তারা যা করছে তা খুবই নিকৃষ্ট। এসব শুধু এ কারণে যে, তারা ঈমান গ্রহণের পর পুনরায় কুফরের পথ অবলম্বন করেছে। এই কারণে তাদের দিলে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে। এখন তারা আর কিছুই বুঝে না। তাদের প্রতি তাকালে তাদের শরীর তোমার কাছে খুবই আকর্ষণীয় মনে হবে, কথা বললে, তা অভিভূত হয়ে শুনতে থাকবে। আসলে এরা কাষ্ঠ খণ্ডের মত যা প্রাচীরে গেঁথে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি জোরালো আওয়াজকে এরা নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে। এরা পাকা শত্রু। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাক। এদের উপর আল্লাহর মার। এরা কোন উল্টা দিকে তাড়িত হচ্ছে। এদেরকে যখন বলা হয়, এসো আল্লাহর রাসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা ও মাগফিরাতের দু’আ করবেন, তখন তারা মাথা ঝাঁকানি দেয়। আর তুমি দেখবে এরা তোমার কাছে উপস্থিত হওয়া থেকে অহমিকার সাথে বিরত থাকে।” (সূরা আল মুনাফিকূনঃ ১-৫)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মুনাফিকদের উদ্দেশে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য তাদের ডাকলেন। কিন্তু তারা অহংকারের সাথে মাথা ঝাঁকিয়ে বিরত রইলো।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٣٥ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَتْ قَالَتْ هِندُ امْرَأَةُ أَبِي سُفْيَانَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ شَحِيْحٌ وَلَيْسَ يُعْطِينِي مَا يَكْفِينِي وَوَلَدِي إِلا ما أَخَذْتُ مِنْهُ وَهُوَ لا يَعْلَمُ قَالَ خُذِى ما يكفيك وولدك بالمعروف متفق عليه.

১৫৩৫। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দ নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, আবু সুফিয়ান খুবই কৃপণ লোক। সে আমার ও আমার ছেলে-মেয়েদের সংসার খরচা ঠিকমত দেয় না। তবে আমি তার অজান্তে তা থেকে নিয়ে প্রয়োজন পূরণ করি। তিনি বলেন: স্বাভাবিকভাবে তোমার ও তোমার সন্তানদের যতটুকু প্রয়োজন শুধু ততটুকুই নেবে।

হাদীসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪ – কূটনামী বা পরোক্ষে নিন্দা করা হারাম

ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একের কথা অন্যের কানে লাগানোকে চোগলখুরী বা পরোক্ষে নিন্দা বলে।

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : هَمَّازٍ مَشَاء بِنَمِيمٍ

মহান আল্লাহ বলেন:

“যে লোক গালাগাল করে, অভিশাপ দেয়, চোগলখুরী করে বেড়ায়।” (সূরা আল কালাম: ১৬)

وَقَالَ تَعَالَى : مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْل إِلا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ.

“যে কথাই তার মুখে উচ্চারিত হয় তা সংরক্ষণের জন্য তার নিকটেই একজন সদাপ্রস্তুত পর্যবেক্ষক নিযুক্ত রয়েছে।” (সূরা কাফ: ১৮)

١٥٣٦ – وَعَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ نَمَّامٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৫৩৬। হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: চোগলখোর কখনও জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٣٧ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَن بِقَيْبْرَيْنِ فَقَالَ إِنَّهُمَا يُعَذِّبَانِ وَمَا يُعَذِّبَانِ فِي كَبِيرِ بَلَى إِنَّهُ كَبِيرٌ أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ وَأَمَّا الْآخَرُ فَكَانَ لَا يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ – مُتَّفَقٌ عليه وهذا لفظ احدى رِوَايَاتِ الْبُخَارِي. قَالَ الْعُلَمَاءُ مَعْنَى وَمَا يُعَذِّبَانِ فِي كبير أي كبير في زعمِهِمَا وَقِيلَ كَبِيرٌ تَرَكُهُ عَلَيْهِمَا.

১৫৩৭। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন: এই দুই ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। কোন বড় গুনাহের কারণে তাদের শাস্তি হচ্ছে না। তবে হাঁ, বিষয়টা বড়ই। তাদের একজন চোগলখুরী করে বেড়াত এবং অন্যজন পেশাবের সময় পর্দা করত না (উন্মুক্ত স্থানে পেশাব করত)।

হাদীসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারীর রিওয়ায়াতসমূহের একটিতে এভাবে বর্ণিত হয়েছে। আলিমগণ বলেন, “ওয়ামা ইউআযযাবাদি কী কাবীরিন”-এর অর্থ তাদের ধারণায় এঐগুলি বড় গুনাহ ছিল না। আর এক অর্থ বলা হয়েছে, ঐ কাজ ত্যাগ করা তাদের জন্য তেমন কষ্টকর ছিল না।

١٥٣٨ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِلا أَنبِئُكُمْ مَا الْعَضُهُ هِيَ النَّمِيمَةُ الْقَالَةُ بَيْنَ النَّاسِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَرُوِيَ الْعِضَةُ وَهِيَ الْكَذِبُ وَالْبُهْتَانُ.

৯৫৩৮। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি ক তোমাদেরকে জানাবো না ‘আ’ কি? তা হচ্ছে চোগলখুরী। অর্থাৎ মানুষের মধ্যে ঝগড়ার কথা ছড়ানো।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কোন কোন বর্ণনায় ‘আদহুন’ শব্দটি ‘ইলাতুন’ এসেছে, এর অর্থ মিথ্যা ও অপবাদ।

অনুচ্ছেদ: ৫ – মানুষের যাবতীয় কথাবার্তা দায়িত্বশীল কর্মকর্তা পর্যন্ত পৌঁছানো নিষেধ

قال الله تعالى : وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“তোমরা গুনাহ ও বিদ্রোহমূলক কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না।” (সূরা আল মাইসাঃ ২)

١٥٣٩ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا يُبْلِغْنِي أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِي عَنْ أَحَدٍ شَيْئًا فَإِنِّي أَحِبُّ أَنْ أَخْرُجَ إِلَيْكُمْ وَأَنَا سليم الصدر – رواه أبو داود والترمذي.

১৫৩৯। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার সাহাবীদের কেউ যেন আমায় কাছে অন্য কারো দোষ বর্ণনা না করে। কেননা আমি তোমাদের সাথে প্রশান্ত হৃদয় নিয়ে মিলিত হতে চাই। ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৬ – দ্বিমুখীপনার প্রতি তিরষ্কার

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : يَسْتَخْفُونَ مِنَ النَّاسِ وَلَا يَسْتَخْفُونَ مِنَ اللَّهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرْضَى مِنَ الْقَوْلِ وَكَانَ اللهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطًا.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“এরা মানুষের কাছ থেকে নিজেদের কর্মকাণ্ড লুকাতে পারে, কিন্তু আল্লাহ থেকে গোপন করতে পারে না। তিনি তো ঠিক সে সময়ও তাদের সাথে থাকেন, যখন তারা রাতের অন্ধকারে গোপনে তাঁর মর্জির পরিপন্থী পরামর্শ করতে থাকে। এদের সমস্ত কার্যকলাপ আল্লাজ্বর আয়ত্তাধীন।” (সূরা আন্ নিসাঃ ১০৮)

١٥٤٠ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَجِدُونَ النَّاسَ مَعَادِنَ خِيَارُهُمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ خِيَارُهُمْ فِي الْإِسْلَامِ إِذَا فقَهُوا وَتَجِدُونَ خِيَارَ النَّاسِ فِي هذا الشأنِ أَشَدَّهُمْ كَرَاهِيَةً لَهُ وَتَجِدُونَ شَرِّ النَّاسِ ذا الْوَجْهَيْنِ الَّذِي يَأْتِي هؤلاء بوجه وهؤلاء بوجه – متفق عليه.

১৫৪০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা দেখবে মানুষ খনিজ সম্পদের মত। তাদের মধ্যে যারা জাহিলী যুগে উত্তম ছিল ইসলামী সমাজেও তারাই উত্তম হবে যখন তারা (দীন ইসলামের) পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করবে। তোমরা প্রশাসনে ঐসব লোকদের ভালো পাবে যারা সরকারী দায়িত্ব গ্রহণ করতে খুবই অপছন্দ করে। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে খারাপ, যে একবার এই দলের কাছে এক রূপ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে এবং আরেকবার অন্য এক রূপে অন্য দলের কাছে আত্মপ্রকাণ করে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٤١ – وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ أَنْ نَاسًا قَالُوا لِجَدِهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا إِنَّا نَدْخُلُ عَلَى سَلاطيننَا فَتَقُولُ لَهُم بخلاف مَا نَتَكَلَّمُ إِذَا خَرَجْنَا مِنْ نفَاقًا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِندِهِمْ قَالَ كُنَّا نَعُدُّ هذا : روَاهُ الْبُخَارِي.

১৫৪১। মুহাম্মাদ ইবনে যায়িদ (রা) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) লোকেরা আমার দালা আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা)-র কাছে এসে বললো, আমরা আমাদের শাসনকর্তার কাছে যাই এবং তার সাথে কথাবার্তা বলি। যখন সেখান থেকে ফিরে আসি তখন তার বিপরীত কথা বলি। আবদুল্লাহ (রা) বললেন, আমরা এটাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মুনাফিকী গণ্য করতাম।
ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৭ – মিথ্যা বলা হারাম

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“এমন কোন বিষয়ের পেছনে লেগে যেও না, যে সম্পর্কে তোমার জ্ঞান নেই। শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ সবকিছুর জন্যই জবাবদিহি করতে হবে।” (সূরা বনী ইসরাঈল: ৩৬)

وقَالَ تَعَالَى : مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلَ إِلا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ.

“যে কথাই সে বলুক তার সংরক্ষণের জন্য একজন সদাপ্রস্তুত পর্যবেক্ষক তার নিকট নিযুক্ত রয়েছে।” (সূরা কাফ : ১৮)

١٥٤٢ – وعن ابن مسعود رضى ى اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وسلم إِن الصدق يهدى إلى البر وأن البر يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ وَإِنَّ الرَّجُلَ لِيَصْدُقُ حتَّى يُكتب عند الله صديقا وأنَّ الكَذِبَ يَهْدِى إِلَى الْفُجُورُ وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِى إلَى النَّارِ وَإِنَّ الرِّجلَ لِيَكْذِبُ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ كَذَابًا مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৫৪২। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সত্যবাদিতা কল্যাণের দিকে পথ দেখায় এবং কল্যাণ মানুষকে জান্নাতের পথে নিয়ে যায়। কোন মানুষ সত্য কথা বলতে থাকলে আল্লাহ তাকে সত্যবাদীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। মিথ্যাচার পাপাচারের দিকে নিয়ে যায় এবং পাপাচার মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। কোন লোক মিথ্যা কথা বলতে থাকলে আল্লাহ তাকে মিথ্যাবাদীদের তালিকাভুক্ত করেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٤٣ – وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ارْبَعَ مَنْ كُنْ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا وَمَنْ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْ نِفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا إِذَا ا إذَا اؤْتُمِنَ خَانَ وَإِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وإذا عَاهَدَ غَدَرَ وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

১৫৪৩। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যার মধ্যে চারটি দোষ পাওয়া যাবে, সে পাকা মুনাফিক। যার মধ্যে তার যে কোন একটি খাসলত পাওয়া যাবে, সে তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকীর একটি খাসলত আছে বলা হবে। (আর ঐগুলি হলো) যে আমানাতের খিয়ানত করে, কথায় কথায় মিথ্যা বলে, চুক্তি ভঙ্গ করে এবং ঝগড়ায় অশ্লীল বাক্য ব্যবহার করে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٤٤ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَعَلَّمَ يعلم لم بَرَهُ كَلِفَ أَنْ يَعْقِدَ بَيْنَ شَعِيرَتَيْنِ وَلَنْ يُفْعَلَ وَمَنِ اسْتَمَعَ إلى حَدِيْثِ قَوْمٍ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ صُبِّ فِي أُذُنَيْهِ الْأَنَّكُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ صور صُورَةٌ عَيْبَ وَكَلِفَ أنْ يُنْفُخَ فِيهَا الرُّوحَ وَلَيْسَ بِنَافِعَ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ. تَعَلَّمَ أَي قَالَ إِنَّهُ حَلَمَ فِي نَوْمِهِ وَرَأَى كَذَا وَكَذَا وَهُوَ كَاذِبٌ وَالْأَنَّكَ وَهُوَ الرَّصاصِ الْعَذَابُ.

১৫৪৪। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন স্বপ্ন বর্ণনা করে যা সে আদৌ দেখেনি, তাকে দুইটি যবের দানার মধ্যে গিট লাগাতে বাধ্য করা হবে, কিন্তু সে কখনও তা পারবে না। যে ব্যক্তি চুপিসারে কোন লোক সমষ্টির এমন কথা শুনবে যা (ঐ ব্যক্তি শুনুক তা) তারা পছন্দ করে না, কিয়ামাতের দিন তার কানে তপ্ত গলিত সীসা ঢেলে দেয়া হবে। যে ব্যক্তি কোন জীবের প্রতিকৃতি বা ছবি নির্মাণ করবে তাকে শান্তি দেয়া হবে এবং তাকে বাধ্য করা হবে তার মধ্যে জীবন দান করতে, কিন্তু সেটা তার পক্ষে সম্ভব হবে না।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ‘তাহাল্লামা’ শব্দের অর্থ: কোন লোকের বলা যে, ঘুমের মধ্যে সে স্বপ্ন দেখেছে এবং এরূপ এরূপ দেখেছে। আসলে তার বক্তব্য মিথ্যা। ‘আনুক’ বলা হয় তপ্ত গলিত সীসাকে।

١٥٤٥ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أخرى القرى أن يُرى الرَّجُلُ عَيْنَيْهِ مَا لَمْ تَرَيَا رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ، وَمَعْنَاهُ يَقُولُ رَأَيْتُ فِيمَا لَمْ يَرْهُ.

১৫৪৫। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সবচেয়ে বড় অপবাদ হলো, কোন ব্যক্তির নিজ চোখকে এমন জিনিস দেখানো, যা তার চোখ প্রকৃতপক্ষে দেখেনি।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ এইরূপ মিথ্যা বলা যে, ‘আমি এইরূপ স্বপ্ন দেখেছি”, অথচ সে তা দেখেনি।

١٥٤٦ – وَعَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِمَّا يُكْثِرُ أَنْ يَقُولَ لِأَصْحَابِهِ هَلْ رَأَى أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنْ رُؤْيَا ؟ فَيَقْصُ عَلَيْهِ مَنْ شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقْصُ وَإِنَّهُ قَالَ لَنَا ذَاتَ غَدَاةٍ إِنَّهُ أَتَانِي اللَّيْلَةَ أَتِيَانِ وَإِنَّهُمَا قَالاً لِي انْطَلِقُ وَإِنِّي انْطَلَقْتُ مَعَهُمَا وَإِنَّا آتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ مُضْطَجِع وَإِذَا أخَرُ قَائِمٌ عَلَيْهِ بِصَخْرَةٍ وَإِذَا هُوَ يَهْوِي بِالصَّخْرَةِ لِرَأْسِهِ فَيَبْلُغُ رَأْسَهُ فَيَتَدَهْدَهُ الْحَجَرُ هَاهُنَا فَيَتْبَعُ الْحَجَرَ فَيَأْخُذُهُ فَلا يَرْجِعُ إِلَيْهِ حَتَّى يَضِحُ رَأْسُهُ كَمَا كَانَ ثُمَّ يَعُودُ عَلَيْهِ فَيَفْعَلُ به مثل مَا فَعَلَ الْمَرَّة الأولى قَالَ قُلْتُ لَهُمَا سُبْحَانَ اللَّهِ مَا هذان. قَالَا لِي انْطَلِقُ انْطَلِقُ فَانْطَلَقْنَا فَآتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ مُسْتَلْقِ لِقَفَاهُ وَإِذَا أَخَرُ قَائِمٌ عَلَيْهِ بِكَلُوبُ مِنْ حَدِيدٍ وَإِذَا هُوَ يَأْتِي أَحَدَ شَقَى وَجْهِهِ فَيُشَرْشِرُ شِدُقَهُ إِلَى قَفَاهُ وَمَنْخِرَهُ إِلى قَفَاهُ وَعَيْنَهُ إِلى قَفَاهُ ثُمَّ يَتَحَولُ إِلَى الْجَانِبِ الْآخَرِ فَيَفْعَلُ بِهِ مِثْلَ مَا فَعَلَ بِالْجَانِبِ الْأُولِ فَمَا يَفْرُعُ مِنْ ذَلِكَ الْجَانِبِ حَتَّى يَصِحٌ ذَلِكَ الْجَانِبُ كَمَا كَانَ ثُمَّ يَعُودُ عَلَيْهِ فَيَفْعَلُ مِثْلَ مَا فَعَلَ فِي الْمَرَةِ الْأَوْلَى قَالَ قُلْتُ سُبْحَانَ الله ما هذان. قَالَ قَالاً لى انطلِقَ انْطَلِقُ فَانْطَلَقْنَا فَآتَيْنَا عَلَى مثلِ التَّنُّورِ فَاحْسِبُ أَنَّهُ قَالَ فَإِذَا فِيهِ لَغَطْ وَأَصْوَاتٌ فَاطَّلَعْنَا فِيْهِ فَإِذَا فِيهِ رِجَالٌ وَنِسَاءٌ عُرَاةٌ وَإِذَا هُمْ يَأْتِيهِمْ لَهَبْ مِنْ أَسْفَلَ مِنْهُمْ فَإِذَا آتَاهُمْ ذَلِكَ اللَّهَبُ ضَوْضَوا قُلْتُ مَا هُؤلاء. قَالاً لِي انْطَلِقَ انْطَلِقُ فَانْطَلَقْنَا فَآتَيْنَا عَلَى نَهْرٍ حَسِبْتُ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ أَحْمَرُ مِثْلُ الدَّمِ وَإِذَا فِي النَّهْرُ رَجُلٌ سَابِحٌ يَسْبَحُ وَإِذَا عَلَى شَطِ النَّهْرِ رَجُلٌ قَدْ جَمَعَ عِنْدَهُ حِجَارَةً كَثِيرَةٌ وَإِذَا السَّابِحُ يَسْبَحُ مَا يَسْبَحُ ثُمَّ يَأْتِي ذَلِكَ الَّذِي قَدْ جَمَعَ عِنْدَهُ الْحِجَارَةَ فَيَفْغَرُ لَهُ فَاهُ فَيُلْقِمُهُ حَجَرًا فَيَنْطَلِقُ فَيَسْبَحُ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَيْهِ كُلَّمَا رَجَعَ إِلَيْهِ فَغَرَ لَهُ فَاهُ فَالْقَمَهُ حَجَرًا قُلْتُ لَهُمَا مَا هُنَانِقالاً لي انطلق لِنطَلِقُ فَانْطَلَقْنَا فَآتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ كَرِيْهِ الْمَرْأَةِ أَوْ كَاكَرِهِ مَا أَنْتَ را ، رَجُلًا مَرَأَى فَإِذَا هُوَ عِنْدَهُ نَارٌ يَحْشُهَا وَيَسْعَى حَوْلَهَا قُلْتُ لَهُمَا مَا هُنَا.
قالاً لي انطلق انطلق فَانْطَلَقْنَا فَاتَبْنَا عَلَى رَوْضَةٍ مُعْتَمَةٍ فِيْهَا مِنْ كُلِّ نَوْرٍ الربيع وَإِذَا بَيْنَ ظَهرَى الرُّوضَةِ رَجُلٌ طويل لَا أَخَادُ أَرَى رَأْسَهُ طُوْلاً فِي السَّمَاءِ
وإذا حَوْلَ الرَّجُلِ مِنْ أَكْثَرِ وَلْدَانِ رَأَيْتُهُمْ قَط قُلْتُ مَا هُذَا وَمَا هَؤُلَاءِ. قَالَا لِي انطلق انطلق فانطلقنا فَاتَيْنا إلى دوحة عَظِيمَةٍ لَمْ أَرَ دَوْحَةً قَطُّ أَعْظَمَ مِنْهَا وَلَا أحْسَنَ قَالاً لِي ارْقَ فِيهَا فَارْتَقَيْنَا فِيهَا إلى مدينة مبنية يلين ذهب ولين فضة فَآتَيْنَا بَابَ الْمَدِينَةِ فَاسْتَفْتَحْنَا فَفُتِحَ لَنَا فَدَخَلْنَاهَا فَتَلَقَّانَا رِجَالٌ شَطْرٌ مِنْ خَلْقِهِمْ كَاحْسَنِ مَا أَنْتَ رَاء وَشَطْرٌ مِنْهُمْ كَانُبَحْ مَا أَنْتَ رَاءٍ قَالَا لَهُمْ اذْهَبُوا فَقَعُوا فِي ذَلِكَ النَّهْرِ وَإِذَا هُوَ نَهْرٌ مُعْتَرِضُ يَجْرِي كَأَنَّ مَاءَهُ الْمَحْضُ فِي الْبَيَاضِ فَذَهَبُوا فَوَقَعُوا فِيهِ ثُمَّ رَجَعُوا إِلَيْنَا قَدْ ذَهَبَ ذَلِكَ السُّوءُ عَنْهُمْ فَصَارُوا في أحسن صورة. قَالَ قَالاً لِي هَذِهِ جَنَّةُ عَدْنٍ وَهَذَاكَ مَنْزِلَكَ فَسَمَا بَصَرِي صُعْدًا فَإِذَا قَصَرٌ مِثْلُ الرِّبَابَةِ البَيْضَاءِ قَالَا لِي هَذَاكَ مَنْزِلَكَ قُلْتُ لَهُمَا بَارَكَ اللَّهُ فِيكُمَا فَدَرَانِي فَادْخُلَهُ قَالَا أَمَا الْآنَ فَلَا وَأَنْتَ دَاخِلُهُ قُلْتُ لَهُمَا فَإِنِّي رَأَيْتُ مُنْدُ اللَّيْلَةَ عَجَبًا فَما هذا الذى رَأَيْتُ قَالاً لى أمَا إِنَّا سَنُخْبِرُكَ أَما الرَّجُلُ الأول الذي أتيتَ عَلَيْهِ يُبْلُغُ رَأْسَهُ بِالْحَجَرِ فَإِنَّهُ الرَّجُلُ يَأْخُذُ الْقُرْآنَ فَيَرْفُضُهُ وَيَنَامُ عَنِ الصلاة المكتوبة، وأما الرَّجُلُ الَّذِي آتَيْتَ عَلَيْهِ يُشَرُشَرُ شَدَّقَهُ إِلَى قَفَاهُ وَمَنْخِرُهُ إلى قَفَاهُ وَعَيْنُهُ إِلَى قَفَاهُ فَإِنَّهُ الرَّجُلُ يَغْدُو مِنْ بَيْتِهِ فَيَكْذِبُ الْكَلْبَةَ تَبْلُغُ الْأَفَاقَ، وَأَمَّا الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ الْعُرَاةُ الَّذِينَ هُمْ فِي مِثْلِ بِنَاءِ التَّنُّورِ فَإِنَّهُمُ الزَّنَاةُ والزواني. وأما الرَّجُلُ الَّذِي آتَيْتَ عَلَيْهِ يَسْبَحُ فِي النَّهْرِ وَيُلْقَمُ الْحِجَارَةَ فَإِنَّهُ أكل الربا. وأما الرَّجُلُ الكَريه المراة الذي عِنْدَ النَّارِ يَحْشُهَا وَيَسْعَى حَوْلَهَافَإِنَّهُ مَالِكَ خَازِنُ جَهَنَّمَ. وأما الرَّجُلُ الطويلُ الَّذِي فِي الرُّوضَةِ فَإِنَّهُ إِبْرَاهِيمَ عليه السلام. وأما الوِلْدَانُ الَّذِينَ حَوْلَهُ فَكُلُّ مَوْلُودِ مَاتَ عَلَى الْفِطْرَةِ، وَفِي روايَةِ الْبَرْقَانِي وَلِدَ عَلَى الْفِطْرَةِ فَقَالَ بَعْضُ الْمُسْلِمِينَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَأَوْلَادُ الْمُشْرِكِينَ فَقَالَ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَوْلَادُ الْمُشْرِكِينَ وَأَمَّا الْقَوْمُ الَّذِينَ كَانُوا شَطْرَ مِنْهُمْ حَسَنٌ وَشَطَرٌ مِنْهُمْ قَبِيحٌ فَإِنَّهُمْ قَوْمٌ خَلَطُوا عَمَلاً صَالِحًا وَآخَرَ سَيئًا تَجَاوَزَ اللَّهُ عَنْهُمْ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.
وفي روايةٍ لَهُ رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ رَجُلَيْنِ انيَانِي فَاخْرَجَانِي إِلَى أَرْضِ مُقَدِّسَةٍ ثُمَّ ذَكَرَهُ وقَالَ فَانطلقنا إلى نقب مثل التنور أعلاه ضيق وَاسْفَلَهُ وَاسِعٌ يَتَوَفَّدُ تَحْتَهُ نَارًا فاذا ارْتَفَعَتِ ارْتَفَعُوا حَتَّى كَادُوا أَنْ يُخْرُجُوا وَإِذَا خَمَدَتْ رَجَعُوا فِيهَا وَفِيهَا رجالٌ وَنِسَاءٌ عُرَاةٌ وَفِيهَا حَتَّى أَتَيْنَا عَلَى نَهْرٍ مِّنْ دَرٍ وَلَمْ يَسُكَ فِيهِ رَجُلٌ قَائِمٌ على وسط النَّهْرِ وَعَلَى شَطِ النَّهْرِ رَجُلٌ وبَيْنَ يَدَيْهِ حِجَارَةٌ فَأَقْبَلَ الرَّجُلُ الَّذِي فِي النهر فإذا أراد أن يخرجَ رَمَى الرَّجُلُ بِحَجَرٍ فِي فِيهِ فَرَدَّهُ حَيْثُ كَانَ فَجَعَلَ كُلَّمَا جَاءَ لِيَخْرُجَ جَعَلَ يَرْمِي فِي فِيهِ بِحَجَرٍ فَيَرْجِعُ كَمَا كَانَ، وَفِيْهَا فَصَعِنَا بِي الشجرة فادخلاني داراً لم از قط أحْسَنَ مِنْهَا فِيهَا رِجَالٌ شُيُوخٌ وَشَبَابٌ. وَفِيهَا الَّذِي رَأَيْتَهُ يُشَقُّ شَدْقَهُ فَكَذَابٌ يُحَدِّثُ بِالْكَذَّبَةِ فَتُحْمَلُ عَنْهُ حَتَّى تَبْلُغَ الأفَاقَ فَيُصْنَعُ بِهِ مَا رَأَيْتَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَفِيهَا الَّذِي رَأَيْتَهُ يُشْدَخُ رَأْسُهُ فَرَجُلٌ عَلَّمَهُ اللهُ الْقُرْآنَ فَنَامَ عَنْهُ بِاللَّيْلِ وَلَمْ يَعْمَل فِيهِ بِالنَّهَارِ فَيُفْعَلُ بِه إِلى يَوْمِ الْقِيَامَةِ. والدار الأولى التي دَخَلْتَ دَارُ عَامَّةِ الْمُؤْمِنِينَ وَأَمَّا هَذِهِ الدَّارُ قدار الشهداء وأنا جبْرِيلُ وهذا ميكائيل فَارْفَعْ رَأْسَكَ فَرَفَعْتُ رَأْهِي فَإِذَا فَوقِي مِثْلُ السَّحَابِ قَالاً ذاكَ منزلكَ قُلْتُ دَعَانِي أَدْخَلُ مَنْزِلِي قَالَا إِنَّهُ بَنِي لكَ عُمْرٌ لَمْ تَسْتَكْمِلُهُ فَلَوْ اسْتَكْمَلْتَهُ أَتَيْتَ مَنْزِلِكَ رَوَاهُ الْبُخَارِي

১৫৪৬। সামুরা ইবনে জুনদুব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই তাঁর সাহাবীদের জিজ্ঞেস করতেন: তোমাদের কেউ কোন স্বপ্ন দেখেছে কি? যাকে আল্লাহ তৌফিক দিতেন, তিনি তার স্বপ্নের কথা বর্ণনা করতেন। একদিন সকালে তিনি আমাদের বলেনঃ আজ রাতে (স্বপ্নে) আমার কাছে দুইজন আগন্তুক এসেছিল। তারা আমাকে বলল, আমাদের সাথে চলুন। আমি তাদের সাথে গেলাম। আমরা এমন এক লোকের কাছে গিয়ে পৌঁছলাম, যে চিত হয়ে শুয়ে আছে। অপর এক ব্যক্তি পাথর নিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সে পাথর দিয়ে শুয়ে থাকা ব্যক্তির মাথায় আঘাত করছে এবং তা থেতলিয়ে দিচ্ছে। যখন সে পাথর নিক্ষেপ করছে তখন তা গড়িয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। লোকটি গিয়ে পুনরায় পাথরটি তুলে নিচ্ছে এবং তা নিয়ে ফিরে আসার সাথে সাথে লোকটির মাথা পুনরায় পূর্বের ন্যায় ভালো হয়ে যাচ্ছে। সে আবার লোকটির কাছে ফিরে এসে তাকে পূর্বের মত শাস্তি দিচ্ছে (এভাবে শান্তির এই ধারা অবিরত চলছে)। তিনি বলেনঃ আমি আমার সংগী দু’জনকে জিজ্ঞেস করলাম, সুবহানাল্লাহ। এরা কারা? তারা আমাকে বলল, সামনে চলুন, সামনে চলুন।

সুতরাং আমরা সামনে অগ্রসর হলাম। আমরা এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে, পৌঁছলাম। সে ঘাড় বাঁকা করে শুয়ে আছে। অপর ব্যক্তি তার কাছে লোহার আঁকড়া নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে তার চেহারার এক দিক থেকে তার মাখা, নাক ও চোখকে ঘাড় পর্যন্ত চিরে ফেলছে। পুনরায় তার মুখমণ্ডলের অপর দিক দিয়েও প্রথম দিকের মত মাথা, নাক ও চোখ ঘাড় পর্যন্ত চিরছে। চেহারার দ্বিতীয় পার্শ্বের চেরা শেষ হওয়ার সাথে সাথে প্রথম পার্শ্ব পূর্ববৎ ঠিক হয়ে যাচ্ছে। পুনরায় লোকটি এপাশে এসে আবার আগের মত চিরছে (এভাবেই শান্তির ধারা অবিরত চলছে)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ। এরা কারা? তারা উভয়ে আমাকে বলল, সামনে চলুন, সামনে চলুন।

আমরা অগ্রসর হলাম এবং চুলার মত একটা গর্তের কাছে গিয়ে পৌঁছলাম। হাদীসের রাযী (বর্ণনাকারী) বলেন, “আমার ধারণা, তিনি বলেছেন, গর্তের ভিতর জোরে চিৎকার ও শোরগোল হচ্ছিল”। আমরা উঁকি দিয়ে দেখলাম, অনেক উলঙ্গ নারী-পুরুষ সেখানে রয়েছে। তাদের নীচ থেকে আগুনের লেলিহান শিখা উঠছে। যখন তা তাদেরকে বেষ্টন করে ধরছে তখন তারা জোরে চিৎকার করছে। আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? তারা আমাকে বলল, সামনে চলুন, সামনে চলুন।

আমরা সামনে অগ্রসর হয়ে একটি ঝর্ণার ধারে পৌছলাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন, এর পানির রং ছিল রক্তের মত লাল। ঝর্ণার মধ্যে এক ব্যক্তি সাঁতার কাটছে। অন্য ব্যক্তি ঝর্ণার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সে তার কাছে অনেক পাথর স্তূপ করে রেখেছে। সন্তরণকারী যখন সাঁতার কাটতে কাটতে কিনারের ব্যক্তির কাছে আসছে, সে তার মুখের উপর এমন এক পাথর নিক্ষেপ করছে যাতে তার মুখ চুরমার হয়ে যাচ্ছে। সে আবার সাঁতরাতে শুরু করছে। এভাবে সাঁতরাতে সাঁতরাতে যখনই সে ঝর্ণার কিনারায় পৌঁছে, তখনই ঐ ব্যক্তি পাথর নিক্ষেপ করে তার মুখ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। আমি সাথীদ্বয়কে জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? তারা আমাকে বলল, সামনে চলুন, সামনে চলুন।

আমরা সামনে অগ্রসর হয়ে কুৎসিত দর্শন এক ব্যক্তির কাছে এসে পৌঁছলাম। তার মত কদাকার চেহারার লোক খুব একটা দেখা যায় না। তার সামনে রয়েছে জ্বলন্ত আগুন। সে তার চারপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। আমি সংগীদের জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? তারা বলল, সামনে চলুন, সামনে চলুন।

আমরা সেখান থেকে সামনে এগিয়ে একটা সবুজ-শ্যামল বাগানে পৌঁছলাম। সর্ব প্রকারের বসন্তকালীন ফলে বাগানটি সুসজ্জিত। বাগানের মাঝখানে একজন দীর্ঘকায় লোক দেখতে পেলাম। দেহের উচ্চতার জন্য তার মাথা যেন আমি দেখতে পাচ্ছিলাম না। মনে হচ্ছিল তার মাথা আসমানের সাথে ঠেকে গেছে। তার চারপাশে অনেক ছোট ছোট শিশু, যাদেরকে আমি কখনও দেখিনি। আমি সাথীদ্বয়কে জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে এবং এই শিশুরা কারা? সাথীন্বয় আমাকে বলল, সামনে চলুন, সামনে চলুন।

আমরা সেখান থেকে এগিয়ে গিয়ে একটা বিরাট বৃক্ষের কাছে পৌঁছলাম। এর চেয়ে বড় এবং সুন্দর গাছ ইতিপূর্বে আমি কখনও দেখিনি। তারা আমাকে গাছে উঠতে বলল। গাছ বেয়ে আমরা সবাই এমন একটি শহরে পৌঁছলাম, যা ছিল সোনা ও রূপার ইট দিয়ে তৈরী। আমরা নগরীর দরজার পৌঁছে দরজা খুলতে বললে আমাদের জন্য তা খুলে দেয়া হল। আমরা প্রবেশ করলে সেখানে এমন কতক লোক আমাদের সাথে দেখা করলো যাদের শরীরের অর্ধেক এত সুন্দর এবং অর্ধেক এত কুৎসিৎ যে, তুমি খুব কমই তন্ত্রপ দেখতে পাবে। আমার সংগীন্বয় তাদেরকে বলল, যাও, এই ঝর্ণার মধ্যে নামো। এখানে বাগানের মাঝ দিয়ে একটি ঝর্ণা ছিল। তার পানি ছিল খুবই স্বচ্ছ। তারা গিয়ে ঐ কর্ণায় নামলো। অতঃপর উঠে আমাদের কাছে আসলো। তখন তাদের দেহের কদাকার অংশ আর অবশিষ্ট নেই। সম্পূর্ণ দেহ সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়ে গেল।

রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, সাথীদ্বয় আমাকে বলল, এটা ‘আদন’ নামক জান্নাত। আর এটাই আপনার বাসস্থান। আমি উপরের দিকে দৃষ্টিপাত করে সাদা মেঘের মত ধবধবে একটি বালাখানা দেখতে পেলাম। সাথীদ্বয় বলল, এটা আপনার বাসভবন। আমি বললাম, আল্লাহ তোমাদের অফুরন্ত কল্যাণ দান করুন। আমাকে একটু ভেতরে গিয়ে দেখতে দাও। তারা বলল, এখন আপনি প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে হাঁ, ওখানে আপনিই প্রবেশ করবেন।

আমি তাদেরকে বললাম, আমি আজ রাতে অনেক আশ্চর্যজনক বিষয় দেখলাম। এগুলো কী দেখলাম? তারা বলল, আমরা এগুলো সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই অবহিত করবো।

প্রথমে যে ব্যক্তির কাছ দিয়ে আপনি এসেছেন, যার মাথা প্রস্তুরাঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হচ্ছে, সে আল কুরআন মুখস্থ করে তা পরিত্যাগ করেছে এবং ফরয নামায না পড়েই ঘুমিয়ে যেতো।
দ্বিতীয়, যে ব্যক্তির কাছ দিয়ে আপনি এসেছেন, যার মাথা, নাক ও চোখ ঘাড় পর্যন্ত লোহার আঁকড়া দিয়ে চিরে দেয়া হচ্ছে, সে সকাল বেলা ঘর থেকে বের হয়েই এমন সব মিথ্যা কথা বলত যা সাধারণ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তো।

তৃতীয়, যেসব উলঙ্গ নারী-পুরুষকে আপনি আগুনের গর্তের মধ্যে দেখেছেন, তারা হল ব্যভিচারী নারী-পুরুষ।

চতুর্থ, যে ব্যক্তিকে ঝর্ণার মধ্যে সাঁতার কাটতে দেখেছেন এবং যার মুখে প্রস্তরাঘাত করা হচ্ছে, সে ছিল সুদখোর।

পঞ্চম, যে কদাকার ব্যক্তিকে আগুন জ্বালাতে এবং তার চারপাশে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় দেখেছেন, সে হল জাহান্নামের দারোগা মালিক।

ষষ্ঠ, বাগানের মধ্যকার দীর্ঘাঙ্গী ব্যক্তি হলেন ইবরাহীম (আ)। আর তাঁর চতুষ্পার্শ্বের শিশুরা হল যারা সত্য দীনের উপর জন্মেছে এবং মৃত্যুবরণ করেছে।

হাদীসের রাবী বলেন, কোন একজন মুসলিম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল। মুশরিকদের শিশু সন্তানদের কী অবস্থা হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তাদের মধ্যে মুশরিকদের শিশু সন্তানরাও আছে।

সপ্তম, অর্ধেক কুৎসিত ও অর্ধেক সুশ্রী দেহের যে লোকগুলোকে দেখেছেন, তারা ভাল-মন্দ উভয় ধরনের কাজে লিপ্ত হয়েছিল, আল্লাহ তাদের এ অপরাধ ক্ষমা করে দিয়েছেন।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তার অন্য বর্ণনায় আছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আজ রাতে আমার কাছে দুই ব্যক্তি এসে আমাকে এক পবিত্র ভূমিতে নিয়ে গেল। অতঃপর তিনি উপরে বর্ণিত ঘটনা বললেন, আমরা রওয়ানা হয়ে চুলার মত একটি গর্তের কাছে গিয়ে পৌঁছলাম। এর উপরের দিকটা সংকীর্ণ এবং নীচের দিকটা প্রশস্ত ছিল এবং এর মধ্যে আগুন জ্বলছিল। লেলিহান শিখা সজোরে উপরের দিকে আসার সাথে সাথে ভিতরের লোকগুলিও উপরে চলে আসত, এমনকি তাদের গর্তের মুখ দিয়ে বের হওয়ার উপক্রম হত। অগ্নি-শিখার তেজ কমে গেলে তারা আবার নিচে নিক্ষিপ্ত হত। এখানকার শান্তিপ্রাপ্ত নারী-পুরুষ সবাই উলংগ।

হাদীসের পরবর্তী বর্ণনা: অতঃপর আমরা রক্তে পরিপূর্ণ একটি ঝর্ণার কাছে গিয়ে পৌছলাম। ঝর্ণার মাঝখানে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং কিনারায়ও একজন। তার সামনে কতগুলি পাথর রয়েছে। ঝর্ণার মাঝখানের ব্যক্তি সামনে এগিয়ে এসে যখনই ঝর্ণা থেকে উঠে আসার চেষ্টা করছে তখনই কিনারার ব্যক্তি তার মুখের উপর পাথর মেরে তাকে স্বস্থানে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এভাবে যখনই সে উঠে আসার চেষ্টা করছে তখনই ঐ ব্যক্তি তার মুখের উপর পাথর মেরে তাকে তাড়িয়ে দিচ্ছে এবং সে স্বস্থানে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

এতে আরো আছে: আমার দুই সাথী আমাকে নিয়ে একটি গাছে উঠল। তারা আমাকে অতি সুন্দর একটি ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলো, যার চেয়ে সুন্দর ঘর ইতিপূর্বে আমি আর কখনও দেখিনি। এর মধ্যে যুবক, বৃদ্ধ উভয় শ্রেণীর লোক দেখলাম।

এতে আরো আছে: যার মস্তক থেকে ঘাড় পর্যন্ত চিরতে দেখলাম সে ছিল মিথ্যাবাদী। সে মিথ্যা বলত আর সেগুলো বর্ণনা করা হতো এবং এভাবে তা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ত। আয় এই শাস্তি কিয়ামাত পর্যন্ত চলতে থাকবে।

ঐ বর্ণনায় আরও আছে: যে ব্যক্তির মাথা চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে দেখলাম, আল্লাহ তাকে আল কুরআনের শিক্ষা লাভের সৌভাগ্য দান করেছিলেন। কিন্তু সে তা রেখে রাতের বেলা শুধু ঘুমিয়ে কাটাত এবং দিনের বেলা আল কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করত না। তাকেও এভাবে কিয়ামাত পর্যন্ত শাস্তি দেয়া হবে।

আর প্রথমে যে ঘরটিতে আপনি প্রবেশ করেছিলেন তা সাধারণ মুমিনদের বাসস্থান। আর এই ঘরটি শহীদদের বাসস্থান। আমি হলাম জিবরীল আর উনি হলেন মীকাঈল (আ)। আপনি আপনার মাথা উপরের দিকে তুলুন। আমি মাথা উপরদিকে তুলে আমার মাথার উপরে মেঘের মত কিছু দেখতে পেলাম। তারা উভয়ে বলল, এটা আপনার বাসস্থান। আমি বললাম, আমাকে একটু আমার ঘরে প্রবেশ করতে দাও। তারা বলল, আপনার হায়াত (জীবনকাল) এখনও অবশিষ্ট আছে যা আপনি পূর্ণ করেননি। যদি আপনার জীবনকাল পূর্ণ করে থাকতেন তাহলে আপনি এই প্রাসাদে প্রবেশ করতে পারতেন।”

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৮ – যেসব ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা জায়েয

ইমাম নববী (র) বলেন, মিথ্যা বলা মূলত হারাম। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে কতগুলো শর্ত সাপেক্ষে তা জায়েয। আমার ‘কিতাবুল আযকার’ শীর্ষক গ্রন্থে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সংক্ষেপে তা হলো: উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই মানুষকে কথা বলতে হয়। ভালো উদ্দেশ্য যদি মিথ্যা ছাড়া লাভ করা যায় তাহলে সে ক্ষেত্রে মিথ্যা কথা বলা হারাম। কিন্তু যদি তা মিথ্যা কথা বলা ছাড়া লাভ করা না যায়, তবে সে ক্ষেত্রে মিথ্যা কথা বলা জায়েয। উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য যদি মুবাহ হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে মিথ্যা বলাও মুবাহ। আর যদি তা ওয়াজিব হয় তাহলে মিথ্যা বলাও ওয়াজিব। যেমন কোন হত্যাকারী যালিমের ভয়ে কোন মুসলিম কোন ব্যক্তির কাছে লুকিয়ে আছে অথবা ধন-সম্পদ লুট হয়ে যাওয়ার ভয়ে তা অন্যের কাছে সরিয়ে রেখেছে, আর যালিম যদি কারো কাছে তা জানার জন্য খোঁজ নেয়, তখন মিথ্যা বলা ঐ ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব। এমনিভাবে কারো কাছে যদি কোন আমানত গচ্ছিত থাকে আর যালিম যদি তা ছিনিয়ে নিতে চায়, তবে তা গোপন করার জন্য মিথ্যা বলা ওয়াজিব। এসব ক্ষেত্রে রূপক ভাষার মাধ্যমে কাজ উদ্ধার করতে হবে। তার কথার সাথে সঠিক উদ্দেশ্য থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সে মিথ্যুক হবে না যদিও শব্দগুলো বাহ্যত মিথ্যার অর্থ প্রকাশ করে বা যাকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে তার দিক থেকে বিচার করলে তা মিথ্যাই মনে হয়। এই অবস্থায় যদি চতুরতা পরিহার করে সরাসরি মিথ্যা কথা বলা হয়, তবুও তা হারাম হবে না।

এসব ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা জায়েয হওয়ার ব্যাপারে আলিমগণ উন্মু কুলসুম (রা) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন। হাদীসটি এখানে উল্লেখ করা হলো: তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি :

ليس الكتاب الذي يصلحHone بين الناس فيتمي خيراً أو يقول خيرا.

শান্তি স্থাপন করে সে মিথ্যুক নয়, বরং সে কল্যাণ বৃদ্ধি করে এবং কল্যাণের কথা বলে। হাদীসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম তার বর্ণনায় এই কথাগুলো উল্লেখ করেছেন: উন্মু কুলসুম (রা) বলেন, আমি তাকে কখনও মানুষকে চতুরতা অবলম্বন করার অনুমতি দিতে শুনিনি। তবে তিনটি ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন, যুদ্ধের ব্যাপারে, মানুষের মাঝে বিবাদ মিটিয়ে সন্ধি ও শান্তি স্থাপনে এবং স্বামী-স্ত্রীর সাথে ও স্ত্রী স্বামীর সাথে কথোপাকথনে।

অনুচ্ছেদ: ৯ – সত্যাসত্য যাচাই করার পর কোন কথা বর্ণনা করতে হবে

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“যে সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার পেছনে লেগে যেও না।” (সূরা আল ইসরা: ৩৬)

وَقَالَ تَعَالَى : مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلِ إِلا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ.

“যে কথাই সে তার মুখ থেকে উচ্চারিত করে তা সংরক্ষণের জন্য তার নিকটেই সদাপ্রস্তুত একজন পর্যবেক্ষক প্রস্তুত রয়েছে।” (সূরা কাফঃ ১৮)

١٥٤٧ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كَفَى بِالْمَرْءِ كذبا أن يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৫৪৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে তাই বলে বেড়ায়।
হাদীসটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

١٥٤٨ – وَعَنْ سَمُرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ حَدَّثَ عَنِّي بِحَدِيثِ يَرَى أَنَّهُ كَذَّبٌ فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبِينَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ

১৫৪৮। সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার নামে মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করে এবং সে জানে যে, সে মিথ্যা বর্ণনা করছে, তাহলে সে মিথ্যাবাদীদের একজন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٤٩ – وَعَنْ أَسْمَاء رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنْ امْرَأَةً قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي ضَرَّةٌ فَهَلْ عَلَى جُنَاحٌ إِنْ تَشَبِّعْتُ مِنْ زَوْجِي غَيْرَ الَّذِي يُعْطِينِي فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُتَشَبَعُ بما لم يُعط كَلابِسِ تَوْبَى زُورٍ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ الْمُسْبَعُ هُوَ الذي يُظهر الشبعَ وَلَيْسَ بِشَبْعَانَ وَمَعْنَاهُ هُنَا أَنَّهُ يُظْهِرُ أَنَّهُ حَصَلَ لَهُ فَضِيلَةٌ وليست حاصلة. ولابس ثوبى زور أى ذي زُورٍ وَهُوَ الَّذِي يُزَوِّرُ عَلَى النَّاسِ بِأَنْ يتربى يزي أهل الزهد أو العلم أو الثروة لِيَغْتَرَ بِهِ النَّاسُ وَلَيْسَ هُوَ بِتِلْكَ الصَّفَةِ وَقِيلَ غَيْرُ ذَلِكَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

১৫৪৯। আসমা (রা) থেকে বর্ণিত। একজন স্ত্রীলোক বললো, হে আল্লাহর রাসুল। আমার একজন সতীন আছে। আমি যদি তাকে বলি, স্বামী আমাকে এটা দিয়েছে অথচ যে তা দেয়নি, তবে কি আমার কোন দোষ হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যতটুকু দেয়া হয়নি- যে ততটুকু দেখায় সে মিথ্যার দু’টি জামা পরিধানকারীর মত। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ‘আল-মুতাশাব্বিউ’ এমন ব্যক্তিকে বলা হয়, যে ক্ষুধার্ত থেকেও নিজেকে পানাহারে পরিতৃপ্ত বলে প্রকাশ করে। সে দেখাতে চায় যে, সে সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। অথচ প্রকৃতপক্ষে সে তা নয়। মিথ্যার দু’টি কাপড় পরিধানকারী কথাটির অর্থ হলো মিথ্যাবাদী। এর অর্থ যে ব্যক্তি মানুষের কাছে নিজেকে আলিম, যাহিদ ও সম্পদশালী বলে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে তাদের ধোঁকা দিতে চায়, অথচ প্রকৃতপক্ষে সে তা নয়। কেউ কেউ এর অন্যরূপ অর্থও বলেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১০ – মিথ্যা সাক্ষ্যদান কঠোরভাবে হারাম

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّور.

মহান আল্লাহ বলেন:

“মিথ্যা কথা-বার্তা পরিহার কর।” (সূরা আল হজ্জঃ ৩০)

وقال تعالى : وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ

“যে সম্পর্কে তোমার জ্ঞান নেই তার পিছনে লেগো না।” (সূরা আল ইসরা: ৩৬)

وَقَالَ تَعَالَى : مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْل إِلا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ.

“যে কথাই তার মুখে উচ্চারিত হয় তা সংরক্ষণের জন্য সদা প্রস্তুত একজন পর্যবেক্ষক তার সাথেই রয়েছে।” (সূরা কফ: ১৮)

“বস্তুত তোমার রব খাঁটিতে প্রতীক্ষমান হয়ে আছেন।” (সূরা আর ফাজর: ১৪)

وقَالَ تَعَالَى : إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ.وقال تعالى : وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ

“(রহমানের বান্দা তারা), যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না। কোন অর্থহীন বিষয়ের মুখোমুখী হলে তারা ভদ্র ও শরীফ মানুষের মতই পাশ কাটিয়ে চলে যায়।” (সূরা আল ফুরকান: ৭২)

١٥٥٠ – وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّمَ إِلا أَتَيْتُكُمْ بِاكْبَرِ الْكَبَائِرِ قُلْنَا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ الْإِشْرَاكَ بِاللَّهِ وَعُقُوقُ الوَالِدَيْنِ وَكَانَ مُتَكَنَّا فَجَلَسَ فَقَالَ إِلَّا وَقَوْلُ الزَّوْرِ فَمَا زَالَ يُكَبِّرُهَا حتَّى قُلْنَا لَيْتَهُ سَكَتَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৫৫০। আবু বাক্কা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সবচেয়ে বড় গুনাহ কী, আমি কি তোমাদের তা অবহিত করবো না? আমরা বললাম, হাঁ, হে আল্লাহর রাসুল। তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে শরীক করা এবং পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়া। তিনি (এ কথাগুলো) হেলান দেয়া অবস্থায় বলেছিলেন। অতঃপর তিনি সোজা হয়ে বসে বললেন: সাবধান! এবং মিথ্যা কথন। তিনি এ কথাটা বারবার বলতে থাকলেন। এমনকি আমরা বললাম, আহ্ঃ তিনি যদি এখন চুপ করতেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১১ – নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে বা কোন পশুকে অভিশাপ দেয়া হারাম

١٥٥١ – عَنْ أَبِي زَيْدِ بْنِ ثَابِتِ بْنِ الصِّحاكِ الْأَنْصَارِيِّ وَهُوَ مِنْ أَهْلِ بَيْعَةِ الرضوان قالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ خَلْفَ عَلَى يَمِين بملة غير الاسلام كَاذِبًا مُتَعَمِّداً فَهُوَ كَمَا قَالَ وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِشَيْءٍ عَذِّبَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَيْسَ عَلَى رَجُلٍ نَذَرَ فِيمَا لَا يَمْلِكُهُ وَلَعْنُ الْمُؤْمِنِ كَقَتْلِهِ متفق عَلَيْهِ.

১৫৫১। আবু যায়িদ সাবিত ইবনুদ দাহ্হাক আল-আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বাইআতে রিদওয়ান নামক মহান শপথ অনুষ্ঠানে অংশীদার ছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে ইসলাম ছাড়া অন্য মিল্লাত বা ধর্মের শপথ করে (বলে যে, সে যদি এরূপ করে তবে সে ইহুদী অথবা খৃষ্টান), তবে সে ঐ রকমই। কোন ব্যক্তি যে জিনিস দিয়ে আত্মহত্যা করবে, তাকে কিয়ামাতের দিন ঐ জিনিস দিয়ে শান্তি দেয়া হবে। মানুষ যে জিনিসের মালিক নয় তাতে তার কোন মানত হয় না। মুমিন ব্যক্তিকে অভিশাপ দেয়া তাকে হত্যা করার সমতুল্য।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٥٢ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لا يَنْبَغِي لِصِدِّيقَ أَنْ يَكُونَ لَعَانَا – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৫৫২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সত্যবাদী মুমিনের জন্য অত্যধিক অভিসম্পাতকারী হওয়া শোভনীয় নয়।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٥٣ – وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاء رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَكُونُ اللَّعَانُونَ شُفَعَاءَ وَلَا شُهَدَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৫৫৩। আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: অত্যধিক অভিসম্পাতকারীরা কিয়ামাতের দিন সুপারিশকারীও হতে পারবে না এবং সাক্ষীও হতে পারবে না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٥٤ – وَعَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَلاعَتُوا بلعنة الله ولا يغضبه ولا بالنَّارِ. رواه أبو داود والترْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৫৫৪। সামুরা ইবনে জুনদুব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাছ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পরস্পরকে আল্লাহর অভিশাপ, ক্রোধ ও জাহান্নাম দ্বারা অভিসম্পাত করো না।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।

١٥٥٥ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطَّعانِ وَلا اللعانِ وَلَا الْفَاحِشِ وَلَا الْبَدِي رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৫৫৫। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মুমিন ব্যক্তি কখনও ঠাট্টা-বিদ্রূপকারী, অভিশাপকারী, অশ্লীলভাষী ও অসদাচারী হতে পারে না।
ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।

١٥٥٦ – وَعَنْ أبي الدرداء رضى اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْعَبْدَ إِذ لَعَنَ شَيْئًا صعدت اللعْنَةُ إِلى السَّمَاء فَتُغْلَقُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ دُونَهَا ثُمَّ تَهْبِطُ إِلَى الْأَرْضِ فَتُغْلَقُ أَبْوَابُهَا دُونَهَا ثُمَّ تَأْخُذُ يَمِينًا وَشِمَالاً فَإِذا لم تَجِدُ مَسَاعًا رَجَعَتْ إِلى الذي لُعِنَ فَإِنْ كَانَ أَهْلاً لِذلِكَ وَالا رَجَعَتْ إِلَى قَائِلِهَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৫৫৬। আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: বান্দা যখন কোন কিছুর উপর লানত করে তখন তা আসমানের দিকে উঠে যায়। কিন্তু আসমানের দরজা সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায়। তখন তা-পৃথিবীতে ফিরে আসে। কিন্তু সাথে সাথে পৃথিবীর দরজাও বন্ধ হয়ে যায়। সুতরাং তা আবার ডানে বামে ছুটাছুটি করে। কিন্তু সেখানেও যদি তা কোন স্থান না পায় তাহলে যার প্রতি অভিশাপ করা হয়েছে সেখানে ফিরে যায়। যদি তা অভিশাপের উপযোগী হয় তবে সেখানে পতিত হয়, অন্যথায় তা অভিশাপকারীর কাছেই ফিরে যায়।
ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٥٧ – وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ وَامْرَأَةٌ مِّنَ الْأَنْصَارِ عَلَى نَاقَةٍ فَضْحِرَتْ فَلَعَنَتَها فَسَمِعَ ذَلِكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ خُذُوا مَا عَلَيْهَا وَدَعُوهَا فَإِنَّهَا مَلْعُوْنَةٌ قَالَ عِمْرَانَ فَكَانِي أَرَاهَا الْآنَ تَمْشِي فِي النَّاسِ مَا يَعْرِضُ لَهَا أَحَدٌ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৫৫৭। ইমরান ইবনুল হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে ছিলেন (আমরাও তাঁর সাথে ছিলাম)। এক আনসারী মহিলা তার উটটিকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে হাঁকাচ্ছিল আর অভিশাপ দিচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বললেন: উটের পিঠের সামানপত্র নামিয়ে নিয়ে এটিকে ছেড়ে দাও। কেননা এখন এটি অভিশপ্ত। ইমরান (রা) বলেন, আমি এখনও যেন উটটিকে দেখতে পাচ্ছি। তা লোকজনের মাঝে চরে বেড়াচ্ছে, কিন্তু কেউ তার প্রতি দৃষ্টিপাত করছে না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٥٨ – وَعَنْ أَبِي بَرْزَةً نَضْلَةَ بْنِ عُبَيْدِ الْأَسْلَمِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ بَيْنَمَا جَارِيَةٌ عَلَى نَاقَةٍ عَلَيْهَا بَعْضُ مَتَاعِ الْقَوْمِ إِذْ بَصُرَتْ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وتضايق بهِمُ الْجَبَلُ فَقَالَتْ حَلَّ اللهُمُ الْعَنْهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُصَاحِبْنَا نَاقَةٌ عَلَيْهَا لَعْنَةٌ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৫৫৮। আবু বারযা নাদলা ইবনে উবাইদ আল-আসলামী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক যুবতী নারী একটি উটের পিঠে সফর করছিল। উটটির পিঠে লোকজনের কিছু মালপত্রও ছিল। উক্ত যুবতী হঠাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেল। দলের লোকদের কাছে পাহাড়ের পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়লো। যুবতী (উটটিকে দাবড়িয়ে) বলল, হে আল্লাহ। এর উপর অভিশাপ বর্ষণ কর। একথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: অভিশপ্ত উট আমাদের সাথে যেতে পারে না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী (র) বলেন, হাদীসটির মর্মার্থ উপলব্ধি করা কঠিন বলে মনে হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয়। হাদীসটি থেকে উটটির ক্ষেত্রে একটিমাত্র নিষেধাজ্ঞা প্রতিপন্ন হয়। আর তা হলো উটটির সহযাত্রী হওয়ার প্রশ্ন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যের বাইরে একে বিক্রয় করা, যবেহ করা এবং এর পিঠে আরোহণ করাও যাবে, এতে কোন নিষেধাজ্ঞা এ হাদীসের দ্বারা আরোপিত হয়নি। বরং এসব কাজের সাথে সাথে অন্য কাজে একে ব্যবহার করতে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। কারণ সবগুলো কাজই জায়েয। শুধু কোন কোনটি করতে নিষেধ করা হয়েছে মাত্র।

অনুচ্ছেদ: ১২ – দুষ্কৃতিকারীদের নাম নির্দিষ্ট না করে অভিশাপ দেয়া জায়েয

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْلَئِكَ يُعْرَضُونَ عَلَى ربِّهِمْ وَيَقُولُ الْأَشْهَادُ هُؤلاء الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى رَبِّهِمْ أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“আল্লাহ সম্পর্কে যে মিথ্যা রচনা করে, তার চেয়ে বড় যালিম আর কে আছে! এসব লোককে তাদের প্রভুর সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেবে, এসব লোকই তাদের প্রভুর নামে মিথ্যা আরোপ করেছে। শুনে রাখ, যালিমদের উপর আল্লাহর অভিশাপ।” (সূরা হুদ: ১৮)

وقال تعالى : ونادى أصْحَبُ الْجَنَّةِ أصْحَب النَّارِ أَنْ قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا فَهَلْ وَجَدْتُمُ ما وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّا قَالُوا نَعَمُ فَاذْنَ مُؤَذِنَّ بَيْنَهُمْ أَنْ لَعْنَةُ اللَّهِ على الظالمين.

“জান্নাতের বাসিন্দারা জাহান্নামীদের ডেকে বলবে, আমাদের রব যেসব ওয়াদা আমাদের সাথে করেছিলেন তা আমরা ঠিক ঠিক পেয়েছি। তোমাদের রব যেসব ওয়াদা তোমাদের সাথে করেছিলেন তা কি তোমরা ঠিক ঠিক পেয়েছ? তারা বলবে, হাঁ। তখন একজন ঘোষণাকারী তাদের মাঝে একথা ঘোষণা করবে যে, যালিমদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ।” (সূরা আল আ’রাফ: 88)

ইমাম নববী (র) বলেন, সহীহ হাদীস থেকে একথা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লানত করে বলেছেন: “যেসব নারী পরচুলা লাগিয়ে নিজেদের ভুল লম্বা করে এবং যারা ঐ কাজ করে দেয় তাদের প্রতি আল্লাহর লানত”। নবী (সা) আরো বলেছেন: আল্লাহ সুদখোরদের অভিশাপ করেছেন। তিনি (নবী) জীব-জন্তুর ছবি নির্মাণকারীদের লানত করেছেন। তিনি বলেছেনঃ “যারা জমির সীমানা অবৈধভাবে পরিবর্তন করে তাদের প্রতি আল্লাহর লানত”। যে ডিম চুরি করে, যে আপন পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয় বা অভিশাপ দেয়, যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে যবেহ করে, এদের সবার প্রতি আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মদীনা মুনাওয়ারায় শরী’অত বিরোধী কোন কাজের প্রচলন করে এবং যে ব্যক্তি কোন বিদ’আতী কাজে লিপ্ত ব্যক্তিকে আশ্রয় দেয়, তাদের প্রতি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল এবং সমস্ত মানুষের অভিসম্পাত। তিনি এই বলে বদদু’আ করেছেনঃ হে আল্লাহ! তুমি অভিসম্পাত বর্ষণ কর রে’ল, যাকওয়ান ও উসাইয়া গোত্রের উপর। কেননা তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। রে’ল, যাকওয়ান ও উসাইয়া আরবের তিনটি গোত্রের নাম। তিনি বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা ইহুদীদের অভিশাপ দিয়েছেন। তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে সিজদার স্থানে পরিণত করেছে। যেসব পুরুষ নারীর সাজে সজ্জিত হয় এবং যেসব নারী পুরুষের বেশে সজ্জিত হয় তাদেরকে নবী (সা) অভিশাপ দিয়েছেন। উল্লেখিত সব কথা সহীহ হাদীসসমূহে বিদ্যমান। এর কতক সহীহ বুখারী, কতক সহীহ মুসলিম এবং কতক উভয় গ্রন্থেই বর্ণিত হয়েছে। আমি এখানে শুধু সংক্ষিপ্তভাবে ইংগিত করেছি।

অনুচ্ছেদ: ১৩ – অন্যায়ভাবে কোন মুসলিমকে গালি দেয়া হারাম

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا.

মহান আল্লাহ বলেন:

“যেসব লোক ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের বিনা কারণে কষ্ট দেয়, তারা একটা অতি বড় মিথ্যা অপবাদ ও সুস্পষ্ট গুনাহের বোঝা নিজেদের মাথায় উঠিয়ে নেয়।” (সূরা আল আহযাবঃ ৫৮)

١٥٥٩ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبَابُ الْمُسْلِمِ فَسُوقَ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৫৫৯। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মুসলিমদেরকে গালমন্দ করা ফিসৃক এবং তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা কুফর।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٦٠ – وَعَنْ أَبِي ذَرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَرْمِي رَجُلٌ رَجُلاً بِالْفِسْقِ أَوِ الْكُفْرِ إِلَّا ارْتَدَّتْ عَلَيْهِ إِنْ لَمْ يَكُنْ صَاحِبُهُ كَذَلِكَ رَوَاهُ الْبُخَارِي.

১৫৬০। আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তিকে যেন ফাসিক অথবা কাফির না বলে। কেননা সে যদি প্রকৃতই তা না হয়ে থাকে তবে এই অপবাদ তার নিজের উপর এসে চাপবে।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٦١ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُتَسَابَانِ مَا قَالاً فَعَلَى الْبَادِى مِنْهُمَا حَتَّى يَعْتَدِي الْمَظْلُومُ رواه مسلم.

১৫৬১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পরস্পরকে গালি প্রদানকারীদের মধ্যে যে আগে গালি দিয়েছে সে দোষী যদি নির্যাতিত (অর্থাৎ প্রথমে যাকে গালি দেয়া হয়েছে) ব্যক্তি সীমালংঘন না করে থাকে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٦٢ – وَعَنْهُ قَالَ أَتِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِرَجُلٍ قَدْ شَرِبَ قَالَ اضْرِبُوهُ قال أبو هريرة قمنا الضارب بيده والضارب بنقله والضارب بشويه فلما انصرف قَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ اخْزَاكَ اللهُ قَالَ لَا تَقُولُوا هَذَا لَا تُعِينُوا عَلَيْهِ الشَّيْطَانَ – رَوَاهُ الْبُخَارِي.

১৫৬২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে হাজির করা হল। সে মদ পান করেছিল। তিনি বললেনঃ একে প্রহার কর। আবু হুরাইরা (রা) বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ তার হাত দিয়ে, কেউ তার জুতা দিয়ে, আবার কেউ তার কাপড় দিয়ে তাকে প্রহার করেছে। যখন সে ওখান থেকে প্রত্যাবর্তন করলো, তখন কোন এক লোক বললো, আল্লাহ তোকে লাঞ্ছিত করুন। এ কথা শুনে তিনি বললেন: এ ধরনের কথা বলো না। তার বিরুদ্ধে শয়তানকে। সাহায্য করো না।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٦٣ – وَعَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ قَذَفَ الا أن يكُونَ كَمَا قَالَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. مَمْلُوكَهُ بِالزِّنَا يُقَامُ عَلَيْهِ الْحَدُّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الا

১৫৬৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি। কেউ যদি তার ক্রীতদাসীর উপর যেনার অপবাদ দেয় তাহলে কিয়ামাতের দিন তার উপর হদ্দ কার্যকর করা হবে। তবে গোলামটি বাস্তবিকই তদ্রূপ হলে ভিন্ন কথা।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১৪ – মৃত ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে বা শরী’আত সম্মত কারণ ছাড়া গালিগালাজ করা হারাম

ইমাম নববী (র) বলেন, মৃত ব্যক্তির কৃত দুষ্কর্ম, বিদ’আতী কাজ ইত্যাদিকে বৈধ মনে করে তাতে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এ সম্পর্কে পূর্বেই আল কুরআনের আয়াত ও হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে।

١٥٦٤ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلمَ لا تَسبُوا الْأَمْوَاتِ فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

১৫৬৪। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মৃতদেরকে গালি দিও না। কেননা তারা যা কিছু করেছে তার ফলাফল লাভের স্থানে গিয়ে পৌঁছেছে।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১৫ – উৎপীড়ন করা নিষেধ

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا.

মহান আল্লাহ বলেন:

“যেসব লোক মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের বিনা অপরাধে কষ্ট দেয়, তারা অতি বড় একটা মিথ্যা অপবাদ ও সুস্পষ্ট গুনাহের বোঝা নিজেদের মাথায় তুলে নেয়।” (সূরা আল আহযাব: ৫৮)

١٥٦٥ – وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَبَدِهِ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৫৬৫। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যার জিহ্বা ও হাতের অনিষ্ট থেকে অন্য মুসিলমগণ নিরাপদ থাকে সে-ই প্রকৃত মুসলিম। আর যে আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজসমূহ পরিত্যাগ করেছে সে-ই প্রকৃত মুহাজির।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٦٦ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَحَبُّ أَنْ يُزَحْزَحَعَنِ النَّارِ وَيُدْخَلَ الْجَنَّةَ فَلْتَأْتِهِ مَنِيتُهُ وَهُوَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَأْتِ إِلَى الناس الذي يُحِبُّ أَن يُؤْتَى اللَيْهِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৫৬৬। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্ত হতে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে চায় সে যেন আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমানদার অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে এবং মানুষের সাথে এমন ব্যবহার করে, যে ব্যবহার সে নিজের জন্য অন্যের কাছে আশা করে।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১৬ পরস্পর ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ, দেখা-সাক্ষাত বর্জন ও সম্পর্কচ্ছেদ করা নিষেধ

قالَ اللهُ تَعَالَى : إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ.
মহান আল্লাহ বলেন

“মুমিনরা পরস্পরের ভাই। অতএব তোমাদের ভাইদের পারস্পরিক সম্পর্ক যথাযথভাবে পুনর্গঠিত করে নাও এবং আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।” (সূরা আল হুজুরাত : ১০)

وقال تعالى : بَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَنْ يُرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِيَ اللَّهُ يقوم يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَه أَذلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ في سَبِيلِ اللهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لائِم ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يُشَاءُ وَاللَّهُ واسع عليم.

“হে ঈমানদারগণ। তোমাদের কেউ যদি নিজের দীন থেকে ফিরে যায়, তবে আল্লাহ এমন আরো অনেক লোক সৃষ্টি করবেন, যারা হবে আল্লাহর প্রিয় এবং আল্লাহ হবেন তাদের প্রিয়। তারা মুমিনদের প্রতি নম্র ও বিনয়ী হবে এবং কাফিরদের প্রতি হবে অত্যন্ত কঠিন ও কঠোর। তারা আল্লাহর পথে চেষ্টা-সাধনা ও জিহাদ করবে এবং কোন নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করবে না। এটা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তাকেই তা দান করেন। বস্তুত আল্লাহ বিশাল বিপুল উপায়-উপাদানের মালিক। তিনি সর্বজ্ঞ।” (সূরা আল মাইদা: ৫৪)

وقال تعالى : مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُم رَكعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا.

“আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ এবং যেসব লোক তার সাথে রয়েছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, কিন্তু পরস্পরের প্রতি পূর্ণ অনুগ্রহশীল। তোমরা তাদেরকে রুকুতে, সিজদায় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির সন্ধানে আত্মনিমগ্ন দেখতে পাবে।” (সূরা আল ফাত্হঃ ২৯)

١٥٦٧ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَحَاسَدُوا ولا تَدَابَرُوا ولا تقاطعوا وَكُونُوا عِبَادَ اللهُ اخْوَانًا وَلا يَحِلُّ لِمُسْلِمِ أَن يُهْجَرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৫৬৭। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণ করো না, দেখা-সাক্ষাত বর্জন করো না এবং সম্পর্ক ছিন্ন করো না। আল্লাহর বান্দাগণ! ভাই ভাই হয়ে যাও। কোন মুসলিমের জন্য তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ত্যাগ করা হালাল নয়। [টিকা: ১. প্রখ্যাত মুহাদ্দিস হাফিয ইবনে হাজার আল-আসকালানী (র) “আল্লাহর বান্দাগণ! ভাই ভাই হয়ে যাও” বাক্যের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইমাম কুরতুবীর একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ “দয়া-মায়া, দুঃখ-বিপদ, চিন্তা-পেরেশানী, প্রেম-ভালোবাসা, সাহায্য-সহযোগিতা প্রভৃতির বেলায় আপন সহোদর ভাইয়ের মত একই সূত্রে গ্রথিত হয়ে যাও। এই ভ্রাতৃত্ব তখনই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, যখন সম্পর্ক বিনষ্ট হতে পারে এমন সব জিনিস পরিহার করা যায়। অন্যথায় ভ্রাতৃত্বের পরিবর্তে শত্রুতার সৃষ্টি হয়। তখন ভ্রাতৃত্বের ফল এবং সচ্চরিত্রও ধ্বংস হয়ে যায়”।]

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٦٨ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تُفتح أبواب الْجَنَّةِ يَوْمَ الاثنين وَيَوْمَ الْخَمِيسِ فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدِ لَا يُشْرِكُ بالله شَيْئًا إِلا رَجُلاً كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أخيه شَحْنَاءُ فَيُقَالُ انْظُرُوا هَدَيْنِ حَتَّى يصطلحا انظُرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطلحا . رَوَاهُ مُسْلِمٌ، وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ تُعْرَضُ الْأَعْمَالُ فِي كُلِّ يَوْمٍ خَمِيشَ وَاثْنَيْنِ وَذَكَرَ نَحْوَهُ.

১৫৬৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছু শরীক করে না আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু যে লোকের সাথে তার মুসলিম ভাইয়ের শত্রুতা রয়েছে তাদের সম্পর্কে বলা হয়, এদের অবকাশ দাও যেন নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করে নিতে পারে, এদের অবকাশ দাও যেন তারা নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করে নিতে পারে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তার অন্য বর্ণনায় আছে: প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দাদের কার্যকলাপ পেশ করা হয়। হাদীসের অবশিষ্ট অংশ উপরে উল্লেখিত। অংশের অনুরূপ।

অনুচ্ছেদ: ১৭ – হিংসা করা হারাম

হিংসার অর্থ হলো কোন ব্যক্তিকে আল্লাহ যে নিয়ামাত দান করেছেন তার ধ্বংস কামনা করা। তা দুনিয়ার নিয়ামাতও হতে পারে কিংবা দীনের নিয়ামাতও হতে পারে।

قَالَ اللهُ تَعَالَى : أَمْ يَحْسُدُونَ النَّاسَ عَلَى مَا أَتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ ، فَقَدْ أَتَيْنَا ال إبراهيم الكتب وَالْحِكْمَةَ وَأَتَيْتُهُمْ مُلْكًا عَظِيمًا.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“তবে কি তারা অন্য লোকদের প্রতি শুধু এজন্যই হিংসা পোষণ করে যে, আল্লাহ তাদেরকে বিশেষ অনুগ্রহ দান করেছেন? যদি তাই হয় তবে তারা যেন জেনে রাখে, আমরা ইবরাহীমের সন্তানদের কিতাব ও হিকমাত দান করেছিলাম এবং তাকে বিরাট রাজ্য দিয়েছিলাম।” (সূরা আন্ নিসা: ৫৪)

١٥٦٩ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اياكُمْ وَالْحَسَدَ فَإِنَّ الْحَسَدَ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطِبَ أَوْ قَالَ العشب رواه أبو داود.

১৫৬৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা হিংসা থেকে দূরে থাক। কেননা হিংসা মানুষের ভালো গুণগুলো এমনভাবে ধ্বংস করে দেয়, যেমন আগুন শুকনো কাঠ বা ঘাস ভম্ব করে ফেলে।

ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১৮ – পরস্পরের দোষত্রুটি তালাশ করা ও ওঁৎ পেতে কথা শোনা নিষেধ

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : وَلَا تَجَسَّسُوا

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“তোমরা একে অপরের দোষ তালাশ করো না।” (সূরা আল হুজুরাতঃ ১২)

وقال تعالى : وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَأَثْمًا مُّبِينًا.

“যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের বিনা অপরাধে কষ্ট দেয়, তারা একটা অতি বড় মিথ্যা দোষ ও সুস্পষ্ট অপরাধের বোঝা নিজেদের ঘাড়ে চাপিয়ে নেয়।” (সূরা আল আহযাবঃ ৫৮)।

١٥٧٠ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِيَّاكُمْ وَالظَّنِّ فَإِنَّ الظَّن اكذبُ الْحَدِيثِ وَلَا تَحَسَّسُوا وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا تَنَافَسُوا وَلا تَحَاسَدُوا وَلا تَبَاغَضُوا وَلا تَدابَرُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللهِ اخْوَانًا كَمَا أمَرَكُمُ الْمُسْلِمُ أخو المسلم لا يَظْلِمُهُ ولا يخذله ولا يحقره التقوى ههنا التقوى ههنا ويُشير إلى صدره بحسب امرئ من الشَّرِّ أَنْ يُحْفِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَعِرْضُهُ وَمَالُهُ إِنَّ اللَّهَ لَا يَنْظُرُ إِلَى أَجْسَادِكُمْ ولا إلى صُورِكُمْ وَلَكِن يُنظرُ إِلى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ وَفِي رِوَايَةٍ لَا تَحَاسَدُوا وَلَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا تَحَسَّسُوا وَلَا تَنَاجَسُوا وَكُونُوا عِبَادَ الله اخْوَانًا. وفي روايةٍ لا تَقَاطَعُوا وَلَا تَدَابَرُوا وَلَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَحَاسَدُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ اخوانا . وفي روايةٍ لا تَهَاجَرُوا وَلَا يَبعُ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ رَوَاهُ مُسْلِمٌ بكل هذه الرِّوَايَاتِ وَرَوَى الْبُخَارِيُّ اكْثَرُهَا .

১৫৭০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সাবধান! অযথা ধারণা করা থেকে বিরত থাক। কেননা অযথা ধারণা পোষণ করা সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা। মানুষের ছিদ্রান্বেষণ করো না, পরস্পরের ত্রুটি খুঁজতে লেগে যেও না, প্রতিযোগিতা করো না, পরস্পর হিংসা করো না, যোগাযোগ বন্ধ করে দিও না। আল্লাহর বান্দাগণ। পরস্পর ডাই ভাই হয়ে থাক যেভাবে তিনি তোমাদের হুকুম করেছেন। এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার উপর যুদ্ধ করতে পারে না, তাকে লাঞ্ছিত করতে পারে না এবং অবজ্ঞাও করতে পারে না। তাকওয়া ও খোদাভীতি এখানে। এই বলে তিনি তাঁর বুকের দিকে ইশারা করেন। কোন ব্যক্তির খারাপ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে অবজ্ঞা বা ঘৃণা করে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য প্রত্যেক মুসলিমের রক্ত, মান-মর্যাদা ও ধন-সম্পদ হরণ করা হারাম। আল্লাহ তোমাদের শরীর ও চেহারার দিকে তাকান না, বরং তোমাদের অন্তর ও কার্যকলাপের প্রতি তাকান।

অপর এক বর্ণনায় আছে: পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করো না, ছিদ্রান্বেষণ করো না, দোষ খুঁজে বেড়াবে না, অন্যের উপর দিয়ে দর কষাকষি করো না।’ আল্লাহর বান্দাগণ। ভাই ভাই সম্পর্ক গড়ে তোল। অপর বর্ণনায় আছে: সম্পর্কচ্ছেদ করো না, খোঁজ-খবর নেয়া বন্ধ করো না, হিংসা-বিদ্বেষ করো না। আল্লাহর বান্দাগণ! পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও। অন্য আর এক বর্ণনায় আছে: একে অপরকে পরিত্যাগ করো না। একজনের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর দিয়ে অপরজন যেন ক্রয়-বিক্রয় না করে। [টিকা: ১. মূল শব্দ হল ‘তানাজুস’। এর অর্থ: একজন কোন জিনিসের দাম করছে, অন্যজন তার উপর দিয়ে একই জিনিসের দাম করা, বিক্রেতার দালাল হয়ে নকল ক্রেতা সেজে আসল ক্রেতার সামনে জিনিসের দর করে তার দাম বাড়িয়ে দেয়া, বিক্রেতার জিনিসের অবাঞ্ছিত প্রশংসা করে ক্রেতার মনঃপূত করা ইত্যাদি। ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এগুলো করা নিষেধ।]

ইমাম মুসলিম উল্লিখিত বর্ণনাগুলো একত্র করেছেন এবং ইমাম বুখারী এর অধিকাংশ বর্ণনা তার সংকলনে সন্নিবিষ্ট করেছেন।

١٥٧١ – وَعَنْ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّكَ إِنِ اتَّبَعْتَ عَوْرَاتِ الْمُسْلِمِينَ أَفْسَدْتَهُمْ أَوْ كُنْتَ أَنْ تُفْسِدَهُمْ حديث صحيح رواه أبو داود بإسناد صحيح .

১৫৭১। মু’আবিয়া (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: যদি তুমি মুসলিমদের দোষ খুঁজতে লেগে যাও, তবে তুমি তাদেরকে কোন ক্যাসাদে জড়িয়ে ফেলবে অথবা তাদেরকে ফ্যাসাদে জড়িয়ে ফেলার উপক্রম করবে।

এটি সহীহ হাদীস। ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٧٢ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ أَتِي بِرَجُلٍ فَقِيلَ لَهُ هُذَا فُلَانٌ تقطرُ لِحْيَتُهُ خَمْرًا فَقَالَ إِنَّا قَدْ نُهِينَا عَنِ النَّجَسِ وَلَكِنْ إِنْ يُظْهَرْ لَنَا شَيْ نَأْخُذْ بِهِ – حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ عَلَى شَرْطِ الْبُخَارِي وَمُسْلِمٍ

১৫৭২। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তার কাছে এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হল। বলা হল, এই অমুক ব্যক্তি। এর দাড়ি থেকে মদ চুইয়ে পড়ছে (গন্ধ আসছে)। আবদুল্লাহ (রা) বলেন, আমাদেরকে মানুষের দোষ খুঁজে বের করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু যখন আমাদের সামনে এ জাতীয় কিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে তখন তার ভিত্তিতে আমরা পাকড়াও করতে পারি।
হাদীসটি হাসান ও সহীহ। ইমাম আবু দাউদ, ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের আরোপিত শর্তে উৎরে যাওয়া সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১৯ – অযথা কোন মুসলিমের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা নিষেধ

قَالَ اللهُ تَعَالَى: بَايُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“হে ঈমানদারগণ! খুব বেশি ধারণা পোষণ থেকে বিরত থাক। কেননা কোন কোন ধারণা গুনাহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।” (সূরা আল হুজুরাত: ১২)

١٥٧٣ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِيَّاكُمْ وَالظَّنِّ فَإِنَّ الظَّنِّ اكذبُ الْحَدِيثِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৫৭৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সাবধান! ধারণা-অনুমান থেকে দূরে থাক। কেননা ধারণা-অনুমান সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২০ – মুসলিমদেরকে অবজ্ঞা করা নিষেধ

قالَ اللهُ تَعَالَى : يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرُ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَى أَنْ يكُونُوا خَيْرًا مِنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءٍ عَسَى أَنْ يُكُنَّ خَيْرًا مِنْهُنَّ وَلَا تَلْمِزُوا انفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ بِئْسَ الْاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيْمَانِ وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“হে ঈমানদারগণ। পুরুষরা যেন পুরুষদের ঠাট্টা-বিদ্রূপ না করে। কেননা হতে পারে তাদের (যাদের বিদ্রূপ করা হচ্ছে) মধ্যে এদের চেয়ে উত্তম লোক আছে। আর মহিলারা যেন মহিলাদের ঠাট্টা-বিদ্রূপ না করে। কেননা হতে পারে তাদের (যাদের বিদ্রূপ করা হচ্ছে) মধ্যে এদের চেয়ে ভালো লোক আছে। নিজেরা নিজেদের প্রতি শ্লেষ বাক্য নিক্ষেপ করো না, একে অপরকে খারাপ উপনামে ডেকো না। ঈমান গ্রহণের পর ফাসেকী কাজে লিপ্ত হওয়া অত্যন্ত খারাপ। যেসব লোক এরূপ আচরণ থেকে তওবা করে বিরত না থাকবে, তারাই যালিম হিসাবে গণ্য হবে।” (সূরা আল হুজুরাতঃ ১১)

وقَالَ تَعَالَى : وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ أَمَزَةٍ.

“নিশ্চিত ধ্বংস এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে (সামনা-সামনি) লোকদের উপর গালাগাল করতে এবং (পিছনে) দোষ প্রচার করতে অভ্যন্ত।” (সূরা আল হুমাযাঃ ১)

١٥٧٤ وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يُحْفِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৫৭৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন ব্যক্তির খারাপ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে অবজ্ঞা করে।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٧٥ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ مِنْ كَبْرِ فَقَالَ رَجُلٌ إِنَّ الرَّجُلَ يُحِبُّ أن يكونَ ثَوْبُهُ حَسَنًا وَنَعْلَهُ حَسَنَةً فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ الْكَبْرُ بطرُ الْحَقِّ وَغَمْطُ النَّاسِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ

১৫৭৫। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার আছে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এক ব্যক্তি বললো, মানুষ তার জামা-কাপড়, জুতা ইত্যাদি সুন্দর হওয়া পছন্দ করে। তিনি বলেন: নিশ্চয় আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। অহংকার হলো সত্য থেকে বিমুখ হওয়া এবং মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা।

হাদীসটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

١٥٧٦ – وَعَنْ جُنْدَبِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رَجُلٌ وَاللهِ لَا يَغْفِرُ لِفُلانٍ فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلٌ مَنْ ذَا الَّذِي يتالى على أن لا أغْفِرَ لِفُلان إِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُ وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৫৭৬। জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এক ব্যক্তি বললো, আল্লাহর শপথ। অমুক ব্যক্তিকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। এতে মহান আল্লাহ বললেন, সে কে যে আমার নামে শপথ করে বললো যে, আমি অমুক লোককে ক্ষমা করবো না। আমি তাকে মাফ করে দিলাম এবং তোমার সমস্ত আমল বাতিল করে দিলাম।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২১ – কোন মুসলিমের কষ্ট দেখে আনন্দ বা সন্তোষ প্রকাশ করা নিষেধ

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“মুমিনরা পরস্পর ভাই।” (সূরা আল হুজুরাত: ১০)

وقال تعالى : إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ اليم في الدُّنْيا وَالْآخِرَةِ ، وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ.

“যেসব লোক চায় যে, ঈমানদার লোকদের মধ্যে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা বিস্তার লাভকরুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কঠিন শাস্তি নির্দিষ্ট রয়েছে। আল্লাহ সবকিছু জানেন, তোমরা জানো না।” (সূরা আন্ নূর: ১৯)

١٥٧٧ – وَعَنْ وَائِلَةَ بْنِ الْأَسْفَعِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ علَيْهِ وَسَلَّمَ لا تُظهر السَّمَائَةَ لأَخِيكَ فَيَرْحَمَهُ اللهُ وَيَبْتَلِيكَ رَوَاهُ التَّرْمِنِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৫৭৭। ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমার ভাইয়ের বিপদে আনন্দিত হয়ো না। কেননা এতে আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করবেন এবং তোমাকে ঐ বিপদে নিমজ্জিত করবেন।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।

অনুচ্ছেদ: ২২ – সুপ্রতিষ্ঠিত বংশ সম্পর্কের প্রতি ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হারাম

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَأَثْمًا مُّبِينًا.

মহান আল্লাহ বলেন:

“যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের বিনা অপরাধে কষ্ট দেয়, তারা একটা অতি বড় মিথ্যা অপবাদ ও সুস্পষ্ট অপরাধের বোঝা নিজেদের ঘাড়ে চাপিয়ে নেয়।” (সূরা আল আহযাব: ৫৮)

١٥٧٨ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اثْنَتَانِ فِي النَّاسِ هُمَا بِهِمْ كُفر الطعنُ فِي النَّسَبِ وَالنِّيَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِ رَوَاهُ مُسلم.

১৫৭৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মানুষের মধ্যে দু’টি জিনিস থাকলে তা তাদের কুফরের কারণ হয়ে
দাঁড়ায়: বংশের খোঁটা দেয়া এবং মৃতের জন্য বিলাপ করা।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২৩ – ধোঁকা দেয়া ও প্রতারণা করা নিষেধ

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَالَّذِينَ يُؤْدُّونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَأَثْمًا مُبِينًا.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের বিনা অপরাধে কষ্ট দেয়, তারা একটা অতি বড় মিথ্যা অপবাদ ও সুস্পষ্ট গুনাহের বোঝা নিজেদের ঘাড়ে তুলে নেয়।” (সূরা আল আহযাবঃ ৫৮)

١٥٧٩ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السّلاحَ فَلَيْسَ مِنَّا وَمَنْ غَشْنَا فَلَيْسَ مِنَّا رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وفي روايةٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ عَلَى صُبْرَةٍ طَعَامٍ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فيهَا فَنَالَتْ أصابعه بللاً فَقَالَ ما هذا يا صاحِبَ الطَّعَامِ قَالَ أَصَابَتْهُ السَّمَاءُ يَا رسُولَ اللهِ قَالَ أَفَلَا جَعَلْتَهُ فَوْقَ الطَّعَامِ حَتَّى بَرَاهُ النَّاسُ مَنْ غَشْنَا فَلَيْسَ مِنَّا.

১৫৭৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে৮বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লনম বলেছেন: যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ কড়ে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করে সেও আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তার অপর বর্ণনা আছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্যশস্যের একটি স্তূপের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় স্তূপের মধ্যে তাঁর হাত ঢুকিয়ে দিলেন। তাঁর হাতের আঙ্গুলগুলো ভিজা মনে হলো। তিনি বললেনঃ হে শস্যের মালিক। এ কী? সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল। বৃষ্টিতে তা ভিজে গেছে। তিনি বললেন: তাহলে এগুলো উপরে রাংখানি কেন? লোকে দেখেশুনে তা ক্রয় করতো। যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

١٥٨٠ – وَعَنْهُ أَنْ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَنَاجَشُوا -متفق عليه.

১৫৮০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমার ভাইয়ের দামের উপর দাম বলো না।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٨١ – عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ النجش – متفق عليه.

১৫৮১। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজনের দামের উপর আর একজনকে দাম করতে নিষেধ করেছেন।১
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। [ টিকা: ‘নাজাশ’ শব্দের ব্যাখ্যার জন্য ১৫৭০ নং হাদীসের টীকা দেখুন।]

١٥٨٢ – وَعَنْهُ قَالَ ذَكَرَ رَجُلٌ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ يُخْدَعُ فِي الْبُوعِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ مَنْ بَايَعْتَ فَقُلْ لَا خِلَابَةً مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৫৮২। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললো যে, সে ক্রয়-বিক্রয়ে প্রতারণার শিকার হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি যার সাথে ক্রয়-বিক্রয় কর তাকে বলো, কোনরূপ ধোঁকাবাজি করবে না।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٨٣ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ خَيْبَ زَوْجَةَ امْرِئٍ أَوْ مَمْلُوكَهُ فَلَيْسَ مِنَّا رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ.

১৫৮৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কারো স্ত্রী অথবা বাঁদীকে ধোঁকা দেয় ও তার চরিত্র নষ্ট করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২৪ – ওয়াদা খেলাফ করা হারাম

قَالَ اللهُ تَعَالَى : يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কৃত চুক্তি পূরণ করো।” (সূরা আল মাইদাঃ ১)

وقال تعالى : وأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُوْلاً.

“তোমরা ওয়াদা বা চুক্তি পূর্ণ করো। কেননা ওয়াদা বা চুক্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে জওয়াবদিহি করতে হবে।” (সূরা বনী ইসরাঈল: ৩৪)

١٥٨٤ – وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ارْبَعٍ مَنْ كُنْ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا إِذَا أَوْ تُمِنَ خَانَ وَإِذَا حَدَّثَ كذبَ وَإِذا عَاهَدَ غَدَرَ وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৫৮৪। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যার মধ্যে চারটি দোষ পাওয়া যাবে সে খাঁটি মুনাফিক। আর যার মধ্যে এগুলোর যে কোন একটি দোষ আছে তার মধ্যে মুনাফিকীর অভ্যাস আছে, যতক্ষণ না সে তা ত্যাগ করে। সে আমানাতের খিয়ানত করে, কথায় কথায় মিথ্যা বলে, ওয়াদা বা চুক্তি ভংগ করে, ঝগড়ায় অশ্লীল বাক্য ব্যবহার করে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٨٥ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَابْنِ عُمَرَ وَأَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ قَالُوا قَالَ النبي صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِكُلِّ غَادِرٍ لواء يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُقَالُ هَذِهِ غَدْرَةٌ فلان مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৫৮৫। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনে উমার ও আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কিয়ামাতের দিন প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি করে পতাকা স্থাপন করা হবে এবং বলা হবে, এটি অমুক ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতার পতাকা।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٨٦ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِكُلِّ غادر لواء عِندَ اسْتِه يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرْفَعُ لَهُ بِقَدْرِ غَدْره الا ولا غادر اعظم غَدْرًا مِنْ أَمِيرِ عَامَّةٍ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৫৮৬। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য কিয়ামাতের দিন তার দুই নিতম্ব বরাবর একটি পতাকা উত্তোলিত করা হবে। তার বিশ্বাসঘাতকতার মাত্রা অনুযায়ী তা উপরে তুলে ধরা হবে। সাবধান। রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতক আর কেউ হবে না।’
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। [টিকা: ‘আমীর আম্মাতিন’ অর্থ সর্বসাধারণের নেতা, জাতির সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ব্যক্তি।]

١٥٨٧ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَالَ اللهُ تَعَالَى ثَلَاثَةً أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ أَعْطَى بِن ثُمَّ غَدَرَ ورجل بَاعَ حُراً فَأَكَلَ ثَمَنَهُ وَرَجُلٌ اسْتَأْجَرَ اجيرًا فَاسْتَوْفِى مِنْهُ وَلَمْ يُعْطه أَجْرَهُ – رَوَاهُ الْبُخَارِي.

১৫৮৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, কিয়ামাতের দিন আমি তিন ব্যক্তির সাথে ঝগড়া করবো। যে ব্যক্তি আমার নামে ওয়াদা করে তা ভংগ করে, যে ব্যক্তি কোন স্বাধীন ব্যক্তিকে বিক্রয় করে তার মূল্য ভোগ করে এবং যে ব্যক্তি কোন শ্রমিককে কাজে নিযুক্ত করে তার কাছ থেকে পুরোপুরি কাজ আদায় করে কিন্তু তার মজুরী পরিশোধ করে না।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২৫ – উপহার বা দান ইত্যাদি করে তার খোঁটা দেয়া নিষেধ

قَالَ اللهُ تَعَالَى : يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُمْ بِالْمَنِّ وَالْأَذَى . كَالَّذِي يُنْفِقُ مَالَةَ رِئَاءَ النَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ صفوان عَلَيْهِ تُراب فَأَصَابَه وابل فتَرَكَهُ صَلنا ، لا يَقْدِرُونَ عَلَى شَيْءٍ مِّمَّا كسبوا ، وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَفِرِينَ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের দান-খায়রাতকে খোঁটা এবং কষ্ট দিয়ে সেই ব্যক্তির মত নষ্ট করে দিও না, যে ব্যক্তি শুধু লোক দেখানোর উদ্দেশেই নিজের ধন-মাল ব্যয় করে। সে না আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে, না আখিরাতের প্রতি। তার দৃষ্টান্ত এরূপ: যেমন এফটি বিশাল পাথর যার উপর মাটির আস্তর পড়ে আছে। এর উপর যখন মুষলধারে বৃষ্টি পড়লো, তখন সমস্ত মাটি ধুয়ে গেল এবং প্রস্তরখণ্ডটি নির্মল ও পরিষ্কার হয়ে গেল। এসব লোক দান করে যে পুণ্য অর্জন করে তা তাদের কাজে আসে না। আল্লাহ কাফিরদের সৎপথ দেখান না।” (সূরা আল বাকারা: ২৬৪)

وقال تعالى : الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ لَا يُتْبَعُوْنَ مَا أَنْفَقُوا مَنَا ولا أذى : لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ ، وَلا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ.

“যারা নিজেদের ধন-সম্পদ আল্লাহর পথে খরচ করে এবং খরচ করার পর উপকার করার কথা বলে না কিংবা অনুগৃহীতকে খোঁটা দেয় না, তাদের প্রতিদান তাদের প্রভুর কাছে সুরক্ষিত। তাদের কোন চিন্তা ও ভয়ের কারণ নেই।” (সুরা আল বাকারা: ২৬২)

١٥٨٨ – وَعَنْ أَبِي ذَرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ثلاثةٌ لا يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلا يَنظُرُ اليْهِمْ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
قالَ فَقَرَأَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَ أَبُو ذَرٍ خَابُوا وَخَسِرُوا مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ الْمُسْبِلُ وَالْمَنَّانُ وَالْمُنْفِقُ سَلْعَتَهُ بِالْحَلْفِ الْكَاذِبِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ الْمُسْبِلُ إِزَارَهُ يَعْنِيالْمُسْبِلُ إِزَارَهُ وَثَوْبَهُ اسْفَلَ الكَعْبَين للخيلاء.

১৫৮৮। আবু যার (রা) তেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তিন ধরনের লোকের সাথে আল্লাহ কিয়ামাতের দিন কথা বলবেন না, তাদের প্রতি তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্রও করবেন না। আবু যার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বাক্যটি তিনবার উচ্চারণ করেন। আবু যার (রা) আরো বলেন, এরা নিরাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হে আল্লাহর রাসূল। এই লোকগুলো কারা? তিনি বলেন: কাপড় ঝুলিয়ে পরিধানকারী, উপকার হবে খোঁটাদানকারী মিথ্যা শপথ করে পণ্যদ্রব্য বিক্রয়কারী।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তার অপর বর্ণনায় আছে: লুংগি ও পরিধেয় বস্ত্র ঝুলিয়ে পরিধানকারী। অর্থাৎ গর্ব-অহংকারের সাথে লুংগি ও পরিধেয় বস্ত্র ইত্যাদি পায়ের গোছার নিচে পর্যন্ত ঝুলিয়ে পরিধানকারী।

অনুচ্ছেদ: ২৬ – গর্ব-অহংকার ও বিদ্রোহ করা নিষিদ্ধ

قَالَ اللهُ تَعَالَى : الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبْشِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ ، إِنَّ رَبَّكَ واسع المغفرة ، هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنْشَاكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنْتُمْ أَجَنَّةً فِي بُطُونِ أمهتِكُمْ ، فَلا تُرَكُوا أَنْفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“যারা বড় বড় গুনাহ ও অশ্লীল কার্যাবলী থেকে বিরত থাকে। তবে অতি নগণ্য কিছু অপরাধ তাদের দ্বারা সংঘটিত হয়। তোমার প্রভুর ক্ষমাশীলতা অনেক ব্যাপক। তিনি তোমাদেরকে ভালোভাবেই জানেন। তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর যখন তোমরা ভ্রূণরূপে মায়ের গর্ভে ছিলে। অতএব তোমরা তোমাদের আত্ম-পবিত্রতার দাবি করো না। প্রকৃত মুত্তাকী কে তা তিনিই ভালো জানেন।” (সূরা আন্ নাজমঃ ৩২)

وَقَالَ تَعَالَى : إِنَّمَا السَّبِيلُ عَلَى الَّذِينَ يَظْلِمُونَ النَّاسِ وَيَبْغُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ اليم

“যেসব নির্যাতিত ব্যক্তি যুদ্মের পর প্রতিশোধ নেবে তাদেরকে কোনরূপ তিরষ্কার করা যাবে না। তিরস্কারযোগ্য তো তারা যারা অন্যদের উপর যুগ্ম করে এবং পৃথিবীর বুকে অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করে। এই লোকদের জন্য কষ্টদায়ক শাস্তি রয়েছে।” (সূরা আশ্ শূরা: ৪২)

١٥٨٩ – وَعَنْ عِيَاضٍ بن حِمارٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ تَعَالَى أَوْحَى إِلَى أَنْ تَوَاضَعُوا حَتَّى لَا يَبْغِي أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ ولا يَفْجُرَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৫৮৯। ইয়াদ ইবনে হিমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা আমার কাছে এই মর্মে ওহী প্রেরণ করেছেন: তোমরা সকলে বিনয়ী হও, যাতে তোমাদের কেউ কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করতে না পারে এবং কেউ কারো কাছে গর্ব করতে না পারে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٩٠ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذا قَالَ الرَّجُلُ هَلَكَ النَّاسُ فَهُوَ أَهْلَكُهُمْ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ، وَهُذَا النَّهَى لِمَنْ قَالَ ذلِكَ عُجْبًا بِنَفْسِهِ وَتَصَاغراً لِلنَّاسِ وَارْتفاعًا عَلَيْهِمْ فَهُذَا هُوَ الْحَرَامُ وَأَمَّا مَنْ قاله لما يرى فِي النَّاسِ مِنْ نَقص في أمرِ دِينِهِمْ وَقَالَهُ تَحَزْنَا عَلَيْهِمْ وَعَلَى الدِّينِ فَلا بأس به. هكذا فَسَّرَهُ الْعُلَمَاء وَفَصَّلُوهُ وَمِمَّنْ قَالَهُ مِنَ الْآئِمَةِ الْأَعْلَامِ مالك بن أنس وَالْخَطَابِي وَالْحُمَيْدِي وَاخْرُوْنَ وَقَدْ أَوْضَعْتُهُ فِي كِتَابِ الْأَذْكَارِ.

১৫৯০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন কোন ব্যক্তি বলে, মানুষ ধ্বংস হয়ে গেছে তখন তাঁদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই
‘ধ্বংসের সর্বাধিক উপযুক্ত।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী (র) বলেন, যে ব্যক্তি নিজেকে বড় মনে করে আর অন্য লোকদের হীন জ্ঞান করে এবং তাদের উপর নিজের বড়ত্ব জাহির করার জন্য বলে, লোকেরা ধ্বংস হয়ে গেছে, এ নিষেধাজ্ঞা তার জন্য। এ জাতীয় আচরণ সম্পূর্ণ হারাম। কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি লোকজনের দীনের ব্যাপারে অনভিজ্ঞতা ও ত্রুটি লক্ষ্য করে তাদের দীনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এরূপ মন্তব্য করে তবে এতে কোন দোষ নেই। মালিক ইবনে আনাস, খাত্তাবী, হুমাইদী প্রমুখ বড় বড় আলিম এ হাদীসের এরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। আমি ‘কিতাবুল আযকার’-এ বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছি।

অনুচ্ছেদ: ২৭ – কোন মুসলিমের অপর মুসলিমের সাথে তিন দিনের অধিক কথাবার্তা বন্ধ রাখা নিষেধ। ভবে বিদ’আত ও গুনাহের কাজ প্রকাশ পেলে তা জায়েয

قَالَ اللهُ تَعَالَى : إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“মুমিনরা পরস্পর ভাই। অতএব তোমরা ভ্রাতৃ-সম্পর্ক পুনর্গঠিত করে নাও।” (সূরা আল হুজুরাতঃ ১০)

وقال تعالى : وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ.

“পুণ্য ও আল্লাহভীতিমূলক কাজে পরস্পর সহযোগিতা করো, গুনাহ ও সীমালংঘনের কাজে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় করো। কেননা তাঁর দণ্ড অত্যন্ত কঠিন।” (সূরা আল মাইদা: ২)

١٥٩١ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا تقاطعوا ولا تَدَابَرُوا وَلا تَبَاغَضُوا وَلا تَحَاسَدُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ اخْوَانًا وَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمِ أَن يُهْجَرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৫৯১। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন করো না, পরস্পরের পেছনে লেগো না, হিংসা-বিদ্বেষ ও ঘৃণা পোষণ করো না। আল্লাহর বান্দারা ভাই ভাই হয়ে থাক। কোন মুসলিমের জন্য তার মুসলিম ভাইকে তিন দিনের বেশি ত্যাগ করা হালাল নয়।

١٥٩٢ – وَعَنْ أَبِي أَيُّوبَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لا يَحِلُّ لِمُسْلِمِ أَنْ يُهْجَرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاثِ لَيَالٍ يَلْتَقِيَانِ فَيُعْرِضُ هُذَا وَيُعْرِضُ هذا. وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلامِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৫৯২। আবু আইয়ুব (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন মুসলিমের জন্য তার মুসলিম ভাইকে তিন দিনের বেশি বিচ্ছিন্ন রাখা বৈধ নয় এভাবে যে, তারা উভয়ে যখন মুখোমুখী হয় তখন একজন এদিকে যায় এবং অন্যজন ওদিকে যায়। উভয়ের মধ্যে যে আগে সালাম দেবে সে-ই উত্তম।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٩٣ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُعْرَضُ الْأَعْمَالُ فِي كُلِّ اثْنَيْنِ وَخَمِيسِ فَيَغْفِرُ اللَّهُ لِكُلِّ امْرِئٍ لَا يُشْرِكْ بالله شَيْئًا إِلا امْرَمَا كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاهُ فَيَقُولُ أَتْرُكُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِنَا – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৫৯৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার মানুষের যাবতীয় আমল পেশ করা হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করে না এরূপ প্রত্যেককে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। তবে যে ব্যক্তির ভার মুললিম ভাইয়ের সাথে শত্রুতা আছে তাকে ক্ষমা করেন না। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: এ দু’জনের ব্যাপারটি স্থগিত রেখে দাও, যাতে তারা পারস্পরিক সম্পর্ক পুনর্গঠিত করে নিতে পারে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٩٤ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ أَيسَ أَنْ يُعْبُدَهُ الْمُصَلُّوْنَ فِي جَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَلَكِنْ فِي التحريشِ بَيْنَهُمْ – رَوَاهُ مُسْلِم التحريسُ الْأَفْسَادُ وَتَغْيِيرُ قُلُوْبِهِمْ وَتَقَاطَعُهُمْ.

১৫৯৪। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আরষ উপদ্বীপের মুসলিমদের কাছ থেকে শয়তান আনুগত্য পাওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেছে, কিন্তু তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ, মনোমালিন্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারে সে নিরাশ হয়নি।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাহরীশ শব্দের অর্থ বিবাদের বীজ বপন করা, অন্ত্যয়ের মধ্যে পরিবর্তন সৃষ্টি ও সম্পর্ক ছিন্ন করা।

١٥٩٥ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا يَحِلُّ المسلم أن يهجرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثلاث فَمَنْ هَجَرَ فَوْقَ ثَلَاثَ فَمَاتَ دَخَلَ النَّارَ – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِاسْنَادِ عَلَى شَرْطِ الْبُخَارِي وَمُسْلِمِ

১৫৯৫। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন মুসলিমের জন্য তার কোন ভাইয়ের সাথে তিন দিনের অধিক সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকা হালাল নয়। যে ব্যক্তি তিন দিনের বেশি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থেকে মারা গেল, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

ইমাম আবু দাউদ, ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের গ্রহণযোগ্য মানের সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٩٦ – وَعَنْ أَبِي خراش حَدَّرَدِ بْنِ أَبِي حَيْرَةِ الْأَسْلَمِي وَيُقَالُ السلمي الصَّحَابِيُّ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ هَجَرَ أَخَاهُ سَنَةً فَهُوَ كسفك دمه – رواه أبو داود باشناد صحيح

১৫৯৬। আবু খিরাশ হাদরাদ ইবনে আবু হাদরাদ আল-আসলামী বা আস-সুলামী আস-সাহাবী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাথে এক বছর যাবৎ সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকলো সে যেন তাকে হত্যা করলো।

ইমাম আৰু সাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٥٩٧ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَحِلُّ لِمُؤْمِنِ أَنْ يُهْجَرَ مُؤْمِنًا فَوْقَ ثَلَاثَ فَإِنْ مَرَّتْ بِهِ ثَلَاثَ فَلْيَلْقَهُ فَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ فَإِنْ رَد عليه السلام فقد اشتركا في الآخِرُ وَإِنْ لَمْ يَرُدُّ عَلَيْهِ فَقَدْ باء بالاثم وَخَرَجَ الْمُسَلِّمُ مِنَ الهجرة. رواه أبو دَاوُدَ بَاسْنَادِ حَسَن قَالَ أَبُو داود اذا كانت الهجرة لله تَعَالَى فَلَيْسَ مِنْ هَذَا فِي شَيْءٍ.

১৫৯৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন মুমিন ব্যক্তির জন্য অন্য কোন মুমিন ব্যক্তিকে তিন দিনের অধিক (সম্পর্ক) ত্যাগ করে থাকা জায়েয নয়। তিন দিন গত হওয়ার পর সাক্ষাত করে যদি সে তাকে সালাম করে এবং অন্যজনও সালামের উত্তর দেয়, তবে উভয়ই সাওয়াবে অংশীদার হবে। যদি সে সালামের জওয়াব না দেয়, তবে গুনাহগার হবে এবং সালামকারী (সম্পর্ক) ত্যাগ করার গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে।

ইমাম আবু দাউদ উত্তম সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, যদি এই সম্পর্কচ্ছেদ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হয়ে থাকে তবে কোন দোষ হবে না।

অনুচ্ছেদ: ২৮ – তিনজনের মধ্যে একজনকে বাদ দিয়ে দু’জনের গোপন পরামর্শ করা নিষেধ। তবে প্রয়োজনে তৃতীয়জনের অনুমতি নিয়ে করা যায়। এ ক্ষেত্রে নিচু স্বরে কথা বলতে হবে। তৃতীয় ব্যক্তি বুঝে না এমন ভাষায়ও কথা বলা যেতে পায়ে

قَالَ اللهُ تَعَالَى : يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَنَاجَبْتُمْ فَلَا تَتَنَاجَوْا بِالْأُثْمِ وَالْعُدْوَانِ و معصيت الرسول وتناجوا بالبر والتقوى ، واتَّقُوا اللهَ الَّذِي اليهِ تُحْشَرُونَ. إِنَّمَا النَّجْوَى مِنَ الشَّيْطَانِ لِيَحْزُنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَيْسَ بِصَارِهِمْ شَيْئًا إِلَّا بِإِذْنِ الله ، وَعَلَى اللهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنِينَ.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন পরস্পর গোপন কথা বল, তখন গুনাহ, বাড়াবাড়ি বা রাসূলের বিরুদ্ধাচরণমূলক কথাবার্তা বলো না। সৎকর্মশীলতা ও তাকওয়ার কথা বল। আল্লাহকে ভয় কর যার কাছে তোমাদের একত্র হতে হবে। কানাঘুষা করা শয়তানী কাজ। আর তা করা হয় এজন্য যে, তার দরুন ঈমানদার লোকেরা যেন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। অথচ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারে না। মুমিন লোকদের কর্তব্য হলো কেবলমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা রাখা।” (সূরা আল মুজাদালা: ৯, ১০)

١٥٩٨ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذا كَانُوا ثلاثة فلا يَتَنَاجى اثنان دون الثالث. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَرَوَاهُ أَبُو داودَ وَزَادَ قَالَ أَبُو صَالِحٍ فَقُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ فَارْبَعَهُ قَالَ لَا يَضُرُّكَ. وَرَوَاهُ مَالِكٌ في الموطأ عَنْ عَبْدِ الله بْنِ دِينَارٍ قَالَ كُنتُ أَنا وَابْنُ عُمَرَ عِنْدَ دَارٍ خَالِدِ بْنِ عقبة التي في السوق فَجَاءَ رَجُلٌ يُرِيدُ أنْ يُنَاحِيَهُ وَلَيْسَ مَعَ ابْنِ عُمَرَ أَحَدٌ غَيْرِي فَدَعَا ابْنُ عُمَرَ رَجُلًا أَخَرَ حَتَّى كُنَّا أَرْبَعَةً فَقَالَ لِي وَلِلرَّجُلِ الثَّالِثِ الَّذِي دَعَا اسْتَأْخِرًا شَيْئًا فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَتَتَاجِى اثْنَانِ دُونَ وَاحِدٍ.

১৫৯৮। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন তিনজন লোক একসাথে থাকবে তখন যেন একজনকে বাদ দিয়ে অন্য দু’জন গোপন পরামর্শ না করে।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু দাউদও এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তার বর্ণনায় আরো আছেঃ আবু সালেহ বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, যদি একত্রে চারজন হয়? তিনি বলেন, তাহলে কোন দোষ নেই। ইমাম মালিক তার ‘মুয়াত্তা’ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে দীনার থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি ও আবদুল্লাহ ইবনে উমার বাজারের মধ্যে খালিদ ইবনে উকবার ঘরের কাছে ছিলাম। এক ব্যক্তি এসে আবদুল্লাহ ইবনে উমারের সাথে গোপনে কিছু কথা বলতে চাইলো। আবদুল্লাহ ইবনে উমারের সাথে তখন আমি ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। তিনি অন্য একজনকে ডাকলেন। এখন আমরা চারজন হলাম। তিনি আমাকে ও ডেকে আনা তৃতীয় ব্যক্তিকে বললেন: তোমরা উভয়ে কিছু সময় অপেক্ষা কর। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি। একজনকে বাদ দিয়ে অন্য দু’জন যেন চুপে চুপে কথা না বলে।

١٥٩٩ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةٌ فَلا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ الْأُخْرِ حَتَّى تَخْتَلِطُوا بِالنَّاسِ مِنْ 4 أجل أَنَّ ذَلِكَ يُحْزِنُهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৫৯৯। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তিন ব্যক্তির মধ্য থেকে একজনকে বাদ দিয়ে দু’জনে যেন কানাঘুষা না করে, হাঁ, যদি লোকদের সমাগম হয় তবে দোষ নেই। কেননা এতে তৃতীয় ব্যক্তির মধ্যে দুশ্চিন্তা সৃষ্টি হতে পারে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২৯ – শরয়ী কারণ ছাড়া ক্রীতদাস, জীবজন্তু, স্ত্রীলোক এবং ছেলে-মেয়েকে শিষ্টাচার ও আদব-কায়দা শিখানোর জন্য প্রয়োজনাতিরিক্ত শাস্তি দেয়া নিষেধ

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ويُذى الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبى والجار الجنب والصاحب بالجنب وابن السبيل وما مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ إِنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالاً فَخُورًا.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না এবং পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহার কর। নিকটাত্মীয়, ইয়াতীম, মিসকীন, প্রতিবেশী আত্মীয়, নিকট প্রতিবেশী, পথ চলার সাথী, ভ্রমণকারী পথিক এবং তোমাদের অধীনস্থ দাস-দাসীদের প্রতি বিনয়-নম্রতা ও দয়া-অনুগ্রহ প্রদর্শন কর। আল্লাহ এমন ব্যক্তিকে কখনও পছন্দ করেন না, যে অহংকারী এবং নিজেকে বড় মনে করে গর্বে বিভ্রান্ত।” (সূরা আন্ নিসাঃ ৩৬)

١٦٠٠ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عُذِّبَتْ امْرَأَةٌ فِي هِرَةٍ سَجَنَتْهَا حَتَّى مَانَتْ فَدَخَلَتْ فِيْهَا النَّارَ لَا هِيَ العَمَتْهَا وَسَقَتْهَا إِذْ هِيَ حَبَسَتْهَا وَلَا هِيَ تَرَكَتُهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬০০। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এক স্ত্রীলোক একটি বিড়ালের কারণে শান্তিপ্রাপ্ত হয়। সে বিড়ালটিকে একাধারে বেঁধে রাখায় তা মারা গিয়েছিল। আর ঐ অপরাধে সে জাহান্নামে গেছে। বেঁধে রাখা অবস্থায় সে বিড়ালটিকে খাদ্য-পানীয়ও দেয়নি এবং পোকা-মাকড় খাওয়ার জন্য ছেড়েও দেয়নি।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٠١ – وَعَنْهُ أَنَّهُ مَرْ بِفِتْيَانِ مِنْ قُرَيْسٌ قَدْ نَصَبُوا طَيْرًا وَهُمْ يَرْمُونَهُ وَقَدْ جَعَلُوا لصاحب الطَّيْرِ كُلَّ خَاطِئَةِ مِنْ نَبْلِهِمْ فَلَمَّا رَأَوا ابْنَ عُمَرَ تَفَرِّقُوا فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ مَنْ فَعَلَ هذا لَعَنَ اللهُ مَنْ فَعَلَ هذا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَنَ مَنِ اتَّخَذَ شَيْئًا فيه الرُّوحُ عَرَضًا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬০১। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি কয়েকজন কুরাইশ যুবকের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা একটি পাখিকে চাঁদমারি করার জন্য এক স্থানে বেঁধে রেখেছিল এবং এর প্রতি তীর ছুড়ছিল। তারা পাখির মালিকের সাথে এই চুক্তি করেছিল যে, লক্ষ্যভ্রষ্ট তীরগুলো হবে মালিকের। তারা আবদুল্লাহ ইবনে উমারকে দেখতে পেয়ে পালিয়ে গেল। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) বললেন, এ কাজ কে করেছে? যে এ কাজ করেছে তার উপর আল্লাহর লানত। যারা কোন প্রাণীকে চাঁদমারির লক্ষ্যবস্তু বানায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রতি লানত (অভিসম্পাত) করেছেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٠٢ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تُصْبَرَ الْبَهَائِمُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬০২। আনাস ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন পশুকে নির্মমভাবে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

٣ – ١٦ – وَعَنْ أَبِي عَلِيَّ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِنِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُنِي سَابِعَ سَبْعَة مِنْ بَنِي مُقَرِّنَ مَا لَنَا خَادِم إلا واحدةً لطمَهَا أَصْغَرْنَا فَأَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نُعْتِقَهَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَفِي رِوَايَةٍ سَابِعَ اخْوَةٍ لِي.

১৬০৩। আবু আলী সুয়াইদ ইবনে মুকাররিন (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুকাররিনের সাত সন্তানের মধ্যে সপ্তম হিসেবে নিজেকে দেখেছি। আমাদের সবার একটি মাত্র খাদিম ছিল। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ভাই তাকে চপেটাঘাত করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিমটাকে মুক্ত করে দিতে আমাদেরকে নির্দেশ দিলেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তার অপর বর্ণনায় আছে, আমার সাত ভাইয়ের মধ্যে আমি ছিলাম সপ্তম।

١٦٠٤ – وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْبَدْرِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ أَضْرِبُ غُلَامًا لِي بالسوط فَسَمِعْتُ صَوْتًا مِنْ خَلْفِي اعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ فَلَمْ أَنَّهُمُ الصَّوْتَ مِنَ الْغَضَبِ فلما دنا منى اذا هُوَ رَسُولُ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا هُوَ يَقُولُ اعْلَمُ أَبَا مَسْعُودٍ إِنَّ اللَّهَ أَقْدَرُ عَلَيْكَ مِنْكَ عَلَى هَذَا الْغُلَامِ فَقُلْتُ لَا أَضْرِبُ مَمْلُوكًا بَعْدَهُ ابدا – وفي رواية فسقط السوطُ مِنْ يَدِي مِنْ هَيْبَتِهِ ۖ وَفِي رِوَايَةٍ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ هُوَ حُلٌّ لِوَجْهِ اللهِ تَعَالَى فَقَالَ أَمَا لَوْ لَمْ تَفْعَلُ لِلْفَحَتَكَ النَّارُ أو لمستك النار – رواه مسلم بهذه الروايات.

১৬০৪। আবু মাসউদ আল-বদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার এক ক্রীতদাসকে চাবুক মারছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে শব্দ শুনতে পেলাম। খবরদার! আবু মাসউদ। রাগে উত্তেজিত থাকায় আমি শব্দটা বুঝতে পারলাম না। কাছে আসলে আমি বুঝতে পারলাম তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি তখন বলছেন: খবরদার! আবু মাসউদ, তুমি তোমার ক্রীতদাসের উপর যতটুকু ক্ষমতার অধিকারী, তোমার উপর আল্লাহ তার চেয়েও অধিক ক্ষমতাশালী। আমি বললাম, এরপর আমি আর কখনও কোন ক্রীতদাসকে প্রহার করবো না। অন্য বর্ণনায় আছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভয়ে আমার হাত থেকে চাবুকটি পড়ে গেল। আর এক বর্ণনায় আছে: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে আমি দাসত্ব শৃংখল থেকে মুক্ত করে দিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তুমি এটা না করতে, জাহান্নামের আগুন তোমাকে বেষ্টন করে নিত অথবা বলেছেন, আগুন তোমাকে স্পর্শ করত।

এসব বর্ণনা ইমাম মুসলিমের।

١٦٠٥ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ ضَرَبَ غُلَامًا لَهُ حَداً لَمْ يَأْتِهِ أَوْ لَطْمَهُ فَإِنْ كَفَّارَتَهُ أَنْ يُعْتِقُهُ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৬০৫। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন লোক যদি তার ক্রীতদাসকে বিনা অপরাধে মারধর করে অথবা তার মুখে চপেটাঘাত করে তবে তার কাফ্ফারা হলো। সে ঐ ক্রীতদাসকে স্বাধীন করে দেবে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٩٠٦ – وَعَنْ هِشَامِ بْنِ حَكِيم بن حزام رضيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ مَرْ بِالشَّامِ عَلَى أناس من الأنباط وَقَدْ أَقِيمُوا فِي الشَّمْسِ وَصُبٌ عَلَى رُؤُوسِهِمُ الزَّيْتُ فَقَالَ مَا هذا قيلَ يُعَذِّبُونَ فِي الْخِرَاجِ وَفِي رِوَايَةٍ حُبِسُوا فِي الْجِزْيَةِ فَقَالَ هِشَامٌ أَشْهَدُ السَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ يُعَذِّبُ الَّذِيْنَ النَّاسَ فِي الدُّنْيَا فَدَخَلَ عَلَى الْأَميرِ فَحَدَّثَهُ فَأَمَرَ بِهِمْ فَخُلُوْا رَوَاهُ مُسْلِمٌ

১৬০৬। হিশাম ইবনে হাকীম ইবনে হিযাম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি সিরিয়ার একটি এলাকা অতিক্রমকালে কৃষক সম্প্রদায়ের কিছু লোকের দেখা পান। তাদের মাথার উপর তেল ঢেলে রোদে দাঁড় করিয়ে শাস্তি দেয়া হচ্ছিল। হিশাম (রা) জিজ্ঞেস করলেন, এদে এ অবস্থা কেন? লোকেরা বলল, খারাজ (কর) আদায় করার জন্য এদেরকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। অপর বর্ণনায় আছে: জিযিয়া আদায় করার জন্য এদেরকে আটক করা হয়েছে। হিশাম (রা) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: যারা দুনিয়াতে মানুষকে শাস্তি দেয়, আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দেবেন। অতঃপর হিশাম (রা) সেখানকার শাসক (উমাইর ইবনে সাদ)-এর কাছে গিয়ে এই হাদীস শুনালেন। এতে শাসক তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হল।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٠٧ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِماراً مَوْسُوْمَ الْوَجْهِ فَأَنكر ذلكَ فَقَالَ وَاللَّهِ لَا اسْمُهُ إِلَّا أَقْصَى شَيْءٍمِنَ الْوَجْهِ وَآمر بحماره فكُوى فِي جَاعِرَتَيْهِ فَهُوَ أَولُ مَنْ كُوَى الْجَاعِرَتَيْنِ رواه مسلم.

১৬০৭। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখ দাগানো একটি গাধা দেখলেন। তিনি এটা অপছন্দ করলেন। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) বললেন, আল্লাহর শপথ। আমি মুখ থেকে যে অংশ সর্বাধিক দূরে সেই অংশে দাগ দেব। অতএব তিনি তার গাধা সম্পর্কে নির্দেশ দিলে সেটির পশ্চাদভাগে দাগানো হয়। কোন পশুর পশ্চাদদেশে দাগ দেয়ার ক্ষেত্রে তিনিই প্রথম ব্যক্তি।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٠٨ – وَعَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ عَلَيْهِ حِمَارٌ قَدْ وَسِمَ فِي وَجْهِهِ فَقَالَ لَعَنَ اللهُ الَّذِي وَسَمَهُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ، وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمِ أَيْضًا نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الضَّرْبِ فِي الْوَجْهِ وَعَنِ الْوَسْمِ فِي الْوَجْهِ.

১৬০৮। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে দিয়ে একটা গাধা যাচ্ছিল। গাধাটির মুখমণ্ডলে দাগানোর চিহ্ন ছিল। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি এটিকে দাগ দিয়েছে তার প্রতি আল্লাহর লা’নত।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তার অন্য বর্ণনায় আছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কোন জীবের) মুখমণ্ডলে আঘাত করতে এবং মুখমণ্ডলে দাগ দিতে নিষেধ করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩০ – কোন প্রাণী, এমনকি পিঁপড়া এবং অনুরূপ কোন প্রাণীকেও আগুন দিয়ে শান্তি দেয়া নিষেধ

١٦٠٩ – عن أبي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْث فَقَالَ إِنْ وَجَدْتُمْ فَلانا وفلانا لِرَجُلَيْنِ مِنْ قُرَيْشٍ سَمَاهُمَا فَأَحْرِقُوْهُمَا بِالنَّارِ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِيْنَ أَرَدْنَا الْخُرُوجَ اني كُنتُ أَمَرْتُكُمْ أَنْ تَحْرِقُوا فُلانا وفلانًا وَإِنَّ النَّارَ لَا يُعَذِّبُ بِهَا إِلَّا اللَّهُ فَإِنْ وَجَدْتُمُوهُمَا فَاقْتُلُوهُمَا رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৬০৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এক সামরিক অভিযানে পাঠানোর সময় কুরাইশদের দুই ব্যক্তির নাম করে বললেন: তোমরা যদি অমুক অমুক ব্যক্তির নাগাল পাও তাহলে তাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে মারবে। অতঃপর আমরা যখন রওয়ানা করতে উদ্যত হলাম তখন তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আদেশ করেছিলাম যে, অমুক অমুক ব্যক্তিকে পুড়িয়ে মারবে। কিন্তু আগুন দ্বারা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ শান্তি দিতে পারে না। তাই এই দু’জনের নাগাল পেলে তোমরা তাদের হত্যা করবে।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦١٠ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ فَانْطَلَقَ لِحَاجَتِهِ فَرَأَيْنَا حُمْرَةً مَعَهَا فَرْخَانِ فَأَخَدْنَا فَرْخَيْهَا فَجَاءَتِ الْحُمْرَةُ فَجَعَلَتْ تَعْرِشُ فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَنْ فَجَعَ هَذِهِ بِوَلَدِهَا رُدُّوا وَلَدَهَا إِلَيْهَا وَرَأَى قَرْيَةً نَمْلِ قَدْ حَرَّقْنَاهَا فَقَالَ مَنْ حَرَّقَ هذهِ قُلْنَا نَحْنُ قَالَ إِنَّهُ لا يَنْبَغِي أَنْ يُعَذِّبَ بِالنَّارِ إِلَّا رَبُّ النَّارِ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ باشناد صحيح

১৬১০। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলেন। আমরা দু’টি বাচ্চাসহ লাল রংয়ের একটি ছোট পাখি দেখতে পেলাম। আমরা বাচ্চা দু’টোকে ধরে আনলাম। মা পাখিটা এসে পেট মাটির সাথে লাগিয়ে পাখা দু’টি ঝাপটাতে লাগলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেনঃ কে এর বাচ্চা ধরে এনে একে ভীত-সন্ত্রস্ত করেছে? বাচ্চা দু’টোকে রেখে এসো। এরপর তিনি একটি পিঁপড়ার বাসা দেখতে পেলেন যা আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কে এগুলো পুড়িয়ে ফেলেছে? আমরা বললাম, এ কাজ আমাদের। নবী (সা) বললেন: আগুনের প্রভু ছাড়া অন্য কারো আগুন দিয়ে শাস্তি দেয়ার অধিকার নেই।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩১ – প্রাপক তার পাওনা দাবি করলে ধনী ব্যক্তির টাল-বাহানা করা হারাম

قَالَ اللهُ تَعَالَى : إِنَّ اللهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمُنْتِ إِلَى أَهْلِهَا ، وَإِذَا حَكَمْتُمْ

بين النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ ، إِنَّ اللهَ نِعِمَّا يَعِظُكُمْ بِهِ ، إِنَّ اللَّهَ كَانَ سميعاً بصيراً.

মহান আল্লাহ বলেন:

“আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যাবতীয় আমানাত তার প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দিতে। আর যখন তুমি লোকদের মাঝে কোন বিষয়ে ফায়সালা করবে, তখন ইনসাফের সাথে ফায়সালা করবে। আল্লাহ তোমাদেরকে কত উত্তম উপদেশ দান করছেন। আল্লাহ সব কিছুই জানেন ও দেখেন।” (সূরা আন্ নিসাঃ ৫৮)

وقَالَ تَعَالَى : فَإِنْ أمِنَ بَعْضُكُم بَعْضًا فَلْيُؤَدِ الَّذِي اؤْتُمِنَ أَمَانَتَهُ وَلَيَتَّقِ الله ربه ، ولا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ ، وَمَنْ يُكْتُمُهَا فَإِنَّهُ أَثْمَّ قَلْبُهُ ، وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ.

“তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কারো কাছে আমানাত রাখে, তবে যার কাছে আমানাত রাখা হয়েছে তার কর্তব্য আমানাতের হক যথাযথরূপে আদায় করা, তার প্রভু আল্লাহকে ভয় করা। তোমরা কখনও সাক্ষ্য গোপন করো না। যে সাক্ষ্য গোপন করে, তার মন পাপে কলুষিত হয়েছে। তোমরা যা কিছু কর সবই আল্লাহ ভালোভাবে জানেন।” (সূরা আল বাকারা: ২৮৩)

١٦١١ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَطَلُ الْغَنِي ظُلْمُ وَإِذَا أَتَّبِعَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِي فَلْيَتَبَعْ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬১১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পাওনা আদায়ের ব্যাপারে ধনী ব্যক্তির টালবাহানা করা যুগ্ম। যদি কারো ঋণকে অন্য (ধনী) ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়, তাহলে তার (ঋণদাতার) এ স্থানান্তরকে মেনে নেয়া উচিত। [ টিকা: অর্থাৎ অপর ব্যক্তি ঋণের যামিন হলে তা অনুমোদন করা উচিৎ।]

ইমামা বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩২ – হিবা বা দান প্রাপকের কাছে হস্তান্তর না করে ফেরত নেয়া অপছন্দনীয়

একইভাবে নিজের সন্তানকে দান করে ফেরত নেয়া- তা তার কাছে হস্তান্তর করা হোক বা

না হোক এবং যে ব্যক্তিকে সাদাকা দেয়া হল তার নিকট থেকে দাতার উক্ত সাদাকার বন্ধু কিনে নেয়া মাকরূহ। যাকাত, কাফ্ফারা বা অনুরূপ বস্তু (গ্রহীতার নিকট থেকে) কিনে নেয়াও মাকরূহ। তবে তা যদি অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হস্তান্তরিত হওয়ার পর তার থেকে কেনা হয় তাহলে কোন দোষ হবে না।

١٦١٢ – عَنِ ابْنِ عَبَّاسِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الَّذِي يَعُودُ ففِي هَبَتِهِ كَالْكَلْبِ يَرْجِعُ فِي قَيْنِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَفِي رِوَايَةٍ مَثَلُ الَّذِي يَرْجِعُ فِي صدقتِهِ كَمَثَلِ الْكَلْبِ يَقِيُّ ثُمَّ يَعُودُ فِي قَيْتِهِ فَيَأْكُلُهُ وَفِي رِوَايَةِ الْعَائِدُ فِي هبته كالعائد في قيته.

১৬১২। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি উপহার বা দান করে তা পুনরায় ফেরত নেয় সে ঐ কুকুরতুল্য যে বমি করে পুনরায় তা খায়।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অন্য বর্ণনায় আছেঃ যে ব্যক্তি সাদাকা করে তা পুনরায় ফেরত নেয়, সে এমন কুকুরতুল্য যে বমি করে পুনরায় তা খেয়ে ফেলে। আর এক বর্ণনায় আছে: যে ব্যক্তি দান করে তা আবার ফেরত নেয় সে বমিখোরের সমতুল্য।

١٦١٣ – وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ حَمَلْتُ عَلَى فَرَسَ فِي سَبِيلِ الله فَاضَاعَهُ الَّذِي كَانَ عِنْدَهُ فَأَرَدْتُ أَنْ اشْتَرِيهُ وَظَنَنْتُ أَنَّهُ يَبِيعُهُ بِرُخص فَسَأَلْتُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَا تَشْتَرِهِ وَلَا تَعُدُّ فِي صَدَقَتِكَ وَإِنْ أَعْطَاكَهُ بِدِرْهَم فَإِنَّ الْعَائِدُ فِي صَدَقَتِهِ كَالْعَائِدِ فِي قَبْتِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬১৩। উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি ঘোড়া আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য (কোন এক মুজাহিদকে) দান করেছিলাম। যার কাছে ঘোড়াটি ছিল সে সেটিকে ধ্বংস করে দিচ্ছিল। তাই আমি ঘোড়াটি তার নিকট থেকে কিনে নেয়ার ইচ্ছা করলাম। আমি অনুমান করলাম যে, সে সস্তায় ঘোড়াটি বিক্রয় করে ফেলবে। এ ব্যাপারে আমি নবী (সা)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেনঃ তুমি সেটি ক্রয় করো না। কেননা দান করে তা ফেরত নেয়া ব্যক্তি বমি করে তা পুনরায় গলাধঃকরণকারী ব্যক্তির মত।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩৩ – ইয়াতীমের বিষয়-সম্পত্তি আত্মসাৎ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ

قَالَ اللهُ تَعَالَى : إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“যারা ইয়াতীমের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে খায়, তারা আগুন দ্বারাই নিজেদের পেট বোঝাই করে। তারা নিশ্চয়ই জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে।” (সূরা আন নিসাঃ ১০)

وَقَالَ تَعَالَى : وَلا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ.

“জ্ঞান-বুদ্ধি লাভের বয়সে না পৌঁছা পর্যন্ত তোমরা ইয়াতীমের ধন-সম্পদের কাছেও যেও না। অবশ্য এমন নিয়ম ও পন্থায় যেতে পারো যা সর্বাপেক্ষা উত্তম।” (সূরা আল আন’আম : ১৫২)

وقال تعالى : وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَى قُلْ إِصْلاحَ لَهُمْ خَيْرٌ وَإِنْ تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ الْمُفْسِدَ مِنَ الْمُصْلِحِ ، وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَعْنَتَكُمْ إِنَّ اللَّهَ عزيز حكيم.

“তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করে, ইয়াতীমদের সাথে কিরূপ ব্যবহার করবে? বলঃ যে ধরনের কাজে তাদের কল্যাণ হতে পারে, তা অবলম্বন করাই উত্তম। যদি তোমরা নিজেদের ও তাদের খরচপত্র ও থাকা-খাওয়া একত্র রাখ, তবে তাতে কোন দোষ নেই। কেননা তারা তোমাদেরই ভাই-বন্ধু। যারা অন্যায় করে এবং যারা ন্যায় করে তাদের সবার অবস্থা আল্লাহ জানেন। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদের উপর অনেক কঠোরতা আরোপ করতেন। নিশ্চয় আল্লাহ প্রবল পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।” (সূরা আল বাকারা: ২২০)

١٦١٤ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اجتنبوا السبع الموبقات قَالُوا يَا رَسُولَ الله وَمَا هُنَّ قَالَ الشَّرْكُ بِاللَّهِ وَالسَّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَكُلُ الرِّهَا وَأَكُلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَالتَّولِي يومَ الزَّحْفِ وَقَذَفَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ الْغَافِلات مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬১৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে দূরে থাক। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল। ঐগুলো কি? তিনি বলেন: আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা, যাদু করা, যে জীবন ও প্রাণকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন তা অন্যায়ভাবে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, ইয়াতীমের ধন-মাল আত্মসাৎ করা, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা এবং পবিত্র চরিত্রের অধিকারিণী সরলপ্রাণ মুমিন স্ত্রীলোকের প্রতি চারিত্রিক অপবাদ আরোপ করা। [টিকা: অর্থাৎ হত্যার যোগ্য অপরাধ করলে আদালতের মাধ্যমেই কেবল হত্যার দণ্ড কার্যকর করা যাবে। ইসলামী আইন ন্যায়ত হত্যার পাঁচটি ক্ষেত্র চূড়ান্তভাবে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। (১) ইচ্ছাপূর্বক হত্যাকারীকে হত্যা করা; (২) যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুসৈন্য হত্যা করা; (৩) ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রকারীকে হত্যা করা; (৪) বিবাহিত নারী/পুরুষ যেনা করলে হত্যা করা এবং (৫) মুরতাদ বা ইসলাম ত্যাগকারীকে হত্যা করা।]

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ : ৩৪ – সুদ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে

قَالَ اللهُ تَعَالَى : الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُوْمُ الَّذِي يَتَخَيْطُهُ الشيطانُ مِنَ الْمَسِ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وحرم الرِّهَا فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَآمُرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ. يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ . والله لا يُحِبُّ كُلِّ كَفَّارٍ أتيم. إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ وَأَقَامُوا الصَّلوةَ وأتوا الزكوة لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ ، وَلا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُوْنَ يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبوا إِنْ كُنتُمْ مُؤْمِنِينَ. فَإِنْ لَّمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ ، وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُمُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ ولا تُظْلَمُونَ.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“যারা সুদ খায়, তাদের অবস্থা সেই ব্যক্তির মত, যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল ও জ্ঞানশূন্য করে দিয়েছে। তাদের এরূপ অবস্থা হওয়ার কারণ এই যে, তারা বলেঃ ব্যবসা তো সুদের মতই। অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। কাজেই যার কাছে তার প্রভুর তরফ থেকে এই উপদেশ পৌঁছবে, পরে সে সুদখোরী থেকে বিরত থাকবে, সে পূর্বে যা কিছু করেছে তা অতীতের ব্যাপার। ব্যাপারটি আল্লাহর হাতে সোপর্দ। আর যারা এ নির্দেশ পাওয়ার পরও সুদের পুনরাবৃত্তি করবে, তারা নিশ্চিতরূপে জাহান্নামী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ সুদকে নির্মূল করেন এবং দান-খয়রাতকে ক্রমবৃদ্ধি দান করেন। আল্লাহ কোন অকৃতজ্ঞ পাপীকে পছন্দ করেন না। যারা ঈমান আনবে, সৎ কাজ করবে, নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে, তাদের প্রতিদান তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে। তাদের জন্য কোন ভয় ও চিন্তার কারণ নেই। হে ঈমানদারগণ। আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমাদের যে সুদ লোকের কাছে পাওনা রয়েছে, তা ছেড়ে দাও, যদি প্রকৃতই তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক। যদি তা না কর, তবে জেনে রাখো, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা রয়েছে। এখনো যদি তাওবা করে সুদ পরিত্যাগ করো, তবে তোমরা মূলধন ফেরত পাবে। না তোমরা যুলম করবে আর না তোমাদের প্রতি যুগ্ম করা হবে।” (সূরা আল বাকারা: ২৭৫-২৭৯)

ইমাম নববী (র) বলেন, সুদ হারাম হওয়ার ব্যাপারে এবং তার পরিণতি সম্পর্কে বহু সংখ্যক সহীহ ও প্রসিদ্ধ হাদীস রয়েছে।

١٦١٥ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم أكل الربا وموكله. رَوَاهُ مُسْلِمٌ. زَادَ التَّرْمِذِى وَغَيْرُهُ وَشَاهِدَيْهِ وَكَاتِبَهُ.

১৬১৫। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদখোর এবং সুদদাতাকে অভিসম্পাত করেছেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ এ কথাও বর্ণনা করেছেন যে, সুদের সাক্ষীদ্বয় ও তার হিসাবরক্ষককেও নবী (সা) লা’নত করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩৫ – রিয়া বা প্রদর্শনীমূলকভাবে কোন কাজ করা হারাম

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَمَا أمروا الا لِيَعْبُدُوا اللهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ ، حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصلوة ويؤتوا الزكوة وذلك دين القيمة.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদত করার, তাঁর জন্য দীনকে খালেছ করতে, একনিষ্ঠ ও একমুখী করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (আরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে): নামায কায়েম করবে এবং যাকাত আদায় করবে। মূলত এটাই সুদৃঢ় দীন।” (সূরা আল বায়্যিনাহ: ৫)

وقال تعالى : بأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُمْ بِالْمَنِّ وَالْأَذَى : كَالَّذِييُنفِقُ مَالَهُ رِئَاءَ النَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ، فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ صَفْوَانِ عَلَيْهِ تراب فَأَصَابَهُ وَابِلٌ فَتَرَكَهُ صَلْدًا ، لا يَقْدِرُونَ عَلَى شَيْءٍ مِمَّا كَسَبُوا ، وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَفِرِينَ.

“হে ঈমানদারগণ। তোমরা নিজেদের দান-খয়রাতকে অনুগ্রহের কথা বলে এবং কষ্ট দিয়ে সেই ব্যক্তির মত নষ্ট করে দিও না, যে শুধু লোক দেখানোর জন্য নিজের ধন-সম্পদ ব্যয় করে। সে না আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে, না আখিরাতের প্রতি। তার দৃষ্টান্ত এরূপ: যেমন একটি বিরাট শিলাখণ্ড, তার উপর মাটির আন্তর জমে আছে। যখন মুষলধারে বৃষ্টি পড়ল, তখন সমস্ত মাটি ধুয়ে চলে গেল এবং গোটা শিলাখণ্ডটি নির্মল ও পরিষ্কার হয়ে গেল। এসব লোক দান-সাদাকা করে যে সাওয়াব অর্জন করে তা দ্বারা তাদের কোন উপকার হয় না। আল্লাহ কাফিরদেরকে সৎপথ দেখান না।” (সূরা আল বাকারাঃ ২৬৪)

وقال تعالى : إِنَّ الْمُنْفِقِينَ يُخْدِعُونَ اللهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ ، وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلوة قَامُوا كُسَالَى : يُرَاؤُونَ النَّاسِ وَلَا يَذْكُرُونَ اللهَ الا قليلا.

“এই মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে ধোঁকাবাজি করছে, অথচ তিনিই ওদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছেন। যখন এরা নামায পড়তে দাঁড়ায়, তখন আলস্য জড়িতভাবে দাঁড়ায়। শুধু লোক দেখানোর জন্য এরা ঠোঁট নাড়ে, আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে।” (সূরা আন নিসা: ১৪২)

١٦١٦ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ قَالَ اللهُ تَعَالَى أنا أغنى الشركاء عَنِ الشَّرْكَ مَنْ عَمِلَ عَمَلاً أشرك فِيْهِ مَعِي غَيْرِي تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ.

১৬১৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি। আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমি শিক্ককারীদের আরোপিত শিক্ক থেকে মুক্ত। যে ব্যক্তি এমন কাজ করলো যার মধ্যে আমার সাথে অন্য কাউকে শরীক করলো, আমি তাকে ও তার শিককে পরিত্যাগ করি।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦١٧ – وَعَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنْ أَوَّلَ الناس يقضى يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ فَأْتِيَ بِهِ فَعَرَفَهُ نِعْمَتَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيْهَا قَالَ قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَقاتَلْتَ لأَنْ يُقَالَ جَرِى فَقَدْ قَبْلَ ثُمَّ أَمر بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى الْقِي فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ وَعَلَمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ فَأَتِيَ بِهِ فَعَرَفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ تَعَلَّمُتُ الْعِلْمَ وَعَلَمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيْكَ الْقُرْآنَ قَالَ كَذَبْتَ ولكنك تعلمتَ لِيُقَالَ عَالِمٌ وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ هُوَ قَارِئُ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أَمَرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى الْقِي فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ وَسْعَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَعْطَاهُ مِنْ أصْنَافِ الْمَالِ فَأتِي بِهِ فَعَرَفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلِ تُحِبُّ أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا انْفَقْتُ فِيهَا لَكَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ ليُقَالَ هُوَ جَوَادٌ فَقَدْ قَبْلَ ثُمَّ أَمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ ثُمَّ الْقِي فِي النَّارِ رواه مسلم.

১৬১৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামাতের দিন প্রথম যে ব্যক্তির বিচার হবে সে একজন শহীদ। তাকে হাজির করা হবে। পার্থিব জগতে তাকে যেসব নি’আমাত দেয়া হয়েছিল সেগুলো তাকে দেখানো হবে এবং সে তা চিনতে পারবে। তাকে বলা হবে, এসব নি’আমাতকে তুমি কিভাবে কাজে লাগিয়েছ। সে বলবে, হে আল্লাহ। আমি তোমার রাস্তায় জিহাদ করেছি এবং শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বললে, বরং তুমি এজন্য যুদ্ধ করেছ যে, লোকে তোমাকে বীর উপাধি দেবে। অবশ্য তা বলাও হয়েছে। অতঃপর নির্দেশ দেয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে হেঁচড়ে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অপর এক ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করেছিল, তা অন্যকে শিক্ষা দিয়েছিল এবং সে কুরআনও পাঠ করেছিল। তাকে ডেকে নিয়ে যেসব নি’আমাত তাকে দেয়া হয়েছিল তা দেখানো হবে। সে তা সনাক্ত করবে। আল্লাহ পাক বলবেন: এসব নি’আমাত তুমি কিভাবে কাজে লাগিয়েছ? সে উত্তর দেবে, আমি জ্ঞানার্জন করেছি তা অন্যকে শিক্ষা দিয়েছি এবং তোমার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বললে, বরং তুমি এজন্যই জ্ঞান অর্জন করেছ যে, লোকে তোমাকে জ্ঞানী বলবে। আর কুরআন এজন্যই পাঠ করেছ যে, তোমাকে কারী বলা হবে এবং তা বলাও হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে আদেশ দেয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে হেঁচড়ে টেনে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আরেক ব্যক্তিকে আল্লাহ ধন-সম্পদের যথেষ্ট প্রাচুর্য দান করেছিলেন। তাকে দেয়া নি’আমাতসমূহ তার সামনে হাযির করা হবে এবং সে তা চিনতে পারবে। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি এই ধন-সম্পদ কিভাবে ব্যবহার করেছ? সে বলবে, হে আল্লাহ। যেসব পথে খরচ করাকে তুমি পছন্দ কর, আমি তার প্রতিটি পথেই অর্থ-সম্পদ খরচ করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বললে, বরং তুমি এজন্যই অর্থ-সম্পদ খরচ করেছ যে, তোমাকে দানশীল বলা হবে। আর তা বলাও হয়েছে। তার সম্পর্কে নির্দেশ দেয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে হেঁচড়ে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। [টিকা: আমাদের দেশে ‘কারী বলতে বুঝায় যে ব্যক্তি কুরআন শুদ্ধরূপে পাঠ করার পদ্ধতি শিখেছে। কিন্তু হাদীসের পরিভাষার ‘কারী’ বলা হয় কুরআন ও তাফসীর শাস্ত্রে যার গভীর জ্ঞান রয়েছে।]

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦١٨ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنْ نَاسًا قَالُوا لَهُ إِنَّا نَدْخُلُ عَلَى سلاطيننَا فَتَقُولُ لَهُم بخلاف ما نَتَكَلَّمُ إِذا خَرَجْنَا مِنْ عِنْدِهِمْ قَالَ ابْنُ عُمَرَ كُنَّا تعُدُّ هُذَا نِفَاقًا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৬১৮। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। একদল লোক তাকে বললোঃ আমরা কখনও কখনও আমাদের শাসকগোষ্ঠীর কাছে গিয়ে থাকি। সেখানে আমরা যে কথাবার্তা বলি, বাইরে এসে তার উল্টা বলি। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগেএরূপ আচরণকে মুনাফিকী গণ্য করতাম।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦١٩ – وَعَنْ جُنْدُبِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ سُفْيَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سَمْعَ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ وَمَنْ يُرَانِي يُرَانِي اللهُ بِهِ. متفق عَلَيْهِ وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ أَيْضًا مِنْ رِوَايَةِ ابْنِ عَبَّاسٍ سَمْعَ بِتَشْدِيدِ الْمِيمِ وَمَعْنَاهُ أَظْهَرَ عَمَلَهُ لِلنَّاسِ رِيَاءٌ، سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ أَي فَضَحَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَعْنَى من را مى أَي مَنْ أَظْهَرَ لِلنَّاسِ الْعَمَلَ الصَّالِحَ لِيَعْظُمَ عِنْدَهُمْ رَامَى اللَّهُ بِهِ أَيُّ اظهَرَ سَرِيرَتَهُ عَلَى رُؤُوسِ الْخَلَائِقِ .

১৬১৯। জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সুফিয়ান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সুনাম অর্জনের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করে, আল্লাহ তা’আলা তার দোষত্রুটিকে লোক সমাজে প্রকাশ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য কোন আমল করে আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে লোক দেখানোর মত আচরণ করবেন। (অর্থাৎ আমলের প্রকৃত সাওয়াব থেকে সে বঞ্চিত থাকবে।)

হাদীসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম ইবনুল আব্বাস (রা)-র সূত্রেও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সাম্মা’আ শব্দের অর্থঃ প্রদর্শনেচ্ছার বশবর্তী হয়ে মানুষের সামনে নিজের যাবতীয় নেক কাজকে প্রকাশ করা। সাম্মা’আল্লাহু বিহি-র অর্থ: কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করবেন। মান রায়া রায়াল্লাহু বিহি-এর অর্থঃ যে ব্যক্তি সৎ কাজ করে নিজের বড়ত্ব অর্জনের জন্য লোকের সামনে তা প্রকাশ করে, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন সৃষ্টিকুলের সামনে তার দোষত্রুটি প্রকাশ করে দেবেন।

١٦٢٠ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَعَلَّمَ عَلمًا مِمَّا يُبْتَغَى به وَجْهُ الله عَزَّ وَجَلَّ لَا يَتَعَلَّمُهُ إِلا لِيُصِيبَ بِهِ عرضًا مِنَ الدُّنْيَا لَمْ يَجِدُ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَعْنِي رِيحَهَا رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ باشناد صحيح والْأَحَادِيثُ فِي الْبَابِ كَثِيرَةً مَشْهُورَةٌ .

১৬২০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন জ্ঞান অর্জন করলো, যা দ্বারা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, কিন্তু সে তা পার্থিব সুখ-শান্তি ও সুযোগ-সুবিধা লাভের অভিপ্রায়ে অর্জন করলো, সে কিয়ামাতের দিন জান্নাতের গন্ধও পাবে না।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে বহু প্রসিদ্ধ হাদীস বিদ্যমান আছে।

অনুচ্ছেদ: ৩৬ – যেসব জিনিসের মধ্যে প্রদর্শনেচ্ছা আছে বলে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তার মধ্যে প্রদর্শনেচ্ছা নেই

١٦٢١ – عَنْ أَبِي ذَرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَأَيْتَ الرَّجُلَ الَّذِي يَعْمَلُ الْعَمَلَ مِنَ الْخَيْرِ وَيَحْمَدُهُ النَّاسُ عَلَيْهِ قَالَ تِلْكَ عَاجِلٌ بُشْرَى الْمُؤْمِنِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৬২১। আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হলো: ঐ লোকটির ব্যাপারে আপনার কী মত, যে ভালো কাজ করে এবং (এ কারণে) লোকেরা তার প্রশংসা করে? তিনি বলেন: এটা একজন মুমিনের জন্য অগ্রিম সুসংবাদ।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩৭ – বেগানা নারী ও সুদর্শন বালকের প্রতি নিষ্প্রয়োজনে তাকানো নিষেধ

قَالَ اللهُ تَعَالَى : قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ، ذَلِكَ ازكى لَهُمْ ، إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“হে নবী। মুমিন পুরুষদের বল: তারা যেন নিজেদের দৃষ্টিকে সংযত করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহের হিফাযাত করে। এটা তাদের জন্য পবিত্রতম নীতি। তারা যা কিছু করে, আল্লাহ সে বিষয়ে পুরোপুরি অবহিত।” (সূরা আন্ নূরঃ ৩০)

وَقَالَ تَعَالَى : إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُوْلاً.

“শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, অন্তঃকরণ প্রভৃতি প্রতিটি অংগ-প্রত্যংগের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে।” (সূরা বনী ইসরাঈল: ৩৬)

وَقَالَ تَعَالَى : يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ.

“আল্লাহ চোখের চুরিকেও জানেন, আর বুকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা গোপন কথাও জানেন।” (সূরা আল মুমিন: ১৯)

وَقَالَ تَعَالَى : إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ .

“তোমার প্রভু ঘাঁটিতে অপেক্ষমান আছেন।” (সূরা আল ফজর: ১৪)

١٦٢٢ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كتب عَلَى ابْنِ آدَمَ نَصِيبُهُ مِنَ الزنى مُدْرِكَ ذَلِكَ لَا مَحَالَةَ الْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النظر والأذْنَانِ زِنَاهُمَا الاسْتِمَاعُ وَالنِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْسُ والرَّجُلُ زِنَاهَا الْخُطَا وَالْقَلْبُ يَهْوِي وَيَتَمَنَّى وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ أَوْ يُكَذِّبُهُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَهُذا لفظ مُسْلِم .

১৬২২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আদম সন্তানের জন্য ব্যভিচারের একটি অংশ নির্দিষ্ট করা আছে। এটা সে নিঃসন্দেহে পাবেই। দুই চোখের যেনা পরস্ত্রীর প্রতি নজর করা, দুই কানের যেনা হল যৌন উত্তেজক কথাবার্তা শ্রবণ করা, মুখের যেনা হল আলোচনা করা, হাতের যেনা স্পর্শ করা, পারের যেনা ঐ উদ্দেশ্যে যাতায়াত করা। অন্তর ঐ কাজের প্রতি কু-প্রবৃত্তিকে জাগ্রত করে এবং তার আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করে। আর যৌনাংগ এমন অবস্থা সত্যায়িত বা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এখানে সহীহ মুসলিমের মূলপাঠ উক্ত হয়েছে।

١٦٢٣ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِيَّاكُمْ وَالْجُلُوس في الطرقات قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَنَا مِنْ مجالِسِنَا بُدَّ تَتَحَدِّثُ فِيهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا أَبَيْتُمُ إلا الْمَجْلِسَ فَاعْطُوا الطريق حَقَّهُ قَالُوا وَمَا حَقُّ الطَّرِيقِ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ غَضُ الْبَصَرِ وَكَفَّ الْأَذَى وَرَدُّ السَّلامِ وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهَى عَنِ الْمُنْكَرِ متفق عليه.

১৬২৩। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: রাস্তায় বসা থেকে তোমরা সাবধান হও। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের রাস্তায় না বসে কোন উপায় নাই। আমরা রাস্তায় বসে কথাবার্তা বলি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা যখন রাস্তার উপর বসা থেকে বিরত থাকতে অস্বীকার করছো, তখন রাস্তার হক আদায় করবে। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল। রাস্তার হক আবার কী? তিনি বলেন: দৃষ্টি সংযত রাখা, কষ্টদায়ক বন্ধু রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়া, পথিকদের সালামের উত্তর দেয়া, সৎ কাজের আদেশ দেয়া এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখা।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٢٤ – وَعَنْ أَبِي طَلْحَةَ زَيْدِ بْنِ سَهْلِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا قُعُودًا بِالْأَغْنِيَةِ تتحدث فِيهَا فَجَاءَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَامَ عَلَيْنَا فَقَالَ مَا لَكُمْ والمجالس الصعدات اجْتَنِبُوا مجالس الصعداتِ فَقُلْنَا إِنَّمَا فَعَدْنَا لِغَيْرِ مَا بَأْسٍ فَعَدْنَا نَتَذَاكَرُ وَنَتَحَدَّثُ قَالَ إِمَّا لَا فَادُوا حَقَّهَا غَضُ الْبَصَرِ وَرَدُّ السَّلَامِ وَحُسْنُ الكلام – رَوَاهُ مُسْلِم

১৬২৪। আবু তালহা ইবনে সাহল (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের বাড়ীর চত্বরে বসে কথাবার্তা বলছিলাম। ইতিমধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে আমাদের সামনে দাঁড়ালেন। তিনি বললেনঃ তোমাদের কি হলো, রাস্তায় বসো কেন? রাস্তায় বসা পরিহার কর। আমরা বললাম, আমরা কোন ক্ষতি সাধনের জন্য এখানে বসিনি, বরং কথাবার্তা ও আলাপ-আলোচনার জন্য বসেছি। তিনি বললেনঃ যদি না বসলেই নয়, তাহলে রাস্তার হক আদায় কর। রাস্তার হক হলোঃ দৃষ্টি সংযত রাখা, পথিকদের সালামের জবাব দেয়া এবং উত্তম কথা বলা।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
١٦٢٥ – وَعَنْ جَرِيرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَظرِ الْفَجْأَةِ فَقَالَ اصْرِفُ بَصَرَكَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৬২৫। জারীর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আকস্মিকভাবে দৃষ্টি পড়ে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন: তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে আনো।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٢٦ – وَعَنْ أَمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ كُنتُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعِنْدَهُ مَيْمُونَةً فَأَقْبَلَ ابْنُ أَمِّ مَكْتُوْمِ وَذَلِكَ بَعْدَ أَنْ أَمِرْنَا بِالْحِجَابِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ احْتَجِهَا مِنْهُ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ الَيْسَ هُوَ أعمى لا يُبْصِرنا ولا يَعْرِفْنَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفَعَتَبَاوَانِ انْتَمَا الستما تُبصرانه رواه أبو داود والترمذى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৬২৬। উম্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছিলাম। মাইমূনা (রা)-ও তখন তাঁর কাছে ছিলেন। এমন সময় আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম এসে উপস্থিত হন। এটা আমাদেরকে পর্দার হুকুম দেয়ার পরের ঘটনা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তার সামনে পর্দা কর। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। সে কি অন্ধ নয়? সে তো আমাদের দেখতে পায় না, চিনতেও পারে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা দু’জনও কি অন্ধ? তোমরা কি তাকে দেখতে পাও না?

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।

١٦٢٧ – قال لا يَنظُرُ الرَّجُلُ إِلى عَوْرَة الرَّجُلِ وَلا الْمَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ الْمَرْأَةِ وَلَا يُقْضِي الرجل إلى الرجل في ثوب واحد ولا تقضى الْمَرْأَةُ إِلَى الْمَرْأَةِ فِي الشَّوْبِ الواحد – رواه مسلم.

১৬২৭। আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন পুরুষ অন্য পুরুষের সতরের দিকে তাকাবে না এবং কোন নারী অন্য নারীর সতরের দিকে তাকাবে না। দু’জন পুরুষ লোক একত্রে একই কাপড়ে জড়াজড়ি করে ঘুমাবে না। অনুরূপভাবে দু’জন মহিলাও একত্রে একই বস্ত্রের মধ্যে জড়াজড়ি করে ঘুমাবে না।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। [টিকা:নারী-পুরুষের শরীরের যেসব অংগ সর্বদা ঢেকে রাখতে হয় তাকে ‘সতর’ বলে। ]

অনুচ্ছেদ: ৩৮ – পরস্ত্রীর সাথে নির্জনে সাক্ষাত করা নিষেধ

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَظْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“নবীর স্ত্রীদের কাছে তোমাদের কিছু চাইতে হলে পর্দার আড়াল থেকে চাও। তোমাদের ও তাদের অন্তরের পবিত্রতা রক্ষার জন্য এটাই উত্তম পন্থা।” (সূরা আল আহযাবঃ ৫৩)

١٦٢٨ – وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاء فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ أَفَرَأَيْتَ الْحَمْوَ قَالَ الْحَمْدُ الْمَوْتُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ الْحَمْدُ قَرِيبُ الزَّوْجِ كَأَخِيهِ وَابْنِ أخيه وابن عمه.

১৬২৮। উকবা ইবনে আমের (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নারীদের সাথে অবাধে মেলামেশা করা থেকে সাবধান হও। একজন আনসারী বললো, দেবরের সাথে মেলামেশার ব্যাপারে আপনার কি মত? তিনি বলেনঃ দেবর তো সাক্ষাত মৃত্যু।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আল-হামউ অর্থ স্বামীর নিকটাত্মীয়, যেমন ভাই, ভাতিজা, চাচাত ভাই ইত্যাদি।

١٦٢٩ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَخْلُونَ أَحَدُكُمْ بِإِمْرَأَةِ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬২৯। ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন কোন নারীর সাথে একান্তে সাক্ষাত না করে, তবে তার সাথে তার কোন মাহরাম পুরুষ আত্মীয় থাকলে ভিন্ন কথা।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٣٠ – وَعَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُرْمَة نِسَاءِ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ كَحُرْمَةِ أُمَّهَاتِهِمْ مَا مِنْ رَجُلٍ مِّنَ الْقَاعِدِينَ يَخْلُفُ رَجُلاً مِّنَ الْمُجَاهِدِينَ في أَهْلِهِ فَيَخُونُهُ فِيهِمُ الأَ وَقَفَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَأْخُذُ مِنْ حَسَنَاتِهِ مَا شَاءَ حَتَّى يَرْضَى ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَا ظَنُّكُمْ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৬৩০। বুরাইদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জিহাদে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদের স্ত্রীদের সম্মান-সম্ভ্রম রক্ষা করা বাড়িতে অবস্থানকারী পুরুষদের জন্য তাদের মায়েদের সম্মান-সম্ভ্রম রক্ষা করার সমতুল্য। যদি বাড়িতে অবস্থানকারী কোন ব্যক্তিকে কোন মুজাহিদ পরিবারের দেখাশুনার দায়িত্ব দেয়া হয়, আর সে তাতে খিয়ানত করে, তবে কিয়ামাতের দিন মুজাহিদ ব্যক্তি যত খুশি তার নেকী থেকে নিয়ে নিতে পারবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে ফিরে বলেনঃ তোমরা কি মনে কর?
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩৯ – পোশাক-পরিচ্ছদ, চালচলন, আচার-ব্যবহার ইত্যাদিতে পুরুষ কর্তৃক নারীর এবং নারী কর্তৃক পুরুষের অনুকরণ হারাম

١٦٣١ – عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُخْتَثِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالْمُتَرَجِلاتِ مِنَ النِّسَاءِ، وَفِي رواية لَعَنَ رَسُولُ الله صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُتَشَهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ وَالْمُتَشَبَهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

১৬৩১। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের বেশ ধারণকারী পুরুষ এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীদের অভিসম্পাত করেছেন। অন্য বর্ণনায় আছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের অনুকরণকারী পুরুষদের এবং পুরুষদের অনুকরণকারী নারীদেরকে অভিসম্পাত করেছেন।
ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٣٢ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضى اللهُ عَنْهُ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّجُلَ يَلْبَسُ لِبْسَةَ الْمَرْأَةِ وَالْمَرْأَةَ تَلْبَسُ لِبْسَةَ الرَّجُلِ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ باسناد صحيح

১৬৩২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীর পোশাক পরিধানকারী পুরুষকে এবং পুরুষের পোশাক পরিধানকারী
নারীকে অভিসম্পাত করেছেন।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٣٣ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لم أَرَهُمَا قَوْمٌ مَعَهُمْ سَيَاطٌ كَاذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ وَنِسَاء كَاسِيَاتٌ عاريات مميلات مائلات رؤوسهن كأسنمة البخت المائلة لا يَدْخُلُنَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا وَإِنْ رِيحَهَا لِيُوجَدُ مِنْ مَسيرَة كَذَا وَكَنَا – رَوَاهُ مُسْلِمٌ مَعْنَى كاسيات أي من نعمة الله عاريات من شكرها. وَقَبْلَ مَعْنَاهُ تَسْتُرُ بَعْضٍ بَدَنِهَا وَتَكْشِفُ بَعْضَهُ اظهاراً لجمالها ونحوه. وقيل تَلْبَسُ ثَوْبًا رَقِيقًا يَصِفُ لَوْنَ بدنها. ومعنى ما ثلاتٌ قَبْلَ عَن طاعة الله تَعَالَى وَمَا يَلْزَمُهُنَّ حفظهُ مُمِيلات أن يُعَلِّمْنَ غَيْرَهُنَّ فِعْلَهُنَّ الْمَذْمُومَ. وَقِيلَ مَا ثلاتٌ يَمْشِينَ مُتَبَخْتِرَاتِ مُمِيلات لاكتافهن، وقيل مائلات يمتشطن المشطة الْمَيْلَاءَ وَهِيَ مَشْطةُ الْبَغَايَا ومُمِيلات يُمَشِطْنَ غَيْرَهُنَّ تِلْكَ الْمِشْطَة. رُؤُوسُهُنَّ كَاسْنِمَةِ الْبُخْتِ أَي يُكَبِّرْنَهَا ويعظمتها بلفِ عِمَامَةٍ أَوْ عِصَابَةٍ أَوْ نَحوه .

১৬৩৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নামীদের এমন দু’টি দল রয়েছে যাদের আমি দেখিনি। তাদের এক দলের হাতে গরুর লেজের মত চাবুক থাকবে। তারা তা দিয়ে লোকদেরকে মারবে। আর এক দল নারীদের। তারা পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করা সত্ত্বেও উলঙ্গ, বিচ্যুতকারিণী ও স্বয়ং বিচ্যুত। বুখতি উটের উঁচু কুঁজের মত তাদের চুলের খোপা। এসব নারী কখনও জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধি অনেক অনেক দূর থেকে পাওয়া যাবে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কাসিয়াত অর্থঃ যে আল্লাহর নি’আমাতরূপে পোশাক পরিধান করে না। ‘আরিয়াত’ অর্থ: যে শুকরিয়া আদায় করে না অথবা দেহের কিছু অংশ আবৃত করে এবং রূপ সৌন্দর্য প্রদর্শনের ইচ্ছায় কিছু অংশ খোলা রাখে, দেহলাবণ্য দেখানোর জন্য পাতলা মিহি কাপড় পরিধান করে। মাইলাত অর্থ: নিজের কুকর্মগুলো মানুষের সামনে প্রকাশকারিণী, নিজের জাঁকজমক অঙ্গভঙ্গীর মাধ্যমে প্রদর্শনকারিণী। এরূপ সাজসজ্জা ব্যভিচারিণী ও বেশ্যা প্রকৃতির মেয়েরাই সাধারণত করে থাকে। রুউসুহুন্না কাআসনিমাতিল বুখতি অর্থঃ যে নারী চুলের খোপা মটকার মত করে বাঁধে, যে দোপাট্টা, রুমাল ইত্যাদি পেঁচিয়ে বুখতি উটের কুঁজের মত তা বড় ও উঁচু করে।

অনুচ্ছেদ: ৪০ – শয়তান ও কাফিরদের অনুকরণ করা নিষেধ

١٦٣٤ – عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَأْكُلُوا بِالشِّمَالِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ وَيَشْرَبُ بِشِمَالِهِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৬৩৪। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা বাম হাতে পানাহার করো না। কেননা শয়তান বাম হাতে পানাহার করে।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٣٥ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال لا يَأْكُلَنْ أَحَدُكُمْ بِشِمَالِهِ وَلَا يَشْرَبْنَ بِهَا فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ وَيَشْرَبُ بِهَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৬৩৫। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন কখনো বাঁ হাত দিয়ে না খায় এবং বাঁ হাত দিয়ে পান না করে। কেননা শয়তান বাঁ হাত দিয়ে খায় এবং পান করে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٣٦ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى لا يَصْبِغُونَ فَخَالِقُوهُمْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ الْمُرَادُ خَضَابٌ شعر اللحية والرأس الأبيض بصفْرَةٍ أَوْ حُمْرَةٍ وَأَمَّا السَّوَادُ فَمَنْهَى عَنْهُ.

১৬৩৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ইহুদী ও খৃস্টানরা খেযাব ব্যবহার করে না। অতএব তোমরা এর বিপরীত কর। ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী (র) বলেন, দাড়ি ও মাথার সাদা চুলে লাল অথবা হলুদ রং-এর খেযাব করা যায়। কিন্তু কালো রং-এর খেযাব নিষিদ্ধ।

অনুচ্ছেদ: ৪১ – নারী-পুরুষ সকলের চুলে কালো খেযাব ব্যবহার করা নিষেধ

١٦٣٧ – عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَتِي بِأَبِي قُحَافَةً وَالِدِ أَبِي بَكْرِ الصِّدِّيقِ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ وَرَأْسُهُ وَلِحْبَتُهُ كَالتَّغَامَةِ بَيَاضًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَيرُوا هذا وَاجْتَنِبُوا السواد – رواه مسلم.

১৬৩৭। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আবু বাক্স সিদ্দীক (রা)-র পিতা আবু কুহাফাকে নবী (সা)-এর কাছে হাযির করা হলো। তার দাড়ি ও মাথার চুল ‘সাগামা’ ঘাসের স্কচ সাদা ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: চুলের এই রং কিছু দিয়ে পরিবর্তন কর এবং কালো (রং) পরিহার কর।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪২ – মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করা নিষেধ

মাথার কিছু অংশ মুড়ে কিছু অংশে চুল রেখে দেয়া নিষেধ। পুরুষদের জন্য সম্পূর্ণ মাথা মুড়ে ফেলা জায়েয, কিন্তু নারীদের জন্য মাথা মুড়ে ফেলা জায়েয নয়।

١٦٣٨ – عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْقَزَعِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬৩৮। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথার চুলের কিছু অংশ মুঙন করে কিছু অংশে চুল রাখতে নিষেধ করেছেন।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٣٩ – وَعَنْهُ قَالَ رَأَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَبِيًّا قَدْ خُلِقَ بَعْضَ شعرِ رَأْسِهِ وَتُرِكَ بَعْضُهُ فَنَهَاهُمْ عَنْ ذَلِكَ وَقَالَ احْلِقُوهُ كُلَّهُ أَوِ اتْرَكُوهُ كُلَّهُ رَوَاهُ أبو داود بِإِسْنَادِ صَحِيحِ عَلَى شَرْطِ الْبُخَارِي وَمُسْلِم

১৬৩৯। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শিশুকে দেখতে পেলেন যে, তার মাথার কিছু অংশ মুণ্ডিত এবং কিছু অংশ অমুণ্ডিত। তিনি লোকদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন: হয় সম্পূর্ণ মাথা মুণ্ডন কর, নয় সম্পূর্ণ চুল রেখে দাও।

ইমাম আবু দাউদ ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম কর্তৃক আরোপিত শর্তে উত্তীর্ণ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٤٠ – وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اشهلَ ال جَعْفَرٍ ثَلاثًا ثُمَّ أَتَاهُمْ فَقَالَ لا تَبْكُوا عَلَى أَخِي بَعْدَ الْيَوْمِ ثُمَّ قَالَ ادْعُوا لي بَنِي أَخِي فَجِيَّ بِنَا كَأَنَّنَا أَفْرُحْ فَقَالَ ادْعُوا لِي الْحَلَاقَ فَأَمَرَهُ فَخَلَقَ رؤوسُنَا – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِاسْنَادِ صَحِيح عَلَى شَرْطِ الْبُخَارِي وَمُسلِم

১৬৪০। আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাফরের পরিবার-পরিজনকে তার শাহাদাত বরণ করার পর শোক পালনের জন্য তিন দিন অবকাশ দিলেন। তৃতীয় দিনে তিনি তাদের কাছে আসলেন এবং বললেনঃ আজকের পর থেকে আমার ভাইয়ের জন্য আর কেঁদো না। তিনি আরো বললেনঃ আমার ভাইয়ের সন্তানদেরকে ডাক। আমাদেরকে আনা হলো। দুঃখ-বেদনায় আমরা অবোধ শিশুর মত হয়ে গেলাম। তিনি বললেন: আমার জন্য নাপিত ডাক। তিনি আমাদের মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার জন্য তাকে নির্দেশ দিলেন।

ইমাম আবু দাউদ, ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের আরোপিত শর্তে উত্তীর্ণ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٤١ – وَعَنْ عَلِيِّ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تَخْلِقَ الْمَرْأَةُ رَأْسَهَا رَوَاهُ النِّسَانِي

১৬৪১। আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নারীদেরকে তাদের মাথার চুল কামিয়ে ফেলতে নিষেধ করেছেন।

ইমাম নাসাঈ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪৩ – পরচুলা লাগানো, উল্কি অংকন ও দাঁত চেঁছে চিকন করা হারাম

قَالَ اللهُ تَعَالَى : أَنْ يَدْعُونَ مِنْ دُونِه الا اناثا وَأَنْ يُدْعُونَ إِلا شَيْطَانًا مَّرِيدًا. لعَنَهُ اللهُ وَقَالَ لَاتَّخَذَنَّ مِنْ عِبَادِكَ نَصِيبًا مُفْرُوضًا، وَلَأَصْلَتُهُمْ وَلَأُمَنَيْنَهُمْ وَلا مُرَنَّهُمْ فَلَيُبَتِكُنَّ أَذَانَ الْأَنْعَامِ وَلَا مُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّهِ ، وَمَنْ يَتَّخِذ الشيطن وَلِيًّا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُّبِينًا ، يَعِدُهُمْ وَيُمَنِّيْهِمْ ، وَمَا بعِدُهُمُ الشَّيْطَنُ إِلا غُرُورًا. أُولَئِكَ مَا وَلَهُمْ جَهَنَّمُ ، وَلَا يَجِدُونَ عَنْهَا مَحِيمًا.

মহান আল্লাহ বলেন:

“তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে দেবীসমূহকে মাবুদরূপে ডাকে। তারা বিদ্রোহী শয়তানকেও মাবুদ হিসেবে গ্রহণ করে, যার উপর রয়েছে আল্লাহর লা’নত। এই শয়তান বলেছিল: “আমি তোমার বান্দাদের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ অবশ্যই নিয়ে ছাড়বো। আমি তাদেরকে গোমরাহ করবো, আমি তাদেরকে নানারূপ আশা-আকাঙ্ক্ষায় জড়িত করবো, আমি তাদেরকে আদেশ করবো এবং তারা জীব-জন্তুর কান ছেদন করবে। আমি তাদেরকে আদেশ করবো এবং তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করবে। যে আল্লাহর পরিবর্তে এই শয়তানকে নিজের পৃষ্ঠপোষক ও বন্ধুরূপে গ্রহণ করলো, সে সুস্পষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হল। সে তাদেরকে নানারকম মিথ্যা ওয়াদা ও মিথ্যা আশা দেয়। কিন্তু শয়তানের যাবতীয় ওয়াদাই প্রতারণা মাত্র। এদের শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম, তা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন উপায় তারা পাবে না।” (সূরা আন নিসাঃ ১১৭-১২১)

١٦٤٢ – وَعَنْ أَسْمَاءَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ امْرَأَةً سَأَلَتِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنَتِي أَصَابَتْهَا الْحَصْبَةُ فَتَمَرُقَ شَعْرُهَا وَأَنِّي زوجْتُهَا أَفَاصِلُ فِيهِ فَقَالَ لَعَنَ اللهُ الْوَاصِلَةَ وَالْمَوْصُولة – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ – وَفِي رواية الواصلة والمستوصلةقَوْلُهَا فَتَمَرَّقَ هُوَ بالراء وَمَعْنَاهُ انْتَشَرَ وَسَقَط وَالْوَاصِلَةُ الَّتِي تَصِلُ شَعْرَهَا أَوْ شَعرَ غَيْرِهَا بِشَعْرِ آخَرَ، وَالْمَوْصُولَةُ الَّتِي يُوصَلُ شَعْرُهَا، وَالْمُسْتَوْصِلَةُ الَّتِي تَسْأَلُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ لَهَا وَعَنْ عَائِشَةَ نَحْوَهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬৪২। আসমা (রা) থেকে বর্ণিত। একজন স্ত্রীলোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মেয়ের বসন্ত রোগ হওয়ায় তার মাথার চুল উঠে গেছে। আমি তাকে বিবাহ দিতে চাই। আমি তার মাথায় কি পরচুলা লাগাতে পারি? তিনি বললেন: আল্লাহ তা’আলা পরচুলা ব্যবহারকারিণী এবং যে ব্যবহার করায় উভয়কে লানত করেছেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অন্য বর্ণনায় আছে: পরচুলা ব্যবহারকারিণী এবং তা তৈরীকারিণীকে আল্লাহ লানত করেছেন। আয়িশা (রা)-ও উপরে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। [ টিকা: ‘তামাররাকা’ অর্থঃ বিক্ষিপ্ত হওয়া, পড়ে যাওয়া, পতন ঘটা। আল-ওয়াসিলাহ অর্থঃ যে নারী নিজের চুলের সাথে বা অন্য কোন নারীর চুলের সাথে অতিরিক্ত চুল সংযোজন করে। ‘আল-মাওসুলাহ’ অর্থ: যার চুলের সাথে মিশানো হয়। ‘আল-মুসতাওসিলাহ’ অর্থঃ যে নারী এই কাজ করানোর জন্য পেশাদার নারীকে আহবান করে।]

١٦٤٣ – وَعَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَامَ حَجٌ على الْمِنْبَرِ وَتَنَاوَلَ قُصَّةٌ مِنْ شَعرٍ كَانَتْ فِي يَدِ حَرْسِي فَقَالَ يَا أَهْلَ الْمَدِينَةِ ابْنَ عُلَمَاؤُكُمْ سَمِعْتُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى عَنْ مِثْلِ هَذِهِ وَيَقُولُ إِنَّمَا هَلَكَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ حِيْنَ اتَّخَذَ هَذِهِ نِسَاؤُهُمْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬৪৩। হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান (র) থেকে বর্ণিত। যে বছর মু’আবিয়া (রা) হজ্জ করেছিলেন, সে বছর তিনি তাঁকে নিরাপত্তা কর্মীর হাত থেকে একগুচ্ছ চুল নিয়ে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেনঃ হে মদীনাবাসী। তোমাদের আলিমগণ কোথায়? আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ চুল ব্যবহার করেত নিষেধ করতে শুনেছি। তিনি বলেছেন: বনী ইসরাঈলের মহিলারা যখন এরূপ চুলের গুচ্ছ (পরচুলা) ব্যবহার করা শুরু করলো, তখনই বনী ইসরাঈলের ধ্বংস শুরু হয়।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٤٤ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لعن الواصلة وَالْمُسْتَوْصلة وَالْوَاشِمَةَ وَالْمُسْتَوْشِمَة – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬৪৪। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরচুলা ব্যবহারকারিণী, তা প্রস্তুতকারিণী, উল্কি অংকনকারিণী এবং যে নারী উল্কি অঙ্কন করায় তাদের সবাইকে অভিসম্পাত করেছেন।

ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٤٥ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَعَنَ اللهُ الْوَاشِمَاتِ وَالْمُسْتَوْشِمَاتِ وَالْمُتَنَمِّصَاتِ وَالْمُتَفَلِجَاتِ لِلْحُسْنِ الْمُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللَّهِ فقَالَتْ لَهُ امْرَأَةً فِي ذَلِكَ فَقَالَ وَمَا لِي لا الْعَنْ مَنْ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي كِتَابِ اللهِ قَالَ اللهُ تَعَالَى (وَمَا أَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا ) – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
المُتَفَلِجَة هي التي تَبْرُهُ مِنْ أَسْنَانِهَا لِيَتَبَاعَدَ بَعْضُهَا مِنْ بَعْضٍ قَلِيلاً وَتُحَسِنُهَا وَهُوَ الْوَشْرُ. وَالنَّامِصَةُ هِيَ الَّتِي تَأْخُذُ مِنْ شَعْرِ حَاجِبِ غَيْرِهَا وَتُرَقِّقُهُ لبَصِيرَ حَسَنًا وَالْمُتَنَمِّصَةُ الَّتِي تَأْمُرُ مَنْ يَفْعَلُ بِهَا ذَلِكَ.

১৬৪৫। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যেসব মেয়ে শরীরে উল্কি এঁকে নেয় আর যারা এঁকে দেয়, সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য দাঁত ঘর্ষণকারিণী এবং চোখের পাতা বা ভ্রূর চুল উৎপাটনকারিণী এবং এভাবে আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনয়ন-কারিণীদের আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। জনৈকা মহিলা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, যাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লানত (অভিসম্পাত) করেছেন আমি তাকে কেন লানত করবো না, আর এটা তো কুরআন পাকেও আছে। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন: “রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যে জিনিস থেকে বিরত থাকতে বলেন, তা থেকে বিরত থাক।” (সূরা আল হাশরঃ ৭)

আল-মুতাফারিজাহ অর্থ: যে নারী সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দাঁত ঘর্ষণ করে দাঁতগুলোর মাঝে সামান্য ফাঁক সৃষ্টি করে।

‘আন-নামিসাহ’ অর্থঃ যে নারী অন্যের চোখের পাতা, ভ্রূ ইত্যাদির চুল তুলে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য তা চিকন করে দেয়। আল-মুতানামিসাহ অর্থ যে নারী এসব কাজ করিয়ে নেয়।

অনুচ্ছেদ: ৪৪ – সাদা দাড়ি ও মাথার সাদা চুল তোলা নিষেধ। যুবকের দাড়ি গজালে তা চেঁছে ফেলা নিষেধ

١٦٤٦ – عَنْ عَمْرِو شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَتَّقُوا الشَّيْبَ فَإِنَّهُ نُورُ الْمُسْلِمِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ – حَدِيثٍ حسن رواه أبو داود والترمذى والنِّسَانِي بِأسَانِيدَ حَسَنَةٍ قَالَ التَّرْمِذِي هُوَ حديث حَسَنٌ.

১৬৪৬। আমর ইবনে শু’আইব (র) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা বার্ধক্যকে (সাদা চুলকে) উপড়ে ফেলো না। কেননা তা কিয়ামাতের দিন মুসলিমের জন্য আলোকবর্তিকা হবে।

এটি হাসান হাদীস। ইমাম আবু দাউদ, ইমাম তিরমিযী ও ইমাম নাসাঈ উত্তম সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।

١٦٤٧ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدُّ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৬৪৭। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করলো যে বিষয় আমাদের কোন অনুমোদন নেই তা বাতিল।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪৫ – ডান হাতে শৌচ করা এবং নিষ্প্রয়োজনে লজ্জাস্থানে ডান হাত লাগানো খারাপ

١٦٤٨ – عَنْ أَبِي قَتَادَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إذا بال أَحَدُكُمْ فَلا يَأْخُذَنُ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ وَلَا يَسْتَنْجِ بِيَمِينِهِ وَلَا يَتَنفُسُ فِي الآنَاء مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي الْبَابِ أَحَادِيثُ كَثِيرَةٌ صَحِيحَةٌ.

১৬৪৮। আবু কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পেশাব করার সময় তোমাদের কেউ যেন ডান হাত দিয়ে তার লিংগ স্পর্শ না করে ও ডান হাত দিয়ে শৌচ কর্ম না করে এবং পানি পান করার সময় পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস না ফেলে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে বহু সংখ্যক সহীহ হাদীস আছে।

অনুচ্ছেদ: ৪৬ – বিনা ওযরে এক পায়ে জুতা বা মোজা পরে চলাফেরা করা এবং দাঁড়িয়ে জুতা ও মোজা পরা মাকরূহ

١٦٤٩ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لا يَمْشِ أَحَدُكُمْ فِي نَعْلِ وَاحِدَةٍ لِيَنْعَلَّهُمَا جَمِيعًا أَوْ لِيَخْلَعْهُمَا جَمِيعًا وفي رواية أوْ لِيُحْفِهِمَا جَمِيعًا . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬৪৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন এক পায়ে জুতা পরে না হাঁটে। সে হয় উভয় পায়ে জুতা পরিধান করবে অথবা উভয় পা খালি রাখবে। অন্য বর্ণনায় আছে, অথবা উভয় পা’কে অনাবৃত রাখবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٥٠ – وَعَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا انْقَطَعَ شيعُ نَعْلِ أَحَدَكُمْ فَلَا يَمْشِ فِي الْأُخْرَى حَتَّى يُصْلِحَهَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৬৫০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি। তোমাদের কারো একটি জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলে সে যেন তা ঠিক না করা পর্যন্ত অন্য পায়ে জুতা পরে না হাঁটে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٥١ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ ينتعل الرجل قائما – رواه أبو داود باشناد حسن

১৬৫১। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন ব্যক্তিকে দাঁড়ানো অবস্থায় জুতা পরতে নিষেধ করেছেন।

ইমাম আবু দাউদ হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪৭ – ঘরে জ্বলন্ত আগুন বা প্রদীপ রেখে ঘুমানো নিষেধ

١٦٥٢ – عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لا تَتْرَكُوا النَّارَ فِي بُيُوتِكُمْ حِينَ تَنَامُوْنَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬৫২। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘুমানোর সময় তোমরা ঘরে আগুন (বা প্রদীপ) জ্বালিয়ে রেখো না। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٥٣ – وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ احْتَرَقَ بَيْتُ بِالْمَدِينَةِ عَلَى أَهْلِهِ مِنَ اللَّيْلِ فَلَمَّا حُدِّثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَأْنِهِمْ قَالَ إِنْ هَذِهِ النَّارَ عَدُوٌّ لَكُمْ فَإِذَا نَمْتُمْ فَأَطْفَتُوهَا مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬৫৩। আবু মুসা আল আশআরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনাতে একটি ঘরে রাতের বেলা আগুন লেগে তা পুড়ে যায়। ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আলোচিত হলে তিনি বলেন: এই আগুন তোমাদের শত্রু। অতএব তোমরা যখন ঘুমাতে যাবে তখন তা নিভিয়ে ফেলবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٥٤ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عطوا الاناء وأوكنوا السَّقَاء وَاغْلِقُوا الْبَابَ وَأَطْفِئُوا الصِّرَاجَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لا يحل سقاء وَلا يَفْتَحُ بَابًا وَلا يَكْشِفُ اناء فَإِنْ لَمْ يَجِدُ أَحَدُكُمْ إِلا أَن يُعْرِضَ علَى إِنَائِهِ عُودًا وَيَذْكُرَ اسْمَ اللَّهِ فَلْيَفْعَلْ فَإِنَّ الْفُوَشِفَةَ تُضْرِمُ عَلَى أَهْلِ الْبَيْتِ بَيْنَهُمْ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৬৫৪। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা রাতে শোবার আগে পাত্র ঢেকে রাখ, মশকের মুখ বেঁধে রাখ, ঘরের দরজা বন্ধ কর এবং বাতি নিভিয়ে দাও। কেননা শয়তান বন্ধ মশকের মুখ ও বন্ধ দরজা খোলে না এবং ঢেকে রাখা পাত্রের ঢাকনাও উঠায় না। তোমাদের কেউ যদি পাত্র ঢাকার জন্য কিছু না পায়, তবে অন্তত আল্লাহর নাম নিয়ে পাত্রের উপর একখণ্ড কাঠ রেখে দেবে। কেননা অনেক সময় ইঁদুর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪৮ ভাণ করা নিষেধ

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : قُلْ مَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِينَ.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“(হে নবী) এদেরকে বলো, এই দীন প্রচারের জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আর আমি ভাণকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।” (সূরা সাদ: ৮৬)

অর্থাৎ “কথা ও কাজে কৃত্রিমতার সাথে এমন ভাব ফুটিয়ে তোলা যা বাস্তব সম্মত নয় বা তার মধ্যে কোন কল্যাণও নিহিত নেই।

١٦٥٥ – وَعَنِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ نُهِبْنَا عَنِ التَّكَلفِ رَوَاهُ الْبُخَارِي.

১৬৫৫। উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে কৃত্রিম লৌকিকতা প্রদর্শন করতে নিষেধ করা হয়েছে।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٥٦ – وَعَنْ مَشْرُوقٍ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَنْ عَلِمَ شَيْئًا فَلْيَقُلْ بِهِ وَمَنْ لَمْ يَعْلَمْ فَلْيَقُلِ اللَّهُ أَعْلَمُ فَإِنْ من العلم أن تَقُولَ لِمَا لا تَعْلَمُ اللهُ أَعْلَمُ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِنَبِيِّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْ مَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِينَ – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৬৫৬। মাসরূক (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা)-র কাছে গেলে তিনি বললেনঃ হে লোকেরা। কারো কোন কিছু জানা থাকলে তাই তার বলা উচিৎ। কিন্তু যে ব্যক্তির জানা নেই সে যেন বলে, আল্লাহই সর্বাধিক জানেন। কেননা যে সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান নেই, সে সম্পর্কে ‘আল্লাহই ভালো জানেন’ বলাটাই তার জ্ঞানের পরিচায়ক। আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: “হে নবী! এদেরকে বল, এই দীন প্রচারের জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না এবং আমি ভাণকারী নই।” (সূরা সাদঃ ৮৬)

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৪৯ – মৃতের জন্য বিলাপ করা হারাম

মৃতের জন্য বিলাপ করে কাঁদা, মুখে চপেটাঘাত করা, জামার বুক চিরে ফেলা, চুল টেনে ছেঁড়া, মাথা মুড়ে ফেলা, বিপদ ডাকা ইত্যাদি কাজ হারাম।

١٦٥٧ – عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ علَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَيِّتُ يُعَذِّبُ فِي قَبْرِهِ بِمَا نَبْعَ عَلَيْهِ – وَفِي رِوَايَةٍ مَا نَبْحَ عَلَيْهِ متفق عليه.

১৬৫৭। উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মৃতের জন্য যে বিলাপ করা হয় তাতে তাকে কবরে শাস্তি দেয়া হয়।

অন্য বর্ণনায় আছেঃ বিলাপের কারণে মৃতকে শাস্তি দেয়া হয়।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٥٨ – وَعَن ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وسلم ليسَ مِنَّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ وَشَقِّ الْجُيُوبِ وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِية متفق عَلَيْهِ.

১৬৫৮। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (বিপদের সময়) নিজের গালে চপেটাঘাত করে, বুকের কাপড় ছিঁড়ে মাতম করে এবং জাহিলী যুগের মানুষের ন্যায় কথাবার্তা বলে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٥٩ – وَعَنْ أَبِي بُرْدَةَ قَالَ وَجَعَ أَبُو مُوسَى فَغُشِيَ عَلَيْهِ وَرَأْسُهُ فِي حِجْرٍ امْرَأَةٍ منْ أَهْلِهِ فَاقْبَلَتْ تصيح برنة فلم يستطع أن يردُّ عَلَيْهَا شَيْئًا فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ أَنَا برى مِمَّنْ بَرِئَ مِنْهُ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَبرى مِنَ الصَّالِقة والحالقة والشالة – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ الصَّالِقَة التي ترفع صوتها بالنياحة والندب والحَائِقَةُ التِي تَخْلِقُ رَأْسَهَا عِنْدَ الْمُصِيبَةِ. وَالشَّاقَّةُ الَّتِي تَشَقُ تَوْبَهَا

১৬৫৯। আৰু বুরদা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু মূসা (রা) কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মাঝে মাঝে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ছিলেন। তাঁর বাড়ির এক মহিলার কোলে তাঁর মাথা রাখা ছিল। স্ত্রীলোকটি চিৎকার করে কাঁদছিল। তাকে কিছু বলার মত শক্তি আবু মূসা (রা)-র ছিলো না। কিছুটা সংজ্ঞা ফিরে পেয়ে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার প্রতি অসন্তুষ্ট, আমিও তার প্রতি অসন্তুষ্ট। যে নারী চিৎকার করে কাঁদে, বিপদে মাথার চুল মুণ্ডন করে এবং পরিধেয় বস্ত্র ফেড়ে ফেলে তার প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট ছিলেন।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আস-সালিকাহ অর্থঃ যে নারী মৃতের জন্য উচ্চস্বরে বিলাপ করে কাঁদে। আল-হালিকাহ অর্থঃ যে নারী বিপদের সময় মাথার চুল মুণ্ডন করে। আশ-শাক্কাহ অর্থঃ যে নারী বিপদের সময় বুকের কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলে।

١٦٦٠ – وَعَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ نِيحَ عَلَيْهِ فَإِنَّهُ يُعَذِّبُ بِمَا نِبْحَ عَلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ متفق عليه.

১৬৬০। মুগীরা ইবনে শোবা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি। যে ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কাঁদা হয় তাকে সেই কাঁদার জন্য কিয়ামাতের দিন শাস্তি দেয়া হবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٦١ – وَعَنْ أَمْ عَطِيَّة نُسَيْبَةَ بِضَمِّ النُّونِ وَفَتْحِهَا قَالَتْ أَخْذَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ الْبَيْعَةِ أَنْ لَا تَنُوحَ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬৬১। উদ্বু ‘আতিয়্যা নুসাইবা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাই’আত গ্রহণের সময় মৃতের জন্য বিলাপ করে না কাঁদার ব্যাপারেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছ থেকে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٦٢ – وَعَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ أَغْمِي عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رواحة فَجَعَلَتْ أخته تبكي وتقول واجبلاه وكذا وكَذَا تُعَدِّدُ عَلَيْهِ فَقَالَ حِينَ أَفَاقَ مَا قُلْتِ شَيْئًا إِلا قِيلَ لِي أَنْتَ كَذَالِكَ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

১৬৬২। নু’মান ইবনে বাশীর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা) অসুস্থতার কারণে বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। এতে তাঁর বোন কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো, হে পাহাড় আফসোস। এবং হে এরূপ হে সেরূপ অর্থাৎ তাঁর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করছিল। সংজ্ঞা ফিরে পেলে তিনি তাঁর বোনকে বলেন, তুমি যা কিছু বলেছ সে সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, তুমি কি সত্যিই এরূপ?

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٦٣ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ اشْتَكَى سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ شَكُولى فَآتَاهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُهُ مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفِ وَسَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصِ وَعَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ وَجَدَهُ فِي غَشْيَةٍ فَقَالَ أَقضَى قَالُوا لا يَا رَسُولَ اللهِ فَبَكَى رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا رَأَى الْقَوْمُ بُكَاءَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكُوا قال إلا تَسْمَعُونَ إِنَّ اللهَ لا يُعَذِّبُ بِدَمْعِ الْعَيْنِ وَلَا بِحُزْنِ الْقَلْبِ وَلَكِنْ يُعَذِّبُ بهذا وأشار إلى لِسَانِهِ أَوْ يَرْحَمُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬৬৩। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ইবনে উবাদা (রা) রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমান ইবনে আওফ, সা’দ ইবনে আবূ ওয়াক্কাস এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা)-কে সাথে নিয়ে তাঁকে দেখতে গেলেন। তাঁরা তাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন: সে মারা গেছে কি? লোকেরা বললো, না, হে আল্লাহর রাসূল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁদতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাঁদতে দেখে লোকেরাও কাঁদতে লাগলো। তিনি বলেন: তোমরা কি শুনবে না? নিশ্চয়ই আল্লাহ চোখের পানি ও অন্তরের ব্যথা-বেদনার জন্য শান্তি দেবেন না, বরং এটার জন্য শান্তি দেবেন অথবা এটার কারণে রহম (দয়া) করবেন। এই বলে তিনি তাঁর জিহ্বার দিকে ইশারা করে দেখালেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٦٤ – وَعَنْ أَبِي مَالِكَ الْأَشْعَرِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّائِحَةُ إِذا لم تَتُبْ قَبْلَ مَوْتِهَا تُقَامُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَعَلَيْهَا سِرْبَالٌ من قَطِرَانِ وَدِرْعٍ مِنْ جَرَبٍ رَوَاهُ مُسْلِمٌ

১৬৬৪। আবু মালিক আল-আশ’আরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মৃতের জন্য) বিলাপ করে ক্রন্দনকারিণী মৃত্যুর পূর্বে তাওবা না করলে কিয়ামাতের দিন তাকে আলকাতরার তৈরী পোশাক এবং দস্তার তৈরী বর্ম পরিয়ে উঠানো হবে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٦٥ – وَعَنْ أسيد بن أبي أسيد التابعي عن امْرَأَةٍ مِنَ الْمُبَايَعَاتِ قَالَتْ كَانَ فِيمَا أَخَذَ عَلَيْنَا رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَعْرُوفِ الَّذِي أَخَذَ عَلَيْنَا أن لا نَعْصِبَهُ فِيهِ أَنْ لا نَخْمِسَ وَجْهَا وَلَا نَدْعُوَ وَيْلا وَلَا نَشَقُ جَيْبًا وَأَنْ لَا نَنْتُرَ شعرا – رواه أبو داود باشتاد حسن .

১৬৬৫। উসাইদ ইবনে আবু উসাইদ তাৰি’ঈ (র) থেকে বাই’আতকারিণী একজন মহিলা সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। উক্ত মহিলা বলেছেন, ভালো কাজ করা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট থেকে যে বাই’আত গ্রহণ করেছিলেন তার মধ্যে ছিল: আমরা যেন এ বিষয়ে অর্থাৎ মারুফ বা ভালো কাজে তাঁর নাফরমানী না করি, (বিপদে) খামচিয়ে চেহারা রক্তাক্ত না করি, ধ্বংস বা বিপদ না চাই, বুকের কাপড় না ফাড়ি এবং মাথার চুল না ছিঁড়ি।

ইমাম আবু দাউদ হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٦٦ – وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ مَيِّتِ يَمُوتُ فَيَقُومُ بَاكِيْهِمْ فَيَقُولُ وَاجَبَلاهُ وَأَسَيِّدَاهُ أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ إِلَّا وَكلَ بِهِ مَلَكَانِ يَلْهَزَانِهِ أَهْكَذَا كُنْتَ رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৬৬৬। আবু মূসা আল-আশ’আরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মানুষ মারা গেলে তার জন্য ক্রন্দনকারী ‘হায়রে পাহাড়’, ‘হায়রে নেতা’ ইত্যাদি বলে কাঁদে। তখন ঐ মৃতের জন্য দুইজন ফেরেশতা নিয়োজিত করা হয়। তারা তার বুকে ঘুষি মারে আর বলে, তুমি কি সত্যিই এরূপ ছিলে?

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান।

١٦٦٧ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اثْنَتَانِ فِي النَّاسِ هُمَا بِهِمْ كُفر الطعْنُ فِي النَّسَبِ وَالنِّسَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৬৬৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মানুষের মধ্যে দু’টি স্বভাব কুফর-সংশ্লিষ্ট হিসাবে গণ্য। কারো বংশে অপবাদ আরোপ করা বা বংশকুলে গালি দেয়া এবং মৃতের জন্য বিলাপ করা।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৫০ – জ্যোতিষী এবং ভাগ্য গণনাকারী প্রভৃতির কাছে যাওয়া নিষেধ

١٦٦٨ – عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَاسٌ عَنِ الْكَهَانِ فَقَالَ لِيَسُوا بِشَيْءٍ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُمْ يُحَدِّثُوْنَا أحْيَانًا بِشَيْءٍ فَيَكُونُ حَقًّا فَقَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تِلْكَ الْكَلِمَةُ مِنَ الْحَقِّ يَخْطَفُهَا الْجِنِّى فَيَقُرُهَا في أذن وَلِيْهِ فَيَخْلِطُوْنَ مَعَهَا مِائَةَ كَذَّبَةٍ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ ۖ وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِي عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ الْمَلائِكَةَ تَنزِلُ في العَنَانِ وَهُوَ السَّحَابُ فَتَذْكُرُ الْأَمْرُ قُضِى في السماء فَيَسْتَرِقُ الشَّيْطَانُ السَّمْعَ فَيَسْمَعُهُ فَيُوْحِيهِ إِلَى الْكُهَانِ فَيَكْذِبُونَ معَهَا مِائَةَ كَذَبَةٍ مِّنْ عِندِ أَنْفُسِهِمْ.

১৬৬৮। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গণকদের সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: ঐগুলি কিছুই নয়। লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল। তারা কখনও কখনও আমাদেরকে এমন সব কথা বলে যা প্রকৃতই সত্য হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সেগুলো সত্য কথা। জিনেরা (ফেরেশতাদের কাছ থেকে) আড়ি পেতে শুনে তা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে আসে এবং তাদের বন্ধুর কানে কানে বলে দেয়। অতঃপর গণকরা নিজেদের পক্ষ থেকে তার সাথে শত শত মিথ্যা কথা যোগ করে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। বুখারীর অন্য বর্ণনায় আছে: আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: ফেরেশতারা (তাদের প্রতি অর্পিত) আল্লাহর নির্দেশ নিয়ে ঊর্ধ্ব জগতে ছড়িয়ে পড়েন এবং জারিকৃত আসমানী নির্দেশ সম্পর্কে আলোচনা করতে থাকেন। শয়তান তখন চুরি করে তাদের কথা শোনে। অতঃপর সে এইগুলো গণকদের কানে কানে বলে দেয়। গণকরা নিজেদের পক্ষ থেকে এর সাথে শত শত মিথ্যা কথা যোগ করে।

١٦٦٩ – وَعَنْ صَفِيَّةَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ بَعْضٍ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ فَصَدِّقَهُ لمْ تُقبل لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ يَوْمًا رَوَاهُ مُسْلِمٌ

১৬৬৯। সাফিয়‍্যা বিনতে আবু উবাইদ (রা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন একজন স্ত্রীর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (নবী সা.) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি গণকের কাছে গিয়ে কোন বিষয় জানতে চাইল এবং তাকে (সে যা বলল তা) বিশ্বাস করল, চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামায কবুল হবে না।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٧٠- وَعَنْ قَبِيصَةَ بْنِ الْمُخَارِقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْعِيَافَةُ والطَّبَرَةُ وَالطَّرْقُ مِنَ الْجِبْتِ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ باشناد حسن وقَالَ الطرق هُوَ الرِّجْرُ أَي زَجْرُ الطَّيْرِ وَهُوَ أَنْ يُتَيَمَنَ أَوْ يَتَشَاءَمَ بطبَرَانِهِ فَإِنْ طَارَ إِلى جِهَةِ الْيَمِينِ تَيَمَنَ وَإِنْ طَارَ إِلَى جِهَةِ الْيَسَارِ تَشَامَمَ. قَالَ أبو دَاوُودَ وَالْعِيَافَةُ الْخَط. قَالَ الْجَوْهَرِي فِي الصِّحَاحِ الْجِبْتُ كَلِمَةٌ تَقَعُ عَلَى الصنم وَالْكَاهِنِ وَالسَّاحِرِ وَنَحْوِ ذَلِكَ.

১৬৭০। কাবীসা ইবনুল মুখারিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ ‘ইয়াফাহ’ অর্থাৎ রেখা টানা, ‘তাইরাহ’ অর্থাৎ কোন কিছু দেখে অশুভ লক্ষণ মনে করা এবং ‘তারক’ অর্থাৎ পাখি উড়িয়ে শুভাশুভনির্ণয় করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত।

ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আত্-তারক অর্থ পাখি হাঁকানো। আর এই হাঁকানোর মধ্য দিয়ে শুভ অথবা অশুভ ফল নির্ণয় করা। পাখি উড়ে যদি ডান দিকে যায় তবে শুভ লক্ষণ, আর যদি বাম দিকে যায় তবে অশুভ লক্ষণ মনে করা হয়। আল-ইয়াফাহ অর্থ: হস্তলিপি, হাতের রেখাচিহ্ন। জওহারী তার আস-সিহাহ নামক অভিধান গ্রন্থে বলেছেন, আল-জিবত শব্দটি মূর্তি, গণক ও যাদুকর ইত্যাদি বুঝায়।

١٦٧١ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنِ اقْتَبَسَ عِلْمًا مِّنَ النُّجُومِ اقْتَبَسَ شُعْبَةٌ مِنَ السِّحْرِ زَادَ مَا زَادَ – رَوَاهُ أبو داود بإسناد صحيح
১৬৭১। আবদুল্লাহ ইবনুল ‘আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জ্যোতিষী বিদ্যা অর্জন করে সে প্রকারান্তরে যাদু বিদ্যাই অর্জন করে। সে যত অধিক জ্যোতিষী বিদ্যা অর্জন করলো তত অধিকই যেন যাদু বিদ্যা অর্জন করলো।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٧٢ – وَعَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي حَدِيثُ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ وَقَدْ جَاءَ اللهُ تَعَالَى بِالْإِسْلَامِ وَإِنَّ مِنَّا رِجَالًا يَأْتُونَ الكهانَ قَالَ فَلا تَأْتِهِمْ قُلْتُ وَمِنَّا رِجَالٌ يُتَطيرُونَ قَالَ ذَلِكَ شَيْءٌ يُجِدُونَهُ فِي صُدُورِهِمْ فَلا يَصْدُهُمْ قُلْتُ وَمِنَّا رِجَالٌ يُخْطُونَ قَالَ كَانَ نَبِي مِنَ الْأَنْبِيَاءِ يَخْطُ فَمَنْ وَافَقَ خَطْهُ فَذَاكَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ

১৬৭২। মু’আবিয়া ইবনুল হাকাম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আমি সবেমাত্র জাহিলী যুগ ত্যাগ করেছি। আল্লাহ তা’আলা আমাকে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে বেশ কিছু লোক গণকের কাছে যায়। তিনি বললেন: তুমি তাদের কাছে যেও না। আমি বললাম, আমাদের কেউ কেউ কোন কোন বিষয়কে অশুভ লক্ষণ বলে বিশ্বাস করে। তিনি বললেন: এটি এমন একটি ব্যাপার যা তাদের ধারণা প্রসূত। এটি যেন তাদেরকে কোন কাজ থেকে বিরত না রাখে। আমি বললাম, আমাদের কিছু লোক হস্তরেখা বিশ্লেষণ করে। তিনি বললেন: নবীদের মধ্যে একজন নবী হস্তরেখা বিশ্লেষণ করতেন। যদি কারো বিশ্লেষণ তার অনুরূপ হয় তবে তা ঠিক।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٧٣ – وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْبَدْرِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ تَمَنِ الْكَلْبِ وَمَهْرَ الْبَغِى وَحُلُوَانِ الْكَاهِنِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬৭৩। আবু মাসউদ আল-বদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, বেশ্যায় উপার্জন ও গণকের পারিশ্রমিক নিষিদ্ধ করেছেন।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٧٤ – عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم لا عدوى ولا طيرة ويُعْجِبُنِي الْقَالَ قَالُوا وَمَا الْقَالَ قَالَ كَلِمَةٌ طَيِّبَةٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬৭৪। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ছোঁয়াচে রোগ এবং অশুভ লক্ষণ বলতে কিছু নেই। তবে আমি ‘ফাল’ পছন্দ করি। লোকেরা বলল, ‘ফাল’ কি? তিনি বলেন: ভালো কথা।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٧٥ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا عدوى ولا طيرَة وَإِنْ كَانَ السُّؤْمُ فِي شَيْءٍ فَفِي الدَّارِ وَالْمَرْأَةِ وَالْفَرَسِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬৭৫। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ছোঁয়াচে রোগ ও কুলক্ষণ বলে কিছু নেই। কোন কিছুর মধ্যে অশুভ লক্ষণ থাকলে তা বাড়ি, নারী ও ঘোড়ার মধ্যেই থাকতো।

(অর্থাৎ জীবনের এই তিনটি অনিবার্য উপকরণের সাথেও নানা ধরনের বিপদ আপদ লেগে থাকে। তবুও কেউ অশুভ লক্ষণের ধারণায় এগুলোকে বর্জন করে না। সুতরাং অন্য কিছুর মধ্যে অশুভ লক্ষণের ধারণা পোষণ করা উচিত নয়।)

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٧٦ – وَعَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يتطير – رواه أبو داود باشناد صحيح

১৬৭৬। বুরাইদা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কিছুকে অশুভ বা অলক্ষুণে মনে করতেন না।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٧٧ – وَعَنْ عُرْوَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ ذكرت الطيرَةُ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ علَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَحْسَنُهَا الْقَالَ وَلَا تَرُدُّ مُسْلِمًا فَإِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مَا يَكْرَهُ فَلْيَقُل : اللهم لا يَأْتِي بِالْحَسَنَاتِ إِلا انتَ وَلَا يَدْفَعُ السَّيِّئَاتِ إِلا انْتَ وَلَا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلَّا بِكَ. حَدِيث صَحِيحٌ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ صَحِيح

১৬৭৭। উরওয়া ইবনে আমের (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে অশুভ বা কুলক্ষণ সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছিল। তিনি বললেনঃ এর মধ্যে উত্তম হল ফাল। কিন্তু অশুভ লক্ষণ মুসলিমকে তার কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে না। তোমাদের কেউ অমনপূত কিছু দেখলে যেন বলে, “হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া কেউ কল্যাণ দিতে পারে না এবং তুমি ছাড়া কেউ ক্ষতি দূর করতে পারে না। অবস্থার পরিবর্তন করা বা কল্যাণ ও অকল্যাণ বিধান করার শক্তি একমাত্র তোমারই।”

এটি সহীহ হাদীস। ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৫১ – বিছানা, পাথর ইত্যাদির উপর ছবি আঁকা হারাম

বিছানাপত্র, কাপড়-চোপড়, বালিশ, পাথর, ধাতব মুদ্রা, কাগজী নোট ইত্যাদির উপর জীব-জন্তুর ছবি আঁকা হারাম বা অনুরূপভাবে দেয়াল, ছাদ, পর্দার কাপড়, পাগড়ি, কাপড় ইত্যাদির উপর চিত্রাংকন করা নিষেধ এবং এগুলো থেকে ছবি তুলে ফেলা বা মুছে ফেলার নির্দেশ।

١٦٧٨ – عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الَّذِينَ يَصْنَعُونَ هذه الصُّورَ يُعَذِّبُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُقَالُ لَهُمْ أَحْبُوا مَا خَلَقْتُم متفق عليه.

১৬৭৮। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যেসব লোক ছবি বানায় তাদেরকে কিয়ামাতের দিন শান্তি দেয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে। যা তোমরা এঁকেছো তাকে জীবন্ত কর।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٧٩ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ سَفَرٍ وَقَدْ سَتَرْتُ سَهْوَةً لِي بِقِرَامِ فِيهِ تَمَاثِيلُ فَلَمَّا رَأَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَلُونَ وَجْهُهُ وَقَالَ يَا عَائِشَةُ أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِينَ يُضَاهُونَ بِخَلْقِ اللهِ قَالَتْ فَقَطَعْنَاهُ فَجَعَلْنَا مِنْهُ وِسَادَةً أَوْ وسادتين متفق عليه.

১৬৭৯। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর থেকে ফিরে আসলেন। আমি বারান্দায় একটি পরদা ঝুলিয়ে রেখেছিলাম, যাতে ছবি আঁকা ছিল। তা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ হে আয়িশা। তারা কিয়ামাতের দিন আল্লাহর কাছে কঠিন শান্তিপ্রাপ্ত হবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টিকে নকল করে (অর্থাৎ ছবি তৈরি করে)। আয়িশা (রা) বলেন, অতঃপর আমি তা ছিঁড়ে ফেললাম এবং তা দ্বারা একটি অথবা দু’টি বালিশ তৈরি করলাম।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٨٠ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ يُجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَورَهَا نَفْسٌ فَيُعَذِّبَهُ فِي جَهَنَّمَ. قَالَ ابْنُ عَبَّاس فَإِن كُنت لا بُدَّ فَاعِلاً فَاصْنَعِ الشَّجَرَ وَمَا لَا رُوحَ فِيهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬৮০। ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: প্রত্যেক চিত্রকর জাহান্নামে যাবে। তার নির্মিত প্রতিটি ছবির পরিবর্তে একজন করে লোক নিযুক্ত করা হবে। সে জাহান্নামের মধ্যে তাকে শান্তি দিতে থাকবে। ইবনুল আব্বাস (রা) বলেন, যদি তোমাকে ছবি আঁকতেই হয়, তবে গাছ অথবা প্রাণহীন জড় বস্তুর ছবি আঁক।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٨١ – وَعَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ صَوْرَ صُورَةٌ فِي الدُّنْيَا كُلَّفَ أَنْ يُنْفُخَ فِيهَا الرُّوحَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَيْسَ بِنَافِعُ متفق عليه.

১৬৮১। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন কিছুর ছবি তৈরি করবে, কিয়ামাতের দিন তাকে সেই ছবির মধ্যে জীবন সঞ্চার করতে বলা হবে। অথচ তার পক্ষে তা কখনও সম্ভব হবে না।

হাদীসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

١٦٨٢ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنْ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوِّرُونَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬৮২। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামাতের দিন ছবি নির্মাতাগণই সবচেয়ে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٨٣ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ قَالَ اللهُ تَعَالَى وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِي فَلْيَخْلُقُوا ذرة أو لِيَخْلُقُوا حَبَّةَ أَوْ لِيَخْلُقُوا شَعِيرَةً مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬৮৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা’আলা বলেন, যে ব্যক্তি আমার সৃষ্টির মত কোন কিছু সৃষ্টি করতে উদ্যোগী হয়, তার মত বড় যালিম আর কে আছে। যদি সে এতই করতে সক্ষম তাহলে একটি ছোট্ট পিঁপড়া সৃষ্টি করুক অথবা একটি শস্যদানা সৃষ্টি করুক অথবা একটি যবের দানা সৃষ্টি করুক।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٨٤ – وَعَنْ أَبِي طَلْحَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال لا تَدْخُلُ الْمَلائِكَةُ بَيْتًا فيه كلب ولا صورة – متفق عليه.

১৬৮৪। আবু তালহা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ঘরে কুকুর অথবা ছবি আছে সে ঘরে (রহমতের) ফেরেশতারা যাতায়াত করেন না।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٨٥ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ وَعَدَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم جبريل أنْ يَأْتِيَهُ فَرَاثَ عَلَيْهِ حَتَّى اشْتَدَّ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَخَرَجَ فَلَقِيَهُ جِبْرِيلُ فَشَكَا إِلَيْهِ فَقَالَ إِنَّا لَا نَدْخُلُ بَيْتًا فِيْهِ كَلْبٌ وَلَا صورة – رَوَاهُ الْبُخَارِي.

১৬৮৫। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জিবরাঈল (আ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাত করার ওয়াদা করলেন। কিন্তু তিনি আসতে দেরি করলেন। এই বিলম্বটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য অত্যন্ত অসহনীয় হল। পরে তিনি বাড়ি থেকে বের হলে জিবরাঈলের সাথে তাঁর সাক্ষাত হল। তিনি অভিযোগ করলে জিবরাঈল (আ) বললেন, যে বাড়িতে কুকুর অথবা কোন জীবের প্রতিকৃতি থাকে আমরা সে বাড়িতে প্রবেশ করি না।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٨٦ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ وَعَدَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِي سَاعَةٍ أَنْ يَأْتِيَهُ فَجَاءَتْ تِلْكَ السَّاعَةُ وَلَمْ يَأْتِهِ قالتْ وَكَانَ بِيَدِهِ عَمَّا فَطَرَحَهَا مِنْ يُدِهِ وَهُوَ يَقُوْلُ مَا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَا رُسُلُهُ ثم الْتَفْتَ فَإِذَا جَرْهُ كَلْبِ تَحْتَ سَرِيرِهِ فَقَالَ مَتَى دَخَلَ هَذَا الْكَلْبُ فَقُلْتُ وَاللَّهِ ما دَرَيْتُ بِهِ فَأَمَرَ بِهِ فَأَخْرَجَ فَجَاءَهُ جبريل عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَدْتَنِي فَجَلَسْتُ لكَ وَلَمْ تَأْتِنِي فَقَالَ مَنَعَنِى الْكَلْبُ الَّذِي كَانَ فِي بَيْتِكَ إِنَّا لَا تَدْخُلُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلَا صُورَةٌ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৬৮৬। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জিবরাঈল (আ) একটি নির্ধারিত সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাত করার ওয়াদা করলেন। নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তিনি আসলেন না। আয়িশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে ছিল একটি লাঠি। তিনি তা ছুড়ে ফেলে দিতে দিতে বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণ কখনো ওয়াদা খেলাফ করেন না। অতঃপর তিনি এদিক সেদিক দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তার খাটিয়ার নিচে একটি কুকুর ছানা দেখতে পেলেন। তিনি বললেন: কুকুরটি কখন ঢুকল। আয়িশা (রা) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! আমি জানিই না এটি কখন ঢুকেছে। তিনি তাড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলে সেটাকে বের করে দেয়া হলো। অতঃপর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর কাছে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আপনি আসার ওয়াদা করেছেন। আমি আপনার জন্য বসে থাকলাম, কিন্তু আপনি আসেননি। তিনি বললেন, আপনার ঘরের মধ্যে যে কুকুরটি ছিল, ওটার কারণে আমি আসতে পারিনি। যে ঘরে কুকুর অথবা জীব-জন্তুর প্রতিকৃতি থাকে আমরা সে ঘরে কখনও প্রবেশ করি না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٨٧ – وَعَنْ أَبِي الشَّيَاحِ حَيَّانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ قَالَ لِي عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ إِلا ابْعَتُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أنْ لا تَدَعَ صُورَة إلا طمستها ولا قَبْرًا مُشْرِفًا إِلا سَوَّيْتَهُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৬৮৭। আবুড় তাইয়াহ্ হাইয়ান ইবনে হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী ইবনে আবী তালিব (রা) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে সেই কাজে পাঠাবো না, যে কাজ করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তা হলোঃ তুমি কোন ছবি চুরমার না করে ছাড়বে না এবং কোন উঁচু কবর মাটির সমান না করে ছাড়বে না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৫২ – শিকার কার্য এবং গবাদি পশু ও কৃষিক্ষেত পাহারা দেয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর পোষা হারাম

١٦٨٨- عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنِ اقْتَنَى كَلْبًا إِلا كَلبَ صَيْدٍ أَوْ مَاشِيَةٍ فَإِنَّهُ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِه كُلِّ يَوْمٍ قيراطان – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ – وَفِي رِوَايَةٍ قيراط

১৬৮৮। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি শিকারকার্য অথবা গবাদি পশুর রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে কুকুর পোষে, তার ভালো কাজের নেকী থেকে দৈনিক ‘দুই কীরাত’ পরিমাণ কমে যাবে। [টিকা: কীরাত: নিক্তির ওজনে একটি ক্ষুদ্রতম পরিমাণ বিশেষ। এর যথাযথ পরিমাণ আল্লাহ তা’আলাই জানেন। তবে কিয়ামাতের দিন এক এক কীরাত উহুদ পাহাড় পরিমাণ ওজন হবে বলে অপর এক হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।]

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অন্য এক বর্ণনায় ‘কীরাত’ বলা হয়েছে।

١٦٨٩ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَمْسَكَ كَلْبًا فَإِنَّهُ يَنقُصُ كُلَّ يَوْمٍ مِنْ عَمَلِهِ قِيرَاطَ إِلا كَلْبَ حَرْثٍ أَوْ ماشِيَة مُنْفَقٌ عَلَيْهِ – وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمِ مَنْ اقْتَنَى كَلْبًا لَيْسَ بِكَلْبِ صَيْدٍ وَلَا ماشِيَةٍ ولا أَرْضِ فَإِنَّهُ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِهِ كُلَّ يَوْمٍ قِيرَاطَانِ.

১৬৮৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুকুর পোষে তার ভালো কাজের নেকী থেকে দৈনিক এক কীরাত পরিমাণ কমে যায়। তবে কৃষিক্ষেত ও গবাদি পশুর পাহারার জন্য কুকুর পোষা হলে ভিন্ন কথা।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছেঃ যে ব্যক্তি শিকারকার্য এবং গবাদি পশু ও ক্ষেতের রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে কুকুর পোষে, তার নেকী থেকে দৈনিক দুই কীরাত পরিমাণ কমে যায়।

অনুচ্ছেদ: ৫৩ – উট অথবা অন্য কোন পশুর গলায় ঘন্টা বাঁধা এবং সফরে কুকুর সংগে নেয়া বা গলায় ঘন্টা বাঁধা মাকরূহ

١٦٩٠ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَصْحَبُ الْمَلَائِكَةُ رُفْقَةً فِيهَا كَلْبٌ أَوْ جَرَسٌ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৬৯০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (রহমতের) ফেরেশতারা ঐসব কাফিলার সফরসংগী হয় না, যার সাথে কুকুর অথবা ঘণ্টা থাকে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٩١ – وَعَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْجَرَسُ مَزَامِيرُ الشَّيْطَانِ رواه مسلم.

১৬৯১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘণ্টা শয়তানের বাদ্যযন্ত্রসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৫৪ – নাপাক বস্তু বা বিষ্ঠাখেকো উটে আরোহণ করা মাকরূহ। তবে অভ্যাস বদলে নিয়ে যদি পবিত্র ঘাস খেতে শুরু করে তাহলে তাতে আরোহণ মাকরূহ হবে না এবং তার গোশত হালাল হয়ে যাবে।

١٦٩٢ – عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْجَلَالَةِ فِي الابلِ أَنْ يُرْكَبَ عَلَيْهَا رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِاسْنَادِ صَحِيح

১৬৯২। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষ্ঠাখেকো উটের পিঠে সওয়ার হতে নিষেধ করেছেন।
ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৫৫ – মসজিদে খুখু ফেলা নিষেধ। মসজিদকে ময়লা-আবর্জনা থেকে পরিষ্কার রাখা খুণু বা অনুরূপ কোন কিছু থাকলে তা দূর করার আদেশ।

١٦٩٣ – عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْبَصَاقُ فِي الْمَسْجِدِ خَطِيئَةُ وَكَفَّارَتُهَا دَفْتُهَا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَالْمُرَادُ بِدَفْنِهَا إِذَا كَانَ الْمَسْجِدُ تُرَابًا أَوْ رَمَلاً وَنَحْوَهُ فَيُوَارِيهَا تَحْتَ تُرَابِهِ. قَالَ أَبُو الْمَحَاسِنِ الرؤيانِي مِنْ أَصْحَابِنَا فِي كِتَابِهِ الْبَحْرِ وَقِيلَ الْمُرَادُ بِدَقْنِهَا إِخْرَاجُهَا مِنْ المستجد أما إذا كَانَ الْمَسْجِدُ مُبلطا أو مُجَصَصًا فَدَلَكَهَا عَلَيْهِ بِمَدَاسه أو بغيره كَمَا يَفْعَلُهُ كَثِيرَةً مِّنَ الْجُهَالِ فَلَيْسَ ذَلِكَ بِدَفْنِ بَلْ زِيَادَةٌ فِي الْخَطِيئَةِ وَتَكْثِير لِلْقَدْرِ فِي الْمَسْجِدِ وَعَلَى مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ أَنْ يَمْسَحَهُ بَعْدَ ذَلِكَ بِشَيْبِهِ أَوْ بيَدِهِ أَوْ غَيْرِهِ أَوْ يَغْسِلُهُ.

১৬৯৩। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মসজিদের ভেতরে থুথু ফেলা গুনাহর কাজ। আর এর প্রতিকার হলো: তা পুঁতে ফেলা (বা পরিষ্কার করা)।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদুক্ষটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী বলেন, পুঁতে ফেলার অর্থ হলো: যদি মসজিদের মেঝে মাটি অথবা বালির হয় তবে নিচে থুথু পুঁতে ফেলবে। আমাদের সহকর্মী আবুল মাহাসিন আর-রুইয়ানী তাঁর কিতাবুল বাহর শীর্ষক গ্রন্থে বলেন, এক্ষেত্রে পুঁতে ফেলার অর্থ মসজিদের বাইরে ফেলে দেয়া। পাকা মসজিদে জায়নামাযের উপর থুথু ফেলে তা আবার মূর্খের মত তার সাথে মিশিয়ে দেয়া গুনাহর কাজ এবং মসজিদকে অপবিত্র করার শামিল। যে ব্যক্তি এরূপ করবে তার উচিত নিজের কাপড় অথবা হাত দ্বারা তা পরিষ্কার করে দেয়া অথবা পানি নিয়ে ধুয়ে ফেলা।

١٦٩٤ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى في جدارِ الْقِبْلَةِ مُخَاطًا أَوْ بُرَاقًا نُخَامَةٌ فَحَكَهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৬৯৪। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের কিবলার দিকের দেয়ালে পুথু অথবা নাকের ময়লা অথবা কফ দেখে তা ঘষে তুলে ফেলেন।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٩٥ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنْ هذِهِ الْمَسَاجِدَ لَا تَصْلُحُ لِشَيْءٍ مِّنْ هُذَا الْبَوْلِ وَلَا الْقَدْرِ إِنَّمَا هِيَ لِذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى وَقَرَامَةِ الْقُرْآنِ أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ

১৬৯৫। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পেশাব বা ময়লা-আবর্জনা মসজিদের মর্যাদা ও পবিত্রতার পরিপন্থী। মসজিদ হলো আল্লাহর যিক্র করার ও আল কুরআন তিলাওয়াতের স্থান অথবা যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৫৬ – মসজিদে ঝগড়া-বিবাদ করা, উচ্চস্বরে আওয়াজ করা বা কথা বলা, হারানো জিনিস খোঁজ করা, ক্রয়-বিক্রয়, ভাড়া ইত্যাদি লেনদেন করা মাকরূহ

١٦٩٦ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ سَمِعَ رَجُلًا يَنْشُدُ ضَالَةَ فِي الْمَسْجِدِ فَلْيَقُلْ لَا رَدَّهَا اللَّهُ عَلَيْكَ فَإِنَّ الْمَسَاجِدَ لَمْ تُبْنَ لِهَذَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৬৯৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ কেউ যদি শোনে যে, কোন ব্যক্তি হারানো জিনিস মসজিদের মধ্যে খুঁজছে, তাহলে সে বলবে: আল্লাহ যেন তোমার জিনিস ফেরত না দেন। মসজিদসমূহ এ কাজের জন্য বানানো হয়নি।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٩٧ – وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يُبِيعُ أَوْ يَبْتَاعُ فِي الْمَسْجِدِ فَقُولُوا لَا أَرْبَحَ اللهُ تِجَارَتَكَ وَإِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يُنْشُدُ ضَالَةً فَقُولُوا لَا رَبِّهَا اللهُ عَلَيْكَ رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ

১৬৯৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা কোন ব্যক্তিকে মসজিদের ভেতরে ক্রয়-বিক্রয় করতে দেখলে বলবে: আল্লাহ তোমার ব্যবসাকে লাভজনক না করুন। তোমরা কোন ব্যক্তিকে তার হারানো জিনিস মসজিদের মধ্যে খুঁজতে দেখলে বলবে, আল্লাহ যেন তোমার জিনিস ফেরত না দেন।
ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।

١٦٩٨ – وَعَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَجُلاً نَشَدَ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ مَنْ دَعَا إِلَى الْجَمَلَ الْأَحْمَرَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا وَجَدْتَ إِنَّمَا بنيتِ الْمَسَاجِدُ لِمَا بُنِيَتْ لَهُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.
১৬৯৮। বুরাইদা (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি মসজিদে হারানো জিনিস খুঁজছিল। সে বলল, কে আমার লাল বর্ণের উটের ব্যাপারে আহ্বান জানাবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার উট পাবে না। মসজিদ এক বিশেষ উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٦٩٩- وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ الشَّرَاءِ وَالْبَيْعِ فِي الْمَسْجِدِ وَأَنْ تُنْشَدَ فِيْهِ ضَالَّةٌ أوْ يُنشَدَ فيه شعر – رواه أبو داود والترمذى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ

১৮৯৯। আমর ইবনে শু’আইব (র) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও সালার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করতে, হারানো জিনিস খোঁজ করতে এবং কবিতা পাঠ করতে নিষেধ করেছেন।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।

۱۷۰۰ – وَعَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ الصَّحَابِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ فِي المسجد فَحَصَبَنِي رَجُلٌ فَنَظَرْتُ فَإِذَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ اذْهَبْ فَالْتَنِي بِهدَيْنِ فَجِئْتُهُ بِهِمَا فَقَالَ مِن أينَ أَنْتُمَا ؟ فَقَالَا مِنْ أَهْلِ الطَّائِفِ فَقَالَ لَوْ كُنْتُمَا مِنْ أَهْلِ الْبَلَدِ لَأَوْجَعْتُكُمَا تَرْفَعَانِ أَصْوَاتَكُمَا فِي مَسْجِدِ رَسُولِ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৭০০। সাইব ইজনে ইয়াযীদ সাহাবী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি মসজিদে উপস্থিত ছিলাম। এফ ব্যক্তি আমার প্রতি পাথর নিক্ষেপ করল। তাকিয়ে দেখি উমার ইবনুল খাত্মাদ (রা)। তিনি বলেন, যাও এই দুই ব্যক্তিকে আমার কাছে ডেকে আন। আমি লোক সু’জনকে তার কাছে ডেকে আনলাম। তিনি বললেন, তোমরা কোথা থেকে এসেছ?

তারা বলল, আমরা তায়েফের বাসিন্দা। উমার (রা) বললেন, তোমরা যদি এই শহরের অধিবাসী হতে তাহলে আমি তোমাদের শাস্তি দিতাম। কেননা তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলেছ।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৫৭ – পিঁয়াজ, রসুন এবং অনুরূপ কোন দুর্গন্ধযুক্ত জিনিস খাওয়ার পর দুর্গন্ধ দূর হওয়ার পূর্বেই বিনা প্রয়োজনে মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ

۱۷۰۱ – عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ منْ أَكَلَ مِنْ هذه الشَّجَرَةِ يَعْنِي الثوم فلا يقربَنَ مَسْجِدَنَا مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رواية المُسْلِمِ مَسَاجِدنا .
১৭০১। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি এই সবৃজি অর্থাৎ রসুন জাতীয় কিছু খাবে সে যেন আমাদের মসজিদের কাছেও না আসে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিমের অপর বর্ণনায় ‘মাসাজিদানা’- ‘আমাদের মসজিদসমূহ’ শব্দ আছে।

۱۷۰۲ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أكل من هذه الشجرة فلا يقربنا وَلَا يُصَلِّينَ مَعَنَا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭০২। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এই জাতীয় সবৃদ্ধি খাবে সে যেন আমাদের কাছে না আসে এবং আমাদের সাথে নামাযও না পড়ে।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۷۰۳ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اكل ثُوْمًا أَوْ بَصَلاً فَلْيَعْتَزِلْنَا أَوْ فَلْيَعْتَزِلُ مَسْجِدَنَا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رواية لِمُسْلِم مَنْ أَكل البصل والثوم والكراث فَلا يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا فَإِنَّ الْمَلَائِكَة تَتَأَذًى مِمَّا يَتَأَذًى مِنْهُ بَنُو أَدَمَ.

১৭০৩। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। যে ব্যক্তি রসুন অথবা পিঁয়াজ খাবে সে যেন আমাদের থেকে অথবা আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় আছেঃ যে ব্যক্তি পিঁয়াজ, রসুন অথবা অনুরূপ গন্ধযুক্ত তরকারী খাবে সে যেন আমাদের মসজিদের কাছে না আসে। কেননা যেসব জিনিসে মানুষ কষ্ট পায়, তাতে ফেরেশতারাও কষ্ট পান।

١٧٠٤ – وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ خَطَبَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ فِي خُطْبَتِهِ ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ تَأْكُلُونَ شَجَرَتَيْنِ مَا أَرَاهُمَا إِلَّا خَبِيئَتَيْنِ البصل والثوم. لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا وَجَدَ رِيحَهُمَا من الرَّجُلِ فِي الْمَسْجِدِ أَمَرَيهِ فَأَخْرَجَ إِلَى الْبَقِيعِ فَمَنْ أَكَلَهُمَا فَلْيُمِتْهُمَا طبخا – رَوَاهُ مُسْلِم

১৭০৪। উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি এক জুমু’আর দিন খুতবা দিলেন। তিনি তার খুতবায় বললেন, অতঃপর হে লোক সকল। তোমরা দু’টি সবজি খেয়ে থাক। আমার দৃষ্টিতে ও দুটো নিকৃষ্ট সব্জি পিঁয়াজ ও রসুন। আমি দেখেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে কোন লোকের মুখ থেকে এর গন্ধ পেলে তাকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দিতেন। তখন তাকে মসজিদ থেকে বাকী’ নামক স্থানের দিকে বের করে দেয়া হত। অতএব যে ব্যক্তি এই দুটো জিনিস খেতে চায় সে যেন রান্না করে তার গন্ধ দূর করে নেয়।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৫৮ – জুমু’আর দিন ইমামের খুতবার সময় হাঁটুর সাথে পেট মিলিয়ে বসা মাকরূহ

কেননা এভাবে বসলে ঘুম আসে, ফলে খুতবার প্রতি খেয়াল থাকে না এবং উযু নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে।

١٧٠٥ – عَنْ مُعَاذِ بْنِ أَنَسِ الْجُهَنِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ الحيوة يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِي وقَالَا حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৭০৫। মু’আয ইবনে আনাস আল-জুহানী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু’আর দিন খুতবার সময় পেটের সাথে দুই হাঁটু মিলিয়ে বসতে নিষেধ করেছেন। ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং উত্তয়ে বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।

অনুচ্ছেদ: ৫৯ – যে ব্যক্তি কুরবানী করার সংকল্প করেছে তার জন্য যিলহজ্জের প্রথম দশ দিন অর্থাৎ দশ তারিখ সকালে কুরবানী করার পূর্ব পর্যন্ত নখ-চুল কাটা নিষেধ।

١٧٠٦- عَنْ أَمْ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ كَانَ لَهُ ذَبْحٌ يَذْبَحُهُ فَإِذَا أَهل هلالُ ذِي الْحَجَّةِ فَلَا يَأْخُذَنَّ مِنْ شَعْرِه ولا مِنْ أَطْفَارِهِ شَيْئًا حَتَّى يُضَحَى رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৭০৬। উন্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির কাছে কুরবানীর পশু রয়েছে এবং সে তা কুরবানী করতে মনস্থ করেছে, যিলহজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উঠার পর কুরবানী না করা পর্যন্ত সে যেন নিজের চুল এবং নখ না কাটে। (হানাফীদের মতে এ নিষেধাজ্ঞা তানযীহী, কারো মতে তাহরীমী। উদ্দেশ্য হাজীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করা।)

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৬০ – সৃষ্টির নামে শপথ করা নিষেধ

কোন সৃষ্টজীব বা জন্তুর নামে শপথ করা জায়েয নয়। যেমনঃ নবী-রাসূল, ফেরেশতা, কাবা ঘর, আসমান, পিতা, দাদা, জীবন, রূহ, মাথা ইত্যাদির নাম করে শপথ করা এবং অনুরূপ সুলতান বা সম্রাটের দান, অমুকের কবর, আমানাত বা বিশ্বস্ততার শপথ করা। এ সবের উল্লেখ করে শপথ করা কঠোরভাবে নিষেধ।

۱۷۰۷ – عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِأَبَاتِكُمْ فَمَنْ كَانَ خَالِفًا فَلْيَحْلِفُ بِاللَّهِ أَوْ ليَصُمُتْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وفي رواية في الصحيحِ فَمَنْ كَانَ خَالِفًا فَلَا يَحْلِفُ إِلَّا بالله أو لبسكت

১৭০৭। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষদের নামে শপথ করতে সিষেধ করেছেন। কাউকে শপথ করতে হলে সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে, অন্যথায় চুপ থাকে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সহীহ বুখারীর অপর বর্ণনায় আছে: কাউকে শপথ করতে হলে সে যেন শুধুমাত্র আল্লাহর নামে শপথ করে অথবা চুপ থাকে।

۱۷۰۸ – وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَحْلِفُوا بِالطَّوَاغِي وَلَا بِآبَائِكُمْ ۖ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৭০৮। আবদুর রহমান ইবনে সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা দেব-দেবী অথবা বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুদের নামে কখনও শপথ করবে না। [টিকা: আত-তাওয়াগী শব্দটি বহুবচন। এর একবচন তাগিয়াহ্ অর্থ প্রতিমা বা মূর্তি। যেমন হাদীসে ‘তাগিয়াতু দাওস’ বলে দাওস গোত্রের মূর্তির দিকে ইংগিত করা হয়েছে। এ শব্দটি শয়তানকে বুঝাতেও ব্যবহৃত হয়।]

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেল।

۱۷۰۹ – وَعَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَن يَسْسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ خَلَقَ بِالْأَمَانَةِ فَلَيْسَ مِنَّا حَدِيثٌ صَحِيحٌ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِاسْنَادِ صَحِيح

১৭০৯। বুরাইদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমানাতের (বিশ্বস্ততার) উল্লেখ করে শপথ করল, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
এটি সহীহ হাদীস। ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۷۱۰ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ خَلْفَ فَقَالَ إِنِّي بَرِى مِنَ الْإِسْلامِ فَإِنْ كَانَ كَاذِبًا فَهُوَ كَمَا قَالَ وَإِنْ كَانَ صَادِقًا فَلَنْ يُرْجِعَ إِلَى الْإِسْلامِ سَالِمًا – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ .

১৭১০। বুরাইদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শপথ করে বলে, আমি ইসলামের প্রতি অসন্তুষ্ট, তার কথা যদি মিথ্যা হয়, তবে সে মিথ্যাবাদী। আর যদি সে তার কথায় সত্যবাদী হয় তবে সে ইসলামে নিরাপদে ফিরে আসতে পারবে না।

ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

يَقُولُ لا والكعبة قَالَ أنَّهُ سَمِعَ رَجُلاً يَقُولُ : عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ . -۱۱- وعن بن عمر رضى ) ابْنُ عُمَرَ لَا تَحْلِفْ بِغَيْرِ اللهِ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللهِ فَقَدْ كَفَرَ أَوْ أَشْرَكَ – رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ وفَسَّرَ بَعْضُ العُلَمَاء قَوْلَهُ كَفَرَ أَوْ أَشْرَكَ عَلَى التَّغْلِيظَ كَمَا رُوِيَ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الرِّيَاءُ شرك.

১৭১১। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি এক ব্যক্তিকে বলতে গুললেন, না। কাবার শপথ। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) বললেন, আল্লাহ হাড়া অন্য কিছুর নামে শপথ করো না। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে গুনেছি: যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে শপথ করে, সে কুফর অথবা শিরক করে।
ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি হাসান হাদীস। আলিমগণের মতে “সে কুফর করলো বা শিষ্ক করলো” কথাটি কঠোর তিরষ্কার প্রকাশের জন্য বলা হয়েছে। যেমন অন্যত্র মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রিয়া (প্রদর্শনেচ্ছা, ভান বা কপটতা) হল শিরক।

অনুচ্ছেদ: ৬১ – স্বেচ্ছায় মিথ্যা শপথ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ

۱۷۱۲ – عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ من خلفَ عَلَى مَالِ امْرِئٍ بِغَيْرِ حَقِهِ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ قَالَ ثُمَّ قَرَأَ عَلَيْنَا رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِصْدَاقَهُ مِنْ كِتَابِ اللهِ عَزَّ وَجَلٌ : إِنْ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللهِ وَايْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً أُولَئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ ولا يُكَلِّمُهُمُ الله ولا ينظر اليهم يَوْمَ الْقِيمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ من وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ.

১৭১২। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের ধন-সম্পদ অবৈধভাবে লাভ করার জন্য মিথ্যা শপথ করল, সে কিয়ামাতের দিন আল্লাহর সামনে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, আল্লাহ তার প্রতি চরমভাবে অসন্তুষ্ট। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথার সমর্থনে আমাদের সামনে আল কুরআনের এই আয়াত পাঠ করলেনঃ “যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথসমূহ সামান্য মূল্যে (পার্থিব স্বার্থে) বিক্রয় করে, আখিরাতে তাদের জন্য কোন অংশ নির্দিষ্ট নেই। কিয়ামাতের দিন না আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন, না তাদের প্রতি চেয়ে লেখবেন, আর না তাদেরকে পবিত্র করবেন, বরং তাদের জন্য কঠিন ও কষ্টকর শাস্তি রয়েছে।” (সূরা আলে ইমরানঃ ৭৭)

۱۷۱۳ – وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَيَّاسِ بْنِ ثَعْلَبَةَ الْحَارِثِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنِ اقْتَطَعَ حَقَّ امْرِئٍ مُسْلِم بِيَمِينِهِ فَقَدْ أَوْجَبَ اللهُ لَهُ النَّارَ وَحَرَّمَ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ وَإِنْ كَانَ شَيْئًا يَسِيرًا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ وَإِنْ كَانَ قَضِيبًا مِنْ أَرَاكَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৭১৩। আবু উমামা ইয়াস ইবনে সালাবা আল-হারিসী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথ করে কোন মুসলিমের অধিকার বা স্বত্ব আত্মসাৎ করল, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম অবশ্যম্ভাবী করে দেন এবং জান্নাত হারাম করে দেন। এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল। সেটা যদি সামান্য জিনিস হয়? তিনি বলেন: সেটা পিলু গাছের ছোট একটি ডাল হলেও।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٧١٤ – وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الكبائر الاشراك باللهِ وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ وَقَتْلُ النَّفْسِ والْيَمِينُ الْغَمُوسُ – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ – وَفِي رِوَايَةٍ أَنْ أَعْرَابِيا جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ الله مَا الكَبَائِرُ قَالَ الْإِشْرَاكَ بِاللهِ قَالَ ثُمَّ مَا ذَا قَالَ الْيَمِينُ الْغَمُوسُ قُلْتُ وَمَا الْيَمِينُ الْغَمُوسُ قَالَ الَّذِي يَقْتَطِعُ مَالَ امْرِئٍ مُسْلِم يَعْنِي بِيَمِيْنِ هُوَ فِيْهَا كَاذِبٌ .

১৭১৪। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কবীরা গুনাহ হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা, পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়া, মানুষ খুন করা এবং মিথ্যা শপথ করা।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারীর অন্য বর্ণনায় আছেঃ এক বেদুইন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল। কবীরা গুনাহ কি কি? তিনি বলেন: আল্লাহ্ সাথে শিরক। লোকটি বলল, তারপর কোনটি? তিনি বলেন: মিথ্যা শপথ করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, মিথ্যা শপথ কি? তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথের দ্বারা কোন মুসলিমের ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করে।

অনুচ্ছেদ: ৬২ – কোন কাজের শপথ করার পর…..

কোন লোক কোন একটি কাজের শপথ গ্রহণ করল। অতঃপর এর চেয়েও উত্তম কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হল। এরূপ ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত উত্তম কাজটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং পরে শপথ ভংগের কাফ্ফারা আদায় করলেই হবে।

١٧١٥ – عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِذَا خَلَقْتَ عَلَى يَمِينَ فَرَأَيْتَ غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَأْتِ الذي هُوَ خَيْرٌ وَكَفِّرْ عَنْ يَمِينكَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭১৫। আবদুর রহমান ইবনে সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: তুমি কোন বিষয় শপথ করলে, অতঃপর শপথের বিপরীত করা উত্তম দেখতে পেলে, এরূপ ক্ষেত্রে তুমি শপথ ভংগ করে অপেক্ষাকৃত ভালো কাজটি করো এবং (শপথ ভংগের) কাফ্ফারা আদায় করো।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱٧١٦ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِين فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيُكَفِّرُ عَنْ يَمِينِهِ وَلْيَفْعَلِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৭১৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে শপথ করল, অতঃপর তার বিপরীতে উত্তম কিছু করার সুযোগ দেখতে পেল। সে যেন শপথ ভংগ করে তার কাফ্ফারা আদায় করে এবং অপেক্ষাকৃত ভালো কাজটি করে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۷۱۷ – وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنِّي والله إِن شَاءَ اللهُ لا أَخْلِفُ عَلَى يَمِينِ ثُمَّ أَرَى خَيْرًا مِنْهَا إِلَّا كَفَرْتُ عَنْ يَمِينِي وَآتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭১৭। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর শপথ। ইনশাআল্লাহ আমি কোন শপথ করার পর যদি অপেক্ষাকৃত ভালো কাজের সুযোগ দেখি, তবে আমি অবশ্যই আমার শপথ ভংগ করে তার কাফ্ফারা আদায় করবো এবং অপেক্ষাকৃত ভালো কাজটি করবো।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۷۱۸ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وسلم لأن يلج أَحَدُكُمْ فِي يَمِينِهِ فِي أَهْلِهِ أَثْمُ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى مِنْ أَنْ يُعْطِيَ كَفَّارَتَهُ الَّتِي فَرَضَ اللَّهُ عَلَيْهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭১৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যদি তোমাদের কেউ শপথ করে নিজের পরিবারের প্রতি বিরূপ মনোভাবাপন্ন থাকে, তবে সে তার প্রতি ফরয কাফ্ফারা আদায় না করার চেয়েও বেশি গুনাহগার হবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৬৩ – অর্থহীন শপথ ক্ষমাযোগ্য

অর্থহীন শপথসমূহ ক্ষমাযোগ্য। এ জাতীয় শপথ ভংগ করাতে কোন কাফ্ফারা দিতে হয় না। এই শপথগুলো এমন ধরনের যা মানুষের অভ্যাসবশত শপথ করার ইচ্ছা ছাড়াই মুখে এসে যায়। যেমন সচরাচর কথাবার্তা বলার সময় ‘আল্লাহর কসম’, ‘আল্লাহর শপথ’ ইত্যাদি বলা হয়ে থাকে।

قَالَ اللهُ تَعَالَى : لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِدُكُمْ بِمَا عَقَدْتُمُ الْأَيْمَانَ فَكَفَّارَتُهُ اطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيْكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ذَلِكَ كَفَّارَةٌ أَيْمَانِكُمْ إِذَا خَلَقْتُمْ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“তোমরা যেসব অর্থহীন শপথ করে থাক, আল্লাহ সেজন্য তোমাদের পাকড়াও করবেন না। কিন্তু তোমরা বুঝেশুনে যেসব শপথ কর সে সম্পর্কে তিনি অবশ্যই তোমাদের পাকড়াও করবেন। (শপথ ভংগের) কাফ্ফারা হচ্ছে দশজন মিসকীনকে মধ্যম মানের খাবার খাওয়ানো, যা তোমরা নিজেদের পরিবার-পরিজনদের খাইয়ে থাক অথবা তাদেরকে কাপড় দান করা কিংবা একটি ক্রীতদাস মুক্ত করা। যে ব্যক্তির এগুলো করার সামর্থ্য নেই, সে তিন দিন রোযা রাখবে। এটাই হচ্ছে তোমাদের শপথ ভংগের কাফ্ফারা। তোমাদের শপথের সংরক্ষণ কর। আল্লাহ এভাবেই তোমাদের জন্য তার নির্দেশসমূহ সুস্পষ্টরূপে বিশ্লেষণ করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।”[টিকা: শপথ ভংগের কাফ্ফারা বা জরিমানা হলো একজন গোলাম আযাদ করা অথবা দশজন মিসকীনকে দুই বেলা খাওয়ানো অথবা তাদেরকে কাপড় দেয়া। এর কোন একটিরও সামর্থ্য না থাকলে একাধারে তিন দিন রোযা রাখা।] (সূরা আল মাইদা : ৮৯)

۱۷۱۹ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ أُنزِلَتْ هذه الآيَةُ إِلا يُؤَاخِدُكُمُ اللهُ باللغو فِي أَيْمَانُكُمْ فِي قَوْلِ الرَّجُلِ لَا وَاللهِ وَبَلَى وَاللَّهِ – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৭১৯। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “তোমরা যেসব অর্থহীন শপথ করে থাক, আল্লাহ সেজন্য তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন না” এই আয়াতটি কোন লোকের ‘না, আল্লাহর শপথ’, ‘হাঁ, আল্লাহর শপথ’ ইত্যাকার শপথ সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৬৪ – ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সত্য শপথ করাও খারাপ

۱۷۲۰ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ علَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْحَلفُ مَنْفَقَة للسلعة مَمْحَقَةٌ للكسب مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭২০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: অধিক শপথে হয়ত বেশী পণ্য বিক্রয় হতে পারে, কিন্তু তা উপার্জনের বরকত নষ্ট করে দেয়।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۷۲۱ – عَنْ أَبِي قَتَادَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِيَّاكُمْ وَكَثرَةَ الْحَلِفِ فِي الْبَيْعِ فَإِنَّهُ يُنفِقُ ثُمَّ يَمْحَقُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৭২১। আবু কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: তোমরা বিক্রয়ের সময় অতিরিক্ত শপথ থেকে বিরত থাক। কেননা এতে যদিও বিক্রয় বেশি হয় কিন্তু বরকত ধ্বংস হয়ে যায়।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৬৫ – আল্লাহর দোহাই দিয়ে কিছু চাওয়া

আল্লাহর দোহাই দিয়ে জান্নাত ছাড়া অন্য কিছু প্রার্থনা করা মাকরূহ। যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে কোন কিছু চায় তাকে বঞ্চিত করা এবং আল্লাহর নামে কৃত সুপারিশ অগ্রাহ্য করা মাকরূহ।

۱۷۲۲ – عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُسْأَلُ بوجه الله الا الْجَنَّةُ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ.

১৭২২। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর দোহাই দিয়ে জান্নাত ছাড়া অন্য কিছু চাওয়া ঠিক নয়।
ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۷۲۳ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنِ اسْتَعَاذَ بِالله فَأَعِيدُوهُ وَمَنْ سَأَلَ بِاللَّهِ فَأَعْطُوهُ وَمَنْ دَعَاكُمْ فَأَجِيبُوهُ وَمَنْ صَنَعَ إِلَيْكُمْ مَعْرُوفًا فَكَافِنُوهُ فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا مَا تُكَافِتُونَهُ فَادْعُوا لَهُ حَتَّى تَرَوْا أَنَّكُمْ قَدْ كَافَأْتُمُوهُ، حَدِيثٌ صَحِيحٌ، رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنِّسَانِي بأسانيد الصحيحين.

১৭২৩। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর দোহাই দিয়ে আশ্রয় চায় তাকে আশ্রয়দান কর। যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম নিয়ে কিছু চায় তাকে কিছু দাও। কোন ব্যক্তি তোমাদের দাওয়াত দিলে তা কবুল কর। যে ব্যক্তি তোমাদের জন্য কল্যাণকর কিছু করল, তার প্রতিদান দাও। তার প্রতিদান দেয়ার মত কিছু না থাকলে তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত দু’আ করতে থাক, যতক্ষণ তোমার মনে প্রত্যয় সৃষ্টি না হয় যে, তার প্রতিদান দিতে পেরেছ।

হাদীসটি সহীহ। ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম নাসাঈ (র) বুখারী ও মুসলিমের সম-মানের সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৬৬ – রাজাধিরাজ বলা হারাম

বাদশাহ বা কোন রাষ্ট্রনায়ককে রাজাধিরাজ বলে সম্বোধন করা বা উপাধি দেয়া হারাম।

কেননা ‘শাহানশাহ’ শব্দটির অর্থ ‘মালিকুল মুলক (সম্রাটদের সম্রাট)। মহান আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে এই বিশেষণে ভূষিত করা নিষিদ্ধ।

١٧٢٤ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنْ اخْنَعَ اسْمِ عِندَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الْأَمْلاكِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. قَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ مَلك الأملاك مثل شاهنشاه .

১৭২৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট সেই ব্যক্তি যে ‘শাহানশাহ’ বা ‘রাজাধিরাজ’ নাম গ্রহণ করে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা (র) বলেন, ‘মালিকুল আমলাক’, ‘শাহানশাহ’ শব্দের অনুরূপ অর্থবোধক।

অনুচ্ছেদ: ৬৭ – ফাসিক ও বিদআতী ব্যক্তিকে সাইয়েদ বা অনুরূপ সম্বোধন করা নিষেধ

١٧٢٥ – عَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَقُولُوا لِلْمُنَافِقِ سَيِّدٌ فَإِنَّهُ إِنْ يَكُ سَيِّدًا فَقَدْ أَسْخَطْتُمْ رَبُّكُمْ عَزَّ وَجَلَّ رَوَاهُ أَبُو داود بإسناد صحيح

১৭২৫। বুরাইদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা মুনাফিককে সাইয়েদ বলে সম্বোধন করো না। সে যদি সাইয়েদও হয় তবুও তোমরা তাকে সাইয়েদ বলে তোমাদের মহান প্রভুকে অসন্তুষ্ট করো না।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৬৮ – জ্বরকে গালি দেয়া মাকরূহ

ترفرفينَ قَالَتِ الْحُمَّى لا بَارَكَ اللهُ فِيهَا فَقَالَ لَا تُسَبِّى الْحُمَّى فَإِنَّهَا تُذْهَبُ خَطَايَا بَنِي آدَمَ كَمَا يُذْهِبُ الْكَيْرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৭২৬। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মুস সাইব অথবা উন্মুল মুসাইয়াবের কাছে গিয়ে বললেনঃ হে উন্মু সাইব অথবা হে উন্মুল মুসাইয়াব! তোমার কি হয়েছে, তুমি কাঁপছ কেন? সে বলল, জ্বর হয়েছে তাই। আল্লাহ যেন জ্বরের ভালো না করেন। তিনি বলেন: জ্বরকে গালি দিও না। কেননা জ্বর আদম সন্তানের গুনাহসমূহ দূর করে দেয়, যেমন কামারের হাপর লোহার ময়লা দূর করে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৬৯ – বাতাসকে গালি দেয়া নিষেধ এবং বায়ু প্রবাহের সময় যা বলতে হয়

۱۷۲۷ – عَنْ أَبِي الْمُنْذِرِ أَبي بْنِ كَعْبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَسُبُوا الرِّيحَ فَإِذَا رَأَيْتُمْ مَا تَكْرَهُونَ فَقُولُوا اللَّهُمُ إِنَّا نَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرٍ هَذِهِ الرِّيحُ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَخَيْرِ مَا أُمِرَتْ بِهِ وَنَعُوذُ بِكَ من شر هذه الرِّيحِ وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُمِرَتْ بِهِ – رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيث حسن صحيح.

১৭২৭। আবুল মুনযির উবাই ইবনে কাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা বাতাসকে গালি দিও না। যখন তোমরা বাতাসকে তোমাদের অমনঃপুত দেখবে তখন বলবে, “হে আল্লাহ। আমরা এই বায়ু থেকে কল্যাণ চাই, এর মধ্যে যে কল্যাণ রয়েছে তা এবং একে যে কল্যাণ সাধনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাও আমরা চাই। আর আমরা এই বায়ুর অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় চাই, এর মধ্যে যে ক্ষতি নিহিত রয়েছে তা থেকেও এবং একে যে ক্ষতি সাধনের জন্য হুকুম করা হয়েছে তা থেকেও।”

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।

۱۷۲۸ – رَأَيْتُمُوهَا فَلَا تَسُبُوهَا وَسَلُوا اللهَ خَيْرَهَا وَاسْتَعِيدُوا بِاللَّهِ مِنْ شَرِّهَا رَوَاهُ أَبُو دارد باشناد حسن

১৭২৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: বাতাস আল্লাহর একটি রহমত। তা কখনও কল্যাণ ও অনুগ্রহ বয়ে নিয়ে আসে, আবার কখনও শান্তির কারণ হয়। অতএব তোমরা বাতাস বইতে দেখলে তাকে গালি দিও না, বরং আল্লাহর কাছে তা থেকে কল্যাণ লাভের প্রার্থনা কর এবং তার অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাও।

ইমাম আবু দাউদ হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۷۲۹ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إذَا عَصَفَتِ الرِّيحُ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيْهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بههِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৭২৯। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন প্রবল বেগে বায়ু প্রবাহিত হতো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ। আমি তোমার কাছে এ বাতাসের কল্যাণ চাই, এর মধ্যে যে কল্যাণ নিহিত রয়েছে এবং যে কল্যাণসহ এ বাতাস পাঠানো হয়েছে তাও চাই। আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই এর ক্ষতি থেকে, এর মধ্যে যে ক্ষতি রয়েছে তা থেকে এবং যে ক্ষতিসহ একে পাঠানো হয়েছে তা থেকেও।”

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৭০ – মোরগকে গালি দেয়া মাকরূহ

۱۷۳۰ – عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَسُبُّوا الدِّيْكَ فَإِنَّهُ يُوقِظُ لِلصَّلاةِ رَوَاهُ أَبُو دَاوُد باشناد صحيح

১৭৩০। যায়িদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা মোরগকে গালি দিও না। কেননা মোরগ নামাযের জন্য ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৭১ – অমুক তারকার কারণে বৃষ্টি হয়েছে- এরূপ বলা নিষেধ

۱۷۳۱ – عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلاةَ الصُّبْحِ بِالْحُدَيْبِيَّةِ فِي أَثَرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَلَمَّا انْصَرَفَ اقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ قَالَ أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ فَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللهِ وَرَحْمَتِهِ فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِي كَافِرُ بالكواكب وَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطَرْنَا بِنَوْءٍ كَذَا وَكَذَا فذلك كافر كافر بي مُؤْمِنٌ بالكواكب – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَالسَّمَاءُ هُنَا الْمَطَرُ.

১৭৩১। যায়িদ ইবনে খালিদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদাইবিয়া নামক স্থানে আমাদেরকে ফজরের নামায পড়ালেন। রাতে বৃষ্টি হয়েছিল। নামায শেষে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বলেন: তোমরা কি জান তোমাদের প্রভু কী বলেছেন। সবাই বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক অবগত। তিনি বলেন: আল্লাহ বলেছেন, আজ সকালে আমার বান্দাদের একাংশ আমার প্রতি ঈমান পোষণ’ করেছে আর একাংশ কুফর করেছে। যারা বলেছে, আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাদের জন্য বৃষ্টি হয়েছে তারা আমার প্রতি বিশ্বাসী ও তারকার প্রতি অবিশ্বাসী। আর যারা বলেছে, অমুক অমুক তারকার প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছে তারা আমার প্রতি অবিশ্বাসী ও তারকার প্রতি বিশ্বাসী হয়েছে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসে শব্দের অর্থ হচ্ছে বৃষ্টি।

অনুচ্ছেদ: ৭২ – মুসলিমকে কাফির বলা হারাম

۱۷۳۲ – عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَالَ الرَّجُلُ لِأَخِيهِ يَا كَافِرُ فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا فَإِنْ كَانَ كَمَا قَالَ وَالا رَجَعَتْ عَلَيْهِ – متفق عليه.

১৭৩২। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন মুসলিম তার অপর মুসলিম ভাইকে বলে, হে কাফির, তখন যে কোন একজনের উপর অবশ্যই কুফর পতিত হবে। যাকে কাফির বলা হলো সত্যিই যদি সে তাই হয়ে থাকে, তবে কোন কথা নেই। কিন্তু সে যদি তা না হয়ে থাকে তবে যে কাফির বলে সম্বোধন করল তার উপরই কুফর পতিত হবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۷۳۳ – وَعَنْ أَبِي ذَرِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ دَعَا رَجُلًا بِالْكُفْرِ أَوْ قَالَ عَدُوٌّ اللَّهِ وَلَيْسَ كَذَلِكَ الأَحَارَ عَلَيْهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ حَارَ رَجَعَ.

১৭৩৩। আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: কেউ যদি কাউকে কাফির বলে সম্বোধন করে অথবা আল্লাহর দুশমন বলে, অথচ সে তা নয়, তবে কথাটা কথকের দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৭৩ – অম্লীল ও অশ্রাব্য কথা বলা নিষেধ

١٧٣٤ – عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطَّعَانِ وَلا اللعَانِ وَلا الْفَاحِشِ وَلَا الْبَدِي رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৭৩৪। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ঈমানদার ব্যক্তি ঠাট্টা-বিদ্রূপকারী, ভর্ৎসনাকারী, অভিসম্পাতকারী, অশ্লীলভাষী ও বদমেজাজী হতে পারে না।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।

١٧٣٥ – وَعَنْ أَنَسِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا كَانَ الْفَحْشَ فِي شَيْءٍ إِلا شَانَهُ وَمَا كَانَ الْحَيَاءُ فِي شَيْءٍ إِلَّا زَانَهُ رَوَاهُ الترمذى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৭৩৫। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: অশ্লীলতা যে কোন জিনিসকে খারাপ করে এবং লজ্জাশীলতা যে কোন জিনিসকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।

অনুচ্ছেদ: ৭৪ – আলাপ-আলোচনায় জটিল বাক্য প্রয়োগ মাকরূহ

সর্বসাধারণকে সম্বোধন করে কিছু বললে তাদের বোধগম্য ভাষায় বলতে হবে। এসব ক্ষেত্রে টেনে টেনে কথা বলা, উচ্চাংগের ভাষা প্রয়োগ, বাকপটুতা প্রদর্শন, অপ্রকাশিত শব্দ ব্যবহার ইত্যাদি মাকরূহ।

١٧٣٦ – عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ هَلَكَ الْمُتَنَطِعُونَ قَالَهَا ثَلاثًا . رَوَاهُ مُسْلِم الْمُتَنَطِعُونَ الْمُبَالِغُونَ فِي الْأَمُورِ.

১৭৩৬। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: অতিশয়োক্তিকারীরা ধ্বংস হয়েছে। বাক্যটি তিনি তিনবার বলেছেন।
‘আল-মুতানাত্তিউন’ অর্থ: কোন বিষয়ে অতিশয়োক্তি করা বা বাড়াবাড়ি করা।

۱۷۳۷ – وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللهَ يُبْغِضُ الْبَلِيغَ مِنَ الرِّجَالِ الَّذِي يَتَخَلَّلُ بِلِسَانِهِ كَمَا تَتَخَلَّلُ الْبَقَرَةُ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِنِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৭৩৭। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐ সব অতিশয়োক্তিকারীদের ঘৃণা করেন যারা গরুর জাবরকাটার ন্যায় নিজেদের জিহ্বা জড়িয়ে পেঁচিয়ে কথা বলে।

ইমাম আবু দাউদ ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।

۱۷۳۸ – وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ مِنْ أَحَبِّكُمْ إِلَى وَأَقْرَبَكُمْ مِنِّي مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَحَاسِنُكُمْ اخلاقا وَإِنْ أَبْغَضَكُمْ إِلَى وَابْعَدكُمْ مِنِّى يَوْمَ الْقِيَامَةِ الشَّرْتَارُونَ وَالْمُتَشَدِقُونَ وَالْمُتَفَيهِقُونَ – رَوَاهُ التَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৭৩৮। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নৈতিক দিক দিয়ে সর্বোত্তম, সেই আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং কিয়ামাতের দিন সে সর্বাপেক্ষা আমার নিকটবর্তী হবে। আর তোমাদের মধ্যে যেসব লোক বাচাল, দুর্বোধ্য ভাষায় এবং অহংকারের সাথে কথা বলে তারা আমার কাছে সর্বাধিক ঘৃণিত এবং কিয়ামাতের দিন আমার কাছ থেকে অনেক দূরে থাকবে।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।

অনুচ্ছেদ: ৭৫ – আমার আত্মা কলুষিত- এ ধরনের কথা বলা নিষেধ

۱۷۳۹ – عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ خَبُثَتْ نَفْسِي وَلَكِنْ لِيَقُلْ لَقِسَتْ نَفْسِي مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ – قَالَ الْعُلَمَاءُ مَعْنَى خَبُثَتْ غَشَتْ وَهُوَ مَعْنَى لَقِسَتْ وَلَكِنْ كَرِهَ لفظ الْخُبْثِ.

১৭৩৯। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন নিজের সম্পর্কে একথা না বলে, আমার আত্মা কলুষিত হয়ে গেছে, বরং এ রকম বলতে পারে, আমার আত্মা মলিন হয়ে গেছে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আলিমগণ খাবুসাত ও লাকিসাত শব্দ দু’টির একই অর্থ বলেছেন। অর্থাৎ উভয় শব্দের অর্থ খারাপ, নষ্ট, মলিনতা, কলুষতা, ভ্রষ্টতা ইত্যাদি। কিন্তু খুক্ত শব্দটা ব্যবহার করা তারা পছন্দ করেননি।

অনুচ্ছেদ: ৭৬ – ইনাবকে (আঙ্গুর) কারম বলা অপছন্দনীয়

١٧٤٠ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا تُسموا العنب الكرم فَإِنَّ الكَرْمَ الْمُسْلِمُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَهُذَا لفظ مُسلِم وفي رواية فَإِنَّمَا الْكَرْمُ قَلْبُ الْمُؤْمِنِ. وَفِي رواية لِلْبُخَارِي وَمُسْلِمٍ يَقُولُونَ الْكَرَمُ إِنَّمَا الْكَرْمُ قَلْبُ الْمُؤْمِنِ.

১৭৪০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা ইনাবকে (আঙ্গুরকে) কারম বলো না। কেননা কেবলমাত্র মুসলিমই কারম হতে পারে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির মূল পাঠ ইমাম মুসলিমের বর্ণিত। আর এক বর্ণনায় আছে। কেননা ‘কারম’ হলো মুমিন ব্যক্তির অন্তর। বুখারী ও মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে: লোকেরা আঙ্গুরকে কারম বলে। অথচ কারম হলো মুমিন ব্যক্তির অন্তর।

١٧٤١ – وَعَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَقُولُوا الْكَرْمُ وَلَكِنْ قُولُوا الْعِنَبُ وَالْحَبْلَةُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ

১৭৪১। ওয়াইল ইবনে হুজর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা আঙ্গুর ফলকে কারম বলো না, বরং ইনাব (আঙ্গুর) ও হাবালা (আঙ্গুরের লতাগুল্ম) বল।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদঃ ৭৭ – পুরুষের সামনে মেয়েদের শারীরিক সৌন্দর্য বর্ণনা করা নিষেধ

কোন শরী’আত সম্মত কারণ বা প্রয়োজন ছাড়া পুরুষ লোকদের নিকট কোন নারীর শারীরিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দেয়া নিষেধ। তবে বিবাহ-শাদী বা এ জাতীয় কোন প্রয়োজনে শারীরিক গঠন-প্রকৃতির বর্ণনা দেয়া জায়েয।

١٧٤٢ – عن ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم لا تُبَاشِرِ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ فَتَصِفَهَا لِزَوْجِهَا كَأَنَّهُ يَنظُرُ إِلَيْهَا مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭৪২। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন নারী যেন তার অনাবৃত শরীর অন্য কোন নারীর অনাবৃত শরীরের সাথে না লাগায় এবং সে যেন তার (অপর নারীর) শারীরিক সৌন্দর্য নিজের স্বামীর নিকট এমনভাবে বর্ণনা না করে, যেন সে তাকে স্বচক্ষে দেখছে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৭৮ – হে আল্লাহ! তুমি চাইলে আমাকে ক্ষমা কর, এভাবে দু’আ করা মাকরূহ

١٧٤٣ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال لا يَقُولَنَّ أَحَدُكُمُ اللهُمُ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ لِيَعْزِمِ الْمَسْأَلَة فَإِنَّهُ لَا مُكْرِهَ لَهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمِ وَلَكِنْ لِيَعْزِمُ وَلْيُعَظمِ الرُّغْبَة فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَا يَتَعَاظِمُهُ شَيْ أَعْطَاهُ .

১৭৪৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন এভাবে দু’আ না করে: “হে আল্লাহ! তুমি ইচ্ছা করলে আমাকে ক্ষমা কর, হে আল্লাহ। তুমি ইচ্ছা করলে আমার প্রতি রহমত কর”, বরং সে যেন দৃঢ়তা সহকারে দু’আ করে। কেননা তাঁর উপর কারো জোর বা প্রভাব খাটে না। (বুখারী ও মুসিলম)। (সহীহ বুখারীর অপর বর্ণনায় আছে: আল্লাহ যা চান তা করেন, তাকে বাধা দেয়ার কেউ নেই।) সহীহ মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে: সে যেন পরিপূর্ণ আস্থা ও আগ্রহ সহকারে এবং দৃঢ় মনোবল নিয়ে দু’আ করে। কেননা আল্লাহ বান্দাকে যা দেন তা তার কাছে বিরাট কিছু নয়। (কিংবা তা দিতে তার কোন কষ্ট হয় না।)

١٧٤٤ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلْيَعْزِمِ الْمَسْأَلَة وَلا يَقُولَنَّ اللَّهُمَّ إِنْ شِئْتَ فَأَعْطِنِي فَإِنَّهُ لَا مُسْتَكْرِهَ لَهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭৪৪। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ দু’আ করবে সে যেন পরিপূর্ণ আস্থা ও দৃঢ়তা সহকারে দু’আ করে। কেউ যেন এরূপ না বলে, হে আল্লাহ! তোমার ইচ্ছা হলে আমাকে দাও। কেননা আল্লাহর উপর কারো জোর বা প্রভাব খাটে না বা কাউকে কিছু দেয়া তাঁর জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৭৯ – আল্লাহর ইচ্ছার সাথে অন্য ইচ্ছা মিলানো খারাপ

١٧٤٥ – عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لا تَقُولُوا مَا شَاءَ اللهُ وَمَا شَاءَ فُلانٌ وَلَكِنْ قُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شَاءَ فلان رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِاسْنَادِ صَحِيح.

১৭৪৫। হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা এভাবে বলো না যে, আল্লাহ যা চান এবং অমুক যা চান সেভাবেই হবে, বরং বলো, আল্লাহর ইচ্ছা, অতঃপর অমুকের ইচ্ছা।

ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৮০ – ইশার নামায আদায়ের পরে কথা বলা মাকরূহ

ইমাম নববী (র) বলেন, এর অর্থ হলো যেসব সাধারণ কথাবার্তা অন্যান্য সময়ও জায়েয এবং যেসব কথাবার্তা বলা বা না বলা উভয়ই সমান, এমন সব বাক্যালাপ ইশার নামাযের পর অপছন্দনীয়। আর যেসব কথা অন্যান্য সময়ে বলা বা আলোচনা করা হারাম বা মাকরূহ, ইশার পর তা বলা আরো কঠোরভাবে হারাম বা মাকরূহ। কিন্তু কল্যাণকর কথা বলা মাকরূহ নয়, যেমন ইসলামী বিষয়ে আলোচনা, মনীষীদের জীবন কথা আলোচনা করা, উন্নত নৈতিক বিষয়ের আলোচনা ও শিক্ষা দান, অতিথির সাথে বাক্যালাপ, কোন প্রয়োজনে আগত ব্যক্তির সাথে কথাবার্তা এবং এ ধরনের অন্যান্য বিষয়াদি, অনুরূপভাবে কোন প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা বা বিপদে পড়ে কথা বলা মাকরূহ নয়। উল্লেখিত বিষয়গুলোর সমর্থনে অনেক সহীহ হাদীস রয়েছে।

١٧٤٦ – عَنْ أَبِي بَرْزَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَ الْعِشَاءِ وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭৪৬। আবু বারযা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামাযের পূর্বে ঘুমানো এবং পরে কথা বলা অপছন্দ করতেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٧٤٧ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صلى الْعِشَاءَ فِي آخِرِ حَيَاتِهِ فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ أَرَأَيْتَكُمْ لَيْلَتَكُمْ هَذِهِ فَإِنَّ عَلَى رَأْسِ سنَةٍ لا يَبْقَى مِمَّنْ هُوَ عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ الْيَوْمَ أَحَدٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. مائة

১৭৪৭। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনের শেষ দিকে আমাদের এশার নামায পড়ালেন। সালাম ফিরানোর পর তিনি বললেন: আজকের এই রাত সম্পর্কে তোমাদের কি কিছু জানা আছে? (অতঃপর তিনি বললেনঃ) যারা আজকে পৃথিবীতে জীবিত আছে এক শত বছর পর তাদের কেউ আর অবশিষ্ট (জীবিত) থাকবে না।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٧٤٨ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُمْ انْتَظِرُوا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَهُمْ قَرِيبًا مِنْ شَطْرِ اللَّيْلِ فَصَلَّى بِهِمْ يَعْنِي الْعِشَاءُ قَالَ ثُمَّ خَطَبَنَا فَقَالَ إِلا إِنَّ النَّاسَ قَدْ صَلُّوا ثُمَّ رَقَدُوا وَإِنَّكُمْ لَنْ تَزَالُوْا فِي صَلَاةٍ مَا انْتَظَرْتُمُ الصَّلاةَ رَوَاهُ الْبُخَارِي

১৭৪৮। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তারা (সাহাবীগণ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি প্রায় অর্ধ রাতের সময় আসলেন, অতঃপর তাদের সাথে ইশার নামায পড়লেন। আনাস (রা) বলেন, অতঃপর তিনি আমাদের সামনে বক্তৃতা করলেন। তিনি বললেন: জেনে রাখ। অনেক লোক নামায পড়ে ঘুমিয়ে পড়েছে, কিন্তু তোমরা যখন থেকে নামাযের অপেক্ষা করছো, তখন থেকে নামাযের মধ্যে রয়েছো।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৮১ – স্বামী স্ত্রীকে বিছানায় ডাকলে শরী’আত সম্মত কারণ ছাড়া স্ত্রীর বিছানায় আসতে অস্বীকার করা হারাম

١٧٤٩ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إلى فراشه فَآبَتْ فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا لَعَنَتُهَا الْمَلائِكَةُ حَتَّى تُصْبحَ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ – وَفِي رِوَايَةٍ حَتَّى تَرْجِعَ.

১৭৪৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: স্বামী তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকলে স্ত্রী যদি তা অস্বীকার করে আর এ কারণে স্বামী যদি তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে রাত যাপন করে, তাহলে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতারা তাকে অভিশাপ দিতে থাকেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। উভয়ের আর এক বর্ণনায় আছে, স্বামীর বিছানায় ফিরে না আসা পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার উপর লা’নত করতে থাকেন।

অনুচ্ছেদ: ৮২ – স্বামীর উপস্থিতিতে অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর জন্য নফল রোযা রাখা নিষেধ

١٧٥٠ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لا يَحِلُّ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَصُومَ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ الا باذنه وَلَا تَأْذَنَ فِي بَيْتِهِ الا باذنه – متفق عليه.

১৭৫০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর জন্য নফল রোযা রাখা হালাল নয়। তার অনুমতি ছাড়া স্ত্রী অন্য লোককে তার ঘরে আসার অনুমতি দেবে না।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৮৩ – ইমামের আগে মুক্তাদীর রুকু-সিজদা থেকে মাথা উঠানো নিষেধ

١٧٥١ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَمَا يَخْشَى أَحَدُكُمْ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ قَبْلَ الْإِمَامِ أَنْ يَجْعَلَ اللَّهُ رَأْسَهُ رَأْسَ حِمَارِ أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ صُورَتَهُ صُورَةً حِمَارٍ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭৫১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন ইমামের পূর্বে (রুকু ও সিজদা থেকে) মাথা উঠায় তখন কি ভয় করে না যে, আল্লাহ তার মাথা গাধার মাথার ন্যায় করে দেবেন অথবা তার আকৃতি গাধার ন্যায় করে দেবেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৮৪ – নামাযের মধ্যে কোমরে হাত রাখা মাকরূহ

١٧٥٢ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ نُهِيَ عَنِ الْخَصْرِ فِي الصَّلاةِ متفق عليه.

১৭৫২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামাযের মধ্যে কোমরে হাত রাখতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৮৫ – নামাযের সময় আহার্য উপস্থিত হলে…..

খাবার হাজির হলে এবং খাবারের প্রতি আগ্রহ থাকলে কিংবা আকর্ষণ অনুভব করলে, তখন খাবার রেখে নামায পড়া মাকরূহ। অনুরূপভাবে পেশাব-পায়খানার বেগ চেপে রেখে নামায পড়াও মাকরূহ।

١٧٥٣ – عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُولُ لَا صَلاةَ بِحَضْرَةِ طعام ولا يُدَافِعُهُ الْأَخْبَثَانِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৭৫৩। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: খাবার হাজির হলে তা রেখে নামায পড়বে না।
অনুরূপভাবে দুই খবিসের (পেশাব-পায়খানার) বেগ চেপে রেখেও নামায পড়বে না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৮৬ – নামাযরত অবস্থায় আকাশের দিকে তাকানো নিষেধ

١٧٥٤ – عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَرْفَعُونَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فِي صَلَاتِهِمْ فَاشْتَدَّ قَوْلُهُ في ذلك حَتَّى قَالَ لِيَنْتَهُنَّ عَن ذلك أو لتُخْطَفَنَّ أَبْصَارُهُمْ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৭৫৪। আনাস ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: লোকদের কি হলো যে, তারা নামাযের মধ্যে আসমানের দিকে তাকায়? আনাস (রা) বলেন, তিনি আরো কঠোরভাবে কথাটি বললেন, এমনকি তিনি বললেন: লোকেরা যেন অবশ্যই তা থেকে বিরত থাকে। অন্যথায় তাদের দৃষ্টিশক্তিকে ছিনিয়ে নেয়া হতে পারে।
ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৮৭ – বিনা প্রয়োজনে নামাযরত অবস্থায় এদিক-সেদিক তাকানো মাকরূহ

١٧٥٥ – عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْالْتِفَاتِ فِي الصَّلَاةِ فَقَالَ هُوَ اخْتِلَاسِ يَخْتَلِسُهُ الشَّيْطَانُ مِنْ صَلَاةِ العبد – رواه البخاري.

১৭৫৫। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযরত অবস্থায় এদিক-সেদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন: এটা শয়তানের একটি ছোবল। সে বান্দার নামায থেকে এভাবে ছোবল মেরে কিছু অংশ অপহরণ করে।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٧٥٦ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِيَّاكَ والالتفات في الصلاةِ فَإِنَّ الْالْتِفَاتَ فِي الصَّلَاةَ هَلَكَةٌ فَإِنْ كَانَ لأبد ففي التطوع لا فِي الفَرِيضَةِ – رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

১৭৫৬। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: নামাযরত অবস্থায় এদিক সেদিক তাকানো থেকে বিরত থাক। কেননা নামাযের মধ্যে এদিক-সেদিক তাকানো একটি বিপর্যয়। যদি ডানে-বামে তাকানো ছাড়া উপায় না থাকে তবে নফল নামাযে তা করো, কিন্তু ফরয নামাযে তা করা যাবে না।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।

অনুচ্ছেদ: ৮৮ – কবরের দিকে মুখ করে নামায পড়া নিষেধ

١٧٥٧ – عَنْ أَبِي مَرْقَد كَنَّارَ بْنِ الْحُصَيْنِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لا تُصَلُّوا إِلَى الْقُبُورِ وَلَا تَجْلِسُوا عَلَيْهَا رواه مسلم.

১৭৫৭। আবু মারসাদ কান্নায ইবনুল হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি। তোমরা কবরের দিকে মুখ করে নামায পড়ো না এবং কবরের উপর বসো না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৮৯ – নামাযরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাতায়াত করা নিষেধ

١٧٥٨ – عَنْ أَبِي الْجُهَيْمِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ الصَّمَةِ الْأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ يَعْلَمُ المَارُ بَيْنَ يَدَى الْمُصَلَّى مَاذَا عَلَيْهِ لكان أن يقف أَرْبَعِينَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَن يُمُرٌ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ الراوي ما أدرى قَالَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ أَرْبَعِينَ شَهْرًا أَوْ أَرْبَعِينَ سَنَةً مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭৫৮। আবুল জুহাইম আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনুস সিম্মাহ আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নামাযীর সামনে দিয়ে যাতায়াতকারী যদি জানত যে, তাতে তার কী পরিমাণ গুনাহ হয়, তবে সে নামাযীর সামনে দিয়ে যাতায়াত করা অপেক্ষা চল্লিশ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকাকে নিজের জন্য কল্যাণকর মনে করত। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি চল্লিশ দিন না চল্লিশ মাস না চল্লিশ বছরের কথা বলেছেন তা আমার মনে নেই।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৯০ – মুয়াযযিন যখন ফরয নামাযের জন্য ইকামত দেয় তখন মুক্তাদীদের জন্য সুন্নাত অথবা নফল নামায পড়া মাকরূহ

١٧٥٩ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إذا أقيمت الصلاة فلا صَلَاةَ إِلا الْمَكْتُوبَةَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৭৫৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন নামাযের জন্য ইকামত দেয়া হয়, তখন ফরয নামায ছাড়া অন্য কোন নামায পড়া যাবে না।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৯১ – শুধুমাত্র জুমু’আর দিনকে রোযার জন্য এবং জুমু’আর রাতকে নফল নামাযের জন্য নির্দিষ্ট করে নেয়া মাকরূহ

١٧٦٠ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَخْصُوا لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ بِقِيَامِ مِنْ بَيْنِ اللَّيَالِي وَلَا تَخُصُوا يَوْمَ الْجُمُعَةِ بِصِيَامٍ مِنْ بَيْنِ الْأَيَّامِ إِلا أَن يَكُونَ فِي صَوْمِ يَصُومُهُ أَحَدُكُمْ – رَوَاهُ مُسْلِم.

১৭৬০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রাতসমূহের মধ্যে শুধুমাত্র জুমু’আর রাতকে নফল ইবাদাতের জন্য নির্দিষ্ট করো না এবং দিনসমূহের মধ্য থেকে শুধুমাত্র জুমু’আর দিনকে নফল রোযার জন্য নির্দিষ্ট করো না। তবে তোমাদের কারো রোযা যদি জুমু’আর দিনে পড়ে যায়, তাহলে ভিন্ন কথা।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٧٦١ – وَعَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَصُومَنْ أَحَدُكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلا يَوْمًا قَبْلَهُ أَوْ بَعْدَهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭৬১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি। তোমাদের কেউ যেন শুধু জুমু’আর দিন রোযা না রাখে, বরং তার আগের অথবা পরের দিন মিলিয়ে রোযা রাখবে।

ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٧٦٢ – وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادٍ قَالَ سَأَلْتُ جَابِرًا أَنَّهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَوْمِ الْجُمُعَةِ قَالَ نَعَمُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭৬২। মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির (রা)-কে এই মর্মে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি শুধু জুমু’আর দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন? তিনি বলেন, হাঁ।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٧٦٣ – وَعَنْ أَمِّ الْمُؤْمِنِينَ جُوَيْرِيَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيِّ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَيْهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَهِيَ صَائِمَةٌ فَقَالَ أَصُمْتِ أَمْسِ قَالَتْ لَا قَالَ تُرِيدِينَ أَنْ تَصُوْمِي غَدًا قَالَتْ لَا قَالَ فَأَفْطَرِي رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৭৬৩। উম্মুল মুমিনীন জুয়াইরিয়া বিনতুল হারিস (রা) থেকে বর্ণিত। এক জুমু’আর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এলেন। সেদিন তিনি রোযা রেখেছিলেন। নবী (সা) তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি গতকাল রোযা রেখেছিলে? তিনি বললেন, না। তিনি বললেনঃ তুমি কি আগামী কাল রোযা রাখতে ইচ্ছুক? জুয়াইরিয়া (রা) বললেন, না। তিনি বলেন: তাহলে আজকের রোযা ভংগ কর।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৯২ – সাওমে বিসাল বা উপর্যুপরি রোযা রাখা নিষেধ

কিছু পানাহার না করে উপর্যুপরি দুই বা ততোধিক দিন রোযা রাখার নাম সাওমে বিসাল।

١٧٦٤ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم نهى عَنِ الوصال – متفق عليه.

১৭৬৪। আবু হুরাইরা (রা) ও আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওমে বিসাল করতে নিষেধ করেছেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٧٦٥ – عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْوِصَالِ قَالُوا إِنَّكَ تُوَاصِلُ قَالَ إِنِّي لَسْتُ مِثْلَكُمْ إِنِّي أَطْعَمُ وأشقى مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَهُذا لفظ الْبُخَارِي.

১৭৬৫। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওমে বিসাল (পানাহার না করে উপর্যুপরি কয়েক দিন রোযা) করতে নিষেধ করেছেন। সাহাবীগণ বললেন, আপনি যে সাওমে বিসাল করেন? তিনি বলেন: আমি তোমাদের মত নই। আমাকে পানাহার করানো হয়।

হাদীসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। তবে মূল পাঠ বুখারীর।

অনুচ্ছেদ: ৯৩ – কবরের উপর বসা হারাম

١٧٦٦ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَأَنْ يُجْلِسَ أَحَدُكُمْ عَلَى جَمْرَةٍ فَتَحْرِقَ ثِيَابَهُ فَتَخْلُصَ إِلَى جِلْدِهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أن يُجْلِسَ عَلَى قَبْرٍ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৭৬৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যদি কোন লোক জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর বসে এবং তাতে তার কাপড় পুড়ে চামড়ায়ও লেগে যায় (চামড়াও পুড়ে যায়), তবুও তা তার জন্য কবরের উপর বসার চেয়ে উত্তম।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৯৪ – কবর পাকা করা ও গম্বুজ নির্মাণ করা নিষেধ

١٧٦٧ – عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أن يُجَصِّصَ الْقَبرُ وأن يقعد عليه وأن يبنى عليه – رواه . رواه مسلم

১৭৬৭। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর পাকা করতে, কবরের উপর বসতে এবং কবরের উপর কোন রকম নির্মাণ কাজ করতে নিষেধ করেছেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৯৫ – মনিবের নিকট থেকে গোলামের পালিয়ে যাওয়া নিষেধ

١٧٦٨ – عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّمَا عَبْدِ ابْقَ فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ الدِّمَةُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৭৬৮। জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ক্রীতদাস তার মনিবের নিকট থেকে পালিয়ে গেল, তার ব্যাপারে ইসলামের যিম্মাদারিও শেষ হয়ে গেল।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٧٦٩ – وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَبْقَ الْعَبْدُ لَمْ تُقْبَل لَهُ صلاةٌ رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَفِي رِوَايَةٍ فَقَدْ كَفَرَ.

১৭৬৯। জারীর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গোলাম যখন পলায়ন করে তখন তার নামায কবুল হয় না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অন্য বর্ণনায় আছে: তখন সে কুফরী করে।

অনুচ্ছেদ: ৯৬ – হদ্দ (নির্ধারিত শাস্তি) কার্যকর করার বিরুদ্ধে সুপারিশ করা হারাম

قَالَ اللهُ تَعَالَى : الزانية والزاني فاجلدوا كُلَّ واحدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ ولا تَأْخُذَكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِيْنِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلِيَشْهَدُ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“যিনাকারী ও যিনাকারিণী, এদের উভয়কে এক শত বেত্রদণ্ড দাও। আল্লাহর দীনের ব্যাপারে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়া-অনুকম্পা না জাগে যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ। মুমিনদের একটি দল যেন তাদের উভয়ের শান্তি প্রত্যক্ষ করে।” (সূরা আন্ নূরঃ ২)

۱۷۷۰ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنْ قُرَيْشًا أَهَمِّهُمْ شَأْنُ الْمَرْأَةِ المخزومية التي سَرَقَتْ فَقَالُوا مَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا وَمَنْ يُجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلَّا أَسَامَةُ بْنُ زَيْدِ حِبُّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِوَسَلَّمَ فَكَلَّمَهُ أَسَامَةً فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اتَشْفَعُ فِي حَدٍ مِنْ حُدُودِ اللهِ تَعَالَى ثُمَّ قَامَ فَاخْتَطَبَ ثُمَّ قَالَ إِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الشَّرِيفَ تَرَكُوهُ وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدُ وَأَيْمُ الله لو أن فاطمة بنت مُحَمَّد سَرَقَتْ لقطعتُ بَدَهَا مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ – وَفِي رواية قتَلُونَ وَجْهُ رَسُولِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَتَشْفَعُ فِي حَدٍ مِنْ حُدُودُ اللَّهِ فَقَالَ أَسَامَةُ اسْتَغْفِرْ لِي يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ ثُمَّ أَمَرَ بِتِلْكَ الْمَرْأَةِ فَقُطِعَتْ يَدُهَا .

১৭৭০। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। মাখযূম বংশের যে মহিলাটি চুরি করেছিল তার ব্যাপারটি কুরাইশদের জন্য খুবই গুরুতর হয়ে দাঁড়াল। তারা বলাবলি করছিল, ব্যাপারটি নিয়ে কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আলাপ করতে পারে? তারা বলল, উসামা ইবনে যায়িদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়পাত্র। তিনি ছাড়া একাজ করার মত সাহস কেউ পাবে না। উসামা তাঁর সাথে কথা বললে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তুমি কি মহান আল্লাহ নির্ধারিত হদ্দ (শান্তি) কার্যকর করার বিরুদ্ধে সুপারিশ করছ। তারপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন, বক্তৃতা করলেন এবং বললেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তীগণ এজন্য ধ্বংস হয়েছে যে, তাদের মধ্যে কোন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি চুরি করলে তারা তাকে ছেড়ে দিত এবং কোন দুর্বল ব্যক্তি চুরি করলে তাকে শাস্তি দিত। আল্লাহর শপথ। যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত তাহলে আমি তার হাতও কেটে দিতাম।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাঁদের অপর বর্ণনায় আছেঃ (সুপারিশ করার কারণে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তিনি বললেন: তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি রহিত করার জন্য সুপারিশ করছ? উসামা (রা) বলল, হে আল্লাহর রাসূল। আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি ঐ মহিলার ব্যাপারে নির্দেশ দিলে তার হাত কেটে দেওয়া হলো।

অনুচ্ছেদ: ৯৭ – সর্বসাধারণের যাতায়াতের রাস্তায়, গাছের ছায়ায় এবং ব্যবহার্য পানি ইত্যাদিতে পায়খানা করা নিষেধ

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا

মহান আল্লাহ বলেন:

“যারা ঈমানদার নারী-পুরুষকে বিনা অপরাধে কষ্ট দেয়, তারা একটা অতি বড় মিথ্যা দোষ ও সুস্পষ্ট গুনাহর বোঝা নিজেদের মাথায় চাপিয়ে নেয়।” (সূরা আল আহযাব : ৫৮)।

۱۷۷۱ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اتَّقُوا اللعَنَيْنِ قَالُوا وَمَا اللأعِنَانِ قَالَ الَّذِي يَتَخَلَّى فِي طَرِيقِ النَّاسِ أَوْ فِي ظلِهِمْ رَوَاهُ مُسْلِمٌ

১৭৭১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দু’টি অভিশাপ আনয়নকারী জিনিস থেকে দূরে থাক। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল। অভিশাপ আনয়নকারী দু’টি জিনিস কী? তিনি বলেন: যে ব্যক্তি লোকদের যাতায়াত পথে (রাস্তায়) অথবা গাছের ছায়ায় পায়খানা করে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেন: ৯৮ – বন্ধ পানিতে পেশাব ইত্যাদি করা নিষেধ

۱۷۷۲ – عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يبَالَ فِي الْمَاءِ الرَّاكِدِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৭৭২। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বন্ধ পানিতে
পেশাব করতে নিষেধ করেছেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৯৯ – উপহার দেয়ার বেলায় সন্তানদের মধ্যে কাউকে অগ্রাধিকার দেয়া মাকরূহ

۱۷۷۳ – عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنْ آبَاهُ أَتَى بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنِّي نَحَلْتُ ابْنِي هُذَا غُلَامًا كَانَ لِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اكل ولدكَ نَحلْتَهُ مِثلَ هَذَا فَقَالَ لَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَارْجِعْهُ وَفِي رِوَايَةٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ افعلت هذا بوَلَدِكَ كُلِّهِمْ قَالَ لا قَالَ اتَّقُوا اللَّهَ وَاعْدِلُوا فِي أَوْلَادِكُمْ فَرَجَعَ أَبِي فرد تلكَ الصَّدَقَةَ وَفِي رِوَايَةٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا بَشِيرُ الك ولد سوى هذا قَالَ نَعَمْ قَالَ اللهُم وَهَبْتَ لَهُ مِثْلَ هَذَا قَالَ لَا قَالَ فَلَا تُشْهِدُنِي إِذَا فَانّي لا أَشْهَدُ عَلَى جَوْرٍ. وفي رواية لا تُشْهِدُنِي عَلَى جَوْرٍ وَفِي روَايَةٍ أَشْهَدْ عَلى هذا غَيْرِي ثُمَّ قَالَ ايَسُرُّكَ أَنْ يَكُونُوا إِلَيْكَ فِي الْبَرِّ سَوَاءٌ قَالَ بلى قال فلا اذا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭৭৩। দু’মান ইবনে বাশীর (রা) থেকে বর্ণিত। তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, আমি আমার এই ছেলেকে আমার একটি গোলাম দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তুমি কি তোমার সব ছেলেকে এর মত করে গোলাম দিয়েছ? তিনি বললেন, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: গোলামটি ফেরত নাও। অন্য বর্ণনায় আছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তুমি কি সব ছেলেকে এভাবে দিয়েছ? তিনি বললেন, না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহকে ভয় কর এবং সন্তানদের মধ্যে ইনসাফ কর। নু’মান (রা) বললেন, আমার পিতা বাড়িতে ফিরে এসে উপহারটি ফেরত নিলেন। অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে বাশীর। সে ছাড়া তোমার কি আরো সন্তান আছে? তিনি বললেন, হাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তাদের প্রত্যেককেই কি এভাবে উপহার দিয়েছ? তিনি বললেন, না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তাহলে আমাকে সাক্ষী করো না। অপর বর্ণনায় আছে, আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে এর সাক্ষী রাখ। তারপর তিনি বলেন: তুমি কি চাও যে, তোমার সব সন্তান তোমার সাথে সদাচরণ করুক। তিনি বললেন, হাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তাহলে এরূপ করো না।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১০০ – নারীদের শোক পালন

স্বামী ব্যতীত অন্য কারো মৃত্যুতে নারীদের তিন দিনের অতিরিক্ত শোক পালন করা হারাম। শুধুমাত্র স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রী চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।

١٧٧٤ – عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ قَالَتْ دَخَلْتُ عَلَى أَمْ حَبِيبَةً زَوْجِ النَّبِيِّ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ تُوفَّى أَبُوهَا أَبُو سُفْيَانَ ابْنُ حَرْبٍ فَدَعَتْ بِطِيبٍ فِيهِ صفرة خلوقٍ أَوْ غَيْرِهِ فَدَعَنَتْ مِنْهُ جَارِيَةٌ ثُمَّ مَسَّتْ يُعَارِضَيْهَا ثُمَّ قَالَتْ وَاللهِ مَا لِي بِالطَّيِّبِ مِنْ حَاجَةٍ غَيْرَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ لا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ تُحِدُ على ميت فوق ثلاث ليال إلا على زوج أربعة أَشْهُرٍ وَعَشْرًا قَالَتْ زَيْنَبُ ثُمَّ دَخَلْتُ عَلَى زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ حِينَ تُوقِى أَخُوهَا فَدَعَتْ بِطِيبٍ فَمَسَّتْ مِنْهُ ثُمَّ قالت أما واللهِ مَالِي بِالطَّيبُ مِنْ حَاجَةٍ غَيْرَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ تُحِدُ علَى مَيْت فَوقَ ثَلاث إلا على زوج أربعة أشهرٍ وَعَشْرًا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭৭৪। যায়নাব বিনতে আবু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মে হাবীবা (রা)-র পিতা আবু সুফিয়ান ইবনে হারব (রা)-র মৃত্যুর পর আমি তার কাছে গেলাম। তিনি হলুদ রং বা অন্য কোন রঙের সুগন্ধি আনতে বললেন এবং তা থেকে এক বাঁদী সুগন্ধি মাখলো। অতঃপর তিনি তা নিজের গালে লাগালেন, তারপর বললেন, আল্লাহর শপথ। আমার সুগন্ধির কোন প্রয়োজন ছিল না। তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ যে নারী আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে কোন মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক শোক প্রকাশ করা জায়েয নয়। শুধুমাত্র স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করতে হবে। যায়নাব বলেন, এরপর আমি যায়নাব বিনতে জাহাশ (রা)-র ভাই ইনতিকাল করলে তার কাছে গেলাম। তিনিও সুগন্ধি চেয়ে নিয়ে তা মাখলেন, তারপর বললেন, আল্লাহর শপথ। কোন খোশবুর প্রয়োজন ছিল না। তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি। যে নারী আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা জায়েয নয়। শুধু স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রী চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১০১ – শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পণ্যদ্রব্য বিক্রয় না করে

শহরে বসবাসকারী ব্যক্তি (দালাল বসিয়ে) যেন গ্রাম্য ব্যক্তির পণ্যদ্রব্য বিক্রয় না করে। বাজারে আগত পণ্যবাহীদের সাথে মাঝপথে গিয়ে মিলিত হবে না। তেমনিভাবে একজনের বলা মূল্যের উপর দিয়ে যেন অন্যজন মূল্য না বলে। অনুমতি ছাড়া একজনের বিবাহের প্রস্তাবের উপর অন্যজন যেন প্রস্তাব না পাঠায়। এসব কাজ হারাম।

١٧٧٥ – عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يبيع حاضر لِبَادِ وَإِنْ كَانَ أَخَاهُ لِأَبِيهِ وَأُمِّهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭৭৫। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শহরের লোককে গ্রাম্য লোকের কোন জিনিস বিক্রয় করে দিতে নিষেধ করেছেন, এমনকি সে যদি তার সহোদর ভাই হয় তবুও না।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٧٧٦ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَتَتَّقُوا السَّلعَ حَتَّى يُهْبَطَ بِهَا إِلَى الْأَسْوَاقِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭৭৬। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সম্মুখে অগ্রসর হয়ে (বাজারে পৌছার আগেই) ব্যবসায়ী কাফিলার কাছ থেকে মালপত্র কিনে নিও না (পণ্যসামগ্রী বাজারে পৌঁছতে দাও)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۷۷۷ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَتَلَقُوا الرُّكْبَانَ وَلَا يَبِعْ حَاضِرٌ لِبَادٍ فَقَالَ لَهُ طَاؤُوسٌ مَا قَوْلُهُ لَا يبع حاضر لِبَادٍ قَالَ لَا يَكُونُ لَهُ سَمْسَارًا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭৭৭। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা সামনে অগ্রসর হয়ে ব্যবসায়ী কাফিলার কাছ থেকে পণ্যসামগ্রী খরিদ করবে না। কোন শহরবাসী কোন গ্রামবাসীর পণ্য বিক্রয় করে দেবে না। তাউস (র) ইবনুল আব্বাস (রা)-কে জিজ্ঞেস করলেন, কোন শহরবাসী কোন গ্রামবাসীর পণ্যসামগ্রী বিক্রয় করে দেবে না- এ কথার অর্থ কি? তিনি বললেন, (এর অর্থ) দালাল সেজে গ্রামবাসীকে ঠকাবে না।

۱۷۷۸ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُبِيعَ حَاضِرٌ لِبَادٍ وَلَا تَنَاجَسُوا وَلا يَبِيعُ الرَّجُلُ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ وَلَا يَخْطُبُ على خطبة أخيه ولا تَسْأَلُ الْمَرْأَةُ طَلَاقَ أُخْتِهَا لِتَكْفَأُ مَا فِي أَنَائِهَا وفي رواية قَالَ نَهَى رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ التَّلْقِي وَأَنْ يُبْتَاعَ الْمُهَاجِرُ لِلْأَعْرَابِي وَأَنْ تَشْتَرِطَ الْمَرْأَةُ طَلَاقَ أُخْتِهَا وَأَنْ يُسْتَامَ الرَّجُلُ عَلَى سَوْمٍ أخيه ونهى عن النجش والتَّصْرِية – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭৭৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শহরের অধিবাসীকে গ্রাম্য লোকের পক্ষে তার পণ্যদ্রব্য বিক্রয় করতে, ক্রেতাকে ধোঁকা দেয়ার জন্য জিনিসের দাম বৃদ্ধি করে বলতে, একজনের বলা মূল্যর উপর মূল্য বলতে, একজনের বিবাহের প্রস্তাবের উপর অন্যজনকে প্রস্তাব দিতে এবং কোন নারীর অংশ ভোগ করার জন্য স্বামীর কাছে তার মুসলিম বোনের তালাকের প্রার্থী হতে নিষেধ করেছেন। অন্য বর্ণনায় আছে: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মুখে অগ্রসর হয়ে ব্যবসায়ী কাফিলার সাথে মিলিত হতে, স্থানীয় ব্যক্তিকে গ্রাম থেকে আগত ক্রেতার জন্য কিছু ক্রয় করতে, কোন নারীকে তার অন্য মুসলিম বোনকে তালাক দেয়ার শর্ত লাগাতে এবং ক্রয়ের ইচ্ছা ব্যতীত কোন জিনিসের দর করে মূল্য বাড়াতে বা দালালী করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরো নিষেধ করেছেন, মূল্য বৃদ্ধি করে বলে ক্রেতাকে ধোঁকা দিতে এবং পশুর বাঁটে দুধ আটকে রেখে ক্রেতাকে প্রতারিত করতে।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۷۷۹ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لا يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ وَلَا يَخْطُبُ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ إِلَّا أَنْ يَأْذَنَ لَهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَهَذا لفظ مُسلم.

১৭৭৯। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের একে অপরের ক্রয়ের উপর যেন ক্রয় না করে এবং অনুমতি ছাড়া একজনের বিবাহের প্রস্তাবের উপর অন্যজন যেন প্রস্তাব না দেয়। [টিকা: ১. গ্রামাঞ্চল থেকে লোকেরা যখন তাদের উৎপন্ন ফসলাদি নিয়ে শহরের বাজারে বিক্রয় করতে আসে, তখন দালাল ও ফড়িয়ারা বাজারের বাইরে গিয়ে তাদের আসার পথে বসে। গ্রাম্য লোকদের সরলতার সুযোগে তারা বাজার মূল্য অপেক্ষা কম মূল্যে পণ্যদ্রব্য ক্রয় করে। তারা ঐসব দ্রব্য শহরে এনে বেশী মূল্যে বিক্রয় করে। আবার গ্রাম্য লোকেরা যখন শহরের লোকদের কাছ থেকে কোন দ্রব্য ক্রয় করে তখন নানাভাবে তাদের নিকট থেকে বেশী মূল্য আদায় করা হয়। গ্রামের সহজ-সরল লোকেরা এভাবে উভয় দিক থেকে প্রতারিত হয়। এজন্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাজারের বাইরে গিয়ে ক্রয় করা এবং ব্যবসায়ে মধ্যস্বত্বভোগী দালালদের সমালোচনা বলেছেন।]

ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসের মূল পাঠ ইমাম মুসলিমের।

۱۷۸۰ – وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُؤْمِنُ أَخُو الْمُؤْمِنِ فَلا يَحِلُّ لِمُؤْمِنِ أَنْ يُبْتَاعَ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ وَلَا يَخْطَبَ عَلَى خِطْبَة أَخِيهِ حَتَّى يَدْرَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৭৮০। উকবা ইবনে আমের (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এক মুমিন অপর মুমিনের ভাই। তাই কোন মুমিনের জন্য তার অপর কোন মুমিন ভাইয়ের ক্রয়ের উপর ক্রয় করা হালাল নয় এবং পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত অপর ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব দেবে না।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১০২ – শরী’আত সম্মত কারণ ছাড়া সম্পদ নষ্ট করা নিষেধ

۱۷۸۱ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ تَعَالَى يَرْضَى لَكُم ثلاثا وَيَكْرَهُ لَكُمْ ثَلَاثًا فَيَرْضَى لَكُمْ أَنْ تَعْبُدُوهُ ولا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَأَنْ تَعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرِّقُوا وَيَكْرَهُ لَكُمْ قيلَ وَقَالَ وكثرة السؤال وَأَضَاعَةَ الْمَالِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَتَقَدَّمَ شَرْحُهُ.

১৭৮১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্য তিনটি জিনিস পছন্দ করেন এবং তিনটি জিনিস অপছন্দ করেন। তিনি যে তিনটি জিনিস তোমাদের জন্য পছন্দ করেন তা হলোঃ তোমরা তাঁর ইবাদাত করবে, তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবে না এবং সবাই মিলে আল্লাহর রজ্জু (দীন ইসলাম) আঁকড়ে ধরবে, বিচ্ছিন্ন হবে না। তিনি তোমাদের জন্য যে তিনটি জিনিস অপছন্দ করেছেন: সমালোচনা অথবা শুনা কথায় কান দেয়া, অধিক প্রশ্ন বা যাচনা করা এবং ধন-সম্পদ নষ্ট করা।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের ব্যাখ্যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

۱۷۸۲ – وَعَنْ وَرَادٍ كَاتِبِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ أَمْلَى عَلَى الْمُغِيرَةُ فِي كتاب إلى مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ في دبر كل صلاة مكتوبة لا اله الا الله وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ اللَّهُمْ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ ولا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُ. وَكَتَبَ إِلَيْهِ أَنَّهُ كَانَ يَنْهَى عَنْ قِبْلَ وَقَالَ وَإِضَاعَةِ المال وكثرة السؤالِ وَكَانَ يَنْهَى عَنْ عُقُوقِ الْأُمَّهَاتِ وَوَادِ الْبَنَاتِ وَمَنْعُ وَهَاتِ 4 متفق عَلَيْهِ وَسَبَقَ شَرحُه.

১৭৮২। ওয়াররাদ (মুগীরার সেক্রেটারী) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুগীরা ইবনে শোবা (রা) আমাকে দিয়ে মু’আবিয়া (রা)-র নামে একটি চিঠি লিখালেন, তার মধ্যে ছিল: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরয নামাযের পর বলতেন: “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। সব কর্তৃত্ব তাঁরই হাতে। সব প্রশংসা তাঁর জন্য, তিনি প্রতিটি বিষয়ে ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি কিছু দিতে চাইলে কেউ তা প্রতিরোধ করতে পারে না এবং তুমি না দিতে চাইলে কেউ তা দিতে পারে না। কোন মর্যাদাবানের মর্যাদা তোমার কাছে কোন উপকারে আসে না”। তিনি তাকে চিঠিতে আরো লিখলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনর্থক ও উদ্দেশ্যহীন কথাবার্তা বলতে, সম্পদ নষ্ট করতে এবং অধিক সওয়াল করতে নিষেধ করেছেন। তিনি মায়েদের কষ্ট দিতে, কন্যা সন্তানদের জীবন্ত কবর দিতে এবং যুগ্মের মাধ্যমে কোন কিছু অর্জন করতেও নিষেধ করেছেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১০৩ – অস্ত্র দ্বারা ইশারা করা নিষেধ

জেনে বুঝেই হোক বা ঠাট্টাচ্ছলেই হোক কোন মুসলিমের প্রতি তরবারি বা অস্ত্র দ্বারা ইশারা করা নিষেধ। অনুরূপভাবে কারো হাতে উন্মুক্ত তরবারি তুলে দেয়াও নিষেধ।

۱۷۸۳ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قالَ لا يُشر أحدكم إلى أخيه بالسلاح فَإِنَّهُ لا يَدْرِي لَعَلَّ الشَّيْطَانَ يَنْزِعُ فِي يَدِهِفيقع في حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ قَالَ قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَشَارَ إلى أخيه بِحَدِيدَةٍ فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَلْعَنُهُ حَتَّى يتْرُعَ وَإِنْ كَانَ أَخَاهُ لِأَبِيهِ وَأُمِّهِ

১৭৮৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন নিজের মুসলিম ভাইয়ের প্রতি হাতিয়ার দ্বারা ইশারা না করে। কেননা বলা যায় না, শয়তান তাকেই হাতিয়ার বের করার কারণ বানাতে পারে এবং (এভাবে মানুষ মারার কারণে) সে জাহান্নামের গর্তে পতিত হবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছেঃ আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যদি কেউ তার মুসলিম ভাইয়ের দিকে কোন ধারাল অস্ত্র দ্বারা ইংগিত করে তবে সে যতক্ষণ পর্যন্ত তা ফেলে না দেয়, ততক্ষণ ফেরেশতারা তাকে অভিশাপ দিতে থাকে, এমনকি সে তার সহোদর ভাই হলেও।

١٧٨٤ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أن يتعاطى السَّيْفُ مَسْلُولاً – رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৭৮৪। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কারো হাতে) উলঙ্গ তরবারি বের করে দিতে নিষেধ করেছেন।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।

অনুচ্ছেদ: ১০৪ – কোন ওযর ছাড়া আযানের পর ফরয নামায না পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়া মাকরূহ

۱١٧٨٥ – وَعَنْ أَبِي الشَّعْشَاءِ قَالَ كُنَّا قُعُودًا مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي الْمَسْجِدِ فَاذْنَ الْمُؤَذِّنُ فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الْمَسْجِدِ يَمْشِي فَاتَّبَعَهُ أَبُو هُرَيْرَةً بَصَرَهُ حتَّى خَرَجَ مِنَ الْمَسْجِدِ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَمَّا هُذَا فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ

১৭৮৫। আবুশ শা’সা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবু হুরাইরা (রা)-র সাথে মসজিদে বসা ছিলাম। ইতিমধ্যে মুয়াযযিন আযান দিলে পর এক ব্যক্তি মসজিদ থেকে চলে যেতে লাগল। আবু হুরাইরা (রা) তার প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধ রেখেছিলেন। অবশেষে লোকটি মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলে আবু হুরাইরা (রা) বলেন, এই ব্যক্তি আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাফরমানী (অবাধ্যতা) করল।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১০৫ – বিনা কারণে সুগন্ধি দ্রব্য ফিরিয়ে দেয়া মাকরূহ

١٧٨٦ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ عُرِضَ عَلَيْهِ رَبِّحَانَ فَلَا يَرُدُّهُ فَإِنَّهُ خَفِيفَ الْمَحْمِلِ طَيِّبُ الرِّيحرواه مسلم

১৭৮৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কারো সামনে সুগন্ধি পেশ করা হলে সে যেন তা ফিরিয়ে না দেয়। কেননা তা সহজে বহনযোগ্য এবং সুগন্ধিতে সুরভিত।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۷۸۷ – وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يَرُدُّ الطَّيِّبَ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৭৮৭। আনাস ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুগন্ধি ফিরিয়ে দিতেন না।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১০৬ – কোন ব্যক্তির সামনে তার প্রশংসা করা মাকরূহ

কোন লোকের সামনে তার প্রশংসা করা হলে যদি ঐ ব্যক্তির দ্বারা অনর্থ সৃষ্টি হওয়ার বা তার মধ্যে অহংবোধ জাগার আশংকা থাকে তবে তার সামনে প্রশংসা করা খারাপ। তবে এ জাতীয় কিছু ঘটার আশংকা না থাকলে সামনা-সামনি প্রশংসায় কোন দোষ নেই।

۱۷۸۸ – عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلاً يُثنى عَلَى رَجُلٍ وَيُطريه في المِدْحَةِ فَقَالَ أَهْلَكْتُمْ أَوْ قَطَعْتُمْ ظهر الرجل – متفق عليْهِ – وَالْأَطْرَاءُ الْمُبَالَغَةُ فِي الْمَدْحِ.

১৭৮৮। আবু মুসা আল আশ’আরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে অপর ব্যক্তির প্রশংসা করতে শুনলেন। সে তার প্রশংসায় অতিশয়োক্তি করছিল। তিনি বলেন: তোমরা লোকটিকে ধ্বংস করলে অথবা তার মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিলে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ‘আল-ইতরা’ অর্থ: প্রশংসার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত করা।

۱۷۸۹ – وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلًا ذُكِرَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاثْنَى عَلَيْهِ رَجُلٌ خَيْرًا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيْحَكَ قطعت عنق صاحبكَ يَقُولُهُ مِرارًا إِنْ كَانَ أَحَدُكُمْ مَادِحًا لَا مَحَالَهُ فَلْيَقُلْ احْسَبُ كَذَا وَكَذَا إِن كَانَ يَرَى أَنَّهُ كَذَلِكَ وَحَسِيَّبُهُ اللَّهُ وَلَا يُزَكِّي عَلَى اللَّهِ أَحَدٌ متفق عليه.

১৭৮৯। আবু বাক্কা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে এক ব্যক্তির কথা উঠলে অন্য এক ব্যক্তি তার প্রশংসা করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার জন্য দুঃখ হয়। চুপ থাক। তুমি তোমার বন্ধুর ঘাড় কর্তন করলে। কথাটা তিনি কয়েকবার বললেন। যদি তোমাদের কেউ কারো প্রশংসা করতেই চায় তাহলে বলবে, আমি অমুক লোককে এইরূপ মনে করি যদি সে তার ধারণায় ঐরূপই হয়। তবে আল্লাহই তার প্রকৃত হিসাব গ্রহণকারী। আল্লাহ ছাড়া কেউ কারো ভালো হওয়া সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারে না।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۷۹۰ – وَعَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ عَنِ الْمِقْدَادِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلًا جَعَلَ يَمْدَحُ عُثْمَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فَعَمِدَ الْمِقدادُ فَجَنَا عَلَى رُكْبَتَيْهِ فَجَعَلَ يَحْشُرُ فِي وجهه الْحَصْبَا، فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ مَا شَأْنُكَ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا رَأَيْتُمُ الْمَدَا حِينَ فَاحْتُوا فِي وُجُوهِهِمُ التَّرَابَ رَوَاهُ مُسْلِمفهذه الأحاديث في النهي. وجاء في الاباحة أحاديث كَثِيرَةٌ صَحِيحَةٌ. قَالَ الْعَلَمَاءُ وَطَرِيقُ الْجَمْعِ بَيْنَ الْأَحَادِيثِ أَنْ يُقَالَ إِنْ كَانَ الْمَمْدُوحُ عِنْدَهُ كَمَالُ ايمان وبقينِ وَرِيَاضَةٌ نَفْسٍ وَمَعْرِفَةٌ تَامَّةٌ بِحَيْثُ لَا يَفْتَتِنُ وَلَا يَغْتَرُّ بِذلِكَ وَلَا تَلْعَبُ بِهِ نَفْسُهُ فليس بحرام ولا مَكْرُوهُ وَإِن خَيْفَ عَلَيْهِ شَيْءٌ مِنْ هَذِهِ الْأَمُورِ كُرِهَ مدحه في وجهه كراهة شديدة. وعلى هذا التفضيل تُنَزِّلُ الْأَحَادِيث الْمُخْتَلِفَةُ فِي ذَلِكَ وَمِمَّا جَاءَ فِي الْإِبَاحَةِ قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ أَى مِنَ الَّذِينَ يُدْعَونَ مِنْ جَمِيعِ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ لِدُخُولِهَا، وَفِي الْحَدِيثِ الْآخَرِ لَسْتَ مِنْهُمْ أَي لَسْتَ مِنَ الَّذِينَ يُسْبِلُونَ أَزْرَهُمْ خُيَلاهُ. وَقَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مَا رَأَكَ الشيطان سَالِكًا فَجَا إِلا سَلَكَ فَجَا غَيْرَ فَجَكَ وَالْأَحَادِيثُ فِي الْإِبَاحَةِ كَثِيرَةٌ وقد ذكرت جُمْلَةً مِنْ أَطْرَافِهَا فِي كِتَابِ الْأَذْكَارِ .

১৭৯০। হাম্মাম ইবনুল হারিস (র) থেকে মিকদাদ (রা)-র সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি উসমান (রা)-র প্রশংসা করছিল। তখন মিকদাদ (রা) হাঁটু গেড়ে বসে গেলেন এবং তার মুখমণ্ডলে কংকর নিক্ষেপ করতে শুরু করলেন। উসমান (রা) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন তোমরা কাউকে মুখের উপর প্রশংসা করতে দেখ, তখন তাদের মুখমণ্ডলে মাটি নিক্ষেপ কর।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী (র) বলেন, উল্লেখিত হাদীসসমূহে সামনা-সামনি কারো প্রশংসা করতে নিষেধ করা হয়েছে। অবশ্য সামনা সামনি প্রশংসা করা জায়েয সম্বন্ধেও প্রচুর হাদীস রয়েছে। মনীষীগণ এই উভয় প্রকার হাদীসের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করেছেন। তারা বলেছেন, প্রশংসিত ব্যক্তি যদি পরিপূর্ণ ঈমান ও প্রত্যয়ের অধিকারী হয়ে থাকে, পরিশুদ্ধ মন ও জ্ঞানের অধিকারী হয়ে থাকে, সামনা-সামনি প্রশংসা করার কারণে যদি ক্ষতির মধ্যে পড়ার এবং গর্বিত হওয়ার এবং প্রশংসা কুড়িয়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করার মানসিকতা সম্পন্ন না হয়, তবে এসব ক্ষেত্রে প্রশংসা করা হারাম বা মাকরূহ নয়। কিন্তু যদি উল্লেখিত দোষগুলোর কোন একটি বা একাধিক দোষ প্রকাশ পাওয়ার আশংকা থাকে তবে সামনা-সামনি প্রশংসা করা খুবই খারাপ কাজ। এ ব্যাপারে বহু হাদীস থেকে প্রমাণ পেশ করা যায়।

প্রশংসা জায়েয হওয়ার পক্ষে যেসব হাদীস রয়েছে, তার মধ্যে আবু বাকর (রা)-র প্রশংসায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসঃ “আমি আশা করি তুমি তাদের একজন হবে যাদেরকে জান্নাতের প্রতিটি দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে আমন্ত্রণ জানানো হবে”। অন্য এক হাদীসে তিনি বলেছেন: “তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে না”। অর্থাৎ যারা অহংকার প্রদর্শনের জন্য নিজেদের কাপড় পায়ের গোছার নীচে পরিধান করে তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও। উমার (রা) সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীঃ “যখনই শয়তান তোমাকে কোন রাস্তা দিয়ে যেতে দেখে, তখনই সে তোমার রাস্তা ত্যাগ করে অন্য রাস্তা ধরে”। উপস্থিতমতে প্রশংসা করা জায়েয সম্পর্কিত হাদীসের সংখ্যা পর্যাপ্ত। এ সম্পর্কে আমি “কিতাবুল আযকার” গ্রন্থে আলোচনা করেছি।

অনুচ্ছেদ: ১০৭ – মহামারী আক্রান্ত জনপদ থেকে ভয়ে পালানো কিংবা বাইরে থেকে সেখানে যাওয়া মাকরূহ

قَالَ تَعَالَى : أَيْنَ مَا تَكُونُوا يُدْرِكُكُمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنتُمْ فِي بُرُوج مُشَيَّدَةٍ ، وَإِنْ تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ يَقُولُوا هَذِهِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَقُولُوا هَذِهِ مِنْ عندك ، قُلْ كُلٌّ مِّنْ عِنْدِ اللهِ ، فَمَالِ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا .

মহান আল্লাহ বলেন:

“তোমরা যেখানেই থাক মৃত্যু তোমাদেরকে গ্রাস করবেই, তোমরা যত মজবুত প্রাসাদের মধ্যেই থাক না কেন (সেখানেও মৃত্যু তোমাদের অনুসরণ করবে)। তারা যদি কোন কল্যাণ লাভ করে তবে বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে, আর যদি কোন ক্ষতি সাধিত হয় তবে বলে, এটা তোমার কারণেই হয়েছে। বল, সব কিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। এদের কী হলো যে, এরা কোন কথাই বুঝতে সক্ষম হয় না।” (সূরা আন নিসাঃ ৭৮)

وقال تعالى : وَلا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُم إلى التَّهْلُكَةِ وَاحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يحب المحسنين.

“আল্লাহর পথে ধন-সম্পদ ব্যয় কর। নিজেদের হাতেই নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করো না। ইহসান ও দয়া-অনুগ্রহের পন্থা অবলম্বন করো। কেননা আল্লাহ ইহসানকারীদের পছন্দ করেন।” (সূরা আল বাকারা: ১৯৫)

۱۷۹۱وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَابِ رَضِيَ اللَّهُعَنْهُ خَرَجَ إِلَى الشَّامِ حَتَّى إِذَا كَانَ بِسُرْعَ لَقِيَهُ أَمَرَاءُ الْأَجْنَادِ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الجراح وأَصْحَابُهُ فَأَخْبَرُوهُ أَنَّ الوَبَاءَ قَدْ وَقَعَ بِالشَّامِ. قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقَالَ لِي عُمَرُ أَدْعُ لِي الْمُهَاجِرِينَ الْأُولِينَ فَدَعَوْتُهُمْ فَاسْتَشَارَهُمْ وَأَخْبَرَهُمْ أَنَّ الْوَبَاءَ قَدْ وقع بالشام. فَاخْتَلَفُوا فَقَالَ بَعْضُهُمْ خَرَجْتَ لِأَمْرُ وَلَا نَرَى أَنْ تَرْجِعَ عَنْهُ وَقَالَ بَعْضُهُمْ مَعَكَ بَقِيَّةُ النَّاسِ وَأَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا نَرَى أن تُقْدِمَهُمْ عَلَى هَذَا الْوَبَاءِ. فَقَالَ ارْتَفِعُوا عَنِّى ثُمَّ قَالَ أَدْعُ لِي الْأَنْصَارَ فَدَعَوْتُهُمْ فَاسْتَشَارَهُمْ فَسَلَكُوا سَبِيلَ الْمُهَاجِرِينَ وَاخْتَلَفُوا كَاخْتِلافِهِمْ. فَقَالَ ارْتَفِعُوا عَلَى ثُمَّ قَالَ أَدْعُ لِى مَنْ كَانَ هَاهُنَا مِنْ مَشْيَخة قريش من مهاجرة الْفَتْحِ فَدَعَوْتُهُمْ فَلَمْ يَخْتَلِف عَلَيْهِ مِنْهُمْ رَجُلانِ، فَقَالُوا نَرَى أَنْ تَرْجِعَ بِالنَّاسِ ولا تُقْدِمَهُمْ عَلَى هذا الوَبَاءِ فَنَادَى عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي النَّاسِ إِنِّي مُصْبِحٌ على ظهر فَاصْبِحُوا عَلَيْهِ، فَقَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَاحِ أَفرَارًا مِنْ قَدَرِ الله. فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ لَوْ غَيْرُكَ قَالَهَا يَا أَبَا عُبَيْدَةَ، وَكَانَ عُمَرُ يَكْرَهُ خَلاقَهُ نعم نفر من قدر الله إلى قدر الله أرَأَيْتَ لَوْ كَانَ لَكَ ايلٌ فَهَبَطَتْ وَادِيًا لَهُ عدُوتَانِ احْدَاهُمَا خَصْبَةٌ وَالْأُخْرَى جَدْبَةٌ اليسَ إِنْ رَعَيْتَ الْخَصْبَةَ رَعَيْتَهَا بِقَدَرٍ اللهِ وَإِنْ رَعَيْتَ الْجَدْبَةَ رَعَيْتَهَا بِقَدْرِ اللَّهِ، قَالَ فَجَاءَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفِ وكَانَ مُتَغَيِّبًا فِي بَعض حَاجَتِهِ فَقَالَ إِن عندى مِنْ هَذَا عِلْمًا سَمِعْتُ رَسُولَ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا سَمِعْتُمْ بِهِ بِأَرْضِ فَلَا تَقْدَمُوا عَلَيْهِ وَإِذَا وَقَعَ بأرض وانتُم بِهَا فَلا تَخْرُجُوا فِرَاراً مِنْهُ فَحَمِدَ اللَّهَ تَعَالَى عُمَرُ وَانْصَرَفَ متفق عليه وَالْعُدْوَةُ جَانب الوادي.

১৭৯১। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) সিরিয়া রওয়ানা হলেন। তিনি যখন ‘সারণ’ নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন সেনাবাহিনীর অধিনায়কগণ অর্থাৎ আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রা) ও তাঁর সাথীরা এসে উমার (রা)-র সাথে মিলিত হলেন। তাঁরা তাঁকে জানালেন, সিরিয়ায় মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) বলেন, তখন উমার আমাকে বললেন, সর্বপ্রথম হিজরাতকারী মুহাজিরদেরকে আমার কাছে ডেকে আন। অতএব আমি তাদেরকে ডেনে আনলাম। তিনি তাদের সাথে পরামর্শ করলেন এবং বললেন, সিরিয়ায় মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল। একদল বললেন, আপনি একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজে বের হয়েছেন, ফিরে যাওয়া ঠিক হবে না। অন্যরা বললেন, আপনার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ এবং আরো অনেকে রয়েছেন। তাদেরকে নিয়ে মহামারীগ্রস্ত এলাকায় যাওয়া ঠিক হবে না। উমার (রা) বললেন, তোমরা উঠে যাও।

অতঃপর তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাসকে বললেন, আনসারদেরকে ডাক। অতএব আমি তাদেরকে ডেকে আনলাম। তিনি তাদের সাথে পরামর্শ করলেন, তারাও মুহাজিরদের পথ অনুসরণ করলেন। তাদের মতই আনসারগণও সিদ্ধান্ত নিতে মতভেদ করলেন। উমার (রা) বললেন, তোমরা আমার কাছ থেকে চলে যাও।

অতঃপর তিনি বললেন, কুরাইশ মুহাজিরদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ে শরীক হয়েছিল তাদেরকে ডাক। অতএব আমি তাদেরকে ডেকে আনলাম। তাদের মধ্যে দুইজন লোকও মতভেদ করেননি। সবাই একবাক্যে বললেন, লোকদের নিয়ে মহামারী আক্রান্ত এলাকায় না গিয়ে বরং ফিরে যাওয়াকেই আমরা সমীচীন মনে করি। উমার (রা) ঘোষণা করলেন, আমি সকালবেলা রওয়ানা হবো। লোকেরা যখন সকাল বেলা রওয়ানা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রা) বললেন, আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীর থেকে আপনি পলায়ন করছেন। উমার (রা) বললেন, হে আবু উবাইদা! তুমি ছাড়া অন্য কেউ যদি এরূপ কথা বলত তবে উপযুক্ত মনে করতাম। কিন্তু উমার (রা) আবু উবাইদা (রা)-র এই ভিন্ন মত ভালো মনে করলেন না। যাই হোক, তিনি বললেন, হাঁ, আমরা আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীর থেকে আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীরের দিকে পলায়ন করছি। দেখ। তোমার কাছে যদি উট থাকে, তা নিয়ে কোন মাঠ বা উপত্যকায় তুমি চরাতে যাও, আর সেই উপত্যকায় যদি দুটো অংশ থাকে একটি সবুজ-শ্যামল এবং অপরটি মরুময় ও ঘাস-পাতাহীন। এখন বলো দেখি। যদি তুমি সবুজ-শ্যামল অংশে উট চরাও তবে কি তা আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীর হবে না? অথবা ঘাস-পাতাহীন অংশে যদি তোমার উট চরাও তাও কি আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীর নয়? আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) বলেন, ইতিমধ্যে আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা) এসে হাজির হলেন। কোন প্রয়োজনে তিনি এতক্ষণ অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা আছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ “যখন তোমরা কোন এলাকায় মহামারী ছড়িয়ে পড়ার খবর পাবে তখন সে এলাকার দিকে পা বাড়াবে না। অপরদিকে কোন এলাকায় মহামারীর প্রাদুর্ভাব হলে এবং তোমরা সেখানেই থাকলে এই

অবস্থায় তোমরা সেখান থেকে পলায়ন করবে না”। এই হাদীস শুনে উমার (রা) আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা করলেন এবং সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۷۹۲ – وَعَنْ أَسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إذا سَمِعْتُمُ الطَّاعُونَ بِأَرْضِ فَلا تَدْخُلُوهَا وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضِ وَأَنْتُمْ فِيهَا فَلَا تَخْرُجُوا مِنْهَا مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭৯২। উসামা ইবনে যায়িদ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা কোন এলাকায় মহামারীর কথা শুনলে সেখানে যেও না। আর কোন এলাকায় মহামারীর প্রাদুর্ভাব হয়েছে এবং তোমরা সেখানে আছ, এমতাবস্থায় তোমরা সে এলাকা ত্যাগ করো না।

ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১০৮ – যাদুবিদ্যা শেখা ও প্রয়োগ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ

قَالَ اللهُ تعالى : واتَّبعوا ما تتلوا الشيطينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَنَ ، وَمَا كَفَرُ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ ، وَمَا أُنْزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ يبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ ، وَمَا يُعَلِّمَن مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجَهُ ، وَمَا هُمْ بِضَارِّينَ به منْ أَحَدٍ إِلا بِإِذْنِ اللهِ ، وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ ، وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَهُ مَالَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ، وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ ، لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“শয়তান সুলাইমানের রাজত্বের নাম করে যা পেশ করেছিল তারা সে সব জিনিসের অনুসরণ করতে শুরু করল। অথচ সুলাইমান কখনও কুফরের পথ অবলম্বন করেননি, বরং শয়তানরাই কুফর করেছে। তারা লোকদেরকে যাদু শিক্ষা দিত। বাবেল শহরে হাজত ও মারূত নামক দুই ফেরেশতার উপর যা নাযিল করা হয়েছিল তারা এর প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিল। ফেরেশতাদ্বয় যখনই কাউকে তা শিক্ষা দিত, তখন প্রথমেই তাদেরকে এই বলে সতর্ক করে দিত যে, “দেখ, আমরা নিছক একটি পরীক্ষা মাত্র, তোমরা কুফরের পথ অবলম্বন করো না।” এ সত্ত্বেও তারা ফেরেশতাদ্বয়ের নিকট থেকে এমন জিনিস শিখছিল, যা দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করা যেত। অথচ একথা সুস্পষ্ট যে, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া এই উপায়ে তারা কারো কোন ক্ষতি করতে সমর্থ ছিল না। কিন্তু এতদসত্ত্বেও তারা এমন জিনিস শিখতো যা তাদের কল্যাণে আসত না, বরং ক্ষতি করত। তারা ভালোভাবেই জানত, যারা এ জিনিসের ক্রেতা হবে, তাদের জন্য আখিরাতে কোন কল্যাণের অংশ নেই। তারা যে জিনিসের বিনিময়ে নিজেদের জীবন বিক্রয় করেছে তা কতই না নিকৃষ্ট! হায়। একথা যদি তারা অনুধাবন করতে পারত।”
(সূরা আল বাকারা: ১০২)

۱۷۹۳ – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اجتنبوا السَّبْعَ الْمُؤْبِقَاتِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا هُنَّ قَالَ الشَّرْكُ بِاللَّهِ وَالسِّحْرُ وقتل النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللهُ إِلا بِالْحَقِّ وَأَكلُ الرِّبَا وَأَكُلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَالتَّولِي يومَ الرِّحْفِ وَقَذَفَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ الْغَافِلات – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭৯৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক জিনিস থেকে দূরে থাক। সাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঐগুলো কী? তিনি বলেন, আল্লাহর সাথে কোন কিছু শরীক করা, যাদু করা, যে জীবনকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, ইয়াতীমের মাল আত্মসাৎ করা, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা এবং পবিত্র চরিত্রের অধিকারী সহজ-সরল মুমিন স্ত্রীলোকদের প্রতি যেনার মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১০৯ – শত্রুদের হস্তগত হওয়ার আশংকা থাকলে কুরআন শরীফ সঙ্গে নিয়ে কাফেরদের এলাকায় সফর করা নিষেধ

١٧٩٤ – عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُسَافَرَ بِالْقُرْآنِ إِلَى أَرْضِ الْعَدُوِّ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৭৯৪। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রুদের (কাফির) দেশে আল কুরআন নিয়ে সফর করতে নিষেধ করেছেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১১০ – পানাহার, পবিত্রতা অর্জন ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্র ব্যবহার করা হারাম

١٧٩٥ – عَنْ أَمْ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الَّذِي يَشْرَبُ في انية الفضة إِنَّمَا يُجَرِّجُرُ في بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رواية المُسْلِمِ إِنَّ الَّذِي يَأْكُلُ أَوْ يَشْرَبُ فِي أَنِيَةِ الْفِضَّةِ وَالذَّهَبِ.

১৭৯৫। উন্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি রূপার পাত্রে পান করে, সে যেন নিজের পেটে জাহান্নামের আগুন ভর্তি করে।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছেঃ যে ব্যক্তি সোনা-রূপার পাত্রে পানাহার করে।

١٧٩٦ – وَعَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ إِنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَانَا عَنِ الْحَرِيرِ والدِّيباج والشرب في أنيةِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَقَالَ هُنَّ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وهي لَكُمْ فِي الآخرة مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ – وفي رواية في الصحيحين عن حديقة سمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا تَلْبَسُوا الْحَرِيرَ وَلَا الدِّيباج وَلَا تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَا تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهَا .

১৭৯৬। হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে রেশমী বস্ত্র পরিধান করতে এবং সোনা-রূপার পাত্রে পান করতে নিষেধ
করেছেন। তিনি বলেছেন: এগুলো দুনিয়াতে কাফিরদের জন্য এবং আখিরাতে তোমাদের জন্য।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছেঃ হুযাইফা (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: রেশমী বস্ত্র পরিধান করো না, সোনা-রূপার পাত্রে পান করো না এবং ঐ ধাতুর তৈরী থালায় আহার করো না।

۱۷۹۷ -فحولهُ عَلَى إِنَاءٍ مِنْ خَلَنْج وَجِيَ بِهِ فَأَكَلَهُ – رَوَاهُ الْبَيْهَقِي بِإِسْنَادِ حَسَن الخليج الجفنة.

১৭৯৭। আনাস ইবনে সীরীন (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক (রা)-র সাথে অগ্নি উপাসকদের একটি দলের নিকট উপস্থিত ছিলাম। রূপার খালায় করে এক প্রকারের হালুয়া আনা হল, কিন্তু তিনি তা খেলেন না। পরিচারককে বলা হলো, এটা পরিবর্তন করে আন। পাত্র পরিবর্তন করে তা আবার পরিবেশন করা হলে তিনি তা আহার করলেন।
ইমাম আল বাইহাকী হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। “” শব্দের অর্থ পাত্র বা পেয়ালা।

অনুচ্ছেদ: ১১১ – জাফরানী রং দ্বারা রঞ্জিত কাপড় পুরুষদের জন্য হারাম

۱۷۹۸ – عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يتَزَعْفَرَ الرَّجُلُ – متفق عليه.

১৭৯৮। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদেরকে জাফরান দ্বারা রং করা পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۷۹۹ – وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ رَأَى النَّبِيُّ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى ثَوْبَيْنِ مُعَصْفَرَيْنِ فَقَالَ أَمُّكَ أَمَرَتْكَ بِهَذَا قُلْتُ اغْسِلُهُمَا قَالَ بَلْ أَحْرِقْهُما – وفي رِوَايَةٍ فَقَالَ إِنَّ هَذَا مِنْ ثِيَابِ الْكُفَّارِ فَلا تَلْبَسُهَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৭৯৯। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পরিধানে হলুদ রং-এর দু’খানা কাপড় দেখে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা কি তোমাকে এগুলো পরতে বলেছে? আমি বললাম, আমি কাপড় দু’খানা ধুয়ে ফেলব? তিনি বললেনঃ বরং জ্বালিয়ে ফেল। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন: এগুলো কাফিরদের পোশাক। সুতরাং এসব পোশাক পরবে না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১১২ – দিনভর অনর্থক চুপ করে থাকা নিষেধ

۱۸۰۰ – عَنْ عَلِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ حَفِظْتُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم لا يتم بَعْدَ احْتِلام ولا صُمَاتَ يَوْمٍ إِلَى اللَّيْلِ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ حسن قَالَ الْخَطَابِي فِي تَفْسِيرِ هُذَا الْحَدِيْثِ كَانَ مِنْ نُسُكِ الْجَاهِلِيَّةِ الصَّمَاتُ فَنُهُوا فِي الْإِسْلامِ عَنْ ذَلِكَ وَأَمِرُوا بِالذِكرِ وَالْحَدِيث بِالْخَيْرِ.

১৮০০। আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে এই কথাগুলো সংরক্ষণ করে রেখেছি। বালেগ হওয়ার পর আর কেউ ইয়াতীম থাকে না এবং দিনভর রাত পর্যন্ত অনর্থক নীরবতা পালন করা যাবে না।

ইমাম আবুদ দাউদ হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী (র) বলেন, আল্লামা খাত্তাবী এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, সারা দিন মানুষের সাথে কথা না বলে চুপচাপ থাকা জাহিলী যুগে একটি ইবাদাত হিসেবে গণ্য হতো। কিন্তু ইসলাম এরূপ করতে নিষেধ করেছে। এর পরিবর্তে আল্লাহকে স্মরণ করার এবং উত্তম কথাবার্তা বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

۱۸۰۱ – وَعَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ قَالَ دَخَلَ أَبُو بَكْرِ الصِّدِّيقُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ على امرأة مِنْ أَحْمَسَ يُقَالُ لَهَا زَيْنَبُ فَرَأَهَا لا تَتَكَلَّمُ فَقَالَ مَا لَهَا لَا تَتَكَلَّمُ فَقَالُوا حَجَّتْ مُصْمِتَةٌ فَقَالَ لَهَا تَكَلَّمِي فَإِنَّ هَذَا لَا يَحِلُّ هُذَا مِنْ عَمَلِ الْجَاهِلِيَّةِ فَتَكَلَّمَتْ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৮০১। কায়েস ইবনে আবু হাযেম (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু বাক্স আস্ সিদ্দীক (রা) আহমাস গোত্রের যায়নাব নাম্নী এক মহিলার কাছে গেলেন। তিনি দেখলেন,
সে কথাবার্তা বলছে না। তাই তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এর কি হয়েছে যে, কথাবার্তা বলছে না? লোকেরা বলল, সে চুপচাপ থাকার সংকল্প করেছে। তিনি মেয়েলোকটিকে বললেন, কথাবার্তা বল। কেননা এভাবে চুপ থাকা জায়েয নয়। এটা কুসংস্কারাচ্ছন্ন জাহিলী যুগের কাজ। অতঃপর সে (নীরবতা ভংগ করে) কথাবার্তা বললো।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১১৩ – প্রকৃত পিতা ছাড়া অন্যের পরিচয় দেয়া এবং ক্রীতদাসের প্রকৃত মনিব ছাড়া অন্যের পরিচয় দেয়া হারাম

۱۸۰۲ – عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنِ ادْعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ غَيْرُ أَبِيْهِ فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ متفق عليه.

১৮০২। সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের বাপ ছাড়া অন্য লোককে নিজের বাপ বলে পরিচয় দেয়, অথচ সে জানে ঐ ব্যক্তি তার বাপ নয়, তার জন্য জান্নাত হারাম।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۰۳ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لا تَرْغَبُوا عَنْ أَبَائِكُمْ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ أَبِيهِ فَهُوَ كُفْرَ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮০৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা নিজেদের পিতার পরিচয়ে পরিচয় দিতে অনীহা বোধ করো না। যে ব্যক্তি নিজের পিতার পরিচয়ে অনীহা বোধ করল সে কুফর করল।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱٨٠٤ – وَعَنْ يَزِيدَ بْنِ شَرِيكِ بْنِ طَارِقٍ قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا عَلَى الْمِنْبَرِ يَخْطُبُ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ لَا وَاللَّهِ مَا عِنْدَنَا مِنْ كِتَابِ تَقْرَؤُهُ إِلَّا كِتَابَ اللَّهِ وَمَا فِي هَذِهِ الصحيفة فنشرها فاذا فيها أسْنَانُ الابل وأشْيَاء مِنَ الْجَرَاحَاتِ. وَفِيهَا قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةُ حَرَمُ مَا بَيْنَ عَيْرِ إِلَى ثَوْرٍ فَمَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا أَوْ أَوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرفًا ولا عدلا ذمة الْمُسْلِمِينَ وَاحِدَةٌ يَسْعَى بِهَا أَدْنَاهُمْ فَمَنْ اخْفَرَ مُسْلِمًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ الله وَالْمَلائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ يَوْمَ القِيامَةِ صَرفا ولا عدلاً. ومن ادعى إلى غير أبيه أو انْتَمَى إِلَى غَيْرِ مَوَالِيهِفَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يَقْبَلُ اللَّهِ مِنْهُ يَوْمَ القيامة صرفا ولا عدلاً. متفق عليه

১৮০৪। ইয়াযীদ ইবনে স্টারীক ইবনে তারিক (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী (রা)-কে মিম্বারে দঁড়িয়ে খুতবা (বক্তৃতা) দিতে দেখেছি। আমি তাকে বলতে শুনেছি, না, আল্লাহর শপথ! আমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব (আল কুরআন) ছাড়া অন্য কোন কিতাব নেই, যা আমরা পাঠ করি, আর এই সহীফার মধ্যে যা আছে। এরপর তিনি ঐ সহীফা খুলে ধরলেন। তার মধ্যে উটের যাকাত সম্পর্কে বর্ণনহ ছিল এবং আহত করার দণ্ড ইত্যাদি সম্পর্কিত হুকুম ছি)। তাতে এ কথাও ছিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু চালাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আইর পর্বত থেকে সারি পর্বত পর্যন্ত মদীনার হারামের সীমানা। সুতরাং যে ব্যক্তি এই সীমার মধ্যে কোন বিদ’আতী কাজের প্রচন্থন করবে অথবা কোন বিদ’আতী ব্যক্তিকে আশ্রয় দেঝেতার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং গোটা মানবজাতির লানত। আল্লাহ কিয়ামাতের দিন তার কোন তাওবা বা ফিদইয়া কবুল করবেন না। সব মুসলিমের চুক্তি বা নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি এক ও অভিন্ন। সুতরাং তাদের একজন সাধারণ ব্যক্তিও নিরাপত্তা দানের প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল ও সকল মানুষের অভিসম্পাত। আল্লাহ কিয়ামাতের দিন তার কোন তাওবা বা ফিদ্‌ইয়া কবুল করবেন না। যে ব্যক্তি অন্য লোককে নিজের বাপ বলে পরিচয় দেয় অথবা যে ক্রীতদাস নিজের মনিবের কাছ থেকে পালিয়ে অন্যের কাছে চলে যায় তার প্রতি আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের অভিসম্পাত। আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার তওবা ও ফিদ্‌ইয়া কবুল করবেন না।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ ١٨٠٥ – وَعَنْ أَبِي دَر رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ ) وَسَلَّمَ يَقُولُ ليس من رجل ادعى لغير أبيه وَهُوَ يَعْلَمُهُ الأَكَفَرَ وَمَنِ ادْعَى مَا ليس له فليس منا وَلْيَتَبَوا مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ وَمَنْ دَعَا رَجُلًا بِالْكُفْرِ أَوْ قَالَ عَدُوٌّ الله وَلَيْسَ كَذَلِكَ الأَحَارَ عَلَيْهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَهَذا لفظ رواية مسلم .

১৮০৫। আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি সজ্ঞানে অন্য লোককে নিজের বাপ বলে পরিচয় দিল সে কুফর অবলম্বন করল। যে ব্যক্তি অন্য লোকের মালিকানাধীন মাল নিজের বলে দাবি করল সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। সে যেন জাহান্নামে তার বাসস্থান নির্ধারণ করলো। যে ব্যক্তি কোন লোককে কাফির অথবা আল্লাহর শত্রু বলে ডাকলো, অথচ সে তা নয়, উক্ত কথা তার ঘাড়েই চাপবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসের মূল পাঠ ইমাম মুসলিমের বর্ণিত।

অনুচ্ছেদ: ১১৪ – মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা) যে কাজ করতে নিষেধ করেছেন সে সম্পর্কে কঠোর সাবধান বাণী

قَالَ اللهُ تَعَالَى : لا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَا ، بَعْضُكُمْ بَعْضًا ، قَدْ يَعْلَمُ اللهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُوْنَ مِنْكُمْ لِوَاذَا ، فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ اليم.

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“তোমরা নিজেদের মাঝে রাসূলকে সম্বোধন তোমাদের নিজেদের পরস্পরকে সম্বোধনের মত মনে করো না। আল্লাহ তাদেরকে ভালোভাবেই জানেন, যারা তোমাদের মধ্য থেকে পরস্পরের আড়াল হয়ে চুপে চুপে সরে পড়ে। রাসূলের হুকুম অমান্যকারীদের ভয় থাকা উচিৎ যে, তারা কোন ফিতনায় জড়িয়ে পড়তে পারে কিংবা তাদের উপর কষ্টদায়ক আযাব আপতিত হবে।” (সূরা আন্ নূরঃ ৬৩)

وقَالَ تَعَالَى : يَوْمَ تَجِدُ كُلُّ نَفْسٍ مَا عَلِمَتْ مِنْ خَيْرٍ مُحْضَرًا ، وَمَا عَمِلَتْ مِنْ سُوءٍ تَوَدُّ لَوْ أَنْ بَيْنَهَا وَبَيْنَهُ أَمَدًا بَعِيدًا ، وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ ، وَاللَّهُ رموف بالعباد .

“সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের কৃতকর্মের ফল চাক্ষুষ দেখতে পাবে সে ভালো কাজই করুক, আর মন্দই করুক। সেদিন প্রত্যেকেই কামনা করবে যদি এদিনটি ও তার মাঝে বহু দূরের ব্যবধান হত, তবে কতই না ভালো হত। আল্লাহ তোমাদেরকে তার নিজের সম্পর্কে সাবধান করছেন। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য অত্যন্ত দয়ালু ও দরদী।” (সূরা আলে ইমরান: ৩০)

وَقَالَ تَعَالَى : إِنْ بَطْشَ رَبِّكَ لَشَدِيدٌ.

“নিঃসন্দেহে তোমার প্রভুর পাকড়াও অত্যন্ত কঠোর।” (সূরা আল বুরুজ। ১২)

وقال تعالى : وكذلك أخذ ربك اذا أخذ القرى وَهِيَ ظَالِمَةٌ إِنْ أَخْذَهُ الهُم شَدِيدٌ.

“তোমার প্রভু যখন কোন যালিম জনবসতিকে পাকড়াও করেন, তখন তার পাকড়াও এমনই হয়ে থাকে। আসলে তার পাকড়াও বড়ই কঠোর ও পীড়াদায়ক।” (সূরা হূদঃ ১০২)

۱٨٠٦ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الله تَعَالَى يَغَارُ وَغَيْرَةُ اللهِ أَنْ يَأْتِيَ الْمَرْءُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮০৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। আল্লাহ তা’আলা সূক্ষ্ম মর্যাদাসম্পন্ন। আল্লাহর সূক্ষ্ম মর্যাদাবোধ হলো: তিনি যেসব জিনিস হারাম করেছেন কোন মানুষের তাতে লিপ্ত হওয়া (অর্থাৎ কোন মানুষ যখন নিষিদ্ধ কাজ করে তখন আল্লাহর মর্যাদাবোধে আঘাত লাগে)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ১১৫ – কেউ কোন নিষিদ্ধ কাজ করে বসলে কী বলবে ও কী করবে

قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السميع العليم.

মহান আল্লাহ বলেন:

“তোমরা যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনরূপ প্ররোচনা অনুভব কর, তবে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর। তিনি সর্বাধিক শ্রবণকারী ও সর্বাধিক জ্ঞাত।” (সূরা হা-মীম আস-সাজদা: ৩৬)

وقَالَ تَعَالَى : إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طائِفَ مِنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُمْ مُبْصِرُونَ.

“প্রকৃতই যারা মুত্তাকী, তাদের অবস্থা হল, শয়তানের প্ররোচনায় কোন খারাপ খেয়াল যদি তাদেরকে স্পর্শ করে, তবে তারা সংগে সংগে সতর্ক ও সজাগ হয়ে যায় এবং তাদের জন্য সঠিক ও কল্যাণকর পথ কোল্টিন্ট তা তারা সুস্পষ্টভাবে দেখতে পায়।” (সূরা আল আ’রাফ: ২০১)

وقال تعالى : وَالَّذِينَ إِذا فَعَلُوا فَاحِشَةً أو ظلموا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يُغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلا الله ولم يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ. أُولئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ

“আর তাদের অবস্থা এই যে, তাদের দ্বারা যদি কখনও কোন অশ্লীল কাজ সংঘটিত হয় অথবা তারা কোন গুনাহ করে নিজেদের উপর যুলুম করে বসে, তবে সংগে সংগেই তাদের আল্লাহর কথা স্বরণ হয়ে যায় এবং তারা তাঁর নিকট গুনাহর জন্য ক্ষমা চায়। আল্লাহ ছাড়া গুনাহ মাফ করতে পারে এমন আর কে আছে? এসব লোক বুঝেশুনে অন্যায় কাজ বারবার করে না। এই লোকদের প্রতিফল তাদের প্রভুর কাছে নির্দিষ্ট রয়েছে। তিনি তাদের ক্ষমা করবেন এবং এমন জান্নাত তাদেরকে দান করবেন যার নিম্নদেশে ঝর্ণাধারা সদা প্রবাহিত। আর সেখানে তারা চিরদিন থাকবে। যারা নেক কাজ করে তাদের প্রতিফল কতই না সুন্দর।” (সূরা আলে ইমরান: ১৩৫, ১৩৬)

وَقَالَ تَعَالَى : وَتُوبُوا إِلى اللهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ.

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর কাছে তাওবা কর, আশা করা যায় তোমরা কল্যাণ লাভ করবে।” (সূরা আন্ নূর: ৩১)

۱۸۰۷ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ خَلْفَ فَقَالَ في حلفه باللات والعزى فَلْيَقُل لا الهَ إِلا اللَّهُ وَمَنْ قَالَ لصاحبه تعال أقَامِرُكَ فَلْيَتَصَدِّقُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮০৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি শপথ করে বলল, ‘লাত’ ও ‘উয্যার’ শপথ, সে যেন বলে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আর যে ব্যক্তি নিজের সংগীকে বলল, এসো জুয়া খেলি, সে যেন (জুয়া না খেলে এবং তার পরিবর্তে) কিছু দান-খয়রাত করে। [টিকা: ‘লাত’ ও ‘উযযা’ ছিল প্রাচীন আরব মুশরিকদের দু’টি দেবীর নাম।]

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাসীসটি বর্ণনা করেছেন।

অধ্যায়: ১৮ – কিতাবুল মানসূরাত ওয়াল মুলাহ

كِتَابُ الْمَنْشُورَاتِ وَالْمُلْحِ

(বিবিধ ও কৌতুক বিষয়ক হাদীস)

অনুচ্ছেদ: ১ – বিবিধ ও রসিকতা বিষয়ক হাদীস

۱۸۰۸ – عَنِ النَّواسِ بْنِ سَمْعَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الدَّجَّالَ ذَاتَ غَدَاءً فَخَفَضَ فِيْهِ وَرَفَعَ حَتَّى ظَنَنَّاهُ فِي طَائِفَةِ النَّخْلِ م فَلَمَّا رُحْنَا إِلَيْهِ عَرَفَ ذَلِكَ فِيْنَا فَقَالَ مَا شَأْنُكُمْ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَكَرْتَ الدَّجَالَ الْغَدَاةَ فَخَفْضْتَ فِيْهِ وَرَفَعْتَ حَتَّى ظَنَنَّاهُ فِي طَائِفَةِ النَّخْلِ فَقَالَ غَيْرُ الدجال أخوقني عَلَيْكُمْ إِن يُخْرُجُ وأنا فيكم فأنَا حَجِيجُهُ دُونَكُمْ وَإِنْ يُخْرُجُ ولستُ فِيكُمْ فَامْرُؤٌ حَجِيجُ نَفْسِهِ وَاللهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ إِنَّهُ شَابٌ قَطط عيْنُهُ طَافِيَةٌ كَانَي أَشَبِّهُهُ بِعَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قَطَنٍ فَمَنْ أَدْرَكَهُ مِنْكُمْ فَلْيَقْرَأُ عَلَيْهِ فواتح سُورَةِ الْكَهْفِ إِنَّهُ خَارِج خَلَةَ بَيْنَ الشَّامِ وَالْعِرَاقِ فَعَاثَ يَمِينًا وَعَاتَ شمالاً يَا عِبَادَ اللهِ فَاثْبُتُوا قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا لَبْتُهُ فِي الْأَرْضِ قَالَ أَرْبَعُونَ يَوْمًا يَوْمَ كَسَنَةٍ وَيَوْمَ كَشَهْرٍ وَيَوْمَ كُجُمُعَةٍ وَسَائِرَةُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ فَذَلِكَ الْيَوْمُ الَّذِي كَسَنَةٍ أَتَكْفِيْنَا فِيهِ صَلَاةُ يَوْمٍ قَالَ لَا أَقْدُرُوا لَهُ قَدْرَهُ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا إِسْرَاعُهُ فِي الْأَرْضِ قَالَ كَالْغَيْثِ اسْتَدْبَرَتْهُ الرِّبْحُ فَيَأْتِي عَلَى
الْقَوْمِ فَيَدْعُوهُمْ فَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَجِيبُونَ لَهُ فَيَأْمُرُ السَّمَاءَ فَتُمْطِرُ وَالْأَرْضَ فتنبت فَتَرُوح عَلَيْهِمْ سَارِحَتُهُمْ أَطْوَلَ مَا كَانَتْ ذُرِّى وَأَسْبَغَهُ ضُرُوعًا وَآمَدَهُ خواصِرَ ثُمَّ يَأْتِي الْقَوْمَ فَيَدْعُوهُمْ فَيَرُدُّونَ عَلَيْهِ قَوْلَهُ فَيَنْصَرِفُ عَنْهُمْ فَيَصْبِحُونَ ممحلين ليس بايديهم شي من أموالهم ويمر بالخربَةِ فَيَقُولُ لَهَا أَخْرَجِي كُنُوزَكَ فَتَتْبَعُهُ كُنُوزُهَا كَيْعَاسِيب النحل ثُمَّ يَدْعُو رَجُلاً مُمتَلنَا شَبَابًا فَيَضْرِبُهُ بالسيف فَيَقْطعه جزلتين رَمْيَةَ الْغَرَضِ ثُمَّ يَدْعُوهُ فَيَقْبِلُ وَيَتَهَلَّلُ وَجْهُهُ يَضْحَكُ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ تَعَالَى الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَيَنْزِلُ عِنْدَ الْمَنَارَةِ الْبَيْضَاءَ شَرْقِي دِمَشْقَ بَيْنَ مَهْرُودَتين واضعًا كَفَّيْهِ عَلَى أَجْنِحَة مَلَكَيْنَ إِذَا طأطأ رَأْسَهُ قَطَرَ وَإِذَا رَفَعَهُ تَحَدِّرَ مِنْهُ جُمَانٌ كَاللُّؤْلُةِ فَلَا يَحِلُّ لِكَافِرٍ يَجِدُ رِيحَ نَفْسِهِ الأَمَاتَ وَنَفَسُهُ يَنْتَهِي إِلى حَيْثُ يَنتَهى طَرْفُهُ فَيَطْلُبُهُ حَتَّى يُدْرِكَهُ بِبَابِ لدٍ فَيَقْتُلُهُ ثُمَّ يَأْتِي عِيسَى عَلَيْهِ السَّلام قَوْما قَدْ عَصَمَهُمُ اللَّهُ مِنْهُ فَيَمْسَحُ عَنْ وُجُوهِهِمْ وَيُحَدِّثُهُمْ بِدَرَجَاتِهِمْ فِي الْجَنَّةِ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ أَوْحَى اللَّهُ تَعَالَى إلى عيسى عَلَيْهِ السَّلامُ إِنِّي قَدْ أَخْرَجْتُ عِباداً لِي لا يَدَانِ لِأَحَدٍ بِقِتَالِهِمْ فَحَرِّزْ عبادِي إِلَى الطُّورِ. وَيَبْعَثُ اللهُ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يُنْسِلُونَ فَيَمُرُ أوائلهم على بحيرة طبرية فيشربون ما فيها ويمرُ آخِرُهُمْ فَيَقُولُونَ لَقَدْ كَانَ بِهذه مرة مَاءً وَيُحْصَرُ نَبِيُّ اللَّهِ عِبْسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ وَأَصْحَابُهُ حَتَّى يَكُوْنَ رَأْسُ النَّوْرِ لأحدهمْ خَيْرًا مِنْ مِائَةِ دِينَارٍ لِأَحَدِكُمُ الْيَوْمَ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى عَلَيْهِ السلام وأَصْحَابُهُ إِلَى اللهِ تَعَالَى فَيُرْسِلُ اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِمُ النَّغَفَ فِي رِقَابِهِمُ فَيُصْبِحُونَ فَرْسَى كَمَوْتِ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ ثُمَّ يَهْبِطُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيْسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ واصْحَابُهُ إِلَى الْأَرْضِ فَلا يَجِدُونَ فِي الْأَرْضِ مَوْضِعَ شَيْرٍ إِلَّا مَلَاهُ زَهَمُهُمْ وَنَتَنُهُمْ
فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللهِ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلامُ وَأَصْحَابُهُ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى فَيُرْسِلُ اللَّهُ تعالى طيراً كَاعْنَاقِ الْبُخْتِ فَتَحْمِلُهُمْ فَتَطْرَحُهُمْ حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ عزَّ وَجَلَّ مطراً لا يُكن مِنْهُ بَيْتُ مَدَرٍ ولا وَبَر فَيَغْسِلُ الْأَرْضَ حَتَّى يَتْرُكَهَا كالزلقة ثُمَّ يُقَالُ لِلْأَرْضِ انبتي ثَمَرَتَكَ وَرَدَى بَرَكَتَكَ فَيَوْمَئِذٍ تَأْكُلُ الْعِصَابَةُ مِنَ الرمانة ويستظلون بتحفها ويُبارك في الرَّسُلِ حَتَّى أَنَّ التَّقْحَةَ مِنَ الابل لتكفي الْقِتَامَ مِنَ النَّاسِ وَاللفحة مِنَ الْبَقَرِ لتَكْفِي الْقَبِيلَةَ مِنَ النَّاسِ وَاللفحة مِنَ الغَنَمِ لتَكْفِي الْفَخِذُ مِنَ النَّاسِ فَبَيْنَمَاهُمْ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ تَعَالَى رِبْحًا طيبة فَتَاخُذُهُمْ تَحْتَ اباطهم فَتَقْبِضُ رُوحَ كُلِّ مُؤْمِنٍ وَكُلِّ مُسْلِمٍ ويَبْقَى شرار النَّاسِ يَتَهَا رَجُونَ فِيهَا تَهَارُجَ الْحُمْرِ فَعَلَيْهِمْ تَقُومُ السَّاعَةُ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৮০৮। নাওয়াস ইবনে সাম’আন (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি বিষয়টিকে কখনও নিচু স্বরে আবার কখনও উচ্চ কণ্ঠে প্রকাশ করলেন। এমনকি আমাদের ধারণা হলো যে, দাজ্জাল ঐ খেজুর বাগানের কোথাও লুকিয়ে আছে। যখন আমরা তাঁর কাছ থেকে ফিরে যাচ্ছিলাম তখন তিনি আমাদের অবস্থা বুঝে ফেললেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের কি হয়েছে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আপনি এই সকাল বেলা দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। আপনি কখনও নিম্নস্বরে এবং কখনও উচ্চস্বরে তা প্রকাশ করেছেন। এতে আমাদের ধারণা হয়েছে যে, সে ঐ খেজুর বাগানের কোথাও লুকিয়ে আছে। তিনি বলেন: তোমাদের ব্যাপারে আমি দাজ্জালের ফিতনার খুব একটা আশংকা করি না। যদি আমি বর্তমান থাকতে সে আত্মপ্রকাশ করে তবে আমি নিজে তোমাদের পক্ষ হয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধক হবো। আর যদি আমার অবর্তমানে সে আত্মপ্রকাশ করে তবে প্রত্যেক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। আল্লাহ আমার অবর্তমানে প্রত্যেক মুসলিমের রক্ষক। দাজ্জাল ছোট কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট যুবক। তার চোখ হবে ফোলা। আমি তাকে আবদুল উয্যা ইবনে কাতান সদৃশ মনে করি। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার সাক্ষাত পাবে সে যেন তার বিরুদ্ধে সূরা আল কাহফের প্রাথমিক আয়াতগুলো পাঠ করে। দাজ্জাল সিরিয়া ও ইয়াফের সাথে সংযোগ রক্ষাকারী এক রাস্তায় আত্মপ্রকাশ করবে। সে তার ডানে ও বাঁয়ে হত্যাকাণ্ড, ধ্বংস ও ফিতনা-ফাসাদ ছড়াবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ। অটল ও স্থির হয়ে থাক। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল। সে কত সময় পৃথিবীতে বর্তমান থাকবে? তিনি বলেন: চল্লিশ দিন। এর একদিন হবে এক বছরের সমান, একদিন হবে এক মাসের সমান এবং একদিন হবে এক সপ্তাহের সমান এবং অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের এই দিনের মতই দীর্ঘ হবে। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এক বছরের সমান দীর্ঘ দিনটিতে কি এক দিনের নামাযই আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বলেনঃ না, বরং অনুমান করে নামাযের সময় ঠিক করে নিতে হবে। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! পৃথিবীতে দাজ্জাল কত দ্রুত গতিসম্পন্ন হবে? তিনি বলেন, বাতাস তাড়িত মেঘের মত দ্রুত গতিসম্পন্ন হবে। সে এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে এবং তাদেরকে নিজের দিকে আহ্বান করবে। তারা তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তার হুকুমের অনুগত হবে। সে আসমানকে নির্দেশ দিলে তা তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং সে যমীনকে হুমুক দিলে তা উদ্ভিদ উৎপাদন করবে। তাদের গৃহপালিত জন্তুগুলো সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরবে পূর্বের তুলনায় সুউচ্চ কুঁজ, দুধের লম্বা বাঁট এবং স্ফীত দেহ নিয়ে। অতঃপর সে আর এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে এবং তাদেরকে নিজের দিকে আহ্বান করবে। তারা তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করবে। দাজ্জাল তাদের কাছ থেকে চলে যাবে। তারা অচিরেই অজনা ও দুর্ভিক্ষে পতিত হবে এবং তাদের হাতে ধন-সম্পদ কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। দাজ্জাল এক বিধ্বস্ত এলাকা দিয়ে অতিক্রম করার সময় (ঐ এলাকাকে লক্ষ্য করে) বলবে, তোমার খনিজ সম্পদরাজি বের করে দাও। সাথে সাথে এলাকার ধন-সম্পদ মধু মক্ষিকার ন্যায় তার অনুসরণ করবে। অতঃপর সে পূর্ণ বয়স্ক এক যুবককে আহ্বান করবে (এবং সে তাকে অস্বীকার করবে)। দাজ্জাল তাকে তরবারি দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করবে। অতঃপর টুকরা দুটোকে পৃথকভাবে একটি তীরের পাল্লা পরিমাণ দূরত্বে রাখবে। অতঃপর সে তাকে ডাকবে এবং টুকরা দুটো চলে আসবে। তার চেহারা তখন প্রফুল্ল ও হাস্যময় হবে।

ইত্যবসরে আল্লাহ তা’আলা মাসীহ ইবনে মারইয়াম (আ)-কে পাঠাবেন। তিনি দামিশকের পূর্ব অংশে সাদা মিনারের উপরে হালকা জাফরানী (হলুদ) রং-এর কাপড় পরিহিত অবস্থায় দুই ফেরেশতার পাখায় ভর দিয়ে নেমে আসবেন। যখন তিনি মাথা নত করবেন তখন মনে হবে যেন তাঁর মাথা থেকে মুক্তার মত পানির বিন্দু উপকাচ্ছে। যখন তিনি মাথা উঠাবেন তখনও তাঁর মাথা থেকে মোতির দানার মত ঝরছে বলে মনে হবে। যে কাফিরের গায়ে তাঁর নিঃশ্বাস লাগবে সে মারা যাবে। তাঁর দৃষ্টি যতদূর যাবে তাঁর নিঃশ্বাসও ততদূরে পৌঁছবে। তিনি দাজ্জালকে পিছু ধাওয়া করবেন এবং লুন্দ নামক স্থানে তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর ঈসা (আ) ঐ সব লোকের কাছে আসবেন যাদেরকে আল্লাহ দাজ্জালের অনাসৃষ্টি থেকে নিরাপদ রেখেছেন। তিনি তাদের চেহারা থেকে মলিনতা দূর করবেন এবং জান্নাতে তাদের যে মর্যাদা হবে তা বর্ণনা করবেন। [টিকা:লুদ (Lydda) নামক স্থানটি ফিলিস্তীনে অন্যায়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাঈলের রাজধানী তেলআবিব থেকে ছয় মাইল দূরে অবস্থিত। ইহুদীরা এখানে একটি বিরাট আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মাণ করেছে।]

ইত্যবসরে আল্লাহ ঈসা (আ)-এর কাছে এই মর্মে নির্দেশ পাঠাবেনঃ আমি এমন একদল মানুষ আবির্ভূত করেছি যাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার শক্তি কারো খাকবে না। তুমি আমার বান্দাদেরকে নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাও। এরপর আল্লাহ ইয়াজুজ-মাজুজের সম্প্রদায়কে পাঠাবেন। তারা প্রত্যেক উচ্চভূমি থেকে দ্রুতবেগে বেরিয়ে আসবে। তাদের অগ্রবর্তী দলগুলো তাবারিয়া হ্রদ অতিক্রমকালে হ্রদের সব পানি পান করে ফেলবে। তাদের পরবর্তী দলও এ এলাকা দিয়ে অতিক্রম করবে। তারা বলবে, এখানে কোন সময় পানি ছিল। আল্লাহর নবী ঈসা (আ) ও তাঁর সাথীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেন। এ সময় তাদের কাছে গরুর একটি মাথা এত মূল্যবান হবে যেমন বর্তমানে তোমরা এক শত দীনায়কে মূল্যবান মনে কর। তখন ঈসা (আ) ও তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর কাছে কাতরভাবে প্রার্থনা করবেন। আল্লাহ তা’আলা তাদের (ইয়াজুজ-মাজুজ) প্রত্যেকের ঘাড়ে এক ধরনের কীট সৃষ্টি করবেন। ফলে তারা একসাথে ধ্বংস হয়ে যাবে।

এরপর আল্লাহর নবী ঈসা আলাহহিস সালাম ও তাঁর সঙ্গীগণ পাহাড় থেকে জনপদে নেমে আসবেন। কিন্তু তারা পৃথিবীতে এক ইঞ্চি জায়গাও ইয়াজুজ-মাজুজের লাশ ও দুর্গন্ধ ছাড়া খালি পাবেন না। অতঃপর আল্লাহর নবী ঈসা (আ) ও তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর কাছে কাতরভাবে প্রার্থনা করলে পর আল্লাহ তা’আলা বুখতী উটের কুঁজ সদৃশ পাখি পাঠাবেন। এসব পাখি লাশগুলোকে তুলে নিয়ে আল্লাহ যেখানে ফেলে দেয়ার নির্দেশ দেবেন সেখানে ফেলে দেবে। অতঃপর মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ এমন বৃষ্টি পাঠাবেন যা প্রতিটি স্থান, তা মাটির হোক অথবা বালুর, ধুয়ে আয়নার মত পরিষ্কার করে দিবে।

অতঃপর ভূমিকে বলা হবে: তোমার ফল উৎপাদন কর এবং বরকত ফিরিয়ে দাও (এতে বরকত, কল্যাণ ও প্রাচুর্য দেখা দেবে)। একটি ডালিম খেয়ে পূর্ণ একটি দল পরিতৃপ্ত হবে এবং ডালিমের খোসাটি এত বড় হবে যে, তার ছায়ায় তারা আশ্রয় নিতে পারবে। গবাদি পশুতেও এত বরকত হবে যে, একটি মাত্র উন্ত্রীর দুধ একটি বড় দলের জন্য যথেষ্ট হবে, একটি গাভীর দুধ একটি গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে এবং একটি দুধেল বকরী একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে। এই সময়ে আল্লাহ তা’আলা পবিত্র হাওয়া প্রবাহিত করবেন। এই বাতাস তাদের বগলের নিচে পর্যন্ত লাগবে। ফলে সমস্ত মুমিন ও মুসলিমের মৃত্যু হবে। শুধু খারাপ লোকেরাই বেঁচে থাকবে। তারা গাধার মত প্রকাশ্যে যৌনাচার করবে। এদের উপরই কিয়ামাত সংঘটিত হবে।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۰۹ – وَعَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِراسٌ قَالَ انْطَلَقْتُ مَعَ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِي إِلَى حديقة بْنِ الْيَمَانِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ فَقَالَ لَهُ أَبُو مَسْعُودٍ حَدِثْنِي مَا سَمِعْتَ مِنْ رسول الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الدَّجال قَالَ إِنَّ الدِّجَالَ يَخْرُجُ وَإِنْ مَعَهُ مَاءً وتاراً فأما الذي بَرَاهُ النَّاسُ مَاءً فَتَارٌ تُحْرِقُ وَأَمَّا الَّذِي يَرَاهُ النَّاسُ نَارًا فَمَاءٌ بَارِدٌ عَذَبٌ فَمَنْ أَدْرَكَهُ مِنْكُمْ فَلْيَقَعُ فِي الَّذِي يَرَاهُ نَارًا فَإِنَّهُ مَاءً عَذَبٌ طَيِّبٌ فَقَالَ أَبو مَسْعُودٍ وَأَنَا قَدْ سَمِعْتُهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

১৮০৯। রিবঈ ইবনে হিরাশ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আৰু মাসউদ আনসারী (রা)-র সাথে হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা)-র কাছে গেলাম। আবু মাসউদ (রা) তাকে বললেন, আপনি দাজ্জাল সম্বন্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যা শুনেছেন তা আমাকে বলুন। তিনি বলেন, দাজ্জালের আবির্ভাব হবে এবং তার সাথে পানি ও আগুন থাকবে। কিন্তু লোকেরা যে পানি দেখবে তা আসলে জ্বলন্ত আগুন। আর লোকেরা তার সাথে যে আগুন দেখবে তা আসলে সুপেয় ঠাণ্ডা পানি। তোমাদের মধ্যে যে লোক সুযোগ পাবে সে যেন তার কাছে যে দিকটা আগুন মনে হবে সেদিকে ঢুকে পড়ে। কেননা তা হবে প্রকৃতপক্ষে সুপেয় পানি। এ হাদীস শুনে আবু মাসউদ (রা) বলেন, আমিও মহানবী (সা)-কে একথা বলতে শুনেছি।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۱۰ – وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرُو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ الرِّجالُ فِي أُمَّتِي فَيَمْكُتُ أَرْبَعِينَ لَا أَدْرِي ارْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ أَرْبَعِينَ شَهْرًا أَوْ أَرْبَعِينَ عَامًا فَيَبْعَثُ اللَّهُ تَعَالَى عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ عليه السلام فَيَطْلُبُهُ فَيُهْلِكُهُ ثُمَّ يَمْكُتُ النَّاسُ سَبْعَ سِنِينَ لَيْسَ بَيْنَ اثْنَيْنِ عَدَاوَةٌ ثُمَّ يُرْسِلُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ رِيحًا بَارِدَةً مِنْ قِبَلِ الشَّامِ فَلَا يَبْقَى عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ أحد في قلبه مثقال ذرة مِنْ خَيْرٍ أَوْ إِيْمَانِ الأَقَبَضَتْهُ حَتَّى لَوْ أَنْ أَحَدَكُمْ دَخَلَ في كبد جبل الدخلتُهُ عَلَيْهِ حَتَّى تَقبضه. فيبقى شرار النَّاسِ فِي خِفْه الطير وأحلام السباع لا يَعْرِفُونَ مَعْرُوفًا وَلَا يُنْكِرُونَ مُنكَرًا فَيَتَمَثْلُ لَهُمُ الشَّيْطَانُ فَيَقُولُ إِلا تَسْتَجِيبُونَ؟ فَيَقُولُونَ فَمَا تَأْمُرُنَا فَيَأْمُرُهُمْ بِعِبَادَةِ الْأَوْثَانِ وَهُمْ فِي ذلك دار رِزْقُهُمْ حَسَنٌ عَيْشُهُمْ ثُمَّ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ فَلَا يَسْمَعُهُ أَحَدٌ إِلَّا أَصْغَى لينا وَرَفَعَ لِيْتًا وَأَوَّل مَنْ يُسْمَعُهُ رَجُلٌ يَلُوطُ حَوْضَ ابْلَهِ فَيُصْعَقُ وَيُصْعَقُ النَّاسُ ثُمَّ يُرْسِلُ اللهُ أَوْ قَالَ يُنْزِلُ اللهُ مَطَراً كَأَنَّهُ الطَّل أو الظلُّ فَتَنْبُتُ مِنْهُ أَجْسَادُالنَّاسِ ثُمَّ يُنْفَخُ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنظُرُونَ ثُمَّ يُقَالُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ هَلْمٌ إِلَى رَبِّكُمْ وَقِفُوْهُمْ إِنَّهُمْ مَسْؤُولُوْنَ ثُمَّ يُقَالُ أَخْرِجُوا بَعْثَ النَّارِ فَيُقَالُ مِنْ كَمْ فَيُقَالُ من كل الف تشع مائة وتسعة وتسعينَ فَذلِكَ يَوْمَ يُجْعَلُ الْوِلْدَانَ شَيْئًا وَذَلِكَ يَوْمَ يُكشفُ عَنْ سَاقٍ رَوَاهُ مُسْلِمٌ اللَّيْتُ صَفْحَةُ الْعُنُقِ وَمَعْنَاهُ يَضَعُ صَفْحَة عنقه ويرفع صفحته الأخرى.

১৮১০। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার উম্মাতের মধ্যে দাজ্জালের আবির্ভাব হবে এবং সে চল্লিশ পর্যন্ত অবস্থান করবে। বর্ণনাকারী বলেন, নবী (সা) চল্লিশ দিন, না চল্লিশ মাস, না চল্লিশ বছর বলেছেন তা আমার মনে নেই। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ)-কে পাঠাবেন। তিনি দাজ্জালকে খুঁজে বের করে হত্যা করবেন। অতঃপর লোকেরা সাত বছর এমনভাবে কাটাবে যে, দু’জন লোকের মধ্যেও কোন রকম শত্রুতা থাকবে না। মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ সিরিয়ার দিক থেকে একটি শীতল বাতাস প্রবাহিত করবেন। ফলে পৃথিবীর বুকে এমন কোন ব্যক্তি অবশিষ্ট থাকবে না যার মধ্যে সামান্য পরিমাণ সৎকাজের আগ্রহ বা ঈমান আছে, বরং এ ধরনের সব লোকের রূহ কবজ করে নেবে। এমনকি কোন লোক যদি পাহাড়ের গুহায় গিয়ে অবস্থান করে এই বায়ু সেখানে গিয়ে তার রূহ কবজ করে নেবে। এরপর শুধু দুষ্কৃতিকারীরাই বেঁচে থাকবে। তারা যৌনতা ও কুপ্রবৃত্তির বেলায় পাখির মত এবং যুগ্ম-অত্যাচারের বেলায় হিংস্র জন্তুর মত হবে। তারা ভালো কাজ বলতে কিছুই জানবে না এবং খারাপ কাজ বলতে কোনটাই না করে ছাড়বে না। শয়তান মানুষের বেশ ধরে তাদের কাছে এসে বলবে, তোমরা কি আমার কথা মানবে? তারা বলবে, তুমি আমাদের কি কাজ করতে বল? শয়তান তাদেরকে মূর্তিপূজার হুকুম দেবে। মূর্তিপূজা চলাকালে তাদের খাদ্যদ্রব্যের প্রাচুর্য চলতে থাকবে; জীবনটা অত্যন্ত বিলাসী ও আনন্দ-উল্লাসময় হবে। অতঃপর শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে। যে ব্যক্তি শিংগার আওয়াজ শুনতে পাবে, সে ঘাড় বাঁকিয়ে সেদিকে তাকাবে এবং ঘাড় উঠাবে। সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি আওয়াজ শুনতে পাবে সে তখন তার উটের পানির চৌবাচ্চা পরিষ্কার করতে থাকবে। সে বেহুঁশ হয়ে পড়বে এবং তার আশেপাশের লোকজনও বেহুঁশ হয়ে যাবে। এরপর আল্লাহ শিশির বিন্দুর ন্যায় বৃষ্টি পাঠাবেন। অথবা তিনি বলেছেন, মূষলধারে বৃষ্টি নাযিল করবেন। এর দ্বারা মানুষের শরীর গঠিত হয়ে উঠবে। পরে দ্বিতীয়বার শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে এবং তখন সমস্ত মানুষ উঠে দাঁড়িয়ে চারদিকে দেখতে থাকবে। তখন বলা হবে, হে মানুষেরা। তোমাদের প্রভুর কাছে এসো। এরপর (হুকুম দেয়া হবে), তাদেরকে দাঁড় করাও। কেননা তাদেরকে পুংখানুপুংখরূপে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর বলা হবে, এদের মধ্য থেকে জাহান্নামের অংশটা বের করে ফেল। বলা হবে, কত সংখ্যক। বলা হবে, প্রতি হাজারে নয় শত নিরানব্বইজন। এটাই সেই দিন, যেদিন তরুণ বৃদ্ধ হয়ে যাবে, যেদিন সব কিছু স্পষ্ট করে তুলে ধরা হবে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۱۱ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ليس من بلد الأسيطوه الدجال الأمكة والمدينة وليس نَقْبٌ مِنْ أَنْقابها الا عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ صَاحِينَ تَحْرُسُهُمَا فَيَنْزِلُ بِالسَّبَخَةِ فَتَرْجُفُ الْمَدِينَةُ ثَلَاثَ رَجَفَاتٍ يُخْرِجُ اللَّهُ مِنْهَا كُلَّ كَافِرٍ وَمُنَافِقِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৮১১। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মক্কা-মদীনা ব্যতীত এমন কোন জনপদ অবশিষ্ট থাকবে না যা দাজ্জাল পদদলিত করবে না। এ দুই পবিত্র নগরীর প্রতিটি প্রবেশপথে ফেরেশতারা কাতারবন্দী হয়ে পাহারা দেবে। দাজ্জাল ‘সাবখাহ’ নামক স্থানে এসে পৌঁছলে মদীনাতে তিনবার ভূমিকম্প হবে। এভাবে আল্লাহ সমস্ত কাফির ও মুনাফিকদের মদীনা থেকে বের করে দেবেন।

হাদীসটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

۱۸۱۲ – وَعَنْهُ أَنْ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَتْبَعُ الدَّجَالَ مِنْ يَهُودِ أَصْبَهَانَ سَبْعُونَ الْفًا عَلَيْهِمُ الطَّبَالِسَةُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৮১২। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সবুজ বর্ণের চাদর পরিহিত ইসফাহানের সত্তর হাজার ইহুদী দাজ্জালের সাথে যোগ দেবে।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۱۳ – وَعَنْ أَمْ شَرِيكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّهَا سَمِعَتِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لِيَنْفِرَنَّ النَّاسُ مِنَ الدَّجال فِي الْجِبَالِ رَوَاهُ مُسْلِم.

১৮১৩। উন্মু শারীক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: দাজ্জালের ভয়ে মানুষ অবশ্যই পাহাড়-পর্বতে পলায়ন করবে।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨١٤ – وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّىاللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا بَيْنَ خَلْقِ أَدَمَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ أَمْر أَكْبَرُ مِنَ الدَّجَّالِ روَاهُ مُسْلِمٌ

১৮১৪। ইমরান ইবনে হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আদম (আ)-এর জন্ম থেকে কিয়ামাত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দাজ্জালের অনাচারের চেয়ে অধিক মারাত্মক অনাচার আর হবে না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۱۵ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَخْرُجُ الرِّجالُ فَيَتَوَجَّهُ قِبْلَهُ رَجُلٌ مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ فَيَتَلَقَّاهُ الْمَسَالِحُ مسالح الدجالِ فَيَقُولُونَ لَهُ إِلَى ابْنَ تَعْمِدُ فَيَقُولُ أَعْمِدُ إِلَى هَذَا الَّذِي خَرَجَ فَيَقُولُونَ لَهُ أَوَمَا تُؤْمِنُ بِرِينَا فَيَقُولُ مَا بِرَبِّنَا خَفَاء فَيَقُولُونَ اقْتُلُوهُ فَيَقُولُ بَعْضُهُمْ لِبَعْض البسَ قَدْ نَهَاكُمْ رَبُّكُمْ أَن تَقْتُلُوا أَحَداً دُونَهُ فَيَنْطَلِقُونَ بِهِ إِلى الدجال فاذا رأهُ الْمُؤْمِنُ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنْ هُذَا الدَّجَّالُ الَّذِي ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَأْمُرُ الدَّجَّالُ بِهِ فَيُسَبِّحُ فَيَقُولُ خُذُوهُ وَشُجُوهُ فَيُوْسَعُ ظهره وبطنه ضَرْبًا فَيَقُولُ أَوَمَا تُؤْمِنُ بِي فَيَقُولُ أَنْتَ الْمَسِيحُ الْكَذَابُ فَيُؤْمَرُ به فَيُؤْشَرُ بِالْمِنْشَارِ مِنْ مَفْرِقِهِ حَتَّى يُفْرَقَ بَيْنَ رِجْلِيْهِ ثُمَّ يَمْشِي الدَّجَّالُ بَيْنَ الْقِطْعَتَيْنِ ثُمَّ يَقُولُ لَهُ قُمْ فَيَسْتَوى فَائِمًا ثُمَّ يَقُولُ لَهُ تُؤْمِنُ بِي فَيَقُولُ مَا ازددت فيك الأبَصِيرَةً ثُمَّ يَقُولُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ لَا يَفْعَلُ بَعْدِي بِأَحَدٍ مِّنَ النَّاسِ فَيَأْخُذُهُ الدَّجَّالُ لِيَذْبَحَهُ فَيَجْعَلُ اللهُ مَا بَيْنَ رَقَبَتِهِ إِلَى تَرْقُونِهِ نُحَاسًا فَلَا يَسْتَطِيعُ إِلَيْهِ سَبِيلًا فَيَأْخُذُ بِيَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ فَيَقْذِفُ بِهِ فَيَحْسَبُ النَّاسُ أَنَّمَا قَذَفَهُ إِلى النَّارِ وَإِنَّمَا الْقِي فِي الْجَنَّةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هذَا أَعْظَمُ النَّاسِ شَهَادَةً عِنْدَ رَبِّ الْعَالَمِينَ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَرَوَى الْبُخَارِيُّ بَعْضَهُ بِمَعْنَاهُ

১৮১৫। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করলে ঈমানদার লোকদের মধ্যে এক ব্যক্তি তার কাছে যাবে। তার সাথে দাজ্জালের প্রহরীদের সাক্ষাত হবে। তারা তাকে বলবে, কোথায় যেতে চাও? সে বলবে, আমি এই আবির্ভূত ব্যক্তির কাছে যেতে চাই। প্রহরীরা বলবে, আমাদের প্রভুর প্রতি কি তোমার ঈমান নেই? সে বলবে, আমাদের প্রভুর ব্যাপারে তো কোনরূপ গোপনীয়তা নেই। তারা বলবে, একে হত্যা কর। কিন্তু এদের কতক কতককে বলবে, তোমাদের প্রভু কি তোমাদেরকে তার অনুমতি ছাড়া কোন লোককে হত্যা করতে নিষেধ করেনি। তাই তারা তাকে দাজ্জালের কাছে নিয়ে যাবে। মুমিন ব্যক্তিটি দাজ্জালকে দেখে বলবে, হে লোকেরা! এই তো সেই দাজ্জাল, যার প্রসংগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন। অতঃপর দাজ্জালের হুকুমে তার দেহ থেকে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। তার পেট ও পিঠ উন্মুক্ত করে পিটানো হবে আর সে বলবে, তুমি কি আমার প্রতি ঈমান পোষণ করো না? মুমিন ব্যক্তি বলবে, তুমিই সেই মিথ্যাবাদী মাসীহ দাজ্জাল। অতঃপর তার নির্দেশে মুমিন ব্যক্তির মাথার সিঁথি থেকে দুই পায়ের মধ্য পর্যন্ত করাত দিয়ে চিরে দ্বিখণ্ডিত করা হবে। দাজ্জাল তার দেহের এই দুই অংশের মধ্য দিয়ে এদিক থেকে ওদিকে হেঁটে যাবে। অতঃপর সে মুমিন ব্যক্তির দেহকে সম্বোধন করে বরবে, পূর্বের মত হয়ে যাও। তখন সে আবার পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। আবার সে বলবে, এখন কি তুমি আমার প্রতি ঈমান পোষণ কর? মুমিন লোকটি বলবে, তোমার সম্পর্কে এখন আমি আরো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা লাভ করলাম। সে লোকদেরকে ডেকে বলবে, হে লোক সকল। আমার পর এ আর কারো কিছু করতে পারবে না। দাজ্জাল পুনরায় তাকে ধরে হত্যা করতে চাইলে। কিন্তু আল্লাহ তার ঘাড়কে গলার নিচের হাড় পর্যন্ত পিতলে মুড়িয়ে দেবেন। ফরে সে তাকে হত্যা করার আর কোন উপায় পাবে না। বাধ্য হয়ে সে তার হাত-পা ধরে ছুড়ে ফেলবে। লোকেরা ধারণা করবে দাজ্জাল তাকে আগুনে নিক্ষেপ করেছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে জান্নাতে নিক্ষিপ্ত হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এই ব্যক্তি বিশ্বজাহানের রব আল্লাহর কাছে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত স্তরের শহীদের মর্যাদা লাভ করবে।

হাদীসটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারীও এর অংশবিশেষ এবং একই অর্থের আরো হাদীস বর্ণনা করেছেন।

١٨١٦ – وَعَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ مَا سَأَلَ أَحَدٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الدَّجال اكثر مِمَّا سَأَلْتُهُ وَأَنَّهُ قَالَ لِي مَا يَضُرُّكَ قُلْتُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّ اللَّهِ مِنْ ذَلِكَ – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. مَعَهُ جَبَل خُبْرُ ونَهرَ مَا ، قَالَ هُوَ أَهْوَنُ عَلَى الله من

১৮১৬। মুগীরা ইবনে শো’বা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দাজ্জালের ব্যাপারে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যত বেশি প্রশ্ন করেছি, অন্য কেউ ততটা জিজ্ঞেস করেনি। তিনি আমাকে বলেছেন: সে তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আমি বললামঃ লোকেরা বলে যে, তার সাথে রুটির পাহাড় ও পানির ঝর্ণা থাকবে। তিনি বললেন: আল্লাহর কাছে এটা মামুলি ব্যাপার।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۱۷ – وَعَنْ أَنَسِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ما من نبي إلا وقد أَنْذَرَ أُمَّتَهُ الأعور الكتابَ أَلَا إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ رَبَّكُمْ عَزَّ وَجَلٌ ليس باعورَ مَكْتُوبَ بَيْنَ عَيْنَيْه ك ف ر متفقٌ عَلَيْهِ.
১৮১৭। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রত্যেক নবী তাঁর উম্মাতকে কানা মিথ্যাবাদী (দাজ্জাল) সম্পর্কে সাবধান করেছেন। সাবধান। সে কানা। তোমাদের মহান ও শক্তিমান প্রভু কানা নন। সেই কানা মিথ্যাবাদী দাজ্জালের কপালে কাফ (এ), ফা (এ) ও রা (১) লেখা থাকবে (কাফির)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۱۸ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلا أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا عَنِ الدَّجالِ مَا حَدَّثَ بِهِ نَبِيُّ قَوْمَهُ إِنَّهُ أَعْوَرُ وَأَنَّهُ يَجِيُّ مَعَهُ بِمَثَالِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ فَالَّتِي يَقُولُ إِنَّهَا الْجَنَّةَ هِيَ النَّارُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮১৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি কি তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে এমন কথা বলব না, যা অন্য কোন নবী তাঁর উন্মাতকে বলেননি? সে হবে কানা এবং সে তার সাথে জাহান্নামের মত একটি এবং জান্নাতের মত একটি জিনিস নিয়ে আসবে। সে যেটাকে জান্নাত বলে পরিচয় দেবে সেটা হবে প্রকৃতপক্ষে জাহান্নাম। (তেমনিভাবে তার সাথের জাহান্নামটি হবে প্রকৃতপক্ষে জান্নাত।)

ইমাম বুখারী ও ইমাম-মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۱۹ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذكَرَ الدِّجَالَ بَيْنَ ظَهْرَانِي النَّاسِ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِاعْوَرَ إِلَّا الْمَسِيحَ الدِّجَالَ أَعُورُ العَيْنِ الْيُمْنَى كَانَ عَيْنَهُ عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

১৮১৯। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজনের কাছে দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি বলেছেন: আল্লাহ এক চোখবিশিষ্ট নন। কিন্তু মসীহ দাজ্জালের ডান চোখ কানা, তার চোখ হবে আঙ্গুরের দানার মত ফেলো।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۲۰ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ الْيَهُودَ حَتَّى يَخْتَبِيَ الْيَهُودِي مِنْ وراءِ الْحَجَرِ وَالشَّجَرِ فَيَقُولُ الْحَجَرُ وَالشَّجَرُ يَا مُسْلِمُ هُذَا يَهُودِى خَلْفِي تَعَالَ فَاقْتُلَهُ إِلا الْفَرْقَدَ فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرِ الْيَهُود – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮২০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মুসলিমরা ইহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করা পর্যন্ত কিয়ামাত হবে না। অবশেষে পরাজিত হয়ে ইহুদীরা মুসলিমদের ভয়ে পাথর ও গাছের আড়ালে আত্মগোপন করবে। কিন্তু গাছ এবং পাথরও বলে উঠবে, হে মুসলিম। এখানে ইহুদী আমার পেছনে লুকিয়ে আছে, আসো, একে হত্যা কর। কিন্তু ‘গারকাদ” নামক গাছ তা বলবে না। কেননা ঐটা ইহুদীদের গাছ। [‘গারকাদ’ এক প্রকার কাঁটাযুক্ত গাছ, বাইতুল মুকাদ্দাস এলাকায় দেখা যায়।]

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۲۱ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا تَذْهَبُ الدُّنْيَا حَتَّى يَمُرُ الرَّجُلُ بِالْقَبْرِ فَيَتَمَرْغَ عَلَيْهِ وَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي مَكَانَ صاحب هذا القَبْرِ وَلَيْسَ بِهِ الدِّينُ مَا بِهِ إِلا الْبَلاءُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮২১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন। পৃথিবী তত দিন ধ্বংস হবে না যত দিন না কোন ব্যক্তি কোন কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে এবং ফিরে কবরের পাশে গিয়ে বলবে, হায়, এই কবরবাসীর পরিবর্তে আমি যদি এই কবরে থাকতাম, তাহলে কতই না ভালো হত। প্রকৃতপক্ষে তার কাছে দীন ইসলামের কিছুই থাকবে না, বরং বালা-মুসীবতে অতিষ্ঠ হয়ে সে একথা বলবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۲۲ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يحْسِرَ الْفُرَاتُ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ يُقْتَتَلُ عَلَيْهِ فَيُقْتَلُ مِنْ كُلِّ مِائَةٍ تَسْعَةٌ وتَسْعُونَ فَيَقُولُ كُلُّ رَجُلٍ مِنْهُمْ لَعَلَى أَنْ أَكُونَ أَنَا أَنْجُوا – وَفِي رِوَايَةٍ يُوشِكُ أَنْ بخسرَ الْفُرَاتُ عَنْ كَثرَ مِنْ ذَهَبٍ فَمَنْ حَضَرَهُ فَلَا يَأْخُذْ مِنْهُ شَيْئًا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮২২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কিয়ামাত তত দিন পর্যন্ত সংঘটিত হবে না, যত দিন না ফোরাত নদী থেকে সোনার একটি পর্বতের আবির্ভাব হবে এবং তার দখল নিয়ে লোকদের মধ্যে যুদ্ধ হবে এই যুদ্ধে প্রতি এক শত জনে নিরানব্বইজন নিহত হবে। এদের প্রতিটি ব্যক্তিই বলবে, আশা করি আমিই হব সেই ব্যক্তি যে বেঁচে থাকবে। অন্য এক বর্ণনায় আছে: অচিরেই ফোরাত নদীতে সোনার খনি পাওয়া যাবে। যে ব্যক্তি তখন সেখানে উপস্থিত থাকবে সে যেন তা থেকে কিছু গ্রহণ না করে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۲۳ – وَعَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَشْرَكُونَ الْمَدِينَةَ عَلَى خَيْرٌ مَا كَانَتْ لَا يَغْشَاهَا إِلا الْعَوَافِي يُرِيدُ عَوَافِي السَّبَاعِ والطَّيْرِ وآخرُ مَنْ يَحْشُرُ رَاعِيَانِ مِنْ مُزَيْنَةَ يُرِيدَانِ الْمَدِينَةَ يَنْعِقَانِ بِغَنَمِهِمَا فَيَجِدَانِهَا وحُوشًا حَتَّى إِذَا بَلَغَا ثَنِيَّةَ الْوَدَاعِ خَرَا عَلَى وُجُوهِهِمَا مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮২৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি। (কিয়ামাতের নিকটবর্তী সময়ে) লোকজন মদীনা শহরকে ভালো অবস্থায় ছেড়ে চলে যাবে। মদীনা জুড়ে থাকবে তখন শুধু হিংস্র বন্যজন্তু ও পাখি। পরিশেষে মুযায়না গোত্রের দু’জন রাখাল মেষ-বকরী নিয়ে মদীনায় প্রবেশের জন্য আসবে। কিন্তু তারা বন্য হিংস্র পশুতে মদীনা ভরপুর হয়ে আছে দেখতে পাবে (তারা ফিরে চলে যাবে)। যখন তারা ‘সানিআতুল বিদা’ নামক পাহাড়ের কাছে পৌঁছবে তখন হুমড়ি খেয়ে পড়ে মারা যাবে।

ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٢٤ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَكُونُ خَلِيفَةً مِنْ خُلَفَائِكُمْ فِي آخرِ الزَّمَانِ يَحْذُو الْمَالَ وَلَا يَعُدُّهُ رواه مسلم

১৮২৪। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: শেষ যমানায় তোমাদের একজন খালীফা (ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধান) হবে। সে প্রচুর ধন-সম্পদ দু’হাতে বিলিয়ে দেবে কিন্তু হিসেব করবে না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٢٤ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَكُونُ خَلِيفَةً مِّن خُلَفَائِكُمْ فِي آخِرِ الزَّمَانِ يَحْذُو الْمَالَ وَلَا بعده – رواه مسلم

১৮২৪। আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: শেষ যমানায় তোমাদের একজন খালীফা (ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধান) হবে। সে প্রচুর ধন-সম্পদ দু’হাতে বিলিয়ে দেবে কিন্তু হিসেব করবে না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٢٥ – وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَطُوفُ الرَّجُلُ فيهِ بِالصَّدَقَة مِنَ الذَّهَبِ فَلا يَجِدُ أَحَدًا يَأْخُذَهَا مِنْهُ وَيُرَى الرَّجُلُ الْوَاحِدُ يَتْبَعُهُ أَرْبَعُوْنَ امْرَأَةً يَأْذَنَ بِهِ مِنْ قِلَّةِ الرِّجَالِ وَكَثَرَةِ النِّسَاءِ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৮২৫। আবু মূসা আল আশ’আরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মানুষের ইতিহাসে এমন এক যুগ আসবে যখন একজন লোক তার স্বর্ণের যাকাত নিয়ে ঘুরে বেড়াবে কিন্তু তা গ্রহণ করার জন্য কোন লোক খুঁজে পাবে না। সে সময় দেখা যাবে যে, পুরুষের সংখ্যাল্পতা ও নারীর সংখ্যাধিক্যের কারণে চল্লিশজন নারী সঙ্গমস্বাদ লাভের জন্য একজন পুরুষকে অনুসরণ করবে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عنْهُ عَنِ النبي صلى الله ١٨٢٦ – وَعَن أبي هريرة رضى ا اشْتَرى رَجُلٌ مِّنْ رَجُلٍ عَقَارًا فَوَجَدَ الَّذِي اشْتَرَى الْعَقَارَ فِي عَقَارِهِ جَرَةٌ فِيهَا ذَهَبٌ فَقَالَ لَهُ الَّذِي اشْتَرَى الْعَقَارَ خُذْ ذَهَبَكَ إِنَّمَا اشْتَرَيْتُ مِنْكَ الْأَرْضِ ولم أشتر الذهَبَ وَقَالَ الَّذِي لَهُ الْأَرْضُ إِنَّمَا بعتُكَ الْأَرْضَ وَمَا فِيهَا فَتَحَاكَمَاإلى رَجُلٍ فَقَالَ الَّذِي تَحَاكَمَا إِلَيْهِ الكُما ولد قَالَ أَحَدُهُمَا لِي غُلَامٌ وَقَالَ الْآخَرُ لي جَارِيَةٌ قَالَ انْكِحَ الْغُلَامَ الْجَارِيَةَ وَأَنْفِقُوا عَلَى أَنْفُسِهِمَا مِنْهُ وَتَصَدِّقًا -متفق عليه.

১৮২৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু জমি ক্রয় করে। ক্রেতা উক্ত জমির মধ্যে সোনা ভর্তি কলসী পেলো। সে বিক্রেতাকে বললো, আপনি আপনার কলসী ফেরত নিন। কেননা আমি আপনার নিকট থেকে কেবল জমি ক্রয় করেছি, সোনা ক্রয় করিনি। জমি বিক্রেতা বললো, আমি তো আপনার কাছে জমি এবং তার মধ্যে যা আছে সবই বিক্রয় করেছি। তখন উভয়ে মীমাংসার জন্য তৃতীয় ব্যক্তির কাছে গেলো। মীমাংসাকারী উভয়কে জিজ্ঞেস করলো, তোমাদের কি সন্তান-সন্ততি আছে। একজন বললো, আমার এক ছেলে আছে এবং অন্যজন বলল, আমার এক মেয়ে আছে। মমাংসাকারী বললো, ছেলেকে মেয়ের সাথে বিবাহ দাও এবং তাদের উভয়ের জন্য এই সম্পদ খরচ কর এবং দান-খয়রাত কর।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۲۷ – وَعَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ كَانَتْ امْرَأَتَانِ مَعَهُمَا ابْنَاهُمَا جَاءَ الذِّنْبُ فَذَهَبَ بِابْنِ إِحْدَاهُمَا فَقَالَتْ لِصَاحِبَتِهَا إِنَّمَا ذَهَبَ بابنك وقالت الأخرى إِنَّمَا ذَهَبَ بابنك فَتَحَاكَمَا إِلى دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلامُ فَقَضَى به الكبرى فَخَرَجَنَا عَلَى سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَأَخْبَرَنَاهُ فَقَالَ ائْتُونِي بالسكين اشقهُ بَيْنَهُما فقالت الصغرى لا تَفْعَلُ رَحِمَكَ اللَّهُ هُوَ ابْنُهَا فَقَضَى بِهِ للصغرى – متفق عليه.

১৮২৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: পূর্ব যুগে দু’জন স্ত্রীলোকের সাথে তাদের দু’টি পুত্র সন্তান ছিল। একটি বাঘ এসে তাদের একজনের সন্তানকে নিয়ে গেল। যার পুত্রকে বাঘে নিয়ে গেল সে অপর স্ত্রীলোকটিকে বলল, তোমার পুত্রকেই বাঘে নিয়েছে। অপরজন বলল, বরং তোমার পুত্রকেই বাঘে নিয়েছে। তারা উভয়ে মীমাংসার জন্য দাউদ আলাইহিস সালামের কাছে গেল। তিনি বড় স্ত্রীলোকটির পক্ষে রায় দিলেন। অতঃপর তারা উভয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে সুলাইমান ইবনে দাউদ আলাইহিস সালামের নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে ঘটনাটি বলল। তিনি তাঁর সংগীদের বললেন: ছুরি নিয়ে এসো, আমি এই বাচ্চাটিকে কেটে দু’জনকে ভাগ করে দেব। একথা শুনে ছোট স্ত্রীলোকটি বলল, আল্লাহ আপনার প্রতি অনুগ্রহ করুন, তা করবেন না। বাচ্চাটি তারই (বড় স্ত্রীলোকটি চুপ করে ছিল)। তাই তিনি ছোট স্ত্রীলোকটির পক্ষে রায় দিলেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۲۸ – وَعَنْ مِرْدَاسِ الْأَسْلَمِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَذْهَبُ الصَّالِحُونَ الأول فالأول وتبقى حثالة كحالة الشعير أو التمر لا يبَالِيْهِمُ اللهُ بَالَهُ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৮২৮। মিদরাস আল-আসলামী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নেককার লোকেরা একের পর এক মৃত্যুবরণ করতে থাকবে এবং যবের ভূষি অথবা খেজুর ছালের ন্যায় অপদার্থ ও অকোজে লোকেরা বেঁচে থাকবে। আল্লাহ তাদের কোন পরোয়াই করবেন না।
ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۲۹ – وَعَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِع الزرقي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ جَاءَ جِبْرِيلُ إلى النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا تَعُدُّونَ أَهْلَ بَدْرٍ فِيكُمْ قَالَ مِنْ افْضَلِ الْمُسْلِمِينَ أَوْ كَلِمَةً نَحْرُهَا قَالَ وَكَذلِكَ مَنْ شَهِدَ بَدْرًا مِّنَ الْمَلَائِكَةِ رواه البخاري.

১৮২৯। রিফাআ ইবনে রাফে আয-যুরাকী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জিবরীল (আ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: আপনাদের মধ্যে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী লোকদের মর্যাদা কিরূপ? তিনি বলেন: তারা মুসলিমদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ অথবা তিনি অনুরূপ অর্থবোধক কথা বলেছেন। জিবরীল (আ) বললেন। অনুরূপভাবে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ফেরেশতাদের মর্যাদাও অন্য সব ফেরেশতার ঊর্ধ্বে।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۳۰ – وَعَن ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم إذا أنزلَ اللهُ تَعَالَى بِقَوْمٍ عَذَابًا أَصَابَ الْعَذَابُ مَنْ كَانَ فِيهِمْ ثُمَّ يُعِثُوا عَلَى أَعْمَالِهِمْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮৩০। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা যখন কোন জাতির উপর আযাব নাযিল করেন, তখন তাদের প্রতিটি লোক ঐ আযাবে নিপতিত হয়। কিয়ামাতের দিন এসব লোককে তাদের কার্যকলাপসহ উঠানো হবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۳۱ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ جِذْعُ يَقُومُ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْنِي فِي الْخُطْبَةِ فَلَمَّا وُضِعَ الْمِنْبَرُ سَمِعْنَا لِلْجِذْعِ مِثْلَ صَوْتِ العشارِ حَتَّى نَزَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَيْهِ فَسَكَنَ، وَفِي رواية فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ قَعَدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَصَاحَتِ النَّخْلَةُ الَّتِي كَانَ يَخْطُبُ عِنْدَهَا حَتَّى كَادَتْ أَنْ تَنْشَقُ وَفِي رِوَايَةٍ فَصَاحَتْ صَبَاحَ الصَّبِيِّ فَنَزَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَخَذَهَا فَضَمِّهَا اليه فَجَعَلَتْ تَن أنين الصبي الذي يُسكتُ حَتَّى اسْتَقَرْتُ قَالَ بَكَتْ عَلَى مَا كانتْ تَسْمَعُ مِنَ الذِّكْرِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৮৩১। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে নববীতে খেজুর গাছের একটি খুঁটি ছিল। তাতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে নবী সাল্লাল্লাহ (শুক্রবারে জুমু’আর) খুতবা দিতেন। যখন মিম্বার স্থাপন করা হল তখন আমরা উক্ত গাছ থেকে গর্ভবর্তী উটের মত বেদনাদায়ক শব্দ শুনতে পেলাম। নবী সাল্লাল্লাহু মিম্বার থেকে নেমে এসে সেটির উপর নিজের হাত রাখলে তার আওয়াজ থেমে গেল। অন্য বর্ণনায় আছে: শুক্রবার এলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু’আর খুতবা দিতে মিম্বারে উঠলেন। তখন খেজুরের খুঁটিটা চিৎকার শুরু করে দিল, এমনকি তা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হল। এই খুঁটির পাশে দাঁড়িয়েই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিতেন। অন্য এক বর্ণনায় আছেঃ ঐ খুঁটি ছোট বাচ্চার মত চিৎকার করে কান্না জুড়ে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বার থেকে নেমে এসে খুঁটিটিকে জড়িয়ে ধরলেন। সেটা পুনরায় এমন সব বাচ্চাদের মত কাঁদতে লাগল যাদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে থামানো হয়। অবশেষে তার ক্রন্দন থামলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ গাছটি যে আলোচনা শুনে আসছিল তা থেকে বঞ্চিত হয়ে কাঁদছিল।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۳۲ – وَعَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِي جُرْثُومِ بْنِ نَاشِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللهَ تَعَالَى فَرَضَ فَرَائِضَ فَلَا تُضَبِّعُوهَا وَحَدٌ حُدُوداً فَلَا تَعْتَدُوهَا وَحَرَّمَ أَشْيَاء فَلا تَنْتَهكُوهَا وَسَكَتَ عَنْ أَشْيَاءَ رَحْمَةً لَكُمْ غَيْرَ نِسْيَانِ فَلَا تَبْحَثُوا عَنْهَا حَدِيثٌ حَسَنٌ رَوَاهُ الدَّارُ قَطْنِي وَغَيْرُهُ.

১৮৩২। আবু সা’লাবা আল-খুশানী জুরসূম ইবনে নাশির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি কতকগুলো বিষয় ফরয করেছেন। (অবশ্য পালনীয় করেছেন), তা নষ্ট করো না; কতকগুলো সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, তা লংঘন করো না; কতকগুলো জিনিস হারাম (অবশ্য ‘পরিত্যাজ্য) করেছেন, সেগুলোর মধ্যে লিপ্ত হয়ে পাপ করো না এবং তোমাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে কতকগুলো জিনিস সম্পর্কে ইচ্ছা করেই নীরব রয়েছেন, সেগুলো নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়ো না।

হাদীসটি হাসান, ইমাম দারা কুতনী প্রমুখ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۳۳ – وَعَنْ عَبْدِ الله بن أبي أوفى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْعَ غَزَوَات تَأْكُلُ الْجَرَادَ، وَفِي رِوَايَةٍ تَأْكُلُ مَعَهُ الجراد – متفق عليه.

১৮৩৩। আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাতটি গাযওয়ায় (যুদ্ধে) অংশগ্রহণ করেছি। তখন আমরা টিড্ডি খেয়েছি।’ অন্য বর্ণনায় আছে: আমরা তাঁর সাথে টিডিড খেয়েছি। [টিকা:’টিড্ডি’ এক প্রকার ফড়িং জাতীয় পতংগ। ঘাস-পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে। এগুলো খাওয়া জায়েয।]

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٣٤ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يُلْدَعُ الْمُؤْمِنُ مِنْ جُحْرٍ وَاحِدٍ مَرَّتَيْنِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮৩৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মুমিন ব্যক্তি একই গর্ত থেকে দু’বার দংশিত হয় না।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٣٥ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلا يَنظُرُ إِلَيْهِمْ وَلا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ رَجُلٌ عَلَى فَضْلِ مَا. بِالْفَلَاةِ يَمْنَعُهُ مِن ابْنِ السَّبِيلِ وَرَجُلٌ بَايَعَ رَجُلا سِلْعَةَ بَعْدَ الْعَصْرِ فَخَلَفَ بِاللَّهِ لأَخَذَها بكذا وكذا فَصَدِّقَهُ وَهُوَ عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ وَرَجُلٌ بَايَعَ إِمَامًا لَا يُبَايِعُهُ الا لدنيا فإن أعطاه منها وفى وأن لم يعطه منها لم يف متفق عليه.

১৮৩৫। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তিন ধরনের লোকের সাথে আল্লাহ কিয়ামাতের দিন কথা বলবেন না, তাদের প্রতি তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে পীড়াদায়ক শান্তি। (১) যে ব্যক্তির মালিকানাধীন উন্মুক্ত মাঠে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি রয়েছে, কিন্তু সে তা পথিক-মুসাফিরদের ব্যবহার করতে দেয় না। (২) যে ব্যক্তি আসরের নামাযের পর কোন ব্যক্তির কাছে তার পণ্যদ্রব্য বিক্রয় করতে গিয়ে আল্লাহর নামে শপথ করে বললো, আমি এগুলো এত এত মূল্যে ক্রয় করেছি। ক্রেতা তা বিশ্বাস করলো। কিন্তু সে তা উক্ত মূল্যে ক্রয় করেনি (মিথ্যা শপথ করেছে)। (৩) আর যে ব্যক্তি ইমামের (নেতার) কাছে শুধুমাত্র পার্থিব সুযোগ-সুবিধা লাভের জন্য বাই’আত গ্রহণ করলো। যদি ইমাম তাকে কিছু পার্থিব স্বার্থ প্রদান করে তবে অনুগত থাকে, আর না দিলে অনুগত থাকে না।

ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٣٦ – وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بَيْنَ الْتَفْخَتَيْنِ أَرْبَعُونَ قَالُوا يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَرْبَعُونَ يَوْمًا قَالَ أَبَيْتُ قَالُوا أَرْبَعُونَ سَنَةً قَالَ أَبَيْتُ قَالُوا أَرْبَعُونَ شهرا قال ابيتُ وَيَبْلَى كُلِّ شَيْءٍ مِنَ الْإِنْسَانِ الا عجب الذنب فِيهِ يُرَكَبُ الْخَلْقُ ثُمَّ يُنزِلُ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَيَنْبُتُونَ كَمَا يَنْبَتُ الْبَقْلُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮৩৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: শিঙ্গার দু’টি ফুৎকারের মাঝে চল্লিশের ব্যবধান হবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হে আবু হুরাইরা। চল্লিশ দিনের ব্যবধান? তিনি বললেন, আমি অস্বীকার করলাম। লোকেরা বললো, তাহলে কি চল্লিশ বছর। তিনি বললেন, আমি অস্বীকার করলাম। লোকজন আবারও বললো তাহলে কি চল্লিশ মাস? তিনি বললেন, এবারও আমি অস্বীকার করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: মানুষের দেহের সব কিছু জরাজীর্ণ হয়ে যায় কিন্তু নিতম্বের হাড় নষ্ট হয় না। মানুষকে তার সাথে বিন্যাস করা হবে। এরপর আল্লাহ বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। ফলে মানুষ উদ্ভিদের মত গজিয়ে উঠবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۳۷ – وَعَنْهُ قَالَ بَيْنَمَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَجْلِسِ يُحَدِّثُ الْقَوْمَ جاء أعرابي فَقَالَ مَتَى السَّاعَةُ فَمَضَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَدِّثُ فَقَالَ الْقَوْمُ سَمِعَ مَا قَالَ فَكَرِهَ مَا قَالَ وَقَالَ بَعْضُهُمْ بَلْ لَمْ يَسْمَعُ حَتَّى إِذَا قضى حَدِيثَهُ قَالَ أَيْنَ السَّائِلُ عَنِ السَّاعَةِ قَالَ مَا أَنَا يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ إِذا يعَتِ الْأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ قَالَ كَيْفَ إِضَاعَتُهَا قَالَ إِذَا وُسِدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أهلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৮৩৭। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মজলিসে লোকদের উদ্দেশে কথা বলছিলেন। তখন এক বেদুঈন এসে জিজ্ঞেস করল, কিয়ামাত কখন হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরতি না দিয়ে কথা বলেই যাচ্ছিলেন। উপস্থিত লোকদের কেউ কেউ বললো, লোকটির কথা তিনি শুনেছেন কিন্তু অপছন্দ করেছেন। কেউ কেউ বলল, তার কথা তিনি আদৌ শুনেননি। অবশেষে কথা বলা শেষ করে তিনি জিজ্ঞেস করলেন: কিয়ামাত সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এই যে আমি। তিনি বললেন: যখন আমানাত নষ্ট করা হবে তখন কিয়ামাতের অপেক্ষা কর। প্রশ্নকারী বলল, আমানাত নষ্ট করার অর্থ কি? তিনি বললেন: যখন অনুপযুক্ত লোককে সরকারী কাজের দায়িত্ব দেয়া হবে তখন কিয়ামাতের অপেক্ষা কর।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۳۸ – وَعَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُصَلُّونَ لَكُمْ فَانْ أَصَابُوا فَلَكُمْ وَإِنْ أَخْطَؤُوا فَلَكُمْ وَعَلَيْهِمْ – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৮৩৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নেতৃবৃন্দ নামায পড়াবে। তা ঠিকমত পড়ালে তারাও সাওয়াব পাবে, তোমরাও সাওয়াব পাবে এবং ভুল পড়ালে তোমরা সাওয়াব পাবে, কিন্তু তারা গুনাহগার হবে।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۳۹ – وَعَنْهُ كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ) قَالَ خَيْرَ النَّاسِ لِلنَّاسِ يَأْتُونَ بهم في السلاسل فِي أَعْنَاقِهِمْ حَتَّى يَدْخُلُوا فِي الْإِسْلَامِ .

১৮৩৯। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। “তোমরা সর্বোত্তম উম্মত, তোমাদেরকে মানবজাতির হিদায়াতের জন্য কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত করা হয়েছে” তিনি বলেন, লোকদের জন্য উত্তম সেই ব্যক্তি যে লোকদের ঘাড়ে শিকল পরিয়ে নিয়ে আসে আর শেষ পর্যন্ত তারা ইসলামে প্রবেশ করে।

١٨٤٠ – وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عَجِبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلٌ مِنْ قَوْمِ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ في السلاسل – رَوَاهُمَا الْبُخَارِيُّ مَعْنَاهُ يُؤْسَرُونَ وَيُقَدِّدُونَ ثُمَّ يُسْلِمُونَ فَيَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ.

১৮৪০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ এমন একদল লোকের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন যারা শৃঙ্খল পরিহিত অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে।

ইমাম বুখারী (উপরোক্ত) হাদীস দু’টি বর্ণনা করেছেন। হাদীস দু’টির তাৎপর্য এই যে, তারা যুদ্ধবন্দী হিসাবে মুসলিম দেশে নীত হবে এবং ইসলাম গ্রহণ করে জান্নাতবাসী হবে।

١٨٤١ – وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَحَبُّ الْبِلادِ إِلَى اللَّهِ مساجدها وأبغض البلاد إلى اللهِ أَسْوَاقُهَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৮৪১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: শহরসমূহের মধ্যে মসজিদের স্থানগুলো আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং শহরসমূহের মধ্যে বাজারের স্থানগুলো আল্লাহর কাছে সর্বাধিক ঘৃণিত।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٤٢ – وَعَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ مِنْ قَوْلِهِ قَالَ لَا تَكُونَنَّ إِنِ استطعت أول من يدخل السوق ولا أخر من يُخْرُجُ مِنْهَا فَإِنَّهَا مَعْرَكَةُ الشَّيْطَانِ وبهَا يَنصُبُ رَايَتَهُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ هكذا . وَرَوَاهُ الْبَرْقَانِي فِي صَحِيحِهِ عَنْ سَلْمَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا تَكُنْ أَوَّلَ مَنْ يُدْخُلُ السُّوقَ وَلَا أُخِرَ مَن يُخْرُجُ مِنْهَا فِيهَا بَاضَ الشَّيْطَانُ وَفَرْخَ

১৮৪২। সালমান আল ফারেসী (রা) থেকে বর্ণিত। তাঁর নিজের কথা হলঃ যদি তোমাদের পক্ষে সম্ভব হয় তবে বাজারে প্রথম প্রবেশকারী এবং সর্বশেষ প্রস্থানকারী হয়ো না। কেননা বাজার হলো শয়তানের যুদ্ধক্ষেত্র। শয়তান এখানে তার পতাকা উত্তোলন করে রাখে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি এভাবেই বর্ণনা করেছেন। বারকানী তার সহীহ গ্রন্থে সালমান আল ফারেসী (রা) থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাজারে প্রথম প্রবেশকারী ও সর্বশেষ প্রস্থানকারী হয়ো না। কেননা শয়তান এখানে ডিম পেড়ে বাচ্চা ফুটায়।

اللَّهُ عَنْهُ قَالَ ١٨٤٣ – وَعَنْ عَاصِم الأحولِ عَنْ عَبْدِ الله بْنِ سَرْجِ رَضى قُلْتُ لِرَسُولِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ قَالَ وَلَكَ قَالَ عَاصِمٌ فَقُلْتُ لَهُ اسْتَغْفَرَ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نَعَمْ وَلَكَ ثُمَّ تلا هذه الآية (وَاسْتَغْفِرُ لذَنْبكَ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ) – رَوَاهُ مُسْلِم

১৮৪৩। আসিম আল-আহ্ওয়াল (র) থেকে আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস (রা)-র সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ আপনার গুনাহ মাফ করে দিন। তিনি বললেনঃ তোমার গুনাহও। আসিম (র) বলেন, আমি তাকে (আবদুল্লাহ) বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি বললেন, হাঁ তোমার জন্যও। অতঃপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন (অনুবাদ): “আর তুমি ক্ষমা প্রার্থনা কর নিজের জন্য এবং মু’মিন পুরুষ ও নারীদের জন্য।” (সূরা মুহাম্মাদ: ১৯)

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٤٤ – وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلامِ النُّبُوَّةِ الْأُولَى إِذَا لَمْ تَسْتَحِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৮৪৪। আবু মাসউদ আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পূর্ববর্তী নবীদের উপদেশগুলোর মধ্যে যা মানুষের কাছে পৌঁছেছে তা হলঃ তোমার লজ্জা না থাকলে যা ইচ্ছা তাই করতে পার।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٤٥ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّمَ أَوَّلُ مَا يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي الدِّمَاءِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

১৮৪৫। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কিয়ামাতের দিন সর্বপ্রথম মানুষের যে অপরাধের বিচার করা হবে তা হলো হত্যার বিচার।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٤٦ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُلِقَتِ الْمَلَائِكَةُ مِنْ نُورٍ وَخُلِقَ الْجَانُ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وصِفَ لَكُمْ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৮৪৬। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ফেরেশতাদেরকে নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, জিনদেরকে আগুনের লেলিহান শিখা থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আদম (আ)-কে সেই জিনিস দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে যা তোমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٤٧ – وَعَنْهَا قَالَتْ كَانَ خُلُقُ نَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْقُرْآنَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي جُمْلَةٍ حَدِيث طويل .

১৮৪৭। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বভাব-চরিত্র ও আচার-ব্যবহার ছিল আল কুরআনের বাস্তব নমুনা।
ইমাম মুসলিম এক দীর্ঘ হাদীসে এটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٤٨ – وَعَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَحَبُّ لِقَاءَ اللَّهِ احب اللهُ لِقَائَهُ وَمَنْ كَرِهَ لقَاءَ الله كَرَهُ اللَّهُ لِقَاءَهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهُ أَكْرَاهِيَةً الْمَوْتِ فكلنا نكرهُ الْمَوْتَ قَالَ ليس كذلك وَلَكِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا بُشِّرَ بِرَحْمَةِ الله وَرِضْوَانِهِ وَجَنَّتِهِ أَحَبُّ لِقَاءَ اللهِ فَأَحَبُّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا بُشِّرَ بِعَذَابِ اللَّهِ وسخطه كره لقاء الله وَكَرِهَ اللهُ لِقَاءَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ

১৮৪৮। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সাক্ষাত লাভ করা পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাত লাভ পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সাক্ষাত লাভ পছন্দ করে না আল্লাহও তার সাক্ষাত লাভ পছন্দ করেন না। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। এর অর্থ কি মৃত্যুকে অপছন্দ করা? যদি তাই হয় তা আমাদের সবাই তো মৃত্যুকে অপছন্দ করে। তিনি বলেনঃ না, তা নয়, বরং মুমিন ব্যক্তিকে আল্লাহর রহমত, সন্তুষ্টি ও তাঁর জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হলে সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত লাভকে খুবই পছন্দ করে এবং আল্লাহও তার সাক্ষাত পছন্দ করেন। পক্ষান্তরে কাফির ব্যক্তিকে যখন আল্লাহর আযাব ও তাঁর অসন্তুষ্টির সুসংবাদ (?) দেয়া হয়, সে তখন আল্লাহর সাক্ষাত লাভকে অপছন্দ করে এবং আল্লাহ্ও তার সাক্ষাত অপছন্দ করেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٤٩ – وَعَنْ أَمِّ الْمُؤْمِنِينَ صَفِيَّةَ بِنْتِ حُبَي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُعْتَكفًا فَاتَيْتُهُ أَزُورَهُ لَيْلاً فَحَدَّثْتُهُ ثُمَّ قُمْتُ لَأَنْقَلِبَ فَقَامَ مَعِي لِيَقْلِبَنِي فَمَرَّ رَجُلانِ مِنَ الْأَنْصَارِ فَلَمَّا رَأَيَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْرَعَا فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى رِسْلِكُمَا إِنَّهَا صَفِيَّةٌ بِنْتِ حُبَيٍّ فَقَالَا سُبْحَانَ اللهِ يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنْ ابْنِ آدَمَ مَجْرَى الدِّمِ وَإِنِّي خَشِيتُ أَنْ يَقْذَفَ فِي قُلُوبَكُمَا شَرَأَ أَوْ قَالَ شَيْئًا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮৪৯। উন্মুল মুমিনীন সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই ইবনে আখতাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই’তিকাফরত ছিলেন। আমি রাতের বেলা তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে গেলাম। তাঁর সাথে কথাবার্তা বলে আমি ফিরে আসার জন্য উঠে দাঁড়ালে তিনিও আমাকে কিছু দূর এগিয়ে দিতে আমার সাথে আসলেন। ইতিমধ্যে দু’জন আনসার ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে তারা তাড়াতাড়ি চলে যাচ্ছিল। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ একটু দাঁড়াও। (তারপরে বললেনঃ) এ হলো (আমার স্ত্রী) সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই। তারা বলে উঠল, সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ মহা পবিত্র)। হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: আদম সন্তানের দেহে রক্ত চলাচল করার মত শয়তান তার দেহে চলাচল করে। আমার আশংকা হল, হয়তো শয়তান তোমাদের মনে খারাপ ধারণা সৃষ্টি করে দেবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٥٠ – وَعَنْ أَبِي الْفَضْلِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ حُنَيْنٍ فَلَزِمُتُ أَنَا وَأَبُو سُفْيَانَبن الْحَارِثِ ابْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ نُفَارِقُهُ وَرَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى بَغْلَةٍ لَهُ بَيْضَاءَ فَلَمَّا الْتَقَى الْمُسْلِمُونَ وَالْمُشْرِكُونَ وَلَى الْمُسْلِمُونَ مُدْبِرِينَ فَطَفِقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْكُضُ بَغْلَتَهُ قِبَلَ الْكُفَّارِ وَأَنَا أَخِذُ بِلِجَامٍ بَغْلَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اكُفُهَا إِرَادَةَ أَن لا تُسْرِعَ وَأَبُو سُفْيَانَ أَخَذَ بِرِكَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَي عَبَّاسُ نَادِ أَصْحَابَ السَّمْرَةِ قَالَ الْعَبَّاسُ وَكَانَ رَجُلاً صَيْتًا فَقُلْتُ بِأعْلَى صَوْتِي أَيْنَ أَصْحَابَ السَّمَرَةِ فَوَاللَّهِ لكَان عَطْفَتَهُمْ حِينَ سَمِعُوا صَوْتِي عَطْفَةُ الْبَقَرِ عَلَى أَوْلَادِهَا فَقَالُوا يَا لَبَّيْكَ يَا لبيك فَاقْتَتَلُوا هُمْ وَالْكُفَّارُ وَالدَّعْوَةُ فِي الْأَنْصَارِ يَقُولُونَ يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ ثُمَّ قُصِرَتِ الدَّعْوَةُ عَلَى بَنِي الْحَارِثِ ابْنِ الْخَزْرَجِ فَنَظَرَ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَلَى بَغْلَتِهِ كَالْمُتَطاول عَلَيْهَا إِلَى قِتَالِهِمْ فَقَالَ هذا حِينَ حَمِي الْوَطِيسُ ثُمَّ أَخَذَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَصَيَاتٍ فَرَمَى بهِنَّ وُجُوهَ الْكُفَّارِ ثُمَّ قَالَ انْهَزَمُوا وَرَبِّ مُحَمَّدٍ فَذَهَبَتُ انْظُرُ فَإِذَا الْقِتَالُ عَلَى هَيْئَتِهِ فِيمَا أَرَى فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَمَاهُمْ بَحَصَيَاتِهِ فَمَا زِلْتُ أَرَى حَدَهُمْ كَلِيلاً وَآمُرَهُمْ مُدْيرًا – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৮৫০। আবুল ফাদল আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হুনাইনের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। আমি ও আবু সুফিয়ান ইবনুল হারিস ইবনে আবদুল মুত্তালিব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাথে ছিলাম। আমরা তাঁর থেকে কখনও বিচ্ছিন্ন হইনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাদা খচ্চরের পিঠে আরোহিত ছিলেন। যখন কাফিরদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধ শুরু হল, তখন মুসলিমরা পালাতে লাগল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খচ্চরকে কাফিরদের দিকে হাঁকিয়ে নিতে থাকলেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খচ্চরের লাগাম টেনে ধরে বাধা দিচ্ছিলাম যাতে তা দ্রুত অগ্রসর হতে না পারে। আবু সুফিয়ান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খচ্চরের রিকাব ধরে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে আব্বাস! বাই’আতে রিদওয়ানে অংশ গ্রহণকারীদেরকে ডাক। আব্বাস (রা) ছিলেন উচ্চকণ্ঠের অধিকারী। তিনি বললেন, আমি উচ্চস্বরে এই বলে ডাকলাম, বাই’আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীগণ কোথায়? আল্লাহর শপথ। আমার আহ্বান শোনার পর তাদের বাৎসল্য ও মমত্ব এমনভাবে সাড়া দিল যেমন গাভী তার সদ্য প্রসূত বাচ্চার প্রতি সাড়া দেয়। তারা সাড়া দিয়ে বলল, আমরা হাজির আছি, আমরা হাজির আছি। তারা কাফিরদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লিপ্ত হল। এ সময় সবাই আনসারদেরকেও এই বলে আহ্বান জানাচ্ছিল, হে আনসারগণ, হে আনসারগণ। এরপর শুধু বনূ হারিস ইবনুল খাযরাজকে ডাকা হল। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খচ্চরের উপর থেকে ঘাড় উঁচু করে যুদ্ধের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে বললেন: এই সময় তুমুল যুদ্ধ চলেছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু পাথরের টুকরা উঠিয়ে কাফিরদের দিকে নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন: মুহাম্মাদের প্রভুর শপথ! তারা পরাজিত হবে। আমি যুদ্ধের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছিলাম। দেখলাম যে, যুদ্ধ আগের মতই চলছে। তবে আল্লাহর শপথ! তিনি যখন তাদের প্রতি পাথরের টুকরাগুলো নিক্ষেপ করলেন তখন আমি দেখলাম যে, তাদের আক্রমণের তীব্রতা ঝিমিয়ে পড়েছে এবং পরিণামে তারা পরাজিত হয়ে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٥١ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللهَ طيب لا يَقْبَلُ الا طيبًا وَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ فَقَالَ تَعَالَى : يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صالحا . وَقَالَ تَعَالَى : يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ ثُمَّ ذكر الرجل يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَتْ أَغْبَرَ يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ وَمَلْبَسُهُ حَرَامَ وَغَذِيَ بِالْحَرَامِ فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذلِكَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৮৫১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: হে মানবমণ্ডলী! আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র জিনিসই কবুল করেন। আল্লাহ রাসূলদেরকে যে হুকুম দিয়েছেন মুমিনদেরকেও সেই হুকুম দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: “হে রাসূলগণ। পবিত্র জিনিস খাও এবং নেক কাজ কর। তোমরা যা কিছুই কর আমি তা ভালভাবেই জানি” (সূরা আল মুমিনূন)। আল্লাহ তা’আলা আরো বলেছেন: হে ঈমানদারগণ। আমি তোমাদেরকে যে পবিত্র রিস্ক দিয়েছি তা খাও (সূরা আল বাকারা: ১৭২)। অতঃপর তিনি এমন এক লোক সর্ম্পকে আলোচনা করলেন যে দীর্ঘ পথ সফর করেছে। ফলে তার অবস্থা হয়েছে উসকো-খুসকো ও ধূলিমলিন। এমতাবস্থায় সে তার হাত দু’খানি আসমানের দিকে প্রসারিত করে, ‘হে প্রভু, হে প্রভু’, বলতে থাকে। অথচ সে যা খায় তা হারাম, যা পান করে তাও হারাম, যা পরিধান করে তাও হারাম এবং (এক কথায়) তার জীবন ধারণের সবকিছুই হারাম। সুতরাং কিভাবে তার দু’আ কবুল হবে?
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٥٢ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يوْمَ الْقِيَامَةِ وَلا يُزَكِّيهِمْ وَلا يَنظُرُ اليهم وَلَهُمْ عَذَابٌ الهُمَّ شَيْخٌ زَانٍ وَمَلكَ كَذَابٌ وَعَائِلٌ مُسْتَكْبِرُ – رَوَاهُ مُسْلِمُ الْعَائِلُ الْفَقِيرُ.

১৮৫২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তিন ধরনের লোকের সাথে আল্লাহ কিয়ামাতের দিন কথা বলবেন না, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না, তাদের প্রতি তাকাবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। তারা হল: বৃদ্ধ যেনাকারী, মিথ্যাবাদী রাষ্ট্রনায়ক ও অহংকারী দরিদ্র।
ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। “J” শব্দের অর্থ ফকীর।

١٨٥٣ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْحَانُ وَجَيْحَانُ والْفُرَاتُ وَالنَّيْلُ كُلُّ مِنْ أَنْهَارِ الْجَنَّةِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৮৫৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সাইহান (সিহুন), জাইহান (জিহুন), ফোরাত (ইউফ্রেটিস) ও নীল এই চারটি জান্নাতের নদী।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٥٤ – وَعَنْهُ قَالَ أَخَذَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِي فَقَالَ خَلَقَ اللَّهُ التربة يَوْمَ السَّبْتِ وَخَلَقَ فِيهَا الْجِبَالَ يَوْمَ الْأَحَدِ وَخَلَقَ الشَّجَرَ يَوْمَ الْاثْنَيْنِ وخَلَقَ المكروه يَوْمَ الثلاثاء وَخَلَقَ النُّورَ يَوْمَ الْأَرْبِعَاءِ وَبَثَّ فِيهَا الدَّوَابِ يَوْمَ الْخَمِيسِ وَخَلَقَ آدَمَ عَلَيْهِ السَّلامُ بَعْدَ الْعَصْرِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فِي آخِرِ الْخَلْقِ فِي آخِرِ سَاعَةٍ مِنَ النَّهَارِ فِيمَا بَيْنَ الْعَصْرِ إِلَى اللَّيْلِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ

১৮৫৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে বললেন: আল্লাহ শনিবার দিন মাটি সৃষ্টি করেছেন, রবিবার তাতে পাহাড়-পর্বত সৃষ্টি করেছেন, সোমবার গাছপালা সৃষ্টি করেছেন, মঙ্গলবার খারাপ জিনিসসমূহ সৃষ্টি করেছেন, বুধধায় নূর (আলো) সৃষ্টি করেছেন, বৃহস্পতিবার জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন এবং সৃষ্টির শেষদিকে শুক্রবার শেষ প্রহরে আসর ও সন্ধ্যার মধ্যবর্তী সময়ে আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٥٥ – وَعَنْ أَبِي سُلَيْمَانَ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لَقَدِ انْقَطَعَتْ فِي يَدِي يَوْمَ مُؤْتَهُ تِسْعَةُ أَسْبَابِ فَمَا بَقِي فِي يَدِى الأَصَفِيحَةٌ يَمَانِيَةً رَوَاهُ الْبُخَارِي

১৮৫৫। আবু সুলাইমান খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুতার যুদ্ধের দিন আমার হাতে নয়খানা তরবারি ভেঙ্গে যায়। ১ সবশেষে আমার হাতে শুধুমাত্র একখানা ইয়ামনী তরবারি অবশিষ্ট ছিল। [টিকা: অষ্টম হিজরী সনে (৬২৯ খৃ.) রোমীয় সামন্ত রাজা শুরাহবীল মুসলিম দূতকে সিরিয়া সীমান্তে ‘মুতা’ নামক স্থানে অন্যায়ভাবে হত্যা করলে ‘মুতার যুদ্ধের’ সূত্রপাত হয়। এই যুদ্ধে পরপর তিনজন মুসলিম সেনাপতি যায়িদ ইবনে হারিসা, জাফর তাইয়ার এবং আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা শহীদ হন। মহাবীর খালিদ সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করার পর যুদ্ধের মোড় পরিবর্তিত হয় এবং মুসলিমগণ নিরাপত্তা লাভ করেন। এই যুদ্ধে খালিদের অসীম বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে মহানবী (সা) তাকে ‘সাইফুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর তরবারি’ খিতাবে ভূষিত করেন।]

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٥٦ – وَعَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذا حَكَمَ الْحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ وَإِنْ حَكَمَ وَاجْتَهَدَ فَأَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮৫৬। আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন। কোন বিচারক ফায়সালা দেয়ার ব্যাপারে ইজতিহাদ (চিন্তাভাবনা) করে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হলে তাকে দু’টি সাওয়াব দেয়া হয় এবং ইজতিহাদে ভুল করলে একটি সাওয়াব দেয়া হয়।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٥٧ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْحُمَّى مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ فَأَبْرِدُوهَا بِالْمَاءِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮৫৭। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জ্বর জাহান্নামের প্রচণ্ড উত্তাপের অংশবিশেষ। তোমরা পানি দিয়ে তা ঠাণ্ডা কর।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۵۸ – وَعَنْهَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صَوْمٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيه – متفق عليه.

১৮৫৮। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফরয রোযা বাকি রেখে মারা গেল্প, স্কার পক্ষ থেকে তার ওয়ারিস বা অভিভাবক সেই রোযা আদায় করবে। [টিকা: কোন ব্যক্তি শরী’আত সম্মত কারণে ফরয রোযা ভংগ করল। কিন্তু তার কাযা আদায় করার পূর্বেই সে মারা গেল। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীগণ তার পক্ষ থেকে রোখা আদায় করতে পারে কি না, সে ব্যাপারে ইমামদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। উল্লেখিত হাদীস অনুসারে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (র) মৃতের পক্ষ থেকে অন্য লোকের রোযা রাখাকে জায়েয মনে করেন। পক্ষান্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্য হাদীস অনুসারে ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালিক ও ইমাম শাফিঈ (র) ফিদিয়া দেয়া অর্থাৎ মিসকীনকে খাওয়ানোর পক্ষে মত প্রকাশ করেন। নবী (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি রোযা মাথায় রেখে মারা গেল তার পক্ষ থেকে প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে যেন একজন মিসকীনকে খাবার দেয়া হয়।” আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) বলেন, “কেউ কারো পক্ষ থেকে রোযা রাখতে বা নামায আদায় করতে পারে না। অন্যদিকে নবী (সা) এক ব্যক্তিকে তার মায়ের পক্ষ থেকে রোযা রাখতে অনুমতি দিয়েছিলেন। মৃত ব্যক্তির রোযা সম্পর্কে এই উভয় ধরনের হাদীস বিদ্যমান থাকার ফলেই ইমামদের মধ্যে মতভেদ হয়েছে (অনুবাদক)।]

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী (র) বলেন, এই হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তম পন্থা হলঃ যে ব্যক্তির ফরয রোষা কোন কারণে কাবা হল এবং তা পূরণ করার পূর্বেই সে মারা গেল, এই রোযাগুলো তার অভিভাবকদের আদায় করা জায়েয। অভিভাবক বলতে এখানে নিকটাত্মীয়কে বুঝানো হয়েছে। সে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হোক বা না হোক।

١٨٥٩ – وَعَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكِ بْنِ الطَّفَيْلِ أَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ حُدِثَتُ أنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ فِي بَيْعِ أَوْ عَطَاء أَعْطَتُهُ عَائِشَةُ والله لتنتهينْ عَائِشَةُ أَوْ لَاحْجُرَنَّ عَلَيْهَا قَالَتْ أَهُوَ قَالَ هُذَا قَالُوا نَعَمُ قَالَتْ هُوَ للَّهِ عَلَى نَذر أن لا أَكَلَّمَ ابْنَ الزُّبَيْرِ أَبَدًا فَاسْتَشْفَعَ ابْنُ الزُّبَيْرِ إِلَيْهَا حِينَ طَالَتِ الهجرة فقالت لا والله لا أشفَعُ فِيهِ أبدا ولا أَتَحَنَّثُ إِلَى نَدْرِي فَلَمَّا طَالَ ذَلِكَ علَى ابْنِ الزُّبَيْرِ كَلَّمَ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ يَغُوْثَ وقَالَ لَهُمَا انْشُدُكُمَا اللَّهَ لَمَا أَدْخَلْتُمَانِي عَلَى عَائِشَةَ فَإِنَّهَا لَا يَحِلُّ لَهَا أَنْ تنذِرَ قَطِيعَتِي فَأَقْبَلَ بِهِ الْمِسْوَرُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ حَتَّى اسْتَأْذَنَا عَلَى عَائِشَةَ فَقَالَا السلام عَلَيْكَ وَرَحْمَةُ الله وَبَرَكاتُهُ انَدْخُلُ قَالَتْ عَائِشَةُ أَدْخُلُوا قَالُوا كُلْنَا ؟ قَالَتْ نَعَمْ ادْخُلُوا كُلُّكُمْ وَلَا تَعْلَمُ أَنَّ مَعَهُمَا ابْنَ الزُّبَيْرِ فَلَمَّا دَخَلُوا دَخَلَ ابْنُ الزُّبَيْرِ الحِجَاب فَاعْتَنَقَ عَائِشَة وطفق يناشدها ويبكى وطفق المشور وعبد الرحمن يناشد انها الأكلمَتَهُ وَقَبلَتْ مِنْهُ وَيَقُولان أن النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَمَّا قَدْ عَلِمْت مِنَ الهجرة ولا يَحِلُّ لِمُسْلِم أن يُهْجَرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاثَ لَيَالٍ فَلَمَّا اكْثَرُوا عَلَى عَائِشَةَ مِنَ التذكرة والتخريج طَفِقَتُ تُذكِّرُهُمَا وَتَبْكِي وَتَقُوْلُ إِنِّي نذرت والنذر شَدِيدٌ فَلَمْ يَزَالاً بِهَا حَتَّى كَلمَت ابن الزبير وَاعْتَقَتْ فِي نَذْرِهَا ذلِكَ أَرْبَعِينَ رَقَبَةً وَكَانَتْ تَذْكُرُ نَذَرَهَا بَعْدَ ذَلِكَ فَتَبْكِي حَتَّى تَبَلْ دُمُوعُهَا خمَارَهَا رَوَاهُ الْبُخَارِي.

১৮৫৯। আওফ ইবনে মালিক ইবনুত তুফাইল (র) থেকে বর্ণিত। আয়িশা (রা)-কে অবহিত করা হলো যে, তার জিনিস বিক্রয়ের ব্যাপারে কিংবা তিনি আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়েরকে যে উপহার দিয়েছিলেন সে সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়ের (রা) বলেছেন, আল্লাহর শপথ। আরিশাকে এ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় আমি তাঁকে এভাবে অর্থ খরচ করতে বাধা দেব। একথা শুনে আয়িশা (রা) বললেন, সত্যই কি সে একথা বলেছে? লোকজন বলল, হাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহর নামে আমি শপথ করলাম, আমি কখনও আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের সাথে কথা বলব না। যখন দীর্ঘদিন ধরে তাদের উভয়ের মধ্যে কথাবার্তা বন্ধ থাকার পর আবদুল্লাহ ইবনুষ যুবায়ের তাঁর কাছে সুপারিশ করতে লোক পাঠালেন। কিন্তু আয়িশা (রা) বললেন, আল্লাহর শপথ। আমি ভার ব্যাপারে কোন সুপারিশ গ্রহণ করব না এবং আমার মানতও ভংগ করব না। আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়ের (রা)-এর কাছে বিষয়টা যখন কষ্টকর হয়ে দাঁড়াল তখন তিনি মিসওয়ার ইবনে মাখরামা ও আবদুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ ইবনে আবদে ইয়াওসের সাথে এ ব্যাপারে আলাপ করলেন। তিনি তাঁদেরকে বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, তোমরা আমাকে আয়িশা (রা)-এর কাছে নিয়ে চল। কেননা তার জন্য এটা জায়েয নয় যে, আমার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার শপথ করে বসে থাকবেন। মিসওয়ার ও আবদুর রাহমান তাঁকে (চাদরের মধ্যে লুকিয়ে) আয়িশা (রা)-র বাড়িতে গেলেন। ভারা আয়িশার নিকট ভিতরে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে বললেন, আসসালামু আলাইকি ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু (আপনার উপর শান্তি; আল্লাহর অনুগ্রহ ও কল্যাণ বর্ষিত হোক), আমরা কি ভিতরে প্রবেশ করতে পারি? আয়িশা (রা) বললেন, আসুন। তাঁরা বললেন, আমরা সবাই কি আসব? তিনি বললেন, হাঁ সবাই আসুন। তিনি জানতেন না যে, তাদের সাথে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়েরও আছেন। তাঁরা ভিতরে প্রবেশ করলে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়ের (রা) ভিতরে আয়িশা (রা)-এর কাছে চলে গেলেন এবং তার গলা জড়িয়ে ধরে কসম দিয়ে কাঁদতে লাগলেন। মিসওয়ার এবং আবদুর রাহমানও তাঁকে কসম দিয়ে তাঁর সাথে কথা বলতে অনুরোধ করলেন এবং তাঁর ত্রুটি মাফ করে দিতে বললেন। তাঁরা বললেন, আপনার জানা আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন: কোন মুসলিমের জন্য তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশী সালাম-কালাম বন্ধ রাখা জায়েয নয়। তাঁরা উভয়ে আয়িশাকে বারবার আত্মীয়তার পবিত্র বন্ধনের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে থাকলে এবং কাঁদতে থাকলে তিনি বললেন, আমি শক্ত মানত করেছি। কিন্তু তাঁরা উভয়ে তাঁকে অনুরোধ করতে থাকলেন। পরিশেষে তিনি আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়েরের সাথে কথা বললেন। তিনি তাঁর এই শপথ ভংগের জন্য চল্লিশটি ক্রীতদাস আযাদ করেছিলেন। পরবর্তী কালে তিনি মানতের কথা মনে করে এত কাঁদতেন যে, তাঁর ওড়না চোখের পানিতে ভিজে যেত।
ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٦٠ – والأمواتِ ثُمَّ طَلَعَ إِلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ إِنِّي بَيْنَ أَيْدِيكُمْ فَرَطٌ وَأَنَا شَهِيدٌ عَلَيْكُمْ وَإِنْ مَوْعِدُكُمُ الْخَوضُ وَإِنِّي لَأَنْظُرُ إِلَيْهِ مِنْ مَقَامى هذا إِلَّا وَإِنِّي لَسْتُ أَخْشَى عَلَيْكُمْ أن تُشْرِكُوا وَلَكِنْ أَخْشَى عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا أَنْ تَنَافَسُوهَا قَالَ فَكَانَتْ أُخِرَ نَظْرَةٍ نَظَرْتُهَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَفِي رِوَايَةٍ وَلَكِنِّي اخشى عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا أَنْ تَنَافَسُوا فِيهَا وَتَقْتَتِلُوا فَتَهْلِكُوا كَمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلِكُمْ قَالَ عُقْبَةُ فَكَانَ آخِرَ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى المنبر. وفي روايةٍ قَالَ إِنِّي فَرَط لكم وأنا شَهِيدٌ عَلَيْكُمْ وَإِنِّي وَاللَّهِ لَأَنْظُرُ إِلَى حوضِي الْآنَ وَإِنِّي أَعْطَبْتُ مَفَاتِيحَ خَزَائِنِ الْأَرْضِ أَوْ مَفَاتِيحَ الْأَرْضِ وَأَنِّي وَاللَّهِ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوا بَعْدِى وَلَكِنْ أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تَنَافَسُوا فِيهَا -وَالْمُرَادُ بِالصَّلاةِ عَلَى قَتْلى أحد الدُّعَاءُ لَهُمْ لَا الصَّلاةُ الْمَعْرُوفَةُ .

১৮৬০। উকবা ইবনে আমের (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের শহীদদের কবর যিয়ারত করতে গেলেন। তিনি আট বছর পর তাদের জন্য এমনভাবে দু’আ করলেন যেন বিদায়ী ব্যক্তি জীবিত ও মৃতদের দু’আ করে। অতঃপর তিনি এসে মিম্বারে উঠে বললেন: আমি তোমাদের অগ্রবর্তী, আমি তোমাদের পক্ষে সাক্ষী হব এবং তোমাদের সাথে প্রতিশ্রুতি থাকল ‘আল কাওসার’ নামক ঝর্ণাধারার পাশে তোমাদের সাথে সাক্ষাত হবে। আমি অবশ্যই আমার এই স্থান থেকে তা দেখতে পাচ্ছি। আমি তোমাদের ব্যাপারে এ আশংকা করি না যে, তোমরা পুনরায় শিরকে লিপ্ত হবে, বরং আমার ভয় হচ্ছে তোমরা দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে লিপ্ত হয়ে পড়বে। উকবা ইবনে আমের (রা) বলেন, আমি এই শেষ বারের মত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অপর বর্ণনায় আছে, তিনি বললেনঃ বরং আমার ভয় হচ্ছে যে, তোমরা পার্থিব জগতের ভোগ-বিলাসিতায় লিপ্ত হয়ে পড়বে এবং পরস্পর হানাহানিতে লিপ্ত হয়ে তোমাদের পূর্বকালের লোকদের মত ধ্বংস হয়ে যাবে। উকবা (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বারের উপর এটাই আমার সর্বশেষ দেখা। অন্য এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদের অগ্রবর্তী। আমি তোমাদের পক্ষে সাক্ষী। আল্লাহর শপথ! আমি এই মুহূর্তে আমার হাওযে কাওসার দেখতে পাচ্ছি। আমাকে সঞ্চিত ধনয়াশির চাষি দান করা হয়েছিল অথবা (তিনি বলেছেন) পৃথিবীর চাষি দেয়া হয়েছিল। আল্লাহর শপথ। আমি নিশ্চয়ই তোমাদের ব্যাপারে আমার অনুপস্থিতিতে শিরকে লিপ্ত হওয়ার আশংকা করি না। কিন্তু আমার ভয় হচ্ছে, তোমরা দুনিয়ার লোভ-লালসায় জড়িয়ে পড়বে। ইমাম নববী (র) বলেন, এ হাদীসে উল্লেখিত উহুদ যুদ্ধের শহীদানের জন্দ্য সালাতের অর্থ হলো দু’আ।

١٨٦١ – وَعَنْ أَبِي زَيْدٍ عَمْرِو بْنِ اخْطَبَ الْأَنْصَارِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ صَلَّى بنا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْفَجْرَ وَصَعِدَ الْمِنْبَرَ فَخَطَبَنَا حَتَّى حَضَرَتِ الظَّهْرُ فَنَزَلَ فَصَلَّى ثُمَّ صَعِدَ الْمِنْبَرَ حَتَّى حَضَرَتِ الْعَصْرُ ثُمَّ نَزَلَ فَصَلَّى ثُمَّ صَعِدَ الْمِنْبَرَ حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ فَأَخْبَرَنَا مَا كَانَ وَمَا هُوَ كَائِنٌ فَاعْلَمُنَا احْفَظْنَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৮৬১। আবু যায়িদ আমর ইবনে আখতাব আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে ফযরের নামায পড়লেন, তারপর মিম্বারে উঠে আমাদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করলেন, এমনকি যুহরের ওয়াক্ত হয়ে গেল। মিম্বার থেকে নেমে তিনি যুহরের নামায পড়লেন, তারপর মিম্বারে উঠে আবার বক্তৃতা করতে লাগলেন, এমনকি আসরের ওয়াক্ত হয়ে গেল। মিম্বার থেকে নেমে তিনি আসরের নামায পড়লেন। পুনরায় তিনি মিম্বারে উঠে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বক্তৃতা করলেন। বিশ্বে যা কিছু ঘটে গেছে এবং যা কিছু ঘটবে সে সম্পর্কে তিনি আমাদেরকে অবহিত করলেন। আমাদের মধ্যকার সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী ব্যক্তি এগুলো সবচেয়ে সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করতে সক্ষম।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٦٢ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَ اللَّهَ فَلَا يَعْصِهِ روَاهُ الْبُخَارِي.

১৮৬২। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার মানত করেছে সে যেন তা পূর্ণ করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমানী করার মানত করেছে সে যেন তাঁর নাফরমানী না করে।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٦٣ – وَعَنْ أَمْ شَرِيكَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهَا بِقَتْلِ الْأَوْزَاعِ وَقَالَ كَانَ يَنْفُخُ عَلَى إِبْرَاهِيمَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮৬৩। উন্মু শারীক (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে গিরগিটি১ হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। জিলি বলেছেন: গিরগিটি ইদরার্থীম (আ)-কে নিক্ষিপ্ত আগুনে ফুঁ দিয়েছিল।

ইমাম বুখারী ও ইজাম মুললিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٦٤ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَتَلَ وَزَعَةً فِي أُولِ ضَرْبَةٍ فَلَهُ كَذَا وَكَذَا حَسَنَةٌ وَمَنْ قَتَلَهَا فِي الضَّرْبَةِ الثانية فله كذا وكذا حَسَنَةً دُونَ الأولى وَإِن قَتَلَهَا فِي الضَّرْبَةِ الثَّالِثَةِ فَلَهُ كَذَا وكذا حسنة، وفي رواية من قتل ودعا في أول ضَرْبَةٍ كُتِبَ لَهُ مَائَةُ حَسَنَةٍ وَفِي الثَّانِيَةِ دُونَ ذَلِكَ وَفِي الثَّالِثَةِ دُونَ ذَلِكَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ قَالَ أَهْلُ اللُّغَةِ الْوَزَعُ الْعِظَامُ مِنْ سَامِ أَبْرَضَ.

১৮৬৪। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতে গিরগিটিকে হত্যা করতে পারল তার জন্য এত এত সাওয়াব রয়েছে। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় আঘাতে তা হত্যা করতে পারল তার জন্য এত এত সাওয়াব রয়েছে; তবে প্রথমটির চেয়ে কম। যে ব্যক্তি তৃতীয় আঘাতে তা হত্যা করতে পারল তার জন্যও এত এত সাওয়াব রয়েছে। অন্য এক বর্ণনায় আছেঃ যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতেই গিরগিটিকে হত্যা করতে পারল, তার জন্য এক শত সাওয়াব লেখা হয়, দ্বিতীয় আঘাতে তার চেয়ে কম এবং তৃতীয় আঘাতে দ্বিতীয় বারের চেয়েও কম সাওয়াব হবে। [টিকা: ১. গিরগিটি, টিকটিকির চেয়ে বড় এক ধরনের বিষাক্ত প্রাণী। আমাদের দেশে এগুলো ‘রক্তচোষা’ নামে পরিচিত। হযরত ইবরাহীম (আ)-কে যখন নমরূদ বাহিনী আগুনে নিক্ষেপ করে তখন এটি আগুনে ফুঁ দিয়েছিল (অনুবাদক)।]

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٦٥ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَالَ رَجُلٌ لَا تَصَدِّقَنَ بِصَدَقَةٍ فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ سَارِقٍ فَأَصْبَحُوا يَتَحَدِّثُونَ تُصْدِقَ عَلَى سَارِقِ فَقَالَ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ لَا تَصَدِّقَنَّ بِصَدَقَةٍ فَخَرَجَ بصدقته فوَضَعَهَا فِي يَدِ زَانِيَةٍ فَأَصْبَحُوا يَتَحَدِّثُونَ تُصْدِقَ اللَّيْلَةَ عَلَى زانيَةٍ فَقَالَ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ عَلَى زَانِيَةٍ لَا تَصَدِّقَنَّ بِصَدَقَةٍ فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ غَنِي فَاصْبَحُوا يَتَحَدِّثُونَ تُصْدِقَ عَلَى عَنِي فَقَالَ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ عَلَى سَارِقٍ وَعَلَى زَانِيَةٍ وَعَلَى غَنِي فَأَتِي فَقِيلَ لَهُ أَمَّا صَدَقَتُكَ عَلَى سارق فَلَعَلَهُ أَنْ يَسْتَعِفُ عَنْ سَرقته وأما الزَّانِيَةُ فَلَعَلَّهَا تَسْتَعِفُ عَنْ زِنَاهَا وأما الْغَنِيُّ فَلَعَهُ أَنْ يَعْتَبِرَ فَيُنْفِقَ مِمَّا أَتَاهُ اللَّهُ – رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ بِلَفْظِهِ بِمَعْنَاهُ.

১৮৬৫। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এক ব্যক্তি বলল, আমি অবশ্যই কিছু দান-খয়রাত করব। সে তার দালের বন্ধু নিয়ে বের হল এবং এক চোয়ের হাতে দিল। লোকজন সকালবেলা বলাবলি করতে লাগল, গত রাতে এক চোরকে দান-খয়রাত করা হয়েছে। দান-খয়রাতকারী বলল, হে আল্লাহ। সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্য; অবশ্যই আমি কিছু দান-খয়রাত করব। সে তার দানের বন্ধু নিয়ে বের হল এবং এক ব্যভিচারিণীর হাতে দিল। সকালবেলা লোকেরা বলাবলি করতে লাগল, গত রাতে এক যেনাকারিণীকে দান-খয়রাত করা হয়েছে। দানকারী বলল, হে আল্লাহ। সমস্ত প্রশংসা তোমার, এক ব্যভিচারিণীর হাতে আমার দান পড়লো। আমি অবশ্যই আরো কিছু দান-খায়রাত করব। সে তার দানের বন্ধু নিয়ে বের হল এবং তা এক ধনী ব্যক্তির হাতে দিয়ে আসল। সকাল বেলা লোকেরা বলাবলি করতে লাগল, গত রাতে এক ধনী ব্যক্তিকে দান-খয়রাত করা হয়েছে। দানকারী বলল, হে আল্লাহ। তোমার জন্য সকল প্রশংসা। আমার দান এক চোর, এক ব্যভিচারিণী ও এক ধনী ব্যক্তির হাতে গিয়ে পড়লো। অতএব ঐ ব্যক্তিকে ডেকে বলা হল, তুমি চোরকে দান করেছ, হয়ত সে চুরি থেকে বিরত থাকবে। তুমি যেনাকারিণীকে দান করেছ, হয়ত সে তার কুকর্ম থেকে বিরত থাকবে। আর ধনী ব্যক্তিকে দান করেছ, আশা করা যায় সে এটা থেকে উপদেশ গ্রহণ করবে এবং আল্লাহ তাকে যে সম্পদ দিয়েছেন তা থেকে খরচ করবে।

ইমাম বুখারী উল্লেখিত ভাষায় এবং ইমাম মুসলিম অনুরূপ অর্থবোধক ভাষায় হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٦٦ – وَعَنْهُ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي دَعْوَةٍ فَرَفَعَ اليه الذراع وَكَانَتْ تُعْجِبُهُ فَنَهَى مِنْهَا نَفْسَهُ وَقَالَ أَنَا سَيِّدُ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ هَلْ تَدْرُونَ مِمَّا ذَاكَ يَجْمَعُ اللَّهُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ فَيُبْصِرُهُمُالناظر وَيُسْمِعُهُمُ الدَّاعِى وَتَدْنُو مِنْهُمُ الشَّمْسُ فَيَبْلُغُ النَّاسُ مِنَ الْغَمِّ وَالْكَرْبِ ما لا يُطِيقُونَ وَلا يَحْتَمِلُونَ فَيَقُولُ النَّاسُ الا تَرَوْنَ إِلَى مَا أَنْتُمْ فِيهِ إِلَى مَا بَلَغَكُم إِلا تَنْظُرُونَ مَن يُشْفَعُ لَكُم إِلى رَبِّكُمْ فَيَقُولُ بَعْضُ النَّاسِ لِبَعْضِ أَبُوكُمْ ادم وَيَأْتُونَهُ فَيَقُولُونَ يَا آدَمُ أَنتَ أَبُو الْبَشَرِ خَلَقَكَ اللَّهُ بِيَدِهِ وَنَفَخَ فِيْكَ مِنْ رُوحِهِ وامر الملائِكَةَ فَسَجَدُوا لك واشكنكَ الْجَنَّةَ أَلا تَشْفَعُ لَنَا إِلَى رَبِّكَ أَلا تَرَى مَا نَحْنُ فِيهِ وَمَا بَلغنا فَقَالَ إِنَّ رَبِّي غَضِبَ عَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مِثْلَهُ وَلَا يَغْضَبُ بَعْدَهُ مِثْلَهُ وَإِنَّهُ نَهَانِي عَنِ الشَّجَرَةِ فَعَصَيْتُ نَفْسِي نَفْسِي نَفْسِي اذْهَبُوا إِلَى غَيْرِي اذْهَبُوا إِلَى نُوحٍ فَيَأْتُونَ نُوحًا فَيَقُولُونَ يَا نُوحُ أَنْتَ أَولُ الرُّسُلِ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ وَقَدْ سَمَاكَ اللهُ عَبْدًا شَكُورًا الا تَرَى إِلَى مَا نَحْنُ فِيْهِ إِلا تَرَى إِلَى مَا بلغنا الا تَشْفَعُ لَنَا إِلى رَبِّكَ فَيَقُولُ إِنَّ رَبِّي غَضِبَ الْيَوْمَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبُ قَبْلَهُ مثله ولن يغضَبَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ وَإِنَّهُ قَدْ كَانَتْ لِي دَعْوَةٌ دَعَوْتُ بِهَا عَلَى قَوْمِي نَفْسِي نَفْسِي نَفْسِي اذْهَبُوا إِلَى غَيْرِي اذْهَبُوا إِلَى إِبْرَاهِيمَ فَيَأْتُونَ إِبْرَاهِيمَ فَيَقُولُونَ يَا إِبْرَاهِيمُ أَنْتَ نَبِيُّ اللهِ وَخَلِيْلَهُ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ أَلَا ترى إلى مَا نَحْنُ فِيهِ فَيَقُولُ لَهُمْ إِنَّ رَبِّي قَدْ غَضِبَ الْيَوْمَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مثله ولن يغضَبَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ وَإِنِّي كُنتُ كَذَبْتُ ثَلاثَ كَذَبَات نَفْسِي نَفْسِي نَفْسِي اذْهَبُوا إِلَى غَيْرِي اذْهَبُوا إِلى مُوسَى فَيَأْتُونَ مُوسَى فَيَقُولُونَ يَا مُوسَى انتَ رَسُولُ الله فضلك الله برسالاته وبكلامه عَلَى النَّاسِ اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ الا ترى إلى مَا نَحْنُ فِيهِ فَيَقُولُ إِنْ رَبِّي قَدْ غَضِبَ الْيَوْمَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مثله ولَنْ يَغْضَبَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ وَأَنِّي قَدْ قَتَلْتُ نَفْسًا لَمْ أَوْمَرْ بِقَتْلِهَا نَفْسِي نَفْسِي نَفْسِي اذْهَبُوا إِلَى غَيْرِي اذْهَبُوا إِلَى عِيسَى فَيَأْتُونَ عَيْسَى فَيَقُولُونَ يَا عِيسَى أنتَ رَسُولُ اللهِ وَكَلِمَتُهُ الْقَاهَا إِلى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ وَكَلَّمْتَ النَّاسَ فِي الْمَهْدِاشفع لنا إلى رَبِّكَ أَلا ترى إلى مَا نَحْنُ فِيهِ فَيَقُولُ عِيسَى إِنَّ رَبِّي قَدْ غَضِبَ الْيَوْمَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مِثْلَهُ وَلَنْ يَغْضَبَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ وَلَمْ يَذْكُرُ ذَنْبًا نَفْسِي نَفْسِي نَفْسِي اذْهَبُوا إِلَى غَيْرِي اذْهَبُوا إِلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَفِي روايَةٍ فَيَأْتُونِي فَيَقُولُونَ يَا مُحَمَّدٌ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ وَخَاتَمُ الْأَنْبِيَاءِ وَقَدْ غَفَرَ اللَّهُ لكَ مَا تَقَدِّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ أَلَا تَرَى إِلَى مَا نَحْنُ فِيْهِ فَانْطَلِقُ فَاتِي تَحْتَ الْعَرْشِ فَاقَعُ سَاجِدًا لِرَبِّي ثُمَّ يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَى مِنْ مَحَامِدِهِ وَحُسْنِ الثناء عَلَيْهِ شَيْئًا لَمْ يَفْتَحُهُ عَلَى أَحَدٍ قَبْلِي ثُمَّ يُقَالُ يَا مُحَمَّدُ ارْفَعْ رَأْسَكَ سَلْ تُعْطَهُ وَاشْفَعْ تُشَفَعُ فَارْفَعُ رَأْسِي فَاقُوْلُ أُمَّتِي يَا رَبِّ أَمْنِي يَا رَبِّ فَيُقَالُ يَا مُحَمَّدُ أَدْخِلُ مِنْ أُمَّتِكَ مَنْ لا حِسَابَ عَلَيْهِمْ مِنَ الْبَابِ الْأَيْمَنِ مِنْ ابواب الجنَّةِ وَهُمْ شُرَكَاءُ النَّاسِ فيما سوى ذلكَ مِنَ الْأَبْوَابِ ثُمَّ قَالَ وَالَّذِي نفسی بیده ان مَا بَيْنَ الْمِصْرَاعَيْنَ مِنْ مَصَارِيعِ الْجَنَّةِ كَمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَهَجَرَ أَوْ كَمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَيُصْرى – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮৬৬। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক দাওয়াতে গিয়েছিলাম। তাঁর সামনে একখানা রান পরিবেশন করা হল। তিনি রানের গোশত খুব পছন্দ করতেন। তিনি রান থেকে দাঁত দিয়ে পোশত ছিঁড়ে নিয়ে বললেন: আমি কিয়ামাতের দিন সমগ্র মানবজাতির নেতা। তোমরা কি জান তা কেন? কিয়ামাতের দিন আল্লাহ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মানুষকে এক সমতল ভূমিতে একত্রিত করবেন। দর্শক তা এক দৃষ্টিতে দেখতে পাবে এবং এক ব্যক্তি তার ডাক সকলকে শুনাতে পারবে। সূর্য তাদের নিকটবর্তী হবে। মানুষ অসহনীয় ও অসহ্য দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হবে। মানুষ পরস্পরকে বলবে, তোমরা কি দেখছ না যে, তোমাদের কি অবস্থা হয়েছে এবং তোমাদের দুঃখ, দুশ্চিন্তা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে? কেন তোমরা এমন লোকের খোঁজ করছ না যিনি তোমাদের প্রভুর কাছে তোমাদের জন্য সুপারিশ করবেন? লোকেরা তখন একে অপরকে বলবে, তোমাদের সবার আদি পিতা তো আদম আলাইহিস সালাম। তাই তারা তাঁর কাছে গিয়ে বলবে, হে আদম (আ)! আপনি সমগ্র মানবকুলের পিতা। আল্লাহ আপনাকে তাঁর নিজের হাতে তৈরি করেছেন, আপনার মধ্যে তাঁর সৃষ্ট রূহ ফুঁকে দিয়েছেন। ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিলে তারা আপনাকে সিজদা করেছেন। আর তিনি আপনাকে জান্নাতে বসবাস করতে দিয়েছেন। আপনি কি আপনার প্রভুর কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন না? আপনি কি দেখছেন না আমাদের কি অবস্থা হয়েছে এবং আমাদের দুঃখ-দুর্দশা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে। আদম (আ) বলবেনঃ আমার প্রভু আজকের দিন এত ক্রোধান্বিত হয়েছেন, ইতিপূর্বে কখনও এরূপ ক্রোধান্বিত হননি এবং পরেও কখনও এরূপ ক্রোধান্বিত হবেন না। তিনি আমাকে একটি গাছের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন কিন্তু আমি সে নির্দেশ অমান্য করেছি। হায় আমার কি হবে। হায় আমার কি হবে। হায় আমার কি হবে। তোমরা অন্য কারো কাছে যাও। তোমরা বরং নূহের কাছে যাও। তাই তারা নূহ (আ)-এর কাছে ছুটে গিয়ে বলবে, হে নূহ (আ)। আপনি পৃথিবীবাসীর জন্য সর্বপ্রথম রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন। আল্লাহ আপনাকে শোকরগোজার বান্দাহ উপাধি দিয়েছেন। আপনি কি আমাদের অবস্থা দেখছেন না? আপনি কি দেখছেন না, আমাদের দুর্দশা কি চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছে? আপনি কি আমাদের জন্য আপনার প্রভুর কাছে সুপারিশ করবেন না? তিনি বলবেনঃ আজ আমার প্রভু এত ক্রোধান্বিত যে, ইতিপূর্বে কখনো এরূপ ক্রোধান্বিত হননি এবং এরপর কখনও এরূপ ক্রোধান্বিত হবেন না। আমার একটি দু’আ করার অধিকার ছিল। আমি আমার জাতির বিরুদ্ধে সে দু’আ করেছি। ফলে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। হায় আমার কি হবে! হায় আমার কি হবে। হায় আমার কি হবে! তোমরা অন্য কারো কাছে যাও। তোমরা বরং ইবরাহীমের কাছে যাও।

তারা ইবরাহীম (আ)-এর কাছে গিয়ে বলবে, হে ইবরাহীম (আ)। আপনি আল্লাহর নবী; পৃথিবীবাসীর মধ্যে আপনিই তাঁর খলীল (প্রিয় বন্ধু)। আপনার প্রভুর কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি আমাদের দূরবস্থা দেখছেন না? তিনি তাদেরকে বলবেন: আমার প্রতিপালক আজ এত ক্রোধান্বিত যে, ইতিপূর্বে তিনি এরূপ ক্রোধান্বিত হননি এবং পরেও কখনও এরূপ ক্রোধান্বিত হবেন না। আমি তিনটি মিথ্যা কথা বলেছিলাম (তাই আমি লজ্জিত)। আমার কি হবে! আমার কি হবে! আমার কি হবে। তোমরা অন্য কারো কাছে যাও। বরং তোমরা মূসার কাছে যাও।
তখন লোকেরা মূসা (আ)-এর কাছে এসে বলবে, হে মূসা (আ)। আপনি আল্লাহর রাসূল। মানবজাতির মধ্যে আপনাকে আল্লাহ তাঁর রিসালাত ও তাঁর সাথে কথা বলার সুযোগ দিয়ে সম্মানিত করেছেন। আপনি কি আমাদের মুক্তির জন্য আপনার প্রভুর কাছে সুপারিশ করবেন না? আপনি কি দেখছেন না আমরা কি দুর্দশার মধ্যে পড়ে আছি? তিনি বলবেনঃ আজ আমার প্রভু এত ক্রোধান্বিত হয়েছেন যে, ইতিপূর্বে তিনি আর কখনও এত ক্রোধান্বিত হননি এবং পরেও আর কখনও এরূপ ক্রোধান্বিত হবেন না। তাছাড়া আমি একটি লোককে হত্যা করেছিলাম। অথচ তাকে হত্যা করার নির্দেশ আমার জন্য ছিল না। হায়, আমার কি হবে। হায়, আমার কি হবে। হায়, আমার কি হবে? তোমরা অন্য কারো কাছে যাও। তোমরা বরং ঈসার কাছে যাও।

তাই তারা ঈসা (আ)-এর কাছে গিয়ে বলবে, হে ঈসা (আ)। আপনি আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর কালেমা যা তিনি মারইয়ামকে দিয়েছিলেন। আর আপনি রূহুল্লাহ (তাঁর দেয়া রূহ)।
আপনি দোলনায় থাকতে (শিশুকালেই) মানুষের সাথে কথা বলেছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার প্রভুর কাছে সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না, আমরা কি দুর্গতির মধ্যে পড়ে আছি? ঈসা (আ) বলবেন: আমার প্রতিপালক আজ ভীষণভাবে ক্রোধান্বিত। ইতিপূর্বে তিনি কখনও এরূপ ক্রোধান্বিত হননি, আর না পরে কখনও এরূপ ক্রোধান্বিত হবেন। ঈসা (আ) তার কোন গুনাহর কথা উল্লেখ করবেন না। হায়, আমার কি হবে। হায়, আমার কি হবে! হায়, আমার কি হবে! তোমরা বরং অন্য কারো কাছে যাও। হাঁ, তোমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যাও।

অন্য এক বর্ণনায় আছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তারা আমার কাছে এসে বলবে, হে মুহাম্মাদ! আপনি আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী। আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করে দিয়েছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার প্রভুর কাছে সুপারিশ করুন। আপনি কি জানেন না, আমরা কিরূপ মুসীবতের মধ্যে লিপ্ত আছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমি সম্মুখে অগ্রসর হয়ে আরশের নিচে যাব এবং আমার প্রতিপালকের সামনে সিজদায় টিয়ে পড়ব। আল্লাহ আমাকে তাঁর প্রশংসা স্তবস্তুতি শিখিয়ে দেবেন, আমার পূর্বে আর কাউকে এ প্রশংসাগাথা শিখাননি। অতঃপর বলা হবে, হে মুহাম্মাদ। তুমি মাথা তোল; তুমি যা চাইবে তাই দেয়া হবে এবং সুপারিশ করলে তা গ্রহণ করা হবে। অতঃপর আমি মাথা তুলে বলবঃ হে প্রভু! আমার উম্মাত! হে প্রভু, আমার উম্মাত! তখন বলা হবে, হে মুহাম্মাদ। তোমার উম্মাতের যেসব লোকের হিসাব নেয়া হবে না (বিনা হিসাবে জান্নাতে যাওয়ার সুযোগ পাবে) তাদেরকে জান্নাতের ডান দিকের দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দাও। অন্য সব জান্নাতীর সাথে তারা জান্নাতের অন্যানা দরজা দিয়েও প্রবেশ করতে পারবে। অতঃপর তিনি বললেন: সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন। জান্নাতের প্রতিটি দরজার উভয় পাল্লার মাঝখানের দূরত্ব মক্কা ও হাজারের মধ্যকার অথবা মক্কা ও বুসরার মধ্যকার দূরত্বের সমান।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٦٧ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ أَولُ مَا اتَّخَذَ النِّسَاءُ الْمِنْطَقَ من قبل أم إسْمَاعِيلَ اتَّخَذَتْ مِنْطَفًا لِتُعْفِى أَثَرَهَا عَلَى سَارَةَ ثُمَّ جَاءَ إِبْرَاهِيمُ عليه السلام بأم اسْمَاعِيلَ وَبِابْنِهَا إِسْمَاعِيلَ وَهِيَ تُرْضِعُهُ حَتَّى وَضَعَهَا عِنْدَ البيت عند دوحَةٍ فَوْقَ زَمْزَمَ فِي أَعْلَى الْمَسْجِدِ وَلَيْسَ بِمَكَّةَ يَوْمَئِذٍ أَحَدٌ وَلَيس بها مَاءً فَوَضَعَهُمَا هُنَاكَ وَوَضَعَ عِنْدَهُمَا جِرَابًا فِيهِ تَمْرَ وَسَقَاءٌ فِيهِ مَاءٌ ثُمَّ قَفَّى ابراهيم منطلقا فَتَبعَتْهُ أُمُّ اسْمَاعِيلَ فَقَالَتْ يَا ابْرَاهِيمُ أَيْنَ تَذْهَبُ وَتَتْرُكْنَا بِهذاالوادي الذي ليس فيه أنيس ولا شَيْءٍ فَقَالَتْ لَهُ ذَلِكَ مِرَارًا وَجَعَلَ لَا يَلْتَفِتُ اليها قَالَتْ لَهُ اللهُ أَمَرَكَ بهذا ؟ قَالَ نَعَمْ قَالَتْ إذا لا يُضَيِّعُنَا ثُمَّ رَجَعَتْ فَانْطَلَقَ إبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلامُ حَتَّى إِذَا كَانَ عِنْدَ الثَّنِيَّةِ حَيْثُ لَا يَرَوْنَهُ اسْتَقْبَلَ بِوَجْهِهِ البيت ثُمَّ دَعَا بهؤلاء الدعوات فَرَفَعَ يَدَيْهِ فَقَالَ رَبُّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ حَتَّى بَلَغَ (يَشْكُرُونَ) وَجَعَلَتْ أُمُّ إِسْمَاعِيلَ تُرْضِعُ إِسْمَاعِيلَ وتَشْرَبُ مِنْ ذلِكَ الْمَاء حَتَّى إِذا نَفِدَ مَا فِي السَّقَاءِ عَطَشَتْ وَعَطِشَ ابْنُهَا وَجَعَلَتْ تَنظُرُ إِلَيْهِ يتلوى أو قَالَ يَتلبط فانطلقت كَرَاهِيَة أَنْ تَنظُرَ إِلَيْهِ فَوَجَدَت الصفا أقرب جَبَلٍ فِي الْأَرْضِ بَلِيْهَا فَقَامَتْ عَلَيْهِ ثُمَّ اسْتَقْبَلَتِ الْوَادِي تَنْظُرُ هَلْ ترى أحدا فَلَمْ تَرى أَحَدًا فَهَبَطَتُ مِنَ الصَّفَا حَتَّى إِذَا بَلَغَتِ الْوَادِي رَفَعَتْ طَرَفَ درعها ثُمَّ سَعَتْ سَعَى الْإِنْسَانِ الْمَجْهُودِ حَتَّى جَاوَزَتِ الْوَادِي ثُمَّ آتَتِ الْمَرْوَةَ فَقَامَتْ عَلَيْهَا فَنَظَرَتْ هَلْ تَرَى أَحَدًا فَلَمْ تَرَى أَحَدًا فَفَعَلَتْ ذَلِكَ سَبْعَ مَرَاتٍ قَالَ ابْن عَبَّاسٍ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَلِكَ سَعَى النَّاسِ بَيْنَهُمَا فَلَمَّا اشرفت على الْمَرْوَة سَمِعَتْ صَوْتًا فَقَالَتْ صَهُ تُرِيدُ نَفْسَهَا ثُمَّ تَسَمَّعَتْ فَسَمِعَتْ أيضًا فَقَالَتْ قَدْ أَسْمَعْتَ إِنْ كَانَ عِنْدَكَ غَوَاتٌ فَإِذَا هِيَ بِالْمَلَكِ عِنْدَ مَوْضِع زمزم بحث بعقبه أو قَالَ بجناحه حَتَّى ظَهَرَ الْمَاءُ فَجَعَلَتُ تُحَرِّضُهُ وَتَقُولُ بِيَدِهَا هَكَذَا وَجَعَلَتْ تَغْرُفُ مِنَ الْمَاءِ فِي سِقَائِهَا وَهُوَ يَفُورُ بَعْدَ مَا تَغْرِفُ وَفِي رواية بِقَدَرٍ مَا تَعْرِفُ.
قَالَ ابْنُ عَبَّاس قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَحِمَ اللَّهُ أَمِّ اسْمَاعِيلَ لَوْ تَرَكَتْ زمزم أوْ قَالَ لَوْ لَمْ تَعْرِفُ مِنَ الْمَاء لَكَانَتْ زَمْزَمُ عَيْنًا مَعِيْنًا قَالَ فَشَرِبَتْ وارْضَعَتْ وَلَدَهَا فَقَالَ لَهَا الْمَلَكُ لا تَخَافُوا الضَّيْعَةَ فَإِنْ هُهُنَا بَيْتًا لِلَّهِ يَبْنِيه هذَا الْغُلَامُ وَأَبُوهُ وَإِنَّ اللَّهَ لَا يُضَيعُ أَهْلَهُ وَكَانَ الْبَيْتُ مُرْتَفِعًا مِنَ الْأَرْضِكالرابية تأتيه السُّيُولُ فَتَأْخُدُ عَنْ يُمينه وَعَن شماله فَكَانَتْ كَذَلِكَ حَتَّى مَرْتُ بِهِمْ رفقَةٌ مِنْ جُرْهُم أَوْ أَهْلُ بَيْتِ مِنْ جُرْهُم مُقْبِلِينَ مِنْ طَرِيقِ كَدَاءَ فَنَزَلُوا فِي أسفل مكة فراوا طائراً عَائِفًا فَقَالُوا إِن هذا الطائِرَ لَيَدُورُ عَلَى مَا لَعَهْدُنَا بِهذا الْوَادِي وَمَا فِيهِ مَاءً فَأَرْسَلُوا جَرِبًا أَوْ جَرِييْن فَإِذَا هُمْ بِالْمَاءِ فَرَجَعُوا فَأَخْبَرُوهُمْ فَاقْبَلُوا وَأَمُّ إِسْمَاعِيلَ عِنْدَ الْمَاءِ فَقَالُوا أَتَأْذَنَيْنَ لَنَا أَنْ تَنْزِلَ عِنْدَكَ قَالَتْ نَعَمْ ولكن لا حَقٌّ لَكُمْ فِي الْمَاءِ قَالُوا نَعَمْ .
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَالْفَى ذَلِكَ أَمْ إِسْمَاعِيلَ وَهِيَ تحب الأنس فَتَزَلُوا فَأَرْسَلُوا إِلى أَهْلِيْهِمْ فَنَزَلُوا مَعَهُمْ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِهَا أَهْلُ ابيات وَشَبِّ الْغُلام وتعلم العربية مِنْهُمْ وَأَنفُسَهُمْ وَأَعْجَبَهُمْ حِيْنَ شَبِّ فَلَمَّا أَدْرَكَ زوجُوهُ امْرَأَةً مِنْهُمْ وَمَانَتْ أُمُّ اسْمَاعِيلَ فَجَاءَ إِبْرَاهِيمُ بَعْدَ مَا تَزَوْجَ اسْمَاعِيلُ يطالع تركت قلم : ركته فلم يَجِدُ اسْمَاعِيلَ فَسَأَلَ امْرَأَتَهُ . أنهُ عَنْهُ فَقَالَتْ خَرَجَ يَبْتَغِي لَنَا وَفِي روايَةٍ يَصِيدُ لَنَا ثُمَّ سَأَلَهَا عَنْ عَيْشِهِمْ وَهَيْئَتِهِمْ فَقَالَتْ نَحْنُ بِشَرٌ نَحْنُ فِي ضيق وشدة وشكت اليه قَالَ فَإِذَا جَاءَ زَوْجُكَ اقْرَنِي عَلَيْهِ السَّلَامَ وَقُولِي لَهُ يُغَيِّرُ عَتَبَةَ بَابِهِ فَلَمَّا جَاءَ إِسْمَاعِيلُ كَأَنَّهُ أَنَسَ شَيْئًا فَقَالَ هَلْ جَاءَكُمْ مِنْ أَحَدٍ قَالَتْ نَعَمُ جَاءَنَا شَيْخٌ كَذَا وَكَذَا فَسَأَلْنَا عَنْكَ فَأَخْبَرْتُهُ فَسَأَلَنِي كَيْفَ عَيْشُنَا فَأَخْبَرْتُهُ أَنَّا فِي جَهْد وَشِدَّةٍ قَالَ فَهَلْ أَوْصَاكِ بِشَيْءٍ قَالَتْ نَعَمُ أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ السَّلام وَيَقُولُ غَيْرُ عَتَبَةً بَابِكَ قَالَ ذاك أبِي وَقَدْ أَمَرَنِي أنْ أفارقك الحقى بأهلك مطلقها وتزوج مِنْهُمْ أخرى.
قلَبِثَ عَنْهُمْ إِبْرَاهِيمُ مَا شَاءَ اللهُ ثُمَّ أَتَاهُمُ بَعْدُ فَلَمْ يَجِدُهُ فَدَخَلَ عَلَى امْرَأَتِهِ فَسَأَلَ عَنْهُ قَالَتْ خَرَجَ يَبْتَغِي لَنَا قَالَ كَيْفَ أَنْتُمْ وَسَأَلَهَا عَنْ عَيْشِهِمْ وَهَيْئَتِهِمْ فَقَالَتْ نَحْنُ بِخَيْرٍ وَسَعَةٍ وَاثْنَتْ عَلَى اللهِ تَعَالَى فَقَالَ مَا طَعَامُكُمْ قَالَتِ اللَّحْمُقَالَ فَمَا شَرَابُكُمْ قَالَتِ الْمَاءُ قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِي اللَّحْمِ وَالْمَاءِ قَالَ النَّبِيُّ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ يَوْمَئِذٍ حَبُّ وَلَوْ كَانَ لَهُمْ دَعَا لَهُمْ فِيهِ قَالَ فَهُمَا لَا يَخْلُو عَلَيْهِمَا أَحَدٌ بِغَيْرِ مَكَّةَ الا لم يُوافِقَاهُ .
وفي روايةٍ فَجَاءَ فَقَالَ أَيْنَ إِسْمَاعِيلُ فَقَالَتِ امْرَأَتُهُ ذَهَبَ بَصِيدٌ فَقَالَتْ امْرَأَتُهُ الا تنزلُ فَتَطْعَمَ وتَشْرَبَ قَالَ وَمَا طَعَامُكُمْ وَمَا شَرَابُكُمْ قَالَتْ طَعَامُنَا اللَّحْمُ وَشَرَابُنَا الْمَاءُ قَالَ اللهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِي طَعَامِهِمْ وَشَرَابِهِمْ قَالَ فَقَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَرَكَةً دَعْوَةِ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ فَإِذَا جَاءَ زَوْجُكَ فَاقْرَنِي عَلَيْهِ السَّلامَ وَمُرِيهِ يُثَبِّتْ عَتَبَةُ بَابِهِ فَلَمَّا جَاءَ إِسْمَاعِيلُ قَالَ هَلْ أَتَاكُمْ من أحد قالَتْ نَعَمُ أَتَانَا شَيْخٌ حَسَنُ الْهَيْئَةِ وَاثْنَتْ عَلَيْهِ فَسَأَلَنِي عَنْكَ فَأَخْبَرْتُهُ فَسَأَلَنِي كَيْفَ عَيْشُنَا فَأَخْبَرْتُهُ أَنَّا بِخَيْرٍ قَالَ فَأَوْصَاكِ بِشَيْءٍ قَالَتْ نَعَمْ يَقْرَأُ عليك السَّلامَ وَيَأْمُرُكَ أَنْ تُثَبِّتَ عَتَبَةَ بَابِكَ قَالَ ذَاكَ أَبِي وَأَنْتِ الْعَتَبَةُ أَمَرَنِي أن أمشيكك.
ثم لبث عَنْهُمْ مَا شَاءَ اللهُ ثُمَّ جَاءَ بَعْدَ ذَلِكَ وَإِسْمَاعِيلُ يَبْرِي نَبْلاً لَهُ تَحْتَ دوحة قريبًا مِنْ زَمْزَمَ فَلَمَّا رَاهُ قَامَ إِلَيْهِ فَصَنَعَ كَمَا يَصْنَعُ الْوَالِدُ بِالْوَلَدِ وَالْوَلَدُ بالوالد ثُمَّ قَالَ يَا إِسْمَاعِيلُ إِنَّ اللهَ أَمَرَنِي بِأَمْرٍ قَالَ فَاصْنَعْ مَا أَمَرَكَ رَبُّكَ قَالَ وَتُعِينُنِي قَالَ وَأَعِينُكَ قَالَ فَإِنَّ اللهَ أَمَرَنِي أَنْ أَبْنِي بَيْتًا فَهُنَا وَأَشَارَ إِلَى أَكَمَةٍ مرتفعة على ما حولها قَالَ فَعِندَ ذلِكَ رَفَعَ القَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ فَجَعَلَ اسْمَاعِيلُ يَأْتِي بِالحِجَارَةِ وَإِبْرَاهِيمُ بَيْنِي حَتَّى إِذا ارْتَفَعَ الْبَنَاءُ جَاءَ بِهَذَا الْحَجَرِ فَوَضَعَهُ لهُ فَقَامَ عَلَيْهِ وَهُوَ بَيْنِي وَاسْمَاعِيلُ يُنَاوِلُهُ الْحِجَارَةَ وَهُمَا يَقُولَانِ رَبَّنَا تَقَبَّلُ مِنَّا إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ .

وفي رواية إِنْ إِبْرَاهِيمَ خَرَجَ بِإِسْمَاعِيلَ وَأَمَ إِسْمَاعِيلَ مَعَهُمْ شَنَّةٌ فِيْهَا مَاءً فَجَعَلَتْ أم إسْمَاعِيلَ تَشْرَبُ مِنَ السُّنَّةِ فَيَدِر لِبَنُهَا عَلَى صَبِيهَا حَتَّى قَدِمَ مَكَّةَ فوضعها تحتَ دوحَةٍ ثُمَّ رَجَعَ إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السلامُ إِلَى أَهْلِهِ فَاتَّبَعَتُهُ أَمْ اسْمَاعِيلَ حَتَّى لمَّا بَلَغُوا كَذَا ، نَادَتْهُ مِنْ وَرَائِه يَا إِبْرَاهِيمُ إِلَى مَنْ تَتْرُكْنَا قَالَ إلى اللهِ قَالَتْ رَضِيتُ بِاللهِ فَرَجَعَتْ وَجَعَلَتْ تَشْرَبُ مِنَ السُّنَّةِ وَيَدْرُّ لَبَنُهَا عَلَى صَبِيهَا حَتَّى لمَّا فَلَى الْمَاءُ قَالَتْ لَو ذَهَبَتُ فَنَظَرْتُ لَعَلَى أُحِسُّ أَحَدًا قَالَ فَذَهَبَتْ فصعدت الصفا فنظرت ونظرت هَل تُحسُّ أَحَدًا فَلَمْ تُحِسُّ أَحَدًا فَلَمَّا بلغت الوادى سَعَتْ وأنتِ المَروَةَ وَفَعَلَتْ ذَلِكَ أَشْوَاطًا ثُمَّ قَالَتْ لَوْ ذَهَبْتُ فَنَظَرْتُ مَا فَعَلَ الصَّبِيُّ فَذَهَبَتْ وَنَظَرَتُ فَإِذَا هُوَ عَلَى حَالِهِ كَأَنَّهُ يَنْشَعُ لِلْمَوْتِ فَلَمْ تُقرِّهَا نَفْسُهَا فَقَالَتْ لَوْ ذَهَبْتُ فَنَظَرْتُ لَعَلَى أَحِسُّ أَحَدًا فَذَهَبَتْ فَصَعِدَت الصفا فَنَظَرَتْ ونَظَرَتْ فَلَمْ تُحس أحداً حتى اتِمْتُ سَبْعًا ثُمَّ قَالَتْ لَوْ ذَهَبْتُ فَنَظَرْتُ مَا فَعَلَ فَإِذَا هِيَ بِصَوْتٍ فَقَالَتُ اغِتْ إِنْ كَانَ عِنْدَكَ خَيْرٌ فَإِذَا جِبْرِيلُ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ بعقبه هكذا وغَمَزَ بِعَقِبِهِ عَلَى الْأَرْضِ فَانْبَثَقَ الْمَاءُ فدهشتْ أَمْ إِسْمَاعِيلَ فَجَعَلَتْ تَحْقِنُ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ بِهَذَا الروايات كلها .

১৮৬৭। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নারী জাতি সর্বপ্রথম ইসমাঈল (আ)-এর মাতা (হাজেরা) থেকেই কোমরবন্ধ বানানো শিখেছে। হাজেরা সারা থেকে আপন নিদর্শন গোপন করার উদ্দেশেই কোমরবন্ধ লাগাতেন। অতঃপর (উভয়ের মনোমালিন্য চরমে পৌঁছলে আল্লাহর আদেশে) ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ইসমাঈলের মা ও তাঁর দুগ্ধপোষ্য শিশুকে (ইসমাঈলকে) নিয়ে আসলেন। তাঁদেরকে তিনি একটি প্রকাণ্ড গাছের নিচে, কাবা ঘরের নিকটে মসজিদের উচ্চ ভূমিতে যমযমের স্থানে রাখলেন। সে সময় মক্কায় কোন জনবসতি কিংবা পানির ব্যবস্থা ছিল না। তিনি তাদেরকে সেখানে রাখলেন। আর তাঁদের পাশে এক ঝুড়ি খেজুর ও এক মশক পানি রাখলেন। অতঃপর ইবরাহীম (আ) সেখান থেকে রওয়ানা হলেন। ইসমাঈলের মা তার পেছনে পেছনে যাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, হে ইবরাহীম। আপনি আমাদেরকে এই জনপ্রাণীহীন উপত্যকায় রেখে কোথায় যাচ্ছেন। এখানে তো বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিত পরিবেশ কিছুই নেই। তিনি তাঁকে একথা বারবার বলতে থাকলেন। কিন্তু ইবরাহীম (আ) তাঁর কথায় কোন ভ্রূক্ষেপ করলেন না। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ কি আপনাকে এটা করার নির্দেশ দিয়েছেন? ইবরাহীম (আ) বললেনঃ হাঁ। তখন ইসমাঈলের মা বললেন, তবে আল্লাহ আমাদের ফাংস করবেন না। অতঃপর তিনি স্বস্থানে ফিরে আসলেন। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বিদায় হলেন। তিনি তাঁদের দৃষ্টি সীমার বাইরে ‘সানিয়াহ’ নামক স্থানে পৌঁছে কাবা ঘরের দিকে মুখ ফিরালেন এবং দুই হাত তুলে দু’আ করলেনঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! আমি পানি ও তরুলতাশূন্য ঊষর এক প্রান্তরে আমার সন্তানদের একটি অংশ তোমার মহাসম্মানিত ঘরের কাছে এনে বসবাসের জন্য রেখে গেলাম। অতএব তুমি লোকদের অন্তরকে এদের প্রতি অনুরক্ত করে দাও, ফলমূল থেকে এদেরকে খাবার দান কর, যেন তারা কৃতজ্ঞ ও শোকরকারী বান্দাহ হতে পারে।” (সূরা ইবরাহীমঃ ৩৭)

ইসমাঈলের মা ইসমাঈলকে বুকের দুধ দিয়ে লালন-পালন করতে লাগলেন। তিনি মম্পকের পানি পান করতে থাকলেন। শেষে যখন পাত্রের পানি ফুরিয়ে গেল, তখন তিনি এবং তার সন্তান পিপাসায় কাতর হয়ে পড়লেন। তিনি দেখলেন তাঁর দুগ্ধপোষ্য শিশু পিপাসায় ছটফট করছে। তিনি তা সহ্য করতে না পেরে উঠে চলে গেলেন। সেখানে সাফা পাহাড়কে তিনি তার সবচেয়ে নিকটে দেখতে পেলেন। তিনি সাফা পাহাড়ে উঠে চারদিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করলেন। উপত্যকার দিকে এই আশায় তাকালেন যে, কারো দেখা পাওয়া যায় কি না, কিন্তু কারো দেখা পেলেন না। তাই তিনি সাফা পাহাড় থেকে নেমে আসলেন নিম্ন উপত্যকায় এবং আপন কামিসের একদিক তুলে একজন ক্লান্ত-শ্রান্ত মানুষের ন্যায় দৌড়ে চললেন। অবশেষে উপত্যকা পেরিয়ে মারওয়া পাহাড়ের পাদদেশে পৌঁছে তাতে আরোহণ করলেন। পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে তিনি এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখলেন কাউকে দেখা যায় কি না, কিন্তু কাউকে দেখতে পেলেন না। এমনিভাবে তিনি দুই পাহাড়ের মাঝখানে সাতবার দৌড়ালেন। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। এ কারণেই লোকেরা (হজ্জের সময়) উভয় পাহাড়ের মধ্যে দৌড়িয়ে (সাঈ করে) থাকে। ইসমাঈলের মা (যখন শেষবারের মত) দৌড়ে মারওয়া পাহাড়ে উঠলেন তখন একটা শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি নিজেকে লক্ষ্য করে বললেন, কি ব্যাপার আওয়াজ শুনতে পেলাম যেন। এরপর তিনি শব্দের প্রতি কান খাড়া করলেন। তিনি আবার শব্দ শুনতে পেলেন এবং মনে মনে বললেন: তুমি আমাকে আওয়াজ শুনালে। হয়তো তোমার কাছে আমার বিপদের কোন প্রতিকার আছে। হঠাৎ তিনি (বর্তমান) যমযমের কাছে একজন ফেরেশতাকে দেখতে পেলেন। ফেরেশতা তার পায়ের গোড়ালি দিয়ে অথবা (রাবী) বলেছেন তার ডানা দিয়ে মাটি খুঁড়লে পানি উপচে বের হল। তিনি এর চারপাশে বাঁধ দিলেন এবং অঞ্জলি ভরে মশকে পানি ভরতে লাগলেন। তিনি তো মশকে পানি ভরছিলেন এদিকে পানি উথলিয়ে পড়তে থাকল। অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি মশক ভরে পানি রাখলেন। ইবনুল আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইসমাঈলের মায়ের উপর আল্লাহর রাহমাত বর্ষিত হোক। যদি তিনি যমযমকে ঐ অবস্থায় রেখে দিতেন, অথবা তা থেকে যদি মশক ভরে পানি না রাখতেন তবে যমযম একটি প্রবহমান ঝর্ণায় পরিণত হত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তিনি পানি পান করলেন এবং তাঁর সন্তানকে দুধ পান করালেন। ফেরেশতা তাকে বললেন, আপনি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশংকা করবেন না। কেননা এখানে আল্লাহর ঘরের স্থান নির্দিষ্ট আছে, যা এই ছেলে ও তার পিতা নির্মাণ করবেন। আল্লাহ এখানকার বাসিন্দাদেরকে ধ্বংস করেন না। এ সময়ে বাইতুল্লাহর স্থানটি ভূমি থেকে কিছুটা উঁচু অর্থাৎ টিলার মত ছিল। প্লাবন আসলে তা এর ডান ও বাম দিক দিয়ে প্রবাহিত হত। মা ও সন্তানের কিছু কাল এভাবে কেটে যাওয়ার পর ঘটনাক্রমে বানু জুরহুমের কাফিলা অথবা বানু জুরহুম গোত্রের লোক ‘কাদা’ নামক স্থানের পথ ধরে আসছিল। তারা মক্কার নিম্নভূমিতে এসে পৌঁছলে সেখানে কিছু পাখি বৃত্তাকারে উড়তে দেখে বলল, এসব পাখি নিশ্চয়ই পানির উপর চক্কর খাচ্ছে। আমরা তো এই মরুভূমিতে এসেছি অনেক দিন হল। কিন্তু কোথাও পানি দেখিনি। তারা এক বা দু’জন অনুসন্ধানকারীকে খোঁজ নেয়ার জন্য পাঠালো। তারা গিয়ে পানি দেখতে পেল এবং ফিরে এসে তাদেরকে জানাল। কাফিলার লোকেরা অনতিবিলম্বে পানির দিকে চলে আসল। ইসমাঈলের মা তখন পানির কাছে বসা ছিলেন। তারা এসে তাকে বলল, আপনি কি আমাদেরকে এখানে এসে অবস্থান করার অনুমতি দেবেন? তিনি বললেন, হাঁ। কিন্তু পানির উপর তোমাদের কোন মালিকানা স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে না। তারা বলল, হাঁ, তাই হবে।

আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ইসমাঈলের মায়ের উদ্দেশ্য ছিল তাদের সাথে পরিচিত হয়ে একটা অন্তরংগ ও সহানুভূতি সম্পন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা। ঐ সকল লোক এসে এখানে বসতি স্থাপন করল এবং কাফিলার অন্যান্য লোকও তাদের পরিবার-পরিজনদেরকে ডেকে আনল। অবশেষে সেখানে যখন বেশ কয়েক ঘর বসতি গড়ে উঠলো, ইসমাঈলও যৌবনে পদার্পণ করলেন এবং তাদের নিকট থেকে আরবী শিখে নিলেন। তার স্বাস্থ্য-চেহারা ও সুরুচিপূর্ণ জীবন তারা খুবই পছন্দ করল। তিনি বড় হলে ঐ লোকেরা তাদের এক মহিলার সাথে তাঁর বিবাহ দিলেন।

ইতিমধ্যে ইসমাঈলের মা ইন্তিকাল করলেন। ইসমাঈলের বিবাহের পর ইবরাহীম (আ) তাঁর পরিত্যক্ত পরিজনকে দেখার জন্য (মক্কায়) আসলেন। তিনি ইসমাঈলকে বাড়িতে পেলেন না। তিনি পুত্রবধূর কাছে জিজ্ঞেস করলেন, ইসমাঈল কোথায়? সে বলল, খাদ্যের সংস্থান করার জন্য বাইরে গেছেন। অন্য বর্ণনায় আছে: তিনি শিকারে বের হয়েছেন। ইবরাহীম (আ) তাদের জীবনযাত্রা ও সাংসারিক বিষয়াদি সম্পর্কে জানতে চাইলেন। পুত্রবধূ বলল, আমরা খুব খারাপ অবস্থায় আছি। কষ্ট-কঠোরতা ও সংকীর্ণতা আমাদেরকে ঘিরে ধরেছে। এসব কথা বলে সে অভিযোগ করল। তিনি বলেনঃ তোমার স্বামী আসলে তাকে আমার সালাম জানিয়ে বলবে, সে যেন তার ঘরের দরজার চৌকাঠ পরিবর্তন করে। বাড়ি ফিরে এসে ইসমাঈল (আ) যেন কিন্তু অনুভব করতে পারলেন। তিনি স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, কেউ এসেছিলেন কি? স্ত্রী বলল, হাঁ, এরূপ একজন বৃদ্ধ লোক এসেছিলেন। তিনি আপনার সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি তাঁকে অবহিত করলাম। আমাদের সংসারযাত্রা কিভাবে চলছে তিনি তাও জিজ্ঞেস করলেন। আমি তাঁকে জানালাম যে, আমরা খুব কষ্ট-ক্লেশের মধ্যে দিনাতিপাত করছি। ইসমাঈল (আ) জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কি তোমাকে কোন কথা বলে গেছেন। স্ত্রী বলল, হাঁ। তিনি আমাকে আপনাকে সালাম পৌঁছাতে বলেছেন এবং আপনাকে ঘরের চৌকাঠ পরিবর্তন করতে বলেছেন। ইসমাঈল (আ) বললেন, তিনি আমার পিতা। তিনি তোমাকে পরিত্যাগ করতে আমাকে আদেশ দিয়েছেন। সুতরাং তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের কাছে চলে যাও। পরে তিনি তাকে তালাক দিলেন এবং ঐ গোত্রেরই অন্য এক মেয়েকে বিবাহ করলেন।

আল্লাহর ইচ্ছামত ইবরাহীম (আ) অনেক দিন আর এদিকে আসেননি এবং পরে তিনি আবার যখন আসলেন তখনও ইসমাঈলের সাথে দেখা হল না। পুত্রবধূর কাছে গিয়ে ইসমাঈলের কথা জিজ্ঞেস করলে সে বলল, তিনি আমাদের খাদ্যের সন্ধানে গিয়েছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কেমন আছ? তিনি তাদের সাংসারিক ও অন্যান্য বিষয়ও জানতে চাইলেন। ইসমাঈলের স্ত্রী বললো, আমরা খুব ভালো এবং সচ্ছল অবস্থায় দিনযাপন করছি। একথা বলে সে মহান আল্লাহর প্রশংসা করল। ইবরাহীম (আ) জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কি খাও? পুত্রবধূ বলল, গোশত। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: কি পান কর? সে বলল, পানি। তখন ইবরাহীম (আ) দু’আ করলেনঃ হে আল্লাহ! এদের জন্য গোশত ও পানিতে বরকত দিন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: সে সময় তাদের কাছে কোন খাদ্যশস্য ছিল না (অর্থাৎ উৎপাদন হতো না)। যদি থাকত তাহলে ইবরাহীম (আ) তাদের জন্য খাদ্যশস্যেও বরকতের দু’আ করতেন। এজন্যই মক্কা ছাড়া অন্য কোথাও শুধু গোশত আর পানির উপর নির্ভর করে কেউ জীবন ধারণ করতে পারে না। তবে কারো রুচি বা শারীরিক অবস্থার অনুকূল না হলে ভিন্ন কথা।
অন্য এক বর্ণনায় আছে। তিনি এসে জিজ্ঞেস করলেন: ইসমাঈল কোথায়? তার স্ত্রী বলল, তিনি শিকারে গিয়েছেন। আপনি আসুন, কিছু পানাহার করুন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের খাদ্য-পানীয়ের ব্যবস্থা কি? পুত্রবধূ বলল, আমরা গোশত খাই এবং পানি পান করি। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! তাদের খাদ্য-পানিতে বরকত দিন। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ইবরাহীম (আ)-এর দু’আর বরকতেই মক্কাবাসীদের খাদ্য-পানীয়তে বরকত হয়েছে। ইবরাহীম (আ) বললেনঃ তোমার স্বামী ফিরে আসলে তাকে আমার সালাম জাসিয়ে বলবে, সে যেন তাঁর ঘরের চৌকাঠ হিফাযাত করে।

ইসমাঈল (আ) ফিরে এসে স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কেউ কি এসেছিল। স্ত্রী বলল, হাঁ। আমার কাছে একজন সুন্দর সুঠাম বৃদ্ধ লোক এসেছিলেন। স্ত্রী বৃদ্ধের কিছু প্রশংসাও করল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কিভাবে আমাদের জীবিকা ও ভরণপোষণ চলছে? আমি বললাম, আমরা বেশ ভালো আছি। ইসমাঈল (আ) জিজ্ঞেস করলেন, ভিনি কি তোমাকে কোন উপদেশ দিয়েছেন? স্ত্রী বলল, হাঁ! তিনি আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং ঘরের চৌকাঠ হিফাযাত করার হুকুম দিয়ে গেছেন। সব কথা শুনে ইসমাঈল (আ) বললেন, তিনি আমার পিতা আর তুমি ঘরের চৌকাঠ। তিনি আমাকে তোমার সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখার নির্দেশ দিয়ে গেছেন।

হযরত ইবরাহীম (আ) আল্লাহর ইচ্ছায় অনেক দিন পর্যন্ত আর আসেননি। একদা ইসমাঈল যমযম কূপের পাশের একটি প্রকাণ্ড বৃক্ষের নিচে বসে তাঁর তীর ঠিক করছিলেন। এমন সময় হযরত ইবরাহীম (আ) আসলেন। ইসমাঈল পিতাকে দেখে উঠে এগিয়ে গেলেন। অতঃপর যেভাবে পিতা পুত্রের সাথে এবং পুত্র পিতার সাথে সৌজন্য বিনিময় করে, তাঁরাও তাই করলেন। তিন বললেনঃ হে ইসমাঈল। আল্লাহ আমাকে একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। ইসমাঈল বললেন, আপনার প্রভু আপনাকে যে কাজের হুকুম করেছেন তা আঞ্জাম দিন। তিনি বললেন, তুমি আমাকে এ কাজে সাহায্য কর। পুত্র বললেন, হাঁ আমি আপনাকে অবশ্যই সাহায্য করব। ইবরাহীম (আ) বললেন, আল্লাহ আমাকে এখানে একখানা ঘর নির্মাণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একথা বলে তিনি একটি উচু টিলার দিকে ইশারা করে বললেন, এর চারদিকে ঘর নির্মাণ করতে হবে। অতঃপর তাঁরা’ এই ঘরের ভিত্তি স্থাপন করলেন। ইসমাঈল পাথর বয়ে আনতেন, আর ইবরাহীম তা দিয়ে ভিত গাঁথতেন। চতুর্দিকের দেয়াল অনেকটা উঁচু হয়ে গেলে ইবরাহীম (আ) এই পাথরটি এনে (মাকামে ইবরাহীম) এর উপর দাঁড়িয়ে ভিত গাঁথতে থাকলেন আর ইসমাঈল (আ) পাথর এনে যোগান দিতে থাকলেন। পিতা-পুত্র উভয়ে ঘর নির্মাণ করার সময় প্রার্থনা করতে থাকলেন: “হে আমাদের প্রভু। আমাদের এই প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম কবুল করুন। আপনি সব কিছু শুনেন এবং জানেন।” (সূরা আল বাকারা: ১২৭)

অন্য এক বর্ণনায় আছে: ইবরাহীম (আ) ইসমাঈল ও তাঁর মাকে সাথে করে বেরিয়ে পড়লেন। তাঁদের সাথে একটি পানির মশক ছিল। ইসমাঈলের মা মশকের পানি পান করতেন এবং সন্তানকে দুধ পান করাতেন। এভাবে তারা মক্কায় পৌঁছলেন। ইবরাহীম (আ) স্ত্রীকে একটা প্রকাণ্ড গাছের নিচে রেখে পরিবার-পরিজনদের কাছে রওয়ানা হলেন। ইসমাঈলের মা তাঁর পেছনে পেছনে যেতে থাকলেন। অবশেষে ‘কাদা’ নামক স্থানে পৌছে তিনি পেছন থেকে স্বামীকে ডেকে বললেন, হে ইবরাহীম। আপনি আমাদেরকে কার কাছে রেখে যাচ্ছেন। তিনি বললেন, আল্লাহর কাছে রেখে যাচ্ছি। ইসমাঈলের মা বললেন, আমি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এ কথা বলে তিনি ফিরে আসলেন। তিনি মশকের পানি পান করতে এবং বাচ্চাকে দুধ পান করাতে থাকলেন। এক সময় পানি ফুরিয়ে গেল। তিনি বললেন, আমাকে কোথাও গিয়ে খোঁজ নেয়া উচিৎ কাউকে দেখা যায় কিনা।

বর্ণনাকারী বলেনঃ এই বলে তিনি রওয়ানা হলেন এবং সাফা পাহাড়ে গিয়ে উঠলেন। তিনি বারবার এদিক-ওদিক তাকালেন, কোন লোক দেখা যায় কি না, কিন্তু কারো দেখা মিলল না। (তিনি সাফা পাহাড় থেকে নেমে মারওয়া পাহাড়ের দিকে চললেন।) উপত্যকার মাঝখানে পৌঁছে তিনি দৌড়ালেন এবং মারওয়া পাহাড়ে এসে পৌঁছলেন। এভাবে তিনি দুই পাহাড়ের মাঝে কয়েকবার চক্কর দিলেন। অতঃপর ভাবলেন, গিয়ে দেখে আসা দরকার আমার শিশুর কি অবস্থা। তাই তিনি চলে গেলেন। তিনি গিয়ে দেখতে পেলেন বাচ্চা যেন মৃত্যুর জন্য তড়পাচ্ছে। এ দৃশ্য তিনি সহ্য করতে পারলেন না। তিনি ভাবলেন, আমার গিয়ে খোঁজ করা দরকার কাউকে পাওয়া যায় কি না। তাই তিনি গিয়ে সাফা পাহাড়ে উঠলেন এবং বারবার এদিক ওদিক তাকালেন, কিন্তু কারো দেখা পেলেন না। এভাবে সাতবার পূর্ণ হলে তিনি ভাবলেন, গিয়ে দেখা দরকার বাচ্চাটি কি করছে। এ সময় হঠাৎ তিনি একটা শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি বলে উঠলেন, যদি কোন উপকার করতে পার তাহলে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসো। দেখা গেল হযরত জিবরাঈল (আ) সেখানে উপস্থিত। তিনি তাঁর পায়ের গোড়ালি দিয়ে ইংগিত করে মাটির উপর আঘাত করলেন। হঠাৎ করে পানি উপচে বের হতে দেখে ইসমাঈলের মা হতভম্ব হয়ে গেলেন। তিনি পানি সংগ্রহ করতে লাগলেন। (রাবী এভাবে দীর্ঘ হাদীসটির অবশিষ্ট অংশ বর্ণনা করেছেন)।

ইমাম বুখারী উক্ত কয়েকভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٦٨ – وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْكَمَاةُ مِنَ الْمَنِّ وَمَاؤُهَا شِفَاء لِلْعَيْنِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮৬৮। সাঈদ ইবনে যায়িদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি। ব্যাঙের ছাতা (মাশরুম) ‘মান’ শ্রেণীর খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং এর পানি চক্ষু রোগের নিরাময়। [টিকা: ‘মান’ এক প্রকার খাদ্য। বনী ইসরাঈল মূসা (আ)-এর সময়ে তাদের বাড়ুহীন জীবনে দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে আল্লাহর তরফ থেকে এই খাদ্য পেয়েছিল। তা কুয়াশার মত রাতের বেলা জমির উপর পড়ে শিশির বিন্দুর মত জমে থাকত। তারা এগুলো সংগ্রহ করে আহার করত (অনুবাদক)।]

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ২ – ক্ষমা প্রার্থনা করা

قَالَ اللهُ تَعَالَى : فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا اله الا اللهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ والْمُؤْمِنَاتِ ، وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَكُم

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“অতএব হে নবী! জেনে রাখ, আল্লাহ ছাড়া ইবাদাতের যোগ্য আর কেউ নেই। তুমি নিজের এবং মুমিন নারী ও পুরুষের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। আল্লাহ তোমাদের তৎপরতা ও তোমাদের ঠিকানা ভালোভাবেই জানেন।” (সূরা মুহাম্মাদ: ১৯)

وَقَالَ تَعَالَى : واسْتَغْفِرِ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا.

“আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।” (সূরা আন-নিসাঃ ১০৬)
وقَالَ تَعَالَى : فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا.

“তোমার প্রভুর প্রশংসা সহকারে তার তাসবীহ কর এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিঃসন্দেহে তিনি অধিক পরিমাণে তাওবা গ্রহণকারী।” (সূরা আন নাসরঃ ৩)

وقَالَ تَعَالَى : قُلْ أَوْ نَبِّئُكُمْ بِخَيْرٍ مِنْ ذَلِكُمْ ، لِلَّذِينَ اتَّقَوْا عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَرُ خَلِدِينَ فِيهَا وَأَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ ، وَاللَّهُ بصير بالعباد : الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا إِنَّنَا أمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ الصَّبِرِينَ وَالصَّدِقِينَ وَالْقَنِتِينَ وَالْمُنْفِقِينَ وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالْأَسْحَارِ.

“বল (হে নবী), আমি কি তোমাদেরকে বলব, এগুলো অপেক্ষা উত্তম জিনিস কী? যারা তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করে, তাদের জন্য আল্লাহ্র কাছে জান্নাত রয়েছে, যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরদিন অবস্থান করবে, পাক-পবিত্র স্ত্রীগণ হবে তাদের সংগী। অল্লাহর সন্তোষ লাভ করে তারা ধন্য হবে। আল্লাহ বান্দাদের সমস্ত কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করেন। এসব লোক বলে, হে আমাদের প্রভু। আমরা ঈমান এনেছি, আমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। এসব লোক ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, বিনীত-অনুগত এবং দাতা। এরা রাতের শেষভাগে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।” (সূরা আলে ইমরান: ১৫, ১৬, ১৭)

وقال تعالى : وَمَنْ يُعْمَل سُوْمًا أَوْ يَظْلِمُ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِد الله غَفُورًا رَّحِيمًا، وَمَنْ يُكْسِبُ اثْمًا فَإِنَّمَا يَكْسِبُهُ عَلَى نَفْسِهِ ، وَكَانَ اللهُ عَلِيمًا حكِيمًا، وَمَنْ يُكْسِبُ خَطِيئَةً أَوْ إِثْمًا ثُمَّ يَرْمِ بِهِ بَرِيْنَا فَقَدِ احْتَمَلَ بُهْتَانًا وانما مبينًا

“যদি কেউ কোন খারাপ কাজ করে কিংবা নিজের উপর যুলম করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে সে আল্লাহকে ক্ষমাকারী ও অনুগ্রহশীল পাবে। কিন্তু যে পাপ কাজ করবে, তার এই পাপ কাজ তার জন্যই বিপদ হবে। আল্লাহ সবকিছু জানেন, তিনি বিজ্ঞ ও জ্ঞানী। যে ব্যক্তি কোন অন্যায় বা পাপ কাজ করে কোন নির্দোষ লোকের উপর দোষ চাপায়, সে তো সাংঘাতিক অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নেয়।” (সূরা আন-নিসাঃ ১১০, ১১১, ১১২)

وَقَالَ تَعَالَى : وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبْهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ.

“আল্লাহ এমন নন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকতেই তাদের উপর আযাব নাযিল করবেন। আল্লাহর এটাও নিয়ম নয় যে, লোকেরা ক্ষমা চাইবে, আর তিনি তাদের শাস্তি দেবেন।” (সূরা আল-আনফালঃ ৩৩)

وقال تعالى : وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يُغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وهم يعلمون.

“তাদের দ্বারা কোন খারাপ কাজ হয়ে গেলে অথবা নিজেদের উপর কোন যুলম করে বসলে তারা সংগে সংগে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া গুনাহ মাফ করতে পারে এমন কে আছে? এইসব লোক জেনেশুনে বারবার খারাপ কাজ করে না।” (সূরা আলে ইমরান: ১৩৫)

۱٨٦٩ – وَعَنِ الْآخَرِ الْمُزْنِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّهُ لَيُغَانُ عَلَى قَلْبِي وَإِنِّي لَاسْتَغْفِرُ اللهَ فِي الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ رواه مسلم.

১৮৬৯। আল-আগার আল-মুযানী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (কখনও কখনও) আমার অন্তরের উপর পর্দা পড়ে যায়। আমি আল্লাহর কাছে দৈনিক এক শতবার তাওবা করি।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۷۰ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ وَاللَّهِ إِنِّي لَاسْتَغْفِرُ اللهَ وَآتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمَ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةٍ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

১৮৭০। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর শপথ। আমি দৈনিক সত্তরবারের অধিক আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই ও তাওবা করি।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۷۱ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ لم تذنبوا لذهَبَ اللهُ تَعَالَى بِكُمْ وَلَجَاءَ بِقَوْمٍ يُذْنِبُونَ فَيَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ تَعَالَى فَيَغْفِرُ لَهُمْ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৮৭১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমরা যদি গুনাহ না করতে, আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে সরিয়ে নিতেন, অতঃপর এমন এক জাতিকে পাঠাতেন যারা গুনাহ করে আল্লাহ তা’আলার কাছে ক্ষমা চাইত এবং তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۷۲ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كُنَّا نَعُدُّ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَجْلِسِ الواحد مائة مرة رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَى إِنَّكَ أَنْتَ التواب الرحيم – رواه أبو داودَ وَالتَّرْمِذِى وَقَالَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ.

১৮৭২। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা গণনা করে দেখেছি যে, একই বৈঠকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একশতবার এই দু’আটি পড়েছেন, “আমার প্রতিপালক। আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি তাওবা কবুলকারী ও দয়াময়।”

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এটি সহীহ হাদীস।

۱۸۷۳ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ لَزِمَ الْاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضَيْقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَم فَرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لا يَحْتَسِبُ رَوَاهُ أَبو داود.

১৮৭৩। আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি সদা সর্বদা গুনাহ মাফ চাইতে থাকে (আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তে থাকে) আল্লাহ তাকে প্রতিটি সংকীর্ণতা অথবা কষ্টকর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দেন, প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে তাকে মুক্ত করেন এবং তিনি তাকে এমন সব উৎস থেকে রিযক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।

ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٧٤ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَالَ اسْتَغْفِرُ الله الذي لا اله الا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومَ وَآتُوبُ إِلَيْهِ غُفِرَتْ ذُنُوبُهُ وَإِنْ كَانَ قَد فَرَّ مِنَ الزحف – رواه أبو داودَ وَالتَّرْمِذِى وَالْحَاكِمُ وَقَالَ حديث صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الْبُخَارِي وَمُسْلِمٌ.

১৮৭৪। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বলে, “আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি আল্লাহর কাছে যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নাই, যিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। আমি তাঁর কাছে তাওবা করছি”, তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়, এমনকি সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করার মত গুনাহ করলেও।

ইমাম আবু দাউদ, ইমাম তিরমিযী ও আল হাকেম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আল হাকেম বলেছেন, বুখারী ও মুসলিমের মানের সনদে এটি সহীহ হাদীস।

١٨٧٥ – وَعَنْ شَدَادِ بْنِ أَوْس عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سَيِّدُ الاستغفار أن يقُول الْعَبْدُ اللهم أنت ربي لا الهَ إِلا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وأنا على عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بنعمتك على وأبوء بذنبي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ. مَنْ قَالَهَا مِنَ النَّهَارِ مُوقِنًا بِهَا فَمَاتَ مِنْ يُوْمِهِ قَبْلَ أَن يُمْسِيَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَمَنْ قَالَهَا مِنَ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنٌ بِهَا فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.

১৮৭৫। শাদ্দাদ ইবনে আওস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: সায়্যিদুল ইসতিগাফার (সর্বোত্তম ক্ষমা প্রার্থনা) হলো বান্দা বলবে, “হে আল্লাহ। তুমি আমার প্রভু, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই বান্দা। আমি যথাসাধ্য তোমার সাথে কৃত প্রতিজ্ঞা-ওয়াদা পালনে বদ্ধপরিকর। আমি যা করেছি, তার খারাপ প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য তোমার আশ্রয় চাই। তুমি আমাকে যেসব নি’আমাত দিয়েছ তা স্বীকার করি। আমি আমার অপরাধও স্বীকার করি। অতএব তুমি আমাকে মাফ কর। কেননা তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার আর কেউ নেই।” যে ব্যক্তি পূর্ণ বিশ্বাস সহকারে এই দু’আ দিনের বেলা পাঠ করে এবং সন্ধ্যা হওয়ার পূর্বে যদি মারা যায় তবে সে জান্নাতী। আর যে ব্যক্তি পরিপূর্ণ বিশ্বাস সহকারে রাতের বেলা এই দু’আ পাঠ করে এবং সকাল হওয়ার পূর্বে যদি মারা যায় তবে সেও জান্নাতী।

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٧٦ – وَعَنْ ثَوْبَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إذا انْصَرَفَ مِنْ صَلَاتِهِ اسْتَغْفَرَ اللهَ ثَلاثًا وَقَالَ اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلامُ وَمِنْكَ السَّلامُ تباركت يا ذا الجلال والإكرام. قِيلَ لِلْأَوْزَاعِي وَهُوَ أَحَدٌ رُوَاتِهِ كَيْفَ الْاسْتِغْفَارُ قَالَ يَقُوْلُ اسْتَغْفِرُ اللَّهَ اسْتَغْفِرُ اللَّهَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ

১৮৭৬। সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নামায শেষ করে তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা (আল্লাহ আমাকে ক্ষমা কর) করতেন। তিনি আরও বলেছেন: হে আল্লাহ। তুমি শান্তি, তোমারি নিকট থেকেই শান্তি ও নিরাপত্তা পাওয়া যায়; তুমি বরকতময় ও কল্যাণময়, হে গৌরব ও সম্মানের মালিক।” ইমাম আওযাঈকে জিজ্ঞেস করা হলো, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন? তিনি বলেন, তিনি বলতেন: আস্তাগফিরুল্লাহ (আল্লাহর কাছে মাফ চাই), আস্তাগফিরুল্লাহ।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۷۷ – وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكْثِرُ أَنْ يَقُولَ قَبْلَ مَوْتِهِ سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ اسْتَغْفِرُ اللهَ وَآتُوبُ إِلَيْهِ متفق عليه.

১৮৭৭। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুর পূর্বে বেশি বেশি এই দু’আ পড়তেনঃ সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি। আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি (“আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা তাঁর জন্য। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে তাওবা করি”)।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۷۸ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ

وَسَلَّمَ يَقُولُ قَالَ اللهُ تَعَالَى يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ عَلَى مَا كَانَ مِنْكَ وَلا أَبَالِي يَا ابْنَ آدَمَ لَوْ بَلَغَتْ ذُنُوبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِ ثُمَّ اسْتَغْفَرْتَنِي غَفَرْتُ لكَ وَلا أَبَالِي يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ لَوْ آتَيْتَنِي بِقُرَابِ الْأَرْضِ خطايا ثم لقيتنى لا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا لَا تَبْتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةٌ رَوَاهُ التَّرْمِذِي وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ.

১৮৭৮। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে আদম সন্তান। যতক্ষণ তুমি আমার কাছে দু’আ করতে থাকবে এবং আমার কাছে প্রত্যাশা করবে ততক্ষণ আমি তোমার গুনাহ মাফ করতে থাকব, তা তোমার গুনাহর পরিমাণ যত বেশি যত বড়ই হোক। এ ব্যাপারে আমি কোন পরোয়া করব না। হে আদম সন্তান। তোমার গুনাহর পরিমাণ যদি আসমান পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং তুমি যদি আমার কাছে মাফ চাও, তবে আমি তোমাকে মাফ করে দেব। এ ব্যাপারে আমি পরোয়াই করব না। হে আদম সন্তান। যদি তুমি আমার কাছে পৃথিবী প্রমাণ গুনাহসহ হাজির হও এবং আমার সাথে কাউকে শরীক না করে থাক, তাহলে আমিও ঠিক পৃথিবী প্রমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে এগিয়ে যাব।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি হাসান হাদীস।

۱۸۷۹ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَا معشر النِّسَاء تَصَدِّقْنَ وَاكْثَرْنَ مِنَ الْاسْتِغْفَارِ فَإِنِّي رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النار قالت امرأةٌ مِنْهُنَّ مَا لَنَا أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ قَالَ تُكْثِرُرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ مَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلِ وَدِيْنِ أَغْلَبَ لِذِي لَبِ مِنْكُنَّ قَالَتْ مَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ وَالدِّينِ قَالَ شَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ بِشَهَادَةِ رَجُلٍ وَتَمْكُثُ الْأَيَّامَ لا تُصَلِّي رَوَاهُ مُسْلِمٌ

১৮৭৯। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে নারী সমাজ। তোমরা দান-খয়রাত কর এবং বেশি বেশি গুনাহ মাফ চাও। কেননা আমি তোমাদের অধিকাংশকে দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসী। তাদের মধ্য থেকে একজন বলেন, আমাদের অধিকাংশের জাহান্নামী হওয়ার কারণ কি? তিনি বললেন:
তোমরা অধিক মাত্রায় অভিসম্পাত করে থাক এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ ও অবাধ্য হও। জ্ঞান-বুদ্ধি ও দীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও তোমাদের যে কোন নারী যে কোন বুদ্ধিমান ও চতুর পুরুষকে যেভাবে হতবুদ্ধি করে দেয় তদ্রূপ আমি আর কাউকে দেখিনি। মহিলাটি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, জ্ঞান-বুদ্ধি ও দীনের ব্যাপারে আমাদের ত্রুটি ও অপূর্ণতা কি? তিনি বলেন? দু’জন স্ত্রীলোকের সাক্ষ্য একজন পুরুষ লোকের সমান এবং ঋতু চলাকালে কয়েক দিন তোমরা নামায পড়তে পার না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অনুচ্ছেদ: ৩ – আল্লাহ তা’আলা জান্নাতের মধ্যে মুমিনদের জন্য যা কিছু তৈরি করেছেন

قَالَ اللهُ تَعَالَى : إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونِ ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ آمِنِينَ وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ عَلَ اخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ. لَا يَمَسُّهُمْ فِيْهَا نَصَبٌ وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ.

মহান আল্লাহ বলেন:

“মুত্তাকীরা জান্নাত ও ঝর্ণাধারার মধ্যে থাকবে। তাদেরকে বলা হবে, পূর্ণ শাস্তি ও নিরাপত্তা সহকারে তোমরা এর মধ্যে প্রবেশ কর। আমি তাদের অন্তরের যাবতীয় হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে তাদেরকে নিষ্কলুষ করে দেব। অতঃপর তারা পরস্পর ভাই হয়ে সামনাসামনি সাজানো আসনসমূহে বসবে। তারা সেখানে কোন রোগ-শোক ও দুঃখ-বেদনার সম্মুখীন হবে না। সেখান থেকে তারা কখনও বহিষ্কৃত হবে না।” (সূরা আল-হিজরঃ ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮)

وقَالَ تَعَالَى : الْأَخِلاءُ يَوْمَئِذٍ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ إِلَّا الْمُتَّقِينَ، يَا عِبَادِ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ وَلا أَنتُمْ تَحْزَنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا مُسْلِمِينَ. أَدْخُلُوا الجنة انتم و ازواجُكُمْ تُحْبَرُونَ. يُطَافُ عَلَيْهِم بصحاف مِنْ ذَهَب وأكواب وفيها مَا تَشْتَهِيهِ الْأَنْفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ وَأنتُمْ فِيهَا خَالِدُونَ. وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أَوْرِيْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ لَكُمْ فِيْهَا فَاكِهَةٌ كَثِيرَةٌ مِّنْهَا تَأْكُلُونَ.

“সেই দিনটি (কিয়ামাতের দিন) যখন আসবে, তখন মুত্তাকীগণ ছাড়া অপর সব বন্ধুরা পরস্পরের দুশমন হয়ে যাবে। যারা আমাদের আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং অনুগত বান্দা হয়ে ছিল তাদেরকে সেদিন সম্বোধন করে বলা হবে: হে আমার বান্দারা। আজ তোমাদের কোন ভয় নেই, তোমাদেরকে কোন দুশ্চিন্তায়ও আজ পড়তে হবে না। তোমরা এবং তোমাদের স্ত্রীগণ জান্নাতে প্রবেশ কর। তোমাদের সন্তুষ্ট করা হবে। তাদের সামনে পানপাত্র ও সোনার থালা থাকবে এবং মনের চাহিদা মিটানো ও চোখ জুড়ানো জিনিসসমূহ সেখানে বর্তমান থাকবে। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা চিরদিন এখানে থাকবে। তোমরা দুনিয়ায় যেসব ভালো কাজ করেছিলে তার বিনিময়ে তোমরা এই জান্নাতের উত্তরাধিকারী হয়েছ। তোমাদের জন্য এখানে প্রচুর ফলমূল রয়েছে। এগুলো তোমরা খাবে।” (সূরা আয-যুখরুফ: ৬৭-৭৩)

وقَالَ تَعَالَى : إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَام أمين، فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونَ يَلْبَسُونَ مِنْ سندس واسْتَبْرَقٍ مُتَقَابِلِينَ. كَذلِكَ وَزَوْجْنَاهُمْ بِحُورٍ عِيْنِ يَدْعُونَ فِيهَا بِكُلِّ فاكهة أمنين. لا يَذُوقُوْنَ فِيهَا الْمَوْتَ إِلا الْمَوْتَةَ الْأُولَى وَوَقَاهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمَ فَضْلاً مِنْ رَبِّكَ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ.

“আল্লাহভীরু লোকেরা নিরাপদ স্থানে থাকবে। তারা বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাধারার মধ্যে পাতলা রেশমী ও মোটা রেশমী পোশাক পরিহিত অবস্থায় সামনাসামনি আসনে বসবে। এ হবে তাদের অবস্থা। আর আমি আয়তলোচনা নারীদেরকে তাদের স্ত্রী করে দেব। সেখানে তারা পূর্ণ নিশ্চিন্ততায় সব রকমের সুস্বাদু জিনিস চেয়ে নেবে। সেখানে তারা কখনো মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে না। দুনিয়ায় একবার যে মৃত্যু তাদের হয়েছে, তা হয়েই গেছে। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাদেরকে জাহান্নামের শান্তি থেকে রক্ষা করেছেন। বস্তুত এটা আল্লাহ্র এক বিরাট মেহেরবানী এবং সবচেয়ে বড় সাফল্য।” (সূরা আদ-দুখানঃ ৫১-৫৭)

وقال تعالى : إِنَّ الْأَبْرَار لفي نعيم . عَلَى الْأَرَائِكِ يَنْظُرُونَ . تَعْرِفُ فِي وُجُوهِهِمْ نَضْرَةَ النَّعيم . يُسْقَوْنَ مِنْ رَّحِيقٍ مُخْتُورٍ ، حَتَامُهُ مِشكَ وَفِي ذَلِكَ فلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ ، وَمِزَاجُهُ مِنْ تَسْنِيم . عَيْنًا يُشْرَبُ بِهَا الْمُقَرِّبُونَ.

“নিঃসন্দেহে নেক লোকেরা অফুরন্ত নি’আমাতের মধ্যে থাকবে। উচ্চ আসনে আসীন হয়ে দৃশ্যাবলী দর্শন করতে থাকবে। তাদের চেহারায় তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যের ঔজ্জ্বল্য অবলোকন করবে। তাদেরকে উৎকৃষ্ট ছিপি আঁটা পানীয় পরিবেশন করা হবে। তার উপর মিশকের সীল লাগানো থাকবে। যেসব লোক অন্যদের উপর প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করতে চায়, তারা যেন এ জিনিস লাভের প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে চেষ্টা করে। এই পানীয় হবে তাসনীম মিশ্রিত। এটি একটি ঝর্ণা, নৈকট্য লাভকারী ব্যক্তিরাই এ পানীয় পান করবে।” (সূরা আল মুতাফফিফীন : ২২-২৮)

۱۸۸۰ – وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ أهْلُ الْجَنَّةِ فِيهَا وَيُشْرَبُونَ وَلَا يَتَغَوَّطُونَ وَلَا يَسْتَحْطُوْنَ وَلَا يَبُولُونَ ولكِنْ طَعَامُهُمْ ذَلِكَ جُشَاء كَرَشْحِ الْمِسْكِ يُلْهَمُونَ التَّسْبِيحَ وَالتَّكْبِيرَ كَمَا يُلْهَمُونَ النَّفْسَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ

১৮৮০। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাতীগণ জান্নাতের খাবার খাবে এবং পানীয় বস্তু পান করবে। কিন্তু সেখানে তাদের পায়খানার প্রয়োজন হবে না, তাদের নাকে শিকনি বা ময়লা জমবে না এবং তারা পেশাবও করবে না। ঢেকুরের মাধ্যমে তাদের পেটের খাদ্যদ্রব্য হজম হয়ে মিশকের সুগন্ধির মত বেরিয়ে যাবে। শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের মতই তারা তাসবীহ ও তাকবীরে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۸۱ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِينَ مَا لَا عَيْنَ رَأَتْ وَلَا أَذُنَ سمعت ولا خَطرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ وَاقْرَؤُوا إِنْ شِئْتُمْ فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أَخْفِيَ لَهُمْ من قرة أَعْيُنِ جَزَاء بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ) .

১৮৮১। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমি আমার ছালেহ বান্দাদের জন্য এমন সব জিনিস প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোন চোখ কখনও দেখেনি, কোন কান তার বর্ণনা কখনও শুনেনি এবং কোন মানুষ তা ধারণা বা কল্পনাও করতে পারেনি। এ কথার সমর্থনে তোমরা এই আয়াত পাঠ করতে পারঃ “তাদের নেক কাজের প্রতিদান স্বরূপ তাদের জন্য চক্ষু শীতলকারী যেসব সামগ্রী গোপন রাখা হয়েছে, তা কোন প্রাণীই জানে না।” (সূরা আস্-সাজদা: ১৭)

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۸۲ – وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوَّلُ زُمْرَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُوْنَهُمْ عَلَى أَشَدَّ كَوْكَبٌ دُرِّيٌّ فِي السماء إضاءة لا يَبُولُونَ وَلَا يَتَغَوِّطُونَ وَلا يَنْقُلُوْنَ وَلَا يَسْتَخِطُوْنَ أَمْشَاطَهُمُالذهب وَرَشحُهُمُ الْمسكُ وَمُجَامِرُهُمُ الألوة عود الطيب أَزْوَاجُهُمُ الْحُور الْعِينُ عَلَى خَلْقِ رَجُلٍ وَاحِدٍ عَلَى صُورَةِ أَبِيهِمْ أَدَمَ سَتُونَ ذِرَاعًا فِي السَّمَاءِ متفق عليه.
وفي رواية لِلْبُخَارِي وَمُسْلِمِ أَنِيتُهُمْ فِيهَا الذَّهَبُ وَرَشْحُهُمُ الْمِسْكُ وَلِكُلِّ واحِدٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ يُرَى مَنْ سَاقِهِمَا مِنْ وَرَاءِ اللَّحْمِ مِنَ الْحُسْنِ لَا اخْتِلَافَ بَيْنَهُمْ وَلَا تَبَاغُضَ قُلُوبُهُمْ قَلْبُ وَاحِدٍ يُسَبِّحُونَ اللَّهَ بُكْرَةً وَعَشِيَّا

১৮৮২। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা চৌদ্দ তারিখের পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বল হবে। এরপর যারা তাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা ঝিকমিক করা তারকার মত আলোকিত হবে। তাদেরকে পেশাব-পায়খানা করতে হবে না, মুখে ধু ধু আসবে না, আর নাকে ময়লা হবে না। তাদের চিরুনী হবে স্বর্ণের তৈরি। তাদের ঘাম হবে মিশকের মত সুগন্ধ। তাদের ধূপদানী সুগন্ধ কাঠ দিয়ে জ্বালানো হবে। আয়তলোচনা হুর হবে তাদের স্ত্রী। তাদের দৈহিক গঠন হবে একই ধরনের। শারীরিক অভ্যাস একই রকম হবে। উচ্চতায় তারা তাদের আদিপিতা আদম (আ)-এর মত ষাট হাত লম্বা হবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে। তাদের ব্যবহার্য পাত্র হবে স্বর্ণের। তাদের ঘাম হবে মিশকের মত সুগন্ধ। তাদের প্রত্যেককে দু’জন করে স্ত্রী দেয়া হবে। তারা এত সুন্দরী হবে যে, তাদের উরুর হাড়ের মজ্জা মাংসের ভেতর দিয়ে দেখা যাবে। তাদের পরস্পরের মধ্যে কোন মতানৈক্য বা হিংসা থাকবে না। তাদের মন হবে একই ব্যক্তির মনের মত। সকাল-সন্ধ্যায় তারা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহত্ব বর্ণনা করতে থাকবে।

۱۸۸۳ – وَعَنِ الْمُغِيرَةَ بْن شُعْبَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سَأَلَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلامُ رَبَّهُ مَا أَدْنَى أَهْلِ الْجَنَّةِ مَنْزِلَةَ قَالَ هُوَ رَجُلٌ يَحِيُّ بَعْدَ مَا أُدْخِلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ فَيُقَالُ لَهُ ادْخُلِ الْجَنَّةَ فَيَقُولُ أَي رَبِّ كَيْفَ وَقَدْ نَزَلَ النَّاسُ مَنَازِلَهُمْ وَأَخَذُوا أَخَذَاتِهِمْ فَيُقَالُ لَهُ أَتَرْضَى أَنْ يَكُونَ لكَ مِثْلُ مُلْكَ مَلِكَ مِنْ مُلوكِ الدُّنْيَا ؟ فَيَقُولُ رَضِيتُ رَبِّ فَيَقُولُ لَكَ ذَلِكَ وَمِثْلُهُوَمِثْلُهُ وَمِثْلُهُ وَمِثْلُهُ فَيَقُولُ فِي الْخَامِسَةِ رَضِيْتُ رَبِّ فَيَقُولُ هَذَا لَكَ وَعَشْرَةٌ أمثاله ولك مَا اشْتَهَتْ نَفْسُكَ وَلَنَتْ عَيْنُكَ فَيَقُولُ رَضِيتُ رَبِّ قَالَ رَبِّ فَاعْلاهُم منزلة قَالَ أُولَئِكَ الَّذِينَ أَرَدْتُ غَرَشتُ كَرَامَتَهُمْ بِيَدِي وَخَتَمْتُ عَلَيْهَا فَلَمْ تَرْعَيْنَ وَلَمْ تَسْمَعُ أَذُنٌ وَلَمْ يَخْطُرُ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৮৮৩। মুগীরা ইবনে শোবা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মূসা আলাইহিস সালাম তাঁর প্রভুকে জিজ্ঞেস করলেন: সবচেয়ে কম মর্যাদার জান্নাতী কে? আল্লাহ বলেন, সে ঐ ব্যক্তি যে জান্নাতবাসীদেরকে জান্নাতে দেয়ার পর আসবে। তাকে বলা হবে: জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলবে, হে প্রভু। সব লোক নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান নিয়েছে এবং নিজেদের প্রাপ্য অংশ গ্রহণ করেছে। তাই আমি এখন কিভাবে জান্নাতে গিয়ে স্থান পাব? তাকে বলা হবে, তোমাকে যদি পৃথিবীর কোন বাদশাহ বা শাসকের রাজ্যের সমান এলাকা দেয়া হয়, তবে তুমি কি খুশি হবে? সে বলবে, হে প্রভু! আমি এতে রাজি আছি। আল্লাহ তা’আলা তাকে বলবেন। তোমাকে তাই দেয়া হল, এরপরও তার সমান আরো, এরপর তার সমান আরো, এরপর ঐগুলোর সমান আরো অতিরিক্ত দেয়া হল। পঞ্চমবারে সে বলবে, হে প্রভু। আমি সন্তুষ্ট হলাম। এবার আল্লাহ তাকে বলবেন: তোমাকে এইগুলোর মত আরো দশ গুণ দেয়া হল। তোমার অন্তর যা কামনা করে, তোমার চোখ যাতে পরিতৃপ্ত হয় সেসব বন্ধু তোমাকে দেয়া হল। সে বলবে, হে প্রভু! আমি সন্তুষ্ট হলাম। মুসা (আ) বললেনঃ হে প্রভু! জান্নাতে সবচেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী কে হবে? আল্লাহ পাক বলেনঃ যাদেরকে আমি মর্যাদা দিতে চাইব আমি নিজে তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করব, তাদেরকে সীলমোহর দিয়ে চিহ্নিত করব। তাদেরকে এমন কিছু দেয়া হবে যা কোন চোখ কখনও দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং মানুষের কল্পনা তার ধারে কাছেও পৌছতে পারেনি।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱٨٨٤ – وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَخَرَ اهْلِ النَّارِ خُرُوجًا مِنْهَا وَآخِرَ اهْلِ الْجَنَّةِ دُخُولا الْجَنَّةَ رَجُلٌ يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ حَبُوا فَيَقُولُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ اذْهَبْ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ فَيَأْتِيهَا فَيُخَيَّلُ الله أَنَّهَا مَلأَى فَيُرْجِعُ فَيَقُولُ يَا رَبِّ وَجَدْتُهَا مَلْأَى فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ اذْهَبْ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ فَيَأْتِيهَا فَيُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهَا مَلْأَى فَيَرْجِعُ فَيَقُولُ يَا رَبِّ وَجَدْتُهَا مَلْأَى فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلٌ لَهُ اذْهَبْ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ فَإِنَّ لَكَ مِثْلَ الدُّنْيَاوَعَشْرَةَ أَمْثَالِهَا أو أن لك مثل عشرة أمثال الدُّنْيَا فَيَقُولُ أَتَسْخَرُ بِي أَوْ تَضْحَكُ بي وأنتَ الْمَلِكُ قَالَ فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاحِدُهُ فَكَانَ يَقُولُ ذَلِكَ أَدْنَى أَهْلِ الْجَنَّةِ مَنْزِلَةَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮৮৪। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি জানি, কোন জাহান্নামী সবশেষে জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে অথবা কোন জান্নাতী সবশেষে জান্নাতে যাবে। এক ব্যক্তি হামাগুড়ি দিয়ে জান্নাত থেকে বেরিয়ে আসবে। মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে বলবেন: যাও, জান্নাতে প্রবেশ কর। সে জান্নাতের কাছে গেলে তার মনে হবে তা ইতিমধ্যেই পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। সে ফিরে এসে বলবে, হে প্রভু। জান্নাত তো পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে বলবেন, তুমি গিয়ে জান্নাতে প্রবেশ কর। সে আবার যাবে কিন্তু তার মনে হবে তা ইতিমধ্যেই পূর্ণ হয়ে গেছে। সে ফিরে এসে বলবে, হে প্রভু। আমি দেখলাম জান্নাত ভরপুর হয়ে গেছে। মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে বলবেন, তুমি গিয়ে জান্নাতে প্রবেশ কর। সে আবার যাবে, কিন্তু তার মনে হবে তা ইতিমধ্যেই পূর্ণ হয়ে গেছে। সে ফিরে এসে বলবে, হে প্রভু! আমি দেখলাম জান্নাত ভরপূর হয়ে গেছে। মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে বলবেন, তুমি গিয়ে জান্নাতে প্রবেশ কর। তোমার জন্য পৃথিবীর সমপরিমাণ এবং অনুরূপ আরো দশ গুণ অথবা পৃথিবীর মত দশ গুণ জায়গা রয়েছে। লোকটি বলবে, হে আল্লাহ। আপনি কি আমাকে বিদ্রূপ করছেন অথবা আমার সাথে ঠাট্টা করছেন, অথচ আপনি সব কিছুর একচ্ছত্র মালিক। ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা বলে এমনভাবে হাসলেন যে, তাঁর মুখের সামনের পাটির দাঁত দেখা যাচ্ছিল। তিনি বলছিলেন: এই ব্যক্তি হবে সবচেয়ে নিম্ন মর্যাদার জান্নাতী।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٨٥ – وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ لِلْمُؤْمِنَ فِي الْجَنَّةِ الخَيمة من لؤلوة واحدة مجوفة طولها في السماء ستُونَ مَيْلًا لِلْمُؤْمِنِ فِيْهَا أَهْلُوْنَ يَطُوفُ عَلَيْهِمُ الْمُؤْمِنُ فَلَا يَرَى بَعْضُهُمْ بعضا – متفق عليه.

১৮৮৫। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাতের মধ্যে প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির জন্য একক একটি ফাঁপা মুক্তার তৈরি তাঁবু থাকবে। তার উচ্চতা হবে আসমানের দিকে ঘাট মাইল। তার প্রতিটি কোণে প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তির জন্য একজন হুর থাকবে। মুমিন ব্যক্তি তাদের নিজ নিজ হুরের সাথে দেখা-সাক্ষাত করবে, কিন্তু একজনের হ্রর অপরজন দেখতে পাবে না।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٨٦ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَشَجَرَةَ يَسِيرُ الرَّاكِبُ الْجَوَادَ الْمُضَمَّرَ السَّرِيعَ مِائَة سَنَةٍ مَا يَقْطَعُهَا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَرَوَبَاهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ أَيْضًا مِنْ رِوَايَةِ أَبِي هريرة قال يسير الراكب في ظلها مائة سَنَةٍ مَا يَقطعها .

১৮৮৬। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাতে একটি গাছ আছে। হালকা দেহবিশিষ্ট কোন ব্যক্তি এক দ্রুতগামী ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে যদি একাধারে এক শত বছর চলতে থাকে, তবুও তা অতিক্রম করতে পারবে না।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তারা তাদের সহীহ গ্রন্থন্বয়ে এই হাদীসটি আবু হুরাইরা (রা) সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। তাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তার ছায়ায় ঘোড়সাওয়ার এক শত বছর ঘোড়া দৌড়ালেও তা অতিক্রম করতে পারবে না।

۱۸۸۷ – وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنْ أَهْلَ الْجَنَّةِ لَبَتَرَا مَوْنَ أهْلَ الْغُرَفِ مِنْ فَوْقِهِمْ كَمَا تَتَرا مَوْنَ الْكَوْكَبَ الدَّرِّيِّ الْغَابِرَ فِي الْأُفُقِ مِنَ المشرق أو المغرب التفاضل مَا بَيْنَهُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ تِلْكَ مَنَازِلُ الأَنْبِيَاء لَا يَبْلُغُهَا غَيْرُهُمْ قَالَ بَلَى وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ رِجَالٌ آمَنُوا بِاللَّهِ وصَدِّقُوا الْمُرْسَلِينَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮৮৭। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাতবাসীরা তাদের উপর তলার কক্ষের লোকদেরকে এমনভাবে দেখতে পাবে, যেমনিভাবে তোমরা পূর্ব অথবা পশ্চিম দিগন্তে উজ্জ্বল তারকাগুলি দেখতে পাও। তাদের পরস্পরের মর্যাদার পার্থক্যের কারণে এরূপ হবে। সাহাবীরা বলেন, হে আল্লাহর রাসূল। ঐ স্তরগুলি তো নবীদের যা অন্য কেউ লাভ করবে না। তিনি বলেন: হাঁ, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন। যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং নবীদেরকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাও ঐ স্তরে যেতে সক্ষম হবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۸۸ – وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم قَالَ لَقَابُ قَوْسَ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِمَّا تَطْلُعُ عَلَيْهِ الشَّمْسُ أَوْ تَغْرُبُ متفق عليه.

১৮৮৮। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ধনুকের জ্যা পরিমাণ জান্নাতের স্থান সমস্ত সৌরজগতের চেয়েও উত্তম ও মূল্যবান।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۸۹ – وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ في الْجَنَّةِ سُوقًا يَأْتُونَهَا كُلِّ جُمُعَةٍ فَتَهُب ريحُ الشِّمَالِ فَتَحْتُو فِي وُجُوهِهِمْ وَثِيَا بِهِمْ فَيَزْدَادُونَ حُسْنًا وَجَمَالاً فَيَرْجِعُونَ إِلَى أَهْلِيهِمْ وَقَدِ ازْدَادُوا حُسْنًا وجَمَالاً فَيَقُولُ لَهُمْ أَهْلُوهُمْ وَالله لَقَدِ ازْدَدْتُمْ حُسْنًا وَجَمَالاً فَيَقُولُونَ وَأَنتُمْ وَاللَّهِ لقَدِ ازْدَدْتُمْ بَعْدَنَا حُسْنًا وَجَمَالاً. رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৮৮৯। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাতের মধ্যে প্রতি শুক্রবার একটি বাজার বসবে। জান্নাতবাসীরা সেখানে যাবে। তখন উত্তর দিক থেকে একটা বাতাস প্রবাহিত হয়ে তাদের চেহারা ও কাপড়-চোপড়ে ছড়িয়ে পড়বে। আর তাতে তাদের রূপ-সৌন্দর্য আরো বেড়ে যাবে। এই অবস্থায় যখন তারা নিজেদের পরিবার-পরিজনদের কাছে ফিরে আসবে তখন তারা বলবে, আল্লাহর শপথ। তোমাদের রূপ-সৌন্দর্য অধিক বৃদ্ধি পেয়েছে। অপর দিকে তারাও বলবে, আল্লাহর শপথ। তোমাদের রূপ-সৌন্দর্যও বেড়ে গেছে।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۹۰ – وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ لَيَتَرا مَوْنَ الْعُرَفَ فِي الْجَنَّةِ كَمَا تَتَرَا مَوْنَ الْكَوْكَبَ فِي السماء متفق عليه.

১৮৯০। সাহল ইবনে সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাতবাসীরা তাদের নিজ নিজ কক্ষ থেকে একে অপরকে এমনভাবে দেখতে
পাবে যেভাবে তোমরা আকাশের তারকাগুলোকে দেখতে পাও।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۹۱ – وَعَنْهُ قَالَ شَهِدْتُ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَجْلِسًا وَصَفَ فِيْهِ الْجَنَّةَ حَتَّى انْتَهَى ثُمَّ قَالَ فِي آخر حديثه فيهَا مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلَا أَذُنٌ سَمِعَتُ ولا خطر عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ ثُمَّ قَرَأَ تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَهُمْ يُنْفِقُونَ. فَلا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أَخْفَى لَهُمْ مِنْ قُرَّةَ أَعْيُنِ جزاء بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ) رَوَاهُ الْبُخَارِي.

১৮৯১। সাহল ইবনে সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। তিনি সেখানে জান্নাতের বর্ণনা দিলেন। পরিশেষে তিনি বলেনঃ জান্নাতের মধ্যে এমন সব জিনিস রয়েছে যা কোন চোখ কখনও দেখেনি, কোন কান (তার বর্ণনা) কখনও শুনেনি এবং কারো কল্পনা তা অনুমানও করতে পারেনি। অতঃপর তিনি এই আয়াত পাঠ করেন (অর্থ)। “তাদের পিঠ বিছানা থেকে আলাদা হয়ে থাকে, নিজেদের প্রভুকে ডাকে ভয় ও আশা সহকারে। আমি তাদেরকে যা কিছু রিযক দিয়েছি তা থেকে তারা খরচ করে। তাছাড়া তাদের কাজের প্রতিফল স্বরূপ তাদের চোখ শীতলকারী যেসব সামগ্রী গোপন রাখা হয়েছে, কোন প্রাণীই তা জানে না।” (সূরা আস-সাজদাঃ ১৬, ১৭)

ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۹۲ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَآبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ يُنَادِي مُنَادٍ إِنَّ لَكُمْ أَنْ تَحْيَنُوا فَلا تَمُوتُوا ابدا وأن لكم أن تَصِحُوا فَلا تَسْقَمُوا أَبَدًا وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَسْبُوا فَلَا تَهْرَمُوا أَبَدًا وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَنْعَمُوا فَلَا تَبَاسُوا ابدا – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৮৯২। আবু সাঈদ ও আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশ করার পর একজন ঘোষক ঘোষণা করবেঃ (হে জান্নাতবাসীগণ), তোমরা জীবিত থাকবে, আর কখনো মরবে না, তোমরা চিরকাল সুস্থ থাকবে, আর কখনও অসুস্থ হবে না; তোমরা চিরকাল যুবক থাকবে, কখনও বৃদ্ধ হবে না, তোমরা চিরকাল সুখে থাকবে, কখনও দুঃখ-কষ্ট পাবে না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱۸۹۳ – قَالَ إِنَّ أَدْنَى مَقْعَدِ أَحَدِكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ أَنْ يَقُولَ لَهُ تَمَنْ فَيَتَمَنَّى وَيَتَمَنَّى فَيَقُولُ لَهُ هَلْ تَمَنَّيْتَ فَيَقُولُ نَعَمْ فَيَقُولُ لَهُ فَإِنَّ لَكَ مَا تَمَنَّيْتَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৮৯৩। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাতে তোমাদের একজন সর্বনিম্ন মর্যাদার লোককে বলা হবে, তুমি চাও। অতঃপর সে চাইবে আর চাইবে (আকাঙ্ক্ষা করবে)। তাকে আল্লাহ তা’আলা বলবেন। তুমি কি চেয়েছ? সে বলবে, হাঁ, আমি চেয়েছি। তখন আল্লাহ তা’আলা তাকে বলবেন: তুমি যা চেয়েছ তা এবং তার সমপরিমাণ তোমাকে দেয়া হল।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٩٤ – وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلٌ يَقُولُ لِأَهْلِ الْجَنَّةِ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ فَيَقُولُونَ لَبَيْكَ رَبَّنَا وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ فِي يَدَيْكَ فَيَقُولُ هَلْ رَضِيْتُمْ فَيَقُولُونَ وَمَا لَنَا لَا تَرْضَى يا ربَّنَا وَقَدْ أَعطيتنا ما لم تعط أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ فَيَقُولُ إِلَّا أَعْطِبُكُمْ أَفْضَلَ مِنْ ذلك فَيَقُولُونَ وَأَيُّ شَيْءٍ أَفْضَلُ مِنْ ذلكَ فَيَقُولُ أُحِلُّ عَلَيْكُمْ رِضْوَانِي فَلَا أَسْخَطُ عَلَيْكُمْ بَعْدَهُ أَبَدًا – مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১৮৯৪। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ জান্নাতবাসীদেরকে বলবেন, হে জান্নাতের অধিবাসীগণ। তারা বলবে, আমরা উপস্থিত আছি, হে আমাদের প্রতিপালক। সমস্ত কল্যাণ তোমার হাতে নিহিত। আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা কি সন্তুষ্ট হয়েছ? তারা বলবে, হে আমাদের রব। আমরা কেন খুশি হব না? তুমি আমাদেরকে যে নি’আমাত দান করেছ তা অন্য কোন সৃষ্টিকে দাওনি। মহান আল্লাহ বলবেনঃ এর চেয়েও উত্তম-জিনিস আমি কি তোমাদের দেব না? তারা বলবে, এর চেয়েও উত্তম ও উন্নত জিনিস আর কি হতে পারে? আল্লাহ বলবেন। আমি তোমাদের উপর আমার সন্তোষ অবতীর্ণ করব, অতঃপর আর কখনও তোমাদের উপর রুষ্ট হব না।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

١٨٩٥ – وَعَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فنظر إلى الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ وَقَالَ إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ عِبَانًا كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لَا تُضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

১৮৯৫। জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি চৌদ্দ তারিখের পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকালেন এবং বললেনঃ তোমরা এখন চাঁদকে যেভাবে দেখছ, অচিরেই তোমাদের প্রভুকেও স্বচক্ষে সেভাবে দেখতে পাবে। তাঁর দর্শনে তোমরা কোনরূপ ক্লেশ বা অসুবিধা বোধ করবে না।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

۱٨٩٦ – وَعَنْ صُهَيْبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ يَقُولُ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى تُرِيدُونَ شَيْئًا أَزِيدَكُمْ فَيَقُولُونَ المْ تُبَيِّضُ وُجُوهَنَا الَم تُدْخِلْنَا الْجَنَّةَ وَتُنَجِّنَا مِنَ النَّارِ فَيَكْشِفُ الْحِجَابَ فَمَا أَعْطُوا شَيْئًا أَحَبُّ إِلَيْهِمُ مِنَ النَّظرِ إِلَى رَبِّهِمْ – رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

১৮৯৬। সুহাইব (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করার পর কল্যাণ ও বরকতের আধার আল্লাহ তা’আলা বলবেন। তোমরা কি অধিক আর কিছু চাও? তারা বলবে, আপনি কি আমাদের চেহারা উজ্জ্বল করেননি? আপনি কি আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাননি এবং জাহান্নামের শান্তি থেকে নাজাত দেননি? এ সময় আল্লাহ তা’আলা পর্দা সরিয়ে দেবেন। জান্নাতীদেরকে আল্লাহর দর্শন লাভের চেয়ে অধিক প্রিয় আর কিছুই দেয়া হবে না।

ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

قالَ اللهُ تَعَالَى : إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ يَهْدِيهِمْ رَبُّهُمْ بِإِيْمَانِهِمْ تَجْرِي مِن تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ. دَعْوَاهُمْ فِيهَا سُبْحَانَكَ اللَّهُم وَتَحِيتُهُمْ فِيهَا سَلامٌ وَآخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَعلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ. حمِيدٌ مَجِيدٌ. قَالَ مُؤَلِفَهُ يَحْيَى النَّوْوِي غَفَرَ اللَّهُ لَهُ فَرَغْتُ مِنْهُ يَوْمَ الْاثْنَيْنِ رَابِعَ عشر رمضان سنة سبعين وست مائة

মহান আল্লাহ বলেনঃ

“যারা ঈমান এনেছে এবং সৎ কাজ করেছে তাদের ঈমানের কারণে তাদের প্রভু তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। নি’আমাতে পরিপূর্ণ জান্নাতে, যার নিম্নদেশে ঝর্ণাসমূহ প্রবহমান, তাদেরকে স্থান দেবেন। সেখানে তাদের দু’আ হবে: পবিত্র তুমি হে আল্লাহ! তাদের সাদর আহ্বান হবে, শাস্তি বর্ষিত হোক। তাদের সব কথার সমাপ্তি হবে এই কথা, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।” (সূরা ইউনুস: ৯, ১০)

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِي لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ اللَّهُمَّ صَلَّعلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ على محمد وعلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ. حَمِيدٌ مَجِيدٌ، قَالَ مُؤْلِفُهُ يَحْيَى التَّوْوِيُّ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ فَرَغْتُ مِنْهُ يَوْمَ الْاثْنَيْنِ رَابِعَ عشرَ رَمَضَانَ سَنَةً سَبْعِينَ وَست مائة.

“সমস্ত প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে এই পথে পরিচালিত করেছেন। আল্লাহ যদি পথ না দেখাতেন তবে আমরা হিদায়াতের পথ পেতাম না। আমাদের প্রতিপালকের রাসূলগণ সত্য বিধান নিয়ে আমাদের কাছে এসেছেন। তখন ঘোষণা করা হবে: তোমরা যে জান্নাতের উত্তরাধিকারী হয়েছ তা তোমাদের পার্থিব জীবনের কার্যাবলীর প্রতিদান।” (সুরা আল-আ’রাফ: ৪২)
হে আল্লাহ। আপনার রহমত ও অনুগ্রহ বর্ষণ করুন আপনার বান্দাহ ও রাসূল এবং উম্মী (নিরক্ষর) নবী মুহাম্মাদের প্রতি, তাঁর পরিবার-পরিজন, স্ত্রীগণ, সন্তান-সন্ততি ও তাঁর সংগীদের প্রতিও, যেভাবে আপনি আপনার অনুগ্রহে ধন্য করেছেন ইবরাহীম (আ) ও তাঁর পরিবার-পরিজনকে। হে আল্লাহ। আপনি বরকত ও প্রাচুর্য দান করুন উন্মী নবী মুহাম্মাদের প্রতি, তাঁর পরিবার-পরিজন, স্ত্রীগণ, সন্তান-সন্ততি ও সাহাবাদের প্রতি, যেভাবে আপনি জগতবাসীদের মধ্যে ইবরাহীম (আ) ও তাঁর পরিবার-পরিজনকে বরকত ও প্রাচুর্য দান করেছেন। নিশ্চয় আপনি বহুল প্রশংসিত ও মহাসম্মানিত।

ইমাম নববী (র) বলেন, আমি এই কিতাব সংকলনের কাজ হিজরী ছয় শত সত্তর সনের রমযান মাসের চার তারিখে সমাপ্ত করেছি।

গ্রন্থখানি চার খণ্ডে সমাপ্ত হলো।

© Bangladesh Jamaat-e-Islami

  • আমাদের সম্পর্কে
  • প্রাইভেসি পলিসি
  • যোগাযোগ
কোন ফলাফল নেই
সকল ফলাফল দেখুন
  • নীড়
  • সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
  • বিভাগ ভিত্তিক
    • আল কুরআন
    • আল হাদিস
    • ফিকাহ
    • দাওয়াত ও তাবলিগ
    • ঈমান ও আক্বীদাহ
    • আমল-আখলাক ও মুয়ামালাত
    • ইসলাম ও ইবাদাত
    • পারিবারিক ও সামাজিক জীবন
    • ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন
    • সীরাত ও ইতিহাস
    • সীরাতে সাহাবা
    • নারী
    • রাজনীতি
    • অর্থনীতি
    • বিবিধ
  • কর্মী সিলেবাস
  • রুকন সিলেবাস
    • রুকন সিলেবাস (স্বল্প শিক্ষিত)
    • রুকন সিলেবাস (শিক্ষিত)
  • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি
    • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি (শিক্ষিত)
    • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি (স্বল্প শিক্ষিত)
  • উচ্চতর অধ্যয়ন
  • অডিও বই
  • অন্যান্য
    • দারসুল কুরআন
    • দারসুল হাদিস
    • আলোচনা নোট
    • বইনোট
    • প্রবন্ধ
    • বুলেটিন
    • স্মারক
    • ম্যাগাজিন
    • এপস
    • রিপোর্ট বই
    • ছাত্রী সিলেবাস

@BJI Dhaka City South